All posts by jitu

শিক্ষকদের কর্মসূচিতে উপাচার্যপন্থী অছাত্র ও বহিরাগতদের দফায় দফায় হামলা

 

চাঁদনী আক্তার , কুবি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সম্প্রতি সময়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রক্টরের অবৈধ অনলাইন পিএইচডি ডিগ্রির অনুমোদন, শর্ত পূরণ না করা সত্ত্বেও কতিপয় শিক্ষককে পদোন্নতি ও একটি অংশকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত, পদোন্নতি নীতিমালায় না থাকলেও শিক্ষকদের পদোন্নতির সময় অবৈধ শর্ত প্রদান এবং বিভিন্ন বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিভাগীয় প্রদানের দায়িত্ব হস্তান্তর না করা। এছাড়াও উপাচার্যের পছন্দের লোকদের আইন লঙ্ঘন করে দায়িত্ব দেওয়া, উপাচার্য কর্তৃক সাবেক শিক্ষার্থী দিয়ে ক্যাডার বাহিনী তৈরি করা এবং এই ক্যাডারদের দ্বারা শিক্ষকদের পেটানো এবং গালিগালাজ করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার অর্থ ব্যয়ে অস্বচ্ছতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ তুলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

কয়েক দফা আন্দোলন করেও দাবি আদায় না হওয়ায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি। পরে উপাচার্যসহ, ট্রেজারার এবং প্রক্টরের দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। তবে চলমান আন্দোলনে প্রায়শই শিক্ষকদের সাথে মারামারি ও গালাগালি করতে দেখা যাচ্ছে সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং সাবেক কয়েকজন ছাত্রলীগের নেতা। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসারসহ বিভিন্ন পদে আবেদন করেছেন এবং কয়েকজন শাখা ছাত্রলীগের পদ ভাগিয়ে আনার জন্য এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের কয়েকজন হলেন হত্যা ও শিক্ষার্থীদের মারধরের মামলার আসামি, কয়েকজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণ, এলাকায় লুট পাটের অভিযোগ, সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ এবং শিক্ষকদের হামলা, হুমকি ও গালাগালির অভিযোগ। তবে গত ২৮ এপ্রিল উপাচার্যের নেতৃত্বেই শিক্ষকদের উপর হামলা করেন এই সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের কেউ বর্তমান শিক্ষার্থী নন। কারণ বর্তমান সর্বশেষ স্নাতকোত্তর চলমান সেশন হলো ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম ব্যাচ।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের সামনে ড. মো. শামিমুল ইসলাম কে বিপ্লব দাস ও আমিনুর রহমান বিশ্বাস ধাক্কা দিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর আমিনুর বিশ্বাস ও রকিবুল হাসান রকি গিয়ে শিক্ষক লাউঞ্জ বন্ধ করে দেন। এসময় সাবেক শিক্ষার্থী পার্থ সরকার, বিপ্লব দাসসহ অনেকে শিক্ষকদেরকে কিল-ঘুষি ও লাথি দিতে দেখা যায়। হামলা চলাকালে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. আবু তাহের, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান আহত হন। পরবর্তী আমিনুর বিশ্বাস পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দীকে ধাক্কা দিলে হাতাহাতি ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারিও উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে শিক্ষকদের উপর হামলা করেন তাঁরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈন যোগদানে পরপরই অস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে মহড়া দেন তাদের কয়েকজন। উপাচার্য ও প্রক্টরের ইন্ধনে ঐ অস্ত্র মহড়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি, মারধর করে আসছেন তারা। পরে শিক্ষকদেরও শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা শুরু করেন তারা। তবে সময়ে এসব অঘটন ঘটলেও কোনো বিচারের মুখোমুখি হতে হয়নি তাদের। উলটো উপাচার্য তাদের সাথে বিভিন্ন উৎসব পালন ও মিটিং করে দিক নির্দেশনা দিতে দেখা যায় উপাচার্যকে। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেকটি ঘটনার আগে উপাচার্যের বাংলোতে বসে মিটিং করেন তারা। এবার প্রশ্ন উঠেছে এরা আসলে কারা?

জানা যায়, তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে আবেদন করেছেন। উপাচার্য তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিবেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এছাড়াও শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ পাইয়ে দিতে উপাচার্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সুপারিশ করেন বলেও জানা গেছে। তারা হলেন, নৃবিজ্ঞান ১০ ব্যাচের আমিনুর রহমান বিশ্বাস, লোকপ্রশাসন ৫ম ব্যাচের অনুপম দাস বাঁধন, রেজা-ই-এলাহি, অর্থনীতি বিভাগের ৮ম ব্যাচের মাসুদ আলম, আরিফুল ইসলাম বাপ্পী, ফয়সাল হোসেন, ফাইন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং ৯ম ব্যাচের ইকবাল হোসাইন খান, মেহেদী হৃদয়, একই বিভাগের ১০ ব্যাচের পার্থ সরকার, মার্কেটিং ৪র্থ ব্যাচের বিপ্লব চন্দ্র দাস, বাংলা ৯ম ব্যাচের ইমরান হোসাইন, প্রত্নতত্ত্ব ১১ ব্যাচের মুশফিকুর রহমান খান তানিম, মার্কেটিং ৯ম ব্যাচের রকিবুল হাসান রকি, লোকপ্রশাসন ১১ ব্যাচের এম নুর উদ্দিন হোসাইন, ও ফার্মেসি ১০ম ব্যাচের ইমাম হোসেন মাসুম, লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বীপ চৌধুরী ও ইমরুল কায়েস আবির, নৃবিজ্ঞান বিভাগের রাকেশ দাশ, রাকিব হোসাইন, আরমান হোসেন প্রমুখ।

তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মার্কেটিং ৪র্থ ব্যাচের বিপ্লব চন্দ্র দাস, যিনি ছাত্রলীগ নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার প্রধান আসামি। ১৬৪ ধারায় পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন। গেল বছরে রেজার নির্দেশে অস্ত্রসহ বাইক শোডাউন তিনি ও ইকবাল খান। পরে এ ঘটনায় আবাসিক হল সিলগালা করে প্রশাসন। এ ঘটনার মাস ছয়েক পরই দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টরের ইঙ্গিতে মারধর করেন বিপ্লব ও ইকবাল। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না বিভিন্ন উৎসব উদ্‌যাপন করেন উপাচার্য। এছাড়াও আপত্তির মুখেও সান্ধ্যকালীন কোর্সে বিপ্লবকে ভর্তির নির্দেশ দেন উপাচার্য। বর্তমানে বিপ্লব ও ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রত্যাশা করছেন।

খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলার আরেক আসামি হলেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-এলাহীও। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নতুন ক্যাম্পাসে ভূমি বাণিজ্য ও নারী ধর্ষণ মামলাও। এছাড়ায় নিজ এলাকা বরুড়ায় লুটপাট, সাংবাদিক দেখে নেওয়া, মাদকের অর্থ সরবরাহ সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী।

সাবেক শিক্ষার্থী আমিনুর বিশ্বাস বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। আবাসিক হলে গন্ডগোল, সাংবাদিক হেনস্তা, শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থী ইমরান হোসেন, অনুপম দাশ বাঁধন, রকিবুল ইসলাম রকি, মেহেদী হাসান, মুশফিকুর রহমান খান, ইমাম হোসেন মাসুমের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।

শিক্ষকদের হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমিনুর বিশ্বাস বলেন, তারাও (শিক্ষকরা) ধাক্কা দিয়েছে আমরাও ধাক্কা দিয়েছি। ধাক্কা যদি লেগে যায় তাহলে তো করার কিছু নাই। আমরা বের হতে চেয়েছিলাম।

এর আগে ৮ মার্চ ছাত্রলীগের তিন নেতাকে প্রকাশ্যে মারধরের করেন রেজা-ই-এলাহী সমর্থিত স্থানীয় যুবদল নেতা রনি, হত্যা মামলার আত্মস্বীকৃত খুনি বিপ্লব চন্দ্র দাস, সাবেক শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন খান, স্বজন বরণ বিশ্বাসসহ ১২ থেকে ১৫ জন । বর্তমানে ইকবাল হোসনে খান চাকরি প্রত্যাশী হিসাবে পরিচিত। তিনি গত ৮ মার্চ শিক্ষার্থীদের মারার অভিযোগের মামলায় ৩ নাম্বার আসামি। এখন তিনি শিক্ষকদের বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি দিয়ে আসতেছেন।

এই অভিযোগে ইকবাল খানের সাথে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে কয়েকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

ইমাম হোসেন মাসুম গত কয়েকমাস আগেও বর্তমান প্রক্টরের অপসারণের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি উপাচার্যের সাথে দপ্তরে দেখা যায়। মেহেদী হাসান চাকরী প্রত্যাশী ও ছাত্রলীগের পদ ভাগিয়ে আনার জন্য উপাচার্যের ক্ষমতা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় হামলা করতে দেখা যায়। তিনি উপাচার্যের ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্যাম্পাসে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এমন অভিযোগে মেহেদী হাসানকে কয়েকবার মুটে ফোনে কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।

আরেকজন ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে চাকরি আশায় রয়েছেন রকিবুল ইসলাম রকি। তিনি ছিলেন সাবেক শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। এখন চাকরির জন্য নিজের রাজনীতি দিকও পরিবর্তন করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের গালাগাল ও অসভ্য ভাষা ব্যবহার করতে দেখা যায়। এছাড়াও তিনি শিক্ষক লাউঞ্জে তালা দিয়েছেন বলে অভিযোগও রয়েছে।

এই নিয়ে রকিবুল ইসলাম রকি বলেন, আমি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেলামেশা দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালা দিয়েছে আমরা তাদের চাইনা। তাই আমি শিক্ষক লাউঞ্জে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ম ব্যাচের ছাতত্র শেষ হওয়ার পরে কেন হলে অবস্থান করছেন? এই প্রশ্নে তিনি বলেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক শিক্ষার্থী। সেটা আপনি রেজিস্ট্রার দপ্তরে গিয়ে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন। আর হল প্রশাসন বললে আমি হল প্রশাসনের সাথে কথা বলব।

এছাড়া অনুপম দাশ বাধঁন ও ইমরান হোসেন চাকরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক-শিক্ষর্থীদের সাথে বাকবিণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। গত ২৭ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাংলোতে উপাচার্য সন্ত্রাসীরা, অছাত্রদের সাথে মিটিং করেন। এর সিসিটিভি ফুটেজ তার প্রমাণ আছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।

সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবির রায়হান বলেন, একটা শিক্ষার্থী যখন সার্টিফিকেট তুলে ফেলে, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কি কাজ থাকতে পারে? যেমন রিসার্চ রিলেটেড অর জব। কিন্তু এখানে কাউর এমন কিছু আছে বলে দৃশ্যমান না। এদের এই ফাঁকা রোলটা কাউর না কাউর অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হয়। এরা অনেকটা প্রশাসন ও কিছু ব্যক্তির জন্য গিনিপিগ এর মত কাজ করে, যা তাদের স্বার্থ নামক এক্সপেরিমেন্টে ব্যবহৃত হয়। সালমান ও এনায়েত ভাইদের মারধর দেখে শুরু করে এখন শিক্ষক সমিতি পর্যন্ত সেইম ল্যাব রেট গুলোই প্রশাসন ব্যবহার করছে। এমন কি রোহান ভাই এর হাত ও ভেঙ্গেছিল এরা, আর এদের নামে মামলাও রয়েছে। এমনকি ডকুমেন্ট মিলিয়ে দেখলে সেইম চেহারাগুলো বারবার দেখা যাবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ এমনভাবে চলতে থাকলে হয়ত খালিদ সাইফুল্লাহ মতো আরেকজনকে দাফন করা লাগবে। এগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিব্রতকর, আমরা এগুলো সমাধান চাই।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, শিক্ষকরা এবিষয়ে উদ্বিগ্ন। উপাচার্য নিজে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছে, বহিরাগতরা ট্রেজারার ও উপাচার্যের নির্দেশে তারা শিক্ষকদের উপর হামলা করেন। হামলাকারীদের মধ্যে আছে বিভিন্ন মামলার আসমি, বিভিন্ন অভিযোগ ও শিক্ষকদের সাথে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ। খালেদ সাইফুল্লাহ খুনের আসামিদের অপসরণের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী কাছে জানানো হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের কাজী ওমর সিদ্দিকী রানা ও উপচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনকে কয়েকবার মুঠোফোনে কল দিলেও পাওয়া যায়নি।

মুরাদনগরে তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ল সাত শিক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আলীরচর তায়মোস বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষেই অসুস্থ হয়ে পড়ে বিদ্যালয়ের ৭ শিক্ষার্থী।

মুরাদনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী ফরিদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সোমবার সকাল ১০টার দিকে যথারীতি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় ঘণ্টা চলার সময় গরমের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সামিয়া আক্তার নামের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ও ফাহিমা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজন গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা হাঁসফাঁস করতে থাকলে শিক্ষকদের কক্ষে নিয়ে মাথায় পানি দেওয়া হয়। এ সময় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আরও দুজন শিক্ষার্থী। পরে অভিভাবকদের খবর দিয়ে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন শিক্ষকরা। তৃতীয় ঘণ্টা চলার সময় শ্রেণিকক্ষে অজ্ঞান হয়ে পড়ে অষ্টম ও নবম শ্রেণির আরও দুজন শিক্ষার্থী। ওই বিদ্যালয়ের মোট সাতজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়। তাদের মধ্যে জ্ঞান হারায় চারজন। বাকি তিনজন দুর্বল হয়ে হাঁসফাঁস করতে থাকলে অভিভাবকদের খবর দিয়ে তাদের বাড়ি পাঠানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদা আক্তার জানান, ক্লাস চলাকালে হঠাৎ শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে শিক্ষা অফিসার মহোদয়কে ফোন করি। তিনি অভিভাবকদের ফোন দিতে বলেন। পরে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিয়ে যান।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন জানায়, শিক্ষা অফিসার আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

প্রচন্ড তাপদাহে রাস্তায় পথচারিদের মাঝে পানি বিতরণ করেছেন সারওয়ার হোসেন বাবু্

স্টাফ  রিপোর্টার:

কুমিল্লার  তিতাসে  প্রচন্ড তাপদাহে রাস্তায় চলমান  অটোরিক্সা, সিএনজি, বাস-ট্রাক চালক ও হেলপার এবং কর্মজীবি পথচারিদের  মাঝে পানি ও শরবত বিতরণ করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সারওয়ার হোসেন বাবু্।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ মাইনুল হোসেন খান নিখিল এমপি’র নির্দেশক্রমে  সোমবার সারাদিন ব্যাপি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সারওয়ার হোসেন বাবুর নেতৃত্বে সুপেয় পানি বিতরণ করা হয়।

নাটোরে আরো ২০ নারীকে সেলাই মেশিন উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

নাটোরের লালপুর উপজেলায় ২০ জন অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। উপজেলার ডেবরপাড়া বুধিরামপুর গ্রামের বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করতে তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে গতকাল তাঁদের হাতে সেলাই মেশিনগুলো তুলে দেওয়া হয়।

সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে লালপুর বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি ও শুভসংঘ স্কুলের সমন্বয়ক জালাল উদ্দীন বাবুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দেশে সামাজিক ও মানবিক কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমার নির্বাচনী এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার মান উন্নয়নে স্কুল প্রতিষ্ঠা ও অসহায়, বিধবা, এতিম, দরিদ্র অসচ্ছল নারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকের হাতে বিনা মূল্যে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে। এটা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘এমন কর্মকাণ্ডের ফলে নারীরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারছে ও স্বাবলম্বী হচ্ছে। পাশাপাশি আমার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে আর এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাই।’ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করা। সেই উন্নয়নে যাঁরাই অংশীদার হবেন আমরা তাঁদের স্বাগত জানাই।’

শুভসংঘ নাটোর জেলা শাখার উপদেষ্টা ও ইউনাইটেড প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় সারা দেশে খুঁজে খুঁজে দরিদ্র অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শুভসংঘের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তাঁরা যাতে সংসারে সচ্ছলতা আনতে পারেন এ জন্য আজকের এই সেলাই মেশিন বিতরণ। তাঁরা এটি দিয়ে কাপড় সেলাই করে পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন বলে আমরা আশা করছি।’ তিনি বলেন, শুভ কাজে সবার পাশে—এই স্লোগান সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছেন শুভসংঘের সদস্যরা। তাঁরা সমাজ উন্নয়নমূলক নানা কাজের পাশাপাশি সেলাই প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিচালনাসহ আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষদের নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছেন।

লালপুর সদর ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমার এলাকায় এমন একটি কাজ হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় যেখানে স্থাপন করা হয়েছে তার আশপাশে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। এখন এ অঞ্চলের শিশুরা সেখানে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি এই সেলাই মেশিন পেয়ে অবশ্যই অসচ্ছল নারীরা স্বাবলম্বী হবেন।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনা সুলতানা, লালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক পলাশ, মাজার শরীফ টিবিএম কলেজের অধ্যক্ষ ইমাম হাসান মুক্তি।

সেলাই মেশিন উপহার পাওয়া উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের শিরিনা খাতুন (৩৮) বলেন, ‘আমি বিধবা, আমার দুই সন্তান, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর খুব অভাবে দিনপাত করছি, রোজগারের জন্য আমি সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন সেলাই মেশিন দিয়ে আয়-রোজগার করে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করাতে পারব। বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।’

বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেলাই মেশিন পাওয়া মনিরা বেগম (৪০) বলেন, ‘দিনমজুরির কাজ করে যা আয় হয়, তা দিয়ে আমার ছেলের পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের খরচ চালাই। আমার এই অবস্থা দেখে বসুন্ধরা শুভসংঘ সেলাই শেখার সুযোগ করে দেয় এবং তিন মাস ফ্রি প্রশিক্ষণ শেষে আজ সেলাই মেশিন উপহার পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এই সেলাই মেশিন পেয়ে সংসারে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে পারব। সন্তানটিকে ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে পারব। এ জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি চিরদিন ঋণী হয়ে থাকব। পাশাপাশি আমার মতো অনেক অসহায় নারী এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালপুর ডিগ্রি কলেজের পরিদর্শক আব্দুল ওয়াদুদ, লালপুর থানা কেন্দ্রীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ সেন্টু, ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিমানুর রহমান, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র অফিসার মো. মামুন, নাটোর বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান শৈকত, সাধারণ সম্পাদক সুষ্ময় দাস, লালপুর বসুন্ধরা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, কেএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক গোলাম সরোয়ার মিলন প্রমুখ।

বোয়ালখালীতে তৃষ্ণার্ত মানুষের মধ্যে সুপেয় পানি বিতরণ :

এদিকে বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, বোয়ালখালীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে অসহায় মানুষের মধ্যে সুপেয় পানি বিতরণ করা হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কালুরঘাট ফেরিঘাটে যাত্রীসহ ৩০০ অসহায় মানুষের মধ্যে সুপেয় পানি বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী, বসুন্ধরা শুভসংঘ বোয়ালখালী শাখার সভাপতি নুরুল আবছার হিরা, সাধারণ সম্পাদক এম এ তালেব, অধ্যাপক আবু নঈম চৌধুরী, মো. ওয়াসিম মুরাদ, মো. আবছার, কালের কণ্ঠ’র বোয়ালখালী প্রতিনিধি এস এম নাঈম উদ্দীন।

বিএনপি দিন দিন আরও দুর্বল হচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে গণরাজনীতিতে নতুন কোনো মাত্রা যোগ করতে পারছে না। তাই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিয়মিতভাবে গণমাধ্যমে একই গীত গেয়ে চলেছেন, প্রতিনিয়ত অত্যাচার-নির্যাতনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গল্পের অবতারণা করছেন।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি দেওয়ার ব্যর্থতা ঢাকার জন্য তারা এই অপকৌশল অবলম্বন করছে। সন্ত্রাসী দল বিএনপি নেতারা নিজেদের অত্যাচারিত-নির্যাতিত দেখিয়ে ‘সিমপ্যাথি কার্ড’ খেলার অপচেষ্টা করছে। জনকল্যাণের রাজনীতি বাদ দিয়ে এ ধরনের অপকৌশল গ্রহণ করায় বিএনপি দিনে দিনে সাংগঠনিকভাবে আরও দুর্বল হচ্ছে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এবং তাদের নেতারা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার সরকারকে স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। এখন অস্তিত্ব সংকটে থাকা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বিএনপি সরকারের অস্তিত্ব নিয়ে কথা বলছে!

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপির নেতারা টিকে থাকার জন্য সর্বদা মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে রাজনীতিতে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালান। বিএনপির নেতাদের বোঝা উচিত, বিরোধীদল নয় বরং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কাজ করতে হয়। সুতরাং নিজেদের নেতাকর্মীদের রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে নিবৃত্ত রাখাটাই বিএনপির জন্য শ্রেয়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে। জনগণের সেবা করাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূলনীতি। আওয়ামী লীগ সবসময় শাসন-শোষণ ও জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছে। আওয়ামী লীগের হাতেই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত।

‘অন্যদিকে বিএনপি শাসনমালের দুর্নীতি-লুটপাট ও দুঃশাসনের কথা জনগণ ভুলে যায়নি। কীভাবে সন্ত্রাস ও উগ্র-জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সারাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হয়েছিল, সেসব কাহিনী যারা প্রত্যক্ষ করেছে তারা স্মরণ করলে বা কেউ শুনলে এখনো শিউরে ওঠে। জনগণ সেই দুঃসহ সময়ের দিনগুলোতে ফিরে যেতে চায় না। আমরা জনগণের জন্য শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।’ যোগ করেন সেতু মন্ত্রী।

চান্দিনায় তৃষ্ণার্ত পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চান্দিনায় প্রখর রোদে তৃষ্ণার্ত রিক্সা, ভ্যান, সিএনজি চালিত অটো রিক্সা চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মাঝে বোতলজাত বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়। এ সময় ১ হাজার বোতল পানি, ১ হাজার পিস স্যালাইন প্যাকেট বিতরণ করা হয়।

রবিবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ২টায় চান্দিনা উপজেলা সদরের মধ্য বাজারে পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত ব্যক্তিদের মাঝে পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করেন দুবাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন সিআইপি। এসময় তার সমর্থক ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেলোয়ার হোসেন আসন্ন চান্দিনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ চান্দিনা উপজেলায় সমাজ সেবা মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন।

দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘তীব্র তাপদাহে পথচারীদের সামান্য স্বস্তির জন্যই এ উদ্যোগ নিয়েছি। সব সময় চান্দিনার জনগণের সেবা করে যেতে চাই। অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি একজন ভালো মানুষ। উনার সাথে থেকে চান্দিনার উন্নয়নে অংশীদার হতে চাই।’

তিনি আরও বলেন- যুব সমাজকে মাদক মুক্ত করতে এবং যুবকদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে কাজ করতে আমি বদ্ধপরিকর।

আগামীকাল বিভিন্ন জেলার মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ-মাদরাসা বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

সারাদেশে বহমান প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলা