All posts by jitu

দাউদকান্দিতে জামিনে এসে বাদির বসত ঘরে আগুন !

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মারধর মামলায় আসামিরা জামিনে এসে বাদির বসতঘরে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার রাতে উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি গ্রামে যায়েদ আলীর ঘরে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুনে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত যায়েদ আলীর স্ত্রী পাখি বেগম জানান। বর্তমানে আসামিদের ভয়ে মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

মামলার বাদী পাখি বেগম জানান, প্রতিবেশি দ্বিনু মিয়ার ছেলে বাবুল, সাহাবুদ্দিন, তাবারুকুল্লাদের সাথে কয়েকদিন আগে কথাকাটাকাটির জেরে আমার স্বামীকে বেদম মারধর করে আহত করেন। আমার স্বামী বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুরে ভর্তি আছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। সোমবার আসামীরা জামিনে এসে ক্ষুদ্ধ হয়ে সন্ধ্যায় বাড়িঘর হামলা, অগ্নিসংযোগসহ মেরে ফেলার বিভিন্ন হুমকি দিয়ে যায় । রাত আড়াইটার সময় ঘুমের মধ্যে শরীরে তাপ লাগলে হঠাৎ ঊঠে দেখি আগুন। সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে বের হয়ে দেখি সাহাবুদ্দিনসহ কয়েকজন দাড়িয়ে আছে। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন আসতে দেখে তারা পালিয়ে যায়। আগুনে বসতঘর ও মালামালসহ প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জেম মোবারক মাষ্টার জানান, আমি ৬ রোজার সেহেরি খাওয়ার জন্য উঠতেই চিৎকার শুনি। দৌড়ে এসে পাখি বেগমের ঘরে আগুন দেখে মাইক দিয়ে গ্রামবাসীর সহযোগিতার আহবান জানাই।

সাবেক মেম্বার ইউসুফ মিয়া বলেন, সাহাবুদ্দিন ও তাবারুকল্লাহদের ভয়ে এলাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে তাদের নামে। জেলও খেটেছে। আমরা তাদের অত্যাচার থেকে বাচতে চাই।

হুমকি এবং আগুন দেয়ার অভিযোগ অস্বিকার করে সাহাবুদ্দিন বলেন, অগুনের বিষয় পুরোটাই চক্রান্ত। মারামারির ঘটনায় চলতি মাসের ৮ তারিখ আমিও মামলা করেছি। তাদের মামলায় আমরা জামিন পাওয়ায় আগুনের নাটক সাজিয়েছে। এলাকার লোকজন জানে আমরা কেমন মানুষ।

দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক মোঃ নাজমুল হোসেন বলেন, পাখি বেগম ফোনে আগুনের ঘটনা জানিয়েছে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। আর পূর্বের মারামারির ঘটনায় দুইপক্ষই মামলা করেছে।

কুমিল্লার সুয়াগাজিতে বিদেশী পিস্তল, এলজিসহ ২ সন্ত্রাসী আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি এলজি (পাইপগান), একটি এলজি (শটগান), ০৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ০২ রাউন্ড শটগানের গুলিসহ অস্ত্রধারী দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল ১০ মে রাতে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃত অস্ত্রধারী দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী হলেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়ীয়া (দাতামা) গ্রামের মৃত. ফারুক আহাম্মেদ এর ছেলে মোঃ কামরুল হাসান@রনি(৩১) এবং একই গ্রামের মোঃ হোসাইন এর ছেলে মোঃ সালমান @পিচ্চি সালমান(২৫)।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত অস্ত্রধারী দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ তারা বিভিন্ন সময়ে এই অস্ত্র ভাড়া হিসেবেও প্রদান করে থাকে। বর্তমানে আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সহিংসতা সৃষ্টির লক্ষ্যে উপরোক্ত আগ্নেয়াস্ত্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ করেছে বলে স্বীকার করে। উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

৩ বছর পর বিদেশি দায়-দেনায় অস্বস্তিকর অবস্থানে যেতে পারে বাংলাদেশ

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, আগামী তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পরে বৈদেশিক দায়-দেনায় অস্বস্তিকর অবস্থানে চলে যেতে পারে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ সবুজ (স্বস্তিকর) অবস্থানে আছে। এটি ধীরে ধীরে হলুদ অবস্থানে (অস্বস্তিকর) যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক, জাপানসহ প্রথাগতভাবে যারা কম সুদে ঋণ দিতো, তারাও এখন তুলনামূলক বেশি সুদ নিচ্ছে। সুতরাং স্বস্তির জায়গাটা কমে আসছে।

তিনি বলেন, এখন আমরা বিদেশি দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে বেশি মূল্যে বেশি ঋণ করছি। যেমন; চীন, রাশিয়া ও ভারত। এসব দেশের ঋণের রেয়াতি সময় (গ্রেস পিরিয়ড) শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া দেশি ও বিদেশি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দেবপ্রিয় মনে করেন, বহুপক্ষীয় উৎসের বদলে দ্বিপক্ষীয় উৎস থেকে বেশ ঋণ নিচ্ছি অথচ পাইপলাইনে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মতো সাশ্রয়ী ঋণ ব্যবহার করতে পারছি না।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভার্চ্যুয়াল আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বাংলাদেশের সরকারি দায়-দেনা শীর্ষক এই আলাপচারিতায় তিনি বাংলাদেশ সরকারের সামগ্রিক ঋণ নিয়ে তার মত প্রকাশ করেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, বিদেশি দায়-দেনার দেশি উৎসের দায়-দেনাও কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার মতে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি সুদে ঋণ নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। গত তিন বছরে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি-দুই উৎস থেকেই ঋণ নেয়া বেড়েছে। আবার গত দুটি জাতীয় নির্বাচনের আগের বছর, নির্বাচনের বছর ও পরের বছর ঋণ নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। দেশের দায়-দেনা পরিস্থিতি ব্যাখ্যায় নির্বাচনী চক্র সূচক হিসেবে উঠে আসছে।

বাংলাদেশে কি শ্রীলঙ্কার মতো সংকট হতে পারে-এমন প্রশ্নের উত্তরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমি তা দেখি না। কোনো দেশের সঙ্গে অন্য দেশের তুলনীয় নয়। মূল বিষয় হলো- শ্রীলঙ্কা থেকে কী শিখলাম। এক সময় আমাদের দেশেও বন্ড ছাড়ার ধুয়া উঠেছিল। সরকার এই বিষয়ে রক্ষণশীল ছিল। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় হাম্বানটোটা বন্দর নিয়ে ওই দেশের বিশেষজ্ঞরা এর বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। তবু দেশটির সরকার তা করেছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একটি হিসাব করে দেখিয়েছেন, সরকার যে ঋণের হিসাব দেয় সেখানে সবকিছু অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। তার হিসাবে- ২০২০-২১ অর্থবছরের সার্বিকভাবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে সরকারি দায়-দেনা ৪৪.১০ শতাংশ। এ মুহূর্তে মাথাপিছু ঋণ হিসাব করলে তা ৪৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকারি ঋণ পরিশোধসহ সার্বিক দায়-দেনায় পূর্ণাঙ্গ হিসাব করতে হলে বিদেশি ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণ, ব্যক্তি খাতের ঋণ, সরকারের সংযুক্ত দায়-দেনাও বিবেচনায় আনা উচিত। এসব হিসাবে আনা হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মূল্যায়ন থেকে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ভার্চ্যুয়ালি আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে দায়-দেনা দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় কম এতে সন্দেহ নেই। আইএমএফ-এর সূত্রানুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়-দেনা জিডিপির ৩৪.০৭ শতাংশ। আর ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের দায়-দেনা ১৩১.১৪ বিলিয়ন। গত তিন বছরে গড় হিসাবে দায়-দেনা প্রায় সাড়ে ১৬ বিলিয়ন করে বেড়ে গেছে। সার্বিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, ২০০২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দায়-দেনা বৃদ্ধির হার ছিল ৪৪.১ শতাংশ। কিন্তু ২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এটা বেড়ে প্রায় ৬৭ শতাংশ হয়েছে। আমাদের দায়-দেনা পরিস্থিতি চলমান দশকে দেড়গুণ বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিবছর ১০ বিলিয়ন ডলার করে দায়-দেনা বাড়াচ্ছি। ০.৭ বিলিয়ন ডলার করে প্রতিবছর দেনা পরিশোধ করতে ব্যয় করতে হচ্ছে। দায়-দেনা বৃদ্ধির হার অনেক বেশি হারে বাড়ছে।
এরমধ্যে অভ্যন্তরীণ দেনা বৃদ্ধির হার খুবই বেশি। অভ্যন্তরীণ দায়-দেনা ৬৯ বিলিয়ন ডলার। গত এক দশকে ওই দেনা বৃদ্ধির হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। ২০১৩ সালের পরে এই বৃদ্ধি হার ১৫ থেকে ১৯ শতাংশ হারে বাড়ছে। অন্যদিকে বৈদেশিক দায়-দেনার পরিমাণ ৬০.১৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৈদেশিক দায়-দেনা ১৬.৬ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশ এবং ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৪.৭ থেকে ১৬.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, ঋণের সুদ পরিশোধের হিসাব করলে দেখা যায়, ২০০৬ সালে বৈদেশিক সুদ পরিশোধ করা লাগতো ৩৮.৯১ শতাংশ ও অভ্যন্তরীণ ৬১.০৯ শতাংশ। যেটা ২০১৩ সালের পর ঋণ বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের হার বেড়েছে। ২০২১ সালে এসে বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হয়েছে ৬৭.৬৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৩২.৩৫ শতাংশ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ উল্টোচিত্র। এর কারণ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ হচ্ছে ক্রমান্বয়ে উচ্চ সুদের হারে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, সরকারি দায়-দেনা পরিস্থিতিতে পাঁচ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যেমন বিনিময় হারের ঝুঁকি বাড়ছে, অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদের হার বাড়ছে, বিদেশি ঋণের সুদের হার বাড়ছে, উচ্চমূল্যে প্রকল্প নেয়া হচ্ছে ও প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুবিধা হ্রাস পাওয়া।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোকপাত করেন। মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ ব্যাপক চাপে আছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদ হার বৃদ্ধির সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে নীতি সুদ হার বৃদ্ধির বিপক্ষে যুক্তি হলো এতে বিনিয়োগ কমে যায়। মানুষের হাতে ব্যয়যোগ্য টাকার পরিমাণ কমে যায়।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সুদ হার বেঁধে দেয়ার কারণে দেশে গত তিন বছরে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে, তা নয়। এখনো জিডিপির ২৩ শতাংশের আশপাশেই রয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি করতে হবে এবং এই মুহূর্তে মানুষকে মূল্যস্ফীতির হাত থেকে রেহাই দিতে নীতি সুদ হার বৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরের বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়ে যায়। গ্লোবাল ইন্ট্রিগ্রিটির তথ্য সেটাই বলছে। গণতান্ত্রিক অস্তিতিশীলতা ও আস্থার সংকট দেখা দিলে এ ধরনের প্রবণতা বেড়ে যায়।

অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের সরকারি ঋণের পাশাপাশি বেসরকারি ঋণও গত ১০ বছরে অনেকটা বেড়েছে। বেসরকারি খাতে যারা নমনীয় লাইবর হারে ঋণ নিয়েছেন, তাদের সুদহার বাড়ছে। এই বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বলেন, এই ঋণ খেলাপি হলে দেশের ঋণ-মানে প্রভাব পড়বে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদকর্মীদের পাশাপাশি গবেষকেরাও যুক্ত ছিলেন।

শ্রীলঙ্কায় মন্ত্রী-এমপিদের বাড়ি জ্বলছে, সহিংসতায় নিহত ৫

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজনৈতিক সহিংসতায় শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও প্রায় ২০০ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত সোমবার যে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেটিকে বুধবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দেশটির পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে খালিজ টাইমস। সর্বশেষ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বীরাকেটিয়াতে দুই আন্দোলনকারী নিহত হন। সেখানে এক সরকার দলীয় রাজনীতিবিদ সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের টার্গেট করে গুলি ছুঁড়ে। এতে দুই জন নিহত হন এবং ৫ জন আহত হন।

এর আগে পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ রাজাপাকসে। তিনি টুইটারে একটি পোস্ট করে জানান যে, প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে তাতেও জনগণের ক্ষোভ কমছে না। তারা শাসক দলের এমপিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিতে শুরু করেছে ।

পার্টি অফিসগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিবিসি জানিয়েছে, ক্ষুব্ধ জনতা পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশা এবং সরকার দলীয় কয়েকজন এমপির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মাহিন্দ রাজাপাকসের সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রিজের প্রধান গেট ভাঙার চেষ্টা করে। তখন রাজাপাকসেকে বাঁচাতে ভারী অস্ত্রসজ্জিত সেনা মোতায়েন করা হয়। ওই সেনারাই বাড়ির ভেতরের সবাইকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা বাড়িতে আগুনও লাগিয়ে দেন। সেসময় বাড়িটির কমপাউন্ডে কমপক্ষে ১০টি পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তবে এখন মাহিন্দ রাজাপাকসে ও তার পরিবার নিরাপদে আছেন। তবে তারা কোথায় আছেন তা জানানো হয়নি।

বিক্ষোভকারীরা এখন দেশের প্রেসিডেন্ট গোটাবাইয়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর প্রতিবাদে সোমবার গভীর রাতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা সরকার সমর্থক এবং সরকার দলীয় এমপিদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজাপাকসে ভাইদের পৈত্রিক বাড়ি, বিভিন্ন মন্ত্রী এবং এমপিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। যেসব মন্ত্রীদের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন মন্ত্রী সানাৎ নিশান্তাও। হাম্বানটোটায় রাজাপাকসে পরিবারের নিজস্ব একটি বাড়ি ছিল যাকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেটিও পুড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বাড়িগুলো ঘিরে আগুনের লেলিহান শিখা ঘিরে মানুষজন উল্লাস করছে। প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের চারপাশের এলাকাতেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা কিংবা নেতারা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া এবং আসার সড়কগুলোতে লাঠি এবং রড নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছে আন্দোলনকারীরা। বিবিসি জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে ওই রাস্তাগুলোতে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যেমন উপস্থিতি দেখা যায়, এখন তাও দেখা যাচ্ছে না।

এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে সোমবার দেয়া কারফিউয়ের সময় বাড়ানো হয়েছে। জননিরাপত্তা অর্ডিন্যান্সের ১৬ ধারা মেনে যে কারফিউ দেয়া হয়েছিল তা মঙ্গলবার সকাল ৭টায় তুলে নেয়ার কথা ছিল। পরে তা বাড়িয়ে বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

কারফিউ চলাকালে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বের হওয়া যাবে। শ্রীলংকার পর্যটন বিভাগ বলেছে, বেড়াতে আসা বিদেশিদের ট্রাভেল ডকুমেন্টকে তাদের কারফিউ পাস হিসেবে গণ্য করা হবে। চলাচলের সময় তাদেরকে পাসপোর্ট বা উড়োজাহাজের টিকিট দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিদেশিদেরকে তাদের হোটেলের আশপাশে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ফেসবুকে অস্ত্র নিয়ে সেলফির ভিডিও ভাইরাল, পরে দাউদকান্দি পুলিশের অভিযানে আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সাইমন নামের ১৭ বছরের এক তরুণ আটককে করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার(০৯ মে ) রাত ১১ টায় পৌরসভার দোনারচর কামাল মিয়ার বাড়ী সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

অস্ত্রধারীকে আটক করার সময় পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা, মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জ মোঃ নজরুল ইসলাম ও একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

আগে এই যুবক নিজ বাসায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ নিজের ভিডিও ও সেলফি ধারন করে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইলে। এই ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

কুমিল্লার চান্দিনায় ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল কিশোরের

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় খালাত ভাই আল-আমিনের (১৬) মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়ে ঘাতক ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারিয়েছে সাব্বির হোসেন (১৩) নামে এক কিশোর।

সোমবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার গেইট এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় আল-আমিন আহত হয়।

নিহত সাব্বির শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার নাওডোবা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। সে ঢাকার একটি মাদ্রাসা থেকে সদ্য কোরআনে হাফেজ সম্পন্ন করেছে। আহত আল-আমিন কুমিল্লা কোতয়ালী থানাধীন কাবিলা-কৃষ্ণপুর গ্রামের আবু তালেবের ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

আহত আল-আমিন জানান, ঈদের পর সাব্বির আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে । সোমবার রাতে আমরা দুইজন মোটরসাইকেলে মাধাইয়া আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার সময় চান্দিনা উপজেলা গেট এলাকায় পিছন থেকে একটি প্রাইভেটকার ধাক্কা দেয়। আমরা দুইজন দুইদিকে ছিটকে পড়ি। এ সময় পিছন থেকে একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই সাব্বির মারা যায়।

হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইন-চার্জ (ইন্সপেক্টর) মাসুদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক গাড়িটি আটক করা সম্ভব হয়নি।

জাতীয় সংসদের ৩শ’ আসনে ইভিএমে ভোট নেওয়ার সক্ষমতা নেই

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

জাতীয় সংসদের তিনশ’ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়ার সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

মঙ্গলবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমকে সামনে রেখে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি একথা বলেন।

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ আসনে ইভিএমে ভোট নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইভিএমের বিষয়ে রাজনৈতিক দলের মতামত বিবেচনা করবে কমিশন।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের দেওয়া বক্তব্যে কোনো চাপে পড়ছে না কমিশন।

তিনি বলেন, কাউকে ভোটের মাঠে আনা কমিশনের কাজ নয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কমিশনের মূল দায়িত্ব।

মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে অজু খানায় মারা গেলেন মুসল্লি

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে অজু খানায় এক মুসল্লি মারা গেছে।

সোমবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের কলা বাগান রজ্জবপুর জামে মসজিদে এশার নামাজের পর আসস্মিক ওজু খানায় মাথা ঘুরে পড়ে মারা যান তিনি।

মৃত আমিন উল্লাহ (৬৮) উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চরফকিরা গ্রামের আনিছ কোম্পানী বাড়ির মৃত খুরশিদ আলমের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই গ্রামের আব্দুল আজিজ কারী সমাজের সভাপতি আনিছ কোম্পানী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় আমিন উল্লাহ মসজিদে জামাতের সহিত এশার নামাজ আদায় করে। জামাত শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মসজিদরে ওজু খানায় তিনি মাথা ঘুরে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

চৌদ্দগ্রামে বাস চাপায় ২ পথচারী যুবকের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসচাপায় দুই পথচারী নিহত ও অপর আরেক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছে।

নিহতরা হলেন উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের আটগ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে রিন্টু (৩০) ও বাতিসা গ্রামের মনা মিয়ার ছেলে রিপন (৩২)।

সোমবার ( ৯ মে) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আটগ্রাম রাস্তার মাথায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোরে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের আটগ্রাম রাস্তার মাথায় একটি মোটরসাইকেল আরোহীদের রক্ষা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারী রিন্টু, রিপন ও চৌধুরী মিয়াকে চাপা দিয়ে খাদে পড়ে যায়। পরে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুমিল্লা মেডিকেলে নেওয়ার পথে রিপনের মৃত্যু হয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিন্টুর মৃত্যু হয়। আহত চৌধুরী মিয়া কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা উপপরিদর্শক মো. কাউছার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বাসটি একটি মোটরসাইকেলের আরোহীদের রক্ষা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারীদের চাপা দেয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রিপন ও রিন্টু নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বাসটি জব্দ করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।