All posts by jitu

কুমিল্লায় অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড়ের ঘাট থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের বয়স ও পরিচয় শনাক্তে সিআইডির একটি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, রাতের কোনো এক সময় ওই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে খবর পেয়ে কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মুরাদনগরে জায়গা নিয়ে বিরোধে বোন ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় জায়গা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন দড়ানীপাড়া গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে মনজুরুল আলম টিটু (৩৫) এবং একই গ্রামের জসীম উদ্দীনের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৭০)। সম্পর্কে তাঁরা ফুফু ও ভাতিজা।

নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার সন্ধ্যায় খালেদা আক্তারের ভাই মোস্তাক আহমেদ আবু মিয়া তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে দা দিয়ে কুপিয়ে তাঁদের গুরুতর আহত করা হয়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গৌরীপুরে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত টিটুর শাশুড়ি জোসনা বেগম, নিহতের আরেক স্বজন মো.শফিকুল ইসলাম জায়গা-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।

গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গৌরীপুরে আসে। সেখানে দুটি মরদেহ পাওয়া যায়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আলোচনা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সভাকক্ষ ছেড়ে যেতে বললেন হুইপ নিজান

আলোচনা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সভাকক্ষ ছেড়ে যেতে বললেন হুইপ নিজান

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক বিষয় নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভার মূল আলোচনা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সভাকক্ষ থেকে চলে যেতে বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও কুমিল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

তিনি সাংবাদিকদের ছবি তোলা শেষ করে পাশের কক্ষে গিয়ে অপেক্ষা করার পাশাপাশি চা খাওয়ার পরামর্শ দেন। সভায় সংবেদনশীল ও ‘ভায়াস’ আলোচনা হবে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের সভাকক্ষে না থাকার নির্দেশ দেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে কুমিল্লা জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক কর্মসূচি, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে পরিচিতি পর্ব ও মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। জেলা প্রশাসক রোজি আক্তারের সঞ্চালনায় নির্ধারিত সময়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

সভা শুরুর দিকে জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন। এরপর সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

পরিচিতি পর্ব শেষে মূল আলোচনা শুরুর সময় সভার সভাপতি হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘এই আলোচনা সভায় যাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি তারা এখান থেকে চলে যান।’

হুইপের এমন বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সভাকক্ষের বাইরে চলে যেতে বলা হয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছাড়াই হওয়ার কথা জানান আয়োজকরা।

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং কুমিল্লা-৮ আসনের এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-১১ আসনের এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৭ আসনের এমপি আতিকুল আলম শাওন, কুমিল্লা-২ আসনের এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ও কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ভিপি ওয়াসিম, জেলা পরিষদ প্রশাসক হাজী মোস্তাক মিয়াসহ জেলার ১৭টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এক: হুইপ নিজান

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এক: হুইপ নিজান

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে দেশের সব রাজনৈতিক দলের পররাষ্ট্রনীতি অভিন্ন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘আমরা জাতীয় রাজনীতি ভিন্ন ভিন্নভাবে করলেও যার যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এক। সংকট মোকাবেলায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সংকটের সময়ে জাতীয় ঐক্যই বড় সমাধান হতে পারে।’

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, কুমিল্লার আয়তন, জনসংখ্যা ও মানুষের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লায় মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জুলাই সনদে বাংলাদেশে দুটি নতুন বিভাগ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর একটি কুমিল্লা এবং অন্যটি ফরিদপুর।

মতবিনিময়সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, মাদকের বিস্তার রোধ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ও মানসম্মত সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়াসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

লাকসাম জংশনে ছিনতাই-মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য, নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রীরা

লাকসাম জংশনে ছিনতাই-মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য, নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রীরা

 

লাকসাম প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার লাকসাম জংশন রেলওয়ে স্টেশনে ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী চক্রের দৌরাত্ম্যে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে জংশনের প্ল্যাটফর্ম ও সংলগ্ন লেকের পাড় এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ বাড়ছে। এতে সন্ধ্যা ও রাতে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ গতকাল চাঁদপুরগামী একটি ট্রেনের কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ৪ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনার পর স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও যাত্রীদের অভিযোগ, লাকসাম জংশনে ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে রেলওয়ে থানা পুলিশ (জিআরপি) ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও স্থায়ীভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তাদের দাবি, আটক হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেয়ে কেউ কেউ আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জংশন ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যাত্রীদের ভাষ্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশনগুলোর একটি লাকসাম স্টেশনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। ফলে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে রাতের ট্রেনের যাত্রী, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেশি।

এ অবস্থায় লাকসাম জংশনে সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা ও নজরদারি বাড়ানো, প্ল্যাটফর্ম ও লেকের পাড়ে নিয়মিত ও স্থায়ী পুলিশি টহল জোরদার এবং ছিনতাই ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রেলযাত্রীরা।

একই সঙ্গে অপরাধীদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় কীটনাশক পানে যুবকের মৃত্যু

 

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ঘাস মারার কীটনাশক (বিষ) পান করে গুরুতর অসুস্থ হওয়া হাবিব (২৫) নামের এক যুবকের ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাবিব উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে নিজ বাড়ির পাশে ঘাস মারার বিষ পান করেন তিনি। কিছুক্ষণ পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

হাবিবের মামা জানান, হাবিব গত ১০-১২ বছর ধরে ঢাকার একটি হোটেলে কাজ করতেন। সম্প্রতি হোটেল থেকে ৮-১০ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। শনিবার সকালে বাড়ির পাশে বিষ পান করার পর তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে হাবিব ঘাস মারার বিষ পান করেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার বিষপানের ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, হাবিবের মৃত্যুতে পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এছাড়া তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে সাড়ে ৮৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬০০ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পৃথক অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার চণ্ডীদার, মাদলা ও খাদলা বিওপি এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল ও শংকুচাইল বিওপির টহলদল সীমান্ত এলাকা থেকে এসব ভারতীয় পণ্য জব্দ করে।

সোমবার দুপুরে বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম।

তিনি জানায়, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার চণ্ডীদার, মাদলা ও খাদলা বিওপি এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল ও শংকুচাইল সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ভারতীয় অবৈধ বাসমতি চাল, বাজি, ট্যাব, শাড়ি, গরু, বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু, স্কিন শাইন ক্রিম, ফুচকা, তাস, চকলেট, অলিভ অয়েল, রেড বুল এনার্জি ড্রিংকস, নবরত্ন তেল, সেভেন অয়েল, ওরিও বিস্কুট, কিশমিশ, লাগেজ, গাঁজা, মদ, বিয়ার, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬০০ টাকা।

বিজিবি জানায়, টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়। জব্দ করা ভারতীয় পণ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে।

সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম।

কুমিল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৬ জন গ্রেফতার, ইয়াবা ও বিয়ার উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ৪৯৫ পিস ইয়াবা ও ২৪ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীসহ ৫৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলা পুলিশের সব থানা ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের দিকনির্দেশনায় মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে ৪৯টি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১০ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ৪৬ জন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযানে ১ হাজার ৪৯৫ পিস ইয়াবা ও ২৪ বোতল বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, মোবাইল কোর্ট ও বিজ্ঞ বিচারিক আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) প্রক্রিয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা এবং জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

কুমিল্লায় আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আকতার।

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এমপির সঙ্গে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় কুমিল্লার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

সভায় জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি, চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জনসেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, একটি জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

সভায় জনসাধারণের হয়রানি কমিয়ে দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং জেলার সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ ছাড়া কুমিল্লার বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ২আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া,৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী,১১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের,৭আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন,৪আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ,৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন,কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া,কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা
উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বাড়ী আবু, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামান, র‍্যাব ১১ সিপিসি ২- এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম,কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক মীর আলী এজাজ সহ কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।