All posts by jitu

বিশ্ব বাজারে কমেছে খাদ্যের দাম

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বিশ্ব বাজারে খাদ্যের দাম কিছুটা কমেছে। এ নিয়ে টানা দুই মাস বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম কমল। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভারত রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কারণে গমের দাম ফের বেড়েছে বলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) শুক্রবার জানিয়েছে। খবর এএফপির।

দুগ্ধজাত পণ্য ও উদ্ভিজ্জ তেলের দাম কমে যাওয়ায় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার খাদ্য মূল্য সূচক এপ্রিল থেকে মে মাসে ০.৬ শতাংশ কমেছে। তবে, এক বছর আগের তুলনায় খাদ্যের দাম এখনও ৫৬.২ শতাংশ বেশি।

এর আগে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছিল, ভারতের রপ্তানি নিষিদ্ধের ঘোষণা, বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক দেশে ফসলের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এবং সেইসঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে শস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা হ্রাসই বিশ্ব বাজারে খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ।

মুদ্রাস্ফীতি এবং নিজস্ব খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে ভারত গত মাসে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নতুন গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। ভারতে স্মরণকালের সবচেয়ে উষ্ণতম মার্চের পর ফসল উৎপাদন ব্যাহতের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ি করেছিল দেশটি।

এদিকে ইন্দোনেশিয়া পাম তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বিশ্বের কোনো কোনো জায়গায় উদ্ভিজ্জ তেলের দাম ৩.৫ শতাংশ কমেছে বলে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে।

বীরের সঙ্গে, বীরবন্ধুর দেশ ভারতের মেঘালয়ে

 

বিপ্লব দে (পার্থ):

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পড়শি দেশ হিসেবে ভারত ও দেশটির সাধারণ মানুষের অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়ের মাটি ও মানুষ প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে। ভারতের গণমানুষের সহযোগিতার সেই ইতিহাস প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, একইসঙ্গে গৌরবেরও বটে। এমন একটা সময় লিখছি, যখন স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় পার করেছে বাংলাদেশ। ভারতও নিজেদের স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর পালন করছে, সঙ্গে রাজ্য হিসেবে মেঘালয়ও উদযাপন করছে ৫০ বছর।

দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ এই সময়ে পড়শি দেশ ভারত মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশ বছর পর সেই সময়ের সূর্যসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করে নিয়েছে সাদরে। বীরবন্ধুর দেশ মেঘালয়ে সেই সফরে আরেকবার স্মরণের আয়নায় উঠে এলো একাত্তরের সেই স্মৃতি। যেখান থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন, যেখানকার মানুষের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছিল জনমত, যেখানে মিলেছিল খাবার ও থাকার স্থান। ভারত সরকারের আমন্ত্রণে গত ৯ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত ভারতের সেই মেঘালয় রাজ্য ভ্রমণ করেছে ২৫ জনের একটি ডেলিগেশন টিম। সেখানে ছিলেন ১৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তিন জন সাংবাদিক, দুই জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও দুই জন তরুণ নেতা।

৯ মে বাংলাদেশের সিলেটের তামাবিল হয়ে ভারতের ডাউকি বর্ডারে পৌঁছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেই দলটি। সেখানে তাদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেয় ভারতের সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফ। এসময় উষ্ণ অভ্যর্থনা ও মনভরানো আপ্যায়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ ৫০ বছর পর ভারতের সেই স্মৃতিভরা মাটিতে পা রেখে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তারা তাদের বীরত্বগাথা স্মৃতিকথায় মেতে ওঠেন সবার সঙ্গে।

ডাউকি থেকে রাজকীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যাওয়া হয় মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে। শিলং যাওয়ার পথে চোখে পড়ে সবুজ প্রকৃতি। দিগন্তজুড়ে সবুজের ছোঁয়া। দৃষ্টিতে নয়নাভিরাম। দিগন্ত ছোঁয়া পাহাড়। আকাশে মেঘের অবিরাম লুকোচুরি। প্রতিনিয়ত আভা ছড়ায় সৌন্দর্য। আলোয় ভরা বিস্মৃত আঙিনা। সুন্দর পরিপাটি, শৃঙ্খলিত একটি রাজ্য। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, ভিন্ন ভাষাভাষি মানুষের সমষ্টি। যেখানে রয়েছে অরণ্য, জলপ্রপাতের ছড়াছড়ি। এই বৃষ্টিতো, এই রোদ। তবে সেই রোদের তীব্রতা নেই, আছে কোমলতা। আবহাওয়া এত মনোরম যে, প্রথম দেখায় প্রেমে পড়বেন যে কেউ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভৌগোলিক কারণে মেঘালয়ের বালাট ও ডাউকি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থান। এ দুটি কেন্দ্র দিয়ে এপ্রিলের শুরু থেকেই সিলেট, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে মেঘালয় রাজ্যে আশ্রয় নেন। মেঘালয়ের আমপাতি গ্রাম হয়ে উঠেছিল সেসময় ছোট্ট একটি বাংলাদেশ। বালাটে গড়ে উঠেছিল ‘ইয়ুথ রিসেপশন ক্যাম্প’। মেঘালয়ের তুরা ও ডাউকিতে গড়ে উঠেছিল বড় দুটি প্রশিক্ষণ শিবির। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও গেরিলা ট্রেনিং দেওয়া হতো। সেসময় মেঘালয় সরকার ও জনমানুষের সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

১৯৭১ সালের ১ এপ্রিল বাংলাদেশে পাকিস্তানি শাসকদের গণহত্যা ও বর্বরতার প্রতিবাদে শিলংয়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রী রাজধানীতে শোভাযাত্রা বের করেন। পুরো একাত্তর সালজুড়েই বাংলাদেশের সমর্থনে মিছিল-মিটিংয়ে মুখর ছিল মেঘালয়। বাংলাদেশের স্বীকৃতির দাবিতে শিলং, ডাউকি, বালাটে পালন করা হয়েছে বনধ, অবরোধ ও অনশন।

ছয়দিনের এই সফরে মুক্তিযোদ্ধারা নিজ নিজ স্মৃতিচারণে ফিরে গিয়েছিলেন সেই একাত্তরে। কীভাবে মেঘালয়ে এসেছিলেন, কীভাবে ট্রেনিং করেছেন, কীভাবে জনমত গড়ে তুলেছিলেন, একাত্তরে মেঘালয়ের রাস্তাঘাট কেমন ছিল, মেঘালয়ের মানুষ কীভাবে সহযোগিতা করেছিল, তা ফুটে ওঠে মুক্তিযোদ্ধাদের কণ্ঠে। ডেলিগেশনে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় সবার বয়স ছিল ৭০-এর বেশি। কিন্তু এই সফরে মনে হয়নি তাদের কারও এত বয়স হয়েছে। তাদের স্মৃতিচারণে মনে হচ্ছিল কিছু তরুণ ছুটে চলছেন, মেঘালয়ের এদিক-ওদিক। বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেই সময়ের স্মৃতিগুলো তরুণদের মাঝে তুলে ধরেছেন। শুধু তাই নয়, অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছিলেন যে, মনে হচ্ছিল আরেকবার যেন যুদ্ধে নেমে যাবেন তারা ডেলিগেশন টিমে তরুণ যারা গিয়েছিলেন, তারাও শুনেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা। নবীন-প্রবীণে মিলে একাকার হয়ে উঠেছিল মেঘালয়। ডেলিগেশন টিম যখন কোথাও যেত, তখন মনে হতো এক টুকরো বাংলাদেশ মেঘালয়ের মাঝ দিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। বিশেষ করে, মেঘালয় সরকারের আতিথেয়তা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১০ মে ডেলিগেশন টিমকে মেঘালয় সরকারের আর্টস অ্যান্ড কালচার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও যুগ্ম সচিব স্বাগত জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করেন। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার তুলে দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এরপর ভারতীয় বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে প্রতিনিধিদল। ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইস্টার্ন এয়ার কমান্ডের কমান্ডার এয়ার মার্শাল ডি কে পাটনায়েকের পক্ষে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান এয়ার মার্শাল এপি সিং। এরপর যৌথ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারতীয় কর্মকান্ডের ওপর ১০ মিনিটের একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। সেই ভিডিও দেখে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কিছুক্ষণের মধ্যে আশেপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরে সেখান থেকে ঐহিত্যবাহী খাসিয়া ফরেস্ট পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

সফরের তৃতীয় দিন (১১ মে) ভারতীয় সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল। এসময় প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান বিএসএফের মেঘালয় জোনের আইজি ইন্দ্রজিৎ সিং রানা। পরে আলোচনা সভায় মুক্তিকালীন স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবিব, মেজর জেনারেল (অব.) জি কে দাশ, ফারুক আহমেদ। সভায় মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিএসএফ সদস্য বিসি রায় বক্তব্য তুলে ধরেন। এরআগে সৌন্দর্যে ভরপুর মায়াবী ওয়ার্ড লেক ও অ্যামিয়াম লেক পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

চতুর্থদিন (১২ মে) সকালে প্রতিনিধি দল ডন বসকানো মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে গঠিত এ প্রতিনিধিদলের সম্মানে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও নৈশভোজের আয়োজন করেন মেঘালয় রাজ্যের রাজ্যপাল। অনুষ্ঠান শুরুর আগে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন রাজ্যপাল। পরে হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেঘালয় রাজ্যের সংস্কৃতিমন্ত্রী, চিফ সেক্রেটারিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সেখানে রাজ্যপাল শ্রী সত্য পাল মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘রিয়েল হিরো’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা যদি মেঘালয় ভ্রমণে আসেন, তাহলে রাজ্যপাল তাদের সর্বোচ্চ সম্মান দেবেন ও রাজ্যপালের অতিথি হিসেবে গ্রহণ করবেন। আলোচনাকালে তিনি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পঞ্চমদিন (১৩ মে) প্রতিনিধিদলকে নিয়ে যাওয়া হয় চেরাপুঞ্জি। পথে রামকৃষ্ণ মিশনের আয়োজনে চা চক্রে মিলিত হয় প্রতিনিধিদল। চেরাপুঞ্জি বা সোহরা হচ্ছে শিলংয়ের মূল আকর্ষণ। সেভেন সিস্টারস ফলস, মাউসামি কেইভ, নুকায়কালী ফলস, মাউন্টেইন ভিউ সবই আছে এখানে। ভারতের স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশদের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় পাহাড়ি রিসোর্ট ছিল। এখানে সারা বছর বৃষ্টিপাত হয়। তাই ঘুরতে আসলে রেইন কোর্ট বা ছাতা রাখা জরুরি। সারাদিন চেরাপুঞ্জিতে কাটিয়ে সন্ধ্যার আগেই প্রতিনিধিদল আবার ফিরে আসেন শিলং শহরে।

শেষদিন (১৪ মে) সকালে দেশের উদ্দেশে রওনা দেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। প্রতিনিধিদলকে নিয়ে বহনকারী গাড়িগুলো পাহাড়ের ফাঁকে ফাঁকে সরু রাস্তা দিয়ে চলছিল ডাউকির পথে। দুপুরে ডাউকি পৌঁছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানায় বিএসএফ।

বিদায়বেলায় মনে হচ্ছিল কী যেন ফেলে আসছিলেন সবাই। কারণ ছয়দিনের সফরে মেঘালয় যেন আপন থেকে আপন হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে, মেঘালয় সরকারের যারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রতিদিন ছিলেন, তারা যেন হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের এক একজন সদস্য।

ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর সঙ্গে অনেক বছর আগ থেকেই বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক গভীর। খাবার, সংস্কৃতি, পোশাকসহ বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে রাজ্যগুলোর সঙ্গে। ভারতীয় দূতাবাসের এই আয়োজন রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। শুধু তাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

বাংলাদেশি অনেক শিক্ষার্থী ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে পড়াশোনা করেন এবং এসব রাজ্যের প্রচুর শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর যোগাযোগ ও সম্পর্ক যত বাড়বে, দুই দেশের মানুষ তত উপকৃত হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। শুধু উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোই নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা জানাতে অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও ডেলিগেশন টিম যাওয়া দরকার। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। এ সফরের মাধ্যমে যা কিছু বিনিময় হয়েছে, তা স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

ডেলিগেশন টিমে যারা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা- হারুন হাবিব, মেজর জেনারেল (অব.) জি কে দাশ, ফারুক আহমেদ, গোলাম মওলা, সুজেত আলী, তারেকুজ্জামান, মো. আক্তারুজ্জামান, সেলিম রেজা, আবদুর সাত্তার, মো. সাইফুজ্জামান, আবদুল কাদের, আবদুর সামাদ, মোশাররফ হোসেন, আমিনুল হক, প্রসন্ন সরকার, একেএম ফজলুল হক, শংকর কর্মকার, নুরুল আনোয়ার ভূইয়া, আকরাম আলী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, সাংবাদিক বিপ্লব দে (পার্থ), আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য আরশেদুল আলম বাচ্চু, আন্তর্জাতিক উপ কমিটির সদস্য সুমন কুন্ডু, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আল মামুন, সাংবাদিক অনয় মুখার্জী, উত্তম দাশ কাব্য।

ব্যবসায়িদের ফোন দিয়ে পণ্য মজুদ ও দাম বাড়িয়ে দেশে সঙ্কট সৃষ্টি করতে নির্দেশনা দিচ্ছে তারেক

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি যে দলগুলোর সাথে বৈঠক করছে এসব দলের কোন অস্তিত্ব নেই। ব্যবসায়িদের ফোন দিয়ে পণ্য মজুদ করে ও দাম বাড়িয়ে দেশে সঙ্কট সৃষ্টি করতে তারেক রহমান নির্দেশনা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে, সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশে পণ্যের মূল্য নিয়ে কথা বলছেন। অপরদিকে সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যবসায়িদের ফোন করে পণ্য মজুত করো, দাম বাড়াও, দেশে পণ্যের সঙ্কট সৃষ্টি করার নির্দেশনা দিচ্ছেন।

অস্থিত্ববিহীন দলের সাথে বৈঠক করে বিএনপির রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বটাই প্রকাশ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি দিলোয়ারা ইউসুফ। বক্তৃতা করেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম এবং অন্যরা।

পদ্মা সেতু দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল চাঁদপুরের ৩ বন্ধুসহ ৬ জনের

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

পদ্মা সেতু দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের ৩ জনসহ মোট ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চাঁদপুরের ৩ যুবক ও বিক্রমপুরের ৩ জন।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে একটার সময় মুন্সিগঞ্জের নিমতলি হাসারা হাইওয়েতে কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজির সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, চাঁদপুরের ৩ যুবকের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইচলী এলাকার কলমতর গাজী বাড়ির এনায়েত উল্যাহ গাজীর একমাত্র ছেলে সামাদ গাজী (২৪), শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড দমকের গাঁও কাজী বাড়ির জাহাঙ্গীর কাজীর ছেলে জিহাদ কাজী (২০) ও একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড কেতুয়া পাটওয়ারী বাড়ির আবুল কালাম পাটওয়ারীর ছেলে আহাদ পাটওয়ারী (২০)।

অন্য তিনজনের মধ্যে তাদের বন্ধু বিক্রমপুরের একজন, সিএনজি চালক একজন ও ঐ এলাকার যাত্রী একজন। চাঁদপুরের ৩জন ঢাকায় নিউ মার্কেট এলাকায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ছিলেন এবং একে অপরের আত্মীয়। হাইওয়ে টহল পুলিশ তাদের উদ্ধার করেন। এদিকে আহাদ পাটওয়ারী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে জ্ঞান ফিরলে অন্য বন্ধুদের মৃত্যুর কথা জানতে পেরে সাথে সাথেই স্ট্রোক করে তারও মৃত্যু হয়।

সামাদের বড় ভাই জানান, তারা চার বন্ধু মিলে শুক্রবার পদ্মা সেতু দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রওনার দেয়ার কথা থাকলেও রাত ১০-১১টার দিকে রওনা দেন একটি সিএনজি নিয়ে। তাদের সিএনজিতে একজন যাত্রীও উঠেন। সিএনজি চলা অবস্থায় সামনে একটি লড়ি ইউটার্ন করার সময় সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছন দিক থেকে আঘাত করে। এসময় সিএনজিতে থাকা পাঁচ যাত্রী ও চালকসহ সকলেই ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে নেয়ার পর নিহত হন। চাঁদপুরের তিনজনের সাথে বিক্রমপুরের দুইজনের মধ্যে একজন তাদের বন্ধু ও অন্যজন তাদের রিসিভ করার কথা ছিল। এবং ইলিশা হোটেলে ডিনার করে ওখানেই রাত্রীযাপন করবে বলে জানা যায়।

নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পুলিশের কাছে আবেদন করে নিয়ে আসা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কুরুলিয়া খালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ গৃহবধূ সীমা আক্তারের (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুন) বিকালে পৌর এলাকার নয়নপুর এলাকার ওই খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

নিহত সীমা আক্তার ওই গ্রামের রাজন মিয়ার স্ত্রী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ বলেন, শুক্রবার বিকালে সীমা আক্তার গোসল করতে খালে নামেন। পরে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে ডুবুরি দল অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে আম পাড়তে গিয়ে ভবনের ছাদে বিদ্যুতের তারের স্পর্শে নাজমুল হাসান (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা ও রিয়াম (১০) নামে আরেক শিশুসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।

এদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা হাসপাতাল থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে রিয়াম নামের শিশুটিও মারা যায় বলে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের কাঁন্দী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত শিশুরা হলো- কাঁন্দী গ্রামের হতদরিদ্র মাসুদ আলমের ছেলে নাজমুল হাসান ও একই গ্রামের রিপন মিয়ার মেয়ে রিয়াম (১০)।

নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ডালিম কুমার বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নাজমুল হাসান নামে একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছি।অপর তিনজন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, রিয়াম নামে ১০ বছরের আরেক শিশুকে ঢাকা নেওয়ার পথে মারা গেছে বলে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন।

বুড়িচংয়ের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদকসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ ও মাদকসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আলম বলেন, বিনা অনুমতিতে ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করেছে- এমন খবর পেয়ে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হওয়ার পর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আমি চোর হলে রিফাত বড় চোর, গায়ের জোর বেশি থাকলে স্টেডিয়ামে আসুন – সাক্কু

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কথার লড়াইয়ে জমে উঠেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে কখনো চোর, কখনো রাজাকারের সন্তান, কখনো সাক্কু টাকার পাহাড় গড়েছেন, সাক্কু দুর্ণীতিবাজ প্রমাণ করতে না পারলে নির্বাচন থেকে সরে আসবেন – এমন অভিযোগ করে আসছেন  নৌকার মাঝি আরফানুল হক রিফাত।

এ অভিযোগের পর এবার উত্তর দিতে শুরু করেছেন মনিরুল হক সাক্কু । তিনি বলেছেন- যখন আমি তাদের জন্য করছি, তখন আমি চোর ছিলাম না। এখন রিফাত ভাই নির্বাচনে দাড়াইছে, তাই আমি এখন চোর হয়ে গেছি।  আমি চোর হলে রিফাত বড় চোর। রিফাত হো আর ইউ? উনি কি জজ? সরকার না প্রধানমন্ত্রী। গায়ের জোর বেশি থাকলে স্টেডিয়ামে আসুক। আসেন কোথায় মারপিঠ করবেন, ঘোষণা দিয়ে আসেন। আজ যদি রিফাত ভাই  নৌকার মাঝি  না হয়ে সীমা মনোনয়ন পাইতো তাহলে রিফাত ভাই  তো আমার পিছে থাকতো আর কইতো  সীমাকে ফেল করাও।

নগরীতে বিভিন্ন সড়কে প্রচারণা করতে গিয়ে  স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু এ সব কথা বলেন।

 

রোকনের নেতৃত্বে নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডে নৌকার পক্ষে গণসংযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও মিছিল করেন মহানগর যুবলীগের সদস্য রোকন উদ্দীন রোকন।

শুক্রবার ( ৩ জুন) বিকালে নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডের কাশারিপট্টি, পুরাতন মৌলভীপাড়া, কাঁটাবিল, তেলিকোণা, বালুতুপা, চকবাজার, বজ্রপুর,  প্রফেসর পাড়া ও  মুরাদপুর এলাকায় গণসংযোগ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।