All posts by jitu

সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ১৫টি নৌকা নিয়ে কুমিল্লায়

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নৌকা ছাড়া উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম একেবারেই ভেঙে পড়েছে। যেকারণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে আনা হয়েছে ১৫ টি নৌকা। সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রী সভাপতি একেএম জিলানী এসব নৌকা নিয়ে কুমিল্লায় এসেছেন। রবিবার (২৫ আগস্ট) বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ভরাসার বাজার এলাকায় তাদের দেখা গেছে।

সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রী সভাপতি একেএম জিলানী বলেন, আমরা কালকে এসেছি। খাবার নিয়ে এলেও খাবার রিমোট এরিয়ায় দিতে পারিনি। তাই সাথে সাথে আমার এলাকা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া খবর দিয়ে ১৬ টি নৌকা ব্যবস্থা করি। ১৫ টি নিয়ে এসেছি কুমিল্লা। একটি লক্ষ্মীপুর পাঠিয়েছি। চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, নোয়াখালি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে আমাদের টিম কাজ করছে। ১৬ কোটি মানুষের এমন সহযোগিতা আগে কখনই দেখিনি। সবাই একযোগে সহযোগিতা করছে।

তিনি বলেন, কুমিল্লার অবস্থা নাজুক। এখানে নৌকা বা পানির বাহন ছাড়া কাজ করা অসম্ভব। তাই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের পর্যাপ্ত পানি, খাবার, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য আছে। শুধু সঠিক মনিটরিং করে সেগুলো বন্যার্তদের মাঝে পাঠানো দরকার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পারভেজ আলম, দক্ষিণ জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিরুল পাশা সিদ্দিকী রাকিব, বুড়িচং উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবদুল আলীম, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভুইয়াসহ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও বুড়িচং উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বন্যার্তদের জন্য নিরলস কাজ করছেন কুবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

ভারত থেকে ধেয়ে আসা পানি ও টানা বৃষ্টির কারণে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষীপুরে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে৷ দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বন্যার্তদের ত্রান সহায়তা ও তাদের উদ্ধারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বন্যা শুরুর পর থেকেই শিক্ষক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, সাধারণ শিক্ষার্থী সবাই নিজ দায়িত্ব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের ব্যানারে বন্যার্তের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছে এবং জনগণকে বন্যার্তদের পাশে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা নৌকা, ইঞ্জিন চালিত নৌকা নিয়ে বন্যায় আটকে পড়ে মানুষদের উদ্ধার করছে। এছাড়া উদ্ধারকাজে শিক্ষকেরও অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া নিজেরা তহবিল সংগ্রহ করে বন্যার্তদের ত্রান সহায়তা দিচ্ছে৷

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথমে যখন গোমতী’র পাড়ে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয় তখন সহযোগিতার জন্য কয়েকটি টিম ভাগ করে নেই। এরপর অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হলে আমরা সেখানেও আলাদা আলাদা টিম করে কাজ করছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি বিভাগ থেকেই আলাদা টিম করে বন্যার্তদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে৷ তারা তহবিল গঠন করছে, কাপড় সংগ্রহ করে বন্যার্তদের সাহায্য করছে।

এবিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে দিনরাত কাজ করছেন, অর্থ দিচ্ছেন, সংগ্রহ করছেন, বন্টন করছেন, উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করছেন এবং স্বপ্রণোদিত হয়েই তারা এ কাজগুলো করছেন। শিক্ষার্থীদের এমন নিরলস পরিশ্রমের দৃশ্য দেখা ও সঙ্গে থাকতে পারা নিঃসন্দেহে শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত আনন্দের প্রেরণারও।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন বলেন, শিক্ষকরা সবাই বিভাগ ভিত্তিক কাজ করছেন। আমি আমার বিভাগের হয়ে কাজ করছি৷ এখানে অনেক শিক্ষকই সাহায্য করছেন। আমরা এপর্যন্ত ৫০ বস্তা কাপড় তুলেছি। অনেকে ভেজা কাপড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে এসেছে। তাদের জন্য কাপড়টা দরকার একমুহূর্তে। আমরা ছেলে, মেয়ে, শিশুদের কাপড় আলাদা করেছি। এবং কিছু কাপড় ছেঁড়া রয়েছে সেগুলো সেলাই করে তারপর প্যাকেট করছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি ঢাকার অনেকগুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ও আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন পুলের কর্মকর্তা জাহিদ জুয়েল বলেন, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্নক সহযোগিতা করবে প্রশাসন। বর্তমানে বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য ইতোমধ্যে নীল বাসগুলো দেওয়া হয়েছে। যতক্ষণ উদ্ধার কাজ শেষ হচ্ছে না তার ব্যায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ আগস্ট রাতে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ডুম্বুর ডেম বাঁধ খুলে দিলে ফেনী জেলায় বন্যার দেখা দেয়। এরপর থেকে কুমিল্লা ও নোয়াখালী বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ২ জন নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন।

রোববার (২৫ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। দুর্ঘটাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। তবে নিহতদের এখনো নামপরিচয় জানা যায়নি।

পানিতে নতুন করে এবার ডুবছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার আরও একটি উপজেলা নতুন করে ভয়াবহ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গোমতী নদী ও ঘুংঘুর নদীর বাঁধ ভেঙে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম ডুবে গেছে। হঠাৎ প্রচণ্ড গতিতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে পারেনি। এর ফলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ, যার মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে, পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে রোববার (২৫ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত গ্রামগুলো পানির নিচে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানান, গত ২২ আগস্ট রাতে গোমতীর বুড়িচং উপজেলার বুরবুড়িয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে রাতারাতি বুড়িচং উপজেলা প্লাবিত হয়। পরদিন সকাল থেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে। ২৩ আগস্ট ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা ঘুংঘুর নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে উপজেলায় পানি ঢুকতে শুরু করে।

শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে পানির স্রোত আরও বেড়ে যায় এবং উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রাম, যেমন মালাপাড়া, সাহেবাবাদ, শশীদল, নাইঘর, নোয়াপাড়া, কল্পবাস, ধান্যদৌল, ডগ্রাপাড়া, ব্রাহ্মণপাড়া সদর, নাগাইশ, বড় দুশিয়া, এবং চান্দলার গ্রাম প্লাবিত হয়। পানি ঢুকে পড়ে মানুষের ঘরবাড়িতে, যার ফলে ওই অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম আজহারুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকাল থেকে কিছু কিছু এলাকা জলমগ্ন ছিল। কিন্তু সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে প্রবল বেগে পানি ঢুকে প্রায় ৩০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। খবর পেয়ে সকাল থেকে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। এদের মাঝে শুকনো খাবার, পানি এবং ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

রাতে কুমিল্লার আমতলীতে গাড়ির শোরুমে অগ্নিকাণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার একটি গাড়ির শোরুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাত ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কুমিল্লার সদর উপজেলার আমতলী এলাকায় অবস্থিত রমনা ইন্টারন্যাশনাল মটরস শোরুমে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত ১টা ৩৫ মিনিট) আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বজলুর রশিদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মহাসড়কের পাশে আমতলী এলাকার রমনা ইন্টারন্যাশনাল মটরস নামের একটি গাড়ির শোরুমে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। আগুন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে, তবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে একটু সময় লাগবে।

তিনি আরও জানায়, আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। এছাড়া আগুনে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এখনি এখনও। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণসহ পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

টেলিগ্রামের সিইও গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

গ্রেফতার হয়েছেন জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পাভেল দুরভ। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তরাঞ্চলীয় একটি বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ। দুরভের প্রাইভেট জেট লে বোর্গেট বিমানবন্দরে অবতরণের পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

কর্মকর্তাদের মতে, জনপ্রিয় এই মেসেজিং অ্যাপের সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধের জন্য একটি ওয়ারেন্টের অধীনে ৩৯ বছর বয়সী দুরভকে গ্রেফতার করা হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তাসের মতে, ফ্রান্সে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস পরিস্থিতি স্পষ্ট করার জন্য ‘তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ’ নিচ্ছে।

অন্যদিকে ফরাসি টিভি চ্যানেল টিএফ১ ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, পাভেল দুরভ তার ব্যক্তিগত জেটে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন পাভেল দুরভ। ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক এবং উইচ্যাটের পরে টেলিগ্রাম অন্যতম প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসাবে স্থান পেয়েছে।

টেলিগ্রাম অ্যাপটি রাশিয়া, ইউক্রেন এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। অবশ্য ব্যবহারকারীর ডেটা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করার পরে ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অ্যাপটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

সূত্র: বিবিসি

কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা: সাবেক এমপি ও তার কন্যা-জামাতাসহ ৩৭৬ জন আসামি

 

স্টাফ রিপোর্টার:

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার দুই দিন আগে কুমিল্লার পুলিশ লাইন্সে শিক্ষার্থীদের উপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় কুমিল্লার সাবেক এমপি আকম বাহাউদ্দিন বাহার, তার জ্যেষ্ঠ কন্যা সাবেক সিটি মেয়র তাহসিন বাহার সূচনা ও জামাতা সাইফুল আলম রনি ওরফে জামাই রনি সহ ৩৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ফিরোজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে কুমিল্লা শহরতলীর আড়াইওড়া এলাকার এক আহত শিক্ষার্থীর বাবা আফসার আবদুল আজিজ বাদি হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

শেখ হাসিনার সরকার পতনের এক দফা দাবিতে এখন সারাদেশ উত্তাল তখনই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে গত ৩ আগস্ট কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স এলাকায় আওয়ামী লীগ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে দায়ের করা মামলায় সাবেক এমপি আকম বাহাউদ্দিন বাহার, সাবেক সিটি মেয়র তাহসিন বাহার সূচনা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম টুটুল, সাইফুল আলম রনি ওরফে জামাই রনি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খোকন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টু, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শহিদ ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের বেশ কজন কাউন্সিলর সহ ৩৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১২০ জনকে আসামী করা হয়।

রাজনীতি, সন্ত্রাস ও দুনীর্তিমুক্ত ভিক্টোরিয়া কলেজ চায় শিক্ষার্থীরা

 

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজনীতি, সন্ত্রাস ও দুনীর্তিমুক্ত ভিক্টোরিয়া কলেজ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানার এ আয়োজন করে তারা।

লিখিত বক্তব্যে ইতিহাস বিভাগ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মাকসুদা আক্তার বলেন,কলেজের সদ্য পদত্যাগকারী অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আবু জাফর খান ও কতিপয় শিক্ষক কলেজের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রয়েছে ৪জন শিক্ষক ও ৩জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়টি নিয়ে দুদকের তদন্ত চলমান।

দুর্নীতিবাজ এসব শিক্ষা ক্যাডারের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে কলেজের প্রায় ৮৫ ভাগ শিক্ষক। একই সাথে ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে স্বৈরাচার পন্থীদের বিনাভোটের শিক্ষক পরিষদ।

অনার্সে পড়ুয়া এ ছাত্রী বলেন, উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি কতিপয় আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসর, দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষকে আবার কলেজে ফিরিয়ে আনতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে ছাত্রদের রক্তের উপর দিয়ে অধ্যক্ষকে চেয়ারে বসাবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন। কলেজের যে সকল শিক্ষক এ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে। শিক্ষকদের সম্মানের খাতিরে আমরা তা প্রকাশ করছি না।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে তিনি বলেন, আমাদের যুদ্ধ কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে না। অনিয়ম ও দুনীর্তির বিরুদ্ধে। যদি কোন শিক্ষার্থী আহত বা নিহত হয়, এ দায়বার স্বৈরাচার-অতিউৎসাহী শিক্ষকদের নিতে হবে। আপনারা চাকুরিবিধি মেনে দায়িত্ব পালন করুন। সংষ্কারের এ সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে যৌক্তিকভাবো আমরা অতিরিক্ত ফি কমানোর দাবি জানাচ্ছি। বিনা ভোটে নয়, আপনাদের সরাসরি ভোটে শিক্ষক পরিষদ গঠন করা হোক। নতুন অধ্যক্ষ যোগদান না করা পর্যন্ত যে কোন একজন জৈষ্ঠ্য অধ্যাপক কলেজের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আমরা আপনাদের সন্তান। রাষ্ট্র সংষ্কার ও কলেজ সংষ্কারের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সবার সহযোগীতা চাই। আমরা জানি, আইন মানুষের কল্যাণে, আইনের কল্যাণে মানুষ নয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আল মামুন, রবিউল হাসান, লামিনা ইসলাম, হাসিবুল ইসলাম, আফরোজা মীম, বেলায়েত হোসেনসহ কলেজের উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি শাখার অর্ধশতাধিক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা বলেন। যদি কেউ রাজনীতি, সন্ত্রাস ও দুনীর্তির সাথে আপোষ করে, সে আমাদের সদস্য নয়।

ব্রাহ্মণপাড়ায় নৌকা তৈরির হিড়িক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় দুই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে চরম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঢলের পানিতে ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, এবং বাড়িঘর ডুবে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া চলাচল করা যাচ্ছে না। ফলে ব্রাহ্মণপাড়ার বন্যা পরিস্থিতি এক ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাচ্ছে, এবং এর ফলে উপজেলায় ডিঙি নৌকা তৈরির হিড়িক পড়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কারিগররা নানান আকারের ডিঙি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ আলকাতরা মাখাচ্ছেন, কেউ কাঠ কেটে জোড়া লাগাচ্ছেন। সব মিলিয়ে তাদের জন্য দম ফেলার সময় নেই।

প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ছুটে আসছেন। অনেকে অগ্রিম বায়না দিচ্ছেন। দাম বেশি হলেও বিপদের সময় নৌকা পেতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট-বড় নৌকা বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, একসময় এই উপজেলায় নৌকার প্রচুর কদর ছিল। তবে গত তিন দশকের রাস্তাঘাটের উন্নয়নের ফলে নৌকার চাহিদা কমে যায়। বর্তমানে গোমতী ও সালদা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ায়, দীর্ঘদিন পর আবারও নৌকার চাহিদা বেড়েছে। তাই কারিগররা নতুন উদ্যমে নৌকা তৈরিতে মনোনিবেশ করেছেন, এবং ক্রেতারাও নৌকা কিনতে ভিড় করছেন।

নৌকা তৈরির এক কারিগর জানান, সারা বছর কাঠমিস্ত্রির কাজ করে বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করি। এ উপজেলায় নৌকার তেমন চাহিদা নেই। তাই পুরো বছরে বর্ষা মৌসুমে দু-চারটা নৌকা তৈরি করি। তবে এ বছর দেশের বিভিন্ন এলাকার মতো ব্রাহ্মণপাড়াও বন্যাকবলিত হওয়ায় হঠাৎ করে নৌকার চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাই আমরা কারিগররা এখন সব কাজ ফেলে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছি।

নৌকা কিনতে আসা আবদুল হান্নান জানায়, আমাদের কখনো নৌকার প্রয়োজন পড়েনি। তবে এ বছর সালদা নদী ও গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙনে আমাদের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অন্যান্য এলাকাও প্লাবিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। চলাচলের জন্য এখন নৌকাই ভরসা। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। দাম একটু বেশি, তাও নৌকা পাওয়া যাচ্ছে এটাই শুকরিয়া।

নোয়াখালীতে পানিবন্দি গর্ভবতী নারীকে উদ্ধার করলো সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাড়িতে কেবলই বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। তাতে দীর্ঘদিন পানিবন্দি হয়ে আছেন গর্ভবতী মুক্তা বেগম। উপায় না পেয়ে ফোন দিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। খবর পেয়ে দ্রুত ওই নারীকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে, সোনাপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

মুক্তা বেগম নোয়াখালী পৌরসভার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা শাকিল আহমেদের স্ত্রী।

ওই নারীর স্বামী শাকিল আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সে পানিতে আটকা পড়ে ঠাণ্ডায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কোনো উপায় না দেখে সেনাবাহিনীর নোয়াখালী ক্যাম্পে ফোন দিলে তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করেছেন। আমি সেনা সদস্যদের কাছে কৃতজ্ঞ।

সেনাবাহিনীর ১৬ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, সোনাপুর রেল স্টেশন এলাকায় পানিবন্দি একটি পরিবারের সসদ্যদের কাছ থেকে জরুরি কল পেয়ে নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় পাঁচ মাসের গর্ভবতী এক নারীকে উদ্ধার করে