All posts by jitu

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মোজাম্মেলের যত দুর্নীতি: টাকা ছাড়া হয়না কোনো কাজ, সকলে তার কাছে জিম্মি

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. মোজাম্মেল হক। এক যুগ ধরে কর্মরত আছেন একই কার্যালয়ে। যার সুবাধে এখানকার নাড়ি-নক্ষত্র সবই তার নখদর্পনে। দীর্ঘদিন যাবৎ একই কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সুবাধে অনুসারী ও সুবিধাভোগিদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন আলাদা সিন্ডিকেট।

তিনিই যেন সর্বেসর্বা। অফিসের অলিখিত বস তিনি। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন সময় নাজেহাল করতেন অফিসের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বড় বড় কর্তাবাবুরাও তার কাছে বাধ্য হয়ে ধরা দিতেন নিজেদের সুযোগ-সুবিধা ও কাজ আদায় করে নিতে। মোজাম্মেলের ক্ষমতার দাপটে তারাও ঐসময় ছিলেন একেবারে অসহায়। ঘুষ না দিলে কারোই কাজ করতো না সে।

আর ঘুষ দিলে নিমিষেই হয়ে যেত সকল কাজ। এ যেন টাকার নৌকা পাহাড়ে চলার মত অবস্থা! দুর্নীতি-অনিয়ম আর ঘুষ বানিজ্যে নিজের নামে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। কিনেছেন বিলাশবহুল গাড়ি। আছে দামি ফ্ল্যাটও। এসব বিষয়ে ক্ষিপ্ত কর্মচারীরা কর্তৃপক্ষ বরাবর দিয়েছেন লিখিত অভিযোগ।

প্রত্যয়নপত্র, বদলি আদেশপত্র প্রস্তুত করে দেওয়া, শান্তি বিনোদন ভাতা, ছুটির দরখাস্ত, বর্ধিত বেতন প্রক্রিয়া, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কাজে কেউ তার কাছে গেলেই নানান অজুহাতে তাদের কাছে সে অর্থ দাবি করতো।

কর্মচারীদের মুখের উপর সরাসরি বলে দিতো ঘুষের টাকা না দিলে কোন কাজ হবেনা। প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের বিষয় নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে দিতো বিভিন্ন হুমকি-ধমকি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মো. মোজ্জামেল হক বিভিন্ন সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনের নাম ভাঙ্গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থেকে নানান কৌশলে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে আটকে দিতেন প্রশাসনিক ও অফিসিয়াল প্রয়োজনীয় সকল কাজ। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকুরি স্থায়ীকরণ, বদলি ফরোয়ার্ডিং, মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর, ছুটি পরবর্তী যোগদান বাবদও তাকে দিতে হতো নগদ টাকা। কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড মঞ্জুরির কাজ সম্পাদনে জনপ্রতি তাকে দিতে হয় কমপক্ষে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। জিপিএফ ঋণ উত্তোলনের জন্য সুবিধাভোগিদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নিতেন গড়ে ১,৫০০-২,০০০ টাকা করে।

শান্তি বিনোদন, ল্যামগ্র্যান্ড, পেনশন, পিআরএল মঞ্জুরি করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাজেট শাখার মোহাম্মদ হানিফের নাম ভাঙ্গিয়ে কর্মচারিদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগও রয়েছে অসৎ এই প্রধান সহকারী মোজ্জামেলের বিরুদ্ধে। তার হাত থেকে রেহাই পায় না হাসপাতালের অভ্যন্তরীন কোন দপ্তর। কমিউনিটি ক্লিনিকের বিভিন্ন ভাউচার পাশ করার নামেও নগদ অর্থ গ্রহণ করেন তিনি। টাকা না দিলে কর্মচারীদের পিআরএল নির্দিষ্ট সময়ে মঞ্জুর না করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করার নজির আছে অহরহ। কখনো কখনো মোটা অঙ্কের টাকা দিলেও সময় অতিক্রান্ত করেই পিআরএল মঞ্জুর কাজ সম্পাদন করেন।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদ থেকে পিআরএলে যান আবুল বাশার। ২০২৪ সালের ফেব্রæয়ারিতে এসে গিয়েছেন পেনশনে। আবুল বাশার স্বীয় স্ত্রীর মৃত্যুর পর পরিবারের সমস্যার কথা জানিয়ে বারবার অফিসে ধরনা দিয়েও কাজ আদায় করতে পারেননি। হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোজাম্মেলের সাথে মোটা অঙ্কের টাকার (১৪ হাজার) চুক্তি না করায় আজও হাসপাতালের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছেন। ২ বছর যাবৎ ঘুরেও এখনো পাননি চাকুরির পেনশনের টাকা। ফাইল আটকে রেখেছেন অভিযুক্ত মোজাম্মেল।

এভাবেই পেনশন মঞ্জুর করার সময় টাকার জন্য কর্মচারীদেরকে জিম্মি করেন মোজাম্মেল। একপর্যায়ে টাকা পেলে পেনশন মঞ্জুর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

আবুল বাশার জানান, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর বহু আশা-আকাঙ্খার পিআরএল ও পেনশনের টাকার জন্য এতটা হয়রানির শিকার হতে হলে কিভাবে চলবে তার সংসার। অথচ এ অর্থ দিয়ে অবসর পরবর্তী সময়ে চলে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক-সাংসারিক চাহিদা নিবারনের সকল কাজ। হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোজাম্মেলের হয়রানির কারণে যথাসময়ে পিআরএল ও পেনশন এর টাকা না পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে এবং রিবারিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। শুধু আমি নই, যারাই কোনো অফিসিয়াল কাজ করতে যায়, টাকা না দিলে মোজ্জামেল তাদেরকে
ভিষণ হয়রানি করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেক্মো) আবুল হাশেম সবুজ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত শতকরা ৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীই হাসপাতালের প্রধান সহকারী মোজ্জামেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ দিবে। টাকার লেনদেন ছাড়া তার কাছ থেকে কোনো অফিসিয়াল কাজ সম্পাদন করা যায় না। একজনের বদলীর জন্য ৩০ হাজার টাকা দিয়েও কাজ করেননি তিনি। তাহার হয়রানি ও অত্যাচারে আমরা দিশেহারা। যেকোনো প্রয়োজনে হয়রানি আতংকে থাকে অফিসের সবাই। এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অসদ্বাচরণ যেন তার নিত্য সঙ্গী। তাহার হয়রানি ও সার্ভিস বুকের জটিলতার ভয়ে আমরা এতদিন তাহার বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও পারিনি। বর্তমানে তাহার আচার-আচরণ ও দুর্নীতির মাত্রা তুলনামূলক বৃদ্ধি পাওয়ায় উপর মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হলাম আমরা।

উপজেলা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ১২ বছর ধরে বেশ ভোগান্তিতে আছে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অফিসের যেকোনো কাজ আদায়ে প্রধান সহকারী মোজ্জামেল হককে প্রকাশ্যে ঘুষ দিতে হয়। টাকা ছাড়া কাজ করাতে চাইলে সবার সাথে সে খারাপ ব্যবহার করে। অবৈধ সম্পদে তিনি কুমিল্লা শহরে একাধিক বিলাশবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে শুনেছি। হরহামেশা চড়েন দামি গাড়িতে। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে নিজস্ব দামি গাড়িও আছে তার। রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য কিছুদিন পরপরই কক্সবাজার-সাজেকসহ দেশের দর্শনীয় নানান জায়গায় স্বপরিবারে ঘুরতে যান তিনি। আমরা তার দুর্নীতি থেকে মুক্তি চাই।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‘আমি কোন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই, ঘুস গ্রহণের কোনো প্রমাণ কারো কাছে নেই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো ডাহা মিথ্যা। প্রয়োজনে আপনারা অফিসে এসে স্যারের (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা) সাথে কথা বলতে পারেন। এসব বিষয় নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাইনা।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, ‘আমি যোগদানের পরই প্রধান সহকারী মোজ্জামেল হক এর নামে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে তাকে সংশোধন হতে বলেছি। পরবর্তীতে অফিসের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী লিখিত অভিযোগ দেয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো পর মোজ্জামেল হকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।’

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, ‘চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী মোজ্জামেল হকের বিরুদ্ধে হাসপাতালের কর্মচারীরা একটি যৌথ অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। আপাতত এসব বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। ভুক্তভোগিদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আরও ভালো হয়। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কুমিল্লা জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন আহ্বায়ক কমিটি, কুমিল্লার উদ্যোগে “টার্ফ গ্রাউন্ডে” জমকালো ফুটবল খেলার আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জিলা স্কুল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন আহ্বায়ক কমিটি, কুমিল্লা অফিসের উদ্যোগে “টার্ফ গ্রাউন্ডে” এক জমকালো ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮ঃ৫০ মিনিটে ফ্লাড লাইটে এই টুর্নামেন্টে চারটি দল অংশগ্রহণ করে।

এর আগে বিকাল সাড়ে ৫ টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত কুমিল্লা অফিসে সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে চা চক্র/ আড্ডায় মজে সবাই।

রাত ৮.৫০ মিনিটে এস কে স্পোর্টস এরিনায় খেলা শুরু হয়।

এর আগে চার দলের প্লেয়াররা ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন।

টিম-এ দলের অধিনায়ক ছিলেন ৯৪ ব্যাচের সাইফুল আলম বাবু। এ টিমের অন্য প্লেয়াররা হলেন ৮০ ব্যাচের শরিফ, ১১ ব্যাচের সাদ, ৯৪ ব্যাচের তারেক, ৭৫ ব্যাচের হেলাল, ৯০ ব্যাচের উল্লাস, ৯৩ ব্যাচের টিটু ও ৮৯ ব্যাচের রবিন।

টিম-বি দলের অধিনায়ক ছিলেন ৯০ ব্যাচের মশিউর । এ দলের অন্য প্লেয়াররা হলেন ১৮ ব্যাচের দাইয়ান, ০১ ব্যাচের নাভিন, ৮৯ ব্যাচের ছোটন, ০৮ ব্যাচের ইভান, ৮৬ ব্যাচের মোজাম্মেল, ৭৭ ব্যাচের মুকিম ও ০২ ব্যাচের রূপক।

টিম-সি দলের অধিনায়ক ছিলেন ৯১ ব্যাচের মানিক। এ টিমের অন্য প্লেয়াররা হলেন ৯৭ ব্যাচের মনা ও সালমান সাঈদ, ৯৪ ব্যাচের মেহেদী ও শিপন, ২০০০ ব্যাচের ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, ০৬ ব্যাচের মুহিন১৩ ব্যাচের শাওন, ৮২ ব্যাচের মিজান।

এবং টিম- ডি এর অধিনায়ক ছিলেন ৮৪ ব্যাচের কামাল। এ টিমের অন্য প্লেয়াররা হলেন ৯১ ব্যাচের লেনিন, ৯৫ ব্যাচের আরিফ, ৭৭ ব্যাচের তপন, ২৫ ব্যাচের রাহিন, ৯৭ ব্যাচের ফটিক, ৯৫ ব্যাচের অপু ও রাসেল।

প্রথম খেলায় টিম- এ ও টিম – বি মুখোমুখি হয়। এ খেলায় ৮৯ ব্যাচের রবিনের গোলে টিম- এ ১-০ গোলে টিম- বিকে হারায়। পরের ম্যাচ টিম- সি ও টিম – ডি মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য ড্র হয়। পরের টাই-ব্রেকারে টিম – ডি জয়লাভ করে।

ফাইনালে টিম- এ ও টিম- ডি মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য ড্র হয়। পরের টাই-ব্রেকারে টিম – ডি চ্যাম্পিয়ন হয়।

খেলা শেষে সব দলের প্লেয়ারদের অংশগ্রহণ ডিনার পার্টির আয়োজন করা হয়। পরে কেক কেটে দিনটি স্মরণীয় করে রাখা হয়।

এ সময় কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাফিজ, ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ শামীম, বাংলাদেশ ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম মান্টু, সিডিপ্যাথ হাসপাতালের পরিচালক ডাক্তার রেজাউল আলম, কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম চপল।

খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন মাধব বণিক ও মাহবুবুল আলম চপল।

মুরাদনগরে নিখোঁজের ৩৬ দিন পর হত্যাকারীর দেওয়া তথ্যে যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগরে নিখোঁজের ৩৬ দিন পর হত্যাকারীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে, উদ্ধার করা হয়েছে মেহেদী হাসান (১৮) নামে এক অটোরিকশা চালকের কঙ্কাল।

বুধবার বিকেলে মুরাদনগর উপজেলার ও বাঙ্গরা বাজার থানার সহযোগিতায় নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের উত্তর ত্রিশ এলাকার একটি ঝোপ থেকে সিআইডি পুলিশের বিশেষ টিম মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করে।

নিহত মেহেদী হাসান বাঙ্গরা বাজার থানার দীঘিরপাড় গ্রামের মৃত মোস্তফার ছেলে। পেশায় তিনি অটোরিকশা চালক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট রাতে বাঙ্গরা বাজার থেকে অটোরিকশা নিয়ে কোম্পানীগঞ্জের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকে মেহেদী নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন তার পরিবার বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।

তদন্তে পুলিশ প্রথমে দিঘীরপাড়ের আইনুল হক ও তার ভাইকে গ্রেপ্তার করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার আইনুল হকের ছেলে খাইরুল ইসলাম (২১) কেও গ্রেপ্তার করা হয়।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে খাইরুল স্বীকার করেছে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই মেহেদীকে হত্যা করা হয়। পরে তার দেখানো স্থানেই কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা কাপড়ের মাধ্যমে নিহতকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।

তিনি আরও জানায়, এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মূল আসামি খাইরুল ইসলামকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য মেহেদীর কঙ্কাল উদ্ধারের ভেঙে পড়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসীরা। তারা দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মির্জা ফখরুলসহ ৪ নেতা যুক্তরাষ্ট্রে কেন যাচ্ছেন, জানালেন প্রেস সচিব

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি সেখানে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।

এ সফরে তার সঙ্গে থাকবেন চারজন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। তারা হলেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং এনসিপির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন।

জাতিসংঘের অধিবেশনে রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশ নেওয়ার বিষয় নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা চলছে। নানাজনে নানা মন্তব্যও করছেন এই সফর নিয়ে।

এরমধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব বলেন, চলতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেবেন। এটি নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো মধ্যস্থতা বা আলোচনার জন্য নয়।

আরও স্পষ্ট করে শফিকুল আলম জানান, এই সফর বাংলাদেশের নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো মধ্যস্থতা বা আলোচনার জন্য নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, ‘তারা সরকারের অংশীদার হিসেবে এ ধরনের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নিচ্ছেন।’

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা সীমান্তে ৮৬ লক্ষ টাকার ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ৮৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

গতকাল বুধবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার যশপুর বিওপি’র অধীনস্থ সুবর্ণপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্তের প্রায় ৩০০ গজ অভ্যন্তরে একটি পরিত্যক্ত অবস্থানে মোট ১,৭৩৩ পিস ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মোবাইল ডিসপ্লে উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৮৬,৬৫,০০০/- (ছিয়াশি লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার) টাকা।

বিজিবি সূত্র জানায়, আটককৃত মোবাইল ডিসপ্লেগুলো কোনো মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এগুলো সীমান্তপথে বাংলাদেশে চোরাইভাবে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জব্দকৃত মালামাল যথাযথ প্রক্রিয়ায় কাস্টমস বিভাগে হস্তান্তর করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

দেবিদ্বারে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে ‘ক্লিনিং ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধন

সোহরাব হোসেন, দেবিদ্বার:

দেবীদ্বার উপজেলায় ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের উপদ্রব হ্রাস এবং মশার উৎপত্তিস্থল নির্মূলে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ক্লিনিং ক্যাম্পেইন’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ‘নিজ পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন, ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া মুক্ত থাকুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, দেবীদ্বার রেয়াজ উদ্দিন সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন হয়।

অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ব্র্যাক-এর স্বাস্থ্য ও যক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি। এটি জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিস বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এর সহায়তায় পরিচালিত হয়।

ক্লিনিং ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান মজুমদার, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, ব্র্যাক হেলথ প্রোগ্রাম অফিসার রুবী রাণী দাস, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য প্রকল্পের কর্মকর্তা এস.এম. ইব্রাহীম, বিদ্যালয়ের বিএনসিসি ও স্কাউট টিইও বিনোদ চন্দ্র সরকার, দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর যক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুল কাদের খান, ক্যাম্পেইনে বিএনসিসি ও স্কাউটের ৩২ জন শিক্ষার্থী এবং দেবীদ্বার পৌরসভার ১০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

হোমনায় মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি: ক্ষুব্ধ জনতার মাজার ও বাড়িঘর ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি ও ধর্মীয় অবমাননাকে কেন্দ্র করে কটুক্তিকারী মহসিনের বাড়িঘর ও মাজার ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আছাদপুর গ্রামের কফিল উদ্দিন শাহের মাজার ও তার পরিবারের বাড়িঘর ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ দেয় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

জানা যায়, কফিলউদ্দিন শাহের নাতি ও আলেক শাহের ছেলে মহসিন বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করেন। এরপরই মুসলিম জনতা ফুঁসে উঠলে হোমনা থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

এরপর বৃহস্পতিবার স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িঘর ও মাজার ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও হোমনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কুুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে বলেন, মহানবী (সাঃ) কে কটুক্তিকারী মহসিন কে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যারা আজকে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে যেন আর কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ফের চোখ রাঙাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে এডিস মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৪৭ জন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগের ২৪ ঘণ্টায় (১৭ সেপ্টেম্বর) ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬২২ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগরের হাসপাতালগুলোতে ২৪১ জন, বরিশাল বিভাগে ১০৮ জন, ঢাকা বিভাগে ১০২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৮ জন, খুলনা বিভাগে ৩৭ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগে ২৫ জন ভর্তি হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ১৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৮৬ জন পুরুষ ও ৮১ জন নারী। এছাড়া চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪০ হাজার ৪৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৪) জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় ও পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।

কুমিল্লার উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দ্রুত ও কার্যকরভাবে শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন,”উন্নয়ন কাজ বিলম্বিত হলে জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। সময়মতো কাজ শেষ করলেই সরকারের পরিকল্পনার সুফল পাবে সাধারণ মানুষ।”

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো: আমিরুল কায়সার। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সরকারের যুগ্মসচিব মো: শাহ আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান, কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১৭টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।

সভায় জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন,”সমন্বয়ের অভাব অনেক সময় উন্নয়ন কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তাই বিভাগ ও দপ্তরসমূহের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সময়মতো প্রতিবেদন প্রদানের মাধ্যমে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী সভায় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন,”প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারলে জেলার উন্নয়ন একটি মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

উল্লেখ্য, কুমিল্লা জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনায় রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে আধুনিকীকরণ, সড়ক পরিবহন উন্নয়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

সভার শেষাংশে জেলা প্রশাসক মো: আমিরুল কায়সার সকল কর্মকর্তাদের প্রতি সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নিয়মিত প্রতিবেদন উপস্থাপনের অনুরোধ জানান।

দাউদকান্দিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দিতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় আমিরাবাদ-কচুয়া সড়কের উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের শ্রীচাইল ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে স্থানীয়রা। কয়েকশতাধিক স্থানীয় গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মিছিলটি মলয় বাজার প্রদক্ষিণ করে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্যে স্থানীয় নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মকবুল হোসেন ভূঁইয়া, আলী আজম ও আসিক বক্তব্য রাখেন।

তারা বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সফল হলেও এলাকায় এখনো চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি, বরং দিন দিন তা বেড়েই চলছে। রাতে স্বস্তিতে ঘুমানো যাচ্ছে না, আতঙ্কে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের।

বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় একটি চক্র সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ইয়াবা ব্যবসাসহ নানান অপরাধ করে আসছে। তারা সাধারণ মানুষকে নিয়মিত হুমকি-ধামকিসহ হয়রানি করে আসছে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাদ, মাদক কারবারিদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করছি।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মানববন্ধনের বিষয়টি জানিনা। তবে মাদক, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে কাউকে কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না।