All posts by jitu

কুমিল্লার কৃতি সন্তান আওসাফ চৌধুরী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এ জাতীয় দাবায় চ্যাম্পিয়ন

স্টাফ রিপোর্টার:

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়ের দাবা প্রতিযোগিতায় বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে কুমিল্লার জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান আওসাফ চৌধুরী। জেলা ও বিভাগ পর্যায় পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তিনি সবশেষে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

গত ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে নতুনকুড়ি স্পোর্টস এর বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

আওসাফ চৌধুরী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার এএএম মুজাহিদ চৌধুরীর পুত্র। সে ঢাকার বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম কলেজের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই দাবার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ও নিয়মিত অনুশীলনের ফল হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে এ সাফল্য এসেছে বলে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

দাউদকান্দিতে ৫২ কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেট কার জব্দ, আটক ১

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কার থেকে ৫২ কেজি গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গোমতী-মেঘনা সেতুর টোলপ্লাজা পশ্চিম পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির নাম উজ্জ্বল মিয়া (৩৫)। তিনি নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার মল্লিকনগর গ্রামের মৃত চন্দন মিয়ার ছেলে। তিনি ঢাকার মিরপুর-২ এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলামের সরাসরি দিকনির্দেশনায় এসআই কাওছারের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সন্দেহজন ওই প্রাইভেট কারটিকে চ্যালেঞ্জ করে পুলিশ। পরবর্তীতে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করে চালককে আটক করে পুলিশ।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলাম জানায়, এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশ সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে কাজ করছে। গাঁজা ও মাদক কারবারির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আজ বিকেলে তাকে কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো হবে।

কুমিল্লার ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা নগরীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘন ও নানা অনিয়মের অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোর হাসপাতাল, ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শফিকুল ইসলাম ও ডা. ওসমান হোসেন জাবীরের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মোহাম্মদ সারওয়ার আকবর।

অভিযানে নগরীর রেইসকোর্স এলাকার প্রাইম হাসপাতাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পূর্বানুমোদন ছাড়া স্থান পরিবর্তন করায় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এভারগ্রীন হাসপাতাল সি-ক্যাটাগরির লাইসেন্স নিয়ে বি-ক্যাটাগরির ল্যাব পরীক্ষা পরিচালনা করায় তাদের ডায়াগনস্টিক ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মিশন হাসপাতাল দীর্ঘদিন লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং সি-ক্যাটাগরির লাইসেন্সে বি-ক্যাটাগরির পরীক্ষা পরিচালনার কারণে ল্যাব সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। একই অভিযোগে ডেল্টা হাসপাতাল-এর ল্যাব সেবাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে ঝাউতলা এলাকার জননী ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত ফি আদায় এবং অনুমোদন ছাড়া স্থান পরিবর্তনের দায়ে সম্পূর্ণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ জানায়, জনস্বার্থে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব বিধি-বিধান বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়ম লঙ্ঘন করলে বা রোগীদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে নোবিপ্রবি ব্লাড ব্রিগেড ও নোয়াখালী ব্লাড ব্যাংক।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী । তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদান করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং রক্তদানে শিক্ষার্থীসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: হাসান উদ্দীন।
এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

রক্তদান কর্মসূচির পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর এলাকায় কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় মো. ইয়ামিন ভূইয়া (৩০) নামে এক সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী সুমা আক্তার আহত হয়েছেন। তাঁকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইয়ামিন ভূইয়া সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে পাশের মাছিহাতা ইউনিয়নের আটলা গ্রামের সুমা আক্তারের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে হয়। সম্প্রতি দেশে ফিরে গত ১৭ জুলাই স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন ইয়ামিন।

সোমবার সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ি থেকে অটোরিকশাযোগে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের ভাদুঘর এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ইয়ামিন ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়ামিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুমা আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানায়, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সন্ধ্যার মধ্যে কুমিল্লাসহ ১৪ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের ১৪ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কবার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

দাউদকান্দিতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৩

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে রাতভর পরিচালিত পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সদস্য, একটি ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং একটি চুরি মামলার আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দাউদকান্দি মডেল থানা সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে থানা পুলিশের পৃথক টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের অংশ হিসেবে রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে দাউদকান্দি পৌরসভা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের সদস্য এবং দাউদকান্দি উপজেলা যুবলীগের পৌর শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের সভাপতি পিএস মো. সানি হাসান (৪০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, তিনি একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

একই রাতে মালিগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রমজান (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পৌরসভা এলাকায় পৃথক অভিযানে চুরি মামলার আসামি মো. রিপন (৩১)-কে আটক করা হয়।

পুলিশ জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, “অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দাউদকান্দি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। আইন অমান্যকারী কিংবা মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

কুমিল্লায় বিপুল মাদক ধ্বংস, দুই মাসে ২৫টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার কোটবাড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১০ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। একইসঙ্গে সরাইল রিজিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে বিজিবি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সরাইল রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কুমিল্লা ১০ বিজিবি ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি গত তিন থেকে চার বছরে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে। উদ্ধার করা এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা।

অনুষ্ঠান শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সরাইল রিজিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। সর্বশেষ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সালদা নদী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা চারজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক প্রবেশ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সীমান্ত টহলও আরও জোরদার করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে দমন করা যায়।

১১ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব বদল, প্রশাসন সংস্কারের বার্তা

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে সাহসী ও ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের উদাহরণ কম নয়। ১৯৮০ সালের ৩০ এপ্রিল সাভারের জিরাবো গ্রামে প্রথম ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠনের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করার একটি নতুন ধারণার সূচনা করেছিলেন। সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হলে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতেই হয়।

প্রায় ৪৬ বছর পর রাষ্ট্র পরিচালনায় আরেকটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সম্প্রতি ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। এসব নিয়োগে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে শুধু রাজনৈতিক নিয়োগ হিসেবে দেখলে এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ও সম্ভাবনাকে হয়তো পুরোপুরি বোঝা যাবে না।

দেশের বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদকে প্রশাসনের অনেকের কাছে গুরুত্বহীন বা ‘ডাম্পিং পোস্ট’ হিসেবে বিবেচনা করার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনেকেই প্রত্যাশিত উদ্যম নিয়ে কাজ করেন না। এর পরিণতিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য থেকে ক্রমেই দূরে সরে যায়।

বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের কথাই ধরা যাক। দেশের বনজ সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে এই খাত অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বনজ সম্পদভিত্তিক শিল্প, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। একই চিত্র বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, বাংলাদেশ জুট করপোরেশন, শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম যদি যথাযথ পরিকল্পনা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পরিচালিত হয়, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সিদ্ধান্তহীনতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারেনি। বাংলাদেশ চিনি শিল্প ও পাট খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট ও লোকসানের চিত্রও এ বাস্তবতারই প্রতিফলন।

এই জায়গায় সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে সেখানে নতুন নেতৃত্ব দেওয়ার উদ্যোগকে সরকারের একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় ও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস্তবিক অর্থে ঘুরে দাঁড় করাতে সক্ষম হন, তাহলে এই উদ্যোগের সুফল অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে পারে।

রাজনৈতিক সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হলো নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা। আর সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য কেবল মন্ত্রিসভা পরিবর্তন করাই যথেষ্ট নয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের কার্যকর সমন্বয়ও অপরিহার্য। একটি সরকারকে সফল হতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরকে একই লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হয়।

একটি কুচকাওয়াজের কথা ভাবা যাক। সেখানে একজনও যদি ভিন্ন তালে হাঁটেন, পুরো আয়োজনের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যায়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সচিব, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা—প্রত্যেকেই সরকারের বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্বও তাদের ওপরই বর্তায়।

ধরা যাক, কৃষক কার্ড সরকারের একটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি। এই কর্মসূচির সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করবে মাঠ প্রশাসনের ওপর। প্রকৃত কৃষকদের সঠিক তালিকা তৈরি না হলে, সুবিধাভোগী নির্বাচন স্বচ্ছ না হলে কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে পুরো উদ্যোগই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। আবার কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে বিচার বিভাগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সরকারের একটি কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন অনেকগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে।

এ কারণেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজের নীতি ও কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করে। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষতা, সততা, যোগ্যতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্বশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রশাসন বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কেবল দলীয়করণের হাতিয়ার না বানিয়ে যোগ্য ও কর্মক্ষম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকারের সবচেয়ে বড় জবাবদিহিতা জনগণের কাছে। জনগণ ভোট দিয়ে একটি দলকে ক্ষমতায় পাঠায় এবং নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে সেই দল জনগণের কাছে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয়। তাই সরকারের সাফল্য নির্ভর করে প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন করা গেল তার ওপর। আর সেই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যকর, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করা প্রয়োজন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে—এমন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে কিছু পরিবর্তন এসেছে, মাঠ প্রশাসনেও রদবদল হয়েছে। তবে সরকারের সমর্থকদের একটি অংশ মনে করছে, এসব পরিবর্তন এখনও পর্যাপ্ত নয়। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে এখনও এমন কর্মকর্তারা রয়েছেন, যারা অতীতে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলেন না কিংবা দলটির বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।

তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে দক্ষতা, সততা, নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, সরকারের নীতি ও প্রশাসনের মধ্যে যদি দূরত্ব তৈরি হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষই।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল হয়। প্রধান বিচারপতি থেকে নিম্ন আদালতের বিচারক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এবং পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও পরিবর্তন আনা হয়।

এই সময়ের বিভিন্ন নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে প্রশাসনে পদায়ন, জেলা প্রশাসক নিয়োগ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছিল। এসব অভিযোগের অনেকগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী না করে এসব বিষয়কে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত