All posts by jitu

চান্দিনায় প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকসার সংঘর্ষ, নিহত ২

 

চান্দিনা  প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চান্দিনায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিক্সাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে মানসিক ভারসাম্যহীন এক পথচারীসহ সিএনজি অটোরিক্সার চালক নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ মে) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া বাস স্টেশন এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সিএনজি চালক সোহেল (৩৫) চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা ও মানসিক ভারসাম্যহীন পথচারী মুরাদনগর উপজেলার পাহারপুর গ্রামের নাজমা বেগম (৪৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের মাধাইয়া বাস স্টেশন এলাকায় নবাবপুর সংযোগ সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি অটোরিক্সাকে চাপা দেয়। এসময় সিএনজি অটোরিক্সায় থাকা সিএনজি চালক ও মহাসড়কের পাশে বসে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন নারী নিহত হয়। দুর্ঘটনায় অটোরিক্সা ও প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচরে যায়। এতে প্রাইভেটকার চালক জাকির হোসেন (৪০) আহত হয়। তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেকে পাঠানো হয়।

হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইন-চার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. মাসুদ আলম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে দুইজনের মরদেহ পেয়েছে। সকালে পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করেছি। ঢামেকে থাকা আহত রোগীর আর কোন তথ্য পাইনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঈদের আগের দিন রাতে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পূর্ব শক্রতার জের ধরে ছুরিকাঘাতে মহসীন সরকার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে আরিফ ও তার লোকজন।।

সোমবার ইফতারের আগ মুহূর্তে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মহসীন সরকার ওই গ্রামের সহিদ সরকারের ছেলে। তিনি মহসীন সরকার বিডি ফুড কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মহসীনের হত্যাকারী আরিফ খলাপাড়া কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা আওয়াল মিয়ার ছেলে।

মহসীন সঙ্গে থাকা তার বন্ধু সফিক সরকার বলেন, ইফতারে আগে মহসীন সরকার তাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে আখাউড়া পৌরশহর থেকে গ্রামে ফিরছিলেন। এসময় মহসীন মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে খলাপাড়া কবরস্থান এলাকায় পৌঁছালে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরিফ চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা মহসীন সরকারকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় আরিফের সঙ্গে থাকা কয়েকজন অস্ত্রধারী যুবকসহ আরিফ পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে আখাউড়া থানার এসআই মো. জাকির হোসেন হাসপাতালে যান। তিনি জানান, পূর্ব শক্রতার জেরে পরিকল্পিতভাবে মহসীনকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এইটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ঈদ, সবাইকে ঈদ মোবারক

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ

কিছুদিন আগে সুখবর দিয়েছেন ক্রিকেটার নাসির। ছেলের বাবা হয়েছেন নাসির-তামিমা দম্পতি। তাদের ঘরে এখন চাঁদের হাট।

সন্তানকে নিয়ে তার প্রথম ঈদটা দেশের বাইরে করছেন নাসির। সম্প্রতি পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন তিনি। সেখানেই ছেলের সঙ্গে প্রথম ঈদটা কাটাচ্ছেন এ অলরাউন্ডার।

ছেলেকে নিয়ে বিদেশে ঈদের দিনটা ভালোই কাটছে  তার। ছেলের সঙ্গে ঈদের দিনে ফেমবন্দি হয়েছেন তিনি।

সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘এটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ঈদ। সবাইকে ঈদ মোবারক।’

গত ৮ এপ্রিল নাসির হোসেন ও তামিমা দম্পতির কোলজুড়ে এসেছে তাদের প্রথম সন্তান।

সুবর্ণচরে অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে চরজব্বার থানা পুলিশ।

সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সোনাপুর-চেয়ারম্যানঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের চর ওয়াপদা ইউনিয়নের আল-আমিন বাজার হাদার দোকান সংলগ্ন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানা-পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ।

চরজব্বার থানা-পুলিশ জানায়, প্রাথমিক সুরতহাল রির্পোটে অনুমান করা হচ্ছে লোকটি ভিক্ষা করতেন, পকেটে এলোমেলো কিছু টাকা পাওয়া গেছে যেগুলো দুই টাকা পাঁচ টাকা ও দশ টাকার নোট রয়েছে। রবিবার রাতের কোনো এক সময় রাস্তা পারাপারের সময় ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। সকালে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ উদ্ধারের পর মরদেহ নোয়াখালী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।

‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

পবিত্র রমজান শেষ । আজ পবিত্র ঈদ। গোটা বিশ্বের ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য এ এক মহা আনন্দের দিন। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। রমজান মাস ত্যাগের মাস। ত্যাগ করা ও দিতে শেখার মাস। আত্মত্যাগের মাস।

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং উৎসাহ, আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে মুসলমানরা এদিন তাঁদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করবেন। এরই মধ্যে রেডিও-টিভিতে-পাড়া-মহল্লায় বেজে উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই অতিচেনা গানের প্রিয় সুর, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ…।’

রাজধানীসহ সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ঈদ জামাতের প্রস্তুতিও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর হাইকোর্ট–সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হয়নি। এবার এখানে আগামীকাল সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকেরা জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাসস জানায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই যাতে ঈদের আনন্দ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে, সেই জন্য মানবতার মুক্তির দিশারি হিসেবে ইসলামের মর্মার্থ ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ুক, বিশ্ব ভরে উঠুক শান্তি আর সৌহার্দ্যে—পবিত্র ঈদুল ফিতরে এটাই তাঁর প্রত্যাশা।

ঈদ আমাদের জীবনের শূন্যতাকে পূর্ণ করুক। এবারের ঈদ উদ্‌যাপন বয়ে আনুক দেওয়া–নেওয়ার অঙ্গীকার। ঈদ পৃথিবীর মুসলমানদের হৃদয়ের মানবতার দ্বার খুলে দিক—এমন কামনাই করছি।

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ- গানটির ইতিহাস জেনে নিন

ডেস্ক রিপোর্ট:

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় ও আনন্দের উৎসব ঈদ-উল-ফিতর নিয়ে বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কালজয়ী গান। গানটি বাঙালি মুসলমানের ঈদ উৎসবের আবশ্যকীয় অংশ। কবির শিষ্য শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমদ-এর অনুরোধে ১৯৩১ সালে কবি নজরুল এই গান রচনা ও সুরারোপ করেন।

তার ভাষ্য, নজরুল আব্বাকে বললো পান নিয়ে আসো আর চা। আব্বা অনেকগুলো পান নিয়ে এলো। আর বললো চা আসছে। নজরুল একটা কাগজ নিয়ে এই গানটি লিখলেন। তারপর বললেন সুরটা এখনই করি না পরে করবো? আব্বাসউদ্দীন বললেন, কাজীদা আপনার মনের যে অনুভূতিটা, যেটা গানের মধ্যে প্রকাশ করেছেন এখন না করলে সেই মজাটা হবে না। এটা সেই ইতিহাস।

তখনকার সময়ে অমুসলিম শিল্পী সতীনাথ মুখার্জীসহ আরো অনেকের কণ্ঠে শোনা গেছে গানটি। এছাড়া আব্বাসউদ্দীনের ছেলে ও মেয়ে মুস্তাফা জামান আব্বাসী ও ফেরদৌসি রহমানও গানটি জনপ্রিয় করেছেন।

এই গানটিকে ধীরে ধীরে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার। মুস্তাফা জামান আব্বাসী মতে, গানটি জনপ্রিয় করেছে বাংলার মুসলমান।

তিনি বলছেন, ১৯৫৯ সালে মারা গেছেন আব্বাসউদ্দীন। তার পরে এতো বছর গানটি কারা গাইলো? আমরাইতো গাইলাম। আব্দুল আলিম, আব্দুল হালিম চৌধুরী, বেদার উদ্দিন আহমেদ, সোহরাব হোসেন, এদের নাম আমরা ভুলে যাবো কেন?

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গানটিতে ধর্মীও ভাবধারা আর ঈদের খুশি খুব চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই গানটি দিয়েই বাংলায় মুসলিমদের মধ্যে সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা শুরু, শোনা ও চর্চার শুরু। নজরুলই তার সূচনা করেছেন।

প্রথম রেকর্ডিং:

১৯৩১ সালে গানটি লেখার চারদিন পর শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের গলায় প্রথম রেকর্ড করা হয়। রেকর্ড করার দুই মাস পরে ঈদের ঠিক আগে আগে এই রেকর্ড প্রকাশ করা হয়। গ্রামোফোন কোম্পানি এর রেকর্ড প্রকাশ করে। রেকর্ডের অপর গান ছিল কবির ‘ইসলামের ঐ সওদা লয়ে এলো নবীন সওদাগর, বদনসীন আয়, আয় গুনাহগার নতুন করে সওদা কর।’ হিজ মাস্টার্স কোম্পানির রেক রেকর্ড নম্বর এন‌- ৪১১১। গানটির প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দ।

গানের কথা:

(এখানে ১৯৩১ সালে প্রকাশকালে যেই বানানরীতিতে গানটি লিখা হয়েছিল, সেই বানানরীতিতেই গানটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাই পুরাতন বানানরীতির কয়েকটি শব্দ আধুনিক বাংলা বানানরীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ,
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ,
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে,
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী,
সেই গরীব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ,
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।

ঢাল হৃদয়ের তশতরীতে শিরনি তৌহিদের, তোর দাওয়াত কবুল করবেন হজরত হয় মনে উম্মীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

তোরে মারল’ ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইট পাথর যারা,
সেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ,
আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আ’লীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের আস্থানগর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশংকাজনক।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান রতন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন-আস্থানগর গ্রামের মৃত হাসেম আলীর ছেলে কাশেম (৫০), দাউদ মণ্ডলের ছেলে লাল্টু মণ্ডল (৩০), আবুল মালিথার ছেলে রহিম মালিথা (৫০) ও আফজাল মণ্ডলের ছেলে মতিয়ার (৪০)।

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে ঝাউদিয়া ইউনিয়নের আস্থানগর গ্রামে আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি কেরামত উল্লাহ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক মেম্বার ফজলু গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ঝাউদিয়া ইউনিয়নের আস্থানগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কেরামত ও ফজলু মণ্ডল গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকভলে কেরামত ও ফজলু মণ্ডল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ফজলু মণ্ডলের সমর্থক লাল্টু, মতিয়ার ও কাশেমসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন কয়েকজন। নিহতদের মরদেহ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অসম আখতারুজ্জামান মাসুম বলেন, ঝাউদিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান সামাজিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষেও ঘটনা ঘটেছে। দলীয় সংঘর্ষ নয় বলে তিনি দাবি করেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান রতন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কেরামত ও ফজলু গ্রুপের মধ্যে কোন্দল চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বিকেলের দিকে সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। এলাকায় পুলিশের অভিযান চলছে। সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নগরীর রাজগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের আতশবাজি জব্দ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের পটকা, চকলেট বোমা ও আতশবাজি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি মজুদ ও বিক্রয়ের দায়ে এক দোকানদারকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে এগুলো নষ্ট করা হয়।

কুমিল্লা  জেলা প্রশাসক  মোহাম্মদ কামরুল হাসানের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষে এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ সরকার।

অভিযানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন ওসি কোতয়ালি মডেল থানা।

চান্দিনায় নাগালের বাইরে সয়াবিন তেল: বোতলজাত তেল ড্রামে ঢেলে খোলায় বিক্রি!

 

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের প্রভাবে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে সয়াবিন তেলের বাজর। বোতলজাত পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ৭৬০টাকার স্থলে ৯৬০ থেকে ১ হাজার টাকায় এবং খোলা তেল ২শ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীন তেলের মূল্য নিয়ে ডিলার ও দোকানিরা একে অপরকে দোষারূপ করছেন।

সরেজমিনে চান্দিনা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চান্দিনা বাজারে তীর, পুষ্টি, বসুন্ধরা ও ফ্রেশ কোম্পানির বোতলজাত ভোজ্য তেল সরবরাহকারি ডিলার নিয়োগ রয়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা থেকে কয়েকজন ডিলারের মাধ্যমে খোলা ভোজ্য তেলে চলছে পুরো চান্দিনা বাজার।

গত কয়েক মাস যাবৎ ভোজ্য তেলের দাম চড়া। সম্প্রতি ঈদকে সামনে রেখে লিটার প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেল নির্ধারিত মূল্যে থেকে ৪০-৪৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে বোতলজাত তেলের চেয়ে খোলা তেলের দাম বেশি হওয়ায় এবং খোলা তেলে মূল্য নির্ধারণ স্টিকার না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বোতলজাত তেল ড্রামে ঢেলে খোলা বিক্রি করছে! তেল নিয়ে ব্যবসায়ীদের এমন তেলেসমাতিতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ ক্রেতারা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনি আমরা। পাঁচ লিটার বোতল আমরা ৭৬০ টাকার স্থলে ৮৯০ টাকা করে কিনে আনছি এবং তা ৯৩০-৯৬০ টাকায় বিক্রি করি। এদিকে ডিলারদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যত্য মিলেনি অনুসন্ধানে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ডিলারগন ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি ৫ লিটার তেল বিক্রি করছেন ৭৫৫ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সেটাকে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন ৯৬০-১০০০ টাকায়। আর কৌশলে দোষ চাপাচ্ছেন ডিলারদের উপরে।

সোমবার চান্দিনা বাজারে আসা ক্রেতা বাবুল হোসেন জানান, আমি বেসরকারি চাকুরিজীবী। ঈদের কেনাকাটায় মুদি দোকানে তেল কিনতে এসে বিপাকে পড়ে গেছি। পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের গায়ের মূল্য ৭৬০ টাকা আর দোকানদার দাম নিচ্ছেন ৯৬০ টাকা! খোলা তেল কিনতে গিয়েও আরও বেশি বেকায়দায়। প্রতি লিটার খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা! এই অরাজকতা দেখার কি কেউ নেই! বাজার মনিটরিং করা অতীব জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

উপজেলার বানিয়াচং গ্রামের এক গৃহবধূ ঈদের বাজার করতে এসে বলেন, স্বামী দেশের বাহিরে থাকেন। বাধ্য হয়ে আমি নিজেই বাজার করতে হয়। মহিলা মানুষ দোকানে গিয়ে সব কিছুর দর কষাকষি করাও সম্ভব হয় না। মুদি দোকান থেকে ৩ হাজার ২৫০ টাকার খরচ করে দোকানের শ্লীপ হাতে নিয়ে দেখি ৫ লিটার তেলের দাম ৯৮০ টাকা রেখেছেন! কিন্তু বোতলের গায়ে লিখা ৭৬০ টাকা। গায়ের দামের চেয়ে এত বেশি দাম রাখা হয় তা আমার জানা ছিল না।

শওকত জামান নামে এক ডিলার ব্যবসায়ী জানান, আমরা গায়ের রেট এর বাহিরে কোন মালামাল সরবরাহ করিনা। প্রায় ১৫/১৬ দিন আগে ৫ লিটার সয়াবিন তেল খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেছি ৭৫০-৭৫৫ টাকা করে। মাল বিক্রির মেমোও আমাদের কাছে আছে। বেশি দামে বিক্রির ডকুমেন্ট যদি কোন ব্যবসায়ী দেখাতে পারে আমি জরিমানা দিব।

অতিরিক্ত দামে সয়াবিন তেল বিক্রির ব্যাপারে চান্দিনা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. বাহারুল ইসলাম বাহার জানান, অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির ঘটনায় ব্যবসায়ীরা জড়িত নয়, এর জন্য দায়ী ডিলার ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউল হক মীর জানান, বিষয়টি জেনেছি। বাজার মনিটরিং করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সৌদির সাথে মিল রেখে নোয়াখালীর ৪ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীতে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগেই সোমবার সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে ৪টি গ্রামের মুসল্লিরা।

সোমবার (২ মে) সকাল ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের বসন্ত বাগ গ্রামস্থ সিনিয়র মাদ্রাসা জামে মসজিদ, বসন্তবাগ পোদ্দার বাড়ি জামে মসজিদ, ও নোয়াখালী পৌরসভা লক্ষীনারায়নপুর গ্রামের দায়রা বাড়ি কাছারীঘর, লক্ষীনারায়নপুর গ্রামের দায়রা বাড়ি কাছারীঘর মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সুশৃঙ্খল ভাবে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়রা আরও জানান, বসন্ত বাগ গ্রামের ঈদের জামাতে ২০০-৩৫০ জন মুসল্লি, নোয়াখালী পৌরসভা হরিনারায়ণ পুর ব্যান্ডার মসজিদের পূর্ব পাশে দায়রা ঘরে ৬০জন মুসল্লি মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে নোয়াখালী ডিআইও-১ ডিএসবি মো.ফজলে রাব্বী বলেন, বেগমগঞ্জের দুটি ও নোয়াখালী সদর উপজেলার দুটি মসজিদের মুসল্লিরা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। বেগমগঞ্জ উপজেলার আরো ৪টি মসজিদে মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪টি মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।