All posts by jitu

বাবাকে মারধর করায় চাঁদপুরে ছেলের কারাদন্ড

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে নিজ বাবাকে মারধর করায় ছেলেকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইউনিয়নের সোবহানপুর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত জামিল সৈকত। দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন (৪০) ওই গ্রামের বশিরুল্লাহ পাটওয়ারীর ছেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, ‌‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। জিজ্ঞাসাবাদে বশিরুল্লাহ পাটওয়ারীর ছেলে অপরাধী ফারুক সচেতনভাবে দোষ স্বীকার করেন। এর ফলে আদালত তার অপরাধ আমলে নিয়ে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফারুক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক ছিলেন। মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে বিপদগামী হয়ে উঠে। এর কারণে তার স্ত্রী একাধিকবার বাবার বাড়ি চলে যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুহসীন আলমসহ পুলিশ সদস্যরা।

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কুবিতে শিক্ষক সমিতির আলোচনা সভা

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস উপলক্ষে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত আলোচনার কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। এজন্য মাতৃভাষা দিবসের চারদিন পর শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এই আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় মূখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা ও মানবিক অনুষদের সাবেক ডিন ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরসহ শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

শুরুতে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, আমাদের মনে যখন কোনো কিছু চিন্তা করি তখন আমরা আঞ্চলিক ভাষায় চিন্তা করি। তারপর সেটাকে প্রমিত বাংলা ভাষায় রুপান্তর করি। এরপর ইংরেজি করি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি থেকে তিন বার চিঠি এসেছে প্রত্যেক বিভাগে যেন বাংলা পড়ানো হয়। কিন্তু সেটা এখনো কেন কার্যকর হচ্ছে না জানি না।

আলোচনা সভায় মাতৃভাষা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনা সভা না করায় প্রশাসনের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন উপস্থিত আলোচকবৃন্দ। এরমধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামিমুল ইসলাম, ড. কাজী কামাল উদ্দিন বলেন, পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন। কিন্তু এই মহান দিনেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো আলোচনা সভার আয়োজন করে নি। প্রথমে একটি চিঠি দিলেও পরে সেটা সংশোধন করেন। যা খুবই লজ্জাজনক।

তাঁরা আরও বলেন, বর্তমানে প্রশাসন শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বিরোধ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন; সবজায়গায় স্বৈরাচারী মনোভাব চাপিয়ে দিচ্ছেন যা সবার জন্য দুঃখজনক।

অনুষ্ঠানের মূখ্য আলোচক ড. জি এম মনিরুজ্জামান ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, প্রথমেই আমি মধ্যযুগের কবি আব্দুল হাকিম এর বঙ্গবাণী কবিতার দুইটি চরণ উল্লেখ করবো “যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী।” “সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।”কথাটির অর্থ হল বঙ্গদেশে জন্মগ্রহণ করে, বাংলা ভাষাকে যারা ঘৃণা করে তার জন্ম নিয়ে সন্দেহ আছে। এবং আরো একটি লাইন আছে “নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়।” অর্থাৎ বাংলার আলো বাতাসে থেকে যদি বাংলা ভাষাকে ঘৃণা করে তাঁর এদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আমাদের অবস্থান এমন হয়েছে যেনতেনভাবে আমরা ইংলিশ বলতে পারলেই নিজেদের স্মার্ট মনে করি। ইংরেজি মিডিয়ামে মায়ের বাচ্চাদের ভর্তি করাতে পারলেই নিজেকে স্টাটাসপূর্ণ মনে করি। অথচ ভারতীয় ভূখণ্ডে তিনশত বছর ধরে বাংলা ভাষার ব্যবহার সর্বজনীন ছিলো। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন আমাদের হাতে ক্ষমতা আসলে বাংলা ভাষা সার্বজনীন করা হবে।পরবর্তীতে তিনি কথাও রেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে আমরা ভাষা চর্চার থেকে অনেকটাই সরে এসেছি।

আলোচনা সভার শেষে তিনি নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণা পেপারের পাশাপাশি যদি একটি বাংলায় প্রবন্ধ লিখতে বলা হত তাহলে বাংলা ভাষার চর্চা আরো বেশি হত।

আলোচনা সভার সমাপনি বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. মো. আবু তাহের বলেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলা ভাষা স্বীকৃতি লাভ করেছে। অমর একুশে আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা শেখায়। বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে হীরক রাজার দেশে পরিণত করছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর জন্য কোন বরাদ্দ না এনে ভিসি বাংলোর জন্য দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। যারমধ্যে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা বরাদ্দও এনেছে। অথচ আমাদের নতুন ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক বাংলোর কাজ প্রায় সম্পন্ন।

কুবিতে শুদ্ধাচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা কার্যালয়ের উদ্যোগে শুদ্ধাচার ও সুসাশন প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রীতি বিতর্ক-২০২৪ আয়োজন করা হয়েছে।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ও কলা অনুষদের ৫০১ নম্বর রুমে এই বিতর্কের আয়োজন করা হয়। বিতর্কের বিষয়বস্তু ছিল “স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুর্নীর্তিই প্রধান অন্তরায়”।

বিতর্কে বিজয়ী সরকার পক্ষ দল ‘ভাষা শহীদ রফিক’। সেরা বিতর্কিক হয়েছেন বিরোধী দলের নেতা অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেহা আক্তার।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অমিত দত্তের সঞ্চালনায় এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা কার্যালয়ের পরিচালক ড.মোহা: হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য প্রফেসর ড. এ এফ এম আবদুল মঈন।

বিতর্ক শেষে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহা: হাবিবুর রহমান বলেন, সবাই ভালো করেছে। ফলাফল যায় হোক না কেনো যোগদানই সেরা কৃতিত্ব। বিচারকের দৃষ্টিকোণ থেকে এক দলকে বিজয়ী করতেই হবে। আজকে যারা বিতর্ক করছেন তারা একদিন মঞ্চে বিচারক হিসেবে আসবেন।

এসময় উপচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি আনন্দদায়ক ছিল। আমি উপভোগ করেছি। বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিতর্কের প্রচলন রয়েছে। বিতর্কের স্বার্থে আমরা যাই বলি না কেনো বিতর্ক আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। হাইকোয়ালিটির কালচার তৈরি করার জন্য প্রতিটি বিভাগে বিতর্কের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান খান বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী, একই বিভাগের প্রভাষক গোলাম মোহাম্মদ পাভেল।

তৃতীয় দিনে প্রচার প্রচারণা ব্যস্ত মেয়র প্রার্থী : মনিরুল হক সাক্কু

শাহ ইমরান:

প্রচারণার তৃতীয় দিনে নগরীর মোগলটুলি, জিলা স্কুল রোড, নবাব ফয়জুন্নেসা স্কুল সড়ক, রাণীর বাজার, চকবাজার এলাকায় প্রচারণা করেছেন টেবিল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।

এ সময় মনিরুল হক সাক্কু বলেন, প্রতিবার মানুষকে ধোকা দেওয়া যাবে না। মানুষ আমাকে প্রশ্ন করে, ভোটের মর্যাদা রক্ষা করতে পারবেন কিনা? আমি বলি, আপনারা সকাল সকাল কেন্দ্রে যাবেন। ভোট রক্ষা করার জন্য যা যা করা দরকার প্রশাসন তা করবেন।

তিনি আরো বলেন, আমি পরপর দু’বার মেয়র ছিলাম। পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে নগরীকে সাজিয়েছি। অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে আপনারা টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট দিন। আপনারা ভোট কেন্দ্রে আসুন। যাকে ভালো লাগে তাকে ভোট দিন। মতপ্রকাশ নাগরিক অধিকার।

‘শাহরুখ খান ১৭টি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন’

ডেস্ক রিপোর্ট:

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। ক্যারিয়ারজুড়ে রয়েছে অসংখ্য সাফল্যে। শুধু সাফল্যের দিক থেকেই নয়, সম্পদের দিক থেকেও ভারতের সকল অভিনেতাকে ছাড়িয়ে তিনি। যদিও তার আজকের অবস্থান তৈরি করাটা সহজ কোনো বিষয় ছিল না।

বয়স ৫৮ হলেও এখনও ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন শাহরুখ। সম্প্রতি অভিনেতাকে নিয়ে মজার এক তথ্য শেয়ার করেছেন তার বন্ধু বলিউড প্রযোজক-অভিনেতা বিবেক ভাসওয়ানি।

শাহরুখ যখন বলিউড ক্যারিয়ার নিয়ে সংগ্রাম করছেন, তখন অনেক সহযোগিতা করেন বিবেক। এমনকী বিবেকের বাড়িতে শাহরুখের থাকার ব্যবস্থাও করেছিলেন। কিন্তু শাহরুখের সঙ্গে এখন তার যোগাযোগ নেই বললেই চলে! সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কানানকে সাক্ষাৎকার দেন বিবেক। এ আলাপচারিতায় শাহরুখের এতগুলো মুঠোফোন ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে।

আপনি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর কঠিন সময় পার করেছেন। তারপরও কেন শাহরুখ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নি? জবাবে বিবেক বলেন, ‘‘শাহরুখ খানের ১৭টি মুঠোফোন রয়েছে। তার মধ্যে একটি নাম্বার আমার কাছে আছে। ‘জওয়ান’ সিনেমা মুক্তির পর আমি শাহরুখকে ফোন করেছিলাম কিন্তু ধরেনি। আমি যখন গোসল করছিলাম, তখন শাহরুখ আমাকে ফোন করেছিল। আর আমি ধরতে পারিনি। শাহরুখের অনেক দায়িত্ব, সবসময় ভ্রমণের উপরেই থাকে। সে একটি সাম্রাজ্য চালায়। তাই আমিও বলি, ওকে।’’

শাহরুখের সঙ্গে কথা হয় না, দেখাও হয় না বিবেকের। তা জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমরা কথা বলি না, দেখাও করি না। যখন দেখা হয়, তখন মনে হয় না আমাদের দেখা হওয়ার মাঝে এতগুলো বছর কেটে গিয়েছে। আমি একজন শিক্ষক। একটি স্কুলের ডিন। আমি লোকাল বাসে, ট্রেনে চলাফেরা করি। কিন্তু শাহরুখ একজন সুপারস্টার।’

চার বছর আগে শাহরুখের জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছিলেন বিবেক। সেখানেই তাদের শেষ দেখা। সেই স্মৃতিচারণ করে বিবেক বলেন, ‘‘চার বছর আগে শাহরুখের জন্মদিনের পার্টিতে গিয়েছিলাম। আমাকে শাহরুখ বলেছিল, ‘স্যার, আসুন প্লিজ। চলুন আমার বাচ্চাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই।’ সেই পার্টিতে আমরা খুব আনন্দ করেছিলাম।’’

শাহরুখকে সবশেষ দেখা গেছে ডাংকি সিনেমায়। এর আগে পাঠান ও জওয়ান-এ হাজার কোটি রুপির বেশি কালেকশন এনে দিয়েছিলেন কিং খান। ২০২৩ সাল তার জন্য অসাধারণ একটি সময় পার হয়েছে।

শুধু গ্র্যাজুয়েশন দিয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন : শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

উচ্চশিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে সফট স্কিলে দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা-যোগ্যতা না থাকলে শুধু গ্র্যাজুয়েশন দিয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

রোববার সকালে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ৭ম সমাবর্তনে যোগ দিয়ে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে তার প্রতিনিধি হিসেবে সমাবর্তনে অংশ নেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, বিশ্বের যেসব ভাষা বহুল প্রচলিত সেসব ভাষায় আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে করে দক্ষ হয়ে উঠেন। এসব প্রচলিত ভাষায় আমাদের শিক্ষার্থীরা দক্ষ না হলে কর্মসংস্থানের দিক থেকে পিছিয়ে যাওয়াটা হবে স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, ভাষা ছাড়াও অনেক সফট স্কিল রয়েছে। এসব স্কিলের দিক থেকেও আমরা যদি পিছিয়ে থাকি তাহলে শুধু গ্র্যাজুয়েট হয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা আমাদের পক্ষে অনেক কঠিন হয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির ৭ম সমাবর্তনে ৩ হাজার ৯৫৪ জন শিক্ষার্থীকে গ্র্যাজুয়েশন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য আরও চারজন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্রিয়াটা একটা বিশ্ব নাগরিক তৈরি করার প্রক্রিয়া। সমগ্র বিশ্বে এখন দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মীর চাহিদা বেড়েছে। সমগ্র বিশ্বের শ্রম বাজার আমাদের জন্য উন্মুক্ত। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে যদি দেখি, সেসব দেশে আরবি-ফরাসি ভাষা শিখে বিশ্ব নাগরিক হওয়ার জন্য তাদের তরুণ প্রজন্ম সারাবিশ্বে জড়িয়ে পড়েছে। আমাদেরকেও এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। এজন্য যেভাবে দক্ষ ও যোগ্য হওয়া যায়, শিক্ষার্থীদের সেভাবে গড়ে তুলতে হবে।

মানসম্পন্ন-দক্ষ কর্মীর অভাবে বিদেশি পেশাজীবীরা এদেশে এসে শ্রমবাজার দখল করছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীরা এসে কাজ করছেন।

গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, আপনারা কেন বিদেশি পেশাজীবীদের এ জায়গা দখল করতে পারবেন না? যারা এরইমধ্যেই গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বিনীত নিবেদন থাকবে- ক্যারিয়ার প্ল্যানিংটা আপনারা অবশ্যই করবেন।

তিনি বলেন, যেসব খাতে বিদেশি পেশাজীবীরা কর্মরত আছেন- সে সবখাতে আপনারা দেখবেন, এসব পেশাজীবীরা সুনির্দিষ্ট কিছু দক্ষতার কারণে এদেশে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। যারা কর্মদাতা, তারা কিন্তু শুধু গ্র্যাজুয়েট বলে কাউকে চাকরি দেন না। তারা দেখতে চান- তাদের যে ধরনের প্রয়োজনীয় শিক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, সেটা প্রার্থীর আছে কিনা। চাকরি দাতাদের এখানে বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের সন্তানদের অনেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করলেও প্রয়োজনীয় দক্ষতায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। আমরা অনুরোধ করবো, আপনারা সেসব ঘাটতিগুলো পূরণে কাজ করবেন।

ইউআইইউর সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাক ইউনিভাসিটির অধ্যাপক ইমেরিটাস এবং পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে : অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ‘রাতারাতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এটা নিয়ে কাজ চলছে, এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আল্টিমেটলি এই ক্রাইসিসটা তো ম্যানেজ করতে হবে।’

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে নিজ দপ্তরে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যানা বেজার্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যেসব সমস্যা ফেস করছে এগুলো নতুন কোনো সমস্যা নয়। বাংলাদেশ এসব সমস্যা যেভাবে মোকাবিলা করছে সেটার প্রশংসা করেছেন তারা। কাজেই এরমধ্যে সন্দেহের কিছু নাই। আর আমি ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে একটা কথা বলেছি, বিশেষ করে যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে চায় না তাদের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করতে চায়, তাদের সঙ্গে তারা কথা বলতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘দেশে যতগুলো মেগা প্রকল্প হয়েছে সবই শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে হয়েছে। ২০১৭ সালে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঠাকুরগাঁও গিয়েছিলাম। তার দুদিন আগে বিএনপি মহাসচিব মন্তব্য করেছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো উন্নয়ন হয়েছে নাকি, আমি তো কিছু দেখি না। যাদের উন্নয়ন সম্পর্কে এমন ধারণা, তারা কী করবে? তারাতো কিছু করতে পারেনি।’

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, কিছুদিন আগে মেট্রোরেল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। এতে ওই অঞ্চলে (উত্তরা, মিরপুর) যারা থাকেন- এসব এলাকার মানুষের যে কী উচ্ছ্বাস, আনন্দ, উল্লাস। নারীরা মেট্রোরেলে উঠে স্ট্যান্ড ধরে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু তাদের চোখে-মুখে প্রশান্তি এবং আনন্দ। কাজেই মেগা প্রকল্প সম্পর্কে অনেক কথা বলেছে বিএনপি। কিন্তু মানুষ কত উপকৃত হয়েছে এবং কত খুশি হয়েছে- এই জিনিসটা আমি বললাম। মেগা প্রকল্প করবো কি করবো না। করলে কী হবে, শুধু ক্রিটিসিজম করলে তো কোনো লাভ হবে না। এগুলো শেখ হাসিনা বানিয়েছেন ঠিক কথা। কিন্তু বানিয়েছেন তো একটা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, একটা চিন্তা নিয়ে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, জনগণ এটা গ্রহণ করেছে।’

এসময় বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) অ্যানা বেজার্ড বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি সরকারের উদ্যোগে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এদিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টা পর্যন্ত আগারগাঁওয়ের ইআরডি ভবনে মন্ত্রীর দপ্তরে বৈঠক হয়। বৈঠকে অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজারসহ সংস্থাটির ঢাকা অফিসের ঊধ্র্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রথম অফিসিয়াল সফরে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় আসেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) আনা বিজার্ড। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার।

২৬৫৬ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে

ডেস্ক রিপোর্ট:

বর্তমানে ভারত থেকে ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে দেশে ২৩ হাজার ১৫৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৪১টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত আছে। এছাড়া ভারত থেকে ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ১১ হাজার ৩০৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৮টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন এবং দরপত্র প্রক্রিয়াধীনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে মোট ৯ হাজার ৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৩টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০২৪ হতে ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাক্রমে— মাতারবাড়ী, গাজীপুর, সৈয়দপুর, ঘোড়াশাল, ময়মনসিংহ, রূপসা, রামপাল, পটুয়াখালী, মেঘনাঘাট, কেরানীগঞ্জ ও চট্টগ্রামে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

এছাড়া মোট ২ হাজার ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পাঁচটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে দরপত্র প্রক্রিয়াধীন বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ২০২৬ হতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাক্রমে— ফেঞ্চুগঞ্জ, গজারিয়া, মিরসরাই, মেঘনাঘাট ও রাউজানে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

সংসদ সদস্য মোছা. জান্নাত আরা হেনরীর এক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, সরকার কর্তৃক জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস করে বিকল্প জ্বালানির উৎস হিসেবে সৌর বিদ্যুৎ প্রসারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমসমূহের ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন কর হয়েছে যার সম্মিলিত ক্ষমতা ৯৭১.৭০ মেগাওয়াট। উক্ত কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে ৭.৬ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ; যা হতে ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এছাড়া ৮৮.৭৫ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার আরও একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। যার বাস্তবায়ন কাজ চলতি বছরের জুনে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

ঘরের মাঠেই ফুলহামের কাছে হারল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

ডেস্ক রিপোর্ট:

আগের মৌসুমের আক্ষেপ ঘুচানোর মিশনে ঠিকঠাকই ফল পাচ্ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা চার ও সবমিলিয়ে পাঁচ জয় নিয়ে এরিক টেন হাগের দল নিজেদের সঠিক কক্ষপথে ছিল। তবে তাদের সেই ছন্দে ধাক্কা দিয়েছে টেবিলে দশের বাইরে থাকা দল ফুলহ্যাম। তাও আবার ম্যানইউ’র ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে সফরকারীরা ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে।

গতকাল (শনিবার) প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিতে সব গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। যেখানে রেড ডেভিলদের ২১ বছর পর তাদের ঘরের মাঠে হারিয়েছে ফুলহ্যাম। এমনকি গত ৬১ বছরের মধ্যে ইউনাইটেডের মাঠে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়। এই ম্যাচের পর ম্যানচেস্টার সিটি এবং লিভারপুলের আধিপত্য কমানোর স্বপ্নে বড় ধাক্কা খেল টেন হাগের শিষ্যরা।

এদিন ম্যাচের ডেডলক ভাঙা প্রথম গোলটি আসে ৬৫ মিনিটে। ফুলহ্যামের নাইজেরিয়ান লেফটব্যাক ক্যালভিন ব্যাসে প্রথম স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেন। কর্নার থেকে পাওয়া বল দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় ইউনাইটেডের জালে জড়ান তিনি। যা শোধ করতে ম্যানইউকে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। যদিও ৮৯ মিনিটে সেই গোলটি আসে সফরকারী গোলরক্ষকের ভুলে। ইউনাইটেড ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ার গোলরক্ষক বার্নড লেনোর ভুলের সুযোগ নিয়ে লিগের চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম গোল করেন।

তবে রেড ডেভিলদের স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। যখন পয়েন্ট ভাগাভাগি করে ম্যাচ শেষ করার অপেক্ষায় ছিল ম্যানইউ, যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে ফুলহ্যামকে চূড়ান্ত আনন্দে ভাসান অ্যালেক্স আইয়ুবি। নাইজেরিয়ান এই মিডফিল্ডারের গোল ইউনাইটেড সমর্থকদের হৃদয় হতাশায় পরিপূর্ণ করে তোলে। ফলে ২–১ গোলে হার নিয়ে স্বাগতিকরা মাঠ ছাড়ে।

এই হারের পর ২৬ ম্যাচে ১৪ জয় ও ২ ড্রয়ে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে ম্যানইউ। আসরে নবম জয় পাওয়া ফুলহ্যাম ৩২ পয়েন্ট নিয়ে আছে ১২ নম্বরে। টেবিলের শীর্ষে থাকা লিভারপুল সমান ম্যাচে পেয়েছে ৬০ পয়েন্ট। দুই ও তিনে আছে যথাক্রমে ম্যানসিটি (৫৯) ও আর্সেনাল (৫৮)।

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা পুরুষ ও খর্বাকার নারী একফ্রেমে

ডেস্ক রিপোর্ট:

তুর্কি নাগরিক সুলতান কোসেনের উচ্চতা ৮ ফুট ২ দশমিক ৮ ইঞ্চি। বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা পুরুষ তিনি। অন্যদিকে সবচেয়ে কম উচ্চতার ২ ফুট ৭ ইঞ্চির জ্যোতি আমেজের বাড়ি ভারতে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্বিতীয়বার দেখা হয়েছে তাদের। এর আগে ২০১৮ সালে তাদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল।

দিনকয়েক আগে ফটো সেশনে অংশ নিয়েছিলেন গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের দুই অন্যতম সদস্য সুলতান ও জ্যোতি।

২০০৯ সালের পর উচ্চতা ২ ইঞ্চি বেড়েছে ‌

বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মানুষ হিসেবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে সুলতানের নাম নথিভুক্ত হয় ২০০৯ সালে। এরপর থেকে তার উচ্চতা বেড়েছে আরও ২ ইঞ্চি। সুলতান পেশায় একজন কৃষক। তিনি তুর্কি ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তাই বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাদের সর্বদা একজন অনুবাদকের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, জ্যোতি হিন্দি, মারাঠি এবং কিছুটা ইংরেজি বলতে পারেন।

সুলতান এত লম্বা হলেন কীভাবে

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে সুলতানের উচ্চতাকে স্বাভাবিক বলা যায় না। চিকিৎসার ভাষায়, তিনি অ্যাক্রোমেগালিতে ভুগছেন। এটি পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমারের কারণে হয়। এই টিউমার গ্রোথ হরমোনকে স্বাভাবিক থাকতে দেয় না এবং যখন এই ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, তখন দৈত্যের মতো উচ্চতা বেড়ে যায় এবং এর কারণে উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

২০১১ সালে সুলতান ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গিয়েছিলেন। সেখানে তার চিকিৎসা করার পর তার উচ্চতা বৃদ্ধিও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সুলতানের কব্জি এবং মধ্যমা আঙুলের মধ্যে ১১.২২ ইঞ্চি দূরত্ব রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতের তালুর রেকর্ডও তার দখলে। এ ছাড়া তার পায়ের আঙুলও সবচেয়ে বড়। অন্যদিকে জ্যোতির উচ্চতা সুলতানের উচ্চতার এক চতুর্থাংশ।

জ্যোতির উচ্চতা স্বাভাবিক নয় কেন

জ্যোতি আমেজে একজন অভিনেত্রী। তার উচ্চতা ২.৭ ফুট। চিকিৎসার পরিভাষায় বলা যায়, জ্যোতির অ্যাকোনড্রোপ্লাসিয়া নামে একটি রোগ রয়েছে। এটি উচ্চতার অভাব সম্পর্কিত একটি বিশেষ রোগ। জ্যোতি ২০১১ সালে তার ১৮তম জন্মদিন উদযাপনের সময় তার নাম গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে সবচেয়ে খাটো উচ্চতার নারী হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল। এরপর ২০১৪ সালে জ্যোতি আমেরিকান টিভি শোতেও উপস্থিত হয়েছেন। ২০১৮ সালে মিশর পর্যটন প্রচার বোর্ড তাকে সুলতানের সঙ্গে একটি ইভেন্টের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। এরপরেই ২০১৮ সালে মিশরে দেখা হয়েছিল দুজনের।