All posts by jitu

কুমিল্লায় এইচপিভি টিকার

কুমিল্লায় এইচপিভি টিকার আওতায় আনা হবে ৩ লাখ ৮০ হাজার কিশোরীকে

কুমিল্লায় এইচপিভি টিকার আওতায় আনা হবে ৩ লাখ ৮০ হাজার কিশোরীকে

স্টাফ রিপোর্টারঃ

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে বিনামূল্যে কুমিল্লায় এইচপিভি টিকার আওতায় আনা হবে ৩ লাখ ৮০ হাজার কিশোরীকে। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে ২৪ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ বিশেষ টিকা কার্যক্রম চলবে।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. নাসিমা আকতার।

তিনি বলেন, নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে সরকার এইচপিভি টিকা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এইচপিভি টিকার এক ডোজ জরায়ুমুখ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর। প্রাথমিকভাবে ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণির ছাত্রী এবং ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী বিদ্যালয় বহির্ভূত কিশোরীদের এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। কুমিল্লার ১৭টি উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ডা. নাসিমা আরও উল্লেখ করেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৩ হাজার নারী জরায়ুমুখের ক্যান্সারে মারা যান, যা দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর কারণ। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের প্রজাতি প্রচুর হলেও সারভারিক্স ১৬ ও ১৮ টিকার মাধ্যমে ৭০ শতাংশ ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ক্যান্সারে রূপ নিতে প্রায় ১০ বছর সময় নেয়, তাই টিকা নিয়ে যে কোনো বিভ্রান্তি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।

কুমিল্লার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মেহেদী হাসান জানান, এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৪ এর আওতায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৭ জন কিশোরীকে টিকা দেওয়া হবে। এরমধ্যে ৫ হাজার ২১৯টি স্কুলের ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয় বহির্ভূত ১০ হাজার ৩২৭ জন কিশোরী এই টিকা পাবে। জেলার ৪ হাজার ৭০৪টি অস্থায়ী এবং ১৯টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিবন্ধনের জন্য www.vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে যেতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ প্রতিনিধি ডা. বেনজীর সুলতানা ও ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ড. সাবরিনা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এইচপিভি টিকা বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত এবং এর মূল্য ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ইসরায়েলে আবারও রকেট হামলা

ইসরায়েলে আবারও রকেট হামলা

ইসরায়েলে আবারও রকেট হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট:

লেবানন থেকে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে আবারও রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে যে, হিজবুল্লাহর ছোড়া দুটি রকেট সফলভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে। রকেট ঠেকানো হলেও তেল আবিব ও অন্যান্য শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৩ অক্টোবর) লেবানন থেকে উৎক্ষেপিত দুটি দূরপাল্লার রকেট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সফলভাবে প্রতিরোধ করা হয়। হামলার সময় তেল আবিব ও আশপাশের শহরগুলোর পাশাপাশি উত্তরে নাজারেথ এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে।

শুরুর দিকে হামলার ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর না পাওয়া গেলেও পরে জানানো হয়, মধ্য ইসরায়েলে একটি রকেট প্রতিরোধ করার সময় হারজেলিয়া এলাকায় একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে আলজাজিরা জানিয়েছে, লেবানন থেকে রকেট হামলার পর ইসরায়েলি শহর তেল আবিব ও হাইফায় সাইরেন বাজছে। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবানন থেকে উৎক্ষেপিত দুটি রকেট প্রতিহত করার দাবি করেছে।

এছাড়া মেটুলা, মিসগাভ আম ও কেফার গিলাদিসহ উত্তর ইসরায়েলের উচ্চ গ্যালিলি এলাকার বেশ কয়েকটি শহরে রকেট সাইরেনও বাজছে।

এর আগে মঙ্গলবার হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। একই সঙ্গে দেশটির প্রধান বিমানবন্দর, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সকল বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই হামলায় প্রথমবারের মতো মাঝারি পাল্লার রকেট ব্যবহার করেছে হিজবুল্লাহ।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের তেল আবিব শহরতলির নিরিট এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ, যা একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটায়।

নিরিট এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর হিজবুল্লাহ জানায় যে, তারা তেল আবিবের শহরতলির সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর গ্লিলট ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে তাদের হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর নেই বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

চৌদ্দগ্রামে যুব অধিকার পরিষদের

চৌদ্দগ্রামে যুব অধিকার পরিষদের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

চৌদ্দগ্রামে যুব অধিকার পরিষদের কর্মী সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নে আয়োজিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথি’র হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কে এম ফরিদ আমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে তৈরি করা রাষ্ট্রপতি ক্ষমতায় থাকলে শহীদদের রক্তের সাথে যেমন বেঈমানি করা হবে, তেমনি এই দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্যে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

সন্ধ্যার মধ্যে কুমিল্লাসহ

সন্ধ্যার মধ্যে কুমিল্লাসহ যেসব অঞ্চলে ঝড় হতে পারে

সন্ধ্যার মধ্যে কুমিল্লাসহ যেসব অঞ্চলে ঝড় হতে পারে

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের ছয়টি জেলার ওপর দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। একই সঙ্গে এসব জেলায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং কক্সবাজারের ওপর দিয়ে পূর্ব অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’য় পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় (১৬.২° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) ঘূর্ণিঝড় ‘ডানা’য় রূপ নিয়েছে। এটি বুধবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত নামিয়ে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়াও, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

চাঁদপুরে কাভার্ডভ্যান-মোটরসাইকেল

চাঁদপুরে কাভার্ডভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত

চাঁদপুরে কাভার্ডভ্যান-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে যুবক নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরে কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মনির হোসেন মিজি নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার রাতে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ সড়কের পাসপোর্ট অফিসের সামনে।

নিহত মনির হোসেন মিজি বাবুরহাট বাজারের একজন মুদি দোকানি ছিলেন। তিনি শহরের বাবুরহাট খলিশাডুলি এলাকার মৃত বিল্লাল মিজির ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বাইকে থাকা তিনজনের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

বাবুরহাটের ব্যবসায়ী চন্দন দে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় মুদি দোকানি মনির মিজি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক বেলাল হোসাইন জানান, আহত শিহাবকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে আনার আগেই মনির হোসেনের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. বাহার মিয়া বলেন, কাভার্ডভ্যানটি আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা ও কাদেরের পরোয়ানা

শেখ হাসিনা ও কাদেরের পরোয়ানা আইজিপির কাছে : তাজুল ইসলাম

শেখ হাসিনা ও কাদেরের পরোয়ানা আইজিপির কাছে : তাজুল ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পরোয়ানাগুলো ইতোমধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানান তিনি।

এদিকে, ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনে সংস্কার কাজ শেষে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে।

গত ১৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে পৃথক মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ আরও ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ তালিকায় শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আনিসুল হক, দীপু মনি, জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ আরও অনেকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও, সাবেক আইজিপি, পুলিশ ও র‌্যাবের কর্মকর্তাসহ অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের নামও রয়েছে।

এই আদেশ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ দেন। অন্যান্য বিচারপতিরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম পৃথক মামলায় ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন, যা পরে অনুমোদিত হয়।

ব্যবসায়ীদের ধরলেই সমস্যার

ব্যবসায়ীদের ধরলেই সমস্যার সমাধান হবে না- সাক্ষাৎকারে আবদুল আউয়াল মিন্টু

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল আউয়াল মিন্টু। বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লাল তীর সিড, নর্থ সাউথ সিড, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। দায়িত্ব পালন করছেন প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান হিসেবেও। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশের বেসরকারি খাত, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন।

প্রশ্ন: দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি কেমন?

