All posts by jitu

কুমিল্লাসহ ২৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার হলেন যারা

ডেস্ক রিপোর্ট:

ক্ষমতার পটপরিবর্তনের ধাক্কায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও রদবদল চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২৪ জেলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) বদলি করা হয়। এরপর নতুন করে ২৪ কর্মকর্তাকে ২৪ জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপ-সচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা, রাজশাহী, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মাগুরা, টাঙ্গাইল ও নরসিংদীসহ ২৪ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার দেওয়া হয়।

রংপুর জেলার দায়িত্বে রংপুর পিটিসির মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, পিবিআইয়ের মো. আবুল কালাম আযাদ গাজীপুরে, ডিএমপির মো. আসফিকুজ্জামান আকতারকে কুমিল্লায়, পুলিশ সদর দপ্তরের আহম্মদ মুঈনকে ঢাকায়, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজির মো. ফারুক হোসেনকে সিরাজগঞ্জে, এটিইউয়ের রায়হান উদ্দিন খানকে চট্টগ্রাম, সিআইডির মো. বশির আহমেদকে মানিকগঞ্জ, নৌ পুলিশের মো. আজিজুল ইসলামকে ময়মনসিংহে, পুলিশ সদর দপ্তরের মো. মোশাররফ হোসেনকে গাইবান্ধায়, রাজশাহী সারদার মো. রেজাউল হক খানকে হবিগঞ্জ জেলায়, নোয়াখালী ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের মো. আনিসুজ্জামানকে রাজশাহী ও হাইওয়ে পুলিশের মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকারকে মুন্সিগঞ্জ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোনা চোরাচালানে অপ্রতিরোধ্য, আছে খুনের অভিযোগ: দুই মাফিয়া ধরাছোঁয়ার বাইরে

স্টাফ রিপোর্টার:

স্বর্ণ চোরাচালানের দুই মাফিয়া গোয়েন্দা নজরদারিতে। এদের একজন হলেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালা। অপরজন ডায়মন্ড অ্যান্ড ডিভার্স এবং শারমিন জুয়েলার্সের মালিক এনামুল হক খান ওরফে দোলন।

তাদের বিরুদ্ধে দুবাইভিত্তিক স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এরাই নিয়ন্ত্রণ করছেন সোনা চোরাচালানের ৮৩ সিন্ডিকেট। তবে দিলীপ কুমার আগারওয়ালার বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান ছাড়াও ডায়মন্ড চোরাচালান থেকে শুরু করে খুনের অভিযোগ পর্যন্ত রয়েছে। এমপি আনার হত্যা মামলার তদন্তে তার নাম বেরিয়ে এলেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হস্তক্ষেপে তার নাম প্রকাশ্যে আনেননি গোয়েন্দারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যত সোনা ধরা পড়ছে, তার কয়েক গুণ বেশি সোনা পাচার হচ্ছে। দেশের অবৈধ সোনার এ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন বাজুসের সাবেক সভাপতি এনামুল হক দোলন এবং দিলীপ আগারওয়ালা। ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাকারবারের তথ্য দিয়েছে দুবাই ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। নজরদারিতে রেখেছে দুর্নীতি দমন কমিশনও। তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। স্বর্ণ চোরাচালানের এই দুই মাফিয়া ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না স্বর্ণ পাচার।

কে এই দিলীপ কুমার আগারওয়ালা

জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালা। দুই দশকের ব্যবধানে তিনি এখন হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। নব্বইয়ের দশকে ঢাকার ভাড়া বাসায় থাকা দিলীপ কুমার থাকেন এখন শত কোটি টাকার বাড়িতে। মধ্যবিত্ত পরিবারের দিলীপ এখন সোনা ও হীরা চোরাচালান, রাজস্ব ফাঁকি, বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শতাধিক শোরুম রয়েছে। বৈধ আয়ের চেয়ে অবৈধ সম্পদের পরিমাণই বেশি। ইতিপূর্বে দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সোনা এবং ডায়মন্ড চোরাচালান ও বিদেশে অর্থ পাচারের ভয়ংকর তথ্য-উপাত্ত উঠে আসে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মালিক দিলীপ কুমার আগারওয়াল বিদেশ থেকে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণ ও হীরা আমদানি করে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। ঢাকা বিমানবন্দরের কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শুল্ক বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ম্যানেজ করে তার অবৈধ কর্মকা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, মেসেনটেট নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ বিক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তথাকথিত হীরা বানিয়ে তা অলঙ্কার হিসেবে বিক্রির প্রতারণা চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কিছু দিন ব্যবহারের পর এগুলো কালো হয়ে যায়। নিরীহ মানুষকে প্রতারিত করে দিলীপ কুমার আগারওয়াল গুলশান, ধানমন্ডি, উত্তরা, মিরপুরসহ প্রায় ১০০টির কাছাকাছি শোরুম অল্প কয়েক দিনের মধ্যে স্থাপন করেন। তিনি কুষ্টিয়ার মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্মেগ্রহণ করেন। বর্তমানে তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আগরওয়ালা সম্প্রদায়ের প্রায় সবারই কলকাতায় ‘গদিঘর’ নামে ব্যবসায়িক ঠিকানা রয়েছে। বংশানুক্রমেই তারা সীমান্ত ডিঙিয়ে এপার-ওপার যাতায়াত আর নানা পণ্য সরবরাহ ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। সীমান্ত এলাকার বিজিবি সোর্সদের ভাষায়, মাড়োয়ারিদের অনেকেই ছিচকে স্মাগলিং কর্মকান্ডে জড়িত থাকেন। প্রায়ই মালামালসহ বর্ডার এলাকায় ধরাও পড়ে তারা, তবে বিশেষ সহানুভূতিতে ছাড়া পেয়ে যান তারা।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে তা বাঁধাই করে তার প্রতিটি শো-রুমে টানিয়ে অবৈধ ও ভুয়া ডায়মন্ড ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। নিজেকে খুব ক্ষমতাবান জাহির করে আসছেন দিলীপ কুমার। সূত্র জানায়, এ দেশে অবৈধ পথে ব্যবসা করে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করেন দিলীপ কুমার।

দুই দশকেই আকাশ-পাতাল ব্যবধান

চুয়াডাঙ্গায় স্থানীয়ভাবে মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের সন্তান হিসেবেই পরিচিত দিলীপ কুমার আগরওয়ালা মাত্র দুই দশকেই আমূল বদলে নিয়েছেন নিজেকে। একদা জীবনযুদ্ধে নিজ বাড়িঘর ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হওয়া দিলীপ কুমার ধূর্ততা, প্রতারণা, অপরাধমূলক কলাকৌশলকে পুঁজি করে আজ সম্পদ প্রাচুর্যের পাহাড় জমিয়েছেন। তার পৈতৃক নিবাস চুয়াডাঙ্গায় সরেজমিন অনুসন্ধানকালেও নানা অবিশ্বাস্য কাহিনি বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দিলীপ কুমার আগারওয়ালার রাতারাতি বিত্তশালী বনে যাওয়ার ঘটনাকে রীতিমতো আলাদিনের চেরাগ হাতে পাওয়া বলেই মনে করছেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় দিলীপ কুমার আগারওয়ালার পরিচিত মহলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রজীবন শেষে বন্ধুদের সঙ্গে যৌথ ঠিকাদারি ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। সে সময় তার বাবা অমিয় আগারওয়ালার ছিল সিনেমা হলের (রূপছায়া বর্তমানে পান্না সিনেমা হল) ব্যবসা। তাতে আগারওয়ালা পরিবারে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা খুব একটা ছিল না। সিনেমা হলের ব্যবসা দেখাশোনার পাশাপাশি সিনেমা হল সংলগ্ন জায়গা জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েই চলত সংসারের খরচ। চুয়াডাঙ্গায় পার্টটাইম ঠিকাদারি আর সিনেমা হলের ব্যবসায় সফলতা আনতে না পেরে দিলীপ পাড়ি জমান ঢাকায়।

জীবিকার সন্ধানে দুই দশক আগে চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমানো দিলীপ কুমার বিভিন্ন চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে নিজের ভাগ্যকে আমূল বদলে নিয়েছেন। তার আস্তানায় এখন দেশি বিদেশি হরেক রকম ধনকুবের, স্মাগলার, রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভিড় লেগেই থাকে। অঢেল সহায়-সম্পদ তার। ভারতের কলকাতা, বোম্বে এবং জয়পুরে তার আলীশান বাড়ি রয়েছে। অস্ট্র্রেলিয়ায়ও আছে প্রাসাদপম স্থাপনা। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও অস্ট্র্রেলিয়ার নাগরিকত্ব রয়েছে তার। আছে একাধিক পাসপোর্ট। তার দাপটের কোনো কমতি নেই।

জানা যায়, এই চোরাকারবারি আগারওয়ালা ব্যাংকের পরিচালক হয়ে ব্যাংকের প্রায় হাজার কোটি টাকার ওপরে কৌশলে ঋণ করে বিদেশে পাচারসহ গুলশানের অভিজাত দুটি ভবনে কিনেছেন সাতটি ফ্লোর। রাতারাতি হাজার হাজার কোটি টাকা লেনদেনের উৎস ও অর্থ পাচারের ঘটনা খুঁজে দেখলেই দুর্নীতির ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যাবে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া বিতর্কিত মডেল পিয়াসা ও পাপিয়ার সঙ্গে রয়েছে তার মাদকের বিস্তর নেটওয়াক।

কলকাতায় আওয়ামী লীগের এমপি আনার হত্যার তদন্তে সোনা চোরাকারবারি দিলীপ আগারওয়ালার নাম বেরিয়ে আসে গোয়েন্দা তদন্তে। কিন্তু তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় তার নাম প্রকাশ্যে আসেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তার নাম ধামাচাপা দেন গোয়েন্দারা। সোনা চোরাচালান নিয়ে আনারের সঙ্গে দিলীপের দ্বন্দ্ব ছিল বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন।

আরেক মাফিয়া এনামুল হক খান

ডায়মন্ড অ্যান্ড ডিভার্স নামের একটি স্বর্ণালংকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এনামুল হক খান দোলন। চোরাচালানের রহস্য উন্মোচনের জন্য দোলনকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মজুদ সব স্বর্ণের হিসাব জমা দিতে ইতিপূর্বে নির্দেশ দিয়েছিল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দোলন রাজধানীর চোরাই স্বর্ণালংকার ব্যবসার অন্যতম হোতা। বায়তুল মোকাররম মার্কেট ঘিরে তার অবৈধ স্বর্ণালংকার ব্যবসার শাক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চোরাকারবারের মাধ্যমে তিনি অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন তিনি অবৈধ কারবার চালিয়ে গেলেও এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরেজমিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটে দেখা যায়, নিচতলা ও দোতলায় সারি সারি স্বর্ণালংকারের দোকান। চাকচিক্যময় ও আলো ঝলমলে দোকানগুলোতে থরে থরে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন ডিজাইনের স্বর্ণালংকার। দোতলায় ১৫/এ নম্বরের দোকানটির দরজা মাত্র দুই ফুট। আশপাশের দোকানের কর্মচারীরা জানান, এটির মালিক এনামুল হক দোলন। নিচতলায় শারমিন জুয়েলার্স নামে তার মূল শোরুম। দেখা যায়, অন্য সব দোকান থেকে ‘ডায়মন্ড অ্যান্ড ডিভার্স’ একেবারেই ভিন্ন। বায়তুল মোকাররম মার্কেটের অন্য সব দোকান স্বচ্ছ কাচঘেরা হলেও ছোট এই দোকানটির কাচের দরজায় ব্লাইন্ড পেপার সাঁটানো। ফলে বাইরে থেকে ভিতরের কিছুই দেখা যায় না। দোকানে ঢুকে দেখা যায়, ভিতরে কোথাও স্বর্ণালংকারের ডিসপ্লে নেই। কয়েকটি টেবিলের ওপর দাঁড়িপাল্লা, নিক্তি ও মিটার রাখা। দেখে বোঝা যায়, বাইরে স্বর্ণের দোকানের সাইন বোর্ড থাকলেও ভিতরের চেহারা ভিন্ন। সাজসজ্জা দেখে মনে হয়, এটা একটা অফিস। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ডায়মন্ড ডিভার্স নামের দোকানটি ‘বাংলা গোল্ড’ নামে পরিচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, দিনের বেশির ভাগ সময় গোল্ড হাউসের দরজা বন্ধ রাখা হয়। ভিতরে নিক্তি বা মিটার নয়, রীতিমতো বড় দাঁড়িপাল্লায় স্বর্ণালংকার মাপজোখ করা হয়। এখানে ভরিতে নয়, স্বর্ণালংকারের পাইকারি বেচাকেনা হয় কেজি হিসেবে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কেজি বা মণ হিসেবে স্বর্ণ বেচাকেনা করলেও এ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আমদানি খাতা প্রায় শূন্য। কয়েক বছরের রেকর্ড খুঁজেও তাদের ১০ কেজি স্বর্ণ আমদানির তথ্য পাওয়া যায়নি। আমদানি না করেও শারমিন জুয়েলার্সের জমজমাট পাইকারি ব্যবসার খোঁজ করতে গিয়ে দুবাইভিত্তিক চোরাচালানের খবর পাওয়া যায়।

তিনি প্রায়ই কলকাতা হয়ে দুবাই যাতায়াত করছেন। দোলনের বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য হাতে পাওয়ার পর শুল্ক গোয়েন্দার অনুসন্ধানে উঠে আসে তিনি দুবাইয়ের স্থায়ী আবাসিক কার্ডধারী। এ জন্য দুবাই বিমানবন্দরে তিনি বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফলে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে সহজেই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য যাতায়াত করতেন পারেন। সূত্র জানায়, চোরাই স্বর্ণের ব্যবসা করে অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন দোলন। ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট ছাড়াও তার ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের অর্থ রয়েছে।

গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতেও তিনি পাঁচ তারকা হোটেল স্টাইলে অভিজাত বাংলো বানিয়েছেন। এই বাড়ি নির্মাণের জন্য যাবতীয় ফিটিংসহ গৃহসজ্জার উপকরণ আনা হয় দুবাই ও ইতালি থেকে। নরসিংদী শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে মনোহরদী উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের খারাব গ্রামে এনামুল হক দোলনের বিশাল বাংলো।

বিলাসবহুল অত্যাধুনিক বাংলোটির সামনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরা থাকে। চারদিকে লেকবেষ্টিত নিরাপত্তাঘেরা বাড়িটি দেখতে প্রতিদিনই উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, খোরশেদ আলম নামের এক সহযোগীর মাধ্যমে দুবাইসহ কয়েকটি দেশে হুন্ডি ব্যবসা ও সোনা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন দোলন।

সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে চোরাই পথে বাংলাদেশে স্বর্ণালংকার আনা হয় যাত্রীদের মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থায়। চোরাচালান জগতে এ পদ্ধতিকে ‘প্যাসেঞ্জার ক্যারিয়ার’ বলা হয়। দুবাই ছাড়াও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকেও স্বর্ণালংকার আনতে ‘প্যাসেঞ্জার ক্যারিয়ার’ ব্যবহার করা হয়। মূলত আকাশপথেই স্বর্ণালংকার চোরাচালান হয়ে থাকে।

এ পদ্ধতির প্রথম ধাপে দুবাই অথবা সিঙ্গাপুরের বড় বড় স্বণালংকারের দোকানে বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা পছন্দ করে রেখে আসে চোরাচালানিরা। এর পর ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে ঢাকা অভিমুখী যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। স্বর্ণের গহনা বহনের শর্তে যাত্রীদের বিমান টিকিটের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে ডিসকাউন্টের বাইরে অতিরিক্ত নগদ টাকাও দেয় ট্রাভেল এজেন্ট।

এভাবে প্রতি যাত্রীকে ১০০ গ্রাম বা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার বহন করতে দেওয়া হয়। বহনে সুবিধা থাকায় নারী যাত্রীদের দেওয়া হয় ৩০ ভরি পর্যন্ত। এভাবে স্বর্ণালংকার এনে ডিসকাউন্টে টিকিট বা নগদ অর্থ পাওয়ায় যাত্রীদের অনেকেই খুশি থাকেন। দুবাই, সিঙ্গাপুর গেলে অনেক যাত্রী নিজে থেকে যোগাযোগ করে স্বর্ণালংকার এনে চোরাকারবারিদের কাছে দেন। জানা গেছে, বিদ্যমান আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে। আর এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন এনামুল হক খান।

চৌদ্দগ্রামে ক্রমাগত বাড়ছে ডাকাতিয়া নদীর পানি

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চিওড়া-ঢালুয়া সড়কে ডাকাতিয়া নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সোমবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে ছিলপাড়া, শাকতলা, ঘোরক মুড়া, সিওর, মনতলী, জামরুল, অষ্টগ্রাম, মদনপুর, এবং সাতবাড়িয়া গ্রামগুলোতে দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করে।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা নারী-পুরুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছানোয় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, এই এলাকার অধিকাংশ গ্রামে এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি।

মুছাপুর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে নাঙ্গলকোট উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। সোমবার পানির প্রবল স্রোতে নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়নের মনতলী গ্রামে আকতার আলী (২৬) নামের এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের শিউর গ্রামের আজগর আলী বলেন, “আমাদের গ্রামটি ডাকাতিয়া নদীর তীরেই অবস্থিত। গত ৭ দিন ধরে এই ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন।”

মদনপুর গ্রামের আতাউর রহমান (৬৯) বলেন, “আমার জীবনে কখনো এত পানি দেখিনি।

নাঙ্গলকোট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আক্তার লাকি জানান, উপজেলাটির দুর্গম এলাকাগুলোতে পানিবৃদ্ধি ও যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো খাবার পৌঁছায়নি। তবে আমরা স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে চাকরি হারালেন কুমিল্লা রেঞ্জের ৯৬ জন আনসার

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কুমিল্লা রেঞ্জের মোট ৯৬ জন সদস্যকে ক্যাম্প ত্যাগ করে ঢাকায় বেআইনি সমাবেশ এবং সচিবালয় ঘেরাও করার অভিযোগে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

কুমিল্লা রেঞ্জের কমান্ড্যান্ট রাশেদুজ্জামান সোমবার (২৬ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আন্দোলনকারী আনসার সদস্যরা তাদের দাবি আমাদের কাছে উপস্থাপন করেছিল। আমরা সেই দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। তবে কিছু সদস্য অতিউৎসাহিত হয়ে ঢাকায় সচিবালয় ঘেরাও করেছে, যা আমাদের দৃষ্টিতে বিদ্রোহী কার্যক্রম। তাদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা রেঞ্জ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯৬ জনকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত ২২ জন আনসারও রয়েছে।

তিনি জানায়, আনসার একটি শৃঙ্খল বাহিনী। আমরা নিরাপত্তার কাজ করে থাকি। সেই কাজ না করে রাস্তায় আনসারদের স্লোগান মানায় না। যারা সচিবালয় ঘেরাও করতে গিয়েছে তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। মূল আনসার নয়। আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। ৯৬ জন থেকে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। কারণ, অনেকে ছুটিতে ছিলেন। ছুটিতে থাকা আনসাররাও যেতে পারে। নিরপরাধ কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই চেষ্টা করছি। তাই আমাদের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ২ শিশুসহ চারজনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে দুই শিশু। সোমবার (২৬ আগস্ট) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বুড়িচং, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

বুড়িচং উপজেলার সদর ও পশ্চিমসিংহ এলাকায় দুপুরের দিকে হাসিবুল (১০) এবং ইব্রাহিম (৪) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। বিকেলে নাঙ্গলকোট উপজেলার গোরক মুড়া এলাকায় সেরাজুলের মৃত্যু ঘটে, আর সন্ধ্যায় মনোহরগঞ্জের মির্জাপুর এলাকায় আরেকজনের মৃত্যু হয়।

এই চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। গত দুই দিনে কুমিল্লায় পানিতে ডুবে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চারজন শিশু।

মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় দেখা নেই রাজনৈতিক নেতাদের

 

সেলিম সজীব:

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে পানি।  বিভিন্ন গ্রামের পানির উচ্চতা বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলার ডাকাতি নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়  প্রবেশ করছে  বিভিন্ন গ্রামে।

এইদিকে উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে মো. সৈকত নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের  নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।

পোমগাও এলাকার বাসিন্দা খোকন জানান, বৃহস্পতিবার আমাদের এলাকায় বন্যার পানি বাড়ির উঠোন পর্যন্ত ছিল। শুক্রবার ভোর থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এখন মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।

যাদবপুর এলাকার রবিন শেখ বলেন, নির্বাচন আসলে ঝলক দেখায় নেতারা আজ পুরো গ্রাম পানির নিচে কোন নেতায় খোঁজ নিতে আসে নাই।

জানা গেছে, মনোহরগঞ্জ উপজেলার সব কয়েটি ইউনিয়ন এর অধিকাংশ এলাকা গত ছয়দিন পানি বন্দি রয়েছে। বেশিরভাগ বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে যায়। মানুষ আশ্রয় নেন পার্শ্ববর্তী আশ্রয় সেন্টারে। যারা বাড়ি ঘরে রয়ে যায় তারা পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বের হয়ে পড়েন।

উপজেলার সাথে বিভিন্ন ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহ মনোহরগঞ্জ বাণিজ্যিক জনপদ মনোহরগঞ্জ বাজার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো ব্যবসায়ী। সেই সঙ্গে পানিতে ভেসে গেছে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত মৎস্য পুকুর ও মুরগির খামার।

কাঁচা, পাকা, আধাপাকা রাস্তাসহ গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন ও জনচলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার হাটিরপাড়- দিশাবন্দ সড়ক, মনোহরগঞ্জ-দেবপুর সড়ক কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ডাকাতিয়া নদীর পাশের গ্রামগুলো ভয়ে দিন কাটাচ্ছে অন্তত কয়েক হাজার পরিবার।

জানা যায়, ভারি বর্ষণে পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে জীবন যাপন করছে। এসব ইউনিয়নে এখনো সরকারি কোন ত্রাণ সহায়তা পায়নি মানুষ।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজালা রানী চাকমা বলেন, উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতির দিকে যাচ্ছে। আজও পানি কিছুটা বেড়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলার অনেক দুর্গম এলাকা রয়েছে যেগুলোতে নৌকা ছাড়া যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। আমাদের কাছে নৌকার প্রচুর সংকট রয়েছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে পাঠিয়ে সেসব এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন একটা মানুষও অভুক্ত না থাকে। তবে আমাদের আরও অনেক সহায়তা দরকার। আমি অনুরোধ করবো, বিত্তশালীরা বানভাসি মানুষের জন্য এগিয়ে আসুন। পুরো উপজেলার প্রায় সব সড়ক পানির নিচে। পুকুর-দিঘি থেকে শুরু করে মাছের ঘের- সব কিছুই প্লাবিত হয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ এখন অবর্ণনীয়।

মনোহরগঞ্জে রান্না খাবার পৌঁছে দিচ্ছে ছাত্রদল

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা মনোহরগঞ্জে বন্যায় দুর্গতদের মাঝে খাদ্যদ্রব্যসহ ওষুধপত্র ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে উপজেলা ছাত্রদল।

সোমবার (২৬ আগস্ট) দিনব্যাপী মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণ করা খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে শুকনো খাবার ছাড়াও ছিল রান্না করা খিচুড়ি।

ছাত্র দলের মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ওমর ফারুক মোল্লার নেতৃত্বে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে ঘুরে বন্যার্ত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন, অসহায় বানভাসী মানুষের খোঁজ খবর নেন এবং এবং সামনে দিনগুলোতে দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

‘মানুষে দিলে খাই, না দিলে পেট মাটি দিয়ে পড়ে থাকি’

 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

স্যারগো আমার নামটা দিয়েন, অংকুরকালে স্বামী হারাইছি, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সংসার করে চলে গেছে। আমি একা থাকি, মানুষে দিলে খাই, না দিলে পেট মাটি দিয়ে পড়ে থাকি। এভাবে বলছিলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দাসকান্দি (নদীর পূর্ব পাড়) গ্রামের ষাটোর্ধ রেজিয়া বেগম। শুধু রেজিয়া বেগম নয় গ্রামের আরও অনেকেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার গোমতীর তীরবর্তী তিতাস উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি, কলাকান্দি ও নারান্দিয়া ইউনিয়নের বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। উজানেন ঢল ও ভারি বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই বন্যার পানি যত কমছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। স্রোতে ভেঙে গেছে বিভিন্ন গ্রামে রাস্তা ও সড়ক। অনেক সড়ক এখনো পানির নিচে। কিছু বাড়িঘরেও পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন অনেক মানুষের।

ভিটিকান্দি ইউনিয়নের পোড়াকান্দি গ্রামের পঞ্চার্ধো জুলেখা বেগম সাথে। তিনি বলেন, ‘স্বামী মারা গেছেন তিন বছর। ছেলে মেয়েরা এতো পানি দেখেনি কখনো, বাড়ী ঘরে এখনো বন্যার পানি থই থই। পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি। আজ তিনদিন ভাত চোখে দেখিনি। মানুষের দেয়া চিড়া মুড়ি বিস্কুট