All posts by jitu

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রী অন্যের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ায় স্বামীর আত্মহত্যা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

স্ত্রী অন্যের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ায় নেশাগ্রস্ত হয়ে একাধিকবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় প্রদীপ দাস নামে এক যুবক। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে আখাউড়া রেলওয়ে পশ্চিম কলোনি এলাকার আমগাছ থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত প্রদীপ দাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কুলিবাগান এলাকায় বসবাস করে ভাসমান সুইপারের কাজ করতেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আখাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, ওই যুবক ভাসমান (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) সুইপার ছিলেন। তার স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ইতোমধ্যে একাধিকবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে রক্ষা করেন। বৃহস্পতিবার তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম দিনে কুমিল্লায় অনুপস্থিত ৮ হাজার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম দিনে কুমিল্লায় অনুপস্থিত ছিলেন আট হাজার ৮০ জন (৩৮ শতাংশ)। জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ২১ হাজার ১৪৭ জন।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লা নগরীর ২০টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম ধাপে আজ দেশের ২২ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২০২০ সালে সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের ৩২ হাজার ৫৭৭টি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়। পরে দেশে করোনা প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেলে পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় কুমিল্লায় ২০টি কেন্দ্রে ২১ হাজার ১৪৭ জনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে অংশ নেন ১৩ হাজার ৬৭ জন। ফলে অনুপস্থিত ছিলেন আট হাজার ৮০ জন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় দুই হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ৮০০ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভাইভা শেষে এসব পদ পূরণ করা হবে।

কুমিল্লায় হত্যার পর পানা দিয়ে ঢাকা শিশুর লাশ নানার হাতে তুলে দেয় সৎবাবা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লায় আলোচিত শিশু বাপ্পি হত্যার দায় স্বীকার করেছে নিহতের সৎবাবা ঘাতক সেলিম ওরফে রুবেল। বুধবার রাতে পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর রুবেল ওই শিশুকে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যার করে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেয়। পরে পানা দিয়ে ঢেকে রাখা সৎছেলের মরদেহ শ্বশুরের হাতে তুলে দিয়ে আত্মগোপন করে।

পরে বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতেও একইভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছে ঘাতক। সেলিম ওরফে রুবেল (২৫) জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনাজোর গ্রামের মো. জলিল হক ওরফে ফজলু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ এপ্রিল জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন ধনাজোর গ্রামের জলাশয় থেকে আরাফাত হোসেন বাপ্পি নামে ৭ বছরের এক শিশুর মৃত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশু বাপ্পির মামা আল আমিন বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নিহতের সৎবাবাকে একমাত্র আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়। বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের পর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত বাপ্পির মা তাকে নিয়ে ঘাতক রুবেলকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরই মাঝে রুবেলের একটি ছেলে সন্তান হয়। বাপ্পিকে তার নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে রুবেল। কিন্তু তার মা কিছুতেই তাকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাননি। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল।

এরই মাঝে রুবেলের আপন ছেলের সঙ্গে সৎছেলে বাপ্পির খুনসুঁটি ঝগড়া হলে তাকে মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ঘাতক সৎবাবা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার জন্য পরিকল্পনা করে।

গত ১৬ এপ্রিল বাপ্পিকে একই উপজেলার তারাপুর গ্রামে মামারবাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ধনাজোর গ্রামের একটি জলাশয়ে ফেলে দেয় রুবেল। পরে তাকে খুঁজে না পেয়ে তার নানা কান্নাকাটি শুরু করলে ঘাতক বাপ্পির মরদেহ দেখিয়ে পালিয়ে যায়।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক সৎবাবা রুবেলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে বৃহস্পতিবার বিকালে সে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিউমার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় এক নম্বর আসামি বিএনপি নেতা মকবুল গ্রেফতার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় এক নম্বর আসামি বিএনপির নিউমার্কেট থানার সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে মকবুল হোসেনকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ওয়েলকাম ও ক্যাপিটাল ফাস্টফুড নামের যে দুই দোকানের কর্মচারীদের দ্বন্দ্ব থেকে গত সোমবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, সেই দোকান দুটি সিটি করপোরেশন থেকে মকবুলের নামে বরাদ্দ রয়েছে। তবে কোনো দোকানই মকবুল নিজে চালাতেন না। রফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে দুজনকে ভাড়া দিয়েছেন দোকান দুটি। রফিকুল ও শহিদুল আবার পরস্পরের আত্মীয়।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ। যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অর্ধ শতাধিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়াও সংঘর্ষের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের একজন ডেলিভারিম্যান, অন্যজন দোকান কর্মচারী।

নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে। একটি মামলা বিস্ফোরক আইনে এবং অন্যটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা হয়েছে। দুই মামলাতে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ মোট ১২০০ জনকে আসামি করা হয়।

এছাড়াও সংঘর্ষে নিহত নাহিদের বাবা মো. নাদিম হোসেন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় তিনি অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করেন। এই তিন মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে। তবে তিনটি মামলার মধ্যে শুধু একটিতেই এক বিএনপি নেতাসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলাটির বাদী পুলিশ।

ডেলিভ্যারিম্যান নাহিদ হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার তদন্তভার পেয়ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।সংঘর্ষের ঘটনায় চারটি মামলার মধ্যে দুটি হত্যা মামলা। অন্য দুটি মামলা করেছে পুলিশ বাদী হয়ে।

মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন, আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপু, হাজি জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহিদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারী, আসিফ, রহমত, সুমন, জসিম, বিল্লাল, হারুন, তোহা, মনির, বাচ্চু, জুলহাস, মিঠু, মিন্টু ও বাবুল।

আসামিদের মধ্যে অ্যাডভোকেট মকবুল নিউমার্কেট থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি, তিনি মামলায় এক নম্বর আসামি। তাকে আজ গ্রেফতার করলো ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

কুমিল্লার আমতলী থেকে ৯২ বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক এক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার আমতলী থেকে ৯২ বোতল ফেন্সিডিলসহ মোঃ আলমগীর হোসেন (৩০) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২২ এপ্রিল আমতলী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। এসময় মাদকের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।

আটককৃত আলমগীর কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ভাকড্ডা গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের ছেলে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেন্সিডিল ও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। উক্ত বিষয়ে আসামীর বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কুমিল্লায় শাহ সুজা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ১৪ ছাত্রকে পাগড়ি প্রদান

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লায় শাহ সুজা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় পবিত্র কুরআনে হাফেজ হওয়ায় ১৪ জন ছাত্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাগড়ি প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা মোগলটুলী শাহসুজা মসজিদ প্রাঙ্গনে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

মাদ্রাসা ও এতিম খানা কমিটির সভাপতি এডভোকেট আবদুল আজিজ মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া আরাবিয়া কাশিমুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুর রাজ্জাক।

তিনি হিফজুল কুরআন সম্পন্নকারীদের মাথায় পাগড়ী বেঁধে হাফেজ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শাহসুজা মসজিদ কমিটির সভাপতি সফিকুল ইসলাম শিকদার।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, শাহসুজা মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খিজির আহমেদ কাসেমী, এডভোকেট আশরাফ উদ্দিন রহমত, শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন, মাদ্রাসার তত্বাবধায়ক হাফেজ আবুল হাসেম, প্রকৌশলী আবুল কাশেম,সাংবাদিক মাসুক আলতাফ চৌধুরী ও হাফেজ রেদোয়ান আহমেদ।

পাগড়ি প্রাপ্ত ১৪ জন ছাত্র হলেন, হাফেজ মোঃ ইরফান হোসেন আবির, হাফেজ মোঃ আহসানুল হক জোনায়েদ, হাফেজ মোঃ শাকিল আহমেদ, হাফেজ মোঃ হাসান আহমেদ জাহিদ, হাফেজ মোঃ মেহেদী হাসান, হাফেজ মোঃ মাকসুদুর রহমান, হাফেজ মোঃ সিহাব হোসেন আনাস, হাফেজ মোঃ নজরুল ইসলাম হামিম, হাফেজ মোঃ হোসাইন, হাফেজ মোঃ মহিম খন্দকার, হাফেজ মোঃ শেখ মোঃ ফয়সাল, হাফেজ মোঃ মজিবুর রহমান, হাফেজ মোঃ মিজানুর রহমান। পরে মাদ্রাসার সকল ছাত্রের মধ্যে ঈদ বস্ত্র ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

 

 

লাকসামে মধ্যরাতে জুয়ার আসর থেকে ৬ জুয়াড়ি গ্রেফতার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার লাকসামে মধ্যরাতে একটি জুয়ার আস্তানায় হানা দিয়ে ছয় জুয়াড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ নগদ টাকাও জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা দিয়ে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার সাত বাড়িয়া গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে প্রবাসী বেল্লাল আহম্মেদ (৫৫), একই গ্রামের আবদুল রাজ্জাকের ছেলে ওমর ফারুক (৩০), মৃত খালেক মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া (২৬), ইউছুফের ছেলে ইয়াকুব মিয়া (২৮), আবদুল খালেকের ছেলে আবু তাহের (৩৮) ও বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে ইউছুফ মিয়া (৪৪)।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামে সুপার মার্কেটের একটি দোকানে বেশ কিছুদিন ধরে জমজমাট জুয়া খেলা চলছিল। নিয়মিত চলা এ জুয়ার আসরে এই উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে লোকজন এসে জুয়া খেলতেন।

লাকসাম থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে চলা ওই জুয়ার আসর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জামসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দেবিদ্বারে নিখোঁজের ৩ দিন পর গোমতী নদী থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিখোঁজের ৩ দিন পর গোমতী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় হোছনেয়ারা বেগম (৬৮) নামের এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ফতেহাবাদ ইউনিয়নের কালিকাপুর গোমতী নদীর লোহার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে মরদেহ শনাক্ত করেছেন তার স্বজনেরা। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভাড়েল্লা ইউনিয়নের শাহী রামচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল মতিনের স্ত্রী।

হোছনেয়ারার ৪ ছেলে ও ৩ মেয়ে রয়েছে। তার ৪ ছেলে প্রবাসে থাকেন। আর ৩ মেয়ে থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। নিজ বাড়িতে বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

নিহতের বোনের ছেলে নাদির বলেন, আমার বৃদ্ধ খালা-খালু বাড়িতে থাকতেন। ৪ ছেলে প্রবাসী এবং ৩ মেয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকায় তাদের দেখভালে কেউ ছিলেন না। খালা হোছনেয়ারা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। প্রায় সময়ই নিখোঁজ হয়ে যেতেন আবার কয়েক দিন পর ফিরে আসতেন।

তিনি গত সোমবার রাত অনুমান সাড়ে ৯টায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। খালার বাড়ির পাশে গোমতী নদী থাকায় নদীতেও অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে তার কোন খোঁজ না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজ আমরা কয়েকজন স্বজন নিখোঁজ খালাকে খুঁজতে এসে জানতে পারি, কালিকাপুর একটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আমরা এসে খালার মরদেহ শনাক্ত করি।

দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, গোমতী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত মরদেহ তার স্বজনরা শানাক্ত করেছেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি পূর্বক ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ইফতারে সংঘর্ষের জেরে কোম্পানীগঞ্জে বিএনপি নেতাদের বাসায় পাল্টাপাল্টি হামলা-ভাংচুর

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ইফতার মাহফিলে বিবদমান দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে তিনটি বাসায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনায় কোন গুরুত্বর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হামলা ও ভাংচুর হওয়া বাসা গুলো হলো হাসনা মওদুদের অনুসারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জাহিদুর রহমান রাজনের শ্বশুরের বাসা,সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খালেদ সাইফুল্যাহ ইমনের বাসা, ফখরুলের অনুসারী বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন ফাহাদের বাসা,

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত থেমে থেমে তিনটি বাসায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাংচুরের এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল চলাকালে সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া সাবেক জামায়াত নেতা ফখরুল ইসলাম মঞ্চে উঠলে তাঁর অনুসারীরা স্লোগান দেয়। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য মরহুম ব্যারিস্ট্যার মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী হাসনা মওদুদের অনুসারীরা বাধা দেয়। এতে দুই গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে একটি ককটেল বিস্ফোরণ,তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচু ও একটি সিএনজি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ সংঘর্ষের জের ধরে প্রথমে বসুরহাট পৌরসভা ৮নম্বর ওয়ার্ডে হাসনা মওদুদের অনুসারী সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খালেদ সাইফুল্যাহ ইমনের বাসায় এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জাহিদুর রহমান রাজনের শ্বশুরের বাসায় হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এরপর ফখরুল অনুসারী বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন ফাহাদের বাসায়ও হামলা ও ভাংচুর চালায় হাসনা মওদুদ অনুসারীরা।

উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সাবেক জামায়াত নেতা ফখরুল ইসলাম উপজেলা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা শুরু করলে উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়। বর্তমানে তাকে উপজেলা বিএনপির রাজনীতি একটি পক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া হয়ে উঠলে বিবদমান কোন্দল নতুন করে একটি মাত্রা পায়। তারা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে দ্রুত জাতীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফখরুল ইসলাম অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন ব্যারিস্ট্যার মওদুদ আহমদ জীবিত থাকা অবস্থায় ঊনার বাড়িতে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মতিন লিটনের অনুসারীদের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জাহিদুর রহমান রাজনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এখানে মূলত রিপন, রাজন ও লিটন অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে গতকাল এ ঘটনা ঘটে। একটি পক্ষ চাচ্ছেনা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সুসংগঠিত হোক। ইফতার মাহফিলে সংঘর্ষে ক্ষমতাসীন দলের ইন্ধন থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল অনুসারী নুর উদ্দিন ফাহাদ অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফজলুল কবির ফয়সল,সদস্য সচিব রাজনের নেতৃত্বে তাঁর বাসায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করা হয়। এ সময় তাঁর বাসায় থাকা তাঁর এক ভাতিজাও আহত বলেও জানান তিনি।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জাহিদুর রহমান রাজন অভিযোগ করে বলেন, ফাহাদের নেতৃত্বে সাবেক ছাত্রদল নেতা খালেদ ও আমার শ্বশুরের বাসায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। আমার শ্বশুর একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী মূলত তাঁর বাসায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে তারা এ হামলা চালায়। ফাহাদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন ফাহাদের বাসায় হামলার সাথে তিনি তারা জড়িত নয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় লিখিত ভাবে অভিযোগ করেনি। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।