All posts by jitu

‘হত্যার’ উদ্দেশ্যে কুবি শিক্ষার্থীর উপর হামলা

কুবি প্রতিনিধি:

‘তুচ্ছ’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর হামলার শিকার হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাবেক শিক্ষার্থী মো: আনিসুজ্জামান শাকিল ও তার ভাই মো: মাসফিকুজ্জামান রাকিব। হামলার পরে তারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ করে। ৫ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকাল ৩টায় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে উক্ত হামলার শিকার হয় শাকিল ও রাকিব।

এ ঘটনায় কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেটের আদালতে ভুক্তভোগী বাদি হয়ে ৮ এপ্রিল (সোমবার) মামলা দায়ের করে।

হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী মো: আনিসুজ্জামান শাকিল বলেন, “আমি গ্রামে খুব কম যাই। আমার বাড়ির পাশে প্রতিবেশী আমান উল্ল্যাহ(৪১) নজির(৩২), নাছির (২৯), এরা তিন ভাই ও আলামগীর (২৮), আব্দুল কাদের(২১) তারা এলাকার সমাজে প্রভাববিস্তার করতে চায় এবং তারা যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় আমার থেকে কম তারা এ নিয়ে প্রতিহিংসা করতো৷ এর জের ধরো অতর্কিত হামলা করে আমি ও আমার ছোট ভাইয়ের উপর। লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের ঘরে প্রবেশ করে আমাদের দুই ভাইকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। আমাকে হত্যা করতে শ্বাসরোধ করতে চায়। তারা হামলার পর আমার মায়ের গলা থেকে স্বর্ণের হার ও শোবার ঘর থেকে ১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ফাঁকা গুলি করতে থাকে।”

উক্ত ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগীর মা মোসাঃ সাহিনা আক্তার । সংবাদ সম্মেলনে সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার্স ইন চার্জসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

চান্দিনায় কুদ্দুস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: ৫ জন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চান্দিনায়  আব্দুস কুদ্দুস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায়  লুন্ঠিত মালামাল  উদ্ধারসহ ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, কুমিল্লার  চান্দিনা উপজেলার হাশিমপুর এলাকার মো: মফিজ  মিয়ার ছেলে
মোঃ সোহেল প্রকাশ মুন্না (৩৫),  তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি এলাকার আ: লতিফের ছেলে  মোঃ বাবু ভূঁইয়া (২৬), পিতা-আঃ লতিফ, চান্দিনা উপজেলার হাশিমপুর এলাকার  মোঃ আমির আলীর ছেলে  আবু রায়হান (১৯), দক্ষিন গাজীপুর এলাকার মো: ফারুকের ছেলে  মোঃ রুবেল (২৮) এবং দাউদকান্দি উপজেলার বাহাদুর খোলা এলাকার বকুল মিয়ার ছেলে  মোঃ শাহজালাল (৩০)।

৬ ফেব্রুয়ারি  ভোররাত  রাত ৩ টায়  আব্দুল কুদ্দুস (৫২) এবং মোঃ জসিম উদ্দিন (৪৪)দ্বয় চান্দিনা হতে ভ্যানে করে পরচঙ্গা বাজারে মাছ আনার জন্য রওয়ানা করলে গল্লাই ইউনিয়নের অন্তর্গত কেশেরা সাকিনস্থ গরুর বাজার সংলগ্ন পরচঙ্গা কংগাই গামী পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ৪ জন তাদেরকে পথরোধ করে মোঃ জসিম উদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা রক্তাক্ত জখম এবং আব্দুল কুদ্দুসকে একটি ধারালো অস্ত্র দ্বারা তার বুকের মধ্যখানে আঘাত করে হত্যা করে।

উক্ত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য  কুমিল্লা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় চান্দিনা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে স্থানীয় সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামী মোঃ সোহেল প্রকাশ মুন্না (৩৫)কে চান্দিনা থানাধীন হাশিমপুর এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয় এবং তার নিকট হতে লুন্ঠিত একটি বাটন মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সে উক্ত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং হত্যাকাণ্ডে তার অপর সহযোগী মোঃ বাবু ভূঁইয়া (২৬), আবু রায়হান (১৯), মোঃ রুবেল (২৮) ও মোঃ শাহজালাল (৩০)গনের নাম প্রকাশ করে।

পরবর্তীতে চান্দিনা পুলিশের একই টিম আলাদা আলাদা অভিযান পরিচালনা করে সকল আসামীদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকালে আসামী বাবু ভূইয়ার নিকট হতে লুন্ঠিত  একটি বাটন ফোন ও ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি পিক গাড়ী এবং আসামী আবু রায়হানের নিকট হতে ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত  একটি সুইচ গিয়ার (চাকু) উদ্ধার করা হয়।

উক্ত ঘটনায় চান্দিনা থানায় ৭ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করা হয়।  সকল আসামীগন বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

বিজিবির উদ্যোগে চৌদ্দগ্রামের বালুঝুড়িতে অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার :

কুমিল্লা সেক্টর এবং অধীনস্থ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে চৌদ্দগ্রামের বালুঝুড়ি বিওপি এলাকায় ২ শত দুস্হ ও অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে ৷

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বদাই আর্ত মানবতার সেবায় অসহায় ও দুস্হদের জন্য বিভিন্ন প্রকার কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে।

এরই ধারাবাহিকতায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও এর সদর দপ্তরসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে শুরু করে সারাদেশে দুস্হ ও বিপন্ন মানুষদের মাঝে ইফতার, রাতের খাবার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এই মহতী উদ্যোগের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিজিবি, উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন, সরাইলসহ অধীনস্হ কুমিল্লা সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি ) কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ এলাকায়ও দুস্হ-দরিদ্রদের মাঝে ইফতার, রাতের খাবার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

ইফতার ও খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিজিবির সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো: শরীফুল ইসলাম মেরাজ ও ১০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ ইফতেখার হোসেন।

বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস এবং এই মাস আমাদেরকে সংযমের পাশাপাশি ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। সবার সাথে ইফতারি ভাগ করে নেয়াটা অত্যন্ত আনন্দের। আর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সব সময়ই সমাজের দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ।

চাঁদপুরে বসতঘর থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বসতঘর থেকে একসঙ্গে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের পূর্ব লাড়ুয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন লাড়ুয়া গ্রামের দুবাই প্রবাসী আরিফ হোসেন রাঢ়ীর স্ত্রী সীমা (২৬) ও তার দুই মেয়ে আরিফা (৪) ও আরিয়া (২)।

নিহত সীমার স্বামী আরিফ হোসেন বলেন, সকালে আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় দেখেছি আমার স্ত্রী সীমা বাচ্চাদের খাওয়াচ্ছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বাজার থেকে চালের বস্তা নিয়ে বাড়ি ফিরে ভেতর থেকে ঘরের দরজা বন্ধ পাই। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ঘরের পেছন দিকের জানালা দিয়ে স্ত্রী এবং বাচ্চাদের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত দেখতে পাই। তারপর ঘরের দরজা ভেঙে রশি কেটে তাদের মরদেহ নিচে নামাই। এ সময় আমার ডাক-চিৎকারে মা-সহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।

সীমার বাবা মোস্তফা কোতয়াল জানান, মেয়ে ও নাতনিদের মৃত্যুর কথা শুনে ছুটে এসেছি। ৭ বছর আগে আরিফের সঙ্গে সীমার বিয়ে হয়। আরিফ দুবাই প্রবাসী। ফেব্রুয়ারি মাসে সে বাড়িতে আসে। ঈদের দুই দিন পর তার দুবাই ফিরে যাওয়ার কথা।

চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান এবং ওয়ার্ড সদস্য ইমাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মা ও বাচ্চাদের মরদেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেছি। ফ্যানের সঙ্গে রশি ঝুলন্ত দেখতে পেয়েছি। তবে ঘটনা কি আত্মহত্যা নাকি হত্যা সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। পুলিশের তদন্তে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে বলে প্রত্যাশা করি।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত জানান ,পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। অনুসন্ধান চলছে। তদন্তে শেষে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপি এদেশের গণতন্ত্রের শত্রু: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এদেশের গণতন্ত্রের শত্রু ও আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত একটি সন্ত্রাসী দল। মঙ্গলবার দলটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নীতি, আদর্শ ও কর্মপন্থা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। বিএনপির অবস্থান গণতন্ত্রের বিপরীত মেরুতে। সামরিক স্বৈরাচারের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি গায়ে গণতন্ত্রের আলখেল্লা জড়ালেও ভেতরে অগণতান্ত্রিক প্রেতাত্মাকে ধারণ করে। তাই সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। অগণতান্ত্রিক শক্তির প্রতিভূ বিএনপি সর্বদাই গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তারা বানচালের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল। বিএনপি তাদের মজ্জাগত সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে আড়াল করার অপচেষ্টা করে। কিন্তু তাদের স্বরূপ আজ জাতির কাছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত। কানাডার ফেডারেল আদালতে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত হয়েছে।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, লাগাতারভাবে ভুল নীতি ও ভুল কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপি ভুলের চোরাবালিতে নিমজ্জিত। এখান থেকে উত্তরণের জন্য তাদের স্বভাবজাত পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা আরও গভীরে পড়ে যায়। বিএনপির রাজনীতি চরমভাবে দুর্দশাগ্রস্ত। ভুল রাজনীতির কারণে তাদের নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্ত।

তিনি বলেন, ব্যর্থ বিএনপির নেতাকর্মীরা জনগণের মাঝে হতাশার বীজ বপনের অপচেষ্টা করছে। তাদের কোনো স্বপ্ন নেই। তাই বিএনপির নেতারা ইতিবাচক কোনো কিছু দেখতে পায় না। বরং নেতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জনগণের ক্ষতি সাধনে সর্বদা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সব প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আগামীর বাংলাদেশ হবে উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ স্মার্ট বাংলাদেশ।

নাঙ্গলকোটে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ইটভাটা

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয় ও নাঙ্গলকোর্ট উপজেলা প্রশাসন এর উদ্যোগে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সোমবার (৮ এপ্রিল) নাঙ্গলকোর্ট মৌকরা ইউনিয়নে নিষিদ্ধ এলাকায় পরিচালনা করায় মেসার্স আজিজ ব্রিকসের ইটভাটা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

নাঙ্গলকোর্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসমাইল হোসেন উক্ত অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মোবাইল কোর্ট প্রসিকিউশন প্রদান করেন কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস।

এ সময় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন নাঙ্গলকোর্ট থানা পুলিশ।

 

মেজাজ হারিয়ে রোনালদোর লাল কার্ড, সেমি থেকে আল-নাসরের বিদায়

ডেস্ক রিপোর্ট:

মেজাজ হারালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। প্রতিপক্ষের ফুটবলারকে আঘাত করে দেখলেন লালকার্ড। সেমিফাইনালে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আল-নাসরের সামনে তখন উপায় ছিল না ঘুরে দাঁড়ানোর। ৮৫ মিনিটে সাইডলাইন থেকে বল কুড়াতে গিয়ে আল-হিলাল ডিফেন্ডার আলি আলবুলাইহির মুখোমুখি হন রোনালদো। মেজাজ হারিয়ে তাকে কনুই দিয়ে আঘাত করে বসেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

তাতেই ২০১৮ সালের পর প্রথমবার লালকার্ড দেখতে হলো রোনালদোকে। সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে মুষ্টি পাকিয়ে ঘুষি মারার ভঙ্গিতে রেফারির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন আল নাসর তারকা। এরপর রেফারিকে কটাক্ষ করে আর্মব্যান্ড খুলে বেরিয়ে যান মাঠ থেকে।

রোনালদো যখন মাঠ ছাড়ছেন আল-নাসর তখন পিছিয়ে ২-০ গোলে। দশজনের দল নিয়ে আল-হিলালের বিপক্ষে ম্যাচে ফেরা কঠিনই ছিল নাসরের জন্য। সাদিও মানের ৯৯ মিনিটের গোলটা তাই হয়ে রইল স্বান্তনা। ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ হেরে সৌদি সুপার কাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিল আল নাসর।

আল-হিলাল এবং আল-নাসরের লড়াই মানেই সৌদি ফুটবলের সবচেয়ে বড় লড়াই। হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে নড়বড়ে শুরু করেছিল রোনালদোর আল-নাসর। সিআরসেভেন নিজেই শুরুর ২০ মিনিটের মাথায় ২টি সুযোগ মিস করেন। বিশেষ করে ১৭তম মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের ওপর দিয়ে শট নিয়েছেন।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এরপরেই পুরোপুরি নিয়ে নেয় আল-হিলাল। সালেম আর দাওয়াসরি, ম্যালকমরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে প্রথম গোল পেতো তারাই। কিন্তু নিজেদের ভুলেই লিড নেওয়া হয়নি তাদের। বিপরীতে প্রথমার্ধের শেষদিকে সাদিও মানের পাস থেকে গোল করেন ওটাভিও। যদিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয় সেই গোল। এরপরেই অবশ্য রেফারির সঙ্গে বিরোধে জড়ান সিআরসেভেন।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য এককভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আল-হিলাল। কোনোপ্রকার সুযোগই দেওয়া হয়নি আল-নাসরকে। ৬১ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন আল হিলাল তারকা সালেম আলদাওয়াসরি। ম্যালকমের কাছ থেকে বল দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ডেভিড ওসপিনাকে পরাস্ত করেন এই সৌদি স্ট্রাইকার।

৬৬ মিনিটে আবারও গোল পেতে পারত আল-নাসর। যদিও ম্যালকমের শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ৭২ মিনিটেই অবশ্য দারুণ খেলার প্রতিদান পেয়ে যান এই ব্রাজিলিয়ান। হেডে নিজের নাম স্কোরশিটে তোলেন ম্যালকম। এরপর ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও লাভ হয়নি আল-নাসরের। রোনালদোর লাল কার্ডের পর আরও খানিকটা মিইয়ে আসে সম্ভাবনা। শেষ দিকে সাদিও মানের গোলটা তাই আল-নাসরের কাছে ছিল সান্ত্বনা পুরস্কার।

মুঘল ঐতিহ্যে মোড়া জনপ্রিয় “আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট” এর সুপরিসর নতুন ভবনের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মুঘলদের প্রকৃত খাদ্যাভ্যাস সবার কাছে পরিচিত করানোর লক্ষ্যে ২০২১ এ যাত্রা শুরু করেছিলো আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট। ঐতিহ্যবাহী মুঘল খাবারের আয়োজন নিয়ে ঢাকার একমাত্র কনসেপ্ট রেস্টুরেন্ট এটি। আরও বড় পরিসরে রাজসিক ছোয়ায় নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হলো ৩০০ ফিট সংলগ্ন এই রেস্টুরেন্টটি।

সোমবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর ৩০০ ফিট সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) হল-১ সংলগ্ন নিজস্ব প্রাঙ্গনে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন ভবনটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আইসিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার এম.এম, জসীম উদ্দীন। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ট্রেজারার ময়নাল হোসেন চৌধুরী, বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র ডিএমডি মোস্তাফিজুর রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের সেক্টর এ চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ এহসান রেজা, আইসিসিবি হেড অফ ডিভিশন একাউন্টস এস, এম, মনিরুল ইসলাম পলাশ সহ আইসিসিবি এবং বসুন্ধরা গ্রুপের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে এম.এম, জসীম উদ্দীন বলেন, মুঘল রাজ পরিবারের পোশাক- আশাক ও খাদ্যাভ্যাস যেন এক হিরণ্ময় স্মৃতি। একেকটি রহস্যে ঘেরা গল্প। সেই জৌলুসময় জীবনাচরণের ইতিহাস আজ বিলুপ্তপ্রায়। মুঘলদের খাদ্যাভ্যাস নতুন প্রজন্মকে আমরা জানাতে চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি, তাদের ঐতিহ্যকে ধারণ করতে। আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্টে ঢাকার মানুষ পরখ করতে পারবেন সেসব অসাধারণ খাবারের আয়োজন এবং উপলব্ধি করতে পারবেন রাজসিক জীবন। ঢাকার বুকে মুঘল ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে এ রেস্টুরেন্ট রয়ে যাবে যুগযুগ। ভোজন রসিকদের অনুরোধে নতুন ভবনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এম. এম. জসীম উদ্দীন আরো বলেন, পূর্বেকার ভবনে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক গ্রাহককে আমরা একসাথে জায়গা দিতে পারতাম না। এখনকার আয়োজনে বড় গ্রুপকে আমরা সাবলীল ভাবেই বসে খাবার উপভোগের ব্যবস্থা করে দিতে পারবো। সেই সাথে ৩০০ ফিট এর দৃষ্টিনন্দন লেক এবং সড়ক এর সৌন্দর্য রেস্টুরেন্ট থেকেই উপভোগ করা যাবে।

এস. এম. মনিরুল ইসলাম পলাশ বলেন, আইসিসিবিতে চালু হওয়া হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট বাংলাদেশের একটি বিশেষ রেস্টুরেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কারণ শুধু মুঘল খাবারের কোনো রেস্টুরেন্ট এখনও বাংলাদেশে হয়নি। পুরো রেস্টুরেন্টটি সাজানো হয়েছে মুঘল ঐতিহ্যকে ধারণ করে। আইসিসিবি হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট কেবল উদরপূর্তির মাধ্যম হওয়ার জন্য আসেনি, এসেছে একটি শিল্পকে একটা ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে।

অনুষ্ঠানে আগত এক অথিতি বলেন, মুঘলদের রান্নার স্বাদ ও রাজকীয়তার মেলবন্ধন যুগের পর যুগ মানুষের রসনাকে তৃপ্তি দিয়ে আসছে। আজও আমরা সে লোভনীয় খাবারের রসাস্বাদন করি। কিন্তু সত্যিকার সেই স্বাদ আয়োজনের ঘাটতি বর্তমানে লক্ষণীয়। ধন্যবাদ বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষকে এবং আইসিসিবিকে এ রাজসিক পদক্ষেপের জন্য।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী বিপাকে পড়ে এখন রোহিঙ্গাদের সহায়তা চাচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট:

এক সময় রোহিঙ্গাদের বিতারিত করেছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী। জাতিসংঘের তথ্যমতে, প্রায় সাত বছর আগে ওই জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করতে ভয়াবহ জাতিগত নিধন চালানো হয়েছিল। কিন্তু এখন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিপাকে পড়ে সেই রোহিঙ্গাদেরই সহায়তা চাচ্ছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত সাত রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিবিসি। তারা জানিয়েছেন, জান্তা বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ১০০ জন রোহিঙ্গাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার জন্য তাদের নামও বদলে দেওয়া হচ্ছে।

রাখাইনের রাজধানী সিত্তওয়ের কাছে বা দু ফা অস্থায়ী শিবিরে তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করেন মোহাম্মদ নামের ৩১ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা নাগরিক। বিবিসির কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি আতঙ্কিত ছিলাম কিন্তু তারপরেও আমাকে যেতে হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নে রাখাইনের প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা গত এক দশক ধরে এসব অস্থায়ী শিবিরেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

মোহাম্মদ বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে কোনো এক মধ্যরাতে ক্যাম্পের নেতা তার কাছে আসেন। ওই নেতা জানান যে, তাকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এটা ছিল সামরিক আদেশ। না মানলে তার পরিবারের ক্ষতি করা হবে বলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি নিশ্চিত হয়েছে যে, সেনা কর্মকর্তারা এসব উদ্বাস্তু ক্যাম্পের তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে।

নির্মম বাস্তবতা হলো মোহাম্মদের মতো অনেক রোহিঙ্গারই কোনো নাগরিকত্ব নেই। এমনকি তারা রাখাইনের বাইরেও কোথাও যেতে পারেন না। এ ধরনের নানা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা।

আর সেনাবাহিনীতে যুক্ত করতে রোহিঙ্গা পুরুষদেরকে খাবার, নিরাপত্তা এবং সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রাখাইনে অন্যান্য সম্প্রদায় একসঙ্গে মিলেমিশে থাকলেও ২০১২ সালে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের বাড়ি-ঘর থেকে উচ্ছদ করা হয়। তাদেরকে বিভিন্ন অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করতে বাধ্য করা হয়।

এর পাঁচ বছর পর ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ এবং বাড়ি-ঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সে সময় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় জান্তা বাহিনী। তারপরও রাজ্যটিতে ছয় লাখের মতো রোহিঙ্গা এখনও রয়ে গেছে।

এদিকে তিন বছর আগে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলকারী সামরিক বাহিনী বিদ্রোহীদের কাছে আরও একটি বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে। এবার তাদের দখল থেকে থাইল্যান্ড সীমান্তের সঙ্গে লাগোয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর বিদ্রোহà§