All posts by jitu

আখেরি মোনাজাতের সময় বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত আগামীকাল রবিবার। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষ্যে গাজীপুর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম।

শনিবার দুপুরে টেশিস শিল্প সংস্থার মাঠে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনার বলেন, আখেরি মোনাজাতে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেবেন। শনিবার রাত ১২টা থেকে টঙ্গী-কামারপাড়া রোড, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস পর্যন্ত এবং আবদুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়ার বাইপাইল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

এছাড়াও ময়মনসিংহ ও গাজীপুরগামী যানবাহনগুলোকে গাবতলী দিয়ে কোনাবাড়ি হয়ে এবং ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে ভোগরা বাইপাস দিয়ে তিনশ ফিট রাস্তা ব্যবহার করে চলাচল করতে বলা হয়েছে।এদিকে, তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান ও মুসল্লিদের নফল নামাজ, তাসবিহ তাহলিল এবং জিকির-আসগারের মধ্য দিয়ে শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হচ্ছে।

নোয়াখালীতে ১৪০০পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৪০০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। এ সময় তাদের থেকে মাদক বিক্রির নগদ এক লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ নগদ টাকা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার মূল্য চার লাখ ২০ হাজার টাকা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বেগমগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের নাদু মুহুরী বাড়ির মৃত আবদুল করিমের ছেলে মো. স্বপন (৩৮), পৌর উত্তর হাজীপুরের লতিফ মাস্টার বাড়ির নুরুল আমিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন জুয়েল (২৬) তালুয়া চাঁদপুর গ্রামের আতর আলী পন্ডিত বাড়ির মৃত আবু নাঈমের ছেলে মো. জামাল উদ্দিন (৫২)।

শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব-১১ এর সিপিসি-৩ নোয়াখালী কার্যালয়ের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার হাজীপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা ফেনী-চট্টগ্রাম থেকে সড়ক যোগে ইয়াবা সংগ্রহ করে। নোয়াখালীর খুচরা মাদক বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে তারা জব্দকৃত ইয়াবা ঘটনাস্থলে মজুত করে। এই ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় মাদ্রব দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

কবিরহাটে টিউবওয়েলে উঠছে পানি ও গ্যাস, জ্বলছে আগুন

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
এক বছর আগে বসানো টিউবওয়েল থেকে নোয়াখালীর কবিরহাটে নিজ থেকেই উঠছে পানি-গ্যাস এবং জ্বলছে আগুন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।

গত শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ঘোষবাগ ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের ফারুকের নতুন বাড়ির টিউবওয়েল থেকে পানি তোলার সময় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ( মেম্বার) মো.আবু তাহের বলেন , টিউবওয়েল থেকে অনবরত পানি বের হওয়া ও গ্যাস বের হওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন কোম্পানি (বাপেক্স) এর একটি প্রতিনিধি দল এসে পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য নিয়ে গেছে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে মূলত কী কারণে এটা হচ্ছে।

ইউপি সদস্য মো.আবু তাহের আরো বলেন, ঘোষবাগ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামের ফারুকের নতুন বাড়িতে এক বছর আগে এই টিউবওয়েল বসানো হয়। গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ফারুকের পরিবারের সদস্যরা টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে দেখে টিউবওয়েলের ওপর দিয়ে অনবরত পানি উঠছে। তখন তারা পানি ওঠাতে ব্যর্থ হয়। একই সাথে কৌতুহলবশত ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে টিউবয়েলের মুখে ধরতেই আগুন জ্বলে ওঠে। বর্তমানে ভূগর্ত থেকে পানি উঠার তীব্রতা কমে এসেছে।

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতিমা সুলতানা বলেন, ভূগর্ভ থেকে টিউবওয়েলের মধ্য দিয়ে আপনা-আপনি পানি ও গ্যাস বের হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোরেশন কোম্পানি (বাপেক্স) কে জানানো হয়। তারা দুদিন পর এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। পরীক্ষা করার পর রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে মূলত কী কারণে এটা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের যাতায়েত বন্ধ করতে লাল পতাকা টানানো হয়েছে ।

কাতারে যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন

ইউসুফ পাটোয়ারী লিংকন:

কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস, দোহায় ১০ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে ।

দূতাবসের চার্জ দ্য’এফেয়ার্স ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন কাতার প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, দূতাবাসের  সকল কর্মকর্তা কর্মচারী, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সদস্যবৃন্দ।

দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব ও দূতালয় প্রধান মোঃ নাসির উদ্দিন এর সঞ্চালনায় পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শাহাদাত বরণকারী সদস্যবৃন্দ, জাতীয় চার নেতা, ৩০ লক্ষ শহীদের রুহের মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন দূতাবাসের চার্জ দ্য’এফেয়ার্স ও বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ। কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ কৃতজ্ঞতা ও গভীর শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন , বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের জনগণ প্রকৃত বিজয় উপলব্দি করেন ১৯৭২ এর এই দিনে।  চার্জ দ্য’এফেয়ার্স তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক পটভূমি নিয়ে আলোচনা করেন এবং তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী  ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী হতে কিছু অংশ পাঠ করে শুনান এবং সবাইকে বইটি পড়ে তা উপলব্দি করার আহ্বান জানান। অতঃপর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বংলা’ গড়ার অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা উল্লেখ করে এই অগ্রযাত্রায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

ভুল তথ্যে ২২ বছর কারারক্ষীর চাকুরী, কুমিল্লার সেই প্রতারক অবশেষে গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার:

অন্যের নাম -ঠিকানা ব্যবহার করে তথ্য পরিবর্তন করে ২২ বছর কারারক্ষীর চাকুরী করা প্রতারক মো: তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা ।

গত ২০০১ সালে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার শাহজাহানপুর গ্রামের মোঃ নুর উদ্দিন খান এর ছেলে মোঃ মঈন উদ্দিন খান কারারক্ষী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজির হয়ে শারীরিক ফিটনেস, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দেন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রত্যেকের স্থায়ী ঠিকানায় নিয়োগপত্র পরবর্তীতে ডাকযোগে প্রেরণ করা হবে। একই নিয়োগ দেখে উক্ত প্রতারকও পরীক্ষা দেয় এবং অকৃতকার্য হয়। এরই মধ্যে প্রতারকসহ আরো দুইজন সুযোগের সদ্ব্যবহার করে মঈন উদ্দিন খানের বাড়িতে যান ও নিজেদের কারাকর্তৃপক্ষের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয় এবং মঈন উদ্দিন খানকে বলে সে যদি কিছু টাকা দেয় তবে তাকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে অন্যথায় তার নিয়োগ বাতিল করা হবে। কিন্তু মঈন উদ্দিন খান ঘুষ দিয়ে চাকুরী করবে না বলে টাকা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে মঈন উদ্দিন খান নিয়োগপত্র না পাওয়ায় আশাহত হয়ে বেসরকারী চাকুরী শুরু করেন। এরই মধ্যে প্রকৃত মঈন উদ্দিন খান এর ঠিকানা ব্যবহার করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তার স্থলে কারারক্ষী হিসেবে চাকুরী শুরু করেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারাগারে চাকুরী সম্পন্নও করেন ও সর্বশেষ ঐ প্রতারক সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত ছিলেন। এরই মধ্যে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্তির জন্য জাতীয় পরিচয় পত্রের প্রয়োজন হলে প্রতারক প্রকৃত মঈন উদ্দিন খানের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে একটি জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরী করে ফেলে।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ২০২০ সালের শেষ দিকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রিন্ট সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সংবাদে প্রকাশিত হয় যে, সিলেট বিভাগে প্রায় ২০০ জন কারারক্ষী সিলেটের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও প্রায় ২০/২২ বছর যাবত চাকুরী করে আসছে। উক্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সিলেট বিভাগে কর্মরত প্রত্যেক কারারক্ষীর ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। তেমনিভাবে প্রকৃত মঈন উদ্দিন খান এর ঠিকানা যাচাইয়ের লক্ষ্যে কারা উপ-মহাপরিদর্শক, সিলেট কার্যালয়ে হতে শাহাজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর একটি পত্র পাঠানো হয় এবং মঈন উদ্দিন খান সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা কি না এ ব্যাপারে একটি প্রত্যয়ন পত্র প্রেরণের জন্য বলা হয়। পত্র প্রাপ্তির পর শাহাজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একটি প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন যে, মঈন উদ্দিন খান, পিতা-মোঃ নুর উদ্দিন, গ্রাম-শাহজাহানপুর, ডাকঘর-তেলিয়াপাড়া, থানা-মাধবপুর, জেলা-হবিগঞ্জ-কে তিনি চিনেন এবং মঈন উদ্দিন খান কারারক্ষী হিসেবে চাকুরী নয় বরং স্থানীয় একটি ফার্মেসীতে ঔষুধের ব্যবসা করেন।

চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট এর বিষয়ে জানার পর প্রতারক গত ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হতে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ দিনের নৈমিত্তিক ছুটিতে গমন করেন এবং ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তার যোগদান করার কথা থাকলেও সে ইতিমধ্যে তার কিছু নিকট সহকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারে কারা কর্তৃপক্ষ তার ভুয়া ঠিকানার ব্যাপারে জানতে পারে। তাই সে যোগদান থেকে বিরত থাকে। এ প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তাকে ছুটি হতে যোগদান না করলে চাকুরিচ্যুত করার বিষয়টি অবগত করলে সে যোগদান না করে অতিবাস করতে থাকে।

পরবর্তীতে ২৫ সেপ্টেম্বর মঈন উদ্দিন খান বিভাগীয় দপ্তরে চাকুরীতে যোগদানের জন্য একটি আবেদনপত্র প্রেরণ করেন যেখানে উল্লেখ করেন তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন এবং তার ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলেও কোন যোগদানপত্র পান নাই। বিষয়টি প্রতারক জানতে পারে ও সে শাহাজাহানপুরে মঈন উদ্দিন খান এর দোকানে গিয়ে তাকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেয় এবং সত্য ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য বলে। কিন্তু মঈন উদ্দিন খান হুমকির কোন তোয়াক্কা না করে বিষয়টি উন্মোচন করে দিবে বলে জানালে প্রতারক ব্যক্তি মঈন উদ্দিন খানকে ১০ লক্ষ টাকা প্রদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু প্রকৃত মঈন উদ্দিন খান তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে মঈন উদ্দিন খান চাকুরী পেতে উচ্চ আদালতের দারস্থ হন। এরই মধ্যে কারা কর্তৃপক্ষের পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত কার্যক্রমে সংগৃহীত কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা, সাক্ষীগণের সাক্ষী, জাল শিক্ষা সনদ ব্যবহার করে চাকুরীতে বহাল থাকা ও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাতে প্রাপ্ত তথ্য, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা, প্রকৃত মঈন খানকে হুমকি ধামকি দিয়ে সত্যতা ধামাচাপা দেয়াসহ বিভিন্ন লোমহর্ষক তথ্য প্রমাণিত হয়। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাকুরীরত প্রতারক কারারক্ষীকে ২০২১ সালের ২০ নভেম্বর তদন্ত কমিটির নিকট উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলে সে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে আত্নগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৪ আগষ্ট অন্যের ঠিকানা-পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চাকুরীরত থাকায় তার বিরুদ্ধে এস.এম.পি এর জালালাবাদ থানায় মামলা করা হয়। যেহেতু কারা কর্তৃপক্ষের নিকট এই প্রতারকের প্রকৃত ঠিকানা ছিল না তাই তারা মামলায় আসামীর নাম মোঃ মঈন খান এবং অন্যান্য তথ্যাদি অজ্ঞাত দিয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে জানতে পারেন তৎকালীন সময়ে কুমিল্লা জেলা হতে অনেক লোক কারারক্ষী পদে পরীক্ষা দিয়ে চাকুরীরত রয়েছে। পরবর্তীতে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতারককে গ্রেফতারের নিমিত্তে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা এর সহায়তা কামনা করে।

র‌্যাবের ছায়া তদন্তের এক পর্যায়ে জানা যায়, প্রতারকের প্রকৃত নাম মোঃ তাজুল ইসলাম (৪২) । সে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দক্ষিণ শশীদলের ৬ নং ওয়ার্ডের মৃত. মোঃ কালা মিয়ার ছেলে। প্রকৃত ঠিকানায় গিয়েও দেখা যায় আসামী মোঃ তাজুল ইসলাম তার নিজ বাড়িতে সব সময় অবস্থান করে না। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গত ১২ জানুয়ারী বিকালে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া বাজার এলাকা হতে উক্ত প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীর দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী ৩ সেট কারারক্ষী ইউনিফর্ম, একটি কারারক্ষী জ্যাকেট, এক সেট কারারক্ষী রেইনকোট, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি-পত্রাদি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী আরো জানায়, সে তার প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে প্রকৃত মঈন উদ্দিন খানের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চাকুরী করাসহ সরকারী সুযোগসুবিধা ভোগ করে আসছিল।
.
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত পরিচালনাকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সেনবাগে যুবদল নেতা গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আলাউদ্দিন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার ডুমুরুয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে একই দিন দুপুরে তাকে নোয়াখালী চীফ চুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ওসি আরো জানান, তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলাসহ দুটি মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেনবাগ উপজেলা যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দীন লিটন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আলাউদ্দিন ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের ঘটনায় এক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, মামলা হামলা ও গ্রেফতার চালিয়ে যুবদল নেতাকর্মিদের দমানো যাবে না। তাই গ্রেফতারকৃত যুবদল নেতার মুক্তির দাবি জানান তিনি।

জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে সদর উপজেলার সুবরাতি শাহজাদি মেমোরিয়াল বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস-২০২৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে” চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

১২ জানুয়ারি সহকারী তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূরুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ ভূইয়া, কুমিল্লা শিশু একাডেমির প্রশিক্ষক গোলাম মোস্তফা।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ২টি গ্রুপে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রপ (ক) হিসেবে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয় ও ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রপ (খ) হিসেবে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন সুবরাতি নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুবরাতি শাহজাদি মেমোরিয়াল বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম।

 

 

মুরাদনগরে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ২

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মুরাদনগরে ডাকাত সন্দেহে সংঘবদ্ধ পিটুনিতে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন।

শুক্রবার মধ্যরাতে উপজেলার পালাসুতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, পালাসুতা গ্রামের এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়া বহিরাগত তিনজনকে ডাকাত সন্দেহে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয় গ্রামবাসী। তাদের দাবি, কেওট গ্রামে ডাকাতি করতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে তারা ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

দারো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, শুক্রবার রাতে তিন ডাকাতকে সংঘবদ্ধ পিটুনি দেয়া হয়েছে। পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ডাকাতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছে। আহত একজন চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

৫ লাখ টাকায় শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলার সমঝোতা করতে চায় অধ্যক্ষের পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদরের ধর্মপুর এলাকায় শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে গরম পানি ঢেলে শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগে মামলায় কারাগারে আছেন গৃহকর্ত্রী তাহমিনা তুহিন। এ নিয়ে তুলকালামের মধ্যে অর্থ দিয়ে মামলা দফারফা করতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘দাম হাঁকাচ্ছেন’ ওই নারীর স্বজনরা। এমন অভিযোগ করেছেন আহত শিশু গৃহকর্মীর মামা হাফেজ ইব্রাহিম খলিল।

গৃহকর্মীর মামা দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফেজ ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমার ভাগনির বাবা নেই। পরে আমরা তার মাকে অন্যত্র বিয়ে দেই। বিয়ের কিছুদিন পর পাশের বাড়ির এক লোক এসে আমাকে বলেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবু তাহেরের মেয়ের বাচ্চাদের খেলার কোনও বন্ধু নেই। ভাগনিকে দিলে তাদের বাচ্চাদের সঙ্গে খেলাধুলা করবে আর তাদের সঙ্গে পড়াশোনাও করবে। প্রথমে আমি রাজি হইনি। পরে ওই মেয়ে আসে এবং আমাদের অনুরোধ করে বলেন, আমার ভাগনিকে নিজের মেয়ের মতো করেই রাখতে চান।’

ভুক্তভোগী শিশুটির মামা আরও বলেন, ‘আর্থিক অনটনের পরিবারের বুকে পাথর বেঁধে ভাগনিকে দিয়ে দেই। দেওয়ার দুই তিন মাস আমার বোনের সাথে কথা হয়েছে। এরপর থেকে চার বছর সে কুমিল্লায়। কোনোদিন আমার সঙ্গে কথা হয়নি। শুনেছি আমার বোনের সঙ্গেও তার তেমন কথা হয়নি।’

চার বছরে কোনোদিন ভাগনির সঙ্গে কথা বলতে চাননি এমন প্রশ্নে ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার ভাগনি আমার কত কাছের, যারা আমাকে চেনেন তারা জানেন। আমি প্রতি সপ্তাহে কল দিতাম। ওই নারীর (তাহমিনা তুহিন) মেয়ে বলতো, ভাগনি কথা বললে কান্না করবে। তাই কথা বলতে দিতো না।’

অবহেলা আর নির্যাতনে বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভাগনির দাঁত নড়ে আবার বসে গেছে। সেই দাঁতের পাশে দাঁত উঠেছে। তার মাথার চুলে সেম্পু, সাবান লাগাতে হবে। তাই তার মাথার চুল পুরো কেটে দিতো। তার নোংরা জামাতেই চলতো বছর। চার বছর গ্রামের বাড়িতে তাহমিনা তুহিনের মেয়ে কতবার গিয়েছে। আমরা দৌড়ে তার বাড়িতে গেলেই সে বলতো, আমাদের ভাগনিকে আনেনি। দুঃখ নিয়ে চলে আসতাম।’

ভাবতাম ভাগনি আমাদের থেকেও ভালো আছে। কিন্তু সেদিন খবর পাই ভাগনি ভালো নেই। হাসপাতালে গিয়ে প্রথমে ভেবেছিলাম ভাগনিকে শুধু সেদিনই মেরেছে। পরে তার পুরো শরীরে দেখি দাগ আর দাগ। অনেকগুলো পুরোনো, আবার অনেক গুলো কয়েকদিন আগের।‘

কেন তার শরীরে গরম পানি ঢেলেছে এমন প্রশ্নে ইব্রাহিম বলেন, ‘ওই ঘরে আরেকজন কাজের নারী ছিল। সে কোনও একটি অভিযোগ দেওয়ায় আমার ভাগনিকে তিন দিন তারা কোনও খাবার দেয়নি। পরে সে ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে রান্নাঘর থেকে  পাউডার দুধ নিয়ে খেতে চেয়েছিল। কিন্তু তাকে দুধ না খেতে দিয়ে চুলায় থাকা গরম পানি শরীরে ঢেলে দেয়।’

মামলা তুলে নিতে কোনও হুমকি আসছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মামলা করার আগে থেকেই টাকা দিয়ে তারা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছে। মামলার পরে আমাদের স্থানীয় নেতারা এসেছেন, মিমাংসা করতে। প্রথমে এক লাখ টাকা দেবে বলেছে। আমি রাজি না হওয়ায় তা পাঁচ লাখ পর্যন্ত উঠেছে। গরিবের সংসার, না খেয়ে থাকবো কিন্তু ভাগনিকে যারা এত কষ্ট দিয়েছে তাদের বিচার হোক। আমি আদালতের কাছে বিচার চাই।’

ভাগনি এখন কেমন আছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শরীরের ব্যান্ডেজগুলো একবার চেঞ্জ করেছে ডাক্তার। তার অবস্থা আগের মতোই। এখনও শোয়ায় আছে। ডাক্তার বলেছে সুস্থ হতে সময় লাগবে।’

এদিকে ৯ জানুয়ারি গ্রেফতার তাহমিনা তুহিনের জামিন নামঞ্জুর করেছে আদালত। কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলাল উদ্দিন এ আদেশ দেন। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিন্টু  বলেন, শুধু তাহমিনা তুহিন নয় তার মেয়ে ইমুসহ ওই শিশুকে নির্যাতন করতো। তারা জালি বেত দিয়ে তাকে মারতো। গরম পানি শরীরে ঢেলেছে বলে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি দিয়েছে ওই শিশু। আমরা প্রত্যাশà