All posts by jitu

 চেকপোস্টে ৮ কেজি গাঁজা ও বিদেশী মদসহ যুবক গ্রেফতার

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলায় ৮কেজি গাঁজা ও ৬ বোতল বিদেশী মদ সহ মো. বেলাল হোসেন সুমন (২৮) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১, সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান।

গ্রেফতার হওয়া সুমন ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়াপুর গ্রামের কোয়াইল্লার টেক এলাকার আবুল বাশারের ছেলে।

র‌্যাব কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রোববার ভোরে নোয়াখালী সদর-কবিরহাট আঞ্চলিক সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায় র‌্যাব। বিষয়টি টের পেয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন সুমন। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৮ কেজি গাঁজা ও ৬ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয় এবং মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত সিএনজিটি জব্দ করা হয়।

সুমন জানায়, কুমিল্লা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন অভিনব প্রন্থায় তা পরিবহন করে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর  জেলায় খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করত। এ ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

কুমিল্লা থেকে যাওয়ার সময় একটা ভাল অনুভূতি নিয়ে যেতে চাই- জেলা প্রশাসক

 

ইসতিয়াক আহমেদ:

কুমিল্লায় সদ্য যোগদান করা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেছেন- আমি কুমিল্লায় যেভাবে এসেছি, যাওয়ার সময় একটা ভাল অনুভূতি নিয়ে যেতে চাই। আমি যেন ভালভাবে বিদায় নিয়ে যেতে পারি। আমি অবশ্যই  কুমিল্লায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করবো।

রবিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম এ কথা বলেন।  এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: কাবিরুল ইসলাম খানসহ প্রশাসনের উধ্র্বতন কমৃকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন-আমি আমার মূল দায়িত্বগুলো পালন করার জন্য চেষ্টা করবো। আমি ধারাবাহিকতায় বিশ্বাসী। সাবেক জেলাপ্রশাসকদের পূর্বের কাজগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করবো।

মত বিনিময় সভায় সাংবাদিকগণ ছাড়াও সুশীল সমাজের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

মুরাদনগরে গাঁজাসহ ৩ নারী মাদক কারবারি আটক

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর :
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় পৃথক দুইটি অভিযানে ১৪ (চৌদ্দ) কেজি গাঁজাসহ ৩জন নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের রহিমপুর ও সদর ইউনিয়নের নাগেরকান্দি গ্রাম থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃত মাদক কারবারিরা হলেন, চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিন থানার ডিংগা ভাংগা গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী শামসুন নাহার (৫০), নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার পশ্চিম সনমান্দি গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে রুবি আক্তার (৪৭) ও নারায়নগঞ্জ বন্দর থানার সিটি কেের্পারেশন এলাকার দৌলত হোসেন নওশাদ এর স্ত্রী মাকছুদা নওশাদ (৪০)

জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানার এসআই হামিদুল ইসলাম ও ওমর ফারুকের নেতৃত্বে ও সঙ্গীয় ফোর্স সহ পৃথক দুইটি অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামে মুরাদনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে থেকে শামসুন নাহার (৫০) ও রুবি আক্তার (৪৭) কে ৮(আট) কেজি গাঁজা ও সদর ইউনিয়নের নাগেরকান্দি গ্রামের মুরাদনগর-হোমনা সড়কের উপর থেকে মাকছুদা নওশাদ (৪০) কে ৬(ছয়) কেজি গাঁজা সহ গ্রেফতার করে।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করে শনিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডের বিদায়, সেমিতে ফ্রান্সের মুখোমুখি মরক্কো

স্পোর্টস ডেস্ক:

নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে এসে চোখের জলে বিদায় নিতে হলো রোনালদোকে। রোনালদোও বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—বিশ্বকাপটা আপন রঙে রাঙাবেন। আর এর জন্য তিনি নিজেকে ভালোভাবে তৈরিও করে এসেছেন। কিন্তু ইংল্যান্ড থেকে কাতার আসার আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিয়ে এক বোমা ফাটানো সাক্ষাৎকার দিয়ে বিতর্ক তৈরি করলেন নিজেই।

এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডে পর্তুগাল কোচের এক সিদ্ধান্তে বিশ্ববাসী অবাক হয়ে যান। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বোকা বানিয়ে দিয়ে মাঠে নামানো হয় রামোসকে। সে থেকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও মরক্কোর বিপক্ষে দলের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখে পর্তুগাল। এর মধ্যে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধে রোনালদোকে মাঠে নামান কোচ।কিন্তু গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও পারলেন না রোনালদো।

মোট ৫টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হয়েছে রোনালদোর। যেখানে ২২টি ম্যাচ খেলে ৮টি গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার। তাকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনেছিল পর্তুগিজরা। কিন্তু মরক্কোর মতো দলের কাছে হেরে সবকিছুই যেন মিইয়ে গেলো।

রাতের  শেষ খেলায় প্রথমে ফ্রান্স গোল করেছিল, এরপর পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন হ্যারি কেইন। ফ্রান্স আবারও গোল করল, ইংল্যান্ড আবারও একটা পেনাল্টি পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এবার কেইন পেনাল্টি মিস করে বসলেন। ফলে জিরুর এগিয়ে দেওয়া গোলে ২-১ ব্যবধান নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ফ্রান্স।

প্রথমার্ধে টিচুয়ামেনির গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে গিয়েছিল ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সেই টিচুয়ামেনির ফাউলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড।হ্যারি কেইনের দারুণ এক পেনাল্টিতে খেলা সমতায় ফিরে।

এরপর একগাদা আক্রমণ প্রতি-আক্রমণের পর ফরাসিদের দ্বিতীয় গোলের দেখা পাইয়ে দেন অলিভিয়ের জিরু। অ্যান্টোয়ান গ্রিজমানের এক কর্নার ইংলিশরা বিপদমুক্ত করে, তবে সেই বল আবারও দখলে নিয়ে বাম পাশ দিয়ে আবারও আক্রমণে ওঠে ফ্রান্স, বক্সে আসা ক্রসটা দারুণভাবে জালে জড়ান জিরু।

তিন মিনিট পরই পেনাল্টি পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। শুরুতে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত না দিলেও রেফারি ভিএআর দেখে এসে পেনাল্টি দেন ইংলিশদের। তবে আগের বারের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি ইংলিশ অধিনায়ক কেইন।ফলে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ইতালির বিভিন্ন শহরে ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রবাস ডেস্ক:

ইতালিতে গত ১১ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন কারণে সাত বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ২৬ নভেম্বর মো. সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবক রোমের অদূরে সিভিতা ভেক্কিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ।

গত ৫ ডিসেম্বর রেদুয়ানুর রহমান নামে বাংলাদেশিকে মৃত অবস্থায় রাস্তায় পাওয়া যায়, তার বাড়ি ঢাকা। পুলিশ মৃতদেহ মর্গে পাঠিয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন।

একই দিনে কাতানিয়া সিসিলিতে মো. শাহ আলম নামে এক বাংলাদেশি যুবক হার্টঅ্যাটাকে মারা যান।

৬ ডিসেম্বর মো. বারেক সারেং নামে আরেক বাংলাদেশি হার্টঅ্যাটাকে দক্ষিণ ইতালির নাপোলির হাসপাতালে মারা যায়। তার গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে।

একই দিনে রোমে হার্টঅ্যাটাকে মারা যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মো. ফয়সাল খান।

ইমরান দরবারি নামে আরেক বাংলাদেশি ইতালির আনকোনা শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। তার বাড়ি মাদারীপুর জেলায়।

বাংলাদেশি আরেক রেমিট্যান্স যোদ্ধা মোহাম্মদ আজিম গত ৭ ডিসেম্বর ইতালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা গেছেন। তিনি ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন।

জানা গেছে, মৃতদের বেশিরভাগ বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।

লালমাইয়ে ছেলের হাতে মা খুন

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লালালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন বনশ্রী গ্রামে  লাক্ষণ পাড়ায় ছেলের শাবলের আঘাতে মা খুন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘাতক ছেলের নাম নুরে আলম সবুজ (৩০)।

নিহত মায়ের নাম নুরজাহান বেগম চশমা (৫০) ঐ গ্রামের কামাল হোসেন রাজা মিয়ার স্ত্রী।

শনিবার (১০ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সাইদুল ইসলাম তিতু এ তথ্য নিশ্চিত।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূতী জানা যায়, মাত্র ৫ দিন আগে সৌদি আরব থেকে দেশে আসার পর থেকে সবুজ কারো সাথে কথাবার্তা না বলে চুপচাপ থাকত। ২ বছর সৌদি থাকলেও দেশে টাকা-পয়সা পাঠাতে পারেনি। শনিবার দুপুরে হঠাৎ পিতা কামাল হোসেন রাজা মিয়া, ভাই আরশাদসহ কয়েকজনকে মারধর করে। পরে পার্শ্ববর্তী নানার বাড়িতে গিয়ে মামা কামরুল ইসলামের স্ত্রী প্রীতি (২৭), মামাতো বোন মাইশাকে মারধর করে। এ সময় ঐ বাড়ির লোকজন তাদেরকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তোফায়েল হোসেন সহ (৫৫) কয়েকজনকে মারধর করে সবুজ। খবর পেয়ে একপর্যায়ে তার মা তাদেরকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে সবুজের হাতে থাকা শাবল দিয়ে সে মাকে তিনটি আঘাত করলে মাথা ফেটে ঘটনাস্থলে মারা যান নুরজাহান বেগম চশমা।

এলাকাবাসী জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে এসে বেডিংপত্র নিয়ে সবুজ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় লোকজন তাড়া করলে সে রাস্তা বদলে পালানোর চেষ্টা করে। পরে দরবেশপাড়া দিঘির পাড় থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে লোকজন।

লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব  জানান, সবুজ মানসিক ভারসাম্যের কারণে তাকে সৌদিআরব থেকে দেশে পাঠানো হয়। আজ তাকে আত্মীয় স্বজনরা চিকিৎসার জন্য মানসিক হাসপাতালে নেয়ার কথা ছিল।

ঘটনাস্থলে আসা লালমাই থানার উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ জানান, ঘাতক সবুজকে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ হাতুড়ি গ্রুপের ৫ সদস্য আটক

ইসতিয়াক আহমেদ:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দূর্গাপুর এলাকায় বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্রসহ ‘হাতুড়ি গ্রুপ’ এর মূল হোতা মেহেদী হাসান সুজন @ক্যাডার সুজনসহ সক্রিয় পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২ সদস্যরা।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার একটি আভিযানিক দল চৌদ্দগ্রাম থানাধীন দূর্গাপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ০২ টি চাপাতি, ০৩ টি সুইচ গিয়ার, ০২ টি শর্টগানের কার্তুজ, ০১ টি ছোরা, ০৪ টি লোহার রড, ০৩ টি হাতুড়ি ও ০৩ টি লাঠি উদ্ধার করা হয়।

আটক হওয়া ‘হাতুড়ি গ্রুপের সদস্যরা হলেন- কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের মোঃ আমির আলীর ছেলে মেহেদী হাসান সুজন ওরফে ক্যাডার সুজন (২৫) ও একই গ্রামের মোঃ আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ ফারুক হোসেন (২৫) ও মৃত. তরব আলীর ছেলে মোঃ ইসমাইল হোসেন (৩৫), একই থানার ধনিজকরা গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ তারিকুল ইসলাম@তারেক (২০) এবং একই গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে মোঃ জাকির হোসেন (২০)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হওয়া সদস্যরা র‌্যাবকে জানায়, তারা সকলেই ‘হাতুড়ি গ্রুপ’ এর সক্রিয় সদস্য। তারা দেশীয় অস্ত্রের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মারামারি, চাঁদাবাজি, ত্রাস সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড সম্পাদন করে থাকে। আরো জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উক্ত গ্রুপের মূলহোতা মেহেদী হাসান সুজন@ক্যাডার সুজনের বিরুদ্ধে পূর্বে ফেনী জেলার সদর থানায় হত্যাচেষ্টার একটি মামলা রয়েছে এবং সে এই মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী। বিজ্ঞ আদালত উক্ত মামলায় ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে।

এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লায় ২য় স্টার লাইন বিজয় দিবস কাপ গলফ টুর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সেনানিবাসে অবস্থিত ময়নামতি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবে “২য় স্টার লাইন বিজয় দিবস কাপ গলফ টুর্ণামেন্ট – ২০২২” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া টুর্ণামেন্টটি শনিবার (১০ ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে। এই টুর্ণামেন্টে সর্বমোট ১৩০ জন গলফার অংশগ্রহণ করেন ।

উদ্বোধন এবং টুর্ণামেন্ট শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরষ্কার বিতরণ করেন ময়নামতি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোঃ মাইনুর রহমান, এসইউপি, এডব্লিউসি, পিএসসি।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টার লাইন গ্রুপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর হাজী আলাউদ্দিন ।

নেইমার কাদঁলেন, হাসঁলেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক:

এই বিশ্বকাপে শুক্রবারের রাতটি ছিল ব্রাজিলের হতাশা আর আর্জেন্টিনার আনন্দের রাত দুটিরই বাহন টাইব্রেকার। ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে নেইমারের ব্রাজিলকে। আর নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেছে আর্জেন্টিনা।

দারুণ এক গোল করার পরও কান্নায় শেষ হয়েছে নেইমারের বিশ্বকাপ। লিওনেল মেসিও গোল করেছেন, করিয়েছেনও এর আগে। তারপরও শেষের নাটক তাঁর বিশ্বকাপ শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল, যা জয় করার পর মেসি মাঠে শিশুর মতো লাফালেন।

সে জন্য এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কাছে তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ থাকার কথা নয়। টাইব্রেকারে ডাচদের প্রথম দুটি শটই দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। আর্জেন্টিনা গোল করেছে প্রথম তিন শটেই। এনজো ফার্নান্দেজের চতুর্থ শটটি বাইরে চলে যাওয়ার পর এই রাতের সব নাটকের পরিসমাপ্তি নির্ভর করছিল লাওতারো মার্তিনেজের ওপর। অতিরিক্ত সময়ে সহজ একটা সুযোগ অপচয় করা স্ট্রাইকার এখানে আর ভুল করেননি।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল দেখবে বলে অধীর অপেক্ষায় ছিল প্রায় পুরো ফুটবল বিশ্ব। সেই স্বপ্নের ম্যাচের সমাধি হয়ে গেছে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ব্রাজিলের পরাজয়েই। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বদলে এখন আর্জেন্টিনা-ক্রোয়েশিয়া সেমিফাইনাল। ১৩ ডিসেম্বর এই লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামেই।

ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল আর টাইব্রেকারকে যদি নাটক বলেন, তাহলে এই ম্যাচের জন্য অন্য কোনো শব্দ খুঁজতে হয়। ৭৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে মেসি যখন আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে এগিয়ে দিলেন, ম্যাচ তো সেখানেই শেষ বলে মনে হচ্ছিল। ৮৩ মিনিটে ভাউট ভেগহোর্স্টের হেডে গোল দিয়ে উত্তেজনার শুরু। যোগ করা সময়ে এই ভেগহোর্স্টই দ্বিতীয় গোল করে সমতা এনেছেন খেলায়। সেই গোলটি দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত এক ফ্রি কিকে। যেখানে ফ্রি কিক পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস, সেখান থেকে সরাসরি গোলেই মারার কথা। তা না করে কপমাইনার্স আস্তে করে পাস দিয়ে দিলেন ভেগহোর্স্টকে। আর্জেন্টিনা একটু হতভম্বই হয়ে গিয়ে থাকবে। ভেগহোর্স্টের ফিনিশিংটা অবশ্য দারুণ ছিল।৭৩ মিনিটে মেসির গোল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পক্ষে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডে তাঁকে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার পাশে বসিয়ে দিল। রেকর্ডটা নিজের করে নেওয়ার সুযোগ তো পাচ্ছেনই। ক্যারিয়ারের একমাত্র অতৃপ্তি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগও।

এর আগে আর্জেন্টিনা যথারীতি এগিয়েছে মেসি-জাদুর ওপর ভর করে। ৩৫ মিনিটে মেসির দারুণ এক পাস থেকে গোল করেন মলিনা। রাইট ব্যাকে খেলেন, এর আগে আর্জেন্টিনার হয়ে ২৪ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি। আর এখানে বিশ্বকাপে এসে এমন এক গোল, মলিনার জন্য এই রাত অবিস্মরণীয় হয়েই থাকবে। শেষ পর্যন্ত জিততে না পারলে হয়তো তা থাকত না।

কাদঁলেন নেইমার:

ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালেই থেমে গেছে ব্রাজিলের দৌড়। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের সব আশা জলাঞ্জলি দিয়ে গত রাতে দোহার এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বসেরারা। কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের কাছে এ যেন কান্নার রাত।

১-১ গোলের সমতার ম্যাচ শেষে টাইব্রেকারে ব্রাজিলের প্রথম শটটা নিলেন বদলি নামা তরুণ ফরোয়ার্ড রদ্রিগো। কিন্তু চরম স্নায়ুচাপের কাছে হার মেনে তিনি নিলেন দুর্বল শট, যা আটকে দেন ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচ। রদ্রিগোর পর মার্কিনিওসের মিস সর্বনাশ করে দেয় ব্রাজিলের। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া চারটি শটেই গোল করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকারে জিতে ক্রোয়েশিয়া উঠেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো শেষ চারে ক্রোয়াটরা। ব্রাজিলের ১২তম সেমিফাইনাল হলো না।

১০৬তম মিনিটে দুই সতীর্থের সঙ্গে দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রাজিলের ‘নাম্বার টেন’। বাকি কাজটা করতে ভেঙে ফেলেছেন পোস্টের নিচে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা দমিনিক লিভাকোভিচের প্রতিরোধ। ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার শেষ রক্ষা করতে পারেননি। তাঁকে কাটিয়ে নেইমার যখন খুব কাছ থেকে দুরন্ত শটে বল জড়ান জালে, ততক্ষণে ব্রাজিলের আকাশ থেকে অনেকটা কেটে গেছে শঙ্কার মেঘ। এই গোল তাঁকে নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনার জবাবও। নেইমার এদিন ছুঁয়ে ফেলেছেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা কিংবদন্তি পেলেকে। দেশের হয়ে দুজনেরই গোল এখন ৭৭।

জয় থেকে যখন প্রায় নিশ্বাস দূরত্বে ব্রাজিল, তখনই ১১৭তম মিনিটে ব্রাজিল শিবিরকে স্তব্ধ করে ক্রোয়েশিয়ার গোল। সেটিই ছিল ব্রাজিলের পোস্টে প্রথম শট ক্রোয়েশিয়ার। বক্সের একটু ভেতর থেকে দিনামো জাগবেরের ফরোয়ার্ড ব্রুনো পেতকোভিচের শট ব্রাজিল ডিফেন্ডার ও অধিনায়ক থিয়াগো সিলভার পায়ে লেগে কিছুটা দিক বদলে জালে। মাথায় হাত ব্রাজিলের! তারপর তো টাইব্রেকার–দুঃখ। ২০০২ বিশ্বকাপের পর টানা পাঁচবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপিয়ান দলকে হারাতে ব্যর্থ ব্রাজিল।

কিন্তু এই রাতে সেমিফাইনালের টিকিট পেতে ব্রাজিল ঘাম ঝরিয়েছিল বিস্তর। ব্রাজিল যেমন ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়তে পছন্দ করে, কিন্তু এদিন ক্রোয়েশিয়া সেই সুযোগ দেয়নি। বল পায়ে রেখে বরং নিজেরাই উঠছিল। ১২ মিনিটে গোল তো প্রায় পেয়েই যাচ্ছিল ক্রোয়েশিয়া। ইভান পেরিসিচ বলে পা লাগাতে পারেনি বলে রক্ষা। পরপরই মদরিচের ক্রস আতঙ্ক হলুদ-রক্ষণে।

বারিসিচদের রক্ষণ ফাঁকফোকর ভরাট করে রেখেছিল। যে কারণে ব্রাজিল অন্য দিনের মতো চূড়ান্ত পাসটা রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিল না। উল্টো ক্রোয়েশিয়া চোখ রাঙায় ব্রাজিলের রক্ষণে। কিছুটা স্নায়ুচাপেই কি না, ২৪ মিনিটে বিপজ্জনক ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ডটা দেখেন ব্রাজিল ডিফেন্ডার দানিলো। এরপর কখনো কখনো প্রান্ত বদল করে ব্রাজিলকে ভয় ধরিয়ে দেন মারিও পাসালিচরা।

প্রথমার্ধ শেষে পরিসংখ্যান দাঁড়ায় এ রকম—বল পজেশনে ব্রাজিল ৫১, ক্রোয়েশিয়া ৪৯। পোস্টে ব্রাজিলের শট পাঁচটি, যার মধ্য লক্ষ্যে তিনটি। গোলের জন্য তিতে তাঁর ভান্ডারের সব অস্ত্রই ব্যবহার করেন। দ্বিতীয়ার্ধে রাফিনিয়াকে তুলে আন্তনিকে, ভিনিসিয়ুসকে তুলে রদ্রিগোকে নামান কোচ। শেষ দিকে রিচার্লিসনকেও তোলা হলো। ৯০ মিনিট শেষে ক্রোয়েশিয়া গোলকিপারের সেভের সংখ্যা ৮। তারপর টাইব্রেকারে একটি সেভ। নেইমারদের কাঁদিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে শেষ চারে তোলার নায়কও তো তিনিই।