All posts by jitu

গ্লোবাল ইউনিক একাডেমীতে শিশু শিক্ষার্থী বরণ অনুষ্ঠান

স্টাফ রিপোর্টার:
শিশু শিক্ষার অনুপম প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ইউনিক একাডেমীতে নবাগত শিশু শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুুষ্ঠান ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একাডেমী প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল ইউনিক একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ উত্তম বহ্নি সেন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা কালচারাল অফিসার বীরমুক্তিযোদ্ধা বশিরউল আনোয়ার, প্রবীন শিক্ষক বীরমুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোঃ আলাউদ্দিন, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও জনতা ব্যাংক কুমিল্লা আঞ্চলিক শাখার উপমহাব্যবস্থাপক আবুল হাসানাত আজাদ, খেলাঘর কর্মী ও সাংবাদিক শ্যামল বড়ুয়া ববি প্রমুখ।

একাডেমীর সহকারী শিক্ষিকা মালবিকা দে এর পরিচালনায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। অতিথিদের বরণের পরই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ নবীন শিশু শিক্ষার্থীদের বরণ করেন অতিথিবৃন্দ। শিশুদের পছন্দের সামগ্রী বেলুন, চকলেট ইত্যাদি দিয়ে বরণের পর তাদের মধ্যে আরো প্রাণচাঞ্চল্য ফুটে উঠে। নিষ্পাপ এ শিশুদের হাসিমাখা মুখ দেখে সকলেই মুগ্ধ হন।

এরপর অতিথির বক্তব্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা বশিরউল আনোয়ার বলেন-দীর্ঘ ১৬ বছরের পথ চলায় গ্লোবাল ইউনিক একাডেমী অনেক ভালো ফলাফল, খেলাধূলা ও শিল্প সংস্কৃতিতে প্রতি বছর বহু পুরষ্কার এবং ডায়নামিক কর্মসূচির কারণে অনেক সুনাম অর্জন করেছে। এ সব অর্জন ধরে রাখার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সকলের প্রতি আহবান জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোঃ আলাউদ্দিন বলেন-অনগ্রসর এই এলাকায় গ্লোবাল ইউনিক একাডেমী যে দৃঢ়তার সাথে কোমলমতি এ শিশুদের যেভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে তা উৎসাহব্যাঞ্জক। নিয়ম শৃঙ্খলা ও অন্যান্য কর্মকান্ড দেখে অভিভাবক সহ সকলেই সন্তুষ্ট। আবুল হাসানাত আজাদ বলেন-আমি অনেক বছর ধরেই গ্লোবাল ইউনিক একাডেমীর এই ব্যতিক্রমধর্মী – তাৎপর্যপূর্ণ সকল আয়োজন সম্পর্কে জানি, তাছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধানও একজন গুণীজন। আশা করি এই প্রতিষ্ঠান আরো উত্তরোত্তর এগিয়ে যাবে।

বক্তব্যের পর সঙ্গীত পরিবেশন করে এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র-বর্তমানে কুমিল্লা জিলা স্কুলের ৭ম শ্রেণির ছাত্র দেবোত্তম বহ্নি সেন। কবিতা আবৃত্তি করে বর্ণালী, ঝিনুক, শ্রীদেবী। অনুষ্ঠান সহযোগিতায় ছিলেন একাডেমীর সহকারি শিক্ষিকা সুচিত্রা দে, সুরাইয়া খানম, সাগরিকা দে, তাহমিনা বৃষ্টি ও আফরোজা আক্তার।

কুবি বিএনসিসি প্লাটুনের নতুন সিইউও হায়দার মাহমুদ

চাঁদনী আক্তার, কুবি :

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্লাটুনের ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) হিসেবে পদোন্নতি হয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ক্যাডেট সার্জেন্ট হায়দার মাহমুদ।

শনিবার (২৮ জানুয়ারী) রেজিমেন্ট ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে ময়নামতি রেজিমেন্টের রেজিমেন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ কামরুল ইসলাম তাকে র‌্যাঙ্কব্যাজ পরিয়ে দেন।

এর আগে, গত ২৬ শে জানুয়ারী সিইউও পদে পদোন্নতি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এসময় লিখিত, ড্রিল, কমান্ড ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।

বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি প্লাটুনে সিইউওর দায়িত্ব পালন করছেন বাংলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ হাসানুর রহমান। চলতি বছরের ৩১শে জানুয়ারী সিইউও মোঃ হাসানুর রহমান এর মেয়াদ শেষ হবে। ১লা ফেব্রুয়ারি থেকে হায়দার মাহমুদ এ দায়িত্ব পালন করবেন।

সিইউও নির্বাচিত হওয়ার অভিব্যক্তিতে হায়দার মাহমুদ বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি প্লাটুনের সিইউও হিসেবে আমাকে ময়নামতি রেজিমেন্ট কর্তৃক যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেই দায়িত্ব আমি সুষ্ঠুভাবে পালন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো এবং একইসাথে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্লাটুনকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। সবাই দোয়া করবেন যাতে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারি।”

উল্লেখ্য, গত ২৪ শে জানুয়ারী হতে ২৯শে জানুয়ারী পর্যন্ত লালমাই সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে রেজিমেন্ট ক্যাম্পিং ২০২২-২৩ অনুষ্ঠিত হয়। ২৯শে জানুয়ারী উক্ত ক্যাম্পের সমাপনী প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্যারেডে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি প্লাটুন এর প্লাটুন কমান্ডার সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অধ্যাপক ড. মোঃ শামিমুল ইসলামসহ অন্যান্য বিএনসিসিও, পিইউও, টিইউও এবং ময়নামতি রেজিমেন্টের ৫টি ব্যাটালিয়নের ক্যাডেটবৃন্দসহ সামরিক-বেসামরিক প্রশিক্ষকগণ।

দাউদকান্দিতে উত্তর জেলা আ’লীগের সভাপতির গাড়িবহরে হামলা-ভাঙচুর

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার  দাউদকান্দিতে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিনের ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার  (২৮ জানুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সমভুরদিয়া বাজারের এ ঘটনা ঘটে। নিজ দলের নেতাকর্মীরা এ হামলায় জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার রাতে এ ঘটনায় উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের সভাপতি সোহেল রানা বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- দাউদকান্দির গৌরীপুর পেন্নাই এলাকার আ. গাফফারের ছেলে ইয়াকুব (৩৪), দৌলতপুর গ্রামের চৌদলীপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ইমরান (৩২), একই এলাকার আল আমিন (৩১), মারুফ (৩২), আশরাফুল (২৯), এনামুল (২৫), বাউরিয়া এলাকার সুজন (৩১) এবং পালের বাজার এলাকার মহসিনসহ (৩৪) অজ্ঞাত ২০-২৫ জন।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, গত শনিবার কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম রুহুল আমিন দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সুমনসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী নিয়ে দাউদকান্দির রফারদিয়া এলাকায় কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাকির নেওয়াজ সোহেলের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ফেরার পথে সমভুরদিয়া বাজার এলাকায় এলে এজাহারনামীয় ৮ জনসহ ২০-২৫ জন তাদের গাড়ির গতিরোধ করে জনৈক বশির মিয়াজিকে খোঁজ করে। দুর্বৃত্তরা কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম রুহুল আমিনের গাড়িতে বশির মিয়াজি রয়েছে মনে করে হকিস্টিক, গ্যাস পাইপ, লাঠিসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় ২-৩টি গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। গাড়ি ভাঙচুর করার সময় সোহেল রানা (মামলার বাদী) বাধা দিতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে। এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

হামলাকারী সবাই দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন চৌধুরীর লোক। পূর্বশত্রুতার জের ধরে তারা এ হামলা চালায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যারা হামলা করেছে তারা আমাদের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গত ইউপি নির্বাচনের সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি হয়। শনিবারের ঘটনার সময় তারা রুহুল আমিন ভাইকে চিনতে পারেনি, তাই তারা এমনটা ঘটিয়েছে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। রুহুল আমিন ভাই একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। তার ওপর হামলা করাটা তাদের উচিত হয়নি।

রোববার দুপুরে মামলার বাদী সোহেল রানা বলেন, মাসখানেক আগে দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক বশির মিয়াজির সঙ্গে মঈন উদ্দিন চৌধুরীর (নির্বাচিত চেয়ারম্যান) বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে বশির মিয়াজির ওপর হামলা করতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির গাড়ি ভাঙচুর করে। আমরা মামলা করেছি। আইনানুযায়ী তাদের বিচার হবে পাশাপাশি দাউদকান্দি আসনের সংসদ সদস্য সুবিদ আলী ভূঁইয়া এলাকায় এসেছেন। তিনি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন তাদের বিচার করবে, পাশাপাশি সংগঠন তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

দাউদকান্দি মডেল থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

দত্ত বাড়ির সরস্বতীর পূজার থিমে বিশ্বকাপের মেগাস্টাররা

স্টাফ  রিপোর্টার:

শ্রী সরস্বতী হিন্দুধর্মালম্বীদের বিদ্যার দেবী। সরস্বতী পূজা কেবল বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় তিব্বত, কম্বোদিয়া,মায়ানমার,ইন্দোনেশিয়া,থাইলেন্ড,চীন ও জাপানে ও বিভিন্ন নামে এই পুজা হয়। তিব্বতে সরস্বতীর নাম চ্যাং মা, মায়ানমারে থুরাকাডি,চীনে সরস্বতীর নাম বিএনসাইথিয়ান,জাপানে বিএনজাইথেন।মা সরস্বতীর অনেকগুলো পরিচয় আছে,কিছু অজানা তথ্য আছে,উনি কেবল বিদ্যার দেবী নন বিদ্যার ব্যাপারটা কালক্রমে আসে। প্রাচীনমতে সরস্বতী একটি নদীর নাম ছিল যা সিন্ধু নদীর চেয়েও পুরাতন। কালক্রমে দেবত্ন আরোপের পর তিনি হয়ে উঠেন জলের দেবী,জলের দেবী ছাড়াও তিনি হয়ে উঠেন কৃষিকাজের,অভিনয়, দহ্মতার দেবী। খেলা কিন্তু দহ্মতার অংশ তাই এটাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় দত্ত বাড়ির পূজোর ১৬ বছরের আয়োজন।

প্রতিবছর ব্যাতিক্রমধর্মী পূজা উপহার দিয়ে আসছে কুমিল্লায় সারদা পালের মাঠে অবস্থিত দত্ত বাড়ির পূজো। গতবছরের থিম ছিল করোনা। যেহেতু ফুটবল বিশ্বকাপ কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে,আর আমরা বাঙালীরা ফুটবল পছন্দ করি তাই এবারের আয়োজন ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে করা। থিমে অনেককিছু ছিল।

বিশ্বকাপের ট্রফির আদলে সরস্বতী প্রতিমা ছাড়াও আরো দুটি সরস্বতী প্রতিমা ছিল। একটা বাদামের, একটি দিয়াশলাইয়ের। বাদামের সরস্বতী প্রতিমাটি ৫৭ টা বাদামের খোসা দিয়ে তৈরী যা লম্বায় ২৯ সেন্টিমিটার,ও প্রস্থে ১৭ সেন্টিমিটার।দিয়াশলাই সরস্বতী মূর্তি তৈরি হয় ১৮১ টা কাঠি দিয়ে যা ১১ সেন্টিমিটার লম্বা,প্রস্থে ৭ সেন্টিমিটার ।

পূজা আয়োজকরা জানান, মা সরস্বতীর কৃপা সবার উপরে সমান ভাবে পড়ে না, তার কারণে এবারের থিমে লিজেন্ডারি খেলোয়াড়দের প্রদর্শন করা হয়েছে। মেসি,নেইমার,এমবাপ্পের মতো বিখ্যাত ফুটবলারদের থ্রিডি ভাস্কর্য স্থান পায় ।ফুটবলের কিংবদন্তী খেলোয়াড়  পেলে ও ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধান্জলি দেওয়া হয়। ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার দর্শনাথী ভিড় করে এ পূজামন্ডপে।

দত্ত বাড়ির পুজোর আয়োজনে উপদেষ্টা পদে ছিলেন মুজিবনগর সরকারের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক কর্মকর্তা,জনতা ব্যাংকের সাবেক জিএম বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল কৃষ্ণ দত্ত , ভাবনা, সৃজনে,পরিচালনায় ও প্রতিমা তৈরিতে ছিলেন ডাঃ অংকুর দত্ত, সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ডাঃ স্বস্তি সেন গুপ্তা,নিরন্জন দাস,জয়া দত্ত ,অংকিতা দত্ত,সীমি দত্ত, দীপক দত্ত, জয়ন্ত মজুমদার, জয় মজুমদার, অন্না দেবনাথ, নিলয় চন্দ্র রায়, প্রত্যয় সরকার,কুলদীপ রায় আবির,রাজদীপ রায়। সাজসজ্জায়  ছিলেন নকশা ইভেন্ট।

নোয়াখালীতে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্য গ্রেফতার

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে র‍্যাব। এ সময় চারটি স্টিলের তলোয়ার একটি স্টিলের পাইপ জব্দ করা হয়।

রোববার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এর আগে, গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের মসজিদ ব্যাপারি বাড়ি সংলগ্ন রাস্তা থেকে র‍্যাব-১১ এর একটি দল তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, উপজেলার শরীফপুর গ্রামের আক্কাস সর্দার বাড়ির নিজাম উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে রাফি (১৬) একই গ্রামের ইব্রাহিম সর্দার বাড়ির নুর আলমের ছেলে আবুল কাদের বিজয় (১৬), সৈয়দ বেপারি বাড়ির মো.ডালিমের ছেলে মো. ইমন হোসেন (১৬) একলাশপুর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জাহিদুল ইসলাম সবুজের ছেলে আরাফাত হোসেন আরিফ, হাজীপুর গ্রামের সেকান্দর মিস্ত্রি বাড়ির মো.হারুনের ছেলে মো.রাসেল (১৫)।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে গতকাল রাত ৯টার দিকে র‍্যাব থানায় হস্তান্তর করে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আসামিদের বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হবে।

কোম্পানীগঞ্জে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আবদুল খালেক লন্ডনী ব্যাডমিন্টন টুনামেন্ট শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের বামনী বাজার মাঠে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল।

পরে খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি এ.কে.এম সাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য আবু নাছের কচির সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিরাজিস সালেকীন রিমন, রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার চৌধুরী, ফেনীর সোনাগাজীর চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর ইসলাম ভুট্রো, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী আলী।

বঙ্গবন্ধু সমাজকল্যাণ পরিষদের আয়োজন এই টুর্নামেন্টের মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করছেন। উদ্বোধনী খেলায় অংশ গ্রহণ করে জাওয়াদ-জুয়ায়ের জুটি বনাম জারা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল জুটি। এতে জাওয়াদ-জুয়ায়ের জুটি বিজয়ী হয়। টুর্নামেন্টের দাতা সিরাজ উদ্দিন ও রফি উদ্দিন জসিম।

তিতাসে টেলিফোন অফিসের বেহাল দশা, গড়ে উঠেছে মাদকসেবীদের আস্তানা

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাস:
কর্তৃপক্ষের অবহেলা, উদাসিনতা ও তত্বাবধানের অভাবে কুমিল্লার তিতাসের টেলিফোন অফিসটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বুঝার কোন উপায় নাই যে এটি একটি অফিস। মনে হয় যেন কোন একটি পরিত্যক্ত প্রতিষ্ঠান। নেই কোন সাইনবোর্ড ও নেমপ্লেট।

এলাকাবাসী আক্ষেপ করে জানান, ভবনের পাশে পরিত্যক্ত একটি টিনশীড পাকা ভবনে হরহামেশাই চলছে মাদকসেবিদের আড্ডা, সীমানা প্রাচীর নীচু হওয়ায় ওয়াল টপকে মাদকাসক্তর আসাযাওয়া করতে পারে সহজেই। তাছাড়া এই অফিসের গেটের তালা কখন খোলা হয় বা বন্ধ হয় তা সচরাচর চোখে পড়ে না। অযোগ্য হয়ে পড়েছে ব্যবহারের। ভুতুরে ও ময়লা আবর্জনায় পরিনত হয়ে আছে টেলিফোন অফিসের অবস্থা।

কোন এক সময় উপজেলার সরকারি-বেসরকারি অফিসে কিছু সংযোগ থাকলেও এখন বেশির ভাগ টেলিফোন গ্রাহকের সংযোগ এখন অচল। মুঠো ফোন চালুর পর থেকে টেলিফোনের ব্যবহার কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় এসে দাঁড়িয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহে টেলিফোনের ব্যবহার নেই বললেই চলে।

অফিস সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন অফিস সহ উপজেলায় ৪২টি সংযোগ রয়েছে। যা কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ায় প্রাথমিক ভাবে নেওয়া সংযোগ অনেকেই বিচ্ছিন্ন করেছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমি ১৬টি উপজেলার দায়িত্বে আছি। লোকবলের অভাবে আমরা কিছুই করতে পারছিনা। আমার তিতাস অফিসে আমাকে ছাড়া আছে মাত্র একজন অপারেটর। আমার অনুপস্থিতিতে সে অফিস ও মাঠে কাজ করে। আমরা সরকারের কর্মচারী মাত্র। কতৃপক্ষ যদি কাজ না করে আমাদের কিছুই করার থাকেনা। তার পরেও আমরা বিল্ডিংয়ের রঙের কাজ ও সাইনবোর্ড লাগানোর জন্য আবেদন করেছি কতৃপক্ষের কাছে। আমার জানা মতে তিতাস উপজেলায় আনুমানিক ৪২ টি টেলিফোন সংযোগ আছে যা অতি সামান্য। তবে কেউ যদি নতুন সংযোগ নিতে চায় তাহলে আমাদের অফিসে যোগাযোগ করলে আমরা অবশ্যই দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

অনিয়মেই সেই প্রার্থীকেই নিয়োগ দিচ্ছেন কুবি উপাচার্য

 

কুবি প্রতিনিধি, চাঁদনী আক্তার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সেই নির্দিষ্ট প্রার্থীকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈন। তাকে নিতে একের পর এক অনিয়মের পসরা সাজিয়েছেন তিনি। রোববার তার ভাইবা বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতার সুপারিশের কারণে আবু ওবায়দা রাহিদ প্রার্থীকে নিতে উঠেপড়ে লেগেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ওই প্রার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ফল কুবি নির্ধারিত মানের চেয়ে কম। ফলে তাকে নিতে অভিনব উপায়ে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কুবি। বিজ্ঞপ্তিতে অননুমোদিত একটি অনুবিধি যোগ করা হয়। ওই অনুবিধিতে উল্লেখিত যোগ্যতাসমূহ নির্দিষ্ট ওই প্রার্থীর রয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি ওই বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষা থেকে ভাইবা বোর্ডের জন্য চারজন প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়। ওই চারজনের মধ্যে আবু ওবায়দা রাহিদও রয়েছেন। বাকি তিনজন হলেন আরিফুল ইসলাম পাটোয়ারী, গৌতম সাহা, ও রাবেয়া জান্নাত। এ ছাড়া বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির সুপারিশকৃত তালিকায় ওই প্রার্থীর নাম না থাকলেও রেজিস্ট্রার দপ্তর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে তালিকায় ওই প্রার্থীর নাম যুক্ত করেন।

এদিকে পরীক্ষার্থীকে চিহ্নিত করা যাবে এমন কিছু লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রে উল্লেখ করা যাবে না-এমন নির্দেশনার পরও ওই প্রার্থী তার উত্তরপত্রে বিশেষ ‘চিহ্ন’ ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা চলাকালীন সময়েই বিষয়টি ধরা পড়লে পরবর্তীতে পর্যালোচনার জন্য হল পরিদর্শকই পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রে তার স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না- তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদেরকে শুধুমাত্র তাদের অংশটুকুই মূল্যায়ন করতে দেওয়া হয়েছে। সার্বিক মূল্যায়ন নিয়ে তাদের থেকে কোনো কিছু জানতে চাওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক বোর্ড সদস্যের সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তাঁদের অন্তত দু’জন সার্বিক মূূল্যায়নের বিষয়ে তাঁদের কোনো মতামত জানতে চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন।

সাধারণত নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ণের ক্ষেত্রে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা মিলে কাটমার্ক বা পাস নম্বর নির্ধারণ করে থাকেন। নিয়োগ বোর্ডের সভার কার্যবিবরণীতে তা উল্লেখ থাকে। ন্যূনতম ওই নম্বর পাওয়া প্রার্থীদেরই পরবর্তীতে ভাইবার জন্য ডাকা হয়। এর ফলে কে কত নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ বা অনুত্তীর্ণ হলো তা জানা যায়। তবে মার্কেটিং বিভাগের কাটমার্ক কত নির্ধারিত হয়েছিল-এ বিষয়ে জানেন না বোর্ড সদস্যরা। উপাচার্য নিজের মতো করেই প্রার্থীদেরকে মনোনোয়ন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বোর্ড সদস্যদের একজন এ বিষয়ে তার থেকে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি মন্তব্য করে আর কথা বলতে রাজি হননি।

এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষা থেকে যেসকল প্রার্থীকে ভাইবা বোর্ডের জন্য মনোনীত করা হয়, তাদের তালিকা প্রকাশ্যে দেওয়ার রীতি থাকলেও কুবি উপাচার্য সেসবেও বিরত ছিলেন। মনোনীতদের শুধুমাত্র রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে ফোন করে ভাইবার তারিখ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনিয়মের সুযোগ বিস্তৃত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের কথা বলে অযোগ্যদের নিতে যেরকম অনিয়ম করছেন, তাতে শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীদের অশ্রদ্ধা তৈরি হবে। সর্বোচ্চ নির্বাহী হয়ে তিনি একের পর এক অনিয়ম করে যাচ্ছেন। যা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়কেই পিছিয়ে দেবে।

এসব বিষয়ে কথা বলতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম বলেন, আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ আসলে আমরা ব্যবস্থা নেব।