All posts by jitu

লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেক:

আনন্দঘন পরিবেশে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর লন্ডনের আইঅন টেলিভিশন কার্যালয়ে চট্টগ্রাম কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন চট্টগ্রামভিত্তিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হয়।

কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও সফল আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আলোচনায় দল-মত, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশার ঊর্ধ্বে উঠে চট্টগ্রাম কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও সর্বজনীন উৎসব আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। উৎসবকে সফল ও অর্থবহ করতে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁদের বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সম্মিলিতভাবে একটি শক্তিশালী টিম হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

চট্টগ্রাম উৎসব কমিটির নেতৃত্বে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় উৎসবটি সফল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে উৎসবের একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ও প্রাথমিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচি ও বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, সংগীত, কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গৌরবময় উত্তরাধিকারকে উৎসবে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের স্বকীয় পরিচয়, ঐতিহ্য ও বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরতে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় ও কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জাগির আলম, কাউন্সিলর সাইয়েদ ফিরোজ গানি, শওকত মাহমুদ দিপু, আখতারুল আলম, সুজন বড়ুয়া, মাসুদুর রহমান, সারোয়ার চৌধুরী, মনির মাহমুদ, মোহাম্মদ আলী রেজা, ডা. বিশ্বজিৎ রায়, মিরা বড়ুয়া, তানভীর খান, আসমা আলম, জাগলুল চৌধুরী, শওকত ওসমান, রায়হান চৌধুরী টিটু, আলীম উল্লাহ রাহাত, নুরুন্নবী আলী, গিয়াশ বড়ুয়া, নুরুল আলম, সাদিয়া আফরিন, নাবিল রহমান, সৈয়দ সাইফুল ইসলাম ও শামসুল রাসেল।

এছাড়া ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান আম্রসিয়ানের পক্ষে জুনায়েদ রিয়াজ ও ইমরান চৌধুরী এবং আইঅন টেলিভিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, অনুপম শাহা, চট্টগ্রাম সমিতির আঞ্জুমান আরা নিজামসহ আরও অনেকে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সবার আন্তরিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ একটি স্মরণীয়, সফল ও সর্বজনীন আয়োজনে পরিণত হবে।

মিনি ট্রাকের তেলের ট্যাংকে মিললো সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবা

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

মিনিট্রাকের তেলের ট্যাংকে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে পাচারকালে ১৩ হাজার ৬৮৫ পিস ইয়াবাসহ সুমন(২৮) নামে এক মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজা এলাকা  হতে তাকে আটক ও ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়। দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সহকারী পুলিশ সুপার(দাউদকান্দি সার্কেল) মোঃ খলিলুর রহমান  জানান, আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে একটি মিনি ট্রাকে ইয়াবার বড় চালান ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। চালক গাড়িটি ছাড়ার পর মোবাইলসহ সকল ডিভাইস বন্ধ করে দেয়। পুলিশের টিম সারারাত টোলপ্লাজা এলাকা অবস্থান নেয় গাড়িটি ধরার জন্য। পরে সকাল দশটার দিকে মিনিট্রাকটি আটক করা হয়। পরে ট্রাকটিতে তল্লাশি করে তেলের ট্যাংকে বিশেষ কায়দায়  বোতলে ভরা ইয়াবার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে সাক্ষীদের সামনে স্থানীয়  মেকানিকের সহায়তায় ট্যাংকি খুলে ৫টি ছোট বড় বোতল বের করা হয়।  বোতলে থাকা ১৩ হাজার ৬৮৫ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

চালক সুমনের বরাতে তিনি বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় চালক সুমন বলেছে, ছয় হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তিতে টেকনাফ থেকে ঢাকায় যাচ্ছে। পরবর্তীতে সব স্বীকার করে বলে, এই ইয়াবার চালানটি ঢাকায় পৌঁছে দিলে সে ত্রিশ হাজার টাকা পাবে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম  জানান, গ্রেফতারকৃত পিকআপ চালক সুমন বগুড়ার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। পাচার কাজে ব্যবহৃত মিনিট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এর সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত।

বরুড়ায় ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়নের গন্ডামারা গ্রামের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করে বরুড়া থানায় নিয়ে আসে। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার বয়স ও পরিচয় নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, পয়ালগাছা গন্ডামারা গ্রামের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন স্বপন গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে কুমিল্লা নগরী ঝাউতলা ধর্মসাগর পশ্চিমপাড় এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, সাজ্জাদ হোসেন স্বপনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যা ও অন্যান্য ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া গত কয়েক মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়ানো এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি বুড়িচং উপজেলার আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে ধর্মসাগর পশ্চিমপাড়ে তার বাসায় এনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিব্রত করছিল সাজ্জাদ হোসেন

সাজ্জাদ হোসেন স্বপন ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, শুক্রবার দুপুর ৩টার দিকে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যা-সহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, গত কয়েক মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।

মানবিক মেসির মহত্ত্ব

কর্নেল ডাঃ নাজমুল হুদা খান (অব.):

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করে বর্ণাঢ্য এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন লিওনেল মেসি। দেশের হয়ে ২০২২ বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা জয় করে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা সাধারণত তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট, রেকর্ড, ট্রফি কিংবা বিশ্বকাপ জয়ের কথা বলি। ফুটবল মাঠে মেসি হয়তো প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেছেন অসংখ্যবার। তাই ম্যারাডোনার হাত ধরে আর্জেন্টিনা এবং গ্রেটেস্ট অফ অল টাইমস লিওনেল মেসির ভক্ত বিশ্বের শত শত কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাতারে আমিও । কিন্তু মাঠের বাইরে তাঁর সবচেয়ে বড় জয় অন্য কিছু—মানুষের হৃদয় জয় করা। আর সেই কারণেই লিওনেল মেসিকে শুধু একজন মহান ফুটবলার হিসেবে নয়, একজন মহান মানুষ হিসেবেও স্মরণ করা যায়। তিনি শুধু একজন বিশ্বসেরা ফুটবলার নন—তিনি একজন সহমর্মী ও মানবিক মানুষ।

মেসির দাতব্য কর্মকাণ্ডের পরিধি বিস্তৃত। বিভিন্ন সময়ে তিনি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের শিক্ষা এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় অর্থ ও সময় ব্যয় করেছেন। মেসির প্রতিষ্ঠিত লিও মেসি ফাউন্ডেশন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিশু ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। ইউনিসেফের সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

শিশুদের জন্য বিশেষ মমতা

শিশুদের প্রতি মেসির বিশেষ মমতার অনেক উদাহরণ রয়েছে। বার্সেলোনার সেন্ট জোয়ান হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ বিভাগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে তিনি অংশ নেন। তহবিল সংগ্রহের সে প্রচেষ্টার শেষ পর্যায়ে নিজেও বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করেন। শিশুদের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটি একটি নতুন বিশেষায়িত বিভাগ চালুর উদ্যোগ নিলে মেসি সেই প্রচারণায় যুক্ত হন এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ইউরো সংগ্রহের পর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি থাকা শেষ ৩০ লাখ ইউরো মেসি নিজে অনুদান হিসেবে প্রদান করেন।

দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে মেসি

মানবিকতার এ দৃষ্টান্ত শুধু অর্থ সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়। ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর মেসি হাইতিতে যান। সেখানে তিনি প্রায় ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়া একটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। মেসি ক্যারেফোর এয়ার নামের একটি শরণার্থী শিবিরে যান, যেখানে ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারানো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। তিনি সেখানে পরিবার ও শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং ইউনিসেফের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে হাইতিতে তাঁদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারেন।

শেকড়কে কখনো ভুলে যাননি মেসি

মেসির জন্ম আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে। বিশ্বখ্যাত হওয়ার পরও নিজের শহরের মানুষের কথা তিনি ভুলে যাননি। তাঁর শৈশবের ক্লাব নেওয়েলস ওল্ড বয়েজ এবং রোজারিওর বিভিন্ন যুব প্রকল্পে তিনি বিভিন্ন সময়ে সহায়তা করেছেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় রোজারিও অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটরের সংকট দেখা দিলে মেসি হাসপাতালগুলোকে ভেন্টিলেটর সরবরাহে সহায়তা করেন। এ সময় মেসি কাতালোনিয়ার একটি হাসপাতাল ক্লিনিক এবং আর্জেন্টিনার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেন। ২০১৩ সালে তিনি রোজারিওর একটি স্থানীয় হাসপাতাল সংস্কারের জন্য প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ইউরো অনুদান দিয়েছিলেন।

যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ

যুদ্ধ শুধু মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না; শিশুদের কাছ থেকে কেড়ে নেয় শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও। সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের জন্যও মেসির ফাউন্ডেশন সহায়তা করেছে। ২০১৭ সালে তাঁর ফাউন্ডেশন ইউনিসেফকে সহায়তা দেয়, যার মাধ্যমে সিরিয়ার তারতুস ও দামেস্কে নতুন শ্রেণিকক্ষ স্থাপন করা সম্ভব হয়। এর ফলে যুদ্ধের কারণে শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া প্রায় হাজার হাজার শিশু আবার স্কুলে ফিরতে পারে।

প্লাস্টিকের ব্যাগের সেই ছোট্ট মেসি-ভক্ত

২০১৬ সালে আফগানিস্তানের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। মরতজা আহমাদি নামের শিশুটি মেসির নাম ও জার্সি নম্বর লেখা নীল-সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগ পরে ছবি তুলেছিল। ছবিটি মেসির নজরে আসে। মেসি শিশুটিকে স্বাক্ষর করা আর্জেন্টিনার একটি জার্সি পাঠান। পরে বার্সেলোনা দোহায় একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে গেলে শিশুটিকে মেসির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। মাঠে প্রবেশ থেকে শুরু করে মেসির সঙ্গে সাক্ষাৎ—সবকিছুই শিশুটির জন্য হয়ে ওঠে আজীবনের স্মৃতি। একজন শিশুর ছোট্ট স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়ার এই ঘটনাটি হয়তো কোনো বড় দানের পরিমাণ দিয়ে মাপা যায় না। কিন্তু মানবিকতার মূল্য সব সময় অর্থের অঙ্কে নির্ধারিত হয় না।

বিয়ের উপহারও মানুষের জন্য

মেসির বিয়ের সময় পরিবার ও বন্ধুদের কাছে তাঁদের জন্য উপহার না কেনার অনুরোধ জানান। এর পরিবর্তে তাঁরা অতিথিদের সেই অর্থ নিজেদের পছন্দের কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করতে বলেন। এর মধ্যে লিও মেসি ফাউন্ডেশনও ছিল—যাতে মানুষের জীবনকে আরও সুন্দর ও উন্নত করার জন্য মেসি তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে পারেন।

 

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত

২০১০ সালে লিওনেল মেসি ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ইউনিসেফের সঙ্গে হাইতি সফর করেন। সেখানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর শিশুদের দুর্দশা ও সংকট সম্পর্কে বিশ্ববাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও মেসি ইউনিসেফের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। সংক্রমণ প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি ইউনিসেফের জরুরি সহায়তা কর্মসূচির জন্য তহবিল সংগ্রহেও তিনি ভূমিকা রাখেন।

লিও মেসি ফাউন্ডেশন

২০০৭ সালে মেসি প্রতিষ্ঠা করেন লিও মেসি ফাউন্ডেশন। এর মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করা। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা, পুষ্টি ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মেসি বিশ্বাস করেন, একজন শিশুর মুখে হাসি ফোটানোই বড় অর্জন। নিজের মানবিক দর্শন সম্পর্কে মেসি বলেছেন, তিনি ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে অনেক সংগ্রাম করেছেন। সেই পরিশ্রম ও সাফল্যকে তিনি এমন শিশুদের জন্য কাজে লাগাতে চান, যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন। কোনো শিশুর মুখে হাসি দেখা কিংবা তার মনে নতুন করে আশার জন্ম দেওয়া তাঁকে গভীরভাবে আনন্দিত করে।

প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহ

প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলাধুলা ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও মেসির ফাউন্ডেশন কাজ করছে।  বিশেষ অলিম্পিক আয়োজনের সঙ্গে তাঁর ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নে খেলাধুলার গুরুত্বকে মেসি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের উৎসাহও দিয়েছেন তিনি।

স্বাস্থ্য গবেষণায় সহায়তা

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণাতেও মেসির ফাউন্ডেশনের অবদান রয়েছে। বিশেষ ধরনের টিউমার নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁর ফাউন্ডেশন অর্থায়ন করেছে। এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে জটিল রোগের চিকিৎসা ও আক্রান্ত রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিরহংকারী মেসি

লিওনেল মেসি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মহাতারকা হওয়া সত্ত্বেও মাঠ ও মাঠের বাইরে তাঁর বিনম্র ও সাধারণ জীবনযাপনের জন্য বিশ্বজুড়ে “নিরহংকারী মেসি” হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তিনি কেবল নিজের গোলের পেছনে ছোটেননি, বরং সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও সমান আনন্দ পেতেন। মাঠে পেনাল্টি বা ফ্রি-কিক নেওয়ার সুযোগ অনেক সময় তরুণ বা ফর্মে ফিরতে চাওয়া সতীর্থদের নির্দ্বিধায় ছেড়ে দেন। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কড়া ট্যাকল বা উস্কানির শিকার হলেও তিনি সাধারণত মেজাজ হারাননি এবং মাঠে কোনো অপ্রীতিকর বিবাদে জড়ানো থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে হাত মেলানো এবং জার্সি বদল করার মাধ্যমে সর্বদা সৌজন্যতা বজায় রাখেন। এত বিশাল খ্যাতি এবং অর্থ থাকা সত্ত্বেও মেসি তাঁর শৈশবের ভালোবাসা আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তাঁদের সন্তানদের নিয়ে অত্যন্ত সাধারণ ও লাইমলাইট-মুক্ত পারিবারিক জীবন কাটাতে পছন্দ করেন। খুদে ভক্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যখনই তাঁর অটোগ্রাফ বা সেলফির জন্য এগিয়ে আসে, তিনি হাসিমুখে তা পূরণ করেন।

মেসির কাছে সাফল্য শুধু ট্রফি কিংবা রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের খ্যাতি ও সম্পদকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর মধ্যেও তিনি সাফল্যের অর্থ খুঁজে নিয়েছেন। তাই ফুটবল মাঠে তিনি যেমন কিংবদন্তি, মাঠের বাইরেও তেমনি মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। মেসি শুধু ফুটবলের মহানায়ক নন—তিনি অসহায় মানুষের জন্য মানবিক একটি নাম।

লেখক–
কর্নেল ডাঃ নাজমুল হুদা খান (অব.)

পরিচালক, মেডিক্যাল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল

নতুন প্রজন্মের আবৃত্তি ‘আপন আলোয়’ পরম্পরায় নতুন অধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নতুন প্রজন্মের আবৃত্তিশিল্পীদের নিয়মিত মঞ্চচর্চার সুযোগ করে দিতে পরম্পরায় আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ধারাবাহিক আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘আপন আলোয়’ পর্ব দুই, ঋতু এক। বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানে পরম্পরায় নির্বাচিত ছয়জন নতুন প্রজন্মের শিল্পী দেড় ঘণ্টাব্যাপী আবৃত্তি পরিবেশন করেন।

অনুষ্ঠান শুরু হয় কুমিল্লার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আলোকপ্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে। আলোকপ্রজ্বলন পর্বে উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি জাতীয় নজরুল পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও নজরুল গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আলী হোসেন চৌধুরী, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ ও গবেষক ড. এ জেড এম ওবায়দুল্লাহ, সাংস্কৃতিক সংগঠক শহিদুল হক স্বপন, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ বিদ্যালয় পরিদর্শক কাজী আপন তিবরানী, কবি ও প্রকাশক হালিম আবদুল্লাহসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এরপর আপন আলোয় পর্ব -২ এর নির্বাচিত শিল্পীরা প্রাণবন্ত আবৃত্তি করে দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

নির্বাচিত শিল্পীরা হলেন অনিরুদ্ধ দত্ত অংশু, ফারহিনা এমরান ভুঁইয়া রিদম, ফাইরুজ ফাবি আলা ভুঁইয়া, রাজদ্বীপ সাহা প্রিয়াস, অনয় চক্রবর্তী ও নওশীন নাওয়াল আরিয়া।
ছয় শিল্পীর অনবদ্য পরিবেশনা শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়ায়।

পরম্পরায়’র পরিচালক দেশবরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী কাজী মাহতাব সুমন বলেন, বাংলাদেশের আবৃত্তি অঙ্গনে ‘আপন আলোয়’ একটি ভিন্নধর্মী প্রয়াস। আমার দীর্ঘ তিনযুগের অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য এই মঞ্চ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছি।

আবৃত্তি পর্ব শেষে পরম্পরার উদ্যোগে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র-নজরুল আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রায় একশত প্রতিযোগীর মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিযোগিতার বিচারক বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী রুবেল কুদ্দুস, পরম্পরায়’র সহ-প্রশিক্ষক এবং আবৃত্তি সংসদ কুমিল্লার সভাপতি সুমনা সুমন, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সহ- সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আকাইদ, আমিন তানভীর, আবৃত্তিশিল্পী সুলতানা পারভিন দিপালি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন, বাংলা সংস্কৃতি বলয় বিশ্ব কমিটির যুগ্ম সম্পাদক এস এ এম আল মামুন, চিত্রশিল্পী সমীর দেবনাথ, থিওসফিস্ট সোসাইটির সদস্য সচিব চন্দন দাস প্রমুখ।

নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়মিত মঞ্চচর্চার সুযোগ সৃষ্টি এবং এক প্রজন্মের অভিজ্ঞতা থেকে অন্য প্রজন্মের কাছে আবৃত্তির শিল্প-পরম্পরা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘আপন আলোয়’ ধারাবাহিক আয়োজন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠান সামগ্রিক সঞ্চালনা করেন পরম্পরায় শিক্ষার্থী আরাধ্যা দত্ত, নাফিজা তাসনীম, নবণীতা ও প্রত্যাশা।

নতুন নেতৃত্বে ‘কুমিল্লার বইপোকা’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বই পড়া, সাহিত্যআড্ডা’র আইডিয়া থেকে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘কুমিল্লার বইপোকা’। অনলাইনে সারাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অফলাইনে কুমিল্লায় বই নিয়ে নানান আয়োজন করছে সংগঠনটি।

৮ম বছরে পদার্পন করা সংগঠনটির এই সৃজনশীল কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে তারুণ্যশক্তিতে উজ্জীবিত একটি টিম। ডাইভার্সিফাইড নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় ২০২৬-২০২৭ সেশানের জন্যেও ১৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন লিডারশিপ টিম গঠন করা হয়েছে।

বইয়ের আলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবারের নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট (টিম লিড) হিসাবে থাকছেন রকি রহমান।

পূর্নাঙ্গ কমিটিতে আরও রয়েছেন:
প্ল্যানিং লিড – সানজিদা আক্তার।
ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট লিড – জাহিদা নূর জুঁই, ফারিয়া মিম, সুমাইয়া ইসলাম।
কমিউনিকেশান লিড – তানভির আলম খাঁ।
ক্রিয়েটিভ এন্ড পাবলিকেশান লিড – মুহাম্মদ শাকিব
সোশাল ওয়েলফেয়ার লিড – জেসমিন সরকার।
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট লিড – রায়হানুল বারি রাসেল।
ইনফরমেশান এন্ড টেকনোলজি লিড – সামিন রহমান মারজান।
লজিস্টিকস এন্ড অপারেশান লিড – সানজিদা জাহান মিশি।
হিউম্যান রিসোর্স লিড – জান্নাতুল নিপা, ঋতু মল্লিক।
অফিস ম্যানেজমেন্ট লিড – সানজিদা তানভী, ফারহানা আনজুম।
স্পন্সর ম্যানেজমেন্ট লিড – রহমত আলী।
মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট লিড – জাহিদুল ইসলাম।
ফিন্যান্স লিড – শিল্পী আক্তার।

 

এছাড়াও উক্ত টিমের কোর্ডিনেশানে থাকবেন সাইদুল আলম কাজল, নুরুজ্জামান নাহিদ, মারুফ আহমেদ।

উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার বইপোকা তরুণদের বইমুখী করতে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, অনুষ্ঠান, লেখকদের জন্মোৎসব, সাহিত্যআড্ডা, পাঠচক্র সহ বিভিন্ন উদ্যোগ এরই মাঝে বাস্তবায়ন করেছে। নতুন এই নেতৃত্ব এরই মধ্যে আরও সৃজশনশীল, চিন্তাশীল, এবং সুনাগরিক তৈরির লক্ষ্যে আরও বহুমুখী কার্যক্রমের উদ্যোগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

কুমিল্লায় ১৮ বছরের সংসার ভেঙে প্রবাসীর সাথে গৃহবধূ লাপাত্তা: নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরী এলাকায় ১৮ বছরের সংসার ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় স্ত্রী ও শাশুড়িসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আবদুস সালাম জানান, ২০০৭ সালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের দরবেশ মার্কেট এলাকার শাহিনুর বেগমের সাথে তার বিবাহ হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ১৩ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবাসী এক যুবকের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন শাহিনুর। তাদের সন্তান ইসমাইল হোসেন জানায়, তার মা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সোয়াগাজী পিপুলিয়া বাজার এলাকার প্রবাসী মোঃ সাহিবের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন। বিষয়টি বাবার কাছে প্রকাশ করলে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয় এবং শাহিনুর স্বামী ও সন্তানকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন।

গত ৩১ আগস্ট বিকেলে স্বামী আবদুস সালাম ব্যবসার কাজে বাইরে থাকার সুযোগে ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান শাহিনুর। পরবর্তীতে স্বজনরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি পরকীয়া প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গেছেন। এই ঘটনায় শাহিনুরের মা আলেয়া বেগমেরও কু-পরামর্শ ও প্ররোচনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সন্তানের ভবিষ্যৎ ও পরিবারের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে ভুক্তভোগী স্বামী আবদুস সালাম জানান, স্ত্রী তার ভুল স্বীকার করে ফিরে এলে তিনি তাকে মেনে নিতে প্রস্তুত। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।