All posts by jitu

শাহরাস্তিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল আলম ফিরোজের পথসভা ও গণসংযোগ

ইউসুফ পাটোয়ারী লিংকন, শাহরাস্তি:

শাহরাস্তিতে (ট্রাক) প্রতিকের( স্বতন্ত্র) প্রার্থী আলহাজ্ব মো: শফিকুল আলম ফিরোজ ব্যাপক গণসংযোগ ও পথসভায় মিলিত হয়েছেন ।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় আওয়ামীলীগের দলীয় নেতাকর্মীদের বিশাল বহর নিয়ে তিনি মেহার দক্ষিণ ইউনিয়নের দেবকরা বাজার, রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের খিলাবাজার, গোলদিঘি বাজার, পৌরসভার ঠাকুর বাজার, চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের খেড়িহর বাজার, সূচীপাড়া উওর ইউনিয়ন সুচীপাড়া বাজার ও চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন উঘারিয়া মোল্লারদ্দজা বাজার বিশাল পথসভায় মিলিত হন ।

কুমিল্লা জেলা কার্ভাডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম সভাপতিত্বে ও সাবেক উপজেলা ছাএলীগ নেতা মুজাম্মেল হোসেন মারুফের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামরুজ্জামান মিন্টু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ- সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ আউয়াল মজুমদার, আওয়ামিলীগ নেতা খিজির হায়দার, পৌর আওয়ামিলীগ আহবায়ক মোঃ রেজাউল করিম মিন্টু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোহাম্মদ আদেল, চৌধুরী মোস্তফা কামাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সফিউল আজম স্বপন, আওয়ামিলীগ নেতা তোহা পাটোয়ারী, জাহাঙ্গীর আলম, তারেক হোসেন মেম্বার, টামটা উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ নেতা আলমগীর কবির পলাশ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সাধু, সাবেক ছাএনেতা হুমায়ুন কবির হিরো, মহসিন পাটোয়ারী, এফ কাদের বাবু, এমরান হোসেন, মনিরুজ্জামান শান্ত, সুমন বর্ধন, সাবেক ছাএনেতা রফিকুল ইসলাম রকি, পিযুশ দাস, ইকবাল হোসেন, আলমগীর হায়দার, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন প্রমুখ। সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ, যুবলীগ, ছাএলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চান্দিনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ি বহরে হামলা, ৩টি গাড়ি ভাঙচুর

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটুর গাড়ি বহরে হামলা চালিয়ে ৩টি গাড়ি ভাঙচুর করে নৌকা সমর্থকরা।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৬ টায় চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট মৃধা বাড়ির সামনের সড়কে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

তবে মুনতাকিম আশরাফ টিটুর গাড়িটি অক্ষতা রয়েছে।

পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডে ছায়কোট গ্রামে প্রচারণা শেষে চান্দিনা উপজেলা সদরের ফেরার পথে নৌকার স্লোগান দিয়ে নৌকার সমর্থকরা ওই ভাঙচুর চালায়। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক আহত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনজুর মোরশেদের মুঠ ফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

সারাদেশে এক লাখ ৮৯ হাজার পুলিশ মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সারাদেশে এক লাখ ৮৯ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকছেন। তারা নির্বাচনের সময় টহল দেওয়া থেকে শুরু করে স্ট্রাইকিং টিম, ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গেও ডিউটিতে থাকবেন। এমনকি ওইদিন যিনি থানার সিসি লিখবেন, তিনিও থাকবেন নির্বাচনী দায়িত্বে। এছাড়া জামিনে ছাড়া পাওয়া আসামিরাও বিশেষ নজরদারিতে আছেন।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশ সদরদপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি-অপারেশন) আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকা থেকে পুলিশ যে কোনো অভিযোগ পেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে। পুলিশের কাছে সব প্রার্থী সমান। প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পান, এর নির্দেশনা দেওয়া আছে। জামিন পাওয়া আসামিরাও পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে আছেন।

ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো অভিযোগ পেলে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আর তাদের সহযোগিতা করছে পুলিশ। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসাররা যেভাবে নিরাপত্তার নির্দেশনা দেবেন পুলিশ সেভাবে কাজ করবে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। কোনো কোনো দুর্গম এলাকার কেন্দ্রও ঝুঁকিপূর্ণ। সেগুলোর বিষয়েও বাড়তি ফোর্স দিয়ে কাজ করছে পুলিশ। পুলিশ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাত্মক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক মারামারি ও দাঙ্গা হাঙ্গামার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কোনো ঘটনার পরই মামলা হচ্ছে। পুলিশ ওইসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছে না পুলিশ। পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ এলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বদলি বা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এরপরও তদন্ত হচ্ছে ওই কর্মকর্তার বিষয়ে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে একটি পক্ষ রেলে আগুনসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। রেল পুলিশের মাধ্যমে রেলের নিরাপত্তায় বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইপি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা গ্রেফতার হয়েছেন তারা রাজনৈতিক কারণে নয়, রাজনীতি করা অপরাধ নয়। তবে কেউ যদি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যানবাহনে আগুন দেয়, ভাঙচুর করে, চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, তাহলে নির্দিষ্ট মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। সেটা না দেখে নাশকতায় সম্পৃক্ত কি না তা দেখা হচ্ছে।

বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী পক্ষের ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এ তথ্য সঠিক কি না জানতে চাইলে ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, পরোয়ানা তামিলসহ বিভিন্ন মামলা ও অভিযোগে সারাদেশে গড়ে এক হাজার ৬০০ জনের মতো গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের পদধারি সংখ্যা কত তার হিসাব আমাদের কাছে নেই। সারাদেশ থেকে তথ্য নিয়ে সে হিসাব তৈরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। কেউ ফৌজদারি অপরাধে সম্পৃক্ত হলে পুলিশ শুধু তাদেরই গ্রেফতার করছে।

নির্বাচনবিরোধী লিফলেট বিতরণে বাধা দেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ ভোট কেন্দ্রে যাবে কি না বা ভোট দেওয়া, না দেওয়ার অধিকার ভোটারের আছে। কিন্তু ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

বিভিন্ন এলাকায় বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশ সদরদপ্তরের এই ডিআইজি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান। বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও বহন নিষিদ্ধ করে একটি পরিপত্র জারি হয়েছে। নির্বাচনকালে কেউ বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন বা বহন করতে পারবেন না। আমাদের কাছে নির্দিষ্ট এলাকায় বৈধ অস্ত্র প্রদর্শনের দুটি অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে দেখেছি সেগুলো ছিল খেলনা অস্ত্র।

দাগি আসামি ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা জামিনে বেরিয়ে এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, কোনো আসামি জামিনে বেরিয়ে এলে তিনি নতুন করে অপরাধে না জড়ালে পুলিশের গ্রেফতার করার সুযোগ নেই। তবে জামিন পাওয়া আসামিদের বিষয়ে পুলিশের বিশেষ নজরদারি অব্যাহত আছে। তারা কোনো অপরাধ করলে সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে থার্টি ফার্স্ট নাইটের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, এরই মধ্যে এ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে। আইজিপিও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ফুটানো ও ফানুস ওড়ানো নিষিদ্ধ। উন্মুক্তস্থানে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। এছাড়া গুলশান, বনানী ও ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, এআইজি এনামুল হক সাগর ও পুলিশ সদরদপ্তরের উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা একেএম কামরুল আহসান।

নির্বাচনের দিন আমরা কাউকে চিনি না : কুমিল্লা জেলা প্রশাসক

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

নির্বাচনে প্রচারণা যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষন দিয়ে কেন্দ্রে পাঠানোও একজন প্রার্থীর জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের দিন যে কোন সমস্যা এবং সমাধান একমাত্র এজেন্টরাই করতে পারেন।

শনিবার(৩০ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায় দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপি পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা খন্দকার মুশফিকুর রহমান একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের দিন আমরা কাউকে চিনি না, আর আমাদের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন রকমের অনিয়মে জড়িত হলে তার প্রমাণ পেলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। কেউ আমাদের প্রতিপক্ষ না, আপনারা পোলিং এজেন্টরা আর আমাদের আরেক হাত হলো কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরাফাতুল আলম এর সভাপতিত্বে বক্তব্যে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান(বিপিএম) বলেন, নির্বাচনের রেজাল্ট পর্যন্ত আমাদের চোখ উল্টে ফেলেছি। কারো সাথে সম্পর্ক থাকলে, সেটা নির্বাচনের পরদিন বসে চা খাবো। তাই ভোটের দিন পর্যন্ত আমরা কাওকে চিনিনা।

আমরা বিশ্বেকে দেখাতে চাই কিভাবে সুষ্টু ও সুন্দর নির্বাচন করা যায়। সেটাই দেখাবো আমরা। নির্বাচনের দিন কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করতে চান তাহলে বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। আমরা চাইনা আপনারা বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃস্টি করেন। আমরা আজকের মতো নির্বাচনের দিনেও সবার হাসি মাখা মুখ দেখতে চাই।

সাংবাদিকরাই আমাদের সিসি ক্যামেরা হিসেবে কাজ করবেন : ইসি রাশেদা

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) রাশেদা সুলতানা বলেছেন, অর্থ সংস্থান না থাকায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা থাকছে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক উৎসবমুখর নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সাংবাদিকরাই আমাদের সিসিটিভি ক্যামেরা হিসেবে কাজ করবেন।

শনিবার নীলফামারী জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ইসি এ কথা বলেন।

রাশেদা সুলতানা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক উৎসবমুখর নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইসি বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব প্রার্থীদের। আর নির্বিঘ্নে ভোট প্রয়োগের পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। আশা করি, ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। কারও অবহেলা থাকলে শাস্তির আওতায় আনা হবে। এছাড়া কারও কোনো অভিযোগ থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব পর্যায়ে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। এ ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু জাফর, অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম রশিদুল হক, রংপুর বিভাগীয় আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ ও পুলিশ সুপার গোলাম সবুর প্রমুখ।

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৩১ জন নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় অন্তত নিহত হয়েছেন ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬০ জনেরও বেশি মানুষ। নিহতরা সবাই বেসামরিক নাগরিক।

শুক্রবার রাতভর রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন জায়গায় এই হামলা চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় এসব তথ্য নিশ্চিত করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর রয়টার্সের।

জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার অস্ত্রাগারে যত গোলাবারুদ-ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, তার প্রায় সবই উজাড় করে দিয়েছে রুশ বাহিনী….অন্তত ১১০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং অজস্র ড্রোন ছোড়া হয়েছে পুরো ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে। তবে আমরা অধিকাংশই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছি।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি অভিযান শুরুর পর থেকে এই প্রথম এত বড় মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।

ইউক্রেনের সেনাপ্রধান জেনারেল ভ্যালেরি জালুঝনি জানিয়েছেন, বিমান বাহিনীর সেনারা মোট সেসবের মধ্যে ৮৭টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৭টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছেন। শুক্রবার রাত থেকে ইউক্রেনের সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল এসব ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, রাশিয়ার এ হামলা শুরু হয় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে। যা সারারাতব্যাপী চলে। এ সময়ের মধ্যে ছয়টি শহরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। যার মধ্যে রয়েছে রাজধানী কিয়েভও। এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরের লভিভেও পৌঁছেছে রুশ বাহিনীর মিসাইল।

জেলেনস্কি দাবি করেছেন, বেশিরভাগ মিসাইল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ভূপাতিত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন অনেকে।

প্রার্থীরা ভোটারদের যানবাহনে নিলেই ব্যবস্থা : নির্বাচন কমিশন

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের যানবাহনে নিলেই আচরণবিধি ভঙ্গ হবে। আর কাজ যদি কোনো প্রার্থী করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষর করা এক পরিপত্রে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে সংস্থাটি।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট এবং সমর্থকরা যাতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য কোনো প্রকার যানবাহন ব্যবহার করতে না পারেন অথবা আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করেন সে বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের করণীয় ও বর্জনীয় দিকগুলো উল্লেখ করে সতর্ক করে দিতে হবে। অন্যথায় আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ১০৩টি। আর ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮৫২ জন।

এবার নির্বাচনে ১ হাজার ৮৯১ জনের মতো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং পুরো আসনের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসেবে দিতে হবে।

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সারাদেশে ৮৫০০ ব্যাটালিয়ন আনসার মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৮ হাজার ৫০০ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তাদের মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) থেকে সারা দেশে তাদের মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনকালীন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ২৫০টি প্ল্যাটুন ৭৫০টি সেকশনে দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনের সময় আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা রিটার্নিং অফিসারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল/স্ট্রাইকিং/স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শুক্রবার নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীসহ সারা দেশে এক হাজার ১৫১ প্ল্যাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় রাজধানীসহ সারা দেশে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মোতায়েন করা হয়েছে।

কতটা দেউলিয়া হলে বিএনপি লিফলেট বিতরণ করে: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। বিএনপি যতই অপপ্রচার করুক, তাদের কথা জনগণ কান দেবে না। কতটা দেউলিয়া হলে লিফলেট বিতরণ করে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে গুপ্তহত্যা চালানোর নির্দেশ এসেছে বলে দাবি করেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি স্বাভাবিক আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নাশকতার দিকে গেছে। আমরা খবর পাচ্ছি— লন্ডন থেকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, প্রয়োজনে গুপ্তহত্যা চালাবে। তারা আরও ভয়ংকর গুপ্ত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। নির্বাচন হবেই। নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের জয়েরও কোনো বিকল্প নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রার্থীরা সংঘর্ষে জড়ালে আমরা দায় নেব না। নির্বাচন কমিশন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কোনো ব্যবস্থা নিলে আমরা হস্তক্ষেপ করব না। প্রার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণের জন্য আহ্বান জানাব।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা লাশ বানিয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক হতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘টার্ন আউট নির্বাচনের আগের প্রচার-প্রচারণায় কী রকম পরিবেশ থাকে, জনগণের উপস্থিতি কেমন তার ওপর নির্ভর করে। যেমন বরিশালে নেত্রীর সভায় অনেকেই বহুদূর থেকে হেঁটে এসেছেন। নির্বাচনের টার্ন-আউট আমি এক কথায় বলব সন্তোষজনক।’

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মানুষ পুড়িয়ে মারাই হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ পুড়িয়ে মারাই হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন। তাদের হাত থেকে কেউই রক্ষা পায়নি।

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

লন্ডন থেকে হুকুম দেয়, এখানে মানুষ পোড়ায়। তারেকের মতো খুনি, আর তার কথা শুনে , লম্পটের কথা শুনে কেন তারা মানুষ মারে এটা তাদের কাছে আমর প্রশ্ন। এর জন্য আল্লাহর কাছে শাস্তি পেতে হবে। আমরা চাই মানুষ শান্তিতে থাকুক। নির্বাচন বানচাল করতে চায় তারা। তৃতীয় পক্ষ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে না। সারা বাংলাদেশ আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা দুর্নীতি করতে আসিনি, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এসেছি। আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করবো, আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি। আমরা মুজিব আদর্শে বিশ্বাস করি। ইজরায়েল দ্বারা যেমনি ফিলিস্তিনের উপর হামলা করছে ঠিক তেমনি তারেক জিয়া লন্ডন থেকে হুকুম দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। আগামী নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হলে তাকে ধরে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

এর আগে শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে বরিশালের জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়কপথে বরিশাল থেকে টুঙ্গিপাড়া আসেন। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন তিনি।

বরিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থেকে মানুষের ভাগ্য না গড়ে নিজেদের ভাগ্য গড়েছিল বিএনপি-জামায়াত। দেশের মানুষ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আমি বিএনপি-জামায়াতকে ধিক্কার জানাই। কারণ, তারা মানুষ পোড়ায়, মানুষ হত্যা করে। আমাদের রাজনীতি মানুষের কল্যাণে আর তাদের রাজনীতি মানুষ পোড়ানোতে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যখন জনগণের জন্য উন্নয়ন করি, তখন ওই বিএনপি-জামায়াত করে অগ্নিসন্ত্রাস। রেললাইনের ফিসপ্লেট ফেলে দিয়ে, বগি ফেলে দিয়ে মানুষ হত্যার ফাঁদ পাতে। রেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। মা-সন্তানকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে- এই অবস্থায় আগুনে পুড়ে কাঠ হয়ে গেছে। এই দৃশ্য পুরো বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বাসে আগুন, গাড়িতে আগুন, ঠিক ২০০১ সালে শুরু করেছিল। এরপর ১৩-১৪ সালেও একই ঘটনা ঘটায়। এখন আবার অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করেছে।

গোপালগঞ্জের জনসভার পর মাদারীপুরের কালকিনিতে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। সেখানে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জনসমাবেশ যেন সঠিকভাবে, সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায় তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আগামী ২ জানুয়ারি ফরিদপুর জনসভা করবেন তিনি। আর ৪ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে জনসভার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে।