All posts by jitu

কুসিক নির্বাচন: স্বপরিবারে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে সাক্কু

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দুইবারের সাবেক সদ্য বিদায়ী মেয়র মোঃ মনিরুল হক সাক্কু ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যদের মেয়র সাক্কুর স্ত্রী, সাক্কুর ছোট ভাই এড. রিংকুর স্ত্রী রয়েছে। সাক্কুর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন।

উঠান বৈঠক, প্রচারপত্র বিতরণ ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাওয়ার মধ্য দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ করে যাচ্ছেন তিনি। ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি।

বিভিন্ন রাস্তার অলিগলিতে হাতে হ্যান্ডমাইক আর লিফলেট নিয়ে জনসংযোগ চালাচ্ছেন কুসিক মেয়র প্রার্থী সাক্কু। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সমবেত জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সালাম দিয়ে টেবিল ঘড়ি মার্কায়  ভোট চাচ্ছেন।

নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে নিজের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে ভোটারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন নিজের লিফলেট।

 

নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে দেড় বছরের সন্তানকে বিক্রি করল বাবা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশের তৎপরতায় মায়ের কোলে ফিরে গেলো অবুঝ এক শিশু। মাদকাসক্ত বাবা নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে দেড় বছরের শিশু আব্দুল্লাহকে বিক্রি করে দেন এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে। পরে শিশুর মা বিষয়টি মতলব দক্ষিণ থানায় অবগত করলে তাৎক্ষণিক শিশুটিকে উদ্ধারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে থানা পুলিশ।

সোমবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।

জানা যায়, পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাবুরপাড়া গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির বাসিন্দা ইমরান হোসেন। গত ৪ জুন স্ত্রীর কাছ থেকে শিশুটিকে নিয়ে বের হয়ে যান। পরে দেড় বছরের আব্দুল্লাহকে মাত্র ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে রুমা আক্তারের কাছে।

এদিকে সন্তান না পেয়ে শিশুটির মা লামিয়া বেগম মতলব দক্ষিণ থানায় এসে পুলিশকে জানান। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন মিয়ার নির্দেশে এসআই রুহুল আমিন ও সঙ্গীয় ফোর্স অভিযান চালিয়ে মতলব উত্তর উপজেলার চর লক্ষ্মীপুর গ্রাম থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন।

জানা যায়, শিশুটির বাবা মাদকাসক্ত। তিনি তার নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে অবুঝ শিশুটিকে বিক্রি করে দেন। যদিও এই ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। এছাড়াও স্ত্রী-সন্তানের তেমন খোঁজ খবর রাখেন না। তাই লামিয়া বেগম ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালান বলে জানা গেছে।

মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, মাদকসেবী ইমরান হোসেন মাদকের টাকা জোগাড় করতে তার ছেলে আব্দুল্লাহকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন নিঃসন্তান ওই দম্পতির কাছে।

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, লামিয়া বেগম থানায় এসে আমাদেরকে বিষয়টি জানান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তার সন্তানকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। পরে মতলব উত্তর উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

গভীর রাতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের শাহরাস্তি উপজেলার রাড়া এলাকায় গভীর রাতে হাসান আহমেদ নামে এক যুবকের মরদেহ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, উয়ারুক স্টেশন বাজার সংলগ্ন কাজী ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী হাসান আহমেদ আখন্দ গভীর রাতে ফিলিং স্টেশন ত্যাগ করেন। রাত প্রায় আড়াইটায় শাহরাস্তি থানা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালনকালে সড়কের মাঝখানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ।

শাহরাস্তি থানার এসআই জুলফিকার আলী জানান, রাতে দায়িত্ব পালনকালে বিপরীত থেকে আসা একজন পথচারী মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি সামনে এসে আমাদের অবহিত করলে আমরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।

ফিলিং স্টেশনের মালিক ইকবাল হোসেন জানান, পুলিশ হাসানের মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাদের অবহিত করেন। সে আমার এখানে কাজ শেষে স্টেশনের চাবি বুঝিয়ে দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে সড়ক দুর্ঘটনায় কারণে তার মৃত্যু হতে পারে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসান শাহরাস্তি উপজেলার রাড়া আখন্দ বাড়ির মৃত আমির হোসেনের ছেলে।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল মান্নান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিতাসে আয়ের পথ দেখাচ্ছে পলাশের শখের ড্রাগন ফল চাষ

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ

কুমিল্লা তিতাস উপজেলা একটি নিচু এলাকা। সচারাচর এই এলাকার কৃষকরা জমিতে ধানের পাশাপাশি কেউ কেউ সবজি চাষ করে থাকেন। কিন্তু ব্যতিক্রম একজন ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন পলাশ। তিনি হেটেছেন ভিন্ন পথে।

পরীক্ষামূলকভাবে শখের বসে চাষ করছেন ড্রাগন ফল। এখানেই শেষ নয়, তার এ ড্রাগন চাষে বর্তমানে আয়ের পথ দেখাচ্ছে অন্যদের। তার দেখাদেখি ড্রাগন ফল চাষ শুরু করছেন অনেকেই। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ড্রাগনের চাষ পদ্ধতি জেনে নিচ্ছেন।

মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন পলাশ তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের সন্তান। পেশায় তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। পাশাপাশি তিনি এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজ উপজেলার নামে সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তিতাস ক্লাব’।

সোমবার (৭ জুন) সরেজমিনে মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন পলাশের বাগানে ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে সবুজের সমারোহ। প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতার প্রতিটি কংক্রিটের খুঁটি পেঁচিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ড্রাগন ফলের গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলছে ৮ থেকে ১০টি করে কাঁচা, পাকা ও আধা পাকা ড্রাগন ফল।

বাগানের দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন পলাশের ছোট ভাই জলিল সাথে কথা বলে জানা যায়, গত এক বছর পূর্বে নিজের ৩০ শতাংশ জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমে ৫৫ টাকা করে ৬০০টি ড্রাগন ফল গাছের চারা এনে রোপণ করেন।

রোপণের চার মাথায় গাছে ফল আসে। প্রথম বার প্রতিটি গাছে ৪ থেকে ৫টি ফল আসলেও এই বছর দ্বিতীয় বারে প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ২০টি ফল আসছে। ওই একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে রয়েছে আম, পেঁপে ও লেবু গাছ। বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল বাগান থেকে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। যা বাজার মূল্য রয়েছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে বাগান মালিক দেলোয়ার হোসেন পলাশ জানান, ড্রাগন ফল চাষ একটি লাভজনক ফল চাষ। অল্প পুজিতে এটি চাষ করা যায়। আমি এক বছর পূর্বে সখের বসে আমার পরীক্ষামূলক ভাবে নিজের ৩০ শতাংশ জমিতে মাটি ভরাট করে ৬০০ চারা রোপন করি। ইনশাআল্লাহ এই বছর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের চাহিতা পুরন করেও কয়েক লক্ষ টাকা বিক্রি করতে পারবো। তাই চিন্তা করছি এবছর ড্রাগন ফলের চাষ আরো বাড়াবো। কারন বাজারে ড্রাগন ফলের চাহিদা অনেক এবং ফলটি বেশ রসালো ও সুস্বাদু।

উপজেলা কৃষি অফিসার সালাহউদ্দিন জানান, সব ধরনের মাটিতে ড্রাগন চাষ হয়। তবে উঁচু জমিতে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তিন মিটার পর পর গর্ত করে চারা রোপণ করতে হয়। বছরের যে কোনো সময় চারা রোপণ করা যায়। তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হলে ভালো। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষ করার জন্য উপজেলা কৃষি অফিস চাষিদের উৎসাহিত করছে।

কুমিল্লায় মাদকসহ জব্দ করা গাড়ি নিয়ে পুলিশের বিলাসিতা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লায় মাদকসহ জব্দ করা একটি প্রাইভেটকার নিয়ে বিলাসিতা করছেন মাকসুদ আলম নামে এক পুলিশ পরিদর্শক। তিনি জেলার বুড়িচং থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। জব্দ করা ওই প্রাইভেটকার নিয়ে পুলিশের পরিদর্শক ব্যক্তিগত কাজে নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছেন।

বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এরই মাঝে জব্দ করা গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

জানা যায়, প্রাইভেটকারভর্তি ৫০ কেজি ৫শ গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদককারবারিকে আটক করে র‌্যাব। ঘটনাটি বুড়িচং থানা এলাকায় হওয়ায় র‌্যাব বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের পূর্বক জব্দকৃত প্রাইভেটকারটি মামলার আলামত হিসেবে বুড়িচং থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। আর এই প্রাইভেটকার দিয়ে দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। এমনকি অন্য জেলায় নিজের বাড়িতেও যাচ্ছেন তিনি। বুড়িচং থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মাকসুদ আলমের এমন কাজের সমালোচনা করেছেন সচেতন মহল।

গত ২৫ মার্চ র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (২৫ মার্চ) ভোররাতে র‌্যাবের একটি দল জেলার বুড়িচং থানার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রাইভেটকারের ভিতর লুকিয়ে মাদক পরিবহণের সময় ৫০ কেজি ৫শ গ্রাম গাঁজাসহ মো. ইকবাল হোসেন (৩৫) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।

আটককৃত ইকবাল নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাইনাদি পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। আটককৃতের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক জব্দকৃত প্রাইভেটকারটি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে জব্দকৃত প্রাইভেটকারটি কিছুদিন থানা প্রাঙ্গণে পড়ে থাকে। কয়েক দিন পর বুড়িচং থানার পরিদর্শক মাকসুদ আলম গাড়িটি ব্যবহার করতে শুরু করেন। তিনি বুড়িচং থানার বিভিন্ন এলাকাসহ কুমিল্লা ও কুমিল্লা বাহিরেও গাড়িটি নিয়ে ঘুরে বেড়ান।

একটি সূত্র জানায়, সর্বশেষ সোমবার বিকালে তিনি গাড়িটি নিয়ে নিজের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে চলে যান। সোমবার রাতেও তিনি লক্ষ্মীপুরে অবস্থান করেন।

মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন কিনা- এমন প্রশ্ন করা হলে মাকসুদ আলম বলেন, আমি ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আছি, এখন ব্যস্ত বলে ফোন কেটে দেন।

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ ছাড়া কিছুতেই পুলিশ বা অন্য কেউ জব্দ করা গাড়ি ব্যবহার করতে পারে না। যদি করে তবে তা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। এমনকি ওই সব গাড়ি কোথাও নেওয়ারও নিয়ম নেই। মামলার পরিসমাপ্তি ঘটলেই আদালতের নির্দেশে নিলামে তুলে যেকোনো যানবাহন বিক্রি করতে পারে পুলিশ।

এ মামলাটি তদন্ত করেন বুড়িচং থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফ। তিনি বলেন, পিআর মূলে গাড়িটি মালখানায় জব্দ আছে, এই গাড়ি যদি কেউ ব্যবহার করে তবে যিনি মালখানার দায়িত্বে আছেন তিনি জবাবদিহি করবেন।

এদিকে থানা সূত্র জানায়, বুড়িচং থানা থেকে জেলার দাউদকান্দি থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) পদে বদলি হন মাকসুদ আলম। তবে তিনি এখনো দাউদকান্দি থানায় যোগদান করেননি।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ রহমান বলেন, মামলার আলামতের গাড়ি ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই। আমি ৪ দিন হলো বুড়িচং থানায় যোগদান করেছি, বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার বলেন, জব্দকৃত মামলার আলামতের গাড়ি আদালতের নির্দেশ ছাড়া ব্যবহারের অনুমতি নেই। তিনি আদালতের অনুমতি নিয়েছেন কিনা জানতে হবে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, জব্দকৃত সরঞ্জামাদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া হয়। গাড়িসহ মাদক উদ্ধারের পরপরই থানায় মামলা দিয়ে আলামত হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তী কার্যক্রম আদালতে পরিচালিত হয়। জব্দকৃত গাড়ি ব্যবহার করার বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর ও মানবজমিন।

তাল গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল যুবকের

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় তালগাছ থেকে তাল পাড়তে গিয়ে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত মো.জনি (২২) উপজেলার মধ্যম নলুয়া গ্রামের সহাক মিয়ার নতুন বাড়ির মো.শহীদুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ৩নং ডমুরুয়া ইউনিয়নের মধ্যম নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তাল গাছ থেকে তালের ডাব পাড়তে গিয়ে জনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে রেফার করেন। নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় সে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত জনি তাল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রয় করতেন।

নোয়াখালী-লাকসাম মহাসড়কে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিক্ষকসহ ২ জনের মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী-লাকসাম মহাসড়কে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেগমগঞ্জের কেবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকসহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও এক শিক্ষক আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার সকালে নোয়াখালী-লাকসাম মহাসড়কের পলাইয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ২ জনের মধ্যে ১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি হলেন বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নের বড় হোসেনপুর গ্রামের আখন্দ বাড়ির মৃত হারিছ মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন (৫২)। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার কে বি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। অপর নিহতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে হাইওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। আহত প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

কে বি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হারুনুর রশিদ সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিন স্কুলের অফিসের কাজে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে যাচ্ছিলেন। পথে নোয়াখালী-লাকসাম মহাসড়কে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে লাকসাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির জন্য নিয়ে গেলে জামালকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

লাকসাম হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লায় অভিনব কায়দায় পাকস্থলীতে করে ইয়াবা পাচারকালে আটক ২

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লায় অভিনব কায়দায় পাকস্থলীতে করে ইয়াবা পাচারকালে ৪ হাজার ৬৯০ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক পাচারকারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে আমতলী বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে র‌্যাব।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় তাদের মধ্যে আবুল ফয়েজ (৭০) এর পেটের ভিতর ইয়াবা রয়েছে। এরপর একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে এক্সরে করলে পেটে ইয়াবার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শে বিশেষ পদ্ধতিতে পেটের ভিতর থেকে ৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা বের করা হয়। অন্য আসামী মোঃ জাহান শরিফ (৫২) এর দেহ তল্লাশী করে ১ হাজার ১৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী গ্রামের মৃত মোহাম্মদের ছেলে আবুল ফয়েজ (৭০) এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজলার পুরাচক গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ জাহান শরিফ (৫২)।

এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তির নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

শ্রম-অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে সম্পৃক্ততাকরণ, বিদেশগনেচ্ছু ও বিদেশগামীসহ জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের আয়োজনে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সচেতনতামূলক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (০৭ জুন) ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ১০ নং বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ বিল্লাল হোসেন, সচিব ছায়েদ মিয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সাংবাদিকবৃন্দ, মাদ্রাসার শিক্ষক, ইমাম, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যগণ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ ৩৭ জন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মাইগ্রেশন পলিসি ডেভেলপমেন্ট (আইসিএমপিডি) পরিচালিত অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র বাংলাদেশ (এমআরসি) এ আয়োজনে সহযোগিতা প্রদান করে।

কুমিল্লা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য উপস্থান করেন। উপস্থাপনায় নিরাপদ, নিয়মিত, সুশৃঙ্খল এবং দায়িত্বশীল অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানব পাচার রোধ, বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় মধ্যসত্বভোগীদের দৌরাত্ব নিরসন, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, অভিবাসী কর্মীর অধিকার সুরক্ষা, অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যাবলী আলোচনা করেন।

তিনি নারী অভিবাসনের ঝুঁকি, সম্ভাবনা এবং সুবিধাসমূহ উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি RPL-সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন।

কর্মশালায় এমআরসি বাংলাদেশের কাউন্সেলর গোলাম মোস্তফা অভিবাসী তথ্য কেন্দ্র বাংলাদেশের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যাবলি তুলে ধরেন। তিনি এমআরসি বাংলাদেশের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কাজ বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং অভিবাসন বিষয়ক যেকোন প্রয়োজনে এমআরসি বাংলাদেশের সাথে যোগাযোগের জন্য সকলকে আহবান জানান। এছাড়াও তিনি মানব পাচার রোধে ইউনিয়ন পরিষদের করণীয় ও ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন কমিটি নিয়ে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সহকারি পরিচালক দেবব্রত ঘোষ অংশগ্রহণকারী সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জনসাধারণের ভোগান্তি, প্রতারণা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠান শেষে সকলের একটি লিখিত মতামত গ্রহণ করা হয়। সবশেষে বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: বিল্লাল হোসেন বলেন এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছুই জানলাম, তথ্য পেলাম। এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা সকলেই যে যার অবস্থান থেকে বিভিন্ন মিটিং, মসজিদ ও আলোচনা সভায় এই তথ্যগুলো জনগনের মাঝে পৌঁছে দিব।