All posts by jitu

তুরস্কে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট:

তুরস্কের দক্ষিনাঞ্চলীয় প্রদেশ আদানার ইনকিলরিক শহরের মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছেন ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা। আইএইচএইচ হিউম্যানিটেরিয়ান রিলিফ ফাউন্ডেশন নামের একটি ইসলামিক সহায়তা সংস্থা রোববার এই বিক্ষোভ সংগঠিত করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে বিক্ষোভের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়েছে। সেসব ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে বিমান ঘাঁটিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এবং পুলিশ টিয়ার শেল ও স্মোক বম্ব ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে।

জবাবে বিক্ষোভকারীদেরকেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, প্লাস্টিকের চেয়ার ও অন্যান্য জিনিস ছুড়তে দেখা গেছে। পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতেও জড়াতে দেখা গেছে অনেককে। তবে কিছু সময় এই অবস্থা চলার পর তাদের সরিয়ে দিতে সক্ষাম হয়েছে পুলিশ।

রোববার আঙ্কারা সফরে এসেছিলেন মার্কিন পররাষ্টমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। তিনি আঙ্কার পৌঁছানোর দুই ঘণ্টা আগে বিক্ষোভ হয় ইনকিলরিক ঘাঁটিতে।

ইনকিলরিকের এই ঘাঁটিটি থেকে মূলত সিরিয়া ও ইরাকের কিছু অঞ্চলে ক্ষমতাসীন আন্তর্জাতিক সংন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইএসকে প্রতিহত করতে যে আন্তর্জাতিক জোট গঠিত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক উভয়ই সেই জোটের সদস্য। মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি দল ২৪ ঘণ্টা এই ঘাঁটি এলাকায় অবস্থান করেন।

রোববারের বিক্ষোভের সংগঠক আইএইচএইচ হিউম্যানিটেরিয়ান রিলিফ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট বুলেন্ত ইয়িলদিরিম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামাস ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তুরস্কের জনগণ ক্ষুব্ধ এবং তারা চায় তুরস্ক থেকে সব মার্কিন সেনা বিদায় হোক।

বিক্ষোভের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ইয়িলদিরিমও। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতের সময় তাকে বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করতে দেখা গেছে।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চলানোর পর সেদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। সেই অভিযান এখনও চলছে।

হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া হামলার প্রথম দিনই ইসরায়েল থেকে অন্তত ২৩৪ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে গেছে হামাস।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর অভিযানে গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৯ হাজার। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর এই প্রথম এত বড় মাত্রার সংঘাত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আল-আকাস অঞ্চলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে র‌্যাবের ৪৬০ টহল টিম মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট:

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনগণের জানমাল রক্ষায় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে র‌্যাবের ৪৬০টি টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৬ নভেম্বর) সকালে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীতে র‌্যাব ফোর্সেসের ১৬০টি টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকাসহ সারা দেশে ৪৬০টি টহল টিম মোতায়েন রয়েছে।

অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে ২২৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবি এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে গতকাল রোববার সকাল থেকে দ্বিতীয় দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। তাদের যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরাও এই অবরোধ পালন করছে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও আলাদা করে এই ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।

এর আগে প্রথম দফায় গত সপ্তাহের শেষ তিন দিন (৩১ অক্টোবর-২ নভেম্বর) টানা অবরোধ পালন করে বিএনপি-জামায়াত। তার আগে ২৯ অক্টোবর হরতাল পালন করে তারা।

সারা দেশে ২২৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি চলছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলমান রয়েছে। এসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি হতে না পারে; সেজন্য রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৮ প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ সোমবার (৬ নভেম্বর) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঢাকাসহ সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২২৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল রোববার (৫ নভেম্বর) বিএনপি-জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি কেন্দ্র করে ঢাকাসহ আশপাশের জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

দেবিদ্বারে হোন্ডা ও ফ্রিজকাপের ফাইনালে সুবিল ফুটবল একাডেমি চ্যাম্পিয়ন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে টাইব্রেকারে ফতেহাবাদ স্বপ্নসিড়ি ক্লাবকে হারিয়ে শিরোপা তুলে নেয় সুবিল ফুটবল একাডেমি।

ক্রীড়াই শক্তি-ক্রীড়াই বল-মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী সুলতানপুর ফুটবল একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত হোন্ডা ও ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৩ এর ফাইনাল খেলায় দুই দলে একাধিক বিদেশি নাইজেরিয়ান প্লেয়ারদের উপস্থিতিতে জমজমাট খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে মাঠের চারপাশ ছিল ভরপুর। এর আগে ফতেহাবাদ স্বপ্নসিড়ি ক্লাবের সভাপতি ও সহসভাপতি হেলিকপ্টার যোগে মাঠে নামেন। সুবিল ফুটবল একাডেমি ব্যতিক্রমী আয়োজনে মাঠে প্রবেশ করেন।প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক খেলায় নিদিষ্ট সময়ে ১-১ গোলে সমতা হয়ে খেলা শেষ হয়। পরে শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে ৫-৬ গোলে ফতেহাবাদকে হারিয়ে বিজয়ী হন সুবিল টিম।

খেলা পরিচালনা করেন বাফুফে রেফারি মাসুম খন্দকার এবংতার দুই সহকারী মাঠ পরিচালক হারুনুর রশীদ, সার্জেন কামাল ও
ম্যাচ অফিসিয়াল মোকবল হোসেন।

খেলায় সাংবাদিক জি এম ইউসুফ এর উপস্থাপনায় স্হানীয় অসংখ্য নামকরা ধারাভাষ্যে জমজমাট হয়ে ওঠে খেলা।

খেলায় দেবীদ্বার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রফিকুল ইসলাম ইদ্রিস এর সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. হাবিবুর রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম কামরুজ্জামান মাসুদ। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমল কৃষ্ণধর।

এছাড়া দেবীদ্বার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রফিকুল ইসলাম ইদ্রিস মেম্বারকে খেলা শেষে অতিথি ও দুই দলের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন উপস্থিত অতিথিরা।

১৫-তম মিডিয়া চ্যাম্পিয়ন্স কাপ ক্রিকেটে স্থানীয় মিডিয়া টিম চ্যাম্পিয়ন

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ১৫-তম মিডিয়া চ্যাম্পিয়ন্স কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট -২০২৩ এর ফাইনালে জাতীয় মিডিয়া টিমকে ২১ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্থানীয় মিডিয়া টিম।এছাড়া সকার গ্রুপে ইয়ুথ মিডিয়া টিমকে ৯৮ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মিক্সড মিডিয়া টিম।এই টুর্ণামেন্টে চারটি দল অংশগ্রহণ করছে ।

৪ নভেম্বর কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন,কুমিল্লা স্পোর্টস জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন ও হিউম্যান বিয়িং ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলায় জাতীয় মিডিয়া টিমকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্থানীয় মিডিয়া টিম।

ফাইনাল খেলায় টসে জিতে স্থানীয় মিডিয়া টিমের অধিনায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে ব্যাট করে ২৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্থানীয় মিডিয়া টিম ২১৮ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে আরিফ সেলিম ওপেল, মোস্তাফিজুর রহমান ও উজ্জ্বল হোসেন বিল্লাল ৩৬ রান করে সংগ্রহ করেন। জাতীয় মিডিয়া টিমের পক্ষে সময় টিভির ইসতিয়াক ৩টি, এখন টিভির নাহিদ ২টি করে উইকেট পান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে জাতীয় মিডিয়া টিম ১৯৭ রানে অলআউট হয়ে যান। দলের পক্ষে শাহ ইমরান ও জাকির ৩টি করে, ওপেল ২টি, জহিরুল হক বাবু, স্বপন, সোহরাব সুমন ও ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু ১টি করে উইকেট পান।

ফাইনাল খেলায় দৈনিক শ্রমিকের সম্পাদক আরিফ সেলিম ওপেল ম্যান অব দ্য ম্যাচ, সেরা ব্যাটার ও সেরা ফিল্ডার হয়েছেন দৈনিক আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার মোস্তাফিজুর রহমান এবং সেরা বোলার হয়েছেন শাহ ইমরান ও জাকির।

অনুষ্ঠানে সংবাদকর্মীদের সন্তানদের জন্য চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে ৪০ জন সন্তানের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।

ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) খন্দকার আশফাকুজ্জামান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, জেলা প্রশাসনের ডেপুটি কালেক্টর (রাজস্ব) ইমদাদুল হক তালুকদার, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি খায়রুল আহসান মানিক, দৈনিক জনকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মীর শাহলম, ডেইলি অবজারভারের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম দুলাল, দৈনিক পূর্বাশার সিনিয়র রিপোর্টার সহিদ উল্লাহ, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক হোসেন মামুন, কুমিল্লা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ওমর ফারুকী তাপস, প্রথম আলোর আলোকচিত্রী এম সাদেক, কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দিলীপ মজুমদার, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদ হাসান, দৈনিক শিরোনামের সিনিয়র রিপোর্টার মোতাহের হোসেন মাহবুব ও ডেইলি আওয়ার টাইমের প্রতিনিধি মাহবুব আলম বাবু, জিটিভির প্রতিনিধি সেলিম রেজা মুন্সি ও বৈশাখী টিভির প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য সাইফুল সুমন, জহিরুল হক বাবু, ম্যাক রানা, অমিত মজুমদার ও উজ্জ্বল হোসেন বিল্লালকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।

এদিকে ৩ নভেম্বর সকার গ্রুপে ইয়ুথ মিডিয়া টিমকে ৯৮ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মিক্সড মিডিয়া টিম।

টসে জিতে ইয়ুথ মিডিয়া টিমের অধিনায়ক তানভীর দিপু প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাট করতে নেমে আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মিক্সড মিডিয়া টিম ১৮ ওভারে ১৯৩ রান করেন। দলের পক্ষে ইয়াছিন সর্বোচ্চ ৭৮ রান করেন। এছাড়া সোহান ৫৫ রান ও আবরার আল দাইয়ান ২৭ রান করেন। ইয়ুথ মিডিয়া টিমের সাকিব দুটি উইকেট পান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইয়ুথ মিডিয়া টিম ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মারুফ সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন। মিক্সড মিডিয়া টিমের পক্ষে আবুল কালাম আজাদ ৪টি, দাইয়ান দুটি ও সোহান দুটি করে উইকেট পান।

এ খেলায় সোহান ম্যান অব দ্য ম্যাচ, সেরা বোলার আবুল কালাম আজাদ, সেরা ব্যাটার ইয়াছিন, সেরা ফিল্ডার সাকিব, সেরা ক্যাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ রাজিব।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন ।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ, দৈনিক জনকন্ঠের প্রতিনিধি মীর শাহলম, দৈনিক পূর্বাশার সহিদ উল্লাহ, কুমিল্লার সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র হাবিবুল আল আমিন সাদি, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার সাদিক মামুন, কুমিল্লা সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ওমর ফারুকী তাপস, দৈনিক কুমিল্লার আলোর সম্পাদক জসিম উদ্দিন কনক, দৈনিক যায় যায় দিনের প্রতিনিধি আব্দুল জলিল ভূইয়াসহ কুমিল্লার কর্মরত প্রবীণ সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেনকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। এ সময় দেলোয়ার হোসেন জাকিরকেও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।

বাংলামোটরে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর বাংলামোটরে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন জানান, বাংলামোটর মোড়ে শাহবাগগামী সড়কে পুলিশ বক্সের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে আজ সকালে খিলগাঁও থানার বনশ্রী এলাকায় অছিম পরিবহন নামে একটি বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. সবুজ (৩০) নামে এক গাড়িচালক দগ্ধ হন। তিনি রমজান পরিবহনের চালক ছিলেন।

এছাড়া উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় পুলিশের টহল গাড়িকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ওই ককটেল বিস্ফোরিত হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মাহবুব আলীসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এর বাইরে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে অবরোধ সমর্থনকারীদের বিক্ষোভ-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে গতকাল শনিবার (৪ নভেম্বর) রাতে রাজধানীতে ৫টিসহ সারা দেশে ৯টি বাসে আগুন ও ভাঙচুরের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে এবং মির্জা ফখরুলসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে রোববার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। তাদের যুগপৎ আন্দোলনের শরিকরাও এই অবরোধ পালন করছে। পাশাপাশি জমায়াতে ইসলামীও আলাদা করে এই ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।