আবদুল আউয়াল মিন্টু : এমন কোনো দেশ দেখা যায় না যেখানে রাজনীতি খুব ভালো, অর্থনীতি খুব খারাপ। আবার অর্থনীতি খুব ভালো, রাজনীতি খুব খারাপ। সাধারণ নিয়মেই রাজনীতি অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। আর অর্থনীতি যত ভালো হবে, রাজনীতি তত পরিশীলিত হবে। একটি আরেকটির সম্পূরক। এখন দেশে রাজনীতি তো নাই। ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশে এমন এক ধরনের রাজনীতি গড়ে উঠেছে।

সেটাকে সংক্ষেপে বলা যায়, দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি। এ দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতি যাঁরা ব্যবসাবাণিজ্য করেন তাঁদেরও ছাড় দেয় না। কারণ এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছে বড় বড় ব্যবসায়ীরা, যদি তাঁদের লেজুড়বৃত্তি না করেন অথবা ওদের সঙ্গে অ্যালাইনমেন্টে না যান তাহলে ব্যবসাবাণিজ্য করতে দেওয়া হয়নি। এটা হচ্ছে একদম সোজাসাপটা কথা। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসে এবং আমরা বুঝতে পারব না কোন ধরনের রাজনীতি বাংলাদেশে পরিচালিত হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো হবে না।

এখন রাজনীতি, দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতিও নাই। ভবিষ্যৎ দেখে যে মানুষ ব্যবসাবাণিজ্য বাড়াবে, বিনিয়োগ করবে এ অস্থির সময়ে সেটা একেবারেই সম্ভব না। গত ১৬-১৭ বছরের রাজনীতিই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। কারণ রাজনীতি ছিল দুর্বৃত্তায়িত। এ দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতিতে ব্যবসায়ীরা যদি জড়ান তাহলে ব্যবসাবাণিজ্য করা খুব দুষ্কর। এখন প্রশ্ন হলো, অনেক লোক হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ওই ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ তো ধরে রাখতে হবে। এতে অনেকেই মনে করতেন ওই ব্যবসায়ী সরকারের সঙ্গেই আছেন।

আমার মনে হয়, ব্যবসাবাণিজ্য রক্ষার জন্য অনেকেই অনিচ্ছাকৃতভাবে ছিলেন। এ ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। ১০ বছর ধরে সরকারের অর্থনীতিতে একটা দ্বিমুখী নীতি ছিল। সরকারি ব্যবসাবাণিজ্যের জন্য সম্প্রসারিত মুদ্রানীতি আর বেসরকারি খাতের জন্য ছিল সংকুচিত মুদ্রানীতি। এটার প্রতিফলন আপনারা দেখতে পাবেন গত এক বছরে। সরকারকে ঋণ ঠিকই দেওয়া হচ্ছে কিন্তু সংকোচন করা হয়েছে বেসরকারি খাতের বেলায়। যার ফলে বেসরকারি খাতকে এক ধরনের অবহেলা করা হয়েছে। অনেক ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে। এখন হঠাৎ এ সরকার এসে বিগত সরকারের সংকুচিত মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এতে সমস্যা হলো দীর্ঘদিন একটা সম্প্রসারিত মুদ্রানীতি দিয়ে এসেছেন।

এখন সংকুচিত করছেন, কতটুকু। সেটার মাপকাঠি যদি ঠিক না করেন, যদি গলা চেপে ধরেন তাহলে ভালো করতে গিয়ে খারাপ হতে পারে। আরেকটা বিষয় ছিল পণ্য সরবরাহে ঘাটতি। এখন কী হচ্ছে-পণ্য আমদানি করতে এলসি খোলা মহাদুষ্কর। দেশে যত পণ্য উৎপাদন হয়, তার অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এলসির অভাবে কাঁচামাল আমদানি করতে না পারলে উৎপাদন তো বন্ধ হবেই। সংকুচিত মুদ্রানীতির ফলে সুদহার বেড়ে যাচ্ছে। সুদহার বাড়ার ফলে পণ্য উৎপাদনের খরচও বেড়ে যাবে। তাতে কি মূল্যস্ফীতি কমবে? আমি মনে করি, মধ্যবর্তী পন্থা ফলো না করলে যে কারণে সংকুচিত মুদ্রানীতি অনুসরণ করতেছেন, সেটা উল্টো দিকে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

প্রশ্ন: অর্থনীতিতে একটা বিপর্যয় রেখে গেছে বিগত সরকার। উন্নয়নের এত কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে কী ছিল?

আবদুল আউয়াল মিন্টু : কোনো দেশে যখন গণতন্ত্র থাকে না, মৌলিক অধিকার থাকে না, সাংবিধানিক অধিকার থাকে না, ভোটের অধিকার থাকে না, গণমাধ্যমের অধিকার থাকে না তখন প্রকৃতপক্ষে কোনো খাতই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। বাংলাদেশে সবচেয়ে প্রহসনমূলক নির্বাচন হয়েছে ২০০৮ সালে, এটা কেউ বলে না। এমনভাবে নির্বাচনটা করা হয়েছে যে, কেউ বুঝতেই পারে নাই। কারণ একটা অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে নির্বাচনটা করা হয়েছিল। বিভিন্ন সংস্থা ম্যানুপুলেট করে একটা ফলাফল দিয়েছিল। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে একটা সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

যেটাকে আমি এখনো মনে করি অনির্বাচিত বা অবৈধভাবে নির্বাচিত সরকার। পরে ওই সরকার নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পরপরই দেশে এক ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। দলীয় লোক ছাড়া সব মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে তারা। আবার মুষ্টিমেয় কিছু লোাকের জন্য এ অধিকার ছিল অতিমাত্রায়। তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারত। এর ফলে যেটা হয়েছে সেটা হলো, নেতারা প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ যত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান আছে, সব দখলে নিয়েছিল।

এ ছাড়া যত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন এফবিসিসিআই) তাদের কবজায় নিয়েছিল। নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তারা একচ্ছত্র আধিপাত্য বিস্তার করেছে। ফলে এমন এক জায়গায় আমাদের অর্থনীতি নিয়ে গেছে যাতে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের দ্বারা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব ছিল। মুষ্টিমেয় কিছু লোকের জন্য সম্ভব ছিল ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি মনে করি, অর্থনীতি মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে তুলে দেওয়ার ফলে উৎপাদনব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে, মানুষের উদ্যম এবং উদ্যোগের ব্যবহারের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য খুবই খারাপ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেওয়া সঠিক তথ্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় উপস্থাপন করত না।

এতদিন মানুষ এটা বলার সুযোগ পায়নি। যদি নির্বাচনটা ঠিকমতো হতো, তাহলে মানুষ ভোটের মাধ্যমে জবাব দিত। কিন্তু সে সুযোগ তো ছিল না। বাংলাদেশে যখন একদলীয় এবং এক ব্যক্তির শাসন চলে তখন তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য যে কথাই বলত (আমাদের বৈষম্য কমে গেছে, মানুষকে মানবসম্পদে পরিণত করা হয়েছে, উৎপাদন বেড়েছে) সবকিছুই ছিল বিভ্রান্তিমূলক। ফলে এখন এ বিষয়গুলো বেরিয়ে এসেছে। আমরা আশা করি বর্তমান সরকার পরিসংখ্যানের মিথ্যা তথ্য আর মানুষকে দেবে না।

প্রশ্ন: ফ্যাসিবাদ থেকে বেরিয়ে আসার পর শিল্পকারখানায় হামলা, মালিকদের নামে মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করার ফলে অর্থনীতিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, এখান বেরিয়ে আসার উপায় কী

আবদুল আউয়াল মিন্টু : রাজনীতি ঠিক না হলে অর্থনীতি ঠিক করতে পারবেন না। দেশের জন্য সম্পদ সৃষ্টি করে কারা? বিনিয়োগ করে একটা কারখানা গড়ে তুললেন, সেখানে যে উৎপাদন হবে সেটাও সম্পদ। উৎপাদিত সম্পদ বিলিবণ্টন করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, আমাদের না। কিন্তু দেশটাকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একটা সম্পদ অর্জনকারী, আরেকটা সম্পদ সৃষ্টিকারী। তো সম্পদ অর্জনকারীদের কোনো সমস্যা নাই।

যে ১০০ টাকার পণ্য ১৫০ টাকায় টেন্ডার করে সে ৫০ টাকার সম্পদ অর্জন করল, সম্পদ সৃষ্টি করল না। কিন্তু এ সম্পদ যারা সৃষ্টি করে যত সমস্যা তাদের (ব্যবসায়ী)। কারণ ব্যবসায়ীরা সম্পদ সৃষ্টি করে, সেবা করে এবং ব্যবসা করে, করও দেয়। আর যে সম্পদ অর্জন করে সে করও দেয় না, বিনিয়োগও করে না, রক্ষা করার জন্য বিদেশে পাচার করে। এ গোষ্ঠীটা সবাই এক। যখন নতুন সরকার এসে বলে অর্থ পাচারকারীদের ধরবে। শেষ পর্যন্ত গিয়ে ধরে কিন্তু সম্পদ সৃষ্টিকারীদেরই।

যারা দেশে আছে, দেশের উন্নয়নে কাজ করছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে সবাই ধরে তাদেরই। যতক্ষণ পর্যন্ত সমাজে সম্পদ সৃষ্টিকারী এবং সম্পদ অর্জনকারীদের আলাদা না করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ সমস্যার উত্তরণ করা হবে না। বিনিয়োগকারীদের যদি ধরে নিয়ে যান, যত রকমের অন্যায়-অবিচার করেন তাহলে এত সহজে এ সমস্যার উত্তরণ ঘটবে না। আমাদের দেশে যারা বিনিয়োগ করেন, সম্পদ সৃষ্টি করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন সব দায়দায়িত্ব তাদের ওপর গিয়ে পড়ছে।

প্রশ্ন: সিন্ডিকেট থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী?

আবদুল আউয়াল মিন্টু : গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ছিল সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট। এ রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের আওতায় বিভিন্ন খাতে ছোট ছোট সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। এখন যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে তারাও একটা সিন্ডিকেট। পণ্যের মূল্য নির্ধারণ হয় সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে। চাহিদা যদি বাড়ে কিংবা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকে তাহলে মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে-কিছু কিছু পণ্যের সরবরাহ অল্প কয়েকজন লোকের হাতে নিয়ন্ত্রিত। সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই।

কিন্তু কারওয়ান বাজারে গেলে দেখতে পাবেন অন্তত ২০০ জন সবজি বিক্রি করতেছে। ২০০ দোকানদার চিনি বিক্রি করছে। তাহলে ২০০ জন মানুষের সিন্ডিকেট কীভাবে হয়? তার মানে হলো, সিন্ডিকেট হয় ওপরের লেভেলে। সে সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনীতি জড়িত। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনীতি ঠিক না হবে, উৎপাদন না বাড়বে ততক্ষণ পর্যন্ত এ সমস্যা বিদ্যমান থাকবে। সংকট আরও বেশি হবে। বর্তমান সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত এ সমস্যা বুঝতে না পারবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগকারীদের সহায়তা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত উৎপাদনে ঘাটতি হবে, উৎপাদন ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দাম আরও বেড়ে যাবে। এগুলো ধর্তব্যে এনে যদি ব্যাংকিং ব্যবস্থা ঠিক করা না হয়, বিনিয়োগকারীদের সহায়তা না করে তাদের অনৈতিক, অধিক মুনাফাকারী ও চোর বলেন তাতে সমস্যা আরও ঘনীভূত হবে।

আরেকটা কথা বলতে চাই। গতকালও এক উপদেষ্টা বলেছেন, আপনারা যৌক্তিক মুনাফা করেন। এটা নিয়ে কি আমাদের ধর্মে কিছু লেখা আছে? আমি জানি না। বরং ধর্মে ব্যবসাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। মুনাফা এবং অতিমুনাফা একটা নৈতিকতার ব্যাপার। এখন প্রশ্ন হলো, এ নৈতিকতা কি শুধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর জন্য? শুধু বিনিয়োগকারীর জন্য? যারা রাজনীতি করে, শিক্ষকতা করে, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তারদের জন্য কি নৈতিকতার প্রয়োজন নাই? আপনি সরকারি হাসপাতালে গিয়ে দেখেন সেখানে ডাক্তার নাই। তাদের জন্য কোনো নৈতিকতার সমস্যা নাই।

বাংলাদেশে সকল নৈতিকতা শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নৈতিকতাকে সামাজিক মূলধনের অংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে। যেই সামাজিক মূলধনের ওপর ভিত্তি করে দেশে বিনিয়োগ হয়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রসার ঘটে। সেই সামাজিক মূলধনের অন্যতম অংশ হলো নৈতিকতা। একে অন্যের ওপর বিশ্বাস, সাহায্য-সহযোগিতা, পারস্পরিক চুক্তিগুলো মেনে চলা। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত এ নৈতিকতা রাজনীতি থেকে শুরু না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এ নৈতিকতা সমাজে কার্যকর হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত নৈতিকতা না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত সামাজিক মূলধন সৃষ্টি হবে না। যে সমাজে সামাজিক মূলধনের ঘাটতি রয়েছে সে সমাজে আর্থিক মূলধন বিনিয়োগ হয় না।

প্রশ্ন: বাজারের সিন্ডিকেটের বাইরেও ব্যাংক দখল, সিন্ডিকেটের লোকদের ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া এবং তাদের দলের লোকদের নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এর ফলে ব্যাংকে মানুষের আমানত লুটপাট হয়েছে, ঋণখেলাপির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে আমাদের আর্থিক খাত ধ্বংস হয়েছে। সার্বিকভাবে আর্থিক খাতের দুরবস্থা নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?

আবদুল আউয়াল মিন্টু : ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পারার ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে। এর অন্যতম কারণ হলো প্রতিষ্ঠান দখল করা। প্রতিষ্ঠানগুলো একটা গোষ্ঠীর করায়ত্তে চলে যাওয়া বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা। গত ১৫ বছরে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান একটি রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে তাদের মিত্ররা দখলে নিয়েছে। এর মধ্যে সাংবিধানিক, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থাও রয়েছে। আমরা দেখেছি, একটা গোষ্ঠী ১০-১২টি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু বাকি ব্যাংকগুলোও কোনো না কোনো পরিবার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এগুলো দুনিয়ার ইতিহাসে খুবই বিরল ঘটনা।

এখন ধরেন, একজন বিনিয়োগকারীর ৫ হাজার কোটি টাকা লোন রয়েছে। আগে সুদের হার ৯ শতাংশ ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেটা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে গেছে। বিনিয়োগকারী বর্তমানে কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন ও এলসি করতে পারছে না। কাঁচামাল আমদানি করতে পারলেও ডলারের দাম বাড়ার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে দুর্নীতি, ডলারের দাম বৃদ্ধি ও সুদের হার বৃদ্ধি করা। এ তিনটি বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই বৃদ্ধি পাবে।

কিন্তু এ দাম বৃদ্ধির জন্য যদি আপনি বিনিয়োগকারীকে প্রশ্ন করেন তাহলে সেটা কষ্টকর বিষয়। যারা কোনো দিন বিনিয়োগ করে নাই, সম্পদ করে নাই, কর্মসংস্থান সৃষ্টি