All posts by jitu

অটোরিকশায় চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বড় ভাইকে কু’পিয়ে জ’খম করল ছোট ভাই

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় অটোরিকশায় চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বড় ভাইকে কু’পিয়ে জখম করেছে আপন ছোট ভাই।

রোববার (১৯ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ৫ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে কুলশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শেখ ফরিদ (৪৫) উপজেলার কুলুশ্রী গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অটোরিকশায় চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছোট ভাই জামাল হোসেন (৩৮) বড় ভাই শেখ ফরিদের মাথায়, কাঁদে, পিঠেসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে দা দিয়ে কু’পিয়ে গুরুতর জ’খম করে। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন আ’হত বড় ভাইকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চাটখিল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এএসআই) ওয়াহিদুল করিম বলেন, এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার হাসপাতালে অবস্থান করছে। তাদের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিতাসে মুরগি নিয়ে ঝগড়া: প্রতিবেশীর ইটের আঘাতে কিশোরীর মৃত্যু

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মুরগি নিয়ে ঝগড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর ইটের আঘাতে আয়াশে (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে।

নিহত আয়েশা মোহনপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেম এর মেয়ে এবং মোহনপুর দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুরগিকে কেন্দ্র করে গত ১৯ জুন রবিবার নিহত কিশোরী আয়েশা ও তার মা পারভীন এর সাথে প্রতিবেশী আজিজ এর বাকবিতণ্ডা হয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আজিজ আয়েশাকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারলে আয়েশা গুরুত্বর আহত হয়ে মাটিতে লুটে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করলে পথে তার মৃত্যু হয়।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামি গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পারভেজ মোশাররফ

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

সংযুক্ত আরব আমিরাতে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। এ অবস্থা থেকেই তিনি দেশে ফিরতে উদগ্রিব। কিন্তু আকাশপথে তার ভ্রমণের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পারভেজ মোশাররফের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তারিক আজিজ এ কথা জানিয়েছেন। তিনি পারভেজ মোশারফের মুখ্য সচিব এবং তার ক্ষমতার আট বছরে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ। এতে বলা হয়েছে, পারভেজ মোশাররফকে দেশে ফিরতে একটি বড় মাপের বোয়িং ৭৭৭ বিমান সরবরাহ দিতে প্রস্তুত সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। তারা ওই বিমানটিকে একটি এয়ার এম্বুলেন্স বানিয়ে দিতেও প্রস্তাত। এতে থাকবে সব রকম সুবিধা এবং সরঞ্জাম। পাকিস্তানের দ্য নিউজ’কে তারিক আজিজ বলেছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে পারভেজ মোশাররফের স্ত্রী মিসেস সেহবা মোশাররফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

দুবাইয়ের হাসপাতালে স্বামীর নিয়মিত দেখাশোনা করছেন মিসেস সেহবা। কিন্তু মোশারফের স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতিতে তিনি উদ্বিগ্ন।

লাহোরের এফসি কলেজ থেকেই ঘনিষ্ঠ বন্ধু পারভেজ মোশাররফ ও তারিক আজিজ। তিনি বলেছেন, যারা সাবেক এই প্রেসিডেন্টের সুস্বাস্থ্যের জন্য শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ পরিবার। তবে পারভেজ মোশাররফ ও তার স্ত্রী দু’জনেই দুবাইয়ে একাকীত্বে ভুগছেন। আমিরাতে একটি স্টেট অব আর্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে। একদল দক্ষ চিকিৎসক তাকে দেখাশোনা করছেন। কিন্তু তাকে তারা দেশে পাঠানোর সাহস পাচ্ছেন না।

সাবেক এই জেনারেল কাম প্রেসিডেন্ট কথা বলতে খুব কষ্ট পান। তবু তিনি দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। প্রতি সময় প্রার্থনা করেন। ওদিকে তার ছেলে বিলাল তার পাশে অবস্থান নিয়েছেন। তারিক আজিজ বলেন, আমিরাতের শাসক সাবেক এই জেনারেলের দেখাশোনা করছেন।

এমপি বাহার নির্দেশনা ভঙ্গ করেননি,আমরাও ব্যর্থ হয়নি : সিইসি

স্টাফ রিপোর্টার:

আ. ক. ম. বাহাউদ্দিন বাহার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ভঙ্গ করেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

সোমবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আইনগতভাবে আমরা একজন মাননীয় সংসদ সদস্যকে নির্দেশ দিতে পারি না। নির্বাচনকে সুষ্ঠু সুন্দর করতে আমরা ওনাকে বিনিতভাবে অনুরোধ করেছিলাম।সুতরাং উনিও কোনো আইন ভঙ্গ করেনি, আমরাও ব্যর্থ হয়নি। আমরা আইন অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব করেছি।

কুমিল্লার ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময় বিশৃঙ্খলা চাঁদের কলঙ্ক হয়ে গেল কি না— একজন গণমাধ্যমকর্মীর এমন মতামত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি, কোনো বিপর্যয় দেখিনি। সিসিটিভির মাধ্যমে আমরা কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি দেখছিলাম। কিন্তু একটা টেলিফোনে ফলাফল পাল্টে গেল—এমন একটি কথা শোনা যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে একটা ফোনে বক্তব্য পাল্টে যায়, এটা একেবারে অসম্ভব। একটা বা দুইটা টেলিফোন আমি নিজেও করেছিলাম। আমাদের রিটার্নিং অফিসার আমাকে খুব বিপর্যস্ত অবস্থায় ফোন করে বললেন, আমি বিপদে পড়েছি। আমি সেখানে প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমি ভাবলাম তাকে মারধর করা হচ্ছে।

আমি এরপর ডিসি-এসপিকে ফোন করেছিলাম। তারা তখন জানালেন তাৎক্ষণিক বিষয়টি দেখছেন। এরপর রিটার্নিং অফিসারকে বললাম, সমস্যা হবে না। পরে তিনি জানালেন, পুলিশ এসেছে মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছৃঙ্খল ঘটনাটা মাত্র ১৫ মিনিট ছিল। কোনোভাবেই ২০ মিনিটের বেশি দীর্ঘ হয়নি। এরপর তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে ফলাফল ঘোষণা করলেন, সেটি আমরা দেখেছি।

সিইসি বলেন, একটা ফোনে পাল্টে গেল—এটা একজন বলার পর হাজার মানুষ বলল। এটা আমাদের দেশের কালচার, এটা গুজব। মেশিনের ফল অথবা হাতের রেজাল্ট আমরা ওয়েবসাইটে তুলে দিয়েছি। এমন ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, ফলাফলের সময় মিছিলের বিষয়টি হয়েছে মানুষের আবেগ উচ্ছ্বাসের কারণে। এটা আমাদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তাদের কাছে কাঙ্ক্ষিত। তারা উচ্ছ্বাসের কারণেই এটা করেছেন। আর রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণার সময় টয়লেটে গেছেন বলে যেটি বলা হচ্ছে, তিনি ন্যাচারাল কলিং হলে যেতেই পারেন। এটাকে বড় করে দেখার কিছু নেই। আমি শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি, আপনারাও খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন পাঁচ মিনিটে ফল পাল্টানো সম্ভব না।

তিনি বলেন, মানুষ আমাদের চেয়ে টকশোকে বেশি বিশ্বাস করে। নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানার কুমিল্লায় দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের মাননীয় কমিশনার বলেননি আমরা দেখে নেব। তিনি বলেছেন ওয়েট এন্ড সি। কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে আমাদেরও সময় আসবে।

বিশ্বকাপের আগে দল বদলাতে চলেছেন আর্জেন্টিনার সাতজন ফুটবলার

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ

কাতার বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে আগামী ২১ নভেম্বর। তবে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে দিনক্ষণ গণনা। এখন বিশ্বকাপ আলোচনায় বুদ ফুটবলপ্রেমীরা। এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে দল বদলাতে চলেছেন আর্জেন্টিনা দলের অন্তত সাতজন ফুটবলার। যেখানে রয়েছে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, পাওলো দিবালাদের মতো বড় নাম।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৩৩ ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকায় এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে। তবে বিশ্বকাপের আগে ফুটবলারদের ক্লাব বদলের বিষয়টি জাতীয় দলের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক আর্জেন্টিনার কোন কোন ফুটবলার দল বদলাচ্ছেন:

অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া
চলতি মাসের শেষ দিনই প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তারকা ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। পিএসজিতেই নতুন চুক্তি করতে আগ্রহী ছিলেন তিনি। কিন্তু তার সঙ্গে নতুন চুক্তি করছে না পিএসজি। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসে পাড়ি জমাতে পারেন ৩৪ বছর বয়সী এ তারকা।

পাওলো দিবালা
ডি মারিয়া যেখানে পিএসজি ছেড়ে জুভেন্টাসে যাচ্ছেন, সেখানে জুভেন্টাসের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছেন পাওলো দিবালা। চলতি মাসেই শেষ হবে জুভেন্টাসের সঙ্গে দিবালার চুক্তির মেয়াদ। চার বছরের চুক্তিতে ইতালির আরেক ক্লাব ইন্টার মিলানে নাম লেখাচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড।

হুলিয়ান আলভারেজ
তরুণ ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজের দলবদল অবশ্য গত জানুয়ারিতেই হয়ে গেছে। সাড়ে পাঁচ বছরের চুক্তিতে রিভারপ্লেট ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে চলতি মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত লোনে রিভারপ্লেটেই ছিলেন আলভারেজ। নতুন মৌসুমের শুরুতে ম্যান সিটিতে যাবেন তিনি।

নিকোলাস তালিয়াফিকো
জাতীয় দলে লেফট ব্যাক পজিশনে মার্কোস আকুনার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে ২৯ বছর বয়সী নিকোলাস তালিয়াফিকোর। এবার দলবদলের বাজারেও তাকে নিতে কাড়াকাড়ি চলছে কয়েক দলের। নেদারল্যান্ডসের ক্লাব আয়াক্সের সঙ্গে ২০২৩ পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে তালিয়াফিকোর। তবে ওয়েস্ট হ্যামসহ ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকটি ক্লাব তাকে দলে পেতে চাইছে। নতুন মৌসুমে তাই নতুন ঠিকানায়ই দেখা যেতে পারে তালিয়াফিকোকে।

লিসান্দ্রো মার্টিনেজ
ক্লাব ফুটবলে তালিয়াফিকোর আয়াক্স সতীর্থ ২৫ বছর বয়সী লেফট ব্যাক লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। আয়াক্সের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। তবে নেদারল্যান্ডসে থাকা হবে না তার। এরই মধ্যে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে দলে নিতে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল।

নাহুয়েল মোলিনা
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ছয় বছরের চুক্তিতে ইতালিয়ান ক্লাব উদিনেসেতে যোগ দিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী রাইট ব্যাক নাহুয়েল মোলিনা। তবে ২০২২-২৩ মৌসুমেই উদিনেসে ছেড়ে স্পেনের ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে যোগ দিতে পারেন মোলিনা। তার ব্যাপারে প্রস্তাব পেলে ভেবে দেওয়ার কথা জানিয়েছে উদিনেসে।

জিওভান্নি লো সেলসো
ইংল্যান্ডের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারের সঙ্গে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে মিডফিল্ডার জিওভান্নি লো সেলসোর। তবে বর্তমানে লোনে স্পেনের ক্লাব ভিয়ারিয়ালে খেলছেন তিনি। তাকে পূর্ণ চুক্তিতে দলে রেখে দিতে চাইছে ভিয়ারিয়াল। এর মধ্যেই আবার লো সেলসোকে দলে নেওয়ার দৌড়ে নাম লিখিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

বাংলাদেশে গত ১০ বছরে হাজার কোটি টাকার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার মো. রুহুল আমিন রিপন থাকেন রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে। মিরপুর-পল্লবী এলাকায় অস্ত্র বিক্রির জন্য নিয়োজিত তিনি। এ কাজ করছেন এক বছরের বেশি সময় ধরে। গত ১৯ এপ্রিল অস্ত্র ও গুলি বিক্রির সময় ধরা পড়েন পুলিশের হাতে। একটি বিদেশি পিস্তল ও ১২ রাউন্ড গুলিসহ রিপনকে আটক করে পল্লবী থানা পুলিশ।

পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ প্রতিটি সংস্থার অভিযানেই এভাবে অবৈধ অস্ত্রসহ আটক হচ্ছে চোরাকারবারিরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবেই দেশে আসছে অবৈধ অস্ত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে চোরাকারবারিরা। অস্ত্র কারবারিদের ধরতে নিয়মিত অভিযানও চালান তারা।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দেওয়া তথ্য মতে, গত ১০ বছরে এসএমজি একটি, রাইফেল পাঁচটি, রিভলবার ৫৮টি, পিস্তল ৫৫৪টি, বন্দুক ৬৪৬টি, গোলাবারুদ ১৮ হাজার ৪৭০টি, ম্যাগাজিন ৪৯৬টি, আর্টিলারি, মর্টার, রকেট শেল ৯৪টি, বোমা ১৩৭টি, ককটেল ২৭১টি, গানপাউডার ১ হাজার ২৮ কেজি উদ্ধার হয়েছে। মালিক ও মালিকবিহীন অবৈধ এসব অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন থানায় সাতশর বেশি মামলা করে বিজিবি। এসব মামলায় ২২০ জন আসামিকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে তারা। যেসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে তার বাজারমূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা।

অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান বন্ধের কোনো সুষ্ঠু ব্যবস্থা রয়েছে কি না জানতে চাইলে বিজিবির অপারেশন বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, অপরাধের ধরন ও কৌশলভেদে নতুন নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাকারবারিরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে অস্ত্র চোরাচালান করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেই অস্ত্র সরবরাহ করছে। চোরাচালানিদের পেছনে আন্তর্জাতিক চোরাচালান নেটওয়ার্কও রয়েছে। সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতার বিষয়টিও অবস্থা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়।

সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারির অভাব কিংবা অন্য কোনো কারণ আছে কি না জানতে চাইলে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, নজরদারির অভাব রয়েছে বলে মনে হয় না। সব সময়ই বিজিবির নজরদারি থাকে। ফলে অবৈধ অস্ত্র মালিকবিহীন অবস্থায়ও উদ্ধার করা হয়‌‌। প্রতিবছরই আমরা অনেক অস্ত্র উদ্ধার করতে পারছি। বিজিবির সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি কখনো আমাদের নজরে আসেনি। সেই সুযোগও নেই। এমনটা হলে নিশ্চয়ই আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা চাই অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার।‌ আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে বদ্ধপরিকর।

অবৈধ অস্ত্র সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে আসছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এসব অবৈধ অস্ত্র দিয়েই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চুরি, ডাকাতিও ছিনতাই। এমনকি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরিতেও ব্যবহার করা হয় এসব অবৈধ অস্ত্র।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সন্ত্রাসীরা তাদের নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন উপায়ে অধিকাংশ অস্ত্র পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সম্প্রতি কিছু অস্ত্রের কারখানার সন্ধান আমরা পেয়েছি। নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করছি। পাশাপাশি সংঘাত-সহিংসতা যেখানে হয় সেখানে যে ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয় সেগুলো আমরা আসামিসহ গ্রেফতার করছি। কারা এ অস্ত্র নিয়ে আসছে বা তৈরি করছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।

অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. হায়দার আলী খান বলেন, অবৈধ অস্ত্র অধিকাংশই উন্নত দেশগুলোতে তৈরি হয়। অস্ত্র তৈরির ওই স্থানগুলো থেকেই অস্ত্রগুলো কোনো না কোনোভাবে বেরিয়ে আসে। ফলে সেখানে নজরদারির ঘাটতি রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি এড়িয়ে যেসব অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে সেগুলো উদ্ধারে আমরা অভিযান চালাই। যখনই অবৈধ অস্ত্রের কোনো গোয়েন্দা তথ্য পাই সেটা উদ্ধারে অভিযান চালাই।

অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে করণীয় বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ মো. তৌহিদুল হক বলেন, আমাদের দেশের মাদকের বিস্তার রয়েছে। ফলে মাদকের সঙ্গে অস্ত্রের একটা সংযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় আধিপত্য কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী কিংবা রাজনীতির সঙ্গেও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের একটা সম্পর্ক রয়েছে। এগুলো দেশের সীমান্ত এলাকা দিয়েই প্রবেশ করছে।

‘সীমান্ত যেহেতু উন্মুক্ত নয় সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো তাদের নজর এড়িয়ে কীভাবে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করে। যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করছে সেগুলো যদি বন্ধ না করতে পারি তাহলে এটা দূর করা সম্ভব হবে না। আবার অবৈধ অস্ত্র যাদের কাছে পাওয়া যাবে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টি আমরা দেখি না। আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার। যারাই অবৈধ অস্ত্রের চালান বা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’

সূত্র-জা:নি

কোম্পানীগঞ্জে ক্রিস্টাল আইচ ও গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৫

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ক্রিস্টাল আইচ ও গাঁজাসহ ৫ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আইচসহ গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহাব্বত আলী চৌকিদার বাড়ির মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে দাউদুল ইসলাম হেঞ্জু (৪০) ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের ওবাদুল হকের ছেলে সাহাদাত হোসেন সজিব ওরফে কসাই সজিব (৩০)।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার দিনব্যাপী পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে নতুন মাদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইচ ৩৪ মিলি ও ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ ৫ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি আরো জানায়, এ ঘটনায় ৫ মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

বিয়ে করতে চাপ দিলে ডিভোর্সি তরুণীকে গলা কে’টে হ’ত্যা, প্রেমিক গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ডিভোর্সি তরুণীকে গলা, হাত-পায়ের রগ কে’টে হ’ত্যার ৪দিন পর অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত শাহাদাত হোসেন জীবন (২৪) উপজেলার পিতাম্বরপুর গ্রামের মিনহাজি বাড়ির নির্মাণ শ্রমিক শামছুল আলম দিলসাদের ছেলে।

রোববার (১৯ জুন) সকালে সোনাইমুড়ী থানার পুলিশ উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পিতাম্বরপুর গ্রামের একটি সবজি ক্ষেত থেকে হ’ত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চুরি, মোবাইল ও ওড়না উদ্ধার করে। এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের পিতাম্বরপুর গ্রামের মিনহাজি বাড়ি থেকে পরকিয়া প্রেমিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক।

রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম।

এসপি আরো বলেন, ভিকটিম ফেরদাউস পাখির গত ২০০৮ সালে প্রথম বিয়ে হয়। সেখানে ৩ বৎসর সংসার করার পর স্বামীর সাথে তার ছাড়াছাড়ি হয়। প্রথম স্বামীর সংসারে তার একটি ৬ বছরের জান্নাত নামের কন্যা সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ভিকটিমের পুনরায় অন্য ব্যক্তির সাথে ২য় বিয়ে হয়। ৬ মাস পর ২য় স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর চলতি বছরের ২৯ মে জীবনের সাথে ভিকটিমের ফেইসবুক মেসেঞ্জারে পরিচয় হয়। তারপর হতে দুইজনের মাঝে মাঝে কথা হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের মধ্যে একবার দৈহিক সম্পর্ক হয়। আসামি জীবন বিবাহীত ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে ভিকটিম কিছুই জানতো না। পরবর্তীতে আসামি বিবাহিত জেনে ভিকটিম আসামিকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আসামি তাকে এড়িয়ে যায়। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। গত মঙ্গলবার ১৫ জুন পরস্পর যোগাযোগ করে সোনাইমুড়ীর পিতাম্বরপুর গ্রামের মিনহাজী বাড়ির সংলগ্ন সবজি ক্ষেতের দক্ষিণ পাশে নির্জন স্থানে যায়। সেখানে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসামি তার নিকটে থাকা ছোরা বের করে প্রথমে ভিকটিমের গলায় পোচ দেয়। এতে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মৃ’ত্যু নিশ্চিত করার জন্য আসামি ভিকটিমের গলায় উপর্যুপরি ধারালো ছোরা দিয়ে জ’বাই করে হাত ও পায়ের রগ গোলাকৃতিভাবে কেটে দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামি এ চাঞ্চল্যকর হ’ত্যার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ।

জানা যায়, এ হ’ত্যাকান্ডের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাইমুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম দেওটি ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর নবী, স্বপন ও সেনবাগ উপজেলার মনির ও আবু সুফিয়ানকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পিতম্বপুর গ্রামের দিলসাদের ছেলে ও নিহত নারীর পরকিয়া প্রেমিক জীবনকে মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে আটক করা হয়। পরে তার জবানবন্দির ভিত্তিতে আসামিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে হ’ত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে জান্নাতুল তার বড় বোনের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাত ৮টার পর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো খোঁজ পায়নি।পরে বুধবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি উচু সবজি ক্ষেত থেকে পাখির গলা কাটা লা’শ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাখির ভাই বাদী হয়ে সোনাইমুড়ী থানায় একটি হ’ত্যা মামলা দায়ের করেন।