All posts by jitu

মির্জা ফখরুল জেল থেকে বের হয়ে আবারও দিবাস্বপ্নে বিভোর : ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেল থেকে বের হয়ে আবারও দিবাস্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় পরবর্তী আন্দোলনের কথা না ভেবে বিএনপিকে এখন থেকেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের সরকার ক্ষমতায় থাকলে আন্দোলনের বস্তুগত পরিস্থিতি খুঁজে পাওয়া যায় না। জনগণের সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশে ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের যে ইস্যু খুঁজে পাওয়া যায় না, বিএনপির সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া উচিত।

যৌথসভায় প্রারম্ভিক বক্তব্যে জার্মানিতে নিরাপত্তা সম্মেলনে বাংলাদেশের উপস্থিতির বিষয়ে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য বিরাট সম্মান বয়ে এনেছেন। আজকে গণতান্ত্রিক বিশ্ব বাংলাদেশের গুরুত্ব নিঃসঙ্কোচে মেনে নিয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানটা আমাদের শত্রুতার জন্য অনেকের উর্বর ক্ষেত্র। বঙ্গোপসাগর, সেন্টমার্টিনের প্রতি লোভাতুর দৃষ্টি অনেকে বাজপাখির রয়েছে। তবে শেখ হাসিনার সরকার ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি সাফল্যের দিকে নিয়ে গেছেন।

এ সময় দলের মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি নতুন করে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের দলীয় সভাপতির নির্দেশনা জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন শাখার সম্মেলন, সহযোগী সংগঠনের প্রত্যেকের অসমাপ্ত সম্মেলন, কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় বিলম্বসহ সাংগঠনিক সমস্যার সমাধান করা জরুরি। বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্তরা সব শাখাগুলোকে ঢাকায় ডেকে বসতে পারেন। সমস্যা ও বিরোধ থাকলে তা সমাধানে অনতিবিলম্বে কাজ শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডাক্তার মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

কুবির প্রত্নতত্ত্ব সপ্তাহের পর্দা নামলো জমকালো সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মধ্য দিয়ে

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পুরস্কার বিতরণ ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দশ বছর পূর্তি উদযাপন ও প্রত্নতত্ত্ব সপ্তাহের।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় এ সমাপনী অনুষ্ঠান। এদিন প্রত্নতত্ত্ব সপ্তাহে খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক এন.এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাছান খান, বিভাগীয় প্রধান ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জুড়ে ছিলো নাচ-গান, নৃত্য, মোঘল সাম্রাজ্যের আদলে ফ্যাশন শো, লালমাই ময়নামতি এলাকার মিথ নিয়ে নাটিকা, ডকুমেন্টারি, কাওয়ালি, কাপল ড্যান্স, লোকসংগীত, মুখাভিনয়, র‍্যাপ গান, পুতুল না ও একক সংগীতানুষ্ঠান নানা আয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক সাথী রানী কুন্ডু, শারমিন রেজওয়ানা, শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, মুতাসিম বিল্লাহ, রেজোয়ানা আফরিন রূম্পা সহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। এছাড়া টাইটেল স্পন্সর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাউথ ইস্ট ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

কোনভাবেই অবৈধ দখলদারদের সুযোগ দেয়া হবে না : রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেছেন, চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনাকে কোন ধরণের পরিবর্তন না করে প্রাকৃতিকভাবে থাকা স্থানটিকে আরো সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে। এখানে যেসব গাছ আছে সেগুলো থাকবে এবং আরো নতুন করে শ্রীবৃদ্ধির জন্য গাছ লাগানো হবে। এছাড়াও সবুজায়ন করার লক্ষ্যে এখানকার ভূমিতে ঘাস লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সাথে এখানে হাঁটার জন্য ফুটপাত তৈরী এবং ক্যাফেটেরিয়া থাকবে। যাতে করে আগত দর্শনার্থীদের বিভিন্নভাবে সেবা প্রদান করা যায়।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর রেলস্টেশনের অবকাঠামসহ তিন নদীর মোহনার উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তিন নদীর মোহনায় যে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা। এটাকে একটি নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে আনা। অর্থাৎ চাঁদপুরবাসী যেন সেখানে অবসর সময় কাটানো এবং বিনোদন উপভোগ করতে পারে। এসব উন্নয়নে কি পরিমান অর্থ বরাদ্দ হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ এই মুহুর্তে বলতে পারছি না। তবে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে। উন্নয়নের চাহিদার আলোকে ধাপে ধাপে বরাদ্দ এবং ব্যয় হবে।

মহাব্যবস্থাপক বলেন, রেলওয়ের অবকাঠামগত উন্নয়ন কাজগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে নিয়মিত কাজ। তারই অংশ হিসেবে চাঁদপুরে আসা। এখানে আমাদের বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ চলমান আছে সেগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। আর এখানে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলোকে পরবর্তীতে কি প্রদক্ষেপ নেয়া যায় সে পরিকল্পনাও করা হবে।

চাঁদপুর-কক্সবাজার ট্রেন চালু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের যে পরিকল্পনা অর্থাৎ যাত্রীদের চাহিদার আলোকে ট্রেনের সময় সূচি র্নিধারণ করি। এটি আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে ভবিষ্যতে এই রুট বর্ধিত করতে পারি। তবে দীর্ঘদিন যেহেতু চাঁদপুর-চট্টগ্রাম যাত্রী চলাচল করছে, সেখানে হুট করে চাঁদপুর থেকে কক্সবাজার ট্রেন চালু করলে চট্টগ্রামের যাত্রীদের আসন কিভাবে দেয়া হবে। এছাড়া একটি নতুন রুট চালু করার জন্য নতুন ইঞ্জিন ও লোকমাস্টারের প্রয়োজন আছে। এটির সাথে অনেক কিছু জড়িত আছে।

তিনি আরও বলেন, কবে থেকে চাঁদপুর-কক্সবাজার ট্রেন চালু হবে এটা এখনই বলতে পারছি না। তবে আমাদের কক্সবাজার স্টেশনের কাজ এখন শেষ পর্যায়। সেখানে কিছু ব্রিজ ও অবকাঠামগত কাজ চলমান। সবকিছু শেষ হওয়ার পর আমরা আশাবাদি অচিরেই চাঁদপুর-চট্টগ্রাম ট্রেন চালু হতে পারে।

চাঁদপুর-চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আরো আধুনিক করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ট্রেনটিতে এখন যাত্রীদের কোন ধরণের সমস্যা হচ্ছে না। এটি আধুনিক করা হবে, তবে সময় লাগবে। কারণ পদ্মা সেতু নির্মাণের পরে লঞ্চে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা যাত্রী সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তা আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি। তবে আমরা সব সময় যাত্রীর চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসলে রেল লাইনের পাশে থাকা শহরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে ফেলা হয়। কর্মকর্তারা চলে গেলে আবারও বসানো হয়। এসব বিষয়ে কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মহাব্যবস্থাপক বলেন, চট্টগ্রাম থেকে রেল লাইনে চাঁদপুরের দুরুত্ব ১৬০ কিলোমিটার। সেখান থেকে এসে এসব অবৈধ স্থাপনা আমরা নিয়মিত তদারকি কিংবা উচ্ছেদ করতে পারব না। এখানকার স্থানীয় প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকরা এগিয়ে না আসলে আমাদের একার পক্ষে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তারপরেও আমাদের পরিকল্পনা আছে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলওয়ের সম্পত্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনা। কোনভাবেই অবৈধ দখলদারদের সুযোগ দেয়া হবে না।

বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম, প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী, বিভাগীয় প্রকৌশলী (১) মো. হানিফ, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তারেক মো. ইমরান, সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ ও পূর্ত) লাকসাম মো. লিয়াকত আলী মজুমদার, রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগের চীফ ইনচার্জ মো. সালামত উল্লাহ, চাঁদপুর স্টেশন মাষ্টার (ভারপ্রাপ্ত) সোয়াইবুর শিকদার এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মহাব্যবস্থাপকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা তিন নদীর মোহনাসহ স্টেশনের উন্নয়ন কাজ ও অবৈধ স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন।

শৈশবের ক্লাবকে হারতে দেননি লিওনেল মেসি!

ডেস্ক রিপোর্ট:

লিওনেল মেসি, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে পরিচিত নাম। তবে বর্তমানে যে নামটি পুরো বিশ্বে এক ডাকে সবাই চিনে সেই নামের শুরুটা কিন্তু হয়েছিল আর্জেন্টিনার অখ্যাত এক ক্লাবে। শৈশবের সেই ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আজ মৌসুমের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ মাঠে নেমেছিল মেসির বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামি। আজকের ম্যাচ তাই মেসির জন্য ছিল বিশেষ, যেন অতীত ও বর্তমানের এক যুগল বন্দী। সেই যুগল বন্দীতে জয় পেল না কোন ক্লাবই। ডিআরভি পিএনকে স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়।

এমনিতেই লিওনেল মেসির মায়ামির হয়ে প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি ভালো কাঁটেনি। ইনজুরির কারণে ঠিক সেভাবে নিয়মিত ছিলেন না মায়ামি একাদশে। তার উপর হংকংয়ে না খেলে জন্ম দিয়েছেন বিতর্কেরও। তাই সন্দেহ ছিল শৈশবের ক্লাবের বিপক্ষে মেসি নামবেন কি না। তবে মাঠে নামার আগের দিনই নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের আরেক সাবেক এবং বর্তমানে মায়ামির কোচ টাটা মার্টিনো জানিয়ে দেন এই ম্যাচে শুরুর একাদশেই খেলবেন মেসি।

তবে মেসির চেয়ে টাটা মার্টিনো কিন্তু নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের বেশি কাছের। দলটিতে খেলার পাশাপাশি তিনি ওল্ড বয়েজের হয়ে লিগ শিরোপা জিতেছেন, জিতিয়েছেন কোচ হিসেবেও। আর আজ তাদের বিপক্ষেই খেলল মার্টিনোর দল।

ম্যাচেজুড়ে বল দখলে আধিপত্য ছিল মায়ামির। তবে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ওল্ড বয়েজ। প্রথম হাফে কোন দলই গোল করতে পারেনি। তবে ম্যাচের ৬৪ মিনিটে এগিয়ে যায় মায়ামি। তবে বর্তমান দলের গোলের আগেই অবশ্য মেসিকে উঠিয়ে নেন কোচ। ৬০ মিনিট খেলে কিছু গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি, তবে তা কাজে লাগাতে পারেননি।

শ্যানিডার বোর্গেলিন মায়ামিকে লিড এনে দেন। মাঠে নামার চার মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে গোল করেন তিনি। তবে নিওয়েলস ম্যাচে ফিরতেও বেশি সময় নেয়নি। ৮৩ মিনিটে মায়ামি রক্ষণের ভুল কাজে লাগিয়ে ১২ গজ দূরত্ব থেকে গোল করেন দিয়াজ।

মাঝে মেসিকে খুব কাছ থেকে দেখতে এক দর্শক মাঠে নেমে এসেছিলো। তবে নিরাপত্তাকর্মীরা থামিয়ে দেন। এটি ছিল মায়ামির শেষ প্রীতি ম্যাচ। মেসি-সুয়ারেজদের নিয়ে গড়া মায়ামির প্রাক-মৌসুমটা ভালো কাটেনি। ৭টি ম্যাচ খেলে মায়ামি জয় পেয়েছে মাত্র এক ম্যাচে। ৪টিতে হেরেছে মেসির দল আর ড্র করেছে দুটিতে।

কুবিসাসের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক সমিতির (কুবিসাস) এর ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রকাশনা উৎসব ও কার্যনির্বাহী পরিষদ-২০২৪ এর দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় বিজ্ঞান অনুষদের হলরুমে ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে কেক কেটে অনুষ্ঠানটি শুরু করেন প্রধান অতিথি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী কমিটি-২০২৩ এর সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইউসুফ আকাশের সঞ্চালনায় এবং সভাপতি মুহা. মহিউদ্দীন মাহি’র সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ও প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ কমিটির সভাপতি ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী ও পিআইবি এর প্রশাসন পরিচালক মো: জাকির হোসেন।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির স্লোগান “সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল”। তবে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা এত সহজ না। এটা ফেব্রুয়ারি মাস বাঙালির জীবনে একটা মাহেন্দ্রক্ষণ। আড়ায় হাজার বছরের বাঙালির যে ইতিহাস সেই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম সময় ১৯৪৮ ও ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করার। সত্যের পথে অবিচল থাকতে।

তিনি আরও বলেন, ভালো-মন্দ পাশাপাশি থাকে। সেখানে থেকে আমাদের ভালোকে বেছে নিতে হবে। আজ কুবিসাস’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। যেটা একটা গৌরবের দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছরের যে অর্জন রয়েছে। সেই অর্জনের পিছনে সাংবাদিকদের অনেক অবদান রয়েছে। আমাদের বড় বড় অর্জনগুলো জাতি জানতে পারে সাংবাদিকদের মাধ্যমে। তিনি আরোও আহ্বান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংগতি ও সাফল্যগুলো তুলে ধরতে।

প্রধান আলোচক ও পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেন, দুর্নীতি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি আলোচনায় আসেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। বর্তমানে শুধু এই উপাচার্য নয়, অনেক উপাচার্যের এমন ঘটনা রয়েছে। মূলত মেধাবীরা উপাচার্যের পদে আসতে চায় না। যার কারণে বর্তমানে এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিককে বহিষ্কার খুবই নিন্দনীয় একটি ঘটনা। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব সমাজেও পড়বে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা এমন থাকবেই তবুও আপনাদের কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের ঝুঁকি নিতেই হবে। সাংবাদিকদের কিছু কিছু বিষয়ে অ্যাক্টিভিসস্ট হতে হবে। কেননা সাংবাদিকরা জনগণের জনমত তৈরি করে।

কুবিসাসের সভাপতি মহিউদ্দিন মাহি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির যাত্রা শুরু হয়। কুবিসাসের এক দশকের পথ চলা সবসময় প্রতিবন্ধকতা ছিল। বিভিন্ন সময় সমিতির সদস্যদের হুমকি ধামকি দিয়ে আসা হতো। এমনকি বন্দুক দিয়ে মাথায় খুলি উড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। তবুও সমিতির কোনো সদস্য কারো কাছে মাথা নত করেনি। গতবছর আমাদের এক সহকর্মীকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে তবুও আমরা কোথাও আপস করি নাই। সমিতির সদস্যরা সবসময় দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে।

আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মাহামুদুল হাসান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এন এম রবিউল আউয়াল চৌধুরী,
সাবেক রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেব, অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মো. শামিমুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, সহকারী অধ্যাপক মো. মুর্শেদ রায়হান, সহকারী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক মাসুম, সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ রাজু, প্রভাষক সোহরাব হুসাইন, প্রভাষক মো. কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধি প্রতিনিধি আবু মুসা, আমাদের কুমিল্লার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাহজাদা এমরান, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের তানভীর দীপু, দৈনিক বাংলা প্রতিনিধি মাহফুজ নান্টু, এটিএন নিউজের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কুমিল্লায় পাসপোর্ট করতে এসে রোহিঙ্গা যুবক আটক

শাহ ইমরান:

কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ভুয়া পরিচয়ে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লাতে পাসপোর্ট করতে এসে ইয়াছিন (১৯) নামে রোহিঙ্গা যুব আটক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কাগজপত্র জমা দিয়ে আঙ্গুলে ছাপ দিতে গেলে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়।

পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক রোহিঙ্গা মিয়ানমারের বলিবাজার এলাকার সৈয়দ হোসেনের ছেলে। ইয়াছির মিয়ানমার থেকে ২০ দিন আগে কক্সবাজার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-৯ থাকতেন।

কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার পশ্চিম ঘোড়াশাল ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জাকির হোসেন ও হাসিনা বেগমের ছেলে হিসেবে জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে পাসপোর্ট করতে আসেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে রোহিঙ্গা হিসেবে সন্দেহ হলে তাদের নাম-ঠিকানা জিজ্ঞেস করা হয়। তবে তারা তা সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

পরে তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর নিশ্চিত হয় তারা রোহিঙ্গা।

এ বিষয়ে রোহিঙ্গা ইয়াছিরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সে কক্সবাজার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসে। মিয়ানমারে বলিবাজারে থাকা তার চাচাতো ভাই ওসমান কুমিল্লা পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন মদিনা ট্রাভেলসের হাসান মাহমুদ ও মোশাররফ নামে ২ দালালের কাছে পাসপোর্ট করে দিবে বলে কন্টাক্ট করে। রোহিঙ্গা ইয়াছিরের সব কাগজপত্র হাসান মাহমুদ ও মোশাররফ তৈরি করে দেয়।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া জানান, এক রোহিঙ্গা যুবক সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এসে ভুয়া পরিচয়ে পাসপোর্ট করতে চেয়েছিলেন। এ সময় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তারা কীভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করেছেন এ বিষয়টি পুলিশ দেখছে।

৬৪ জেলার ভাষা ও একুশে ফেব্রুয়ারির থিমে কুমিল্লার দত্ত বাড়ির সরস্বতী পূজা উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার:

সরস্বতী  পূজা হিন্দু ধর্মালম্বীদের বিদ্যার দেবী। শিক্ষার্থীদের কাছে এই পূজার মাহাত্ম্য অনেক বেশি। বাংলাদেশ ভারতে বাড়িতে বাড়িতে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেশ জাকজমকপূর্ণভাবে এ পূজা পালিত হয়।

তবে কুমিল্লা নগরীর দত্ত বাড়ির সরস্বতী পূজা উদযাপনে থাকে বিভিন্ন ভিন্নতা। প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে এ পূজার আয়োজন করা হয়। যা বেশ আকর্ষণীয়, মনোমুগ্ধকর ও শিক্ষনীয়। তারই ধারাবাহিকতায় দত্ত বাড়ির পুজোর ১৭ বছরে এবারের আয়োজন ৬৪ এর ভিন্নতায় আমরা এক। এই থিমে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার আঞ্চলিক ভাষা এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিকথা খুব সুন্দরভাবে দূলর্ভ কিছুর ছবির কোলাজে ফুটানো হয়েছে।

পূজা উদযাপনের পাশাপাশি বিভিন্ন থিমকে সবার সামনে ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা দত্ত বাড়ির পূজা উদযাপনের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ডাক্তার অঙ্কুর দত্তের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল কৃষ্ণ দত্ত ওই বাড়িতে স্থাপিত শহীদ মিনারে ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দিয়ে পূজার উদ্বোধন করেন।

দত্ত বাড়ির পুজোর আয়োজকদের পক্ষ থেকে ডা: অংকুর দত্ত বলেন, তরুণ প্রজন্মের কাছে মা সরস্বতীর আরাধনার পাশাপাশি নিজ ভাষা ও ঐতিহ্য, আঞ্চলিক ভাষাকে পরিচয় করাটাই এই পুজোর লক্ষ্য।

পূজা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের বেশ আনন্দিত দেখা যায়। তারা মনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে জানান, এ পূজা শিক্ষার্থীদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে আরো অলংকিত ও পূর্ণতা দিয়েছে ৬৪ জেলার সাংস্কৃতিক এবং মহান একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য তুলে ধরে। এর জন্য ডা: অংকুর দত্ত প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে।

এ পুজোর ভাবনায় ছিলেন ডা: অংকুর দত্ত, সৃজনে ডা: স্বস্তি সেনগুপ্তা, শিল্পে সহায়তা করেছেন ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী অনুপম ধর, সহযোগিতায় ছিলেন পৃথুল দত্ত,নিরনজন দাস, অর্না,অর্পা,পার্থিব,জয়, জয়ন্ত, সুজয়,প্রত্যয়,কৃপা। ইভেন্টে ছিল নকশা।

কুমিল্লায় দিনমজুর হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, অপরজনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দিনমজুর জাহাঙ্গীর হত্যার দায়ে এক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও অপরজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা ও জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক ফরিদা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত লিটন (২৮) জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমানগণ্ডা শালুকিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুস সোবহান তুফান (৩০) একই উপজেলার ঘোলপাশা গ্রামের মৃত হেলাল মিয়া ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবদুস সোবহান তুফান উপস্থিত থাকলেও লিটন পলাতক ছিলেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১২ সালের ৩১ জুলাই দিনের বেলায় আসামি লিটনের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের বাগবিতণ্ডা হয়। রমজান মাস হওয়াতে একসঙ্গে ইফতার করে কর্মস্থল চৌদ্দগ্রামের আমানগণ্ডা মৎস্য প্রকল্পের টিনশেড ঘরে ঘুমাতে আসেন। সঙ্গে আনেন সেহেরির