All posts by jitu

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৩: পূজা উদযাপন কমিটির সাথে জেলা পুলিশের মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার:

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৩ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশ কর্তৃক পূজা উদযাপন কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

শনিবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১ টায়   কুমিল্লা জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ লাইন্স শহীদ আরআই
এ.বি. এম আব্দুল হালিম মিলনায়তনে আয়োজিত আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম বার ।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে পূজা মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উপস্থিত সকলের মতামত শুনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সার্বিক নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি পূজা পূর্ববর্তী ও পূজা চলাকালীন করণীয় বর্জনীয় এবং পূজা উদযাপন কমিটি, নিরাপত্তা সহায়তা কমিটি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, আবহমান কাল ধরে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ভাসিত লাল সবুজের এই বাংলাদেশ। জাতির পিতার এই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই। আমরা সকলে মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে কুমিল্লায় শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করবো।

উক্ত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ ) মংনেথোয়াই মারমা , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) খন্দকার আশফাকুজ্জামান বিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক)  নাজমুল হাসানসহ জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ, অফিসার ইনচার্জগণ ও জেলা, মহানগর ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের ওপর নির্ভর করতে হবে : সিইসি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের ওপর নির্ভর করতে হবে : সিইসি

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকারের ওপর নির্ভর করতে হবে।

শনিবার মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, আপনাদের অভিজ্ঞতাগুলো আমরা শুনতে চাই। নির্বাচনের প্রস্তুতি কতটা সাফল্য হয়েছে। কোনোরকম ঘাটতি রয়েছে কি না। সে বিষয়ে খোলামেলা আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করবো।

কাজী হাবিবুল আউয়াল জানায়, আমরা বারবার করে বলেছি যে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক বলতে আমরা জানি যে ভোটাররা ব্যাপক সংখ্যায় আসবে। এরকম বিষয়ে আপনাদের যে দায়িত্ব রয়েছে এবং নেই সেটাও আমরা পরিষ্কারভাবে জানাতে চেষ্টা করবো। আপনাদের যে দায়িত্ব থাকবে সেটা যেন প্রতিপালিত হয়, সে বিষয়ে আমাদের দিক থেকে দৃঢ় নির্দেশনা থাকবে।

সিইসি জানান, আমরা বারবার করে ব্যক্ত করেছি যে, আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর হয় সেই লক্ষ্যে আমাদের প্রয়াসের কোনো রকম ঘাটতি থাকবে না। আমাদের আন্তরিকতায় বিন্দুমাত্র ঘাটতি থাকবে না।

তিনি আরও জানান, আমাদের সরকারের সহায়তায়র ওপর নির্ভর করতে হবে। সরকারের জনপ্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা সুদৃঢ় করে নির্বাচনের যে উদ্দেশ্য অর্থাৎ অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে উঠে আসবে সেটা নিয়েও আলোচনা করা হবে।

সভায় অন্য নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

খুললো ঢাকার আকাশপথে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

খুললো ঢাকার আকাশপথে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

ডেস্ক রিপোর্ট:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন (সফট ওপেনিং) করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়।

এর আগে আজ সকাল ১০টার পর তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল এরিয়ায় এসে পৌঁছেন।

এ সময় দেশের গানের সঙ্গে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে ঘুরে দেখেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হবে। নতুন এই টার্মিনালের নকশা করেছেন সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরসহ অনেক বিখ্যাত স্থাপত্যের স্থপতি রোহানি বাহারিন। এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) মাধ্যমে জাপানের মিৎসুবিশি ও ফুজিতা এবং কোরিয়ার স্যামসাং এই টার্মিনালের নির্মাণকাজ করছে।

এই প্রকল্পের মেয়াদ চার বছর হলেও নির্মাণ শুরুর তিন বছর ৯ মাসেই পুরোপুরি দৃশ্যমান হলো তৃতীয় টার্মিনাল।

এই প্রকল্পের ব্যয় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে জাইকা দিচ্ছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা, সরকার দিচ্ছে পাঁচ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাত্রা শুরু করে ১৯৮০ সালে। এত দিন দেশের প্রধান এই বিমানবন্দর দুটি টার্মিনাল নিয়ে চলছিল। এসব টার্মিনালে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি এয়ারলাইনসের ১২০ থেকে ১৩০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে।

এসব ফ্লাইটের ১৯ থেকে ২১ হাজার যাত্রী প্রতিদিন এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে। এসব যাত্রীকে মানসম্মত সেবা দিতে বিমানবন্দরে বর্তমানে চালু থাকা কম আয়তনের দুটি টার্মিনাল যথেষ্ট নয়। এ কারণে মূল টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিতে (পিপিপি) এই টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পাচ্ছে জাপান।
বেবিচক সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে টার্মিনালটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ জাপানকে দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হতে আরো ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পর সুইস এয়ার, এয়ার কানাডা, এয়ার ফ্রান্সসহ অন্তত ১৫টি নতুন বিদেশি এয়ারলাইনস এরই মধ্যে ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আসাদ চৌধুরী

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আসাদ চৌধুরী

ডেস্ক রিপোর্ট:

কানাডার স্থানীয় সময় শুক্রবার বাদ জুমা একুশে পদকপ্রাপ্ত ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি আসাদ চৌধুরীর জানাজার নামাজ টরন্টোর নাগেট মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানাজার পর কবির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য মসজিদের অভ্যন্তরে আধা ঘণ্টা রাখা হয়। সর্বসাধারণের দেখা সম্পন্ন হলে কবির মরদেহ অন্টারিও’র পিকারিং ডাফিন মেডোজ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কবি আসাদ চৌধুরী কানাডার স্থানীয় সময় ৫ অক্টোবর ভোররাত তিনটার সময় কানাডার অশোয়া শহরের লে’ক রিজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ইন্নাল ইল্লা হি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজেউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি গত এক বছর ব্লাড ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

কবি আসাদ চৌধুরী দীর্ঘদিন কানাডার টরেন্টোতে তার একমাত্র মেয়ে নুসরাত জাহান চৌধুরী’র সাথে থাকতেন। কবির জামাতা নাদিম ইকবাল জানান, কবি আসাদ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতমাসে তাকে কানাডার লেকরিজ হেলথ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

কবি আসাদ চৌধুরী ১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া জমিদার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

মেসিকে নিয়েই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বাছাই দল

মেসিকে নিয়েই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বাছাই দল

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইনজুরির কারণে ইন্টার মিয়ামির হয়ে মাঠে নামতে পারছেন না বেশ কিছুদিন। এমনকি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সর্বশেষ ম্যাচেও খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি। তবুও চোটাক্রান্ত লিওনেল মেসিকে রেখেই বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পরের ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা।

সর্বশেষ আর্জেন্টিনার হয়ে গত মাসে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলতে গিয়ে মাংসপেশির চোটে পড়েছিলেন মেসি। ইকুয়েডরের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি শেষ না করেই মাঠ থেকে বের হতে হয় তাকে। এরপর লাপাজে স্বাগতিক বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দিয়ে আটলান্টার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি মেসি।

এরপর টরন্টোর বিপক্ষে খেলার ৩৬ মিনিটের মাথায় মাঠ ছাড়তে হয় অস্বস্তি নিয়ে। এরপর ইউএস ওপেন কাপের ফাইনাল খেলতে পারেননি। যার ফলে মিয়ামিকে শিরোপা বঞ্চিত থাকতে হয়। এরপর এমএলএসের একাধিক ম্যাচে দর্শক হয়ে থাকতে হয় মেসিকে।

তাকে কবে দলে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে কিছু নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ইন্টার মিয়ামি কোচ জেরার্ডো মার্টিনো। প্রতিদিন মেসির অবস্থা পর্যবেক্ষণের কথা বলেন তিনি।

সব মিলিয়ে মেসি এখন দুই সপ্তাহ ধরে মাঠের বাইরে রয়েছেন। তবে চোটাক্রান্ত মেসিকে মার্টিনো না খেলালেও তাকে নিয়ে দল ঘোষণা করলেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মেসিকে দলে রাখলেও স্কালোনির স্কোয়াডে জায়গা হয়নি এনজেল ডি মারিয়ার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকা-ইন্টার মিলান ম্যাচে চোটে পড়েছেন ডি মারিয়া।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনা নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে ১৩ অক্টোবর ভোরে প্যারগুয়ের বিপক্ষে, আর ১৮ অক্টোবর মেসিদের প্রতিপক্ষ পেরু।

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), ফ্রাঙ্কো আরমানি (রিভার প্লেট), হুয়ান মুসো (আতালান্তা)

ডিফেন্ডার: ওয়াল্টার বেনটেজ (পিএসভি আইন্দোহোভেন), হুয়ান ফয়েথ (ভিয়ারিয়াল), গঞ্জালো মন্তিয়েল (নটিংহাম ফরেস্ট), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), জার্মান পেজ্জেয়া (রিয়াল বেতিস), ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (টটেনহাম), লুকাস মার্তিনেজ (ফিওরেন্তিনা), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), মার্কো পেলেগরিনো (এসি মিলান), মার্কোস আকুনিয়া (স্পোর্টিং লিসবন), নিকোলাস তালিয়াফিকো (লিওঁ), লুকাস এসকুইভেল (আথলেটিকো পারানায়েন্সে)।

মিডফিল্ডার: লিয়ান্দ্রো প্যারেদেস (এএস রোমা), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), গিদো রদ্রিগেজ (রিয়াল বেতিস), রদ্রিগো ডি পল (আতলেতিকো মাদ্রিদ), এজেকুয়েল প্যালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), থিয়াগো আলমাদা (আটলান্টা), জিওভানি লো সেলসো (টটেনহাম), ব্রুনো জাপেলি (অ্যাথলেটিকো পারানায়েন্সে), কার্লোস আলকারাজ (সাউদাম্পটন)।

ফরোয়ার্ড: পাওলো দিবালা (রোমা), লিওনেল মেসি (ইন্টার মিয়ামি), হুলিয়ান আলভারেজ (ম্যানচেস্টার সিটি), লওতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান), ফাকুন্দো ফারাস (ইন্টার মায়ামি), লুকাস বেলটার (ফিওরেন্তিনা), আলেসান্দ্রো গারনাচো (ম্যানচেস্টার ইউনাইেড), নিকোলাস গঞ্জালেস (ফিওরেন্তিনা), লুকাস ওকাম্পোস (সেভিয়া)।

কলেজ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবারও আবেদনের সুযোগ

কলেজ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবারও আবেদনের সুযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

তিন ধাপে আবেদন করেও কলেজ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের আবারও আবেদনের সুযোগ দিচ্ছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এটিকে সর্বশেষ ধাপ বলে উল্লেখ করেছে কমিটি। এ ধাপে আগামী ৮ থেকে ৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার সরকারের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যাচাই-বাছাই এবং ১১ অক্টোবর রাত ৮টায় ফল প্রকাশ করা হবে। ১২-১৩ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিশ্চায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। আগামী ১৫ অক্টোবর নির্বাচিতদের ভর্তি হতে হবে।

এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির লক্ষ্যে পুনরায় (সর্বশেষ) চতুর্থ ধাপে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ সবাইকে ঘোষিত সময়সূচি অনুসরণ করার অনুরোধ করা হলো।

এতে আরও বলা হয়, আবেদন পদ্ধতি নির্ধারিত ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যমান শূন্য আসন দেখে কমপক্ষে পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করতে হবে।

যারা আবেদন করতে পারবে

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী আগে আবেদন করেননি অথবা আবেদন করেও কলেজ পায়নি তারা আবেদন করতে পারবে। অন্যদিকে, চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেও বিশেষ কারণে ৫ অক্টোবরের মধ্যে কলেজে বর্তি হতে বা নিশ্চায়ন করতে পারেনি তারাও আবেদন করতে পারবে। এছাড়া, ভর্তি নীতিমালা ছাড়া ম্যানুয়ালি কোনো ভর্তি করা হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

জানা যায়, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয় ১২ লাখ ৯০ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের ৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্ধারিত কলেজে গিয়ে ভর্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বলা হয়। অন্যদিকে, তিন ধাপে আবেদন শেষেও ১২ হাজার ৫৯৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য কোনো কলেজ পায়নি। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ৬৬২ জনও রয়েছে।

এদিকে, একাদশ শ্রেণিতে বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) প্রথম ধাপে ভর্তি শেষ হয়। তিন ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ভর্তি শুরু হয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর। আগামী ৮ অক্টোবর ক্লাস শুরু হয়।

বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দূর্গাপূজা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বিএনপি-জামায়াত যেন কোনো ধরনের সংকট ও সহিংসতা তৈরি করতে না পারে সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

শুক্রবার দুপুরে চাঁদপুর শহেরর বাবুরহাট এলাকায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী চাঁদপুর জেলার সমাবেশ শেষে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, ‘বিএনপি-জামায়াত মানুষের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন যেমন চালানোর চেষ্টা করে, তেমনই তারা দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট করেন তারা। এই অপশক্তিকে আমাদের সবারই রুখে দাঁড়াতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী জানায়, ‘শিক্ষার্থীরা হচ্ছে দেশের সবচাইতে সচেতন ও সজাগ অংশ। তারা যেন সব সময় চোখ কান খোলা রাখে। কারণ এই বাংলাদেশ তাদের, তারা এই দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং তারা যেন এই অসম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবার জন্য, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বার জন্য এই যে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রয়েছে তাদেরকে রুখে দিতে পারে।’

দীপু মনি জানায়, ‘বিএনপি-জামায়াত যেন কোনভাবেই দেশকে অস্থীতিশীল করতে না পারে সে জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমি মনে করি আমাদের তরুনরা সবচাইতে সজাগ ও সচেতন শ্রেনী। তারা যেন এই বিষয়ে অনেক বেশি সজাগ থাকে এবং যে কোনো মূল্যে যেন আমরা এই অপশক্তিকে সবাই মিলে প্রতিহত করতে পারি।’

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কেন মাতামাতি সন্দেহ হয় : প্রধানমন্ত্রী

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কেন মাতামাতি সন্দেহ হয় : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

নিয়মতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরও হঠাৎ অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনে নিয়ে সবার মাতামাতিকে ