All posts by jitu

এবার প্রেম করে কোরিয়ান যুবককে বিয়ে করলেন বাংলাদেশি মডেল

 

বিনোদন ডেস্কঃ

প্রেম করে কোরিয়ান যুবককে বিয়ে করলেন বাংলাদেশের র‌্যাম্প মডেল আফরিনা রাজিয়া তৃণ। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিয়ের পিঁড়িতে বসেন দেশের প্রথম সারির এই মডেল। বরের নাম বর জিনবো চৈ।

এদিন সন্ধ্যায় ঢাকার শুটিং ক্লাবে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

তৃণর বর জিনবো চৈ একটি এনজিওতে চাকরি করেন। সেই সুবাদে বাংলাদেশে আসা। তিনি বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে কাজ করেন। ঢাকাতেই পরিচয় তৃণর সঙ্গে। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব এবং প্রেম।

বিয়ে প্রসঙ্গে জিনবো চৈ বলেন, ‘আমি প্রথমে বাংলাদেশে এসে থাকতেই চাইনি। মনে হয়েছিল ছয় মাসের বেশি থাকতে পারবো না। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ সহ্য করতে পারছিলাম না। কিন্তু তৃণর সঙ্গে পরিচয়ের পর ধারণা পাল্টে গেছে। এখন আমি নিজেকে বাংলাদেশিই মনে করি। বিয়ে করে তো এ দেশের জামাই হয়ে গেলাম।’

মডেল তৃণ বলেন, ‘আমার বর খুবই ভালো মনের মানুষ। এমন একজন মানুষকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আমি খুশি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর এই দম্পত্তির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বরে কনে দুজনই নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

আগামী ৩ অক্টোবরের পর করোনার প্রথম-দ্বিতীয় ডোজ বন্ধ

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আগামী ৩ অক্টোবরের পর থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, যারা এখনো প্রথম ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজ নেন নাই, তারা ৩ অক্টোবরের পর আর ভ্যাকসিন (টিকা) পাবেন না। অনেক ভ্যাকসিন শেষ হয়ে গেছে, অনেক ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন-ব্লুতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ‘৫-১১ বছরের শিশুদের কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম বিষয়ক জাতীয় অ্যাডভোকেসি ওয়ার্কশপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ বন্ধ করার আগে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত একটি ক্যাম্পেইন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ ও বুস্টার ডোজ গণহারে সবাইকে দেওয়া হবে। এরপর আর দেওয়া যাবে না। এরপর প্রথম ডোজ টিকা আর পাওয়াই যাবে না। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়াও সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, এখনো ৩৩ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ নেয়নি। ৯৪ লাখ দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আমরা এখন পর্যন্ত ৩০ কোটি ডোজ টিকা দিয়েছি। এছাড়াও ১০ লাখ শিশুকে টিকাদান হয়ে গেছে। তবে, এখনো সোয়া ২ কোটি শিশুকে টিকা দিতে হবে। তার মানে ৪ কোটির বেশি টিকা দেওয়া এখনো প্রয়োজন। আমরা মাত্র শুরু করেছি। শিশুদের টিকা কার্যক্রম আরও অনেক বাকি আছে।

আগামী ১১ অক্টোবর থেকে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চলবে বলেও জানান মন্ত্রী।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে। অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের মাস্ক পরতে হবে, যাতে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে বিশেষ ক্যাম্পেইন, চলবে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

অস্ত্র রেখে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে ফাঁসলেন নিজেই

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে এক যুবক নিজেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।

গ্রেফতারকৃত আবুল হায়াত ওরফে রনি (২৩) উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের মাদলা গ্রামের আবুল খায়ের পিয়নের বাড়ির মৃত আবুল খায়েরের ছেলে।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম। এর আগে,গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের মাদলা গ্রাম থেকে একটি দেশীয় পাইপগান ও দুই রাউন্ড কার্তুজসহ তাকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এসপি আরও জানান, বাটইয়া ইউনিয়নের মাদলা গ্রামের একই বাড়ির আব্দুর রহিমের সাথে জায়গা-জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ ক্ষুব্ধ ছিলেন আসামি রনি। বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে একাধিক মামলা মোকদ্দমা চলমান। একদিন আগে রনি কৌশলে রহিমের বসত ঘরে একটি পাইপগান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ রেখে আসেন। পরে নিজেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে খবর দেন। অভিযান চালানোর সময় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে রনিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অস্ত্র রাখার বিষয় স্বীকার করায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার সকালে অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে রনিকে কবিরহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান জেলা পুলিশের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

দ্বন্দ্ব ভুলে কুমিল্লায় মহানগর বিএনপি কমিটির পরিচিতি সভায় ইয়াছিন- আবু-টিপু

স্টাফ রিপোর্টার:
অবশেষে দ্বন্দ্ব ভুলে এক প্লাটফর্মে দেখা গেল  কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, উদবাতুল বারী আবু ও সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু ।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কুমিল্লায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল (বিএনপি)র কুমিল্লা মহানগর শাখার নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভায় তাদেরকে একসঙ্গে দেখা গেছে।

শনিবার  (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর ঝাউতলায় একটি পার্টি সেন্টারে পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রান ও পূনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহবায়ক উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপুর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন  কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ভিপি জসিম উদ্দিন, মোঃ রাজিউর রহমান, আবদুর রহমান ছুটি, ভিপি নজরুল ইসলাম, মোঃ মামুনুর রশিদ মজুমদার, আবদুল জলিল, মোঃ শহিদুল্লাহ রতন, এডভোকেট মোঃ হোসেনসহ নেতা-কর্মীবৃন্দ।

কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে মুরগীর ওজনে কারচুপি, ৬ দোকানদারকে জরিমানা

 

মোঃ উজ্জ্বল হোসেন বিল্লাল:
কুমিল্লায় মুরগীর ওজনে কারচূপি করার অপরাধে এক দোকানদারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে রাণীর বাজার ও টমছম ব্রিজ বাজা‌রে ডিমসহ নিত‌্যপণ্যের দাম বে‌শি রাখা এবং ওজ‌নে কারচূ‌পি করায় ৬ প্রতিষ্ঠান‌কে ১৯ হাজার টাকা জ‌রিমানা।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর টমছমব্রিজ এলাকায় মুরগীর দোকা‌নে এ জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কুমিল্লা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী প‌রিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, মুরগী বিক্রি করছেন ১ কেজি , পুনরায় মাপ দিয়ে দেখা যায় ৮২০ গ্রাম। ওজনের হিসেবে দেখা যায় প্রতি কেজি মুরগী‌তে ১৮৪ গ্রাম কম। মুরগী তদার‌কির মাধ্যমে জা‌বেদ ব্রয়লার হাউজ‌কে ১০ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হয়েছে । এ সময় তার দোকানে থাকা প‌রিমাপক যন্ত্র জব্দ ক‌রে ধ্বংস করা হয়। জনস্বা‌র্থে এ কার্যক্রম অব‌্যাহত থাকবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ খাদ‌্য প‌রিদর্শক এ‌কে আজাদ এবং জেলা পু‌লি‌শের এক‌টি টিম। উ‌ল্লেখ্য যে, এসময় বিভিন্ন দোকান পর্যবেক্ষন করা হয়।

 

লাকসামে ভাইয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে চুরি: মূলহোতা সাদ্দাম গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ভাইয়া গ্রুপ’ এর মালিকাধীন কুমিল্লার লাকসামে ‘মাসুম টেলিকম প্রতিষ্ঠানে এক চুরির ঘটনায় অবশেষে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী সাদ্দামকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২৯ মার্চ  রাতে লাকসাম দৌলতগঞ্জ উত্তর বাজারস্থ লাকসাম থানার ৩শ’গজের মধ্যে দেশের সুনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘ভাইয়া গ্রুপ’ এর মালিকাধীন ‘মাসুম টেলিকমে’ এক বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটে। চোর চক্র অভিনব কায়দায় জানালার লোহার গ্রীল কেটে ভবনের দ্বিতীয় তলায় মাসুম টেলিকম, তৃতীয় তলায় সাফওয়ান সেন্টার ক্যাশ এবং চতুর্থ তলায় ভাইয়া গ্রুপের কর্পোরেট শাখার বিভিন্ন অফিসের মালামাল তছনছ করে নগদ ২১ লাখ ২ হাজার ৫২০ টাকাসহ প্রায় ৩৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। চুরিকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে, নগদ ২১ লাখ ২ হাজার ৫২০ টাকা, গ্রামীনফোনের ১০, ১১, ১৯, ২০, ২৪, ২৯ টাকা মূল্যের ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৭০৩ টাকার ডাটা ও ভয়েস কার্ড।

এ ঘটনায় গত ৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক মাকছুদুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে লাকসাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২৪ এপ্রিল লাকসাম থানায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। যার নং- ১১/৫০, ধারা ৪৬১/৩৮০, পেনাল কোর্ট।

মামলা দায়েরের পর দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে পুলিশ দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন পরিকল্পনাকারীর নাম উঠে আসে। তাদের মধ্য থেকে আদালতের নির্দেশে মন্টি নামক একজনকে রিমান্ডে নিলে সে ঘটনার মাস্টার মাইন্ডকারী সাদ্দামের নাম প্রকাশ করে।

যার প্রেক্ষিতে  পুলিশ সাদ্দামকে গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করে। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে বিশেষ অভিযানের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর থেকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ মহল থেকে তদবির চলছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যায়।

লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় সাদ্দামকে গ্রেফতারের আগে আরো ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজনের নিকট থেকে ১৫ হাজার টাকার উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য যাছাই-বাছাই চলছে।

এদিকে  লাকসাম বাজারের বিশিষ্ট একজন ব্যবসায়ি জানান, সাদ্দাম গ্রেফতার হওয়ায় আমরা খুশি । পাশাপাশি তিনি তার দৃষ্টান্ত মূলক  শাস্তিও দাবী করেন এবং এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও অন্যান্য অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, অন্যদের শাস্তি না হলে অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরও এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনার শিকার হতে পারে বলে তারা জানান।

লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তাবারক উল্লাহ কায়েস বিষয়টি অবগত আছে জানিয়ে বলেন, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে চুরি-ডাকাতি রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মনোনয়ন পাচ্ছেন না ১৪০ এমপি !

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কপাল পুড়ছে ১৪০ এমপির। টানা চতুর্থবার বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সংকল্পবদ্ধ আওয়ামী লীগ। এ জন্য প্রতিটি সংসদীয় আসন ধরে ধরে জরিপ করা হচ্ছে। এ জরিপের কাজ মনিটরিং করছেন দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন ও আওয়ামী লীগের একাধিক উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, এবার কপাল পুড়ছে চলতি সংসদের ১৪০ এমপির। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্যাতন, মামলা-হামলা করে হয়রানি, দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করে ‘এমপি লীগ’-‘ভাই লীগ’ বলয় সৃষ্টি, জনবিচ্ছিন্ন, এলাকাবিমুখ, নিয়োগ, টেণ্ডার বাণিজ্য, জলমহাল-বালুমহাল দখল, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণসহ বিস্তর অভিযোগ উঠে এসেছে। এর মধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রভাবশালী এমপিদের নামও রয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের দলীয় এমপিরা।

জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ভোট হবে। টানা বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ কৌশলে এগোবে। এরমধ্যে অগ্রাধিকার পাবে বিতর্কিত, জনবিচ্ছিন্ন এমপিদের বাদ দেওয়া এবং ক্লিন ইমেজ ও এলাকায় অধিকতর গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নৌকার প্রার্থী করা। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে যে বড় একটা পরিবর্তন আসছে সে ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যে কোনো নির্বাচনে নমিনেশনে পরিবর্তন আনা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ক্ষেত্রবিশেষে আমরা অবশ্যই যাচাই করে দেখব কার জেতার সম্ভাবনা আছে কার নেই। কে ভোট পাবেন, কে পাবেন না।’

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত। কারণ, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত এমপিদের বাদ দিয়ে উজ্জ্বল ভাবমূর্তির প্রার্থীর হাতে নৌকা তুলে দিতে পারলে জয়ের ব্যাপারে নির্ভার থাকা যাবে। বিতর্কিত এমপিদের পরিবর্তন না করে আবারও মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হবে, তেমনই ওই প্রার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্নের মধ্যে থাকতে হবে। দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং দেশ-বিদেশে সবার কাছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হোক, সেটাও প্রত্যাশা দলটির হাইকমান্ডের। মুখে যাই বলুক বিএনপি দলের অস্তিত্ব রক্ষায় আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। আর সে কারণে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো রকম ঝুঁকি নেবে না আওয়ামী লীগ। সে কারণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো জনগণের ম্যান্ডেট নিতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীর ওপর এবার ভরসা করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এই দলটিকে এত সময় ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যে দলটির সব তিনি চেনেন, ভালো চেনেন, ভালো বোঝেন। তিনি দল হোক নির্বাচনে মনোনয়ন হোক, সময় উপযোগী করে সাজিয়ে থাকেন। এবারও সেভাবেই সাজাবেন। যেসব এমপির বিরুদ্ধে ন্যূনতম অভিযোগ আছে তাদের এবার নৌকা দেবেন না বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলের মন্ত্রী-এমপিদের কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহের এ কাজটি নিয়মিতই করা হয়। তাদের কর্মকাণ্ড মনিটরিং অতীতেও হয়েছে। কিন্তু অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন দলের অনেক এমপি। তারা বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের আওয়ামী লীগে এনে যেমন পুনর্বাসন করেছেন, তেমনই আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন বিশেষ বলয়। তাদের ভেদ করে মন্ত্রী-এমপিদের কাছে যেতে পারেন না আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। অনেকেই এমপি নির্বাচিত হয়ে ঢাকায় বসে ‘সন্ত্রাসী ও মাস্তান’ দিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন। কারও কারও বউ, শ্যালক, ভাই, আত্মীয়স্বজন ‘ছায়া এমপি’ হয়ে যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এমপির বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলা-মামলায় বাড়িছাড়া করা হচ্ছে দুঃসময়ের কর্মীদের। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর হামলা করছেন কোনো কোনো এমপি নিজেই। ভাই-ভাগ্নেদের দায়িত্ব দিয়েছেন এলাকার পুকুর, খাস জলমহাল, বালুমহাল ও হাটবাজারের ইজারা দেখভালের। এই ধাঁচের এমপিদের কপাল পুড়বে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। তারা এবার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হবে এ ভাবনা নিয়ে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার টেবিলে দলীয় অনেক এমপি ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী নানা কাজের অভিযোগ জমা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে দলের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, ‘এমপিবলয়’ সৃষ্টি, বিদ্রোহীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কোন্দল সৃষ্টির বিস্তর অভিযোগ জমা পড়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে। এদিকে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিমের নেতারাও দলীয় সংসদ সদস্যদের বিষয়ে মৌখিকসহ প্রতিবেদন আকারে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণে গোপনে মাঠ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে। এতে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেঁসে যেতে পারেন দলের অনেক প্রভাবশালী সংসদ সদস্য-মন্ত্রীরা। আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমপক্ষে ১৪০টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের চমক দেখাবেন এবং যার কাজকর্ম নিয়ে ন্যূনতম বিতর্ক রয়েছে তাকে তিনি বাদ দেবেন। লক্ষ্য হলো- ক্লিন ইমেজ নিয়ে ভোটের মাঠে দাঁড়ানো।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে কী গুরুত্ব পাবে এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক  বলেন, ‘জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে দিতে হবে। অবশ্যই সৎ, নির্ভীক, এমন প্রার্থীকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।’ নানক বলেন, ‘যাদের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে তাদের ব্যাপারে সার্ভে চলছে। সবার আমলনামা নেত্রীর কাছে আছে। বারবার মাঠ জরিপ করে তিনি আমলনামা নিচ্ছেন। সেই আমলনামা অনুসারে কোনো এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তিনি রেহাই পাবেন না। যত বড় নেতাই হোন, আর যত বড় যেই হোন কেউ রেহাই পাবেন না।’

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ।

২০ বছর ধরে কুড়িয়ে পাওয়া লতাপাতা বিক্রি করেই চলে বৃদ্ধা সুফিয়ার জীবন

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম। বয়সও সঠিকভাবে বলতে পারেন না। শুধু বলতে পারেন ব্রিটিশ সরকারের শাসন আমলের কথা। এক সময় মানুষের বাড়িতে কাজ করেছেন। তবে বয়সের ভারে সেই কাজও করতে পারেন না। প্রায় ২০ বছর ধরে কুড়িয়ে পাওয়া লতাপাতা ও সবজি বিক্রি করেই চলে তার দৈনন্দিন জীবন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুফিয়ার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়৷ স্বামী রশিদ মিয়ার বাড়িও একই জেলায়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সুফিয়া ও তার স্বামী জীবিকার সন্ধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরে আসেন। বসবাস করতেন শহরে কাজীপাড়ায় পৌরসভার কলোনিতে। সেখানে থেকে এ দম্পতি দিনমজুরের কাজ শুরু করেন। তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যে তার স্বামী মারা যান।

তাদের দুই মেয়ের মধ্যে এক মেয়েও মরা যায়। তারপর এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় সুফিয়ার জীবন যুদ্ধ৷ মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে গেলে কিশোরগঞ্জে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেন। বিয়ের পর একমাত্র মেয়ের জামাই সুফিয়ার স্বামীর রেখে যাওয়া একমাত্র সম্বল ছোট বাড়িটিও লিখে নেন। কিছুদিন পর তার প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য শুরু করেন। অভিমানে একা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরে আবার ফিরে আসেন সুফিয়া।

তিনি বলেন, ‘আমার তো স্বামী নাই। একমাত্র মেয়ে বেঁচে থেকেও নাই৷ ছোট একটি বাড়ি স্বামী রেখে গিয়েছিল। সেই বাড়িও অন্যরা নিয়ে যাবে এ অজুহাতে মেয়ের জামাই লিখে নিয়ে দখল করেছে। সহায় সম্বলহীন আমাকে কে পালবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮৮ সালে বন্যার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবার ফিরে এসে একটি বেকারিতে ১২ টাকা মজুরিতে চিনি ভাঙানোর কাজ শুরু করেছিলাম। সেই কাজ বেশি দিন করতে পারিনি। পরে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহপরিচারিকার কাজ করেছি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সেই কাজও এখন করতে পারি না। তাই বিকেলে হেঁটে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে সড়কের পাশে ও ঝোপঝাড়ে থাকা কচুর লতি, কচু, তেলাকুচা পাতা, কলমিলতাসহ নানান গাছের লতাপাতা যতটুকু সংগ্রহ করতে পারি, তা সন্ধ্যায় কালিবাড়ির মোড়ে বসে বিক্রি করি। কোনোদিন ১৫০ টাকা আবার কোনোদিন ২০০ টাকা পাই। যত টাকা আয় হয় তা দিয়ে চলি।’

সুফিয়া বলেন, ‘মাঝে একজনের দেওয়া আশ্রয়ে বেশ কিছুদিন ছিলাম। এখন কেউ তো আর আশ্রয় দিতে চায় না, তাই রেলস্টেশনে বা মানুষের বাড়ির বারান্দায় ঘুমিয়ে রাত পার করি। এছাড়া তো আমার আর কিছু করার নাই।’

সুফিয়া বেগমের পাশে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির সবজির দোকান আছে। তিনি বলেন, ‘আমি টিএ রোড ও কালিবাড়ি মোড়ে প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে আসছি৷ সুফিয়া বেগম আরও আগেই এ জায়গায় বসে লতাপাতা বিক্রি করে আসছেন। খুবই শান্ত স্বভাবের তিনি। তার তো আপন বলতে কেউ নেই। যদি কেউ তাকে আশ্রয় বা সহযোগিতা করতো, তাহলে হয়তো বাকি জীবন শান্তিতে কাটিয়ে যেতে পারতেন।’

জেলা শহরের কাজিপাড়ার বাসিন্দা মাকসুদুর রহমান বলেন, এ বৃদ্ধা আমাদের এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। ভালো একজন মানুষ তিনি। নিজে কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ামিন হোসেন বলেন, সরকার অসহায় মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়াচ্ছে। সুফিয়া বেগম আমাদের সঙ্গে কখনো যোগাযোগ করেননি। তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ আবেদন করলে আমরা তাকে সহায়তা করার উদ্যোগ নেবো।’
সূত্র-জাগো নিউজ