All posts by jitu

কুমিল্লায় অবৈধ এলপিজি ক্রস ফিলিং বন্ধে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় অবৈধ এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) ক্রস ফিলিং বন্ধে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় জেলার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর, বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

“সঠিক সিলিন্ডার ব্যবহার করুন, দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলুন” এই স্লোগানে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমানত উল্লাহ।

সভায় বক্তব্য রাখেন মাহবুবুল ইসলাম সিবিও জি গ্যাস, সিফাত মঞ্জুর সি ম্যানেজার ইউনিটেক্স, আবু বকর সিদ্দিক এন এস এম বেক্সিমকো ,রফিকুল ইসলাম এজিএম ফ্রেশ, মুকিত ইবনে সিদ্দিকী সি ম্যানেজার ফ্রেশ এলপিজি ,এল‌,পি‌,জি ডি‌স্ট্রিবিউটর এসো‌সি‌য়েশন সাধারণ সম্পাদক ম‌নি মুক্তা পাল এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রজেক্ট‌রে বি‌ভিন্ন দিক তু‌লে ধ‌রেন ফ্রেস এল‌পি গ‌্যা‌সের ডিপুটি ম্যানেজার ও আহবায়ক এলপিজি লিডার্স কুমিল্লা বিভাগ (লোয়াব)হো‌সাইন মারুফ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রায় সব কোম্পানির সিলিন্ডারে অবৈধভাবে গ্যাস রিফিল করা হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন সিলিন্ডার ব্যবহারে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। ওজনে কম দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সাধারণ ক্রেতাদের প্রতারণা করছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং সঠিকভাবে ব্যবসা করা পরিবেশকদের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সভায় ২২টি কোম্পানির প্রতিনিধিসহ জেলার এলপিজি পরিবেশকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা এই সমস্যা নিরসনে অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

দেবীদ্বারে নিখোঁজের ১৬ ঘণ্টা পর মিলল যুবকের মরদেহ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা দেবীদ্বার উপজেলায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১৬ ঘণ্টা পর বিমল চন্দ্র দাস (৩১) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের কুড়াখাল গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ডিপ টিউবওয়েলের নালার গর্তে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত উপজেলার ভাণী ইউনিয়নের আসাদনগর গ্রাম হিন্দুপাড়া কোনাবাড়ির দিলীপ চন্দ্র দাসের ছোট ছেলে।

মৃতের বড় ভাই বাদল চন্দ্র দাস জানান, আমরা ২ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে বিমল ছিল মেজো এবং অত্যন্ত মেধাবী। তাকে মেডিক্যালে পড়ানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু ২০১০ সালে সে মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে এমএ পাস করে। মানসিক রোগের কারণে বেকার ছিল। ২০২৩ সালে তার বিয়ে হলেও পারিবারিক কারণে ২০২৪ সালে বিচ্ছেদ ঘটে।

মৃতের বাবা দিলীপ চন্দ্র দাস জানান, রবিবার সকাল ৮টার দিকে মুড়ি খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে থানায় গিয়ে ছেলেকে শনাক্ত করি।

দেবীদ্বার থানার ওসি বলেন, বিমল মানসিক রোগী ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে কুড়াখাল গ্রামের ডিপ টিউবওয়েলের নালার গর্তে পড়ে যান। পাশের এক প্রবাসীর স্ত্রী শব্দ পেয়ে লোকজন ডাকেন। তখন ইউছুফ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি গিয়ে দেখেন, তিনি কাদায় উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি আসাদনগর গ্রামের রাস্তা খোঁজ করেন। পরে সেখান থেকে উঠে কিছুদূর গিয়ে তিনি আবারও নালায় পড়ে যান। তার গোঙানির শব্দ শুনে আরেক ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করেন। তবে পুলিশ আসার আগেই মারা যান তিনি। পুলিশ গিয়ে অজ্ঞাত হিসেবে মরদেহ উদ্ধার করে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দেবীদ্বার-বি-পাড়া সার্কেল মোহাম্মদ শাহীন বলেন, নিহতের মুখমণ্ডলে টিনের কাটা দাগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কাদায় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার সময় নালার পাশের টিনে আঘাত লেগে এই দাগ হয়। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

তিতাসে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখলের হিড়িক

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার গৌরীপুর-হোমনা সড়কের তিতাসে সড়কের দুই পাশের সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখলের হিড়িক পড়েছে। সওজের সড়কের উভয় পাশের ফাঁকা জায়গায় ভরাট করে যে যার মতো আয়ত্তে নিচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রভাবশালী দখলে জড়িত দাবি স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি এলকায় সড়কের পশ্চিম পাশে সওজের জায়গায় টং দোকানের আড়ালে বালু ভরাটের মাধ্যমে অবাধে দখলে নিচ্ছেন । এলাকাবাসীর ভাষ্য, এ ধরনের অবৈধ দখলের ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। সওজ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা বা কোন প্রকার বাঁধা দেয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আল-আমিন হক বাবুর নেতৃত্বে কড়িকান্দি সড়ক ও জনপদ বিভাগের রেকডভুক্ত জায়গা বালু দিয়ে ভরাট চলছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত উপজেলার গৌরিপুর-হোমনা আঞ্চলিক সড়কের জিয়ারকান্দি এলাকা থেকে বাতাকান্দি এলাকা পর্যন্ত সওজের জমি অবৈধভাবে দখল করার মাধ্যমে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন নতুন স্থাপনা। এসব স্থানে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা বছরের পর বছর দখল করে থাকলেও উচ্ছেদে কার্যত পদক্ষেপ নেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের। এতে সড়কটির কড়িকান্দি এবং বাতাকান্দি এলাকায় প্রতিদনই যানজট লেগে থাকে বলে স্থানীয়রা জানান।

তিতাস উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন হক বাবুর মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, এটা যাদের জায়গা তারাই ভরাট করতেছে, এর সাথে আমার কোন রকমের সম্পৃক্ততা নেই। আর আমার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা মিথ্যা রটাচ্ছে তাদের ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারী জায়গা কে ভরাট করছে এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, জায়গাটি আগে আওয়ামী লীগের লোকজনের দখলে ছিল। এখন যারা দখল করছে আমার আত্মীয় হলেও তাদেও সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা সওজের কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। উনার বলেছেন সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নিবেন।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ এর নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, বালু ভরাটের মাধ্যমে আমাদের সরকারী জায়গা দখলের বিষয়টি জানা নেই। তবে আমাদের লোক পাঠিয়ে খবর নিব এবং দখলদারদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মতলবের নারায়ণপুর বাজারে হাসপাতাল ও ফার্মেসীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং চাঁদপুর জেলা প্রশাসক এর সার্বিক নির্দেশনা মোতাবেক চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে অভিযান পরিচালনা করেছেন চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ মোতাবেক লঙ্ঘনজনিত অপরাধে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারের বায়েজীদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট পাওয়া ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করায় উক্ত প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এবং ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রয়ের অপরাধে একই বাজারের শেখ ফার্মেসীকে ৫ হাজার টাকা সহ দুই প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করেন চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল ইমরান।

চাঁদপুর জেলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মোঃ নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকগণ পূণরায় এ ধরনের অনিয়ম করা থেকে বিরত থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এছাড়াও এদিন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও সতর্ক করে দেওয়া হয়। এ অভিযান পরিচালনাকালে আবদুল্লাহ আল ইমরান বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্য হতে বিরত থাকার জন্য লিফলেট ও পাম্পলেট বিতরণ করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে সকল ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙানো, ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ করা, নকল ও ভেজাল পণ্য/ঔষধ বিক্রয় থেকে বিরত থাকা এবং অবৈধ মজুদদারী করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চাঁদপুরে অজ্ঞাত নবজাতককে দাফনের সময় দেখে জীবিত: ৮ ঘন্টা পর মৃত্যু

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরে ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। মৃত বলে ধরে কবরস্থ করার জন্য পৌর কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া এক শিশুর কবর খোঁড়ার আগে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ৮ ঘন্টা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মারা যায় শিশুটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর পৌর কবরস্থানের কবর খোদক শাহজাহানের নিকট আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি কার্টুনে করে শিশুটিকে হস্তান্তর করে। তিনি জানান, শিশুটি দুই-তিন মাস বয়সী এবং মৃত, তাই দ্রুত কবরস্থ করার অনুরোধ করেন। কবর খোদক শাহজাহান মিয়াজী বলেন, “নামাজের সময় হয়ে যাওয়ায় আমি বাচ্চাটিকে আমার সহকর্মীর কাছে রেখে নামাজে যাই। সহকর্মী কবরস্থ করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎই দেখতে পান শিশুটি নড়ছে। খবর পেয়ে আমি এসে দেখি বাচ্চাটি জীবিত।” ঘটনার খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে ছুটে যান। পরে তারা শিশুটিকে স্থানীয় ফেমাস স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান এবং দ্রুত এনআইসিইউতে ভর্তি করানো হয়।

পরে আট ঘন্টা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শিশুটি রাত ৯টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নবজাতকটির ওজন ছিল ৮০০ গ্রাম। তাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়। নবজাতকটিকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে আনা হলে বিনা খরচে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু রাত ৯টার দিকে সে মারা যায়। স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় রাত আড়াইটায় তাকে দাফন করা হয়। তবে অনেক পরিবার তার দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে হাসপাতালে ছুটে আসেন।

স্থানীয়রা জানান, কবরস্থানের আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরা ও হোটেলের ফুটেজ পরীক্ষা করলে শিশুটিকে ফেলে যাওয়া ওই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি চাঁদপুরবাসীর মনে প্রশ্ন তুলেছে; কীভাবে একটি জীবিত শিশুকে মৃত ঘোষণা করে কবরস্থ করতে আনা হলো এবং কে বা কারা এই অমানবিক কাজের সঙ্গে জড়িত। এর সঠিক তথ্য উদঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, পৌর কবরস্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় নবজাতকটিকে রেখে যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

চৌদ্দগ্রামে ফজরের নামাজের যাওয়ার পথে ট্রাকচাপায় প্রবাসী নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফজরের নামাজের যাওয়ার পথে অজ্ঞাত ট্রাকের চাপায় প্রবাসী এক যুবক নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে চৌদ্দগ্রাম লাকসাম আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত প্রবাসী শাহজালাল (২৫) উপজেলার চান্দিশকরা গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হেলাল উদ্দিন আহমেদ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের বড় ভাই শাহাদাত বলেন, আমার ভাই প্রবাসে অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য দেশে আসেন। সোমবার ভোর ৫টার দিকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। মসজিদে যাওয়ার পথে পিছন থেকে অজ্ঞাত নামা ট্রাকচাপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলে সে মারা যায়।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক লিটন বলেন, লাশের প্রাথমিক সুরতহাল তৈরি করা হয়েছে। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

নামাজে গিয়ে আর ফেরা হলো না, রেললাইনের পাশে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর রেললাইনের পাশ থেকে এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ । নিহতের নাম জামশেদ ভূঁইয়া (৪৫)।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর পালপাড়া রেললাইনের পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

নিহত জামশেদ ভূঁইয়া নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড কালিয়াজুরী ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা এবং সাবেক কমিশনার মরহুম আব্দুল কুদ্দুস ভূঁইয়ার তৃতীয় পুত্র।

কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, “শনিবার সন্ধ্যায় জামশেদ ভূঁইয়ার ভাই থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগ করেন। তিনি জানান, মাগরিবের নামাজ পড়তে বেরিয়ে জামশেদ আর বাসায় ফেরেননি। অভিযোগের পরপরই আমরা অনুসন্ধান শুরু করি এবং রোববার বিকেলে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর মাত্র কয়েকদিন আগেই একই এলাকার এক বাসায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও তার মা তাহমিনা বেগম খুন হন। একই এলাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরেকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে।

পুলিশ বলছে, পরপর এমন কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন এবং খুব শিগগিরই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বরুড়ায় মঞ্জুর হত্যা মামলার আসামি কামাল গ্রেফতার

শাহ ফয়সাল কারীম:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের মৃত মোঃ সিরাজুল ইসলামের ছেলে মঞ্জুর মরদেহ ২০১৪ সালে গালিমপুরে কাবলি পুকুর নামে পরিচিত(মুন্সিবাড়ি ও হাজী বাড়ির মাঝখানে রাস্তার পূর্বপাশে) পুকুরে পাওয়া যায়।

২০১৪ সালে পরিবারের পক্ষ থেকে মইনুল ইসলাম বাদী হয়ে গালিমপুর গ্রামের আব্দুল কাদের কন্টাক্টরের ছেলে মোঃ কামাল কামালের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয় সূত্র ও নিহত মঞ্জুর পরিবারের পক্ষ থেকে জানায়, আসামি বিভিন্ন কৌশলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, প্রকাশ্য এলাকাতে ঘুরতেন। গত রবিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মঞ্জু হত্যার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। তবে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে তার পক্ষ হয়ে লেখেন তিনি বরুড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কাজী নাজমুল হাসান বলেন, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

মইনুল ইসলাম বলেন, আমার ভাই মঞ্জুর হত্যার এক নাম্বার আসামিকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, তবে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানাই।

শাহরাস্তিতে দুর্ঘটনার ৭ বছরেও পায়ের রিং খুলতে পারছেন না মেধাবী ছাত্র দীপ্ত

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক অসহায় পরিবারে জন্ম নেয়া মেধাবী ছাত্র দীপ্ত চন্দ্র দাস। সড়ক দুর্ঘটনায় তার একটি পা হারানোর ঝুঁকিতে আছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। ২২ বছর বয়সী এ তরুণ উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের কুলশী ধোপা বাড়ির শ্যামল চন্দ্র দাসের একমাত্র পুত্র সন্তান। তিনি দুর্ঘটনায় ভাঙ্গা পা নিয়েও দিয়েছেন এসএসসি পরীক্ষা। নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে টামটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অর্জন করেছেন ভালো ফলাফলও। তার এমন কৃতিত্বে খুশি এলাকার লোকজন। কিন্তু ভাগ্যের এমন ভেড়াঝালে ঘুড়েনি জীবন চাকা। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর দীপ্ত কেবল শারীরিকভাবে পঙ্গুত্ববরণই করছেন না, তার পরিবারের উপর নেমে আসে তীব্র আর্থিক সংকট। দুর্ঘটনায় তার চিকিৎসা ব্যয় এতটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে যে, তার পরিবার ঋণগ্রস্ত, নিঃস্ব কিংবা পথে বসতে বাধ্য হচ্ছে।

পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীপ্ত চন্দ্র দাস গত ২০১৮ সালের শেষের দিকে রামগঞ্জ থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের জিয়ানগর এলাকায় সিএনজি মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দীপ্তকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। দীপ্তকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা পঙ্গু হাসপাতালে গেলে সেখানে ইমারজেন্সি এই চিকিৎসা হবেনা বলে বাহিরের এক দালালের পরামর্শে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসাকালীন এই সময়ে এক লক্ষ ২১ হাজার টাকা শুধু সিট ভাড়া দিয়েছেন বলে জানান দীপ্ত চন্দ্র দাসের মা জোছনা রানী দাস।

তার মা এ প্রতিবেদককে জানান, আমার ছেলে খুবই মেধাবী একজন ছাত্র ছিলেন। আরো আট দশটা সন্তানের মতো আমার ছেলেও খুব সুন্দরভাবে চলাচল করতো। গত সাত বছর আগের এমন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার ডান পা ভেঙ্গেচুরে এখন হারানোর পথে। তৎকালীন এলাকাবাসীর সহযোগীতা আর নিজের বসতভিটা সহ অন্যান্য সম্পতি বিক্রি করে আমার ছেলের চিকিৎসা করাই। তার পায়ে রিং স্থাপন করে ২ বছর পর খুলে নেয়ার কথা বলেন ডাক্তার। কিন্তু আমাদের আর্থিক অস্বচ্ছতার কারনে আর পায়ের রিং না খোলায় পায়ের মাংস পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অপারেশনের মাধ্যমে তার এই রিং খোলা সহ অন্যান্য খরচ লাগবে প্রায় আড়াই লাখ টাকা থেকে ৩ লক্ষাধিক টাকার মতো। এই টাকার ম্যানেজ করতে না পাড়ায় আমার ছেলে এখন ঘরবন্দী হয়ে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

অশ্রুসিক্ত নয়নে দীপ্তের মা আরো বলেন, আমার ছেলের দৈনন্দিন ঔষধ খরচ সহ সংসারের খরচ বহনে আমার দিনমজুর সহজ সরল স্বামীর রোজগার যেন কিছুই না। তাই আমি নিজেও অন্যত্র গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখন যে অন্যের ভিটায় বসবাস করে আসছি, তারা যদি আমাদের তাড়িয়ে দেয় তাহলে আমরা রাস্তায় যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। তাই আমার ছেলেকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে সমাজের বৃত্তবান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করছি। ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতা পেলে আমার ছেলে দীপ্ত উন্নত চিকিৎসা নিয়ে বাঁচতে পারবে হাসিখুশি। ফিরে পাবে নতুন জীবন। সহপাঠীদের সাথে যেতে পারবে কলেজে।

এ বিষয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সহযোগিতা চেয়ে দীপ্ত চন্দ্র দাস বলেন, আমাকে আপনারা একটি নতুন জীবন দান করেন। আমি চাই সবার মতো আমিও স্বাভাবিক জীবন উপভোগ করি৷ কলেজে ভর্তি হয়ে পূণরায় পড়াশোনা শুরু করে আমার পরিবার ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি।

প্রিয় পাঠক- দীপ্ত চন্দ্র দাসের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার ব্যবহৃত ০১৮২০-৯৩৫৩১২ এই নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। সেই সাথে উক্ত প্রতিবেদকের ০১৮৩০-৮৮৫০০০ এই নম্বরেও যোগাযোগ করে আরো তথ্য পেতে পারেন। এছাড়াও দীপ্তের পাশে থেকে কাজ করা সামাজিক সংগঠন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা, শাহরাস্তি শাখার নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়। তাদের ০১৬৮৩-৮৮৭৫৯০ এই নম্বরেও যোগাযোগ করা যাবে। সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম— দীপ্ত চন্দ্র দাস, একাউন্ট নম্বর: ২২০৪১৮৭৮৬০০০১, সিটি এজেন্ট ব্যাংক, রাউটিং নম্বর: ২২৫২৭২৬৮৪। এছাড়াও তার ০১৮৪৯-৫০৮৭২৬ এই বিকাশ নম্বরেও সাহায্য পাঠানো যাবে।

কুমিল্লায় অসুস্থ বাবাকে দেখতে যাওয়ার সময় সড়কে ঝরল পুলিশ সদস্যের প্রাণ

ডেস্ক রিপোর্ট:

অসুস্থ বাবাকে দেখতে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে রিয়াজ উদ্দিন (৩১) নামে এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি কুমিল্লার লালমাই থানায় কর্মরত ছিলেন।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১২টায় উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম চেঙ্গাহাটা বাগমারা-মগবাড়ি সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার ঘড়িমণ্ডল গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। তার একটি ছেলে ও মেয়েসন্তান রয়েছে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাড়ির উঠোনে পিছলে পড়ে রিয়াজের বাবা বেলাল হোসেনের একটি হাত ভেঙে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে রিয়াজ ছুটি নিয়ে গতকাল শনিবার রাত ১১টার পর নিজের ১২৫ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেলে বাগমারা-মগবাড়ি সড়ক দিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কর্মস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে পশ্চিম চেঙ্গাহাটা মোড়ে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি সড়কের পাশের ডোবায় পড়ে যান।

মাথায় হেলমেট পরা থাকলেও সড়কের পাশে একটি পিলারে আঘাত লাগায় তার থুতনি ফেটে যায়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বাবা বেলাল হোসেন জানান, ছেলে ছুটি নিয়ে আমাকে দেখতে বাড়ি আসতেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাকে চিরস্থায়ী ছুটিতে পাঠাল। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।

লালমাই থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ছুটি নিয়ে পুলিশের কনস্টেবল রিয়াজ উদ্দিন বাড়ি যাচ্ছিলেন। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি শনিবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা তার মাগফেরাত কামনা করছি।

২০১৩ সালের ২৯ মার্চ তিনি কনস্টেবল হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।

গত ১৫ আগস্ট লালমাই থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মভার গ্রহণের আগে তিনি সিলেট রেঞ্জের হবিগঞ্জ জেলায় কর্মরত ছিলেন।