All posts by jitu

ডিমের পর এবার পেঁয়াজের বাজারে

ডিমের পর এবার পেঁয়াজের বাজারে আগুন

ডিমের পর এবার পেঁয়াজের বাজারে আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট:

এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা, যা এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা ও পাইকারদের মতে, সরবরাহ সংকট এবং ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মিলন মিয়া জানান, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। ভারতে পেঁয়াজের বিক্রয়ে কড়াকড়ি এবং স্থানীয় পরিবহন সমস্যা পেঁয়াজের আমদানি ও সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে।

শ্যামবাজারের আড়তদার জালাল উদ্দিনের মতে, শীতকালের আগে দেশি পেঁয়াজের মজুত কমে আসায় দাম বেড়ে যায়। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি থাকা সত্ত্বেও তা উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। শীতের সবজি বাজারে এলে দাম কমার সম্ভাবনা আছে।

এদিকে চিনির দামও ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। বিভিন্ন দোকানে এক কেজি খোলা ও প্যাকেট চিনি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ সীমিত থাকায় এ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

টিসিবি তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম প্রতি লিটারে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। বাজারে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৭০ থেকে ১৭২ টাকা এবং পাম অয়েল ১৬৫ থেকে ১৬৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত তেল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ৮০০ থেকে ৮১০ টাকা।

ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে আসায় বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যদিও এটি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮ থেকে ১২ টাকা বেশি।

অন্যদিকে মোটা চাল ব্রি-২৮ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকায় এবং মিনিকেট চাল মানভেদে ৭৪ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কিছু সবজির দাম কমলেও বেশিরভাগ সবজির দাম এখনও ৮০ টাকার ওপরে। প্রতি কেজি গোল বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, এবং পটোল, ঝিঙ্গা, চিচিঙ্গা, ঢ্যাঁড়স ও ধুন্দল ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, এবং শিম ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লেবু ৩০ টাকা হালি, কলা ৪০ টাকা হালি, কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, এবং আলু ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, এবং লম্বা লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া মাছের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, টেংরা ৮০০ টাকা, কৈ ২২০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, শিং ৮০০ টাকা, এবং বোয়াল প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হাজীগঞ্জে নানা অপকর্মে জড়িত

হাজীগঞ্জে নানা অপকর্মে জড়িত ভুয়া সমন্বয়ক সানি : পরিচয় দিচ্ছেন শিবিরের কর্মী

হাজীগঞ্জে নানা অপকর্মে জড়িত ভুয়া সমন্বয়ক সানি : পরিচয় দিচ্ছেন শিবিরের কর্মী

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ

আব্দুর রহমান সানি, যিনি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিতেন, আসলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীই নন। তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাননি। বিভিন্ন সময়ে ভুয়া পরিচয়ে চলাফেরা করে প্রতারণা করেছেন এবং অপহরণ মামলা, নবজাতকের মৃত্যু ধামাচাপা, চাঁদাবাজি ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করলেও বর্তমানে নিজেকে শিবিরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। সানি তার ক্ষমতার প্রভাব দেখাতে ইউএনও ও ওসির নাম ব্যবহার করে মানুষকে ভয় দেখাতেন। যা তাকে নিয়ে এলাকায় বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

ভুয়া পরিচয়ে চলাফেরা : আব্দুর রহমান সানি, যিনি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিতেন, আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী নন। তিনি ২০২০ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৯২০৩০৭২৪০৮, এবং তিনি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হলেও, সূত্র মতে, ভর্তি হওয়ার পর তিনি আর পড়াশোনা করেননি। এই বিষয়ে কথিত সমন্বয়ক সানি বলেন, আমি কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হইনি। আমি তিতুমীর কলেজে পড়াশোনা করি। মাঝখান দিয়ে পড়াশোনা বন্ধ হয়েছে এখন আবার কন্টিনিউ করি।

একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি যখন নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে মিথ্যাচার করেন, তখন তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সানি বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন। এমন একজন ব্যক্তি কিভাবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন? অপহরণ মামলায় জেল হাজত : ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি হাজীগঞ্জ থানায় মোঃ গোলাম মাওলা পাটোয়ারী নামে এক ব্যক্তি নারী অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে আব্দুর রহমান সানিকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। ২৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে, তিনি জেল হাজতে প্রেরিত হন। ২৩ দিন জেলে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে এই মামলা থেকে অব্যাহতি পান তিনি।

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা : চলতি বছরের গত ১৭ আগস্ট হাজীগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ত্রুটিতে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সানি ও তার সহযোগীরা সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করে এবং তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। সাংবাদিকদের চলে যাওয়ার পর নিয়ম নীতি ও আইনের তোয়াক্কা না করে স্পর্শকাতর এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেয় সে ও তার সঙ্গীরা। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে একজন নবজাতক মৃত্যুর ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে পরিবারটিকে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করেছে কথিত সমন্বয়ক সানি।এ বিষয়ে কথিত সমন্বয়ক সানি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা ও আমি কোন সাংবাদিককে হেনস্থা করিনি।

সন্ত্রাসী কায়দায় বিল্ডিং দখল : হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে অবস্থিত কাজলী ম্যানশনের মালিকানা নিয়ে আদালতে বিচার কাজ চলমান রয়েছে। আদালতে বিচারাধীন ওই কাজলী ম্যানশন দখল করতে গত ১৬ অক্টোবর রাতে সেখানে যায় কথিত সমন্বয়ক সানি ও কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি বেধে গেলে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ঘটনাস্থলে ছুটে আসে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহান। এ বিষয়ে কাজলী ম্যানশন এর মালিকানা দাবি করা কাজলী বেগম সাংবাদিকদের বলেন, সানি আমার কাছে এসেছে বলে কাজলি আপা আামকে ১০ লক্ষ টাকা দেন। আমি আপনার জায়গাটা দখল করে দেই। টাকা না দেওয়াই শিক্ষার্থী নিয়ে সেই জায়গাটি দখল করতে এসেছে। আর এই বিষয়ে সানি বলেন, আমি শুনেছি ১০ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে। কিন্তু কারা করছে আমি তা জানি না। দেশে আইন- আদালত প্রশাসনিক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাতের বেলায় একটি জায়গা দখল করতে যাওয়া শিক্ষার্থীসুলভ আচরণ নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে কেউ অর্থনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করেছে। আর অভিযোগের তীর সানির দিকেই।

আওয়ামী লীগের দোসর থেকে শিবির কর্মী : আব্দুর রহমান সানি, যিনি বর্তমানে নিজেকে শিবিরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যায়, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগ সরকার ও এর বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীদের গুণগান করে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ রাসেল ও আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রশংসায় ভরা তার পোস্টগুলো সেদিকেই ইঙ্গিত করে। অথচ, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় সানি নিজেকে শিবিরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, ছাত্র আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সানি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। তার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাজীগঞ্জের ছাত্র প্রতিনিধিদের সম্মানহানি ঘটেছে, যা ছাত্র আন্দোলনের জন্য হুমকিস্বরূপ। সানির এই দ্বিমুখী ভূমিকা ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

এক লক্ষ ১৮ হাজার টাকা চাঁদাবাজি : সরকার পতনের পরের পরিস্থিতিতে সানি ও তার সহযোগীরা হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ১ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। তারা দাবি করেন, এই অর্থ জনসচেতনতা তৈরির জন্য মাইকিংয়ে ব্যয় করা হয়েছে। তবে অনেকেই এটাকে চাঁদাবাজি হিসেবে দেখছেন এবং এর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন। এই বিষয়ে সানি বলেন, ৫ই আগস্টের পরে দেশে যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। সেটি থামানোর জন্য শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। মাইকিং খরচ, ভাড়া, শিক্ষার্থীদের খাবার খরচ বাবদ ইউএনও স্যারের কাছে টাকা চাওয়া হয়। পরে ইউএনও স্যারের মাধ্যমে চেয়ারম্যানদেরকে বলে প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে ১০ হাজার টাকা করে তোলা হয়। শুধুমাত্র ৪নং কালচোঁ ইউনিয়নে ৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে এক লক্ষ আঠার হাজার টাকা তোলা হয়।

প্রশ্ন উঠেছে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মাইকিং করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে টাকা তোলা ও চাঁদাবাজির মধ্যে পড়ে। শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে তারা আদৌ কি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে এই ১০ হাজার টাকা করে তোলার নৈতিক দায়িত্ব বা অধিকার রাখে কিনা? এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ লাঞ্ছনা : সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্ত সানির বিরুদ্ধে। গত ১৫ই আগস্ট উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ভূমি অফিসে সানি ও তার সহযোগীরা ঢুকে একজন ভূমি কর্মকর্তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনা ফেসবুক লাইভে প্রচারিত হয়। যেখানে দেখা যায় তারা ওই কর্মকর্তার পকেট পর্যন্ত তল্লাশি করছেন। এ ধরনের অপমানজনক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় প্রশাসনও বিব্রত। এই বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা বলেন, আমার পকেটে টাকা ছিলো নিজের। কিন্তু তারা এসে নানা কথা বার্তা বলছে। যা পুরাই মিথ্যা।

ইউএনও ও ওসির নাম ব্যবহার : নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে জাহির করতে সানি নিয়মিত ইউএনও এবং ওসির নাম ব্যবহার করতেন। প্রশাসনিক যে কোন অনুষ্ঠানেই উপস্থিত থাকতেন।দিতেন দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য। উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর নানা অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় ইউএনও এবং ওসির নাম নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাতেন এবং তাদেরকে শাসন করতেন। আর এর ফলে নিজেকে তিনি মনে করতেন মহা ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তাই যাকে খুশি তাকেই অপমান অপদস্ত করতেন। ইচ্ছে হলে দিতেন ওসি কিংবা ইউএনও কাছে অভিযোগ দেওয়ার হুমকি। এই বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইর্নচাজ (ওসি) মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরা আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। তাদের সমাজের জন্য রাষ্ট্রের জন্য অনেক কিছু করার আছে। তাই শিক্ষার্থীদের পাশে সব সময় আমরা আছি থাকবো। কিন্তু আমাদের নাম পরিচয় ব্যবহার করে কোন শিক্ষার্থী যদি ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। কিংবা কাউকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে। অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীল বলেন, বাস্তবতা সবই তো আপনারা জানেন। আমি তো কাউকে বলিনা আমার নাম ব্যবহার করে কোন অপকর্ম করো। তবে কেউ যদি আমার নাম ব্যবহার করে কোন অপকর্ম করে তাহলে আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এ সকল কর্মকাণ্ডের কারণে আজ আব্দুর রহমান সানির পরিচয় একটি প্রতারণামূলক চরিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। তার মিথ্যাচার ও অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড হাজীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ থানার নরহরিপুর গ্রামের আহসান হাবীবের ছেলে আব্দুর রহমান সানি। বর্তমানে সে হাজীগঞ্জে বসবাস করে আসছে।

যে কারণে কানাডা অভিবাসীর সংখ্যা

যে কারণে কানাডা অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে চায়

যে কারণে কানাডা অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে চায়

ডেস্ক রিপোর্ট:

গত কয়েক বছরে প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য হারে অভিবাসীর সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে কানাডা। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন সরকার টিকে থাকতে এই নীতি পরিবর্তন করছে।

কানাডা ২০২৫ সালে তিন লাখ ৯৫ হাজার, ২০২৬ সালে তিন লাখ ৮০ হাজার এবং ২০২৭ সালে তিন লাখ ৬৫ হাজার নতুন স্থায়ী অভিবাসী নেবে বলে সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া, ২০২৫ সালে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ৩০ হাজার কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

দেশটির পত্রিকা “দ্য ন্যাশনাল পোস্ট” প্রথম এই তথ্য প্রকাশ করে। দীর্ঘদিন ধরে কানাডা নতুন অভিবাসীদের স্বাগত জানিয়ে আসলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন ইস্যুতে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি।

দুই বছর আগে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় অনেক কানাডিয়ান তাদের ঘরবাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়েছেন। একই সময়ে অভিবাসীদের ঢল দেশটির জনসংখ্যা রেকর্ড হারে বাড়িয়েছে, যা ঘরবাড়ির চাহিদা এবং দাম দুটোই বাড়িয়েছে।

এ ইস্যুটি কানাডার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্ব পাচ্ছে এবং আসন্ন অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, কানাডার বাসিন্দাদের মধ্যে ধারণা বাড়ছে যে দেশে অনেক বেশি অভিবাসী রয়েছে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে “মাইগ্রেন্ট রাইটস নেটওয়ার্ক” এর সেক্রেটারিয়েটের মুখপাত্র সাঈদ হোসেন বলেছেন, “আমরা কানাডায় অভিবাসীদের অধিকার ইস্যুতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পশ্চাদপসরণ প্রত্যক্ষ করছি। স্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা কমানো অভিবাসীদের উপর সরাসরি আঘাত। এটি তাদের অস্থায়ীভাবে থাকতে বা অনিবন্ধিত হতে বাধ্য করবে, যা তাদেরকে শোষণমূলক কাজ করতে বাধ্য করবে।”

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, গত আগস্টে কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী মার্ক মিলার বলেছিলেন, “কানাডার নাগরিকরা এমন কোনো অভিবাসন পদ্ধতি চান না যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”

খামার থেকে মুরগির ডিম চুরি

খামার থেকে মুরগির ডিম চুরি

খামার থেকে মুরগির ডিম চুরি

ডেস্ক রিপোর্ট:

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি মুরগির খামার থেকে ৪ হাজার ডিম ও ৭০টি লেয়ার মুরগি চুরির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে মিঠানালা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পূর্ব মিঠানালা এলাকায় মোশাররফ পোলট্রি খামারে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

মোশাররফ পোলট্রি খামারের মালিক ফরহাদ মাহমুদ কাউছার জানান, গত ৫ বছর ধরে তিনি পোলট্রি খামারের ব্যবসা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাত ১০টার দিকে খামার বন্ধ করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে তিনি বাড়িতে যান। বৃহস্পতিবার সকালে খামার খুলতে গিয়ে দেখেন চারপাশে থাকা জিআই তার কাটা, এবং ভেতরে ঢুকে দেখেন ৪ হাজার ডিম ও ৭০টি লেয়ার মুরগি চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া জিনিসপত্রের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় তিনি মিরসরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মিরসরাই থানার ওসি আবদুল কাদের জানান, পোলট্রি খামারে চুরির ঘটনায় ফরহাদ মাহমুদ কাউছার নামে একজন লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগ নেতা

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগ নেতা আটক

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগ নেতা আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা নগরীর ইপিজেড গেট এলাকা থেকে তাকে আটক করে কুমিল্লার কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম।

আটক ছাত্রলীগ নেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মহসিন আলম খাঁন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগ আহবায়ক কমিটির সদস্য ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চুন্নু মিয়ার ছেলে।

ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, মহসিন আলম খাঁনকে পুলিশ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

বিসিএস পরীক্ষা সর্বোচ্চ তিনবার

বিসিএস পরীক্ষা সর্বোচ্চ তিনবার দেওয়া যাবে

বিসিএস পরীক্ষা সর্বোচ্চ তিনবার দেওয়া যাবে

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করলো সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিসিএসে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ তিনবার অংশগ্রহণ করতে পারবে। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সভায় সরকারি চাকরিতে আবেদনের বসয়সীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এক অধ্যাদেশের আলোকে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ধারা ৫৯-এ প্রদন্ত ক্ষমতাবলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৪’ পুনর্গঠনপূর্বক বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ তিনবার অবতীর্ণ হতে পারবে, বিধি সংযোজন করবে।

এছাড়া আরও বলা হয়-

১। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সকল ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বৎসর নির্ধারিত হবে।
২। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের আওতায় বহির্ভূত সকল সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বৎসর নির্ধারিত হবে।
৩। স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ন্তশাসিত সংস্থার ক্ষেত্রে স্ব স্ব নিয়োগ বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজন- সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে।
৪। প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষেত্রে স্ব স্ব নিয়োগ বিধিমালা বহাল থাকবে।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায়

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ তিনজনকে অব্যাহতি

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ তিনজনকে অব্যাহতি

ডেস্ক রিপোর্ট:

গ্লোবাল অ্যাগ্রোট্রেড প্রাইভেট লিমিটেড (গ্যাটকো) দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ তিনজনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আলীসহ আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) আদালতে এ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা হাজিরা দেন এবং তাদের পক্ষ থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার বিশেষ আদালত-৩ এর বিচারক আবু তাহের এ রায় ঘোষণা করেন।

অব্যাহতি পাওয়া অপর দুই আসামি হলেন সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিচার শুরু হওয়া অন্যান্য আসামিরা হলেন- প্রয়াত মন্ত্রী কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের স্ত্রী জাহানারা আনছার, তার দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন ও এ কে এম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌসচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য এ কে রশিদ উদ্দিন আহমেদ, তৎকালীন গ্যাটকোর পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, সৈয়দ তানভির আহমেদ ও সৈয়দ গালিব আহমেদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এ এস এম শাহাদত হোসেন এবং বন্দরের সাবেক পরিচালক (পরিবহন) এ এম সানোয়ার হোসেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন। এ অভিযোগে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী তেজগাঁও থানায় এ মামলাটি করেন। পরের বছর, ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার ২৪ আসামির মধ্যে আটজন ইতোমধ্যেই মারা গেছেন। জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ায় তাকেও মামলার অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় দানার আঘাতে

ঘূর্ণিঝড় দানার আঘাতে উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

ঘূর্ণিঝড় দানার আঘাতে উপকূলে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট:

ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় দানা। এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে দমকা হাওয়াসহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা যেমন সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখ