All posts by jitu

দেবীদ্বারে খাদ্য গুদাম, কৃষি অফিস ও ইরি ধানের প্রজেক্ট পরিদর্শন করলেন এমপি রাজী ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা দেবীদ্বারে খাদ্য গুদাম, কৃষি অফিস ও ইরি ধানের প্রজেক্ট পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।

শনিবার সকালে খাদ্য গুদাম, কৃষি অফিস পরিদর্শন শেষে বারুর ও হামলাবাড়ী মাঠে ইরি ধানের প্রজেক্ট পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক উন নবী তালুকদার, উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নাজমা বেগম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, খাদ্য পরিদর্শক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, প্রভাষক সাইফুল ইসলাম শামীম, আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনসহ আরো অনেকে।

সদর দক্ষিণ থেকে ৫০৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী বাশার গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জোড়কানন এলাকা থেকে ৫০৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোঃ আবুল বাশারকে (৪০) গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ সদস্যরা।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল ০৯ এপ্রিল সকালে সদর দক্ষিণ উপজেলার জোড়কানন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেফতার হওয়া মাদক ব্যবসায়ী হলেন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জগপুর পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন চৌধুরীর ছেলে মোঃ আবুল বাশার(৪০)।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় সে দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল। থানার রেকর্ডপত্র যাচাই করে তার বিরুদ্ধে চারটি মাদক মামলা, একটি চুরি মামলা এবং একটি দ্রæত বিচার আইনের মামলাসহ সর্বমোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোনে বিশেষ অফার

 

ডেস্ক রিপোর্ট: যেকোনো উদযাপনেই সারপ্রাইজ আমাদের আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আর এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে, স্মার্টফোনপ্রেমীদের ঈদ উদযাপনের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে দুর্দান্ত অফারসমৃদ্ধ ক্যাম্পেইন চালু করতে যাচ্ছে স্যামসাং।

ক্যাম্পেইন চলাকালীন, ক্রেতারা স্যামসাং স্মার্টফোন ক্রয়ে বিভিন্ন ধরনের অফার উপভোগ করতে পারবেন। স্যামসাং স্মার্টফোন ক্রয়ে ক্রেতারা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন! পাশাপাশি, তারা ফোন ক্রয়ের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ ইএমআই সুবিধাও পাবেন!

রোমাঞ্চপ্রেমীদের জন্য এ ক্যাম্পেইনে স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকে থাকছে সম্পূর্ণ নতুন সুজুকি জিক্সার এসএফ ১৫০ সিসি বাইক! এছাড়াও, ক্রেতাদের জন্য থাকছে দুবাই ট্যুর; যেখানে তারা ৫ দিন ও চার রাত থাকার সুযোগ পাবেন! ক্রেতারা স্যামসাংয়ের যে কোন মডেলের স্মার্টফোন ক্রয়ে এ অফার উপভোগের সুযোগ পাবেন। লটারির মাধ্যমে ভাগ্যবান বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হবে।

এ নিয়ে স্যামসাং মোবাইল বাংলাদেশের হেড অব মোবাইল মো. মূয়ীদুর রহমান বলেন, “বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে স্যামসাং সবসময়ই ক্রেতাদের প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন অফার চালু করে। এরই ধারাবাহিকতায়, আসন্ন ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে স্মার্টফোন ক্রয়ে ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ছাড় সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে স্যামসাং; একইসঙ্গে তাদের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কার জেতার সুযোগও থাকছে, যা তাদের ঈদের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে তুলবে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।”

এ অফার আগামী ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১ মে পর্যন্ত চলবে। দেশজুড়ে থাকা স্যামসাংয়ের যে কোন ব্র্যান্ড শপ থেকে স্মার্টফোন ক্রয়ে ক্রেতারা এ অফারগুলো উপভোগ করতে পারবেন।

দেবিদ্বারে এতিম শিশুদের সাথে ইফতার করলেন এমপি রাজী ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে এতিমখানার শিশুদের সাথে ইফতার করেছেন স্থানীয় সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ।

শুক্রবার উপজেলার সাবের পুকুরপাড় হাফিজিয়া মাদরাসার এতিমখানার আয়োজনে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৪(দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এমপি।

এ সময় নিজ হাতে এতিম শিশুদের ইফতার তুলে দেন এই এমপি। ইফতার শেষে শিশুদের সাথে অনেকক্ষণ কথা বলেন এমপি রাজী ফখরুল। এ সময় কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি লিটন সরকার উপস্থিত ছিলেন।

পরে এতিমদের সাথে রাতের খাবারও খেয়েছেন এমপি রাজী ফখরুল।

আজ রাত ৯টায় ইমরান খানের ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে !

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

নাটকীয়তার পর দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশ অধিবেশন ফের শুরু হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অধিবেশন শুরু হয়। এদিন স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন আসাদ কায়সার। কিন্তু অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তা মুলতবি করেন স্পিকার।

তিনি স্থানীয় সময় ১২টা ৩০ মিনিটে ফের অধিবেশন শুরুর সময় ঠিক করে দিলেও তার শুরু হয় অনেকটা বিলম্বে।

এই সময় আরেকটি চমক দেখা যায়। সেটি হলো অধিবেশন পরিচালনা করতে স্পিকার আসাদ কায়সার না এসে অপর ডেপুটি স্পিকার আমজাদ খান নিয়াজি আসেন।

বিরোধীদলগুলো চাচ্ছে দ্রুত সব কার্যক্রম শেষ করে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজন করতে।

কিন্তু পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, ইমরান খানের দলের সদস্যরা ইচ্ছে করে সময়ক্ষেপণ করছেন যেন আজ ভোট আয়োজন না হয়।

তবে জিও নিউজই আবার জানিয়েছে, সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আজ রাতেই হবে ভোট।

জিও নিউজ ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন তাদের সর্বশেষ খবরে জানাচ্ছে, পাকিস্তানের স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভোটাভুটি শুরু হতে পারে। মানে বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় ইমরান খানের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে।

বেশি দামে বিক্রি: কু‌মিল্লা নগরীতে ৫ প্রতিষ্ঠান‌কে জ‌রিমানা

স্টাফ রিপোর্টার:

রমজা‌নের ৭ম দি‌নে জাতীয় ভোক্তা অ‌ধিকার সংরক্ষণ অ‌ধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যাল‌য়ের উ‌দ্যো‌গে কু‌মিল্লার রানীর বাজার এলাকায় বি‌শেষ তদার‌কি কার্যক্রম প‌রিচালনা করে  ৫ প্রতিষ্ঠান‌কে ১২ হাজার ৫শ টাকা জ‌রিমানা করা হয়।

এ সময় বে‌শি দা‌মে চি‌নি বি‌ক্রি করায় মেসার্স রাজ রা‌জেশ্বরী ট্রেডার্সকে ৩হাজার টাকা, মূল‌্য তা‌লিকা হালনাগাদ না করায় মেসার্স এইচ এম জে এন্টারপ্রাইজ‌কে ১ হাজার ৫শ টাকা, বে‌শি দা‌মে ছোলা বি‌ক্রি করায় জ‌হির ট্রেডার্সকে ৩ হাজার টাকা, মূল‌্য তা‌লিকা না রাখায় মা‌য়ের দোয়া সোনালী প‌ল্ট্রি হাউজ‌কে ২ হাজার টাকা, এবং বে‌শি দা‌মে চি‌নি ও ছোলা বি‌ক্রি করায় দে‌লোয়ার স্টোর‌কে ৩ হাজার টাকাসহ আজ মোট ৫ প্রতিষ্ঠান‌কে ১২ হাজার ৫শ টাকা জ‌রিমানা করা হয়।

শনিবার সকাল ১০টা থে‌কে বেলা সা‌ড়ে ১২টা পর্যন্ত এ তদার‌কি কার্যক্রম প‌রিচা‌লনা করা হয়।

কু‌মিল্লা জেলা প্রশাস‌নের সা‌র্বিক দিক নি‌র্দেশনায় জাতীয় ভোক্তা অ‌ধিকার সংরক্ষণ অ‌ধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যাল‌য়ের সহকারী প‌রিচালক মো: আছাদুল ইসলাম এ তদার‌কি কার্যক্রম প‌রিচালনা ক‌রেন এবং স‌্যা‌নিটা‌রি ইন্স‌পেক্টর এ‌কে আজাদ, রানীর বাজার ব‌্যবসায়ী স‌মি‌তির নের্তৃবৃন্দ এবং জেলা পু‌লি‌শের এক‌টি টিম উপ‌স্থিত থে‌কে সা‌র্বিক সহ‌যো‌গিতা ক‌রেন।

সদর দক্ষিণে র‌্যাব সদস্যদের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের বন্দুকযুদ্ধ, ৮ জন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে র‌্যাব সদস্যদের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের গুলি বিনিময় ঘটনায় আটজন আটক হয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর এশটি বিশেষ আভিযানিক দল ০৭ এপ্রিল রাতে সদর দক্ষিণ উপজেলার জোড়কানন ইউনিয়নের লালবাগ এলাকা দিয়ে মাদকের বড় চালান পার হচ্ছে এমন খবর পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দূর থেকে দেখতে পায় ২০/২৫ জন মাদক ব্যবসায়ীর একটি দল কাঁধে করে মাদকের বস্তা নিয়ে মাঠ দিয়ে যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় কর্তব্যরত টহল কমান্ডার তাদেরকে থামতে বলে এবং নিজেদের র‌্যাব পরিচয় দেয়। র‌্যাবের উপস্থিতি দেখে কিছু মাদক কারবারী দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং একই সাথে কিছু মাদক কারবারী র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এই ঘটনায় র‌্যাব সদস্য কর্পোরাল মোঃ রুবেল গাজী গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা সিএমএইচ এ চিকিৎসাধীন রয়েছে। উক্ত ঘটনায় ১২ জনকে এজাহার নামীয় এবং ০৫/০৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে সদর দক্ষিণ থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনাস্থল হতে গ্রেফতারকৃত পাঁচ জনের মধ্যে তিন জন মোঃ মশিউর রহমান(২১); সবুজ ইসলাম(২০); মোঃ শরীফ মিয়া(১৯)কে সদর দক্ষিণ থানায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াগুলিবিদ্ধ দুইজন মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সাইদুল ইসলাম(২২) এবং মোঃ হযরত আলীকে(২০) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

৮ এপ্রিল রাতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মোঃ দেলোয়ার হোসেন(৪৯); মোঃ সাইফুল ইসলাম(২৭) এবং মোঃ রবিউল হাসানকে (২৫) গ্রেফতার করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ পর্যন্ত উক্ত ঘটনায় মোট ০৮ জনকে (এজাহার নামীয়) গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বাকি আসামীদের গ্রেফতারে র‌্যাবের অভিযান চলমান রয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দেউলিয়ার পথে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ বা ঝুঁকির মধ্যে আছে?

 

রাকিব আল হাসান:

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর কাছে উন্নয়ন মানেই শুধু মেগা প্রকল্প। উন্নয়নের এ জোয়ারে বাংলাদেশের অনেক আগেই ভাসা শুরু করেছিল শ্রীলঙ্কা। দুর্নীতি, অসামঞ্জস্য ঋণ, দূরদর্শিতার অভাব, পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতি আর আধিপত্য শ্রীলঙ্কাকে ডুবিয়েছে বলেই মনে করেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

শ্রীলঙ্কার এমন পরিস্থিতি দেখে বাংলাদেশের ব্যাপারেও অনেককে উদ্বিগ্ন হতে দেখা যাচ্ছে। উদ্বিগ্ন হওয়াটাও খুব স্বাভাবিক। কারণ উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প, রাষ্ট্র পরিচালনার ধরণে শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশের খুব একটা অমিল নেই। তবু শ্রীলঙ্কার মতো এমন ভরাডুবি যে বাংলাদেশের এখনই হবে এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ শ্রীলঙ্কার তুলনায় বাংলাদেশের জিডিপি, রিজার্ভ, ফরেন কারেন্সি, রেমিট্যান্স অনেক বেশি।

তার মানে এই নয় যে বাংলাদেশের কোনো ঝুঁকি নেই, এমনটাও নিশ্চিত হয়ে বলা যাচ্ছে না। পাঁচ বছর আগে ফিরলেও শ্রীলঙ্কা যে এমন হবে তা কিন্তু কেউ ভাবে নি। এবার আসি বাংলাদেশের ঝুঁকির আশংকা কেনো সে বিষয় নিয়ে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটা ডেটা জালিয়াতি নিয়ে। অর্থাৎ এখানে সরকার প্রচন্ডভাবে ডেটা ম্যানিপুলেশন করে। সরকার মূলত দুই ধরনের ঋণ করে। একটি সরকারি ঋণ, অপরটি বেসরকারি ঋণ। বেশিরভাগ জায়গায় সরকারি ঋণের তথ্য প্রকাশ করা হলেও বেসরকারি ঋণের তথ্য গোপন করা হয়। যার কারণে সরকারি হিসেব মতে এই ঋণের পরিমাণ ৬০/৬২ বিলিয়ন ডলার হলেও কোনো কোনো হিসেব মতে এই ঋণের পরিমাণ ৭৭/৮১, আবার ৯০ বিলিয়ন ডলারের মতো।

এই ঋণের পরিমাণ কম দেখিয়ে জিডিপি বাড়িয়ে দেয়া হয়। যার কারণে মাথাপিছু আয় বেড়ে যায় অংকের হিসেবে। করোনার সময়ে ২০২১ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ২২২৭ ডলার। কিন্তু কয়েক মাস পরেই এটিকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে ২৫৫৭ ডলার। কিন্তু ২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর, এই নয় মাসে সরকারি ঋণ বেড়েছে ৮ বিলিয়ন ডলার, বেসরকারি ঋণ বেড়েছে ৭ বিলিয়ন ডলার। মাত্র ৯ মাসেই টোটাল ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলার।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। করোনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানান ইস্যুর কারণে সারাবিশ্বেই দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে ৮-৯% কিন্তু বাংলাদেশে পণ্যভেদে দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে ২০-১০০% পর্যন্ত। কোনো কোনো পরিসংখ্যান মতে এই সময়ে টাকার মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১৩-২০% পর্যন্ত। করোনার সময়েও ১ ডলার সমান ৮৫ টাকা হলেও গতকাল পর্যন্ত ১ ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯২ টাকা পর্যন্ত৷

এবার আসি ক্রমেই ঋণবৃদ্ধির হার নিয়ে। গত ৭ বছরে প্রতিবছর বাংলাদেশের ঋণ থাকতো ১১-১২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু গত অর্থবছরে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকায়, এ বছর সেটি বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ ১ বছরেই ঋণবৃদ্ধির হার বেড়েছে ১০% কিন্তু বাংলাদেশের পরিশোধ ক্ষমতা মাত্র ২-২.৫% পর্যন্ত। করোনাকালে রেমিট্যান্স বাড়লেও তা এখন আবার কমতে শুরু করেছে। বৈদেশিক ঋণ ছাড়াও দেশের ভেতর সরকারের অভ্যন্তরীণ বেসরকারি ঋণের পরিমাণ শুনলে যে কেউ আঁতকে উঠবেন। টাকার হিসেবে ১৩ লাখ কোটি টাকা, যা কিনা আমাদের দুইটা বাজেটের সমান।

এই সময়ে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় অনেক বাড়তে শুরু করলেও সে অনুপাতে রপ্তানি আয় বাড়ছে না। আইআরডি মডেল অনুযায়ী বাংলাদেশ যদি আর কোনো ধরনের ঋণ না নেয়, তাহলে এটি পরিশোধ হবে ২০৫৮ সালে গিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ তো তা পারছে না। প্রতিটি মেগাপ্রকল্পেই আছে চড়াসুদে বৈদেশিক ঋণ। অনেকে হয়তো বলবেন ঋণ করুক, সমস্যা কি, বাংলাদেশ তো তা পরিশোধ করতে পারছে। এখানেও একটা জিনিস ক্লিয়ার হওয়া দরকার৷ ঋণ নেয়ার সাথে সাথেই তা পরিশোধ করতে হয় না। একটি ঋণ প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শুরু হয় ৪-৬ বছর পর। সে হিসেবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের এখনো ঋণ পরিশোধ করা শুরু হয় নি। বেশিরভাগ শুরু হবে আগামী বছর থেকে। তাহলে ভাবুন সামনে এ ঋণ বৃদ্ধির হার কোথায় গিয়ে ঠেকবে। অথচ এখনো আমাদের এককভাবে বাজেটের শীর্ষখাত কিন্তু ঋণ পরিশোধে।

একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরো পরিষ্কার হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাজেট ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা (প্রায় দ্বিগুণ দামে) যেটির মধ্যে ৯১ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদান করবে রাশিয়া। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত তারা ৪৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। কিন্তু এর সুদ আসল শুরু হবে আগামী বছর থেকে।
এবার আসি বাংলাদেশের মেগাপ্রকল্পগুলোর উপযোগিতা নিয়ে। প্রকল্প নিলেই তো আর হবে না, সেখান থেকে আয়কৃত অর্থ দিয়ে সেটির খরচও তো তুলতে হবে৷ সে হিসেবে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের উপযোগিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে৷ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা রেলসেতু, ডুলাহাজারা থেকে রামু রেললাইন, পায়রাবন্দর থেকে আয়ের তেমন সুযোগ নেই। যেটিকে তারা ভাবছেন লস প্রজেক্ট হিসেবে৷ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষের পথে হলেও এখনো সেটিতে বসানো হয় নি সঞ্চালন লাইন। তাই এটি প্রস্তুত হয়ে গেলেও এটি থেকে সহসাই ফিডব্যাক আসছে না। অন্যদিকে আগামী বছর থেকে এটির ঋণ পরিশোধ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, সাথে তো ক্যাপাসিটি চার্জ থাকছেই।

বাংলাদেশের কোনো মেগা প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। এমনকি শুরুতে যে পরিমাণ ব্যয় ধরা হয়, শেষ হলে এর ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েকগুণে। ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ার মূল কারণ দুর্নীতি। কারণ যত প্রকল্প হাতে নেয়া যায়, তত ঋণ করা যায়, কালক্ষেপণ করা যায় এবং দুর্নীতির রাস্তা ততই প্রশস্ত হয়।
চাইলে আরো অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়। যারা বলছেন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতে নেই, তাদের জন্য এই কয়েকটি পয়েন্টই যথেষ্ট আশা করি। এ মুহূর্তে নিরাপদ অবস্থানে আছি আমরা।

তবে এটা সাময়িক। শ্রীলঙ্কাও ছিল। কিন্তু বৈদেশিক ঋণের ফাঁদ আর ভূরাজনৈতিক নানান সমীকরণে আশংকা একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। অনেকেই বলবেন শ্রীলঙ্কার সাথে তুলনা করে লজ্জা দিবেন না। তাদের জন্য বলি যে বন্ধু বিরিয়ানি খাওয়ানোর জন্য প্রতিদিন টাকা হাওলাত দেয়, টাকা না পেলে একদিন কিন্তু সে বন্ধুই পেটে ছুরি চালায়। তাই সময় থাকতে সাধু সাবধান।

এই জীবনে সেতু দেখতাম পারমু কি না সন্দেহ!

০  সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয় শিক্ষার্থীসহ তিন উপজেলার মানুষ।
০ রাতের বেলা কেউ অসুস্থ হলে ৮ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয় হাসপাতালে।
০  নৌকা ভাড়ার অভাবে অনেকেরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হয় না।

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর :
ওপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ বাজার, এপারে একই জেলার নবীনগর উপজেলা ও কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার শতাধিক গ্রাম। মাঝখানে তিতাস নদী। প্রতিদিন অন্তত ৬ হাজার মানুষকে এই নদী পাড়ি দিয়েই চলাচল করতে হয়। নদীর এই জায়গাটিতে একটি সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও সুফল পায়নি। তাই যুগের পর যুগ ধরে বাধ্য হয়েই খেয়ানৌকায় করে মানুষ নদী পারাপার করতে হচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল বাহার বলেন, এই একটি সেতুর জন্য তিনটি উপজেলার মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কয়েক বছর আগে এই নদীতে সেতু হয়েছে তবে সেটি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভিতরেই তাতে এই দুই উপজেলার তেমন কোন কাজে আসেনি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি এখানে সেতুটি খুব জরুরি।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দবির আহম্মেদ বলেন, আশপাশে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় দুই উপজেলার প্রায় ৯টি গ্রামের বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদই একমাত্র ভরসা। কারণ এপারে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা কোনটাই নেই।

মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল উপজেলার ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আহম্মেদ বলেন, ‘একটি সেতুর জন্য ভুক্তভোগী মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই মানববন্ধন, সমাবেশসহ নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু সেতু নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ছে না। এ অবস্থায় তিনটি উপজেলার অন্তত ৫০ হাজার মানুষ সেতুর অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দাবি জানাতে-জানাতে এখন সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে।’
কেউ যদি রাতের বেলা অসুস্থ হয় তাহলে তাকে ৮কিলোমিটার ঘুরে হাসপাতালে নিতে হয়। কারণ তখন খেয়াঘাটে নৌকা থাকে না। এমনও হয়েছে খেয়া ভাড়া দেয়ার অভাবে অনেক বাচ্চা স্কুলে নিয়মিত যায় না।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ২৯টি নৌকার মাধ্যমে মুরাদনগর ও নবীনগর উপজেলার মানুষ তিতাস নদী পাড়ি দিয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ বাজার আসছে। অপরদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার লোকজনও খেয়াঘাট দিয়ে মুরাদনগর উপজেলার পিপড়িয়াকান্দা বাজার ও নবীনগর উপজেলার দুবাচাইল, বাজিবিসারা আসছে। চলাচলকারী লোকজনের মধ্যে স্কুল-কলেজের অন্তত এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

নবীনগর উপজেলা ও মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফরদাবাদ বাজার আশপাশের শতাধিক গ্রাম মুরাদনগর ও নবীনগর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও, এসব গ্রাম তাদের উপজেলা সদর থেকে অন্তত ২০কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাই এসব গ্রামের মানুষ নদীর ঠিক ওপারে অবস্থিত বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ বাজারেই বাজার-সওদা থেকে শুরু করে শিক্ষা-চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকে। এসব মানুষের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে ফরদাবাদ বাজারে। এ দুই উপজেলার মানুষকে প্রতিদিনই ব্যবসা-চিকিৎসা-শিক্ষাসহ নানা কাজে ও আত্মীয়তার সূত্রে ফরদাবাদ বাজারে আসতে হয়। এ অবস্থায় একটি সেতুর অভাবে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলার ভংগানগর গ্রামের বাসিন্দা কামাল মিয়া দুঃখ করে বলেন, ‘এই জীবনে সেতু দেখতাম পারমু কি না, সন্দেহ!’ নবীনগর উপজেলার দুবাচাইল গ্রামের গৃহিণী মোমেনা বেগম (৬০) জানান, নারী ও শিশুদের খেয়া পারাপার হতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়।

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর কবির সেতুটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘এ সেতু নির্মাণ হলে তিনটি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে। তবে নদীর অধিকাংশ জায়গা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার। একমাত্র তারাই পারে এখানে সেতুর ব্যবস্থা করতে।