এর আগে গত সপ্তাহের শেষ তিন দিন (৩১ অক্টোবর-২ নভেম্বর) টানা অবরোধ পালন করে বিএনপি-জামায়াত। তার আগে ২৯ অক্টোবর হরতাল পালন করে তারা।

গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বড় ধরনের সমাবেশ করে বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ। সেদিন দুপুরের দিকে বিএনপির সমাবেশে আসা লোকজনের সঙ্গে কাকরাইল মোড়ের কাছে আওয়ামী লীগের সমাবেশগামী লোকজনের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ সেখানে হস্তক্ষেপ করার পর এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা হয় এবং বেশকিছু গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উপস্থিত সাংবাদিকদেরও ব্যাপক মারধর করা হয়। এরপর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও উপুর্যুপরি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে বিএনপির সমাবেশ ভণ্ডুল করে দেয়। এর ফলে সংঘর্ষ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে এক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়, পুলিশের বহু সদস্যকে পিটিয়ে আহত করা হয় এবং পুলিশ হাসপাতালে হামলা চালিয়ে কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

সমাবেশ বানচালের প্রতিবাদে পরদিন ২৯ অক্টোবর বিএনপি হরতাল পালন করে। হরতালের দিন সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন।

হরতালের পর একদিন বিরতি দিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা ৩ দিনের অবরোধ কর্মসূচি দেয় বিএনপি-জামায়াত। ওই কয়েকদিনে মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার অভিযান এখনো অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। সবশেষ গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেনকে। এছাড়া গত কয়েকদিনে সাবেক জাতীয় ফুটবলার আমিনুল হকসহ বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজনীতি নয়, বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার অপরাধ সংশ্লিষ্টতায়: আইনমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিক কারণে নয়, অপরাধজনিত সংশ্লিষ্টতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রোববার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

আইজিপি কেন এসেছিলেন- এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন। আমরা সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, না, মামলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

বিএনপির বড় বড় নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয়, এ প্রশ্নের জবাব সঠিকভাবে যে জায়গায় পাবেন সেটা হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমার কাছে এটার কোনো উত্তর নেই।

রাজনৈতিক সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের (বিএনপি নেতা) রাজনৈতিক কারণে ধরা হয়নি, অপরাধজনিত সংশ্লিষ্টতায় ধরা হয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে এটার কোনো সংযোগ নেই।

নাশকতা মামলায় বিএনপি নেতা প্রিন্স ৩ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর পল্টন থানায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (৫ নভেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর ফরহাদ মাতুব্বর। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

আদালতে পল্টন মডেল থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে এমরান সালেহ প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তিনি সেখানে বোনের বাসায় অবস্থান করছিলেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর পুলিশি বাধায় বিএনপির মহাসমাবেশ ভেস্তে গেলে শান্তিনগর মোড় এবং ফকিরাপুল মোড় অতিক্রম করার সময় বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে যেতে থাকেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তখন এজাহারনামীয় আসামিরা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ নেতাকর্মী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস ও আব্দুস সালামদের উসকানিতে ও প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় পল্টন মডেল থানার পাশে পুলিশ ক্যান্টিনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর এবং তাণ্ডবলীলা চালায়। পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় তারা। এএসআই এরশাদুল হককে আহত করে এবং তার পিস্তল ছিনিয়ে নেয়।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর রাতে আটক করা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে। পরদিন তাদের দুজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন ঢাকার একটি আদালত।

তার আগে ২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। তাকে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি এখন কারাগারে আছেন।

এছাড়া নাশকতা ও পুলিশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য জহির উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হকসহ আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে।

যানবাহনে কারা আগুন লাগাচ্ছে আমরা জানি: হারুন

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেছেন, যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অনেকের নাম আমরা পেয়ে গেছি। তারা বাংলাদেশের যেখানেই থাকুক না কেন, আমরা অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

হারুন বলেন, জনগণের জানমাল, সরকারি সম্পত্তিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন লাগানো হচ্ছে। অনেকের নাম আমরা পেয়ে গেছি। তারা বাংলাদেশের যেখানেই থাকুক না কেন, আমরা অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

তিনি বলেন, একটি মানুষের শেষ সম্বল একটি বাস। যাত্রী পরিবহণ করে তার সংসার চলে। তার একমাত্র অবলম্বন যদি রাত ৩টার সময় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়, তার লাইফটাই তো শেষ হয়ে যাবে।

ডিবিপ্রধান আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা যেটা জেনেছি, ২৮ তারিখের পর থেকে যারা হরতাল ডেকেছে, ২৮ তারিখ যারা প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা করেছে, আমাদের পুলিশ ভাইকে নৃশংসভাবে-নির্বিচারে হত্যা করেছে পিটিয়ে; অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের তারা মেরেছে এবং ওই দিন বাসে যারা আগুন লাগিয়েছে—তারাই তো পরদিন হরতাল ডেকেছে। হরতালের মধ্যেও আগুল লাগানোর ঘটনা ঘটছে। অবরোধ ডেকেছে, অবরোধের মধ্যে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটছে।

হারুন আরও বলেন, এতদিন তো আগুন লাগেনি। অবরোধ ডাকার পর এ আগুনগুলো কারা লাগাচ্ছে আমরা জানি। তাদের নাম আমরা পেয়েছি, ছবি পেয়েছি। আমরা অবশ্যই তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।

অবরোধে কুবিতে নীল বাস বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

কুবি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও জামায়াতে ইসলামির ডাকা অবরোধের দিন নীল বাসসমূহ বন্ধ রেখেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ। ফলে ক্লাস-পরীক্ষা চলমান থাকায় ক্যাম্পাসে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৮টি নিজস্ব নীল বাস ও ৭টি বিআরটিসি’র লাল বাস রয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭ তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সভার পর নীল বাস সমূহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন পুল। লাল বাসসমূহ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলেও তা শহরের অভ্যন্তরে না গিয়ে শুধুমাত্র শহরের প্রবেশপথ পুলিশ লাইন ও টমছম ব্রীজ পর্যন্ত চলাচল করতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদেরকে পুলিশ লাইন ও টমছমব্রীজ থেকে বাসে ওঠা-নামার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে পরিবহন পুল।

এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযোগ করে বলেন, আগে যেখানে লাল ও নীল মিলিয়ে মোট ১৫টি বাস চলমান ছিল সেখানে এখন মাত্র ৭টি লাল বাস চলছে। যার ফলে তাদেরকে গাদাগাদি করে বাসে যাতায়াত করতে হচ্ছে এবং তাদের সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে।

ফাহিম বাবু নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, অবরোধের মধ্যে স্টাফ বাস, শিক্ষকদের বাস যাওয়া আসা করে। লাল বাস যাওয়া আসা করে নীল বাসের সম্যসা কি? প্রসাশনের কাছে শিক্ষার্থী অপেক্ষা স্টাফদের ভ্যালু বেশি ?

ফাহমিদা আকতার নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অবরোধের কারণে সিএনজিগুলোও ক্যাম্পাসের দিকে যেতে রাজি হয় না। গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া চায়। প্রশাসন লাল বাস চালু রাখতে পারলে নীল বাসে কি সমস্যা?

হাবিবা জাহান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, লাল বাসগুলো সন্ধ্যার পরে আর ক্যাম্পাসে আসে না। আমরা যারা শহরে টিউশন করি আমাদের রাতে ক্যাম্পাসে ফিরতে ভাড়া গুনতে হয়। আবার যারা মেয়ে আছে তাদেরও বিভিন্ন ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

হেদায়েতুল ইসলাম বলেন, আগে লাল বাসের পাশাপাশি নীল বাসও চলতো তাও বাসে অনেক ভিড় হতো। এখন শুধুমাত্র লাল চলাচল করলে কি পরিমাণ ভিড়ের মধ্যে আমরা যাতায়াত করি এটা প্রশাসনকে একটু ভেবে দেখার অনুরোধ করছি। অবরোধের প্রভাব কেন শিক্ষার্থীদের নীল বাসের উপর পড়বে? শিক্ষক আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাস তো ঠিকই চলাচল করতেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন প্রশাসক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করতে বলেন। এরপর তার কার্যালয়ে একাধিকবার যাওয়ার পরেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: আসাদুজ্জামানকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে বরাবরের ন্যায় তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।