All posts by jitu

নোয়াখালীতে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার,স্বামী আটক

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা থেকে পুলিশ এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত শিল্পী আক্তার (৩০) উপজেলার ৩ নং পরকোট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খালিশপাড়ার বাশঁতলা এলাকার জনক বাড়ির মোবারক উল্লাহর স্ত্রী। তিনি সন্তানের জননী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে পুলিশ ঘরের পাশে পুকুর থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক মৃত্যুর কোন কারণ জানাতে পারেনি। তবে নিহত গৃহবধূর বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনায় পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা নেয়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোমবার দুপুর ২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যু সঠিক কারণ জানা যাবে।

চান্দিনায় শশুর বাড়িতে প্রহারের পর যুবকের মরদেহ মিলল পুকুরে! পরিবারের অভিযোগ হত্যা

চান্দিনা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চান্দিনায় শ্বশুর বাড়িতে জামাতাকে শিকল বেঁধে আটকে রেখে মারধরের পর জনি (২৬) নামে যুবকের মরদেহ মিলল পাশের গ্রামের একটি পুকুরে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

সোমবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের কুটুম্বপুর গ্রামের একটি পুকুর থেকে আরমান হোসেন জনি’র মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জামাতা আরমান হোসেন জনি পাশ্ববর্তী দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের গাংচর গ্রামের মজিবুর রহমান এর ছেলে। পেশায় পিকআপ চালক।

নিহতের পিতা মজিবুর রহমান জানান, গত ৬ মাস পূর্বে আমার ছেলেকে চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের নূরুল ইসলাম এর মেয়ে শিল্পী আক্তার এর সাথে বিবাহ দেই। পুত্রবধু শিল্পী আক্তার পূর্বে বিবাহিতা ও এক সন্তানের জননী। আমার ছেলেকে বিবাহ করার পরও শিল্পী তার পূর্বের স্বামীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাহ হতো। প্রায় ১০ দিন পূর্বে আমার পুত্রবধু তার পিতার বাড়িতে বেড়াতে আসায় গত শনিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে আমার ছেলে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসে। রবিবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হওয়ার পর তারা আমার ছেলের হাত-পা বেঁধে মারধর করে। রাত প্রায় ১০টার দিকে আমার ছেলের শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফোন করে কাবিনের টাকা ও অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য আমাকে বলে। সকালে শুনি আমার ছেলের লাশ কুটুম্বপুর গ্রামের একটি পুকুরে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তারা (পুত্রবধুর বাপের বাড়ির লোকজন) আমার ছেলেকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দিয়েছে।

নিহত জনি’র স্ত্রী শিল্পী আক্তার জানান, জনি মাদকাসক্ত ছিল। প্রায়ই আমাকে মারধর করতো। আমার বাপের বাড়িতে গিয়ে আমাকে মারধর করায় এলাকার লোকজন তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে আমার শ্বশুরকে ফোন করে। রাত ১টার দিকে সে (স্বামী) হাতের শিকল খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন দুপুর ১২টায় আমরা থানায় জিডি করতে আসলে শুনতে পাই আমার স্বামীর লাশ একটি পুকুরে পাওয়া গেছে।

চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) রাকিব হাসান জানান, কুটুম্বপুর গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে মিলন (১৩) নামের এক কিশোর পুকুরের পাশ দিয়ে আসার সময় ভাসমান অবস্থায় নিহতের মরদেহ দেখে এলাকাবাসীকে জানায়। খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের নাক, কান ও চোখে প্রচুর রক্তক্ষরণ দেখতে পাই। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করার জন্য এসেছেন।

চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. সাহাবুদ্দীন খাঁন জানান, ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) ফয়েজ ইকবাল মহোদয়, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একটি টিম সহ চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নোয়াখালিতে রেঁস্তোরায় বৈঠকে অসম্মতি, সেবা প্রত্যাশী নারীকে অশ্লীল গালাগাল করল এসআই

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে রোঁস্তোরায় বৈঠক বসতে অসম্মতি জানালে সেবা প্রত্যাশী এক নারীকে অশ্রাব্য-অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো.রতন মিয়ার বিরুদ্ধে। এমন আচরণে প্রত্যক্ষদর্শী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী সেতারা বেগম (৫৭) উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আকবর হাজী বাড়ির মৃত আবুবক্কর ছিদ্দিকের স্ত্রী।

গত শনিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার প্রধান ফটকে ও মুঠোফোনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দিন সকালে ভুক্তভোগী ওই নারীকে বাড়ি গিয়েও হুমকি ধামকি দিয়ে শাসিয়ে এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে বারণ করেন এসআই রতন।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, ৭ মাস আগে তার ছেলে নুরনবীকে (২৭) প্রতারণা করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সৌদি নিয়ে ৪লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের মেহের আলী কামলা বাড়ির সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলাম। কথা ছিল সাইফুল সৌদি নিয়ে আমার ছেলেকে আবাসিক হোটেলে চাকরি দিবে। বেতন হবে ১হাজার ৮০০শত রিয়াল। কিন্তু তিন মাস একটা রুমে রাখে চাকরি না দিয়ে। গত ৭ মাসেও সে আমার ছেলেকে কোন চাকরি দিতে পারেনি। একপর্যায়ে আকামা করার জন্য পুনরায় ১হাজার রিয়াল নেয়। এখানেও সাইফুল প্রতারণা করে আমার ছেলেকে খুরুজ লাগানো আকামা দেয়। এ কারণে কেউ তাকে আকামা দেখে কাজ দেয়না।

তিনি আরো জানান, এসব প্রতারণার অভিযোগ তুলে গত ১৫-২০ দিন আগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগী বিবাদী করা হয় সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলামের মা-বাবা ও স্ত্রীকে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি এ অভিযোগের তদন্ত করার দায়িত্ব দেন এসআই রতনকে। সমস্যার সমাধান করতে রতন আমাদের কাছে ৫হাজার টাকা দাবি করে। পরে তাকে ২হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকী টাকা পরে দেওয়ার কথা ছিল।
ওই নারী বলেন, গত শুক্রবার প্রথম বৈঠকে থানায় বিবাদী পক্ষের কেউ আসেনি। দ্বিতীয় বৈঠক বসার জন্য এসআই রতন বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে বৈঠকে বসার বিষয়ে অবহিত করে আসেন। তারপর গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে এসআই রতন বাদীকে ফোন দিয়ে জানায় থানায় কোন বৈঠক হবেনা। বৈঠক হবে বসুরহাট বাজারের হক হোটেলে। এ নিয়ে অভিযোগকারী নারী রোঁস্তোরায় গিয়ে বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানালে এসআই রতন ওই নারীকে মুঠোফোনে অশ্রাব্য-অশ্লীল ভাষায় বেজায় গালাগাল করেন। তখন মুঠোফোনে ওই নারী এসআই রতনকে জানায় থানায় অভিযোগ করেছি বৈঠকও থানায় হবে। এরপর এসআই তাকে থানার গেইটে আসতে বলে। সেবা প্রত্যাশী নারী থানার গেইটের ভিতরে প্রবেশ করলে পুনরায় সে ওই নারীকে বিশ্রী ভাষায় প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের সামনে গালমন্দ করে। যা লেখার অযোগ্য। পরে ওই নারী কাঁদতে কাঁদতে থানা থেকে চলে যায়। এসআই রতনের অশ্রাব্য-অশ্লীল ভাষায় গালাগালের একটি অডিও রেকডিং ও ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষতি আছে।

ভুক্তভোগী অভিযোগ করে আরো বলেন,একজন মাকে তার ছেলের সামনে প্রকাশ্যে এভাবে কোন পুলিশ কর্মকর্তা গালিগালাজ করতে পারে। যা সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায়না। ওই নারী আরো জানান তিনি আতঙ্কে গত দুদিন যাবত কিছুই খাননি। এ ঘটনায় তিনি এসআই রতনের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন বাংলাদেশ পুলিশ প্রধানের কাছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো.রতন মিয়া বলেন, ওই নারী থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। তার মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছিলেন। তবে হোটেলে বৈঠকে না যাওয়া তিনি রাগের মাথায় একটু উত্তোজিত হয়ে ওই নারীর সাথে ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করেন। তবে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে শাসানো হয়নি এবং টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাদেকুর রহমান বলেন,ঘটনাটি শোনার পর অভিযুক্ত এসআইকে বলেছি এ থানা থেকে চলে যেতে।

মুরাদনগরে জীবিত মহিলার নামে মৃত্যু সনদ, বেঁচে থেকেও চেয়ারম্যানের সনদে মৃত মিলন নেছা

মাহাবুব আলম আরিফ :
কুমিল্লার মুরাদনগরে এক জীবিত মহিলাকে ২৩ বছর আগে মৃত দেখিয়ে তার নামে মৃত্যু সনদ দিয়েছে এক ইউপি চেয়ারম্যান। জীবিত থেকেও কাগজে কলমে তিনি এখন মৃত।

মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার পূর্ব ধইর পশ্চিম ইউনিয়নের খৈয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। জীবিত লোককে মৃত্যু সনদ দেওয়ার বিষয়টিতে কোন দুরভীসন্ধি রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল। বিধিমোতাবেক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের মেম্বার প্রত্যয়ন দেওয়ার পর সে মোতাবেক কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে চৌকিদারকেও কাজে লাগানো যেতে পারে। এ বিষয়ে সকলকেই সচেতন ভাবে কাজ করা উচিত। ইউনিয়ন উদ্যোক্তা থাকা সত্বেও ওই ইউনিয়নে হাক্কানী (২০) নামে একজন কাজ করে সে বর্তমান চেয়ারম্যান রহিম পারভেজের ছেলে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ৫নং পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের খৈয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ীর মৃত জয়দল হোসেনের স্ত্রী মিলন নেছা (৬৫) এর নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গত ১৮-০৯-২০২২খ্রী: মৃত্যু সনদপত্র দেয়া হয়েছে যার নং ২০২২১৯১৮১৮১০০৫২৯৭। মৃত্যু সনদপত্রে তাকে ২৩ বছর আগে ১৫-০২-১৯৯৯খ্রী: মৃত্যু বরণ করেছেন উল্লেখ করা হয়েছে। বাস্তবে তিনি জীবিত আছেন। সে মৃত জয়দল হোসেনের স্ত্রী। মিলনের নেছা উপজেলার টনকী ইউনিয়নের বাইড়া গ্রামের মৃত ছৈয়দ আলীর মেয়ে। শুক্রবার বিকেলে এ প্রতিবেদক ওই মহিলার সাথে কথা বললে তিনি জানান এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ বিষয়ে তার ছেলে জাকির হোসেনের সাথে কথা বলতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর সে আর কথা বলেনি। তার মোঠো ফোনে কথা বলতে চাইলে সে ফোন বন্ধ করে দেয়। ইউপি চেয়ারম্যান যাচাই-বাছাই না করে জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে মৃত্যু সনদ দেয়ার বিষয়টি রহস্যজনক।

এ বিষয়ে সিনিয়র এডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহাম্মদ ফয়সাল বলেন, জীবিত ব্যাক্তিকে মৃত্যু সনদ দেয়া জঘন্য অপরাধ। উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে বিষয়টি প্রমানিত হলে ওই চেয়ারম্যানের জেল জরিমানা বা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারন হতে পারেন।

উপজেলার ৫নং পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন বলেন কিভাবে মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়েছে এসম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। যে মিলনের নেছা নামে মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়েছে সে বর্তমানে জীবিত আছে। সে মুন্সি বাড়ির মৃত জয়দল হোসেনের স্ত্রী ও জাকিরের মা।

এ ব্যাপারে পূর্বধইর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল রহিম পারভেছ বলেন মিলনের নেছার মৃত সনদপত্রটি আমার কাছে তথ্য গোপন করে নিয়েছে। আমি সম্পূর্ন অবগত ছিলাম না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। তার ছেলে হাক্কানী ইউপি অফিসে কাজ করার কথা তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আলাউদ্দিন ভুইয়া জনি বলেন বিষয়টি আমার জানা নাই তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তদন্ত করে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পৃথক দুইটি অভিযানে কুমিল্লা সদরে ৩৯.৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:
পৃথক দুইটি অভিযানে কুমিল্লা সদর থেকে ৩৯.৫ কেজি গাঁজা’সহ ০৩ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা। এ সময় মাদক পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

১৫ অক্টোবর সকালে কুমিল্লা নগরীর ফৌজদারী পূর্ব চৌমুহনী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১২ কেজি গাঁজা’সহ একজন মাদক ব্যবসায়ী’কে আটক করে।

আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী হলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার দিঘীর পাড় গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩২)।

পৃথক অন্য আরেকটি অভিযানে র‌্যাব এর একটি আভিযানিক দল গত ১৫ অক্টোবর রাতে কুমিল্লা সদরের আমতলী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২৭.৫ কেজি গাঁজা’সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলেন ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামের মৃত. সৈয়দ কাজীর ছেলে মোঃ হেলাল (৩৫) এবং কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বোয়ালগা গ্রামের কামিল হকের ছেলে মোঃ শাহিদ মিয়া (২৪)। এ সময় মাদক পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।

এসব ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

জেলা পরিষদ নির্বাচন: চান্দিনায় ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

 

চান্দিনা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামীকাল। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইভিএম ডিভাইসে ভোট গ্রহণ হবে প্রতিটি উপজেলায়। জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩টি পদের ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজুর রহমান বাবলু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে আছেন শুধুমাত্র প্রতিটি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত প্রার্থীরা।

কুমিল্লার-৭ ওয়ার্ড (চান্দিনা) থেকে সাধারণ সদস্য পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ৬ জনই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। বাকি একজন সদস্য এলডিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা প্রার্থী। সদস্য পদে রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ মনোয়ন না করা হলেও দলের পক্ষে পরোক্ষ সমর্থন করা হয় প্রার্থীকে। সেই হিসেবে কুমিল্লার ৭নং ওয়ার্ড চান্দিনা থেকে আওয়ামী লীগের যে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের মধ্যে তিন প্রার্থী রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে।

তারা হলেন সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম (টিউবওয়েল), অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান (হাতি), নূরুল ইসলাম তুহিন (বৈদ্যুতিক পাখা)। বাকি প্রার্থীরা হলেন- মিজানুর রহমান (বক), জাহাঙ্গীর আলম সরকার (উটপাখি), মোহাম্মদ সেলিম ভূইয়া (অটোরিক্সা) এবং এলডিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা প্রার্থী জালাল উদ্দিন কালা (তালা)।

ওই তিন প্রার্থীর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম তুহিনকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ সমর্থিত ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির নেতা-কর্মীরা। প্রার্থী অধ্যাপক বজলুর রহমানকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত সমর্থিত অনুসারীরা। ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন সদ্য বিদায়ী সদস্য জাহাঙ্গীর আলমও। প্রচারণায় পিছিয়ে নেই মিজানুর রহমান।

এদিকে, প্রার্থীরা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজের প্রার্থীতা জানান দেওয়া সহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। যেহেতু জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার জনপ্রতিনিধিরা সেহেতু ভোটের হিসাব-নিকাশ কঠিন ভাবে কষছেন প্রার্থীরা। নিজের পক্ষে ভোট বাগিয়ে আনতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন তারা। ভোটাররা রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হওয়ায় হাসি মুখে বরণ করে নিচ্ছেন সকল প্রার্থীকেই। ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে কোন প্রার্থীই বিমুখ হচ্ছে না।

চান্দিনা উপজেলায় মাত্র ১৮৫ জন ভোটার থাকলেও এক ভোটারের মৃত্যু ও আরও এক ভোটার বিদেশ থাকায় ভোট প্রদান করবেন ১৮৩ ভোটার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ১৮৩ ভোটারের কাছে ওই তিন প্রার্থীর আলোচনাই বেশি রয়েছে। আগামীকাল সন্ধ্যায় ভোট গণনার পর শেষ হাসি কে হাসবেন তাই এখন দেখার অপেক্ষায় চান্দিনাবাসী।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাচন অফিসার আশরাফুল হোসেন এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

চৌদ্দগ্রামে বিদেশি মদসহ ২ যুবক আটক

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিদেশি মদসহ দুই যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলো: চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার বৈদ্দেরখীল গ্রামের ফটিক মিয়ার ছেলে মো: সবুজ (২৮) ও রামরায়গ্রামের মাহবুবুল হকের ছেলে মো: কাউসার (২৭)।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই আশ্রাফুল আলম জুয়েলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম পৌর এলাকার বৈদ্দেরখীল গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৮ বোতল বিদেশি মদ ও ১০ পিস স্কার্ফ সিরাপ উদ্ধার করে। এ সময় সবুজ ও কাউসার নামে দুই যুবককে আটক করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই নাজমুল হক বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌর এলাকার বৈদ্দেরখীল থেকে বিদেশি মদসহ দুই যুবককে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দায়ের শেষে রোববার দুুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে’।

চৌদ্দগ্রামে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ আসামী আটক

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ আসামীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলো: উপজেলার বাতিসা কালিকাপুর গ্রামের মমতাজ আলীর ছেলে মাসুম, শ্রীপুর ইউনিয়নের মান্দারিয়া গ্রামের আব্দুল আজীজের ছেলে রবিউল আলম রবি ও শুভপুর ইউনিয়নের যশপুর গ্রামের মৃত পেয়ার আহম্মদের ছেলে ইউনুস মিয়া।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘পুলিশি অভিযানে শুক্রবার রাতে ওয়ারেন্টভুক্ত তিন আসামীকে আটক করা হয়। শনিবার দুপুরে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়’।

পুলিশকে কামড়ে হ্যান্ডকাপসহ পলায়ন: ১৭ দিন পর গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশকে কামড় দিয়ে হ্যান্ডকাপসহ পলায়নের ১৭দিন পর মাদক কারবারি ইসমাইল হোসেন ওরফে বয়াতি কে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ইসমাইল হোসেন বয়াতি (৪৫) উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জামাইয়ের টেক এলাকার নোয়াব আলী স্বর্ণকার বাড়ির আলী আজমের ছেলে।

একই দিন রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন,গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডের জামাইয়েরটেক এলাকা থেকে মাদক কারবারি বয়াতিকে হ্যান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় একই দিন সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে বয়াতির বেশ কয়েকজন স্বজনকে আটক করা হয়। ওই ঘটনার ১৭দিন পর একাধিক মাদক মামলা ও পুলিশ অ্যাসল্ট মামলার আসামি মাদক সম্রাট বয়াতিকে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য,মাদক কারবারি বয়াতি পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন। সে দীর্ঘ তিন বছর ধরে রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক কারবার চালিয়ে আসছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে জামাইয়ের টেক এলাকায় মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন গোপন খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) রবিউলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে গাঁজাসহ তাকে গ্রেপ্তার করেন তারা। পরে বয়াতীকে ছাড়িয়ে নিতে তার পরিবারের কয়েকজন নারী ও পুরুষ এসে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে আসামিকে নিয়ে পুলিশ সদস্যরা থানায় আসার পথে উদ্যত হলে ঘটনাস্থলে একজন নারী পুলিশকে হাতে কামড় দিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।