All posts by jitu

যেখানেই অনিয়মের অভিযোগ সেখানেই তাৎক্ষণিক অ্যাকশন : ইসি রাশেদা

ডেস্ক রিপোর্ট:

আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রাশেদা সুলতানা বলেছেন, যেখানেই অনিয়মের অভিযোগ আসবে সেখানেই আমরা তাৎক্ষণিক অ্যাকশন গ্রহণ করব।

বুধবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদা সুলতানা বলেন, আমি মনে করি, নির্বাচনের মাঠ আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। কোনো অনিয়ম পেলে আপনারা (সাংবাদিক) ছবি তোলেন, প্রমাণ দেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন নেব। যেখানেই অনিয়ম সেখানেই আমাদের অ্যাকশন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কারণে প্রার্থিতা বাতিলের মতো ঘটনাও ঘটেছে। আপনারা দেখেছেন এর আগে আমরা গাইবান্ধায় ভোটও বন্ধ করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের যত আয়োজন, সব নির্বাচন ঘিরেই। তাই নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখতে আজ থেকে সেনাবাহিনীকে নামানো হয়েছে। শুধু সেনাবাহিনী নয়, আমাদের যত বাহিনী আছে সবই এখন সুশৃঙ্খল ও উন্নত হয়েছে।

ভোটের পরিবেশ কেমন হবে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোট এখন যেটা হচ্ছে সেটা উৎসবমুখর ও সুন্দর হবে, এটা আমি বলতে পারি। ১৯৯৬ সালে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হওয়ার কারণে সেই নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তাই আমরা এবারের নির্বাচনে কোনো বিতর্ক তৈরি করতে চাই না। আমরা আমাদের জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। ভালো নির্বাচন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মিডিয়া, পত্রিকা দেখে আমার মনে হচ্ছে সরকার চাইছে একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন হোক।

ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কেমন হবে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদা সুলতানা বলেন, আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার বিষয়টি। সেজন্য বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা প্রচার করে যাচ্ছি। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের প্রাণ, ভোটাররা না থাকলে নির্বাচন নিষ্প্রাণ হয়ে যাবে। তবে আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব তথ্য পাচ্ছি তাতে আমরা আশাবাদী ভোটকেন্দ্রে অনেক ভোটার আসবে।

একটি বড় দলের (বিএনপি) নির্বাচনে না আসার বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলগুলোর জন্য ভোটে আসা না আসা তাদের স্বাধীন ইচ্ছা। কিন্তু সেজন্য তো ভোট থেমে থাকবে না। আর ভোটকে কোনোভাবে প্রতিহত করা যাবে না এবং কোনো নাশকতামূলক কাজ করা যাবে না। এগুলো যদি তারা করে, তাহলে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। তবে সব দল নির্বাচনে এলে একটা স্বস্তির বিষয় হতো, একটা উৎসবের বিষয় থাকত। এখন সেটা অতটা নেই সেটা তো আর অস্বীকার করার কিছু নেই।

১৮৬ বিদেশিকে ভোট পর্যবেক্ষণের অনুমোদন নির্বাচন কমিশনের

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের আগে পরে পর্যবেক্ষণ করার জন্য ১৮৬ জন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিককে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের মধ্যে ১২৭ জন হলেন পর্যবেক্ষক আর ৫৯ জন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী।

ইসির একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইউরোপিয় ইউনিয়নের চার জন, যুক্তরাষ্ট্রের আইআরআই এবং এনডিআই’র ১২ জন, সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের (এসএডিএফ) ছয় জন, দক্ষিণ কোরিয়ার এইচএল গ্রুপের একজন, এসএনএএস আফ্রিকার দুই জন, মুসলিম কমিশন নেপালের দুই জন যুক্তরাষ্ট্রের বিরনি ল পিএলএলসি-এর এক জন, আফ্রিকা হাউজ লন্ডনের দুই জন, বি স্ট্রাটেজিক পার্টনার’র (ব্রিটিশ) একজন, ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন অরগানাইজেশ’র (জাপান) একজন, মুতাশ ক্রিয়েট রিসার্চ’র (জাপান) এক জন, ইলেকশন মনিটরিং ফোরামের (ভারত) এক জন, শ্রীলঙ্কার মেম্বার অব পার্লামেন্ট এক জন, অস্ট্রেলিয়ান এক রিসার্চার ও ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম এর যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিক।

এছাড়াও জাপানের এক নাগরিক, মালদ্বীপের অ্যাসোসিয়েশন অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল লিং-এর তিন জন, ব্রিটিশ হাইকমিশন-ঢাকার ১০ জন, ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক কো-অপারেটিভ অরগানাইজেশনের (থাইল্যান্ড) একজন, ভিটেম ফাউন্ডেশন পোল্যান্ড’র একজন, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন, ইন্টারন্যাশনাল পার্লামেন্টারিয়ানস কংগ্রেসে’র দুই জন, আমেনিকান গ্লোবাল স্ট্র্যাটিজিস’র একজন, আমেরিকার এক জন ব্যবসায়ী, অ্যাম্বাসি অব জাপানের ১৭ জন, আফ্রিকান ইলেকটোরাল অ্যালাইয়েন্সের ১২ জন, ব্রিটেনের পার্লামেন্টের দুই জন, ভারতের এক নাগরিক, এসএনএএস আফ্রিকা’র একজন, নেপাল সরকার ও বিভিন্ন দলের পাঁচ জন, নেপালের দীপেন্দ্র কন্ডেল ইনিশিয়েটিভ’র তিন জন, মালয়েশিয়ার তিন বিশিষ্ট জন, দি গোল্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি’র তিন আমেরিকান, ইআরপি ট্রেডি লিমিটেড’র নরওয়ের এক জন, অ্যালায়েন্স ফর হিউম্যানিটি’র এক জন ইরাকি, এক জন কানাডিয়ান নাগরিক ও জিবিপি ইন্টারন্যাশনাল জার্মানির একজনও সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

৫৯ সাংবাদিকের মধ্যে রয়েছেন, আমেরিকার একজন, ইই্উ রিপোর্টার, এক জন বিট্রিশ, জার্মানির জুঙ্গে ফ্রেইহেট’র একজন, দি দিল্লি টেলিভিশন লিমিটেড’র দুই জন, জাপানের দি ইয়োমিরি সিমবান’র একজন, ভারতের আজকাল’র এক জন, জাপানের কিওডু নিউজ’র এক জন, ভারতের দি অ্যাসোসিয়েট প্রেস’র তিন জন, ভারতের দি প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া’র দুই জন, জার্মানির এআরডি জার্মান রেডিও’র দুই জন ও ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকা’র একজন।

জাপানের নাইকিই আইএনসি, জিজি প্রেস ও এনএইচকে (জাপান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন) এর পাঁচ জন; নেপালের কেন্দ্রবিন্দু অনলাইন পিটিবি লিমিটেড’র একজন; ভারতের ডিএসটিভি দার্জিলিং-এর একজন, উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর একজন, দি টেলিগ্রাফ’র এক জন, এএনআই’র এক জন, এবিপি নিউজ’র দুই জন, আজকাল পা্বলিশার্স লিমিটেডে’র একজন, এবিপি নেটওয়ার্ক’র দুই জন, এএনএম নিউজ প্রাইভেট লিমিটেড’র এক জন ও জি মিডিয়া’র দুই জন; বিবিসি নিউজ (ভারতীয় ও আমেরিকান) চার জন; এরাইজ নিউজ’র এক বিট্রিশ; ফ্রান্সের প্যারিস লা মন্ডে’র একজন; সুইডিশ রেডিও-এর এক জন; অ্যাজেন্সি ফ্রান্স প্রেস’র (এএফপি) সাত জন; রয়টার্সের দুই ভারতীয়; আল জাজিরার এক ব্রিটিশ; অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের এক জন; চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্কে দুই ভারতীয়; এআরডি জার্মান টিভি’র এক ভারতীয়; কলকাতার সংবাদ প্রতিদিন’র একজন; দি ওয়াল কলকাতা’র এক জন; ব্রিটিশ এক ফ্রিল্যান্সার ও বিলজিয়ান এক জন সাংবাদিককে ভোট দেখার অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন দেখতে দেশি ২০ হাজার ৭৭৩ জন পর্যবেক্ষককেও অনুমোদন দিয়েছে ইসি। কেন্দ্রীয় ভাবে ৪০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ৫১৭ জন এবংস্থানীয় ভাবে ৮৪টি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ২০, ২৫৬ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করবে।

সূত্র: জাগোনিউজ২৪

জাপানে ভূমিকম্পে নিহত সংখ্যা বেড়ে ৬২

ডেস্ক রিপোর্ট:

পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানে নতুন বছরের প্রথম দিনে আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর পর থেকে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত নিহত মানুষের সংখ্যা ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর এএফপির।

বুধবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবারের শক্তিশালী ভূমিকম্পের জেরে জাপানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধারকারীরা বেঁচে যাওয়াদের সন্ধানে বুধবারও মরিয়া হয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন।

গত সোমবার জাপানের ইশিকাওয়া অঞ্চলটি ছিল ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল, যার ফলে সমুদ্রে বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় এবং বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় সময় ৪টা ১০ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পটি হোনশু দ্বীপের নোটো প্রদেশে আঘাত করলে সেখানকার কর্মকর্তারা উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এই ভূমিকম্পে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো অজানা, তবে বেশ কয়েকটি শহরে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কিছু মানুষ আটকাও পড়েছেন।

এএফপি বলছে, ইশিকাওয়া অঞ্চলের নোটো প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। সেখানে শত শত বিল্ডিং আগুনে পুড়ে গেছে এবং ঘরবাড়ি মাটিতে মিশে গেছে।

আঞ্চলিক সরকার মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৬২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

তবে আফটারশক এবং খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারীরা। ৩১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন বলেও জানিয়েছে তারা।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, জাপানের হোনশু দ্বীপের ইশিকাওয়া প্রিফেকচারে আঘাত হানা ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৫।

তবে জাপানি কর্তৃপক্ষ এই কম্পনকে ৭.৬ মাত্রার বলে অভিহিত করেছে। দেশটি বলেছে, গত সোমবার থেকে জাপানে ২১০টিরও বেশি ভূমিকম্প হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাপান প্রতি বছর শত শত ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়ে থাকে এবং দেশটির জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই এতে কোনো ক্ষতির শিকার হয় না। তবে ২০১৮ সাল থেকে নোটো উপদ্বীপ অঞ্চলে ভূমিকম্পের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে গত বছর জাপান সরকারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন সশস্ত্র বাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে মাঠে নেমেছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।

বুধবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে তারা মাঠে নেমেছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে বুধবার থেকে মাঠে নেমেছে সশস্ত্র বাহিনী।

এর আগে মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সশস্ত্র বাহিনী ভোটগ্রহণের আগে, ভোটগ্রহণের দিন ও ভোটগ্রহণের পরে শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ৩-১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন/স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি জেলা/উপজেলা/মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধক্রমে ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাহিনীগুলো এলাকাভিত্তিক মোতায়েন সম্পন্ন করছে।

সেনাবাহিনী ৬২টি জেলায় নিয়োজিত হয়েছে জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সমতলে সীমান্তবর্তী ৪৫ উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া সীমান্তবর্তী ৪৭টি উপজেলায় সেনাবাহিনী বিজিবির সঙ্গে এবং উপকূলীয় ৪টি উপজেলায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় দুটি জেলাসহ (ভোলা ও বরগুনা) সর্বমোট ১৯টি উপজেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় হেলিকপ্টার সহায়তা দেবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে নির্বাচনী সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ সমন্বয় সেল স্থাপন করা হয়েছে, যা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

নির্বাচন উপলক্ষ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক আবেদনে ১৯ সেবা পাবে

ডেস্ক রিপোর্ট:

সার্টিফিকেট, মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট, অ্যাডমিট কার্ডসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত ১৯ সেবা এখন থেকে একই আবেদনে গ্রহণ করতে পারবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ঘরে বসে মোবাইলের মাধ্যমে ফি জমা দিতে পারবে। কোনো শিক্ষার্থীকে ফি জমা দিতে ব্যাংকে যেতে হবে না। এর ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী তার কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন। শুধু তাই নয়, যে বিষয়ে আবেদন করা হবে তা প্রস্তুত হলে অটো এসএমএস চলে যাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বরে ও মেইল আইডিতে।

২ জানুয়ারি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে আমরা নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরীক্ষা সংক্রান্ত সেবাগুলো যেন শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে এক আবেদনে পেতে পারে, সে জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত সেবা আধুনিকায়ন করা হয়েছে। দ্রুত ও স্বল্প মূল্যে সেবা প্রদানের জন্য নতুন সফটওয়্যার ডেভেলাপ করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অল্প সময়ের মধ্যে সেবা পাবে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী— ১৯ সেবা একই আবেদনে পেতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (www.nu.ac.bd) প্রবেশ করে সার্ভিস মেন্যুতে ক্লিক করে স্টুডেন্ট লগ ইনে গিয়ে এক্সামিনেশন সার্ভিস মেন্যুতে যেতে হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে কম্বাইন্ড সার্ভিস মেন্যুতে ক্লিক করে ডকুমেন্টস কারেকশন মেন্যুতে ক্লিক করে ৬টি সেবা একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারবে। এই সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে- অ্যাডমিট কার্ড, প্রফেশনাল সার্টিফিকেট, মার্কশিট, অরিজিনাল সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট, ট্রান্সক্রিপ্ট (দ্বিতীয় বার)।

ডকুমেন্টস ডুপ্লিকেট মেন্যুতে ক্লিক করে চার সেবা গ্রহণ করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে- অ্যাডমিট কার্ড, প্রফেশনাল সার্টিফিকেট, মার্কশিট, অরজিনাল সার্টিফিকেট।

একইভাবে ইমপ্রুভমেন্ট মেন্যুতে ক্লিক করে দুই সেবা নিতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে- মার্কশিট, সার্টিফিকেট।

ট্রান্সলেশন মেন্যুতে ক্লিক করে নিতে পারবেন তিন সেবা। এর মধ্যে রয়েছে- অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, প্রফেশনাল সার্টিফিকেট।

ফ্রেশ কপি মেন্যুতে ক্লিক করে নিতে পারবেন চার সেবা। এর মধ্যে রয়েছে- অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট, প্রফেশনাল সার্টিফিকেট, অরিজিনাল সার্টিফিকেট। এই সেবাগুলো একজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে নিতে পারবে। আবার আগের মতো আলাদাভাবেও সেবা গ্রহণ করতে পারবে। তবে, একসঙ্গে আবেদন করলে অর্থ এবং সময় উভয় দিক থেকেই সাশ্রয় হবে।

পরীক্ষা সংক্রান্ত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম, স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন, তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি) দপ্তরের পরিচালক মো. মুমিনুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান, কলেজ পরিদর্শক ফাহিমা সুলতানা, ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন সেলের সচিব ড. আলী জাফর চৌধুরী।

আইপিএল খেলতে না পারায় হতাশ তাসকিন আহমেদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিশ্বের বেশিরভাগ ক্রিকেটার এখন ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিজেদের নাম লেখাতে উদগ্রীব হয়ে থাকে আর সেটি যদি হয় আইপিএল তাহলে সেই আগ্রহ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ফ্রাঞ্চাইজি লিগে কয়েকবার খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ। বারবার সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আপত্তিতে চুক্তি করতে পারেননি এই পেসার। একই কারণে এবার আইপিএল নিলামে নাম দিয়েও শেষ মুহূর্তে সরিয়ে নিয়েছেন। বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও আইপিএলে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ তাসকিন আহমেদ।

আইপিএলে স্বাভাবিকভাবেই টাকার ঝনঝনানি থাকে যা যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্যই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তাসকিনের ক্ষেত্রেও আর্থিক দিকটা বিবেচনায় থাকবে অবশ্যই। আইপিএলে না খেলতে পারা প্রসঙ্গে তাসকিন জানান, ‘এ নিয়ে তিনবার সুযোগ এলো (আইপিএলে), এবারও মিস হলো। একটু খারাপ লাগে কারণ খেলোয়াড় হিসেবে সবারই ইচ্ছে সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে অংশগ্রহণ করার। শুধু আইপিএল না, বিভিন্ন লিগ থেকেই অফার আসে।’

বোর্ডের অনুমতিপত্র না দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘বোর্ড আসলে ছাড়পত্র দিতে চায় না বিভিন্ন কারণে। খেলাও থাকে, স্বাস্থ্যের ইস্যু আছে। এবারও বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছে বিবেচনা করবে। কিন্তু অবশ্যই ভালো লাগে না এরকম ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মিস করতে। সবারই খেলার ইচ্ছে, আমারও। একই রকম আশা নিয়ে আছি যে ভবিষ্যতে আবার হবে।’

অনেকদিন থেকে ইনজুরিতে থাকা এই পেসার নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেন। জানান তার ফেরার পরিকল্পনাও, ‘আল্লাহ্‌র রহমতে আগের চেয়ে ভালো। কাঁধে একটু সমস্যা হয়েছিল। এখন মাশাআল্লাহ্‌ আগের চেয়ে ভালো। বিপিএলটাই লক্ষ্য, বিপিএল দিয়ে আবার শুরু করার। তো ইচ্ছা আছে নতুন বছরের শুরুটা আবার ভালো হোক।’

প্রতিভাবান এই পেসার কথা বলেন নিউজিল্যান্ড সফরে টাইগারদের পারফরম্যান্স নিয়েও। জানালেন কিউই মাটিতে প্রথম জয় উপভোগ করার কথা সেই সঙ্গে জয়ীদলে থাকতে না পারার হতাশার কথাও বলেছেন। তিনি জানায়, ‘আমিও অনেক মিস করেছি। কারণ আমি নিউজিল্যান্ডে বোলিং করতে সবসময় খুব উপভোগ করি। কারণ সিম মুভমেন্ট খুব ভালো পাওয়া যায়। ওখানে থাকতে পারলে আমি আরও উপভোগ করতাম। জয়ের সাক্ষী হিসেবে আমিও থাকতে পারতাম। দিন শেষে আমাদেরই তো দল। সবাই আমরা একই। জিততে পারাটাই বড়। সামনে বাংলাদেশের পেস বিভাগ আরও ভালো করবে। সবাই মিলে আরও জয় উপহার দেব।’

তবে জানালেন তিনি উপভোগ করেছেন বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স। বিশেষ করে পেস বোলিং পারফরম্যান্স। ‘এটা (নিউ জিল্যান্ডে পেসারদের ভালো বোলিং) আসলে খুবই শান্তির একটা বিষয়। আমি যখন ম্যাচগুলো দেখছিলাম, সবাই এত দারুণ বোলিং করেছে! এটা খুবই স্বস্তির। দিন শেষে পেসারদের দাপটে এই প্রথম আমরা নিউ জিল্যান্ডে জয় পেয়েছি। পেসার হিসেবে এটা অনেক শান্তির’- তিনি যোগ করেন।

সূত্র: কালবেলা

পৃথিবীতে বহু নোবেল বিজয়ীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, শাস্তি ভোগ করেছেন : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবীতে বহু নোবেল বিজয়ীর বিরুদ্ধে দেশে দেশে মামলা হয়েছে। অনেকে শাস্তি ভোগ করেছেন এবং কারাগারেও ছিলেন এ ধরনের অনেক ঘটনা আছে। যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, সেই পুরস্কারের অর্থ কে কত টাকা পাবেন, এ নিয়েও নোবেল বিজয়ীরা একে অপরের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানজী পুকুর লেনের ওয়াইএনটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কারাদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী জানান, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বহু প্রশ্ন আছে। গাজায় কবরে শান্তি স্থাপন করার জন্য কখন যে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়ে দেয়, সেটিও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপর বারাক ওবামাকে যখন নোবেল শান্তি পুরস্কার দিলো, তিনি অবাক হয়ে গেলেন… বললেন, আমাকে কেন দেওয়া হলো! মালালাকে ১৪ বছর বয়সে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কোন সময় যে ১০ বছরের কাউকে দিয়ে দেয়, সেটি নিয়েও অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানায়, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আদালত দণ্ডিত করেছেন। এরপর আপিল করার শর্তে তাকে আবার জামিনও দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে বিভ্রান্তি এবং সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। এখানে সরকার কোনো পক্ষ নয়, মামলাও করেনি। মামলা করেছে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীরা। সেই মামলায় শাস্তি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রামীণ টেলিকমের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে যে, লাভের ৫ শতাংশ তার কর্মচারীদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে। এ যাবৎ কখনো তা দেওয়া হয়নি। এটি না দেওয়ায় শ্রম আইনের ৪, ৭, ৮, ১১৭ এবং ২৩৪ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করেছে শ্রমিক-কর্মচারীরা। গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষ থেকে দুইজন শ্রমিক নেতাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং দুইজন শ্রমিক নেতাকে তিন কোটি করে ছয় কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। দুজনকে ঘুষ দেওয়ার পরও টাকা না পাওয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা মামলা করেছেন। সুতরাং এখানে স্পষ্টত একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং এ কারণেই মামলা হয়েছে, শাস্তিও হয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গ্রামীণ টেলিকমের এক দশকের বেশি সময় ধরে নিয়ম ভঙ্গ, কর ফাঁকি, তার কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিল আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনুমোদিত সংস্থা থেকে তিন হাজার কোটি টাকা অপব্যবহার করার অভিযোগ আছে। ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ অনুসারে, প্রতিষ্ঠানটির এমডি সরকারের মাধ্যমে নিযুক্ত হওয়ার কথা ছিল। ১৯৯০ সালের সংশোধনী অনুসারে, এমডি নিয়োগের দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টরসে স্থানান্তরিত হয়। এই পরিচালক বোর্ডের চেয়ারম্যান ১৯৯০ সালের ১৪ আগস্ট ড. ইউনূসকে এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য অনুরোধ করেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক শর্ত সাপেক্ষে ড. ইউনূসের নিয়োগে অনাপত্তি দেয়। এগুলো হচ্ছে, এমডির চাকরির শর্তাবলি ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৪ এর ৪ ধারার প্রবিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে, পরিচালক বোর্ড অধ্যাদেশের ৩৬ ধারার অধীনে নিয়ম তৈরি করবে, যা সরকারি গেজেট প্রকাশের পর কার্যকর হবে। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুসারে, একজন এমডি ৬০ বছর বয়সের সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না। কিন্তু ড. ইউনূসের বয়স যখন ৫৯ বছর, ১৯৯৯ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত পরিচালক বোর্ড তার ৫২তম সভায় আইন ভঙ্গ করে রেজুলেশনে তাকে পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত এমডি হিসেবে নিশ্চিত করে। এটি গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের অনুচ্ছেদ ১৪ এর ৪ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তার এই নিয়োগের অসৎ উদ্দেশ্য পরে প্রমাণিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ২১ এবং ১২ এর ২ ধারা অনুসারে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডিকে একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে তার চাকরির শর্তাবলি লঙ্ঘন করেছেন। একজন পূর্ণ-সময়ের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কাজের জায়গায় তার ঘন ঘন অনুপস্থিতি ছিল এবং সেই অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন কখনো নেওয়া হয়নি। গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ও তার পরিবারের সঙ্গে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠানে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। এই সমস্ত কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, ডেভিড বার্গম্যান বাংলাদেশের রাজনীতি-নির্বাচন নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। তিনি ড. কামাল হোসেনের মেয়ের জামাই এবং একজন ইহুদি… যে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করছে। ডেভিড বার্গম্যানকে একটু জিজ্ঞেস করেন, এ নিয়ে তার কী বক্তব্য। একটি নিবন্ধন যদি সে লিখত, তাহলে আমরা তার অবস্থানটা জানতে পারতাম। ড. ইউনূসকে কখনো শহীদ মিনার কিংবা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায় না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি এককভাবে কারো নাম বলছি না, আমাদের দেশে কিছু লোক আছে, তারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না, তারা বিদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা মিশনে মিশনে পার্টিতে যায়, আবার বিভিন্ন দেশের সংস্থা থেকে অর্থ পায় এবং ট্যুরে যায়। তারা তাদের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা যেটি বলে সেটিই করে। দুর্ভাগ্য হচ্ছে, আমরা তাদের বক্তব্যগুলো ভালো করে প্রচার করি। এটা না দিলে কিন্তু তাদের বাজার মূল্যটা কমে যেত। আমরাই বাজার মূল্যটা বাড়িয়ে দেই।

বক্তৃতার দরকার নেই, এইবার ইলেকশনে ছক্কা মেরে দিও : সাকিবকে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রার্থী ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সাকিব বক্তৃতা করতে পারে না, বক্তৃতা করার দরকার নেই। তুমি শুধু বলবা- তুমি ছক্কা মারতে পারো ও উইকেট নিতে পারো।’

মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমাদের একটা রত্ন আছে। এই রত্নটা ক্রিকেট রত্ন। মাগুরা-১ আসনে আমরা এবার নমিনেশন দিয়েছি সাকিব আল হাসানকে। সে বলেছে বক্তৃতা দিতে পারে না। আমি বলেছি বক্তৃতা দেওয়ার দরকার নাই। তুমি শুধু বলবা তুমি ছক্কা মারতে পারো, আর বল করে উইকেট ফেলে দিতে পারো, তাহলেই হবে। এইবার ইলেকশনেও ছক্কা মেরে দিও।

জনসভায় মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাকিব আল হাসানসহ মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার সব আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে শেখ হাসিনা ফরিদপুর পৌঁছে সার্কিট হাউসে আসেন। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষ করে বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের জনসভায় যোগ দেন। জনসভা মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীরা তাকে স্লোগান ও অভিবাদন দিয়ে বরণ করে নেন।

নির্বাচনী নাশকতাকারীদের তথ্য দিলে পুরস্কার : পুলিশের মহাপরিদর্শক

ডেস্ক রিপোর্ট:

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, দেশবাসীকে অনুরোধ করতে চাই, যদি কারও কাছে এমন কোনো তথ্য থাকে যে, কেউ নাশকতা করবে বা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করবে, তাহলে তথ্য দিয়ে আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। যারা আমাদের নাশকতার বিষয়ে এবং নাশকতাকারীদের তথ্য দেবেন তাদের পরিচয় গোপন রাখবো এবং তাদেরকে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা পুরস্কৃত করবো। এ পুরস্কার তথ্যের মাত্রা ভেদে লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মঙ্গলবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ প্রস্তুতি আমাদের সম্পন্ন হয়েছে। অফিসারদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট প্রয়োগ করতে পারে এজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় সুন্দর সুষ্ঠু পরিবেশ রাখতেও পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে প্রার্থীদের প্রতিটি অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে।

নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে আইজিপি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সব রকম সহিংসতা রুখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে আমি যশোরবাসী ও দেশবাসীকে আহ্বান জানাতে চাই, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন, ভোট প্রয়োগ করুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।

এর আগে আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মঈনুল হকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাপানে বিমানবন্দরের রানওয়েতে সংঘর্ষের পর বিমানে আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাপানের রাজধানী টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণ করার সময় ৩ শতাধিক যাত্রী বহনকারী একটি বিমানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে (বাংলাদেশ সময় দুপুরে) এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের শিকার বিমানটি জাপান এয়ারলাইন্সের।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে বলেছে, হানেদা বিমানবন্দরে অবতরণের পর রানওয়েতে থাকা জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি বিমানের সাথে জাপান এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী ওই বিমানটির সংঘর্ষ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনএইচকের প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানের সাথে সংঘর্ষের পরপরই জাপান এয়ারলাইন্সের বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এ সময় বিমানের জানালা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

আগুন লাগার পর বিমানবন্দরের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। এ ঘটনায় বিমানের পাশাপাশি হানেদা বিমানবন্দরের রানওয়েতেও আগুন ধরে যায়। জাপান এয়ারলাইন্সের ওই বিমানে তিন শতাধিক যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এনএইচকে বলেছে, আগুন ধরে যাওয়া জাপান এয়ারলাইন্সের জেএএল-৫১৬ ফ্লাইটটি হোক্কাইডো বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল। হানেদা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

জাপানের আরেক টেলিভিশন চ্যানেল নিপ্পন টিভি বলছে, মঙ্গলবার টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরে উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি বিমানের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষের পর জাপান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে আগুন ধরে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় যাত্রীরা বিমানে ছিলেন।

জাপান এয়ারলাইন্সের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, হোক্কাইডোর শিন চিটোসে বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় ৩০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে যাত্রা করেছিল জেএএল-৫১৬। হানেদা বিমানবন্দরে বিমানটির অবতরণের সময় নির্ধারিত ছিল সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিট।

এদিকে, জাপান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিবিসি বলছে, হানেদা বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের শিকার জাপান এয়ারলাইন্সের ওই বিমানে ৩৭৯ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। তাদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটির এই বিমানসংস্থা বলেছে, ‘‘আমরা বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছি।’’

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এনএইচকে।