All posts by jitu

ছোট ভাইয়ের এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে বড় ভাইয়ের কারাদণ্ড

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এসএসসির গণিত পরীক্ষায় ছোট ভাইয়ের প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন বড় ভাই আলমগীর হোসেন (১৮) নামে এক তরুণ। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শহীদ জয়নাল আবেদীন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

দন্ডপ্রাপ্ত আলমগীর হোসেন উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের চরবাটা গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় সৈকত ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমগীরকে আটক করা হয়। পরে প্রবেশপত্র ও রেজিস্টেশন কার্ড যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সে খালাতো ভাই আব্দুর রহমানের প্রক্সি দেওয়ার কথা স্বীকার করে। এছাড়াও সে তার খালাতো ভাইয়ের পরবর্তিতে বিগত দুটি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। পরে ওই যুবককে সাজা দিয়ে পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়। আর প্রকৃত ছাত্র আব্দুর রহমানকে চলতি এসএসসি পরীক্ষা থেকে বহিস্কার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতি সর্ববিদ্যা। তিনি বলেন, অভিযুক্ত আলমগীর উপজেলার সৈকত ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। বৃহস্পতিবার জুবলি হাবিবুল্লাহ মিয়ার হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী তার খালাতো ভাই আব্দুর রহমানের গণিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে হলে বসেন তিনি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে ধরা পড়েন।

কুমিল্লার তিতাসে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ

কুমিল্লার তিতাসে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মো. সিয়াম নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিতাসের গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র মাদরাসা সামনে এঘটনা ঘটেছে।

নিহত কিশোরের নাম মো. সিয়াম (১৭)। সে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের চর মোহনপুর এলাকার মোঃ হেলাল সরকার ওরফে বাক্কা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় তিতাস উপজেলার গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র মাদরাসার কেন্দ্র থেকে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীরা বের হলে তাদের সামনেই কয়েকজন কিশোর এসে সিয়ামকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি ও শেষে ছুরি দিয়ে আঘাত করে মুহূর্তের মধ্যে চলে যায়। পরে আহত সিয়ামকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি প্রেম সংক্রান্ত বিষয় এবং যারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের সকলের বাড়ি মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয় ব্রাহ্মণচর ও নয়াগাঁ গ্রামের।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, ছুরিকাঘাতে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “বন্ধন ফেব্রিক্স” জোরপূবর্ক দখলের চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা কান্দিরপাড় খন্দকার হক টাওয়ারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “বন্ধন ফেব্রিক্স” জোরপূবর্ক দখলের চেষ্টা করছে স্থানীয় ভূমিদস্যু প্রভাবশালীরা। এ বিষয়ে কোথাও নালিশ দিলে প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করেছে ওই সন্ত্রাসী বাহিনী। আইনশৃঙখলা বাহিনীর কাছে সাধারন ডায়রী করতে গেলে রহস্যজনকভাবে কোন ধরনের সহযোগিতা পায় নি।

আব্দুর রহমান তার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করে জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আনুমানিক বেলা ২টায় তার স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “বন্ধন ফেব্রিক্স ” অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালায় একদল স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী। সন্ত্রাসীদল জোর করে দোকান থেকে তার সকল কর্মচারীকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে, অকথ্য ভাষায় আব্দুর রহমানকে গালাগালি করে এবং সবার সামনে হত্যার হুমকি প্রদান করে। এ সময় আব্দুর তার ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য ব্যাংকে ব্যস্ত ছিলেন।

আব্দুর আরো জানায়, আমি ব্র্যাক ব্যাংকে আমার পার্টিদেরকে টাকা প্রদানের জন্য যাই। এ সময় আমার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী রবিউল ফোন করে আমাকে জানায় যে, আমার দোকানে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে এসে তাদেরকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করছে এবং আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। আব্দুর তার ব্যাংকের কাজ স্থগিত করে শপিং মলে ফিরে আসেন। এসে তাদেরকে পায় নি। এ সময় দোকানের কর্মচারী ও উপস্থিত কয়েকজন জানায়, আমি যেন তাড়াতাড়ি দোকান ছেড়ে দেই, সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার সময় হত্যার হুমকি দিয়ে গেছে। এ বিষয়ে সাথে সাথেই দোকান মালিক কমিটির কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। কিন্তু তারা কর্ণপাত করেননি এবং বিষয়টিকে সুরাহা করার কোন উদ্যোগ নেয়নি।

আব্দুর জানায়, গত এক বছর যাবৎ শপিং মলের মালিক জামাল খন্দকার বিভিন্ন রকম চাপ প্রয়োগ করছে এবং আমাকে মানসিক প্রশান্তিতে রেখেছেন। তিনি আমার বাবাকে নাকি ১ কোটি টাকা ধার দিয়েছেন। আমি তাকে বলেছি, অবশ্যই আপনি কোন সিকিউরিটি ছাড়া এই লেনদেন করেননি। টাকা লেনদেনের কোন প্রমাণ দেখালে আমি টাকা ফেরত বাধ্য থাকবো। কিন্তু তিনি কোনরকম প্রমাণ না দেখিয়ে অনৈতিক জোরপূর্বক টাকা দাবী করছেন। কয়েকবার দোকান বিক্রি করে তাকে টাকা পরিশোধ করার কথাও বলেছেন। বিভিন্ন সময় গালিগালাজ এবং হুমকি ধামকি দিচ্ছেন।

এ অভিযোগের বিষয়ে সংবাদপত্র অফিস থেকে জামাল খন্দকারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, আমি এখন জরুরি কাজে ব্যস্ত আছি, আপনাদের সাথে কথা বলার মত সময় নেই। ‌

আব্দুর আরো জানায়, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মত কেউ নেই। কিংবা আমার পাশে এসে দাড়ানোর মত কাউকে পাচ্ছি না। আমার বাবাও মৃত্যুবরণ করেছে। তাই অনেক ভয়ে আর নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। আমি আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেছি। কিন্তু তারাও তা আমলে নেয়নি। বরং জামাল খন্দকারের সাথে আপোষ করার জন্য পরামর্শ দিয়ে উল্টো আমার বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিষয়ে বানোয়াট অভিযোগ তুলছে।

এ বিষয়ে পুলিশের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, আমরা কোন কিছু বলতে আগ্রহী নই।

আব্দুর জানায়, এখন আমি এবং আমার পরিবার চরম মানসিক অশান্তিতে দিন যাপন করছি। আমি স্থানীয় জেলা, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বুড়িচংয়ের বাকশিমুলে ৯ হাজার ৪ শত পিস ইয়াবাসহ ২ জন আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা থেকে ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা। এ সময় একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ ও এনএসআই হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে বুড়িচংয়ের বাকশীমূল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মৃত হারিজ মিয়া’র ছেলে আবুল খায়ের (৩০) এবং ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার মৃত মোহর উদ্দিন’র ছেলে মোঃ শামীম (২৭)।

এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মুরাদনগরে উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার শিক্ষার্থী

মুরাদনগর সংবাদদাতাঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় জন্ম সনদ না থাকায় চলতি বছর শিক্ষা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ হাজার ৪৪৫ জন শিক্ষার্থী।

শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার ২০৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৯ হাজার ৫৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সকল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় আনার জন্য স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪২ হাজার ১৫৩ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতায় আনা হলেও আনা সম্ভব হয়নি ১৭ হাজা ৪৪৫ জন শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে উপজেলার চুলোড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, এই স্কুলে মোট শিক্ষার্থী ৮৮ জন। এদের মধ্যে উপবৃত্তির আওতায় এসেছে ৫৭ জন। বাকী ৩১ জন শিক্ষার্থীদের জন্মসনদ না থাকায় উপবৃত্তির পাওয়ার জন্য আবেদন করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফৌজিয়া আক্তার বলেন, জন্মসনদের অভাবে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার শিক্ষার্থী উপবৃত্তি না পাওয়া দুঃজনক। বিষয়টির সঠিক সমাধানে জন্মসনদ কর্তৃপক্ষের শিগগির যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কবিতা: কাশফুলের চিঠি

সাইদুল হাসান:

শুভ্র ফুলের সৌন্দর্যের টানে বিমোহিত হও
হেসে খেলে দিন রাত্রি যাপনে ব্যস্ত কাশফুল
ওদের অদৃশ্যমান মুচকি হাসি, মধুর স্বরে ডাক
হৃদয় সিংহাসনে প্রশান্তির রেখা ভেসে বেড়ায়।

সহস্র অভিমান, স্বজন হারানোর তীব্র যন্ত্রণায়
কাতরায় সুন্দরী ফুল, হারিয়ে যেতে হয় নীরব
শব্দের বুক মাড়িয়ে। কেউ শুনে না, জানে না
চাপা কণ্ঠের গায়াবী আওয়াজ- ‘বাঁচতে চাই।’

কেউ কেউ কাশের সংসারে বিচ্ছেদ ঘটায়
জানা কিংবা অজানা শক্তির মোহে জড়িয়ে।
ওরা নিষ্পাপ ; ওদের মেরে সুখ কোথা পান?
আপনার কুৎসিত হাতে ওরা কি শান্তিতে রয়?

অধিক রূপের স্বত্বাধিকারী বাঁচে না বেশিদিন
ওদেরকে সাজতে হয় কান, চুলের পরিধিতে
দুর্দিনের ভয়াবহ চিহ্ন এঁকে রেখেছে পরম যত্নে
স্বজনদের কপালে; ‘তোরা-ও পাবি না রেহায়।’

ওহে মানব-
শপথের সমাবেশে দীপ্ত কণ্ঠে স্লোগান ওঠুক-
‘প্রকৃতিও বাঁচুক তার স্বজনদের মায়াজালে।’

মুরাদনগরে বিবস্ত্র করে গৃহবধূর ভিডিও ধারন, বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর :
কুমিল্লার মুরাদনগরে বিবস্ত্র করে গৃহবধূর ভিডিও ধারণকারী জাকির হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভূক্তভোগী এক নারী। একইসঙ্গে বিচার না পেলে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না বলেও জানান ওই নারী।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন চাপিতলায় নিজ বাড়ীতে ভুক্তভোগী ওই নারী সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সুমি আক্তার বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার ননাশের জামাই জাকির হোসেন বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমাকে হুমকি দেয়া হয় কিভাবে স্বামীর সংসার করি সে দেখে নেবে এবং যে কোনো মূল্যে সে আমাকে তার করে নিবে। আমি গর্ভবতী হওয়ার ফলে আমার বাবার বাড়ি বেড়াতে আসি। গত বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টম্বর) রাত ১টা ৩০মিনিটের সময় কয়েকজন লোক ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করতে চাইলে আমি আমার মা বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। একপর্যায় ঘরের দক্ষিণ পাশ দিয়ে শীত কেটে কয়েকজন ঘরে ঢুকে আমিসহ আমার মা ও ছোট ভাইয়ের হাত, মুখ কস্টেপ দিয়ে বেধে ফেলে। পরে তারা দরজা খুলে দিলে একে একে ১২ জন ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে থাকা একজনের মুখের মাক্স খুলে গেলে আমি লক্ষ করে দেখি সে আমার ননাশের জামাই জাকির হোসেন। আমি চিনে ফেলেছি বিষয়টি বুঝতে পেরে জাকির হোসেন আমার মাকে মেরে ফেলার জন্য তার লোকজনকে বলে। এ সময় আমি তার পায়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করে বলি দুলাভাই আমার মাকে ছেড়ে দেন। সে কোন কথা না শুনে আমাকে টেনে হেঁচড়ে পাশের রুমে নিয়ে গিয়ে পরনে থাকা জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারন করতে থাকে। এক পর্যায় সে আমার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতে দিতে বলে আমি তকে যখন যেখানে যেতে বলবো তুই একা চলে আসবি আর এই কথা যদি কারো কাছে বলছ তাহইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিবো। তখন তর আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো ওপায় থাকবে না। এমন সময় তার সাথে থাকা একজন বলে ওঠে বাচ্চা নষ্ট করতে না আইসোস? সেটা করছ না কেন। তখন আমাকে বিবস্ত্র অবস্থায় জাকির পেটে সজোরে লাথি মারতে থাকে। একপর্যায়ে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকলে তারা সকলেই সেখান থেকে চলে যায়। যাওয়ার আগে আলমারিতে থাকা নগদ ১২ হাজার টাকা আমার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও একটি পাসপোর্ট নিয়ে যায়।

ওই রাতেই আমার মাকে গুরুত্বর অবস্থায় মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে ৯৯৯ নম্বারে ফোন করে বিষয়টি জানানো হলে তারা বাঙ্গরা বাজার থানার নাম্বার দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করতে বলেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি বাঙ্গরা বাজার থানায় জানানো হয়। শুক্রবার সারাদিনেও পুলিশ না আসায় বিকাল ৫টার দিকে বাঙ্গরা বাজার থানায় গিয়ে আমার বাবা কবির হোসেন একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরদিন শনিবার দুপুরে বাঙ্গরা বাজার থানার এস আই ওমর ফারুক ঘটনার তদন্ত করতে আমাদের বাড়িতে আসেন। তার হাতে থাকা অভিযোগের কাগজে আমাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারনের বিষয়টি না থাকার কারণ জানতে চাইলে সে বলে এই ধরনের বিষয় সহজে আমলে নেয়া যায়না। আচ্ছা যাই হোক খরচের টাকা দেন। কিসের খরচের টাকা দিব এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেন তেল খরচের টাকা দেন। তখন আমার কাছ থেকে ১ হাজার ৫শত টাকা তেল খরচ বাবদ নিয়ে যান এস আই ওমর ফারুক।

তিনি আরও জানান, থানায় অভিযোগ হয়েছে বিষয়টি জানতে পেরে জাকির আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে ভিডিও ছড়িয়ে দিবে যদি অভিযোগ তুলে না নেই। তাঁর ভয়ে আমার বৃদ্ধ মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা অসহায় হয়ে পড়েছেন আমরা বাড়ি ছেড়ে পাশের বাড়ির চাচার এখানে আশ্রয় নিয়েছি। থানা পুলিশের কাছ থেকেও আমি আশানুরূপ কোনো সাড়া পাচ্ছি না। জাকির হোসেনের লোকজন আমাকে হুমকি দিচ্ছে যে, ‘পুলিশ কেনা হয়ে গেছে। মামলাইতো করতে পারবি না। অভিযোগটি শেষ হউক তারপর তুই কেমনে বেঁচে থাকিস আমরা দেখে নেবো। আমি আমার নগ্ন ভিডিও ধারণকারী জাকির হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই। আমি যাতে ন্যায় বিচার পাই এ জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও কুমিল্লা পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বুড়িচংয়ে ধর্ষণে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, ১৫ হাজার টাকায় মীমাংসার চেষ্টা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নে এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করা হয়েছে। এতিম ওই কিশোরী এখন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

একই এলাকার সবজি ব্যবসায়ী ধর্ষক আক্তার হোসেন এখন বিয়ে না করে গ্রাম্য মাতবরদের সহযোগিতায় ১৫ হাজার টাকা দিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মাতবরেরা ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করতেও দিচ্ছেন না।

জানতে চাইলে বুড়িচং থানার ওসি মারুফ রহমান মঙ্গলবার রাতে বলেন, খবর পেয়ে ধর্ষিতার অভিযোগ জানতে ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু এসআই মাহবুব ওই কিশোরীর বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখে ফেরত আসেন। প্রভাবশালীদের ভয়ে মেয়েটি পালিয়ে আছেন কিনা আমরা তদন্ত করে দেখছি। ধর্ষক যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন অভিযোগ পেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিন জানা যায়, উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পূর্বপাড়ার পারিবারের সঙ্গেই থাকতো মেয়েটি। তার বাবা নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা চালান। তার মা যখন কাজ করতে যান তখন একা পেয়ে মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায় একই এলাকার জমাগাজীর বাড়ির মনু ফকিরের ছেলে সবজি ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন (৪৫)।

অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর মা বলেন, আমার স্বামী চলে যাওয়ার পর থেকেই মেয়েকে নিয়ে খুব অসহায় অবস্থায় বসবাস করে আসছি। কাজের সন্ধানে মেয়েকে বাড়িতে রেখে বিভিন্ন এলাকায় চলে যাই। এ সুযোগে কোনো একদিন গোবিন্দপুর বাজারের ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আমি আমার মেয়ের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে আক্তার হোসেন।

এ বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে উভয়পক্ষের স্থানীয় মেম্বার ও সাহেব-সর্দাররা মীমাংসা করার জন্য দায়িত্ব নেন। তারা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করেন। এর কয়েক দিন পর নজির সর্দারের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা কিশোরীর মায়ের হাতে তুলে দিলে ওই কিশোরীর মা পারুল আক্তার টাকা ফেরত দিয়ে দেন। মামলা করতে গেলে মাতবরেরা বাধা দেন।

ধর্ষিতার মা বলেন, আমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বিয়ে করার জন্য আশ্বাস দেন আক্তার হোসেন। কিন্তু অনেক দিন হয়ে গেলেও সে আমার মেয়েকে বিয়ে করতে আসে নাই। আমি এখন সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। আমি গরিব হওয়াতে সঠিক বিচারও পাই না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার হোসেন ঘটনার কথা স্বীকার করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন না করার অনুরোধও করেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, মেম্বার আতিকুর রহমান আবুলসহ কয়েকজন তাকে বিয়ে করতে দিচ্ছে না। তারা বাধা দিচ্ছেন। কারণ বিষয়টি আপস-মীমাংসা হলে তারা আমার কাছ থেকে কিছু টাকা নিতে পারেন।

অভিযোগের বিষয়ে মেম্বার আবুল হোসেন বলেন, মেয়েটা গরিব। তাকে কিছু টাকা নিয়ে দিই। এটা নিয়ে নিউজেরও প্রয়োজন নেই। আমরা বিষয়টি দেখছি।

স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ ঘটনায় অনেক দিন ধরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন লোভী গ্রাম্য মাতবরদের কারণে অসহায় মেয়েটি সঠিক বিচার পাচ্ছে না।

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনের আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী কারাগারে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ গাজীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

প্রতারণা মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার ১১ বছর পর মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠান।

বর্তমানে তিনি খুলনা জেলা কারাগারে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন খুলনা জেলা কারাগারের জেলার মো. তারিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ৪২০ ধারার একটি মামলায় খুলনার এডিশনাল সিএমএম আদালত ইউসুফ গাজীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ওই চেয়ারম্যানপ্রার্থী চাইলে মনোনয়নপত্র বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আগামী তিন দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

জানা গেছে, দিয়াশলাই ফ্যাক্টরিতে কাঠ সরবরাহের যৌথ ব্যবসার প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ইউসুফ গাজীর বিরুদ্ধে ২০০৪ খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন স্থানীয় হুমায়ুন কবির।

ওই মামলায় আদালত আসামিকে খালাসের রায় দিলেও ২০০৮ সালে ওই রায়ের বিরুদ্ধে খুলনা দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদী। আপিল শুনানি শেষে ইউসুফ গাজীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, এ রায় তিনি গ্রেফতার তথা আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। সেই সঙ্গে আসামিকে ৩০ দিনের মধ্যে সাজা ভোগের জন্য খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর পর ওই দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ রুল জারি করে দণ্ডাদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। ২০১৭ সালে রিট পিটিশনটি পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে বিচারপতি মাইনুল হোসেন চৌধুরী এবং বিচারপতি জে বি এম হাসানের আদালত দণ্ডাদেশের স্থগিতাদেশ বাতিল করে পাঁচ বছরের সাজা ও অর্থদণ্ড বহাল রাখেন।

এর পর ইউসুফ গাজী উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ২০১৭ সালে একটি পিটিশন করলেও আদালত দণ্ডাদেশ স্থগিত না করে ১০ সপ্তাহের মধ্যে নিয়মিত লিভ টু পিটিশন করার নির্দেশ দেন। অন্যথায় তা খারিজ হবে বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু ২০১৯ সালে লিভ টু আপিল করেন।