All posts by jitu

লক্ষ্মীপুর ও ফরিদগঞ্জের বন্যার্তরা পেল প্রভাতের ত্রাণ সামগ্রী

 

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় দুই শতাধিক বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে চাঁদপুরের একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা।

প্রথম ধাপে গত শনিবার (২৪ আগস্ট) চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে পানিবন্দি হয়ে পড়া শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি। ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে- চিড়া, মুড়ি, গুড়, বিস্কিট, স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ঔষধ, স্যানেটারী ন্যাপকিন, গ্যাসলাইট, মোমবাতি, কয়েল, কেক ইত্যাদি পৌঁছে দেয়া হয়। উক্ত বিতরণ কার্যক্রমে প্রভাত ফরিদগঞ্জ শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, প্রভাত হাজীগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন সাকিব, চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক সাজদিদুর রহমান পাটওয়ারী সহ উভয় শাখার প্রায় ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও রবিবার (২৫ আগস্ট) ২য় ধাপে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার নদী তীরবর্তী পরগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করেন চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা। চাঁদপুর সদর উপজেলার মহামায়া এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, ছাত্র সমাজ, বিভিন্ন এলাকার রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সার্বিক ও আর্থিক সহযোগিতায় ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে ছিল- চাল, মুড়ি, চিনি, বিস্কিট, কেক, সুজি, গুড়ো দুধ, মিনারেল পানি, বাচ্চাদের জামাকাপড়, স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ঔষধ, স্যানেটারী ন্যাপকিন, মোমবাতি, গ্যাসলাইট, কয়েল, ফিটকিরি ইত্যাদি।

নদী তীরবর্তী রামগতি উপজেলার অবহেলিত এই এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে চাঁদপুর প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার সহ সভাপতি জুয়েল হাজী, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আশেক এলাহী, প্রভাত ফরিদগঞ্জ শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সহ উক্ত সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মনোহরগঞ্জে ভয়াবহ বন্যায় মানুষের হাহাকার, ত্রাণ ও সুপেয় পানির সংকট

 

স্টাফ রিপোর্টার:

টানা বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি সময়ে সময়ে অবনতি দিকে যাচ্ছে কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ উপজেলা। রাতব্যাপী ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে গত সব বন্যার রেকর্ড ভেঙে যাবে।

উপজেলার গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বেড়েছে জনদুর্ভোগ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পাঠদানের কোনো সুযোগ নেই । পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দেবপুর, পোমগাও, যাদবপুরসহ আরো অনেক গ্রামের প্রধান সড়কে হাটুর উপরে পানি।

বন্যাদুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট। ত্রাণের জন্য বন্যা এলাকায় হাহাকার অন্যদিকে বাজারে খাদ্য সংকট ও সাপের উপদ্রবে নাকাল বন্যা দুর্গতরা। অনেকের কাটছে নির্ঘুম রাত।

ত্রাণ নিয়ে যাওয়া বিভিন্ন সংগঠন লাকসাম উপজেলায় বিতরণ করে চলে যাচ্ছে আসছে না পাশের উপজেলায় মনোহরগঞ্জে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের বাসিন্দারা এখনো ক্ষুধা নিবারণের জন্য কোনো ধরনের সহায়তা পায়নি। যার ফলে সেখানে এখনো খাবার সংকট।

মনোহরগঞ্জ উপজেলায় দেবপুর গ্রামের সুমন হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে লেখেন, ‘ভালো নেই আমাদের গ্রাম আমাদের দেবপুর, মানুষ চার দিকে বন্যা মানুষের হাহাকার, বন্যা পানি বেড়ে চলেছে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ জাগা বন্যা কবলিত। আল্লাহ তুমি আমাদের রক্ষা করো।’

শিক্ষিকা ফয়েজুন্নেসা চামেলি বলেন, নলকুপ ও লাইন পানির নিচে হওয়ায় নিরাপদ পানির অভাব। মানুষ না বুঝে এই পানি পান করছে, ফলশ্রুতিতে সবাই অসুস্থ না হয়ে পড়ে।

ঘরে ঘরে ফিটকিরি ও পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট পৌঁছে দিতে পারলে ভালো হতো।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) উজালা রানী চাকমা বলেন, এখানে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে। আজকে পানি কিছুটা বেড়েছে। মনোহরগঞ্জ উপজেলার অনেক দুর্গম এলাকা রয়েছে যেগুলোতে নৌকা ছাড়া যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। আমাদের কাছে নৌকার প্রচুর সংকট রয়েছে।

বন্যা দুর্গত এলাকায় মানুষের জন্য কাজ করছে পুলিশ বাহিনী : কুমিল্লায় আইজিপি

 

স্টাফ রিপোর্টার:

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম বলেছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়ার পরেই  বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে থেকে তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে পুলিশ সদস্যরা।

রোববার (২৫ আগস্ট) বিকালে কুমিল্লা জেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন এবং বানভাসী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

বিকেলে কুমিল্লা নগরীর সার্কিট হাউসে আইজিপি বলেন,  পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বন্যাকবলিত কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ত্রাণ বিতরণ করছে। বন্যা দুর্গত মানুষের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর পাশাপাশি দুর্গত জেলাসমূহে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।

পুলিশ প্রধান আরও বলেন,  বন্যা দুর্গত এলাকায় পুলিশের মেডিকেল টিম নিয়োজিত রয়েছে। নৌ পুলিশ ও জেলা পুলিশ স্পিডবোট, নৌকা ইত্যাদির মাধ্যমে বানভাসীদের উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনেও বাংলাদেশ পুলিশ ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করবে।

আইজিপি প্রথমে ফেনী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রাঙ্গণ এবং পরে কুমিল্লা জিলা স্কুল মাঠে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ কুমিল্লা জেলা প্রশাসক  খন্দকার মু: মুশফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার সাইদুল ইসলাম  উপস্থিত ছিলেন।

 

বন্যায় সম্পূর্ণ ধ্বংশ হয়েও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

স্টাফ রিপোর্টার:

কয়েক দিনের টানা বর্ষন ও ভারত থেকে আসা উজানের পানিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলাবাসীর একমাত্র স্বাস্থ্যসেবার ঠিকানা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। গত সপ্তাহের সোমবার ও মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে পানি প্রবেশ করলেও বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা সেবা চালু ছিল।

কিন্তু বুধবার রাতের প্রবল বর্ষন ও বজ্রবৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের উজানের পানি চাপ দেয়ায় দোতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নিচতলা পরিপূর্ণভাবে ভেসে যায়। এতে করে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ষ্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলায় পানি উঠে। গভীর রাতে পানিবন্ধি হয়ে পড়ে রোগী, ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রাত যতই গভীর হচ্ছিল পানি ততই বেড়ে চলছিল। বাচার আকুতি জানিয়ে ডাক্তার ও হাসপাতালের রোগীদের আতœচিৎকারে আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠে। পানি যখন হাসপাতালটির নিচতলা পরিপূর্ণ হয়ে পড়ে দোতলায় থাকা রোগীদের মধ্যে আরও আতংক বেড়ে যায়।

রবিবার (২৫শে আগর্ষ্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন এক্স-রে মেশিন, ইপিআই টিকাদান ষ্টোররুম, হাসপাতালের নিজস্ব সার্ভার, ঔষধের ষ্টোর রুম ও ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, নষ্ট নকল আসবাবপত্রগুলো কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একে একে বের করে আনছে। হাসপাতালের বহি:বিভাগ যেন ধ্বংশস্তুপে পরিণত হয়েছে। তারপরও বন্যায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে হাসপাতালটির একদল চিকিৎসক। সরেজমিনে পরিদর্শন করে আরও দেখা যায়, হাসপাতালের আন্ত:বিভাগ, বহি:বিভাগ ও জরুরী বিভাগে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চলমান। জরুরী বিভাগ ও বহি:বিভাগে সাড়িবদ্ধভাবে রোগীদের অবস্থান দেখা যায়।

হাসপাতালের সিনিয়র নার্স খালেদা আক্তার বুধবার রাতকে বিভিষীকাময় তুলনা করে বলেন, এমন ঝড় বৃষ্টি এবং পানির পরিমাণ আমি কখনো দেখিনি। আমি বিগত ১৭বছর এ হাসপাতালে চাকুরী করে যাচ্ছি। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো পড়িনাই। বুধবার রাত যখন পানি বেড়েই চলছে হাসপাতালে রোগী ও ডাক্তারা পানিবন্ধি হয়ে পড়ে। হাসপাতালের নিচতলা সম্পূর্ণ পানিবন্ধি হয়ে পড়ে। হাসপাতালের ঔষধপত্রসহ সকল মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও ধ্বংশস্তুপের নিচে দাঁড়িয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে আশংকাজনক রোগীদের এখন ভর্তি করা হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার হাসান মাহমুদ পাটোয়ারী বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। কম্পিউটারসহ আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সামগ্রী দ্রæত না পেলে অনেক চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম থেকে সেবাগ্রহীতারা বঞ্চিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, অতীতে অনেক বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু হাসপাতালের মুল ভবনের ভিতরে পানি প্রবেশ করেনি। হাসপাতালের সামনের ড্রেনগুলো অবৈধ দখলদাররা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন হতে পারেনা। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালে পানি প্রবেশ করে। গত সপ্তাহের সোমবার থেকে হাসপাতালের বহি:বিভাগ ও জরুরী বিভাগে পানি প্রবেশ করলেও বুধবার রাতের প্রবল বর্ষনে হাসপাতালটির নিচতলা পরিপূর্ণভাবে প্লাবিত হয়। এতে করে হাসপাতালের ঔষধ, বিভিন্ন মেশিনসহ সকল মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে আমরা ধ্বংশস্তুপের নিচে দাড়িয়ে বন্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

পানিবন্দী মানুষের চাহিদা তুলনায় সরকারী সাহায্য অপ্রতুল: ডা. তাহের

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের বলেছেন,

বন্যাকবলিত মানুষ খাবার, জ্বালানি, বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। বন্যার পানি থেকে রক্ষায় কোনো কোনো এলাকায় ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে।। গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। পানিতে চারদিক তলিয়ে যাওয়ায় তারা এখন নি:স্ব। এসব এলাকায় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে পানিবন্দী মানুষকে প্রতিনিয়ত সহযোগীতাতা করা হচ্চে।সেই তুলনায় সরকারি সাহায্য অপ্রতুল। অবিলম্বে সরকারকে পানিবন্দী মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী এবং বন্যা পরবর্তি সময় পূর্ন্যবাসন কারার আহব্বান জানান।

রবিবার সকাল থেকে কুমিল্লার -১১ সংসদীয় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা,শুভপুর,মুন্সিরহাট, গুনবতী ইউনিয়নে বন্যা কবলিত পানিবন্দী মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনকালে একথা বলেন।

ডা.তাহের আরো বলেন,অঞ্চলে শতবর্ষে কেউ এরকম বন্যা দেখেনি।কয়েকদিনের বন্যা চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকে পানি, খাবার ও ওষুধ সঙ্কটে ভুগছেন। জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে পানিবন্দিদের উদ্ধার ও সাধ্যমতো ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালব।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি সাহাব উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমীর মাহফুজুর রহমান, পাবনা জেলা বেড়া উপজেলা আমীর আতাউর রহমান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারী কাজী মোঃ ইয়াছিন, পৌর জামায়াতের জামায়াতের আমীর মাওলানা ইব্রাহীম,। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জামায়াত-শিবির নেতৃবৃন্দ।

এরআগে সকালে নেতাকর্মীদের একটি বিশাল বহর সাবেক এমপি ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহেরকে অভ্যর্থনা জানায়। এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির এই সময়ে গরীব ও অসহায় মানুষ সাবেক এমপি ডাঃ তাহেরকে কাছে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

অপরদিকে বুড়িচং পানি বন্দী মানুষের মাঝে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ দদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।
কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবদুল মতিন ও সেক্রেটারী সাইফুল ইসলাম শহীদ বুড়িচং বিপাড়া দেবিদ্বার মুরাদনগর এলাকায় খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেন।

অপরদিকে কুমিল্লা জেলা দক্ষিনের সেক্রেটারী ড.সৈয়দ সারোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকির নেতৃত্বে মনোহরগন্জ লাকসাম,নাঙ্গলকোট পানিবন্দি মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

বন্যার্তদের সাহায্যার্থে ২৪ ঘন্টাই চালু কুবির পরিবহন সেবা

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা ও ফেনীর বন্যার্ত মানুষদের সাহায্যার্থে ২৪ ঘন্টাই বাস সেবা দিচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পরিবহন পুল। এতে কোনো প্রকার অভিযোগ ছাড়াই কাজ করছেন বাস ড্রাইভাররা।

কুমিল্লার গোমতী নদীর পাড়ে মানুষের ঘর-বাড়ি বন্যায় ভেসে যাওয়ার পর থেকে আশ্রয়হীন মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনার জন্য বাস ব্যবহৃত হয়। এরপর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, বুড়িচং এ বাস নিয়ে গিয়ে মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে৷ তাছাড়া রেসকিউ টিমকে নির্দিষ্ট অঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছে কুবির নীলবাসগুলো৷ বর্তমানে বন্যার্তদের ত্রান সহায়তা দিতে ব্যবহার হচ্ছে বাস। ত্রান সহয়তা নিয়ে কুমিল্লার বন্যা কবলিত অঞ্চল ছাড়াও ফেনীর কয়েকটি অঞ্চলে বাস সেবা দিচ্ছে।

২৪ ঘন্টাই বাসগুলো বানভাসি মানুষদের সাহায্যার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পরিবহন পুলের এমন সহযোগিতার কারণে বন্যার্তদের সাহায্য করতেও সুবিধা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। তারা জানান, কুমিল্লা, ফেনীর বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোয় বড় অবদান রাখছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস এবং পরিবহন পুল বাস দিতে কোনো জটিলতা করছে না। বিশেষ করে ড্রাইভার এবং হেল্পার মামারা আমাদের ডাকে সারা দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট এলাকায় ত্রান নেওয়ার পর যতক্ষণ না পর্যন্ত কাজ শেষ হচ্ছে ততক্ষণই তারা সাহায্য করে যাচ্ছেন। অনেক সময় তারাই আমাদের সাহস যুগিয়েছেন। তাদের এই উদারতা কোনোদিন ভুলব না ইন শা আল্লাহ্। আর তাদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন পুলের কর্মকর্তা জাহিদ জুয়েল বলেন, যেকোনো দুর্যোগে আমরা পরিবহন দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করি৷ আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এই অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কাজ যেকোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করি। আমাদের ড্রাইভার সংকট থাকার পরও তাদেরকে ম্যানেজ করে আমরা কাজ করছি৷ ২৪ ঘন্টাই তারা অভিযোগ ছাড়া কাজ করে গেছে। আমাদের কয়েকজন ড্রাইভারও ভুক্তভোগী তারপরও তারা মানুষের সাহায্যার্থে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সত্যিই তারা ধন্যবাদ প্রাপ্য।

কুমিল্লার তিতাসে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০ টায় তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের বাঘাইরামপুর গ্রামে এঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো বাঘাইরামপুর গ্রামের মুক্তার হোসেনের বড় মেয়ে, সামিয়া আক্তার (১০) ও একই গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে আয়শা আক্তার (৮)। সামিয়া আক্তার স্থানীয় খাতুন কোবরা মহিলা মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেনির শিক্ষার্থী।

স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, বন্যায় প্লাবিত সড়কে খেলতে গিয়ে স্রোতের তোরে পড়ে সামিয়া ও আয়শা নিখোঁজ হয়। পরে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে সামিয়া ও আয়শাকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

তিতাসে দুই জা’য়ের ঝগড়া থামাতে গিয়ে শশুরের মৃত্যু!

 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার তিতাসে বাড়ীর আঙ্গিনা পরিস্কার করা নিয়ে দুই জায়ের ঝগড়া থামাতে গিয়ে শশুর আব্দুল হাকিম (৭০) নামে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ আগষ্ট ) রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। আব্দুল হাকিম ওই গ্রামের মৃত আলী মিয়ার ছেলে।

পুলিশ এঘটনায় বড় ছেলের স্ত্রী লাভলি আক্তার(৩৬), দুই মেয়ে মহিমা আক্তার(১৯), ফাতেমা আক্তার(১৬)কে গ্রেপ্তার করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুল হাকিমের দুই ছেলে তিন মেয়ে। ছেলে মিজান ও খোকন দুজনেই প্রবাসী। শনিবার সন্ধ্যার পর বাড়ীর উঠান পরিস্কার করা নিয়ে দুই ছেলের বউ ঝগড়া লাগে। ওই ঝগড়া থামাতে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন আব্দুল হাকিম । স্থানীয়রা তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ফখরুল ইসলাম বলেন, তিতাসে দুই জায়ের ঝগড়া থামাতে গিয়ে শশুরের রহস্য জনক মৃত্যু রাত আনুমানিক ৯ টায় আবদুল হাকিম নামের এক বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর বড় ছেলের স্ত্রী লাভলি আক্তার, নাতিন মহিমা ও ফাতেমা আক্তারকে গ্রামবাসী তাদের ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তাদেরকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে গ্রামবাসী ।

এঘটনায় ছোট ছেলে খোকনের স্ত্রী আহত সীমা আক্তার বলেন, আমার বড় জায়ের সাথে বিকালে উঠান পরিস্কার করা নিয়ে ঝগড়া হয়, পড়ে আবার রাতে আমার জা লাভলী আক্তার ও তার দুই মেয়ে এসে আমাকে এবং আমার মেয়েকে মারধর করে। আমার শশুর দেখে তাদের থামাতে গিয়ে পড়ে যায়, এর পর কি হয়েছে আমি দেখিনি।

নিহতের বড় মেয়ে শেফালী আলম বলেন, বাড়ীর উঠান পরিস্কার করা নিয়ে বড় ভাইয়ের বউ মেয়েরা ছোট ভাইয়ের বউ মেয়েকে মারতেছে। এঝগড়া থামাতে গিয়েই বাবা মারা যায়।

তিতাস থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, নিহতের বড় মেয়ে সেফালী আলম বাদি হয়ে ৪জনকে আসামী করে হত্যা মামলা করেছেন। এঘটনায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।