All posts by jitu

সেনবাগে স্কুল ভবন নির্মাণ কাজে লাগাম ছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সেনবাগের দক্ষিণ শ্রীপদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজে তদারকি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারের যোগসাজশে লাগাম ছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,পিইডিপি-৪ প্রাইমারি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ শ্রীপদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আনুমানিক ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ও সেনবাগ উপজেলা (এলজিইডি) তত্বাবধানে পরিচালিত ওই প্রকল্প বাস্তবায়নকল্পে কাজের দায়িত্ব পান মেসার্স রনি ব্রাদাস নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

দক্ষিণ শ্রীপদ্দী সরকারি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শেখ আহমদ অভিযোগ করে বলেন,নিম্ন মানের ইট, বালি,কনা,পাথর ও সস্তা দামের রড দিয়ে কাজ শুরু করলেও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী কার্যকর কোন বাধা দেননি। এ বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ চলছে প্রায় এক বছর ধরে। বর্তমানে এ প্রকল্প কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। কিন্তু ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট ফাটল দেখা দেয়। ঠিকাদারের লোকজন রং দিয়ে এসব ফাটল ঢেকে দিচ্ছে।

এ অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য স্থানীয় এলকাবাসী দুষছেন, এলজিইডির সেনবাগ উপজেলা প্রকৌশলী মো.শাহিনুর আলমের ভূমিকাকে ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তদারকি প্রতিষ্ঠানের উপজেলা প্রকৌশলী ও একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ছত্রছাছায়ায় শিডিউল অমান্য করে বেজায় নিম্নমানের কাজ করার সুযোগ পায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ভবনের জানালা গুলোও মানসম্পন্ন দেওয়া হয়নি। নির্মাণ ক্ষেত্রে দরপত্রের শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে পদে পদে? সেনবাগ উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনায় ও মাঠ পর্যায়ে এ কাজের তদারকি করছে একজন উপ-সহকারি প্রকৌশলী। অভিযোগ রয়েছে,অভিযোগের পরও বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে যথাযথ তদারকি করতে দেখা যায় নি । এ সুযোগকের ষোল আনাই কাজে লাগিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদার । এ অনিয়ম রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষেরও কার্যকর সঠিক তদারকি ছিলনা।

দক্ষিণ শ্রীপদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.শেখ আহমদ অভিযোগ করে বলেন, পাইলিং করার সময় পাইলিংয়ের মাথায় স্টিলের প্লেট ব্যবহার করা হয়নি। পাইলিং করার সময় প্রতিটি পিলার ৪ থেকে ৫ফিট ভেঙ্গে যায়। ভবনে সঠিক ভাবে ওয়াটার কিউরও দেয়া হয়নি। আমরা পানি দিতে চাইলে তারা আমাদেরকে বাধা দেয় ।

প্রধান শিক্ষক শেখ আহমদ অভিযোগ করে আরও বলেন, ঢালাইয়ের সাথে লোকাল বালু ও এবং শীতলপুরি বাংলা রড,সিমেন্ট ব্যবহার করে। প্লাষ্টার নিম্নমানের করা হয়। নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে গাথুনি, দেয়ালসহ পুরো ভবনের কাজ করা হয়। বিল্ডিংয়ের ফ্লোর এবং সিঁড়ির পিনিসিং নেই। শ্রেণি কক্ষের পার্টিশান দেয়াল গুলোর ছাদ বিমের নিচে জয়েন্ট গুলোতে ফাটল ধরেছে। বিভিন্ন দেয়ালে ছোট ছোট ফাটল দেখা দিলে সিলালের সাথে চক পাউডার দিয়ে রংয়ের কাজ চালায় ঠিকাদারের লোকজন। এতে আমরা বাধা দিলে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় তদারকি প্রতিষ্ঠান। জানালার সানসেটের প্লাষ্টার গুলো ফেটে গেছে। ছাদ ঢালাইয়ে বড় সাইজের নিম্নমানের কনা ও তিন নম্বর পাথর স্টোন ব্যবহার করা হয়। সর্বশেষ ভবনে নিম্নমানের রংয়ের কাজ শুরু করা হয়। বিদ্যালয় নির্মাণে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কথা একাধিকবার উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কার্যকর কোন প্রতিকার মেলেনি।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রনি ব্রাসার্সের কর্ণধার জহিরুল ইসলাম লিটন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন নিম্নমানের কাজ করা হয়নি। কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকৌশলীকে অভিযোগ করতে বলেন।

এ বিষয়ে সেনবাগ উপজেলা প্রকৌশলী মো.শাহিনুর আলম বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নকল্পে আনুমানিক ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ঠিকাদার এখনো কাজ করছে। ঊনিতো কাজ শেষ করে যায়নি। এরপরে ক্রটি থাকলে ঠিক করে দেওয়ার সুযোগ আছে। তিনি আরও বলেন, ইট নোয়াখালী এলাকায় যে রকম পাওয়া যায়। সে রকম ভালো আরকি,সে রকমই আছে। নোয়াখালী এলাকার ইট অন্য এলাকার ইটের চেয়ে কোয়ালিটি একটু কম থাকে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রকৌশলী বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ হয়না। এটা ভুল ধারণা। ঠিকাদার কাজ করে আমরা দেখা শুনা করি। আমার অনেক জায়গায় এক সাথে কাজ চলে সব জায়গায় আমরা যেতে পারিনা। হয়তোবা এ ফাঁকে ঠিকাদার খারাপ কাজ করলেও খবর পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করি।

প্রকৌশলী মো.শাহিনুর আলম বলেন, সেনবাগ অভিযোগের জায়গা। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এক মিটিংয়ে বলছে এ এলাকায় এত কম্পেলেন। সেও কোনো এক সময় এখানে চাকরি করে গেছে। সেও এক মিটিংয়ে বলছে এটা রেকর্ড করা। সেনবাগ এটা অভিযোগের জায়গা। এ বিষয় গুলো আমরা কানেই নেয়না। মানুষের অভিযোগ আমি বিশ্বাস করিনা। আমার সাথে আসতে হলে চ্যালেঞ্জে আসতে হবে। সেনবাগ,নোয়াখালী এলাকার অধিকাংশ লোকজন মিথ্যা অভিযোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিয়ে নিয়ে মত বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বিয়ে নিয়ে মত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সোমবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ডালপা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- দুলাল (৫৫), নুরুজ্জামান (৪৫), লিটন মিয়া (৫৫), রজব আলী (৫০) এবং আবু হানিফ (৪৫)।

বিজয়নগর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইউনুস জানান, ডালপা গ্রামের বাসিন্দা খুরশিদ মিয়ার মেয়ের সাথে গত ৪-৫ দিন আগে একই গ্রামের দানু মিয়ার ছেলের বিয়ে হয়। কিন্তু খুরশিদের অন্য ভাইয়েরা এই বিয়েতে মত দেয়নি। এ নিয়ে রোববার খুরশিদের সাথে তার ভাই সাচ্চুর কথা কাটাকাটি হয়। পরে এটি গোষ্ঠিগত বিবাদে রূপ নেয়। সোমবার সকালে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জনকে আটক করে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

মানুষ হাহাকার করছে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে আর সরকার মেতেছে উৎসবে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

গ্যাস, বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ হাহাকার করছে আর সরকার উৎসবে মেতে উঠেছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গতকাল প্রথম রোজা ছিল আর ওই দিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস ছিল না।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, তারা (সরকার) উৎসবে মেতে উঠেছে। বাইরের দেশ থেকে শিল্পী এনে নাচ-গান করছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকেন। আর দেশের জনগণ আধাবেলা খাচ্ছে না, না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। এসবের কোনো খোঁজ তারা রাখে না। এদিকে দৃষ্টি না দেওয়ার কারণে দেশে দুর্ভিক্ষের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

রিজভী বলেন, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা গ্যাস না থাকার কারণে ইফতার তৈরি করতে পারেনি। দেশের জনগণ কষ্টে আছে। তার ভ্রূক্ষেপ করে না সরকার। শুধু উন্নয়ন উন্নয়ন বলে চিৎকার করে। আর দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সমস্যার কারণে মানুষ হাহাকার করছে।

তিনি বলেন, রমজান মাসেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিথ্যা বলতে কোনো জুড়ি নেই। তারা বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলে। কয়েকটা বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়েছি। তারা তো আলো পৌঁছে দেয়নি অন্ধকার দিয়েছে। তারা গণবিরোধী সরকার বলেই জনগণের কোনো উপকার করতে পারে না।

দেশের জনগণের ওপর অবিচার-অনাচারের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে রাস্তায় নামতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

লালমাই পাহাড়ের চূড়ায় এতিম শিশুদের নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের চূড়ায় ৫৭০ ফুট ওপরে এতিমখানায় শিশুদের নিয়ে শুরু হয়েছে আদিনামুড়া দারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম।

হাফেজিয়া মাদরাসা, মেহমানখানা ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাত্রদের বিনামূল্যে লেখা-পড়াসহ চিকিৎসাসেবা সহায়তা প্রদান করার ঘোষণা দেন। তবে মাদরাসায় আরবি ছাড়াও ইংরেজি শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হবে।

এ ছাড়া মেধাবী ও আর্থিক অসচ্ছল ছাত্র-ছাত্রীদের বিনামূল্যে লেখা-পড়া করার সুযোগ দেওয়া হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খেলাধুলার বিশেষ সুযোগ -সুবিধা থাকবে। থাকবে কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাচ্চাদের প্রতিযোগিতা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া পরিচালনা করেন আদিনামুড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আল্লামা হযরত মাওলানা আফজাল হোসেন নূরী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানে আগুন দেওয়ার পরের দিন সেহরির সময় ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আতিকুর রহমান সুমন (২৮) নামে এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার ভোর ৫টায় উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বাঘাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলিপুর গ্রামের মৃত আবু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা বলেন, সুমন খুব ভালো ছেলে ছিলেন। ১৫ বছর ধরে এ গ্রামে বাস করে আসছেন। বাজারে তার একটি ফার্নিচারের দোকান আছে। আগের দিন রাতে তার দোকানে অগ্নিসংযোগ করে। আজ রাত ভোরে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশীদ জানান, বাঘাউড়া গ্রামের বাজারে সুমনের একটি ফার্নিচারের দোকান আছে। সোমবার ভোরে সেহরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠেন তিনি। সেহরি খেয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কে বা কারা তাকে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে সুমনকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানান।

নগরীর সড়কজুড়ে তারের জঞ্জাল, বিদ্যুৎ বিভাগ তার কাটলেও ফেলে রাখে সড়কেই

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা নগরীর প্রধান কয়েকটি সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলছে ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের তার। যে যার মতো বৈদ্যুতিক খুঁটিতে এসব তার ঝুলিয়ে তৈরি করছে জঞ্জাল। এতে নগরীর সৌন্দর্যহানিসহ রয়েছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এ ছাড়া সম্প্রতি নগরীতে বৈদ্যুতিক খুঁটি পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকেরা এসব তারের জঞ্জাল কেটে সড়কের ওপর ফেলে রাখছেন। এতে নগরীতে যানজট ও চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর ব্যস্ততম সড়ক কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, রানীরবাজার সড়ক, জিলা স্কুল সড়ক, ফৌজদারিসহ আশপাশের কয়েকটি সড়কে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে ইন্টারনেট ও ডিশের কাটা তার, কোথাও কোথাও অর্ধকাটা তার ঝুলছে। এতে যানবাহন ও পথচারী এসব তারে জড়িয়ে বিপদগ্রস্ত হচ্ছে।

নগরীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. রাজিব বলেন, ‘গত শনিবার রাতে রিকশায় করে কান্দিরপাড় থেকে চকবাজার যাওয়ার পথে মনোহরপুর এলাকায় সড়কের ওপর ঝুলে থাকা তারে আমার মুখে আঘাত লাগে। অন্ধকার হওয়ায় তার দেখা যায়নি। একটি চলমান সড়কে এভাবে তার ঝুলে থাকার বিষয়টি অপ্রত্যাশিত।’

নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা মোবারক হোসেনের অভিযোগ, নগরীর ব্যস্ত সড়কের ওপর এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে তার প্রায়ই ঝুলে থাকে। এ তারে লেগে একদিন গলার অনেকাংশে কেটে গেছে তার। কোনটা বিদ্যুৎ, কোনটা ডিশ বা নেটের তার বোঝা যায় না। কখন কী হয়, এই ভয়ে থাকেন মোবারক হোসেন।

কুমিল্লা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাত্তার খান শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান জানান, ‘গতকাল সকালে এসে দেখি, পুরো শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এসব কাটা তার ঝুলছে এবং কিছু তার নিচে পড়ে আছে। এতে ক্রেতা ও জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় নিজ উদ্যোগে অপসারণ করেছি।’

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, একটি নগরে এমন বিশৃঙ্খলা মানা যায় না। সড়কে তার ঝুলবে, নিচে পড়ে থাকবে, তা তো হতে পারে না। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। আর খুঁটিতে খুঁটিতে তারের জঞ্জাল, এটিকেও একটি শৃঙ্খলায় নিয়ে আসা দরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, কেব্‌ল অপারেটর, ইন্টারনেট সার্ভিস—সবাই মিলে একটি যৌথ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে।
কুমিল্লা জেলা কেব্‌ল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম রেজাউনুর রহমান রুমি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ ও সিটি করপোরেশন আমাদের না জানিয়ে তার কেটে ফেলে রাখে। এতে গ্রাহকেরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ-সংক্রান্ত কোনো উন্নয়নকাজ বা বিদ্যুতের খুঁটি পরিবর্তন করার আগে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। তা ছাড়া আমাদের কেব্‌ল অপারেটরদের ৮ থেকে ১০টির বাইরে ন্যাশনাল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের আরও ৫০ থেকে ৬০টি সংযোগের তার রয়েছে। তারা মাটির নিচ দিয়ে তার জেলায় প্রবেশ করালেও নগরীতে বিদ্যুতের খুঁটি ব্যবহার করছে। তাই শুধু আমাদের না বলে সবার সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লা-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ আহমেদ জানান, কুমিল্লাসহ পাঁচটি জেলায় বিদ্যুতের নতুন খুঁটি লাগানোর কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা নগরীর খুঁটিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। আর যে এলাকার এসব খুঁটি পরিবর্তন করা হবে, তার আগে ওই অঞ্চলের পুরোনো খুঁটির সঙ্গে লাগানো ডিশ লাইন, ইন্টারনেট লাইন, টিঅ্যান্ডটি লাইন অপারেটর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। যাতে করে তারা আগে থেকে তাদের সংযোগ সরিয়ে নেয়। কিন্তু তারা কর্ণপাত করে না। পরে আমাদের লোক কাজ করতে গেলে সব তার কেটে ফেলে কাজ করে চলে আসে।’

সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসায়ীরা কিছুদিন পরপর কাজ করে সড়কের ওপর তার ফেলে চলে যায়। এতে সড়কে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। তারা গ্রাহক থেকে প্রতি মাসে বিল নেয়, আর সিটি করপোরেশন তাদের শ্রমিক হয়ে কাজ করবে, তা তো হতে পারে না। এটা তো আমাদের দায়িত্ব না। তারপরও আমরা সড়ক থেকে প্রতিনিয়ত এসব অপসারণ করছি। গত মাসে নগরীর সড়ক থেকে প্রায় ৩০ ট্রাক তার অপসারণ করা হয়েছে।

কুমিল্লার মুরাদনগরে সূর্যমুখী চাষে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়ে খুশি চাষিরা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী চাষ করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পেয়ে খুশি চাষিরা। উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সূর্যমুখী চাষ করেছেন ৭০ জন কৃষক।

মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষাবাদের জন্য উপযোগী। কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অপার।

কৃষি বিভাগ সাধারণ কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করতে উদ্যমী কৃষকের হাত ধরে পরীক্ষামূলকভাবে মুরাদনগর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১১ হেক্টর জমিতে প্রথমবারের মতো উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার ও বীজ প্রণোদনার মাধ্যমে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুলের।

বর্তমানে সূর্যমুখী ফুলের সমারোহে মেতে উঠেছে উপজেলার মাঠগুলো। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তেল জাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর চাষ অনেক সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা এতে উৎসাহিত হয়ে উঠবেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামে ও উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী চাষ করা জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছিরা ছুটছেন এক ফুল থেকে অন্য ফুলে তাতে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলি জমি নয়, এ এক দৃষ্টিনন্দন বাগান।

এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অবলোকনে শুধু প্রকৃতিপ্রেমীই নয় বরং যে কারো হৃদয় কাড়বে। তবে সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সূর্যমুখীর চাষাবাদ কৃষকের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে উপজেলার আন্দিকোট, পূর্বধইর পশ্চিম, বাঙ্গরা পূর্ব, কামাল্লা, যাত্রাপুর, রামচন্দ্রপুর উত্তর, রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ, মুরাদনগর, নবীপুর পূর্ব, নবীপুর পশ্চিম, ধামঘর, পাহাড়পুর, বাবুটিপাড়া, টনকি মোট ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৭০ জন কৃষক ১১ হেক্টর জমিতে প্রণোদনার প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকরা এফ-১ (হাইব্রিড) জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা শুরু করেছেন।

এতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ৭০ জন কৃষক সুবিধাভোগী হিসেবে অংশ নিয়েছেন। ফুলের সৌন্দর্য দেখতে খামারে আসছেন দর্শনার্থীরা। অনেকে এটি চাষ করার পরামর্শও নিচ্ছেন। বর্তমানে একঘেয়েমি ধান চাষ করে কৃষকরা তেমন একটা লাভবান হচ্ছেন না। ধান চাষ করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় সেই টাকার ধান পাওয়া যায় না।

তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তেল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ মণ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ লিটার থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনিম্ন বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।

এছাড়া সূর্যমুখী ফুলের তেল অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। তাই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য এই তেল অন্যান্য তেলের চেয়ে অনেক উপকারী ও স্বাস্থ্যসম্মত।

বাখরনগর গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় আমি এই প্রথম ২৫ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছি। আমার সূর্যমুখী ফুলের জমি দেখার জন্য দূরদূরান্ত লোকজন ছুটে আসছে। বিকেল বেলায় অনেকে লোকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেখতে আসেন এ সূর্যমুখী ফুলের জমি, জমির পাশে ছবি তুলেন সময় কাটান অনেকেই। তা দেখে আমার খুবই আনন্দ লাগে! শুনছি এটি খুবই লাভজনক একটি ফসল।

ইতোমধ্যেই প্রতিটি গাছেই ফুল ধরেছে। আশা করি সূর্যমুখী চাষে সফলতা আসবে। লাভবান হতে পারব ইনশাআল্লাহ। কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে ধানের পরিবর্তে আগামী বছর আরও জমি বাড়িয়ে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাকে দেখে এলাকার অনেক কৃষকরা সূর্যমুখী ফুলের চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এখলাছুর রহমান বলেন, সূর্যমুখী এক দিকে মনোমুগ্ধকর ফুল অন্যদিকে লাভজনক ফসল। কৃষকদের বিস্তারিত জানিয়ে সূর্যমুখী আবাদ করার পরিকল্পনা করি। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে সারিবদ্ধভাবে বীজ বপন করা হয়। বীজ বপনের ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়। সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক সার ও দুবার সেচ দিতে হয় এ ফসলে। প্রতি একর জমিতে ২০-২২ হাজার টাকা খরচ হয়। আর এক একর জমির উৎপাদিত বীজ থেকে ৬০-৬৫ হাজার টাকা লাভ করা সম্ভব। সূর্যমুখী গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাঈন উদ্দিন আহমেদ সোহাগ বলেন, এ উপজেলায় প্রথমবারের মতো সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। আগামীতে সূর্যমুখীর চাষ করবে কৃষকরা। সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে তেল উৎপন্ন হয় তা স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন। অলিভ ওয়েলের পরেই সূর্যমুখী তেলের অবস্থান। সয়াবিন ও সরিষা ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণ করবে সূর্যমুখী তেল। বেশি লাভজনক ফসল সূর্যমুখী।

তিনি বলেন, আশা করছি ভালো ফলন হবে। আগামীতে এই উপজেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ ব্যাপক হারে আরও সম্প্রসারিত হবে। প্রথমবার কৃষকেরা সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হবেন বলে আমি আশাবাদী।

কৃষকদের এসব তেল প্রক্রিয়াজাত এবং বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের ৩ মাসেই শেষ বেহাল দশা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কে তিন মাসের মধ্যেই খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৪ এপ্রিল) সকালে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার এ ঘটনার অভিযোগ অনুসন্ধানে কাটাখালী পৌরসভায় যান দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল।

সহকারী পরিচালক মো. আমির হোসাইনের নেতৃত্বে এই দলে ছিলেন উপসহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরীও।

জানা যায়, রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার কাটাখালী বাজার থেকে শ্যামপুর বালুঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণ করা হয় গত বছরের মার্চে। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। তবে কথা ছিল গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে চলাচল করবেন দেওয়ানপাড়া, বাখরাবাজ, শ্যামপুর, চরপাড়া শ্যামপুর বাখরাবাজ, কাটাখালীসহ সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। তবে এই সড়কটি দখলে চলে যায় বালুবাহী ট্রাকের।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, বালুর ট্রাক ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মাণের প্রায় ৭ থেকে ৮ দিন না যেতেই নষ্ট হতে শুরু করে সড়কটি। তবে প্রায় ৩ মাসের ভেতরে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়।

পৌরসভার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন এই এ সড়কপথে এক হাজারের বেশি বালু ট্রাক ও ভারী ডাম্পার চলাচল করে।

শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে বলেন, সড়কটির এ বেহাল পরিস্থিতির কারণে ছেলে মেয়েদের স্কুল-কলেজে যেতে যে কী দুর্ভোগ পোহাতে হয়-তা বলে বোঝানো যাবে না।

দুদক জনসংযোগ দপ্তর জানান, নির্মাণের মাত্র ৩ মাসেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার এই সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। রোববার (৩ এপ্রিল) দুদকের ইনফোর্সমেন্ট ইউনিট ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালায়। এ সময় পৌরসভা থেকে রাস্তাটি নির্মাণের নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দ্বারা পরিমাপ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিমাপ প্রতিবেদন পাওয়ার পর টিম কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দেবে।