All posts by jitu

“সে আমি তুমি” সংগঠন ফেলে চলে গেলেন কবি ফখরুল হুদা হেলাল

 

এস এন ইউসুফ :
কবি ফখরুল হুদা হেলাল বৃহত্তর কুমিল্লার কৃতিসন্তান। বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য“নগরকবি”। ফখরুল হুদা হেলাল একাধারে কবি সংগঠক এবং নাট্যকর্মীও ছিলেন। সকল কিছু সাঙ্গ করে গতকাল রমজান মাসের পবিত্র দিনে চলে গেলেন আর কোনদিন ফিরবেন না। আর কোন দিন কুমিল্লা শহরের অলিগলি চষে বেড়াবেন না। হেলাল ভাই চলে গেলেন(ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।

কবি ফখরুল হুদা হেলাল ভাইয়ের জন্ম ১৯৫৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর। চাঁদপুরের মতলব উপজেলার একলাছপুর গ্রামে মামাবাড়িতে, তবে তিনি মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। কুমিল্লা কালেক্টারিয়েট এর হেড ক্লার্ক। তিন ভাই ও দুই বোনের সুন্দর সংসার ছিলো তাদের।অগ্রজ ভাই মাইনুল হুদা দুলাল একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হারিয়ে যাওয়া সাপ্তাহিক “মাতৃভূমি” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। উনার আরেক অনুজপ্রতীম ভাই আমার শ্রদ্ধাভাজন প্রিয় মানুষ কুমিল্লার সংস্কৃতিক অঙ্গনের আরো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র “সচেতন নাগরিক কমিটি”(সনাক) এর প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ভরাট কন্ঠের বাচনশিল্পী বদরুল হুদা জেনু।

কবি ফখরুল হুদা হেলাল ভাই সম্পর্কে সময় জার্নালে প্রবীর বিকাশ সরকারের লেখাটি থেকে জানা যায়। কবি ফখরুল হুদা হেলালের উঠে আসা মূলত মঞ্চনাটক ও থিয়েটারের অভিনয় দিয়ে। ষাটের দশকের অসহযোগ আন্দোলনের সময় কুমিল্লা বীরচন্দ্রনগর মিলনায়তনের বঙ্গমঞ্চে “পাহাড়ীফুল” নামের নাটকে আমাদের দেশের প্রথমসারির অভিনয় শিল্পী আনোয়ারা ও নার্গিসের সঙ্গে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়ে ছিলেন। ওই সময় তিনি নিজেও শিশু-কিশোরদের জন্য “মনিমালা” নামের নাটক লিখে তখন ব্যাপক ভাবে আলোড়ন তুলেছিলেন বলে শুনেছি। কাব্যজগতে তার পদচারণ শুরু হয় ১৯৭২ সালে। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের মে মাসে তিনি অসামান্য একটি কাজ সম্পাদন করেন কুমিল্লায় যা ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কবি সম্মেলন তা অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লায়। অত্যান্ত অবাক করা বিষয় হলো তখন কবি‘র ডাকে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় ছুটে এসেছিলেন আধুনিক বাংলার গুণীজন বিশিষ্ট কবিগণ এসেছিলেন কবি বিখ্যাত কবি রাফিক আজাদ, আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন বিশিষ্ট কবি শহীদ কাদরী,কবি নির্মলেন্দু গুণ, এসেছিলেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কবি মহাদেব সাহা, আবু করিম ও শ্রদ্ধাভজন কবি আসাদ চৌধুরী। তখন পুরো কুমিল্লার সংষ্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়ে কবি ফখরুল হুদা হেলালের আয়োজনে এতো গুণী জনের মিলন মেলা। অবাক করে দেয় কুমিল্লার মানুষকে।
ওই সময় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “সে আমি তুমি” সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংগঠন। ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ফখরুল ইসলাম রচি। তৎকালীন এই সংগঠনটি কুমিল্লাসহ পুরো দেশে নুতন করে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।

কবি‘র সাথে আমার দীর্ঘ প্রায় ১যুগের সম্পর্ক। তখন কুমিল্লা শহরে ক্যামেরা হাতে সাংবাদিকতার বাসনা নিয়ে ছুটতাম, কতো হৃদ্ধতা, কতো স্নেহমমতায় কাছে নিতেন কবি। তিনি নিতান্তই যে একজন সংস্কৃতি মনা একজন খোলা মনের মানুষ ছিলেন তা কুমিল্লার মানুষের নিকট পরিষ্কার। এমন এই মানুষটির সাথে আমার প্রথম দেখা-আমি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র তখন। ৪শ টাকা সিট ভাড়া দিয়ে থাকতামশহরের রাজগঞ্জ বজ্রপুর ইউসুফ স্কুল হোস্টেলে।রিপোর্টার হিসেবে কাজ করতাম প্রয়াত বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আফজল খান সম্পাদিত ততকালীন সাপ্তাহিক বর্তমানে “দৈনিক ময়নামতি” এবং সাপ্তাহিক “কুমিল্লার জনতা” পত্রিকায়। পত্রিকায় কাজ করা সুবাদে হেলাল ভাইয়ের সাথে প্রায় দেখা হতো। আমার বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় হওয়াতে হেলাল ভাই দেখলই বলতেন “চৌদ্দগেরাইম্মা ইউসুফ”কি খবর.? কেমন আছো..? এভাবেই কবির আমাকে সম্বোধন করতেন।

প্রতি সাপ্তাহে পত্রিকা অফিসে গেলেই হেলাল ভাইকে দেখতাম দুই তিন পাতা কবিতা নিয়ে বসে আছেন। কম্পিউটারম্যানকে বলছেন এটা এভাবে হবে ওটা ওভাবে হবে এই সাপ্তাহ এই কবিতাটা যাবে। তখন থেকেই কবি হেলাল ভাইয়ের সাথে পরিচয়।

খাদি পাঞ্জাবী ও ফতুয়া গায়ে চলতেন প্রায়ই, ভরাট কন্ঠের কথা গুলো যেন বীরের ন্যায় উচ্চারিত হতো। বয়স আর অসুস্থ্যতা যখন জেঁকে বসেছে তখন থেকে তেমন আর চলতে পারতেন না। প্রচন্ড মেধাবী এবং নম্রতা ভদ্রতায় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এই মানুষটি। কুমিল্লা শহরে কবি ফখরুল হুদা হেলালকে চিনেন না এমন সংস্কৃতিমনা মানুষ পাওয়া কঠিন। নাট্যাভিনয়ের মতো কাব্যচর্চায়ও তিনি ছিলেন স্পষ্ট মানসিকতার মানুষ। কবিরা নিতান্তই যে স্পষ্টভাষী হয় তা আমি হেলাল ভাইকে দেখে বুঝেছি। তিনি যাকে যা বলতেন সামনেই বলতেন পিছনে বলতেন না। রেগে গেলে সুন্দর মানুষতো চেহারা লাল মরিচের মতো হয়ে যেতো। আমার সাথে সর্বশেষ দেখা হয় গত কয়েক মাস আগে আমার আব্বার চিকিৎসার সময় কুমিল্লা সিডিপ্যাথ হসপিটালে হৃদরোগের চিকিৎসক কুমিল্লার আরো একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ডাঃ তৃপ্তিশ চন্দ্র ঘোষ স্যারের চেম্বারে। শহরের যে কয়জন মানুষের সাথে কবি’র ঘনিষ্ঠতা ছিলো তাদের মধ্যে তৃপ্তিশ দা ছিলেন অন্যতম একজন ঘনিষ্ঠ ভালোবাসার মানুষ।

একাধিক সূত্রে বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে জানা যায়, কবি ফখরুল হুদা হেলাল তাঁর সাহিত্যিক জীবনের পাশাপাশি নাট্যমঞ্চের সংস্কৃতি চর্চাও চালিয়েছেন সমান তালে। তিনি প্রতিবাদী অনেক সংগঠনের সাথেও জড়িত ছিলেন। ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পারিবারে পাশে। আমার মনে আছে আজাদ সরকার লিটন ভাইয়ের “কোল্লাপাথর শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ” এর প্রতিটি অনুষ্ঠানেই কবি ফখরুল হুদা হেলাল উপস্থিত থাকতেনই। এমন অসংখ্য সংগঠনের সাথে ছিলেন তিনি। তার মধ্যে “ত্রিধারা” শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, “রেঁনেসা নাট্যগোষ্ঠী” এবং “প্রগতি নাট্য সংঘের উপদেষ্টাও ছিলেন কবি ফখরুল হুদা হেলাল।
কবি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠন কতৃর্ক পুরষ্কার প্রাপ্ত হন তার মধ্যে ১৯৭৭ সালে “প্রতিধ্বনি” নাট্য সংগঠনের নাটক “অভিশপ্ত প্রেম” নাটকে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেছিলেল। তিনি ২০০০ সালে কুমিল্লার সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজিত “কুমিল্লার সাংস্কৃতিক/নাট্য অঙ্গনের গুণীজন সংবর্ধনা ও নাট্যোৎসব-২০০০” এ সম্মাননা স্মারক পদক ও সদনপত্র গ্রহন করেন।

কবি ফখরুল হুদা হেলাল ভাই সম্পর্কে লিখতে গিয়ে প্রবীর বিকাশ সরকার কিছু দামি কথা লিখে ছিলেন- কথা গুলো ছিলো এই। আমাদের এই প্রাণের কুমিল্লায় একাধিক সাহিত্য, নাটক ও সঙ্গীত-সাংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। বলা যায় শহরের প্রতিটি পাড়ায় একটি কওে সংস্কৃতিক সংগঠন ছিল। যে কারণে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কুমিল্লার সুনাম ও অগ্রণী ভূমিকা ইতিহাসস্বীকৃত। সাহিত্য সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল “অলক্ত” সাহিত্য ম্যাগাজিনকে ঘিরে একটি দল যার নাম আগে ছিল “গাঙচিল”, স্বনামধন্য কবি ও অধ্যাপক আবু তাহের ওরফে তিতাশ চৌধুরী ছিলেন এর সম্পাদক ও প্রকাশক। এরপর “কুমিল্লা সাহিত্য পরিষদ”, “উজান”, “উষসী”, “আমরা জ্যোৎস্নার প্রতিবেশী”, নামের সংগঠন। ছিলো ফখরুল হুদা হেলাল ভাইয়ের প্রতিষ্ঠিত“সে আমি তুমি”, ছিলো“জাগরণী”, “অগ্নিঝড়ের পাখি”, “হিন্দোল”, “কথকতা”, “বিনোদ”, বর্তমানে রয়েছে“বিনয় সাহিত্য সংসদ”, “নান্দীমুখ” ভাষা আন্দোলন ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক “তিন নদী পরিষদ”উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৬ সালে ফখরুল ইসলাম রচি“কথকতা”থেকে আয়োজন করেছিলেন “কথকতা সাহিত্য পুরস্কার ও কবিতা জনসভা” ওই সময় টাউন হলে যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাছাড়া “কচি-কাঁচার মেলা”, “খেলাঘর”, “চাঁদের হাট”, “শাপলা শালুকের আসর”, “সত্যসেনা”, “স্পুটনিক”, “মানব কল্যাণ সংস্থা” ইত্যাদি সংগঠনও ছিলো কুমিল্লার প্রাণের সাথে মিশে। জানা যায় এর পাশাপাশি। চলচ্চিত্র আন্দোলন বিষয়ক সংগঠনও ছিল। এসব সংগঠনগুলো যারা চালাতেন তারা তখন মাসিক ও পাক্ষিক কিংবা বাৎসরিক সাহিত্য সংকলন, পত্রিকা এবং দেয়ালিকা বের করতেন। এর মধ্যে এখনো প্রকাশিত হয় নিয়মিত কবি ও সাংবাদিক শ্রদ্ধাভাজন মোতাহার হোসেন মাহবুব সম্পাদিত “আপন”।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় “সে আমি তুমি” সংগঠনের দ্বিমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ছিলো যার নাম ছিলো “পরিচয়” নামে। যার সম্পাদনা করতেন কবি ফখরুল হুদা হেলাল নিজেই।

কুমিল্লার সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাস পড়ে জেনেছি ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত নাকি কুমিল্লায় তরুন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং নাট্যকর্মীদের সৃজনশীল কর্মকান্ড এতোটাই প্রবল ছিলো এমনটি বাংলাদেশ আর কোন জেলায় ছিলোনা। এই শহরেই বৃটিশ-ভারতের সময় ৩০-৪০ এর দশকে একদল ঘরছাড়া তরুণ কবি, লেখক, সঙ্গীতশিল্পী এবং নাট্যকর্মী যেভাবে আলোড়ন তুলেছিলেন তাঁদের সঙ্গে। সংস্কৃতির রাজধানী কলকাতাতে পর্যন্ত এর প্রভাব পড়েছিলো। সেই উতপ্ত আন্দোলনে যার পুরোধা ছিলেন কবি ও মাসিক “পূর্ব্বাশা” সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য, তাঁর অগ্রজ প্রখ্যাত গীতিকার ও চলচ্চিত্রকার অজয় ভট্টাচার্য, সঙ্গীতজ্ঞ শচীনদেব বর্মনসহ অনেক কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং সংস্কৃতিকর্মী। তাদের মধ্যে সুবীর সেন, সুধীর চক্রবর্তী, সুবোধ পুরকায়স্থ, অজিত গুহ, নারায়ণ চৌধুরী, অমিয় চৌধুরী, সত্যপ্রসন্ন দত্ত, সুশীল মজুমদার (পরে কলকাতার বিখ্যাত চিত্রপরিচালক) অনুজ ননী মজুমদার, ত্রিদিব দত্ত প্রমুখ।

পরবর্তীতে তাদের এই সংস্কৃতি ও সাহিত্য চর্চার হাল ধরেন শ্রদ্ধাভাজন কবি ফখরুল হুদা হেলাল, আবদুল ওহাব, জহিরুল হক দুলাল, অনোয়ারুল হক, হাসান ফিরোজ, শওকত আহসান ফারুক, ফরিদ মুজহার, আলী হোসেন চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম রচি, সৈয়দ আহমাদ তারেক, তবে দূভার্গ্য হলেও সত্য হেলাল ভাইদের উত্তরসূরি হওয়ার মতো প্রজন্ম এখন আর কুমিল্লায় নেই। দেশের অন্যান্য শহরের মতো কুমিল্লা থেকেও হারিয়ে গেছে সংস্কৃতি আর সাহিত্যচর্চা।

কবি ফখরুল হুদা হেলাল ভাইয়ের মতো করেই হারিয়ে গেছে কুমিল্লার বিজ্ঞজনরা কোন আর এই কান্দিরপাড় নগর মিলনায়তনে পায়ের চিহ্ন পড়বে না কবি ফখরুল হুদা হেলালের। আর কোনদিন পত্রিকা অফিসে অফিসে কবিতা ছাপানোর কথা বলে আসবেন না। সকলের প্রিয় কবি ফখরুল হুদা হেলাল ভাই। প্রিয় শ্রদ্ধাভাজ আপনি ছিলেন আছেন এবং থাকবেন আমাদের মাঝে চিরকাল।

কবি ফখরুল হুদা হেলাল সাম্প্রতি “কবিতাবাংলা” আন্দোলনেরও পথিকৃৎ ছিলেন কুমিল্লায়। তাঁরপাঁচটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এরমধ্যে‘“সে আমি তুমি”প্রকাশনী সংস্থা থেকে ২০০ সালে প্রকাশিত হয় “অনামিকায় প্রবাল” ২০০১ সালে “ঈশ্বরের পৌরসভা”২০০৩ সালে “পপির চিঠির শেষ অংশ” ২০০৪ সালে “তোমার হাতে খাবো”এবং ২০০৭ সালে “জোড়া টিকটিকি” হেলালভাই একাধিক ব্যতিক্রমধর্মী সংকলন সম্পাদনা করেছিলেন।তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য বাংলা একাডেমী তাঁকে আজীবন-সদস্য পদ দিয়ে সম্মানিত করেছিলেন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাদ্দামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

চলতি বছরের ২৫ মার্চ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার নতুন কমিটিতে সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী পদ-প্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রায় ৭৫ জন নেতাকর্মী আবেদন করেছেন। সভাপতি পদে ১৮ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৫৭ জন প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছেন।

আসন্ন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ততিাস উপজলো ছাত্রলীগরে সভাপতি তোফাজ্জল হোসনে সাদ্দাম । সে তিতাস উপজলো চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকারের অনুসারি। তবে সাদ্দামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, তোফাজ্জল হোসনে সাদ্দাম মাদক ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জানা যায়, বগিত ২০২০ সালরে ২৫ সপ্টেম্বের দনৈকি ভোররে পাতার অনলাইনে ‘‘ মাদকসম্রাট ততিাস উপজলো ছাত্রলীগরে সভাপতি সাদ্দাম ’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়- “ তিতাস উপজেলায় মাদকের একক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তোফাজ্জল হোসেন সাদ্দাম। সম্প্রতি তিতাস উপজেলার মাছিমপুর আর আর উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে এই তোফাজ্জল হোসেন সাদ্দামের মামার কক্ষ থেকে ২৪ কেইস বিয়ার উদ্ধার করে তিতাস থানা পুলিশ। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সাদ্দাম জড়িত থাকার পরও অনেকেই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এলাকায় এককভাবে মাদকের মধ্যে মরণনেশা ইয়াবার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করছেন এই সাদ্দাম-এমন অভিযোগ খোদ ছাত্রলীগের নেতার্কমীদের। সাদ্দামের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিতাস উপজেলায় যত ধরণের মাদক ব্যবসা আছে সবগুলোর নিয়ন্ত্রণ করেন তোফাজ্জল হোসেন সাদ্দাম। এমনকি তার বাইরে গিয়ে যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেন। যদিও ওই সময় সাদ্দাম ওই মিডিয়াকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আণীত অভিযোগ সর্ম্পূণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

এছাড়া কুমিল্লা উঃ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী তফাজ্জল হোসেন সাদ্দাম ২০১৯ সালের ৩১শে মার্চ তিতাস উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে পারভেজ হোসেন সরকারের আনারস মার্কার পক্ষে কাজ করেন তফাজ্জল হোসেন সাদ্দাম। ওই সময় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মোঃ শাহিনুল আক্তার সোহেল সিকদার।

এসব বিষয়ে জানতে সাদ্দামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মুঠোফোন সংযোগে তাকে পাওয়া যায়নি।

“ইউনিটি অফ কুমিল্লা এসএসসি-২০০১” ব্যাচের উদ্যোগে ৫ শতাধিক অসহায় পেলেন ঈদ সামগ্রী উপহার

নাছরিন আক্তার হীরা:

রমযানের ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে “ইউনিটি অফ কুমিল্লা এসএসসি- ২০০১” ব্যাচের উদ্যোগে কুমিল্লা জেলাজুড়ে প্রায় ৫ শতাধিক অসহায়-নি:স্ব মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী উপহার দেয়া হয়।

শনিবার সকালে নগরীর ফৌজদারি এলাকায় এ গ্রুপের সদস্যদের উপস্থিতিতে উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়।একই সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বন্ধুদের মাধ্যমে ( মুরাদনগর, হোমনা, চান্দিনা, বুড়িচং,বরুড়া, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) উপজেলা ভিত্তিক এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এ গ্রুপের অন্যতম সদস্য ব্যাংক কর্মকর্তা ফরহাদ উদ্দিন, ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, কাউছার হামিদ, কাজী সাইফুল, উজ্জ্বল চন্দ্র পাল, খান মহি, হান্নান খান, সফুরা সুলতানা এনি, ডা: ফরহাদ হোসেন, নুরুল ইসলাম, ফারজানা নওশীন, হাবিবা লিপি, ফাতেমা মেহেদী, এড. সাইফুল, মো: আশিক আহমেদ, মনি আক্তার ও কাউছার প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে এই ব্যাচের ফেসবুক গ্রুপটি গড়ে উঠে। এরপরই তারা বিভিন্ন মেলনমেলার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এই মানবিক কার্যক্রমে এই গ্রুপের দেশ ও দেশের বাহিরের অনেক বন্ধু সহযোগিতা করেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন-মোস্তফা, নুরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, মামুন আব্দুল্লাহ, হাবিবা লিপি, সোহানা মিথী, বাবু, ইয়াসমিন আক্তার, নুর এ আলম, নারায়নগঞ্জের বন্ধু , ফারুক, মো: হাসান, সাইফুল ইসলাম, বশির, নাজমা আক্তার, সাইফুল ইসলাম তারেক, শেখ মেহেদী হাছান, ডায়না শ্রাবণ সুমী, এম এ বাশার, তুষার সারোয়ার, উম্মে সালমা, ইসমাইল বাবু, মো: সিফাত, কাজী রানা, সফুরা সুলতানা এনি, ডা: ফরহাদ, সাইফুল খান, ফারজানা কেয়া, উজ্জ্বল চন্দ্র পাল, ফাতেমা মেহেদী, তোফায়েল আহমেদ, খান মাহি, মো: রিপন সরকার, শিল্পী দেব, দিলরুবা সারমীন, নাঈম মাহমুদ আমীন, ফারজানা নওমীন, সুবর্ণা আক্তার, মো: জুবিন রুবায়েত হাসান, আবু হানিফা, ম্যাক, খালেদা মাসুদ, কাজী সাইফুল, ফাতেমা আক্তার, প্রকৌশলী মাকসুদা সালাম, সাজিয়া আফরোজ মুনমুন, মো: আব্দুল মোমেন, মাসুদ চাদঁ, রাকিব, কাউছার হামিদ, মুন সরকার, শাহীন মিয়া, সাইফুল ইসলাম, শেখ সুরভী, দেওয়ান মান্নান, নাজমুস সায়েম, শারমীন শাহরিয়ার, মিনার হোসেন, জসিম উদ্দিন রাসেল, শিউলি নাহিদা, ওমর ফারুক, রাশেদ, দেবাশীষ, শাখাওয়াত, নুরুল, মাকসুদা সুলতানা, ইকবাল, আরিফ, শাহিনা আক্তার, জাকির হাসান মিতা, আল কবির হোসাইন, কামাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, মো: ফরহাদ উদ্দিন, মো: হান্নান খান প্রমুখ।

ঈদ সামগ্রী উপহার দেয়ার পর এই ব্যাচের বন্ধুরা জানান, আমরা ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে মানবতা কর্মকান্ডে নিজের নিয়োজিত রাখবো। অপর দিকে এ মানবিক কর্মকান্ডের জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ প্রকাশ করেছেন গ্রুপ এডমিন ওমর ফারুক।

 

আমতলী বিশ্বরোড এলাকা থেকে গাঁজাসহ দুইজন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদরের আমতলী বিশ্বরোড এলাকা থেকে ২০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল ২৩ এপ্রিল আমতলী বিশ্বরোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলেন ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার চরথোয়াজ গ্রামের বাবুল হকের ছেলে মোঃ ইসমাইল (২৯) এবং একই থানার চরগণেশ গ্রামের মোঃ হারুন এর ছেলে মোঃ জিয়া উদ্দিন হৃদয়(২৪)।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে।

উক্ত বিষয়ে আটককৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

কুমিল্লা নামেই বিভাগ ঘোষণা করতে হবে

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি) আয়োজিত শুক্রবার (২২ এপ্রিল) এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল পূর্ব আলোচনায় বক্তারা কুমিল্লা নামেই বিভাগ ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলেন, ‘আমরা কুমিল্লাবাসী কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। আমরা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, শচীন দেব বর্মনের উত্তরসূরী। আমরা কুমিল্লা নামেই থাকবো এবং কুমিল্লা নিয়েই এগিয়ে যাব।’

রাজধানীর বিজয়নগরে হোটেল ৭১-এ আয়োজিত এই ইফতার পূর্ব আলোচনায় সংগঠনের সভাপতি মো. শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য দৈনিক প্রভাত সম্পাদক মোজাফফর হোসেন পল্টু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. এম শামীম, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু, দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ূন, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মঈন উদ্দিন আহমেদ, এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল জহির স্বপন ও মুরাদনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আহসানুল আলম সরকার কিশোর।

বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের বৃহৎ অংশীদার। ইতিবাচক সাংবাদিকতা জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।

তারা কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরামের সদস্যদের দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে কুমিল্লা তথা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

বক্তারা ঢাকায় কর্মরত কুমিল্লার সাংবাদিকদের তাদের লেখনীর মাধ্যমে জেলার সমস্যা, সম্ভাবনার কথাগুলো তুলে ধরে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন, ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন স্থাপনসহ ওই অঞ্চলের উন্নয়নকে তরান্বিত করার আহবান জানান।

ইফতারের আগে সিজেএফডি’র সদস্য প্রয়াত শামসুল আলম বেলাল, সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির খোকন, সদস্য মমতাজ উদ্দিন, বদিউল আলম, আব্দুল হাই স্বপন ও হাবিবুর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সংগঠনে নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাঈদ আহমদ খান, শহীদুল ইসলাম, ফারুক খান, আবু তাহের, হালিম মোহাম্মদ, দিদারুল আলম, এম. মোশাররফ হোসাইন, মঈনুল আহসান, সায়ীদ আবদুল মালিক, খন্দকার আলমগীর হোসেন, আবু নাছের, সালাহ উদ্দিন জসিম, সাইফুল ইসলাম, তাহমিনা আক্তার, কমল চৌধুরী, মো. ফখরুল ইসলাম, মাহমুদুল হাছান নাযিম, নার্গিস জুঁই, সোলাইমান সালমান, মোহাম্মদ মাসুদ, মো. শরীফুল ইসলাম, ইমরান মাহফুজ, শাহাদাত হোসেন রাকিব, মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এ কে সালমান, জহিরুল ইসলাম রাজ-সহ আরও অনেকে।

“কুমিল্লা জিলা স্কুল – ২০০২” ব্যাচের উদ্যোগে পথশিশু দিনমজুর ও শ্রমজীবিদের মাঝে ইফতার বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার:

রমযানের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে অন্যান্য বছরের ন্যায় “কুমিল্লা জিলা স্কুল – ২০০২” এর পক্ষ থেকে আজকে পথশিশু দিনমজুর ও শ্রমজীবি মানুষদের জন্য ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

শুক্রবার কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ষ্টেডিয়াম,ধর্মসাগর পাড়ের অবকাশ এবং দৌলতপুরে অবস্থিত একটি পথশিশুদের স্কুল ও এতিমখানায় বন্ধুদের সহযোগিতায় জুম্মার নামাযের পর ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়।