All posts by jitu

চলে গেলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

৯১ বছর বয়সে মারা গেছেন সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ নেতা মিখাইল গর্বাচেভ। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য তিনি পশ্চিমা বিশ্বে প্রশংসিত হলেও, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের জন্য তার সংস্কার কর্মসূচীকে দায়ী করে থাকেন ইতিহাসবিদরা। ১৯৮৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিশ্বের কাছে সোভিয়েত ইউনিয়নকে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। অনেকগুলা সংস্কার কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলেন। মূলত এরপর থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ভাঙ্গন শুরু হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, মিখাইল গর্বাচেভের মৃত্যুতে তার প্রতি সারা বিশ্ব থেকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তিনি ইতিহাসের গতিপথ বদলে গিয়েছিলেন। মিখাইল গর্বাচেভ ব্যতিক্রমী একজন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। তার মৃত্যুতে বিশ্ব একজন নেতা হারালো যিনি শান্তির জন্য একজন অক্লান্ত সমর্থক ছিলেন।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।

তাকে প্রায়ই হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছিল। গত জুন মাসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, কিডনির জটিলতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

১৯৮৫ সালে সোভিয়েত কম্যুনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হন মিখাইল গর্বাচেভ, যখন তার বয়স ৫৪ বছর। সেই সময় তিনি ছিলেন ক্ষমতাসীন কাউন্সিল পলিটব্যুরোর সর্বকনিষ্ঠ সদস্য। তার পূর্বসূরি কনস্তান্তিন চেরনেঙ্কো মাত্র এক বছর দায়িত্বে থাকার পর ৭৩ বছর বয়সে মারা গেলে বয়স্কদের ভিড়ে তিনি দায়িত্ব পান।

তার মূল নীতি গাসনস্তের (উন্মুক্ত হওয়া) ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের অনেক অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী চিন্তার উদ্ভব ঘটে। আর এর ফলশ্রুতিতে ইউনিয়নের পতন ঘটে। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি করেছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলো তাকে একজন সংস্কারক হিসাবে দেখে, যিনি স্নায়ু যুদ্ধে অবসান করার পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্কে ব্যাপক পরিবর্তন আনায় ১৯৯০ সালে তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়।

কিন্তু ১৯৯১ সালে যে নতুন রাশিয়ার জন্ম হয়, সেখানে রাজনীতিক হিসাবে তার তেমন ভূমিকা ছিল না। তিনি বরং শিক্ষা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি একবার রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাত্র ০.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। রাশিয়ার তাস বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তাকে মস্কোর নভোদেভিচি কবরস্থানে তার স্ত্রীর কবরের পাশে সমাহিত করা হবে, যেখানে অনেক নামী রাশিয়ানের কবর রয়েছে।

‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ এর এশিয়া-প্যাসিফিক ফাইনাল রাউন্ডে বাংলাদেশের ৪ শিক্ষার্থী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’ প্রতিযোগিতার এশিয়া-প্যাসিফিক ফাইনাল রাউন্ডে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থী। প্রতিযোগিতার থাইল্যান্ড রাউন্ডে অংশগ্রহণকারী আট প্রতিযোগীর মধ্য থেকে এই চার জনকে বাছাই করা হয়। এ শিক্ষার্থীরা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠেয় ‘টেকফরগুড অ্যাকসেলেরেটর ক্যাম্প’ শীর্ষক ফাইনাল রাউন্ডে অংশগ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ৪ জন শিক্ষার্থী হচ্ছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাদমিন সুলতানা, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মোহসিনা তাজ, আইইউটি বাংলাদেশের ওয়াসিফা রহমান রেশমি ও মো. সুমিত হাসান। এ বছরের জুলাইয়ে নয় জন বিজয়ী বাছাই করার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার ২০২২ বাংলাদেশ’প্রতিযোগিতা। বিজয়ী প্রতিযোগীরা পরবর্তী রাউন্ডে অংশ নিতে গত ১৮ আগস্ট থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। থাইল্যান্ড রাউন্ডে অংশগ্রহণকারী চব্বিশটি দলের মধ্যে, বাংলাদেশি ‘টিম ইথার’তাঁদের প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘টেকফরগুড অ্যাকসেলেরেটর ক্যাম্প’শীর্ষক চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে।

টেকফরগুড অ্যাকসেলেরেটর ক্যাম্পে প্রতিযোগীরা বিজনেস অপারেশন এবং আইসিটি খাতের মেন্টরদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার সুযোগ পাবেন এবং তাদের কাছ থেকে বাস্তবধর্মী ধারণা লাভ করতে পারবেন। এতে করে তারা কীভাবে একটি ব্যবসা পরিচালিত হয় সে বিষয়ে জানার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, তাদের ব্যবসা-সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যার মাধ্যমে তারা সফলভাবে প্রকল্পের পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবেন। এছাড়াও, অ্যাকসেলেরেটর ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সাথে দেখা করার সুযোগ তৈরি হবে, যারা প্রতিযোগীদের পেশাগত প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিবেন। ক্যাম্পের এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে প্রতিযোগীরা তাদের প্রকল্পগুলো তৈরি করবেন। উপস্থাপন করা প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে সম্ভাবনার ভিত্তিতে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে।

এ নিয়ে হুয়াওয়ে টেকনোলোজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের বোর্ড মেম্বার জেসন লিজংশেং বলেন, “বিশ্বের মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করে তাদের ভবিষ্যত সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সিডস ফর দ্য ফিউচার প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়েছে। অ্যাকসেলেরেটর ক্যাম্পটি প্রতিযোগীদের জন্য একটি অমিত সম্ভাবনা হিসেবে কাজ করবে, যেখান থেকে তারা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি শিখতে পারবেন এবং আইসিটি সম্পর্কিত বাস্তব জ্ঞানে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারবেন।”

তরুণদের ভবিষ্যতমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভর করে দেশকে এগিয়ে নিতে, আইসিটি স্কিলস কম্পিটিশন এবং সিডস ফর দ্য ফিউচার’র মতো বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করছে হুয়াওয়ে টেকনোলোজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

দাউদকান্দিতে নিখোঁজের ৮দিন পর কিশোরের খন্ডিত লাশ উদ্ধার

জাকির হোসেন হাজারী:
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজের আট দিন পর সাগর রহমান (১৮) নামের এক কিশোরের খন্ডিত ও গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার ( ৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের ডোবা থেকে খন্ডিত লাশের বিচ্ছিন্ন মাথা এবং কোমর থেকে পায়ের অংশ উদ্ধার করা হয়।

সাগর রহমান বিক্রমপুর জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আব্দুর রহমানের ছেলে। কিশোরের পরিবার কলাকোপার পাশের গ্রাম লক্ষিপুরের সাইজুদ্দিনের বাড়ীতে ৬ বছর যাবৎ ভাড়া বাসায় থাকেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাগর রহমান মোবাইল কিনার জন্য তার মায়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেয়। সেই টাকায় মোবাইল কিনে দিবে বলে গত ২৩ আগষ্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাশের বাড়ীর কবির মিয়ার ছেলে মাসুম, মৃত কুদ্দুস মিয়ার চেলে জামির হোসেন ও মৃত মনুমিয়ার ছেলে ছবির হোসেন বাড়ী থেকে ডেকে মোটরসাইকেল দিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সাগর রহমান আর বাড়ী ফিরে আসেনি। তিনদিন পর ২৬ আগষ্ট সাগরের মা হাসনা বেগম দাউদকান্দি মডেল থানায় তিন জনের নামে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
ছেলেকে হারিয়ে বার বার বুক চাপড়িয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে মা হাসনা বেগম বলেন, আমার একমাত্র বুকের ধনকে পাঁচ হাজার টাকার জন্য মাসুম, জামিল ও ছবির বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে খুন করেছে। আমি মানুষের বাড়ীতে কাজ করি আর আমার স্বামী রিক্সা চালায়। ছেলেও মাঝে মাঝে রিক্সা চালাতো। পুরনো মোবাইল কিনবে বলে কয়েকদিন যাবৎ ছেলে টাকা চাচ্ছিল। পরে পাঁচ হাজার টাকা যোগার করে দেই, সেই টাকাই আমার ছেলের জন্য কাল হলো। মাত্র পাচ হাজার টাকার জন্য যারা আমার ছেলেকে খুন করেছে, তাদের বিচার চাই বলে বার বার মূর্ছা যান হাসনা বেগম।

গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্য মোঃ রাকিবুল ইসলাম বলেন, আজ সকালে গলিত লাশের মাথা এবং নিন্মাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও নিহতের স্বজনরা পড়নের পেন্ট, জুতা ও বেল্ট দেখে তাকে সনাক্ত করেছেন। তারপরও ময়নাতদন্ত ও তার বাবা মায়ের সাথে ডিএনএ পরীক্ষা করানোর জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। আর যারা তাকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়েছে তাদের মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

কুমিল্লার জাগুরঝুলি থেকে ৭ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার জাগুরঝুলি থেকে ৭ কেজি গাঁজাসহ মোঃ মনির হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

৩০ আগস্ট রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

সে লাকসাম উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

বুধবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আটককৃত যুবক দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল। উক্ত বিষয়ে কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আ.লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ: চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় চলছে ১৪৪ ধারা

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

আজ ভোর সকাল ৬টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার।

তিনি জানান, আজ বেগমগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে বেগমগঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠে বিকেল ৩টার দিকে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। একই স্থানে বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও তাদের সমাবেশ ঘোষণা করেছেন। একই স্থানে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা বিএনপি সমাবেশ ঘোষণা করায় বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় সরকারি সম্পদের রক্ষা, জালমালে নিরাপত্তা এবং শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকাকালীন স্টেডিয়াম এলাকাসহ চৌমুহনী পৌরসভার কোন স্থানে কোন পক্ষ সভা, সমাবেশ, মিছিল বা জমায়েত অথবা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটে এমন কিছু কেউ করতে পারবেনা।

নাঙ্গলকোটে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশ ও আ’লীগের সংঘর্ষ, আহত কমপক্ষে ২০

 

স্টাফ রিপোর্টার:

জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভোলায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা নিহতের প্রতিবাদে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশ এবং আ’লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে।  এ সময় ব্যাপক ভাংচুর হয়। এতে পুলিশসহ ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সকাল থেকে পৌর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে বিক্ষোভ মিছিল বের করার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। কর্মসূচির অনুমতির বিষয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে তাদের। এ সময় আ’লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজির আহমেদ ভুঁইয়া  বলেন, ‘পুলিশ আমাদের অন্যায়ভাবে লাটিপেটা করেছে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এতে আমাদের ১৫ জন কর্মী আহত হয়।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সাদেক হোসেন বলেন,  বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন  বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ৫ জনের বেশি হবে।’

দাউদকান্দির বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজারে বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিকে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) অভিযান পরিচালনা করেছেন  সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান।  এসময় উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ তৌহিদ আল হাসান।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশী গৃহবধূ হত্যার একদিন পর ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দক্ষিণ আফ্রিকার পুমালাঙ্গা প্রদেশের লিডেনবার্গে সিনথিলা আক্তার শান্তা (১৯) নামে বাংলাদেশি নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে লিডেনবার্গ এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় স্থানীয় লিডেনবার্গ থানায় মামলা করা হয়েছে।

ঘাতক স্বামী সুমন মিয়া টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের খোকা মাস্টারের ছেলে। তিনি প্রায় ১ যুগ আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে প্রথমে কেপটাউনে চাকরি করেন; পরবর্তীতে পুমালাঙ্গার লিডেনবার্গে এসে ব্যবসা শুরু করেন।

নিহত সিনথিলা আক্তার শান্তা টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার সালাম শিকদারের মেয়ে।

উল্লেখ্য, রোববার সকালে নিজ ঘরে সুমন মিয়া তার বাংলাদেশি স্ত্রী সিনথিলা আক্তার শান্তাকে ছুরিকাঘাত এবং পিটিয়ে হত্যার পর থেকে পলাতক ছিল।

নিহত শান্তার দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী জেঠাতো ভাই মো. আল মামুন চেন্টু জানান, শান্তা বাবা-মায়ের একমাত্র কন্যাসন্তান। সুমন আমার ফুফাতো ভাই। দেশে থাকা অবস্থায় আমার চাচাতো বোন শান্তার সাথে সুমনের দীর্ঘ দিনের জানাশোনা ও প্রেমের সম্পর্ক থাকায় পারিবারিকভাবে ১ বছর আগে তাদের দু’জনের ফোনে বিয়ে হয়েছে। সুমন দেশে না যাওয়ায় একপর্যায়ে শান্তা নিজ খরচে গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে দেশ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসে। এখানে আসার কিছুদিন পর থেকেই সুমন তাকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। আশপাশের স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে সবাই অবগত রয়েছেন।

নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে শান্তা দেশে তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে- তাকে যেন আত্মীয়স্বজনের কাছে নিয়ে যায়। শান্তার বাবা রাতে বারবার ফোন করেও মেয়েকে না পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় আত্মীয়স্বজনদের কাছে ফোন দেন। সেই মোতাবেক শান্তাকে নিয়ে আসার জন্য রোববার (২৮ আগস্ট) সকালে তার জেঠাতো ভাইয়ের স্ত্রীসহ ৪ জন লিডেনবার্গে শান্তার বাসায় যান। সেখানে গেলে ভেতর থেকে বাসা তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তালা ভেঙে নিহত শান্তার মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মাথা, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে ১৭টা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় এবং প্লাস্টিক দিয়ে মুখ পেঁচনো মৃত অবস্থায় তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ তার লাশ নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

নিহত শান্তার জানাজা লিডেনবার্গে সোমবার রাত ৮টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই তার লাশ দেশে পাঠানো হবে বলে জানান তার এক স্বজন আরাফাত ইসলাম অনিক।

দশ বছর ধরে অকেজো কুবির অর্ধকোটি টাকার সোলার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রশাসনিক ভবনের জন্য ছাদে বসানো হয়েছিল ১৮টি সোলার (সৌর বিদ্যুৎ) প্যানেল। তবে এক বছরের মাথায় তা অকেজো হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ বছরেও তা ঠিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে এই সোলার প্যানেল স্থাপনে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ৪৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ৮.৪ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেয় বাংলাদেশ অলটারনেটিভ এনার্জি সিস্টেমস লিমিটেড। শুরুতে ৫ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল লাগানোর কথা থাকলেও ৮.৪ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল লাগানো হয়। তবে এই পরিবর্তন সম্পর্কিত কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক (পরবর্তী সময়ে রেজিস্ট্রার) ড. মো. আবু তাহেরসহ চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল এ বিষয়ে ছয়টি মতামত দেয়। দেশের আবহাওয়া বিবেচনায় প্রতিটি প্যানেলে ৩৬টি অথবা ৭২টি করে সেল থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তারা। ৬০টি করে সেল থাকার কারণে গ্রীষ্মকালে উচ্চ তাপমাত্রায় ব্যাটারির চার্জিংয়ে সমস্যা হতে পারে বলে তারা মত দেন। এছাড়া তিনটি চার্জ কন্ট্রোলারের মধ্যে দুটি (ডান পাশের) এমভিপি মুডে যায় কিন্তু বাম পাশের চার্জ কন্ট্রোলার স্টার্ট আপ মুডে থাকলে এমভিপি মুডে না যাওয়ার ব্যাপারটি উল্লেখ করেন। এসব কিছু ঠিক করে ওই প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের পরামর্শ দেয় বিশেষজ্ঞ প্যানেল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথমে ৫ কিলোওয়াটের কথা থাকলেও হুট করে ৮.৪ কিলোওয়াটের সোলার লাগানো হয়েছে। যা শুধু প্রশাসনিক ভবন না বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনগুলোও কভার করতো। কিন্তু তৎকালীন প্রভাবশালী শিক্ষক নেতা অধ্যাপক তাহেরের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাহের সাহেব একাই ৫৭টি কমিটিতে ছিলেন সে সময়। তিনিই কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করে এখানে দুর্নীতি করেছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশল দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্যানেলগুলো যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তা ইনভার্টারে জমা হবে। কিন্তু পানেলগুলো যে পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতো সে পরিমাণ বিদ্যুৎ ইনভার্টার ধারণ করতে পারতো না। ফলে একসময় এসে ইনভার্টার পুড়ে গেছে। এখন ইনভার্টার সংস্কার করার কোনো উপায় নেই। নতুন করে কিনতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান বলেন, ‘এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আমির হোসেন খানের সময়ের ঘটনা। এটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ড. আলী আশরাফ স্যার যখন ভিসি তখন আমরা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলাম। তবে ফলপ্রসূ হয়নি।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অলটারনেটিভ এনার্জি সিস্টেমস লিমিটেডের ম্যানেজার আশরাফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরাই কুবিতে সোলার লাগিয়েছিলাম। লাগানোর এক বছর পর্যন্ত সময়ে যদি নষ্ট হতো তাহলে আমরা দায়িত্ব নিতাম। কিন্তু এক বছরের পরবর্তী সময়েতো আমাদের দায়িত্ব থাকে না। তবুও আমরা দু-একবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গিয়েছিলাম এবং সমস্যা সমাধান করেছিলাম।’

সার্ভিস চার্জের টাকা কেন নেননি, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ওইদিকে আমাদের যাওয়া হয়নি। তাই এসব টাকা আর নেওয়া হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট কথাবার্তা। এগুলো চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই না। সোলার নষ্ট হওয়ার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

সোলার লাগানো কোম্পানি জামানতের জন্য আবেদন করলে আপনার সুপারিশে তারা টাকা পান। এর কিছুদিন পরই সোলার প্যানেল নষ্ট হয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সই থাকতেই পারে। এতে কী হয়েছে?’ পরে তিনি আর এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘আমি এরকম একটি অভিযোগের কথা আগেও শুনেছি। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’