All posts by jitu

উত্তাল সাগর

উত্তাল সাগর, চার বন্দরে সতর্ক সংকেত

উত্তাল সাগর, চার বন্দরে সতর্ক সংকেত

ডেস্ক রিপোর্ট:

পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর ফলে দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১২২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

এই অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

শীর্ষে থেকেই বছর শেষ আর্জেন্টিনার

শীর্ষে থেকেই বছর শেষ আর্জেন্টিনার

শীর্ষে থেকেই বছর শেষ আর্জেন্টিনার

ডেস্ক রিপোর্ট:

টানা দ্বিতীয়বার ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রেখে বছর শেষ করতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনা। ২০২৪ সালের শেষ ফিফা র‍্যাংকিং প্রকাশিত হয়েছে পরশু রাতে, যেখানে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। শীর্ষ দশেও কোনো রদবদল দেখা যায়নি।

১৮৬৭.২৫ পয়েন্ট নিয়ে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা শীর্ষে রয়েছে। পয়েন্টের ব্যবধানে তাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রান্স (১৮৫৯.৭৮) ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন (১৮৫৩.২৭)।

তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। শীর্ষ দশের অন্যান্য দলগুলো হলো পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, ইতালি ও জার্মানি।

বাংলাদেশের অবস্থানেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। ৮৯৮.৮১ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আগের মতোই ১৮৫তম স্থানে রয়েছে।

YCSBD কুমিল্লা শাখার উদ্যোগ

YCSBD কুমিল্লা শাখার উদ্যোগ কুরআনের পাখিদের নিয়ে শৈশবের খেলাধুলা ও পিঠা উৎসব

 

স্টাফ রিপোর্টার:

ইয়ুথ চেঞ্জ সোসাইটি বাংলাদেশ YCSBD কুমিল্লা শাখা ও নেক্সটজেন ইয়ুথ অ্যালায়েন্স কুমিল্লার উদ্যোগে মাদ্রাসার হাফেজের সঙ্গে আনন্দমুখর পরিবেশে সময় কাটাতে পিঠা উৎসব ও শৈশবের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে।

YCSBD আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠান শাহরিয়ার সাইফের সঞ্চালনায় কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়।

পিঠা উৎসবে কুরআনের পাখিদের জন্য কানামাছি খেলা, বালিশ খেলা, মোরগ লড়াই, হাড়ি ভাঙ্গা খেলার আয়োজন করা হয়। এবং ফেনী শাখার সদস্য ও অতিথিদের জন্য হাঁড়ি ভাঙ্গা খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। উক্ত খেলাধুলা শেষে কুরআনের পাখিদের মাঝে ৬ প্রকারের পিঠা ও ৩ রকম ভর্তা’র আয়োজন করা হয়। তাছাড়াও পিঠা উৎসব ও শৈশবের খেলাধুলা অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরো আয়োজনে ভলান্টিয়ার পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিলেন স্বপ্ন জোড়া সামাজিক সংগঠন।

উক্ত পিঠা উৎসব ও আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপ মহা-ব্যবস্থাপক ড. ইফতেখার আহমেদ রবিন।

প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইয়ুথ চেঞ্জ সোসাইটি বাংলাদেশ কুমিল্লা শাখার উপদেষ্টা, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ওয়াইসিএসবিডিয়ান শহিদ উল্লাহ মিয়াজি।

পিঠা উৎসবের উদ্ভোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইয়ুথ চেঞ্জ সোসাইটি বাংলাদেশ YCSBD ইমিডিয়েট ফাস্ট রিপ্রেজেনটেটিভ ওয়াইসিএসবিডিয়ান তাহসিনুল ইসলাম ফারহান ।

আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও দোয়া পরিচালনা করেন, মাওলানা জিয়া উদ্দিন গালিব মোহতামিম, আল মদিনা তালিমুল কুরআন স্কুল এন্ড মাদ্রাসা কুমিল্লা।

উপস্থিত ছিলেন, স্বপ্নজোড়া সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শাহরিয়ার সাইফ, জম জম ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সহ বেশকিছু অতিথি ও YCSBD কুমিল্লা শাখার সদস্যগণ মোহাম্মদ ইস্রাফিল, হুমায়ুন রাশেদ, নাবিলা আক্তার, ফারিহা জান্নাত, হুমায়রা সুমি, কাউসার হক, ফৌজিয়া রহমান, আবু রায়হান, তাফহিমা তারিন প্রমুখ।

যদি কেউ সৎ থাকে

যদি কেউ সৎ থাকে, তাহলে তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না: তানজিন তিশা

যদি কেউ সৎ থাকে, তাহলে তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না: তানজিন তিশা

ডেস্ক রিপোর্ট:

ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি, ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও কাজ করেছেন তিনি। এক অনুষ্ঠানে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি অনেক ভালো কাজ করছি যা অনেক মেয়ের স্বপ্ন।’

তিশা বলেন, ‘আমি একটি কথা বিশ্বাস করি, যদি কেউ সৎ থাকে, তাহলে তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। আল্লাহ আমাকে অনেক ভালোবাসেন, এজন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে আমি আমার সততার মাধ্যমে পরবর্তী পথ খুঁজে নিতে পারি। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জীবনে উত্থান-পতনের মধ্যেও ভালো জিনিসগুলো গ্রহণ করে আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। এটাকে আমার একটা ভালো দিক বা গুণ বলতে পারি, যা হয়তো অনেক আর্টিস্টের মধ্যে নেই।’

অনুষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অনেকদিন পর ক্লাসিক্যাল নাচ করার সুযোগ পেলাম। প্রায় ছয় বছর পর নাচলাম। আমি আসলে নাচের মেয়ে। আমি গ্রাজুয়েশন শেষ করিনি, তবে পাঁচ বছর নাচের প্রশিক্ষণ নিয়েছি। তাই নাচটা আমি খুব ভালোবাসি।’

অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘অভিনয়ের পাশাপাশি, আমার সবচেয়ে পছন্দের কাজ হল স্টেজ পারফর্ম করা। একটা সুন্দর কাজের প্রাপ্তি নিয়ে এই বছরটা শেষ করছি।’

পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে

পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন

পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) তিনি বলেন, রাশিয়ার নতুন ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম, তা মস্কো দেখাতে চায়। খবর রয়টার্স।

ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে পশ্চিমাদের সন্দেহের জবাবে পুতিন পরামর্শ দিয়ে বলেন, উভয় পক্ষকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা দ্বারা সুরক্ষিত স্থান নির্বাচন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে প্রস্তুত রয়েছি।”

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ওরেশনিক একটি আধুনিক অস্ত্র, যদিও এটি নতুনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। গত ২১ নভেম্বর রাশিয়া প্রথম ইউক্রেনের ডিনিপ্রো শহরে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের এটিএসিএমএস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুক্তরাজ্যের তৈরি স্টর্ম শ্যাডো ব্যবহার করে ইউক্রেন যখন রাশিয়াতে হামলা চালায়, তখন রাশিয়া পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে এই অস্ত্র ব্যবহার করে।

এদিকে, গত মাসে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রনীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। এ নিয়ে আজ প্রশ্নের মুখে পড়েন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নতুন নীতিতে কিছু শর্ত যোগ করা হয়, যার অধীনে দেশটি তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

নতুন নীতি অনুযায়ী, যদি কোনো দেশ, যার পারমাণবিক অস্ত্র নেই, পারমাণবিক ক্ষমতাধর অন্য একটি রাষ্ট্রের সহযোগিতায় হামলা চালায়, তবে সেই হামলাকে রাশিয়া যৌথ আঘাত হিসেবে বিবেচনা করবে।

এ প্রেক্ষাপটে পুতিনের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, পশ্চিমাদের কাছ থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, “আমি জানি না, তাদের জিজ্ঞাসা করুন।” নীতিতে পরিবর্তন আনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুতিন বলেন, নতুন নতুন সামরিক হামলার হুমকি আসছে, যেমন ক্ষেপণাস্ত্ররোধী ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে।

পুতিন আরও বলেন, “যদি রাশিয়াকে কোনো দেশ হুমকি দেয়, তাহলে রাশিয়া মনে করে, সেই দেশের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করার অধিকার তাদের আছে।”

বছরের শেষ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উপস্থিত হন।

পুরনো বায়ুদূষণকারী বাস

পুরনো বায়ুদূষণকারী বাস তুলে স্ক্র্যাপ করা হবে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

পুরনো বায়ুদূষণকারী বাস তুলে স্ক্র্যাপ করা হবে: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

ডেস্ক রিপোর্ট:

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ঢাকায় বায়ুদূষণের কারণে মানুষ অসুস্থ হবে এবং মৃত্যুবরণ করবে, এবং বাসগুলো দূষণ সৃষ্টি করবে—এটি চলতে দেওয়া হবে না। পুরনো বায়ুদূষণকারী বাসগুলো তুলে স্ক্র্যাপ করা হবে। কিছু মানুষের স্বার্থের কারণে ঢাকার সমস্ত বাসিন্দাকে বায়ুদূষণের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। তিনি বাস মালিকদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভার পর তিনি এসব কথা বলেন। সভার বিষয় ছিল সড়ক পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা আনা, যানজট নিরসন এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ।

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, বায়ুদূষণ রোধে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স ঢাকার রাস্তার ধুলা নিয়ন্ত্রণ, ভাঙা রাস্তা মেরামত এবং আইন প্রয়োগে কাজ করবে। ধুলা, কালো ধোঁয়া, ইটভাটা এবং কলকারখানার দূষণ কমানোর জন্য কাজ করা হবে। এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আশুলিয়াকে ইটভাটামুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হতে পারে। এয়ার পিউরিফায়ারের কর কমানোর জন্য এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, তবে আইন প্রয়োগে যেন মানুষ হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহাপরিচালক ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকরা এবং বাস মালিক সমিতির নেতারা।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বেজার প্রতারণা

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বেজার প্রতারণা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কথা ছিল কারখানা স্থাপন ও ব্যবসার প্রক্রিয়া সহজ করতে বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সুযোগসুবিধা দেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এজন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের প্রকল্পটি হাতে নেয় সংস্থাটি। এ কাজের জন্য ২০১০ সালে বিশেষ আইন করে বেজার যাত্রা শুরু হয়। কারখানা স্থাপন ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য ভূমি পাওয়া, নামজারি, পরিবেশ ছাড়পত্র, নির্মাণ অনুমোদন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি-সংযোগসহ ১২৫ ধরনের সেবা ওয়ানস্টপ সার্ভিসের আওতায় দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ২০ ধরনের সেবাও পাওয়া যায় না। বরং এসব সেবা পেতে এখনো পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয় বিনিয়োগকারীদের। ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করলে কর ছাড়ের কথা থাকলেও উল্টো অনেক অর্থনৈতিক অঞ্চলের চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ভ্যাট আইন হয়েছে। ভ্যাট আইনটি সাধারণ অন্যান্য আইন ও চুক্তির ঊর্ধ্বে। ফলে চুক্তির পর উদ্যোক্তাদের জমির ওপর ভ্যাট আরোপ হয়েছে। ইজারা নেওয়া জমির মূল্যের ওপর বাড়তি ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে বিনিয়োগকারীদের বাধ্য করা হচ্ছে যদিও ব্যবসায়ীরা অনেক দিন ধরেই অপারগতা প্রকাশ করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার যৌক্তিকতা নেই। এই লক্ষ্য থেকে সরে আসছে সরকার। বিদ্যুৎ, গ্যাস, অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংখ্যা পাঁচ অথবা দশটি হবে। কবে নাগাদ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবকাঠামো নিশ্চিত করা হবে তারও একটি টাইমলাইন দেওয়া হবে।

জানা গেছে ২০১০ সালে সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিল তৎকালীন সরকার। এর ১৫ বছর পর এখন পর্যন্ত বাস্তবে কতটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। এর প্রায় ৫ বছর পর ২০১৫ সালে সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু করে বেজা। সরকারের সেই মহাপরিকল্পনা এক দশক পর কাজ এগিয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। অথচ ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ডেকে আনা হয় এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে। কারখানা স্থাপনের জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগের পর বছরের পর বছর বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সংযোগ না পেয়ে অনেক বিনিয়োগকারীই হতাশ হয়ে পড়েছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এসে আবার ফিরেও গেছেন। আর দেশীয় বিনিয়োগকারীরা কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করে ভ্যাট আইনের জটিলতায় পড়েছেন এবং কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদনে যেতে পারছে না। যার ফলে কারখানা চালুর আগেই লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেক শিল্পোদ্যোক্তাই।

জানা গেছে, গত এক দশকে মোট ৯৭টি ইকোনমিক জোনের অনুমোদন দিয়েছে বেজা বোর্ড। এর মধ্যে ৬৮টি গড়ে তুলবে সরকার এবং ২৯টি গড়ে তুলবে বেসরকারি খাত। এগুলো গড়ে তোলার প্রাথমিক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০৩০ সাল। তবে, সেই সময়সীমা পরে ২০৪১ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, এত বেশি সংখ্যক প্রকল্প সম্পাদন করতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। এখানে বেশি সময় লাগা খুব সাধারণ বিষয়, কারণ জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

প্রসঙ্গত, দেশের দশটি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে দুটি সরকার পরিচালনা করে, যথাক্রমে চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর (বিএসএমএসএন), সিলেটের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল। বাকি আটটি বেসরকারি খাত পরিচালনা করে আসছে। বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো হলো- সিটি ইকোনমিক জোন, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, মেঘনা ইকোনমিক জোন, হোসেন্দি ইকোনমিক জোন, আবদুল মোনেম ইকোনমিক জোন, বে ইকোনমিক জোন, আমান ইকোনমিক জোন এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইকোনমিক জোন। বেজার নথি অনুযায়ী, সরকার পরিচালিত দুই ইকোনমিক জোনে ইতোমধ্যে ১৩টি প্রতিষ্ঠান পণ্য উৎপাদন করছে। এর মধ্যে বিএসএমএসএনে ১১টি কারখানা এবং শ্রীহট্টায় দুটি কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। জানা গেছে, গত এক দশকে প্রায় ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬৮টি গড়ে তোলার কথা সরকারের এবং ২৯টি গড়ে তুলবে বেসরকারি খাত। এগুলো গড়ে তোলার প্রাথমিক সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০৪১ সাল। তবে গত এক দশকে মাত্র ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু করা গেছে। গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর এসব অঞ্চলগুলোর ভাগ্য সুতোয় ঝুলছে।

সিপিডির ওই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি আশিক চৌধুরী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে পাঁচটি বিষয় উন্নয়নের চেষ্টা করছি। প্রথমেই আমরা সেবার মান বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সেখানে ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিডা, বেজা বেপজা, হাইটেক পার্ক সবকিছুকে একীভূত করার চেষ্টা করছি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলছি; তাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রয়োজনে বিজনেস রেগুলেটরি রিফর্ম কমিশন গঠন করা হবে। সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত স্বার্থের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমরা সরকারের কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছি। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

ফিকি সভাপতি জাভেদ আখতার বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনলে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে হবে। বিদেশে বিনিয়োগ এলে শুধু অর্থ নয়, সেখানে জ্ঞান, প্রযুক্তি আসে। এই জ্ঞান, প্রযুক্তি সুরক্ষায় নীতিমালা প্রয়োজন। সুরক্ষা দিতে না পারলে বিনিয়োগ আসব না। বছর শেষে কর হারের পরিবর্তন হয়, এটা কোথাও হয় না। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্লট দেওয়ার আগে কর্তৃপক্ষের উচিত স্থাপনাগুলোর উন্নয়ন করা। অন্যথায় বিনিয়োগকারীরা সেখানে গেলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেছেন, যেসব জোনে বিনিয়োগকারীরা প্লট পেয়েছেন তারা এখনো ইউটিলিটি সংযোগ পাননি এবং নিজেরাই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করছেন। এদিকে পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলদেশের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ আরেকটি অনুষ্ঠানে বলেন, করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হলে বিনিয়োগ বাড়বে। গবেষণায় দেখা গেছে, কর হার ১ শতাংশ বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ সাড়ে ৩ শতাংশ কমে। আবার করভার ২০ শতাংশ কমালে বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় ১৪ গুণ এবং রাজস্ব আয় ছয় গুণের বেশি বাড়ে। তাই শুল্ক-কর খাতে সংস্কার প্রয়োজন। নেস্লে বাংলাদেশের হেড অব লিগ্যাল দেবব্রত রায় চৌধুরী বলেন, ‘২০২২ সালে আমরা ২৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলাম। তখনকার করহার দেখেই বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু দুই বছর পর করহার পরিবর্তন হওয়ায় আমাদের পরবর্তী বিনিয়োগ বাদ দিতে হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান ও রাজস্বে ক্ষতি হয়েছে।’

শেখ হাসিনার নির্দেশে ইন্টারনেট

শেখ হাসিনার নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল, পলকের স্বীকারোক্তি

শেখ হাসিনার নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল, পলকের স্বীকারোক্তি

আজকের কুমিল্লা ডেস্ক:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে স্বীকার করেছেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাকে এক দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান প্রধান প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় পলক ট্রাইব্যুনালকে স্বীকার করেছেন যে, আন্দোলনের সময় গণহত্যার তথ্য বিশ্বের কাছে আড়াল করতে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল।

প্রসিকিউটর আরও জানান, আন্দোলনের সময় পলক দাবি করেছিলেন, ডেটা সেন্টারে আগুন এবং সাবমেরিন কেবলের তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। তবে, তদন্তে তার এই দাবিগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে ১৩ আগস্ট ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুরো দেশ ইন্টারনেটবিহীন করে রেখেছিল বিগত সরকার।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ডেটা সেন্টার পুড়ে যাওয়ার কথা বলে মিথ্যা গল্প তৈরি করেন। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পলক, বিটিআরসি এবং এনটিএমসি ইন্টারনেট বন্ধে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি ডেটা সেন্টারের ভুয়া তথ্য প্রচার করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।