All posts by jitu

চৌদ্দগ্রামে সন্তানের মরদেহ কোলে নিয়ে থানায় মা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় পুকুরে পড়ে ১৪ মাস বয়সী খাদিজা আক্তার নামে এক শিশু মারা যায়। এরপর তার মরদেহ কোলে নিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় হাজির হন মা সুরাইয়া বেগম।

বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার পৌরসভা গোমারবাড়ী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের তাজুল ইসলামের একমাত্র শিশু কন্যা খাদিজা সন্ধ্যায় ঘরের পাশে কালাম মিয়ার মৎস্য ফিশারিজ পুকুরে পড়ে মারা যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সহায়তায় শিশুটির মা সুরাইয়া বেগম মরদেহ কোলে নিয়ে প্রথমে সহকারী কমিশনার ভূমি তমালিকা পালের কাছে নিয়ে যান। মৎস্য ফিশারিজ মালিক কালামে বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন। এরপর সহকারী কমিশনার তাদের থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। নিহত খাদিজার মা সুরাইয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র সন্তান কালামের মাছের পুকুরে পড়ে মারা যায়। আমি কী নিয়ে বেঁচে থাকব। আজ যদি ওই ফিশারিতে নেট লাগিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করত, তাহলে হয়তো আমার বুকের ধন মারা যেত না। আর যেন কোনো মায়ের বুক এইভাবে খালি না হয়। কালামের বিচারের দাবিতে আমার সন্তানের মরদেহ নিয়ে আমি থানায় হাজির হয়েছি।

এ ব্যাপারে কালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, আমি সরকারি কাজে কুমিল্লায় আছি। শুনেছি, এক মহিলা শিশুর মরদেহ নিয়ে থানায় হাজির হয়েছে। ডিউটি অফিসারকে বলেছি, বিষয়টি দেখার জন্য। বিস্তারিত বলতে পারছি না।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাউসার মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। কাউসার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের পদুয়া খামাচাড়া গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে।

কাউসারের চাচাতো ভাই মো. হোসেন জানান, কাউসার একজন দরিদ্র রাজমিস্ত্রি। পাশাপাশি অন্যের গরু (বর্গা) লালন পালন করে। ঘটনার দিন সকালে (বর্গা) গরু বিক্রির জন্য বাড়িতে গরু বেপারীকে আসতে বলেন। গরু বিক্রির কথা পাকা হওয়ার একপর্যায়ে কাউসার তার নিজের বসতঘরের (টিনের বেড়া) সঙ্গে মাথা হেলান দিয়ে দাঁড়ালে সে বিদ্যুতায়িত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে প্রাইভেটকার উল্টে আহত ২

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে সড়ক ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গেছে একটি প্রাইভেটকার। এসময় ২ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাওয়া টোলপ্লাজার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- তুহিন ও আবু সাইদ। পরে দুজনকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই রেজোয়ানুল জানান, ঢাকা থেকে খুলনার যাওয়ার পথে গাড়িটি টোলপ্লাজার সামনে আসে। দ্রুতগতির গাড়িটি পদ্মা সেতু উত্তর থানার মোড়ে ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে দুজন আহত হন। পরে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

মনোহরগঞ্জে খাটের নীচ থেকে ৩৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, যুবক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ৩৪ কেজি গাঁজাসহ নজরুল ইসলাম (৩৪) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে মনোহরগঞ্জের পোমকাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের বসত ঘরের খাটের নীচ থেকে ৩৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

আটককৃত নজরুল ইসলাম পোমকাড়া গ্রামের মৃতঃ আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সফিউল আলম জানান, মনোহরগঞ্জের পোমকাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ কেজি গাঁজাসহ ১ জনকেেআটক করা হয়েছে। আটককৃত মাদক কারবারীর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নোয়াখালীতে প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে বলৎকারের অভিযোগে গৃহশিক্ষক গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে (৭) বলৎকারের অভিযোগে এক গৃহশিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।

গ্রেফতারকৃত মনিরুল ইসলাম (২৪) উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে।

বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, একই দিন সকালে সুধারাম মডেল থানায় ভুক্তভোগী ছাত্রের পিতা বাদী হয়ে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন। এরপর দুপুরের দিকেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর এলাকার কামাল কমপ্লেক্স মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত মনিরুল এক বছর আগে থেকে ভিকটিমের বাড়িতে গৃহশিক্ষক হিসেবে থেকে ওই শিক্ষার্থীকে পড়াতেন। এ সুযোগে ওই ছাত্রকে একাধিকবার বলৎকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক। এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ছাত্রকে ভয়ভীতি দেখায় ওই শিক্ষক। এরপর শিশুটি ভয়ে প্রথমে বিষয়টি পরিবারকে জানায়নি। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে ওই শিশুর পরিবার মামলা করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এএসআই) মো.সবুজ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার সকালে ছেলে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। সুধারাম মডেল থানায় যাহার মামলা নং-৯। এরপর পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। অপরদিকে, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হজে আরও ২ বাংলাদেশীর মৃত্যু, এ নিয়ে মৃত্যু ১৩ জনের

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

পবিত্র হজ পালনে গিয়ে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ বছর ১৩ জনের মৃত্যু হলো। মৃতদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, ৪ জুলাই মারা যাওয়া মো. আবদুল মোতালিব (৫৮) নওগাঁর সাপাহার উপজেলার তিলনা গ্রামের বাসিন্দা। এর আগের দিন খায়বার হোসেন (৫৫) নামের আরেক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা।

আগামী ৮ জুলাই পবিত্র হজ পালিত হবে। এবার ১৬৫টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৮৭টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩০ হাজার ৩৬৩ জন হজযাত্রী পরিবহন করেছে। এ ছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস ৬৪টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ২৩ হাজার ৯১৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ১৪টি ফ্লাইটের মাধ্যমে ৫ হাজার ৮৬৪ জন হজযাত্রী পরিবহন করা হয়েছে।

হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ১৪ জুলাই। শেষ হবে ৪ আগস্ট।

কোমলমতি শিশুদের স্মার্টফোন আসক্তি: স্বাস্থ্যঝুঁকি ও করণীয়

লে. কর্নেল নাজমুল হুদা খান:

সারাবিশ্বের শিশুদের মধ্যে স্মার্টফোনের আসক্তি দেখা দিয়েছে প্রকটভাবে। বিশেষ করে গত আড়াই বছর এ ক্ষেত্রে করোনা অতিমারীর প্রভাব লক্ষণীয়। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্বের দুইশরও বেশি দেশে বিভিন্ন মেয়াদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে। ইউনিসেফ জানায়, এ সময় বিশ্বের ১৬ কোটি শিশু শিক্ষাজীবন শুরু করতে পারেনি, বাংলাদেশে পারেনি প্রায় ৪০ লাখ। করোনা প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে ঘরে থাকা কর্মসূচি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখতে হয়। তাই শিশুরা বাধ্য হয় স্মার্টফোন, আইপ্যাড, ট্যাব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটাতে। ফলে তাদের মধ্যে মানসিক ও আচরনগত সমস্যা, স্থূলতা,  স্নায়ুতন্ত্রের বৈকল্যসহ নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিসেফের মতে, করোনা অতিমারীকালে বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় পৌনে দুই লাখ শিশু ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের শতকরা ২৫ শতাংশেরই বয়স ছিল ১০ বছরের নিচে। বাংলাদেশের ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, করোনাকালে ৬৭ শতাংশ স্কুলশিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে আসক্তি জন্মেছে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি শিশুর মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা ও পানি পড়া উপসর্গ লক্ষণীয়। শতকরা ৫৪ ভাগ শিশু মোবাইলবিহীন থাকাকে বিরক্তিকর ও ৬৬ ভাগ ভীতিকর মনে করে।

এটি সত্যি, ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের ব্যবহার সবার জন্য এবং শিশুদের জন্যও জ্ঞানার্জনের একটি অন্যতম মাধ্যম। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার বা আসক্তি নানাবিধ জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্ম দেয়। গবেষণালব্ধ তথ্য থেকে জানা গেছে, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারে মোবাইল ফোনের চুম্বকীয় রশ্মির প্রভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল, এমনকি মস্তিষ্কে টিউমারও দেখা দিতে পারে।

অনেক শিশু স্কুলে স্মার্টফোন নিয়ে ক্লাসের ফাঁকে বা টিফিনের সময় চ্যাটিং কিংবা ভিডিও গেমস খেলে সময় পার করে। ফলে ক্লাসের কার্যক্রমে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এসব শিশু অনেক সময় পরীক্ষা চলাকালে স্মার্টফোনের ক্যালকুলেটর ব্যবহার, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ছবি, সূত্র অথবা প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি কপি করা বা অন্যের সঙ্গে শেয়ারের মতো অসদুপায় অবলম্বনের মাধ্যমে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। এ অবস্থা শুধু তাদের একাডেমিক দক্ষতাই নয়, চারিত্রিক স্খলনও ঘটে। শুধু তা নয়, তারা অনেক সময় অশ্রাব্য মেসেজ বা ছবি শেয়ার করে থাকে। অনেক শিক্ষার্থীকে অল্পবয়সে পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়তে দেখা যায়। তারা বেশিরভাগ সময় অনেক রাত পর্যন্ত বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাটিং, গেমস বা মেসেজ আদান-প্রদান করার ফলে নিদ্রাহীনতায় ভোগে ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে তারা খেলাধুলা, শারীরিক কর্মকান্ডে উৎসাহ হারিয়ে স্থূলতা বা বিভিন্ন মানসিক রোগ, এমনকি ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের মতো জটিল রোগেও আক্রান্ত হতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভ্যস্ত ছেলেমেয়েরা সাইবার বুলিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তা পরে মানসিক বিকারগ্রস্ততায় রূপ নেয়।

বর্তমান যুগে এবং করোনা অতিমারী পরিস্থিতির শিকার শিশুদের সহজে বা হঠাৎই এ অবস্থা থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়তো সম্ভব নয়, বরং অনেক সময় হিতে বিপরীতও হতে পারে। আমাদের অর্থাৎ পরিবার কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিবাবকরা পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব।

অনেক অভিবাবক সন্তানদের খাওয়ানো, কাপড়চোপড় পরানো বা ভ্রমণকালে তাদের মনোযোগ আকর্ষণে কিংবা অন্যত্র সরাতে স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ নেন। এটি মোটেও সঠিক নয়। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নেতিবাচক। অভিভাবকদের অবশ্যই তাদের সন্তানদের আবেগ-অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তাদের একান্ত সান্নিধ্যে মানসিক বন্ধনকে দৃঢ় করার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানই শ্রেয়তর ও দীর্ঘস্থায়ী সুফল বয়ে আনে।

অনেক মা-বাবারা শিশুদের হোম ওয়ার্ক বা পড়াশোনায় মনোযোগের বিনিময় হিসেবে স্মার্টফোন ব্যবহারের শর্ত জুড়ে দেন। তা প্রকৃতপক্ষে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়। বরং মা-বাবারা সন্তানদের হোম ওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট বা পড়াশোনা যথাযথভাবে শেষ হওয়ার পর স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন। উত্তম হয়- যদি আমরা পারিবারিক মিডিয়া পরিকল্পনায় শিশুদের অভ্যস্ত করতে পারি। এর মাধ্যমে তাদের একটি শিডিউলের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর অভ্যাস সৃষ্টি করা সম্ভব- যাতে শিশুদের স্ক্রিন সময় কমানো যাবে। আমরা খাওয়ার টেবিলে, টিভি দেখার সময়, ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্মার্টফোন, আইপ্যাড ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না মর্মে শিশুদের উদ্বুদ্ধ করতে পারি।

সবচেয়ে বড় কথা- শিশুদের পারিবারিক আবেগ, অনুভূতি ও বন্ধনের স্বাদ বুঝতে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব অভিভাবক হিসেবে আমরা এড়াতে পারি না। তাদের বাইরে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া, খেলতে উদ্বুদ্ধ করা, পরিবারের বিভিন্ন ছোট ছোট কার্যক্রমে দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে স্মার্টফোন আসক্তি হ্রাস করা সম্ভব। অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রম- গান শোনা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ছবি আঁকা, বই পড়া, সাঁতার কাটা, হাঁটা ইত্যাদিতে শিশুদের অভ্যস্ত করলে মানসিক কিংবা শারীরিক উভয়দিকেই স্বাস্থ্যকর করে গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা পরিবারের সবাই মিলে ছুটির দিনগুলোয় সাধ্যমতো বেড়াতে যাওয়া কিংবা ছবি দেখার মাধ্যমে একটি পারিবারিক আবহে তাদের গড়ে তুলতে পারি। শারীরিক কর্মকা- বা খেলাধুলা শিশুদের মেধা বিকাশ, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি, চ্যালেঞ্জ গ্রহণে দক্ষতা ও মানুষ হিসেবে সমাজের উপযোগী হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। এভাবেই আমাদের আগামী প্রজন্মকে স্মার্টফোন, আইপ্যাড, ট্যাব ও ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি ও জটিল সব স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্ত করা সম্ভব।

আধুনিক বিশ্বে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দুটি দিকই রয়েছে। ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন প্রযুক্তি যে শিক্ষা এবং জ্ঞানলাভের একটি শক্তিশালী মাধ্যম- এতে সন্দেহ নেই। আজকের এ যুগে শিশুদের এই আসক্তি নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু অভিভাবক, পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের সচেতনতা, একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা এবং শিশুদের প্রতি দায়িত্বশীলতাই তাদের এ ঝুঁকি থেকে মুক্ত করা সম্ভব।

লেখক:

লে. কর্নেল নাজমুল হুদা খান : এমফিল, এমপিএইচ,

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সহকারী পরিচালক,

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুর্মিটোলা, ঢাকা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মোবাইল কেনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন আবদুর রউফ নয়ন (৩৮) নামের এক রাজমিস্ত্রির হেলপার।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে।

নিহত নয়ন একই গ্রামের মৃত আবদুল গফুরের ছেলে। তার তিন ছেলে ও ৯ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের ফুলগ্রাম থেকে এক যুবক মোবাইল বিক্রি করার জন্য একই ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে নয়নের বাড়িতে আসে। মোবাইল বিক্রির সময় একই বাড়ির কালাম নামে এক যুবক তাকে বাধা দেয়। এই নিয়ে কালাম ও নয়নের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয় এবং নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এরই জের ধরে বুধবার সকালে আবদুর রউফ নয়ন নিজ বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুর পাড়ে গেলে একই বাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে আবুল কালাম ক্ষুব্ধ হয়ে তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আবদু রউফ নয়নকে বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে নয়নের আত্মচিৎকারে বাড়িতে থাকা তার বোন আসমা আক্তারসহ স্থানীয়রা দৌড়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিসৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আবদুর রউফ নয়নের মা সবুরা বেগম আহাজারি করে বলেন, ‘আমার ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। আমার ছেলের কোন শক্র নেই। তুচ্ছ ঘটনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই’।

নিহত নয়নের মামাতো বোন আনোয়ারা বেগমসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, মাদকসেবী ও বিক্রেতা আবুল কালামের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। গ্রামের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সে। আমরা প্রশাসনের কাছে এ হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। অপরাধিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে’।

কোটি টাকায় বিক্রি হচ্ছে ছাত্রলীগের পদ !

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

মহানগর, গুরুত্ব জেলা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কমিটিতে পদ পেতে কোটি টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এমন তথ্য বের হচ্ছে । আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের কমিটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে আসছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরকম কমিটি ঘোষণা নিয়ে বিভিন্ন সময় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগ মূলত ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কমিটির মেয়াদ না থাকায় পদ বিক্রির ব্যাপারটিতে জয়-লেখক আগের চেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।

ছাত্রলীগের অন্তত এক ডজন নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে, এর মধ্যে যারা জয়- লেখকের হয়ে অনেক শাখা কমিটির পদ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িয়েছেন তারাও রয়েছেন। এ নেতারা বলছেন, জয়- লেখকের পদবাণিজ্যের একটি চক্র রয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যসহ এ চক্রের সদস্যরা আর্থিক লেনদেন করে। রাজধানীর কোন কোন জায়গায় এসব আর্থিক লেনদেন হয় সেটাও তারা জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, মহানগর, গুরুত্ব জেলা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিতে পদ পেতে কোটি টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। কারণ এসব এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারের উন্নয়নকাজ ও শিল্পকারখানা বেশি। এ কারণে সেখানে চাঁদাবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যও হয় বেশি। এসব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থানীয় নেতারা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হন।

এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের জন্য কমিশন চাওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও পদ হারান। তাদের শুধু দায়িত্ব থেকে সরিয়েই দেননি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, দুজনকে দানব বলেও মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করার পর জয়-লেখকের পদবাণিজ্য আলোচনায় আসে। সেখানে উন্নয়নকাজের টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্যের ঘটনা রয়েছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক সহসভাপতি এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, পদ বেচাকেনার ঘটনা সত্য। শুধু পদপ্রত্যাশী ছাত্রনেতাদের কাছ থেকেই নয়, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছ থেকেও টাকা ও আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে জয় ও লেখকের বিরুদ্ধে। এ নেতারা বলছেন, পদবাণিজ্য করে বিভিন্ন শাখার কমিটির নেতা বানানো হয় বলেই পরে ওই নেতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে।

গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটসহ অন্তত এক ডজন জেলা ও মহানগর কমিটির পদ বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে জয় ও লেখকের বিরুদ্ধে। অনেক উপজেলা কমিটিও পদ বিক্রি করতে ছাড়েন না জয়-লেখক ও তার অনুসারীরা। ঢাকার পাশে আশুলিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি বিক্রি করেছেন জয়-লেখক ২১ লাখ টাকায়। তবে সাধারণ জেলা শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদের দাম ১০-২০ লাখ, এমনকি ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত উঠে। সভাপতি পদ জয়ের ও সাধারণ সম্পাদক পদ লেখকের এভাবেই লেনদেন হয়ে আসছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ওই নেতারা বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ বিক্রি ও গুরুত্বপূর্ণ মহানগর ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে সবচেয়ে বেশি টাকা দিতে হয়। এসব ইউনিটের দুই শীর্ষ পদের দাম কমপক্ষে ৫০ লাখ পর্যন্ত বিনিময় হয়। জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ দুটি ইউনিটের শীর্ষ দুটি পদ কেনাবেচা হয় অন্তত ৫