All posts by jitu

শ্রী গোয়াল মথন কালী মন্দির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ডের ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী গোয়াল মথন কালী মন্দিরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে গতকাল রবিবার। এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ২৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে মন্দির চত্বরের আশেপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা অপসারণ করে পরিস্কার রাখা হয় মন্দির এলাকা। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এ উদ্যোগটি স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আবু সাইদ বলেন, “আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে আমাদের এই উদ্যোগ মন্দিরের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের জন্য একটি সহযোগিতা হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। আমরা সব সময় জনগণের পাশে থাকতে চাই।”

স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের স্বেচ্ছাশ্রমের উদ্যোগ শুধু পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাই নয়, পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনও দৃঢ় করে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের একাধিক কর্মী।

কুবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় সমাবর্তন

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী।

সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেবেন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি। সে সমাবর্তনে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এবার ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ফার্মেসি বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করতে পাঁচ বছর সময় লাগায় ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ সমাবর্তনে থাকছেন না।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, দীর্ঘ সময় পর আমরা আবারো সমাবর্তনের আয়োজন করছি। যদিও প্রতিবছর করার কথা থাকলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয় না। দেখা যায়, মূল সনদ তুলতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই সমাবর্তনে শিক্ষার্থীরা তাদের সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট পাবে। আশা করি, এরপর থেকে আমরা আরো দ্রুত সমাবর্তনের আয়োজন করবো।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “আমরা মাত্র অনুমতি পেয়েছি। এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না কারা সমাবর্তনে অংশ নেবেন। শিগগিরই একটি কমিটি গঠন করে পূর্ণাঙ্গ ফরম্যাট তৈরি করে জানিয়ে দেওয়া হবে।”

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হায়দার আলী বলেন, “২০২০ সালে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সমাবর্তন হয়েছিল। এরপর যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা সবাই এবার দ্বিতীয় সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।”

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিগগিরই দুপুরের খাবার চালু, থাকবে বন রুটি, কলা, ডিম ও ফল

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিগগিরই দুপুরের খাবার চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য দুপুরের খাবারে থাকবে বন রুটি, কলা, ডিম ও দেশীয় ফল।

রবিবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, শুধু শিক্ষার পার্সেন্টেজ বাড়ালে হবে না, গুণগত মান বাড়াতে হবে। এজন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার মূল ভিত্তি। শিক্ষা জীবনের শুরুতে একজন স্টুডেন্ট যখন শক্ত অবস্থান করবে তখন তার বাকি শিক্ষাজীবন ভালোভাবে কেটে যাবে। অন্যথায় অপূর্ণতা থেকে যাবে। এজন্য আমরা প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রকৃত শিক্ষায় রূপান্তরিত করতে চাই।

তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবরের শুরুতে দেশের ১৫০টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার চালু করা হবে। স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য থাকবে বন রুটি, কলা, ডিম ও দেশীয় ফল।

তিনি বলেন, যেসব স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা পিছিয়ে রয়েছে তাদের জন্য এক্সটা ক্লাসের ব্যবস্থা নিতে প্রাইমারি স্কুলগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক সহ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। রোববার ভোরে মহাসড়কের ফেনীর লেমুয়া হাফিজিয়া লালপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ও আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর পাঁচটার দিকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ফেনীর দিকে আসছিল। পথিমধ্যে লেমুয়া লালপুল হাফেজিয়া মাদরাসার সামনে বাসটি ওইখানে পূর্বে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ি দুটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন ও দুইজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরেকজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ও নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ফেনী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আবদুল মজিদ জানায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি থেকে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

ফেনী মহিপাল হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি দুটি সরিয়ে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। গাড়ি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লায় বাঙ্গরা বাজার থানাকে উপজেলা ঘোষণা করার দাবিতে জনসভা

ফয়সাল ইকবাল, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নে বাঙ্গরা বাজার থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণার দাবিতে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল জনসভা। ৬সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার বিকেলে শ্রীকাইল কৃষ্ণ কুমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে এ সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

সমাবেশ পরিচালনা করেন কমল সরকার। বক্তারা এ দাবিকে যুগোপযোগী উল্লেখ করে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বলীঘর গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবক গোলাম কিবরিয়া সরকার। আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কামরুল হাসান কেনাল, বলীঘর হুজুরী শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি তাহমিনা বেগম, রাজনীতিবীদ আব্দুর রাজ্জাক, বাক্কিছ মেম্বার, সাজ্জাদ হোসেন, এম কে আই জাবেদ, তানভীর সরকার, হাফেজ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, বাঙ্গরা বাজার থেকে মুরাদনগর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এই কারণে প্রশাসনিক, শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত ৭/৮ লাখ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একটি সাধারণ প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতেই মানুষকে পুরো দিন ব্যয় করতে হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাঙ্গরা বাজার থানাকে উপজেলা ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই।

বক্তারা আরও বলেন, শ্রীকাইল, আকুবপুর, আন্দিকোট, উত্তর রামচন্দ্রপুর, পশ্চিম বাঙ্গরা, পূর্ব বাঙ্গরা, পূর্বধৈর, পশ্চিমধৈর, টনকী ও চাপিতলা—এই ১০টি ইউনিয়নকে নিয়ে বাঙ্গরা বাজার থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণা করা সময়ের দাবি।

কুমিল্লা -০২ (হোমনা-তিতাস) আসন পুনর্বহালে বিএনপির আনন্দ মিছিল

 

রাসেল আহমেদ, হোমনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পর আনন্দ মিছিল করেছে হোমনা উপজেলা বিএনপি ও পৌর বিএনপি।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হোমনা উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা এই আনন্দ মিছিল বের করেন।

মিছিলটি হোমনা চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এরপর বাসস্ট্যান্ড হয়ে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতা-কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

সমাবেশে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক জহরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আজিজুর রহমান মোল্লা, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সিরাজ মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম, বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ, আকবর আলী মেম্বার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাইনুদ্দিন সরকার ও হোমনা কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. নাঈমসহ অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

বক্তারা বলেন, এই আসন পুনর্বহালের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে হোমনা ও তিতাস উপজেলার জনগণ রাজনৈতিকভাবে নতুন করে অনুপ্রাণিত হবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন হোমনা ও তিতাস উপজেলাকে একত্রিত করে কুমিল্লা -০২ সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে।

কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আনন্দ মিছিল

শাহ ফয়সাল কারীম:

কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে শনিবার মোস্তফাপুর খানকায়ে ছালেহীয়া কমপ্লেক্স ও কুমিল্লা মারকাজুন নাজাত নেছারিয়া মাদরাসার উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও জীবনী মুসলমানদের জন্য পথপ্রদর্শক। যদি আমরা তাঁর দেখানো আদর্শ ও জীবনব্যবস্থা অনুসরণ করি, তবে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি লাভ করা সম্ভব। তারা আরও বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রদত্ত দিকনির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এতে সমাজ ব্যবস্থা সুন্দর ও কল্যাণময় হয়ে উঠবে। এ সময় বক্তারা সবাইকে বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফাপুর খানকায়ে ছালেহীয়া কমপ্লেক্সের মুদির (প্রধান শিক্ষক) হযরত মাওলানা মুফতি জাকারিয়া হুসাইন, কুমিল্লা মারকাজুন নাজাত নেছারিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম ছালেহীসহ আরও অনেকে।

কুমিল্লায় তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার উপর গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ‘তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার উপর মুক্ত আলোচনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৬ সেপ্টেম্বর) সকালে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তাওহীদের পক্ষ থেকে জেলার জমজম টাওয়ারের গোল্ডেন স্পুন হোটেলে এই আয়োজন করা হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপ-সম্পাদক রাকিব আল হাসান। তিনি সংগঠনটির সর্বোচ্চ নেতা হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের রচিত ‘তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা’ গ্রন্থের আলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরেন। সেইসাথে বর্তমানে রাষ্ট্রের অস্থির পরিস্থিতি ও প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের সমাজ আরবের আইয়ামে জাহেলিয়াতকে হার মানিয়েছে। মব কালচারের কারনে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। কবর থেকে মৃত মানুষের লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা জাহেলিয়াতকে হার মানিয়েছে। রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুদ ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এই ব্যবস্থা গুটিকয়েক মানুষ সুবিধা ভোগ করে। পুঁজিপতিরা আরে ধনবান হয় আর সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হয়। বিচার ব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত মামলার জট বাড়ছে। মিথ্যা মামলা, মিথ্যা স্বাক্ষ্য ও ত্রুটিযুক্ত বিচার ব্যবস্থার কারনে মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক সময় নিরপরাধ ব্যক্তি বছরের পর বছর কারাগারে থাকার পর নির্দোষ প্রমানিত হয়ে নিজেদের জীবনের মূল্যবান সময় হারিয়ে ফেলছেন।

শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায় সেটা অশিক্ষিত নয় বরং শিক্ষিত মানুষের মাধ্যমে হচ্ছে। বৃটিশদের বিভক্তিকরন নীতি ও কেরানী শিক্ষা ব্যবস্থার কারনে আজ এই অবস্থা। বৃটিশ প্রভূরা মাদ্রাসা শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। আর সাধারণ কেরানি শিক্ষা ব্যবস্থার কারনে মানুষ নীতি-আদর্শ বিবর্জিত স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক হচ্ছে। যে কারনে তারা নিজেদের স্বার্থে দেশের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

এভাবে তিনি প্রচলিত রাষ্ট্রনীতি, বিচারব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা সহ বিভিন্ন বিষয়ে ত্রুটি তুলেধরে তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে আলোকপাত করেন। দেশে চলমান মবকালচার, নিরাপত্তাহীনতা, অন্যায়, দূর্নীতি বন্ধ করতে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে হেযবুত তাওহীদের প্রস্তাবনার বিস্তারিত জানতে ‘তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা’ বইটি পড়ার অনুরোধ রাখেন।

কুমিল্লা জেলা হেযবুত তাওহীদের সভাপতি মোঃ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় আমির মাহবুব আলম।

তিনি বলেন, মানুষ আল্লাহ সৃষ্টি। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজবদ্ধ ভাবে থাকতে হলে একটি ত্রুটিমুক্ত নিখুঁত জীবনব্যবস্থা প্রয়োজন। যেটা মানুষের পক্ষে তৈরী করা সম্ভব নয়।

কেন সম্ভব নয় সে বিষয়ে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মিষ্টি বিষয়ে যদি কাওকে আইন রচনা করতে বলা হয় তাহলে যিনি মিষ্টি পছন্দ করেন তিনি মিষ্টির উপকারীতা তুলে ধরে লিখবেন। অন্যদিকে মিষ্টির বিষয়ে যদি কোন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তি লেখেন তাহলে তিনি মিষ্টির ক্ষতিকরক দিক তুলে ধরবেন। এভাবেই জীবনব্যবস্থা প্রনয়নের ক্ষেত্রেও মানুষ তার স্বভাবজাত চরিত্রের কারনে নিজের সুবিধা বিবেচনা করবে। যে কারনে আল্লাহর দেওয়া ত্রুটিমুক্ত জীবন ব্যবস্থা ছাড়া মানুষের তৈরী বিধান দিয়ে কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সংবিধানে ১৭ বার পরিবর্তন আনা হলেও তা জাতিকে কাঙ্ক্ষিত শান্তি দিতে পারেনি, কারণ মানুষের তৈরি এই ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ ও দুর্বল। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আল্লাহর হুকুমের ভিত্তিতে একটি তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আর এই ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করলে যে শান্তি আসবে তার বাস্তব প্রমান রাসুলুল্লাহ সাঃ এর সেই শাসনামল। যেই আদর্শের কারনে জাহেলিয়াতের নিমজ্জিত সেই সমাজের বর্বর মানুষগুলো সোনার মানুষে পরিনত হয়েছিলো।

‘তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা’ গ্রন্থের আলোকে রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরার শেষে গোলটেবিল বৈঠক উপস্থিত বিভিন্ন অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী, ইসলামী চিন্তাবিদ, প্রবীন রাজনীতিবিদ ও প্রথিতযশা সাংবাদিকেরা সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদ কুমিল্লা অঞ্চলের আমির মো. সাইফুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক মিয়া, চট্টগ্রাম বিভাগীয় নারী নেত্রী জোবেদা আক্তার বেবী, কুমিল্লা অঞ্চলের নারী নেত্রী আসমা আক্তার, কুমিল্লা জেলা নারী নেত্রী সেলিনা আক্তার ইতি প্রমুখ।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারেক রহমান দেশে ফিরছেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচনের বহু আগেই দেশে থেকে তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দেবেন জানিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে সেই ষড়যন্ত্র কাজে দেবে না, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচার পেছন দিক দিয়ে এসে জনগণের অধিকার হরণ করার পাঁয়তারা করছে।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী নয়, তারা ষড়যন্ত্র করছে।

পিআর পদ্ধতি বেআইনি আবদার উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সংবিধান ইচ্ছা করলেই ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া যায় না। আবেগী না হয়ে জন-আকাঙ্ক্ষা বুঝতে হবে।

সূত্র: কালের কন্ঠ

জুলাই সনদের বিষয়ে ২-১টি রাজনৈতিক দল ব্যতিত আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল একমত: ডা. আব্দুল্লাহ তাহের

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:  

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের বলেছেন, আমরা একটি জুলাই সনদ করেছি এই জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন হবে। জুলাই সনদ গঠনের ক্ষেত্রে কোন কোন দল কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটনোর চেষ্টা করেছে এবং এটিকে বাস্তবানের ক্ষেত্রে তারা বাঁধার সৃষ্টি করেছে।

জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন না হলে আগামী নির্বাচনও অতীতের ব্যর্থ নির্বাচনগুলোর মতোই পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আর জুলাই সনদ যারা মানবে না, এ আন্দোলনের স্টেকের ব্যাপারে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে জুলাই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন করতে হবে।

ডা. তাহের আরও বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে ২-১টি রাজনৈতিক দল ব্যতিত জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল একমত। সুতরাং দুই-একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার কারণে বিশাল জনগোষ্ঠির জনআকাঙ্খাকে সরকার যেন বাস্তবায়ন করে। অন্যথায় একটি পরিকল্পিত এবং প্রহসনের নির্বাচন করতে চাইলে এদেশের জনগণ তা হতে দিবেনা। এতে করে দেশে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হবে।

তিনি শনিবার (৬ই সেপ্টম্বর)  দুপুরে স্থানীয় এক মিলনায়তনে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের নির্বাচনী দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মুন্সীরহাট ইউনিয়ন  জামায়াতের আমীর মাওলানা জাফর আহাম্মদ  এর সভাপতিত্বে নির্বাচনী সভায়  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা আমীর মাহফুজুর রহমান ,সাবেক উপজেলা আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন,উপজেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবক অধ্যাপক  ডাঃ সফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ডা: আব্দুর রহিম, জামায়াত নেতা নুরে আলম মিয়াজি, হাফেজ বদিউল আলম, শাখাওয়াত হোসেন শামিম,ছাত্রনেতা মোশাররফ হোসেন, মোজাম্মেল হোসেন, নাসিম মিয়াজি প্রমুখ।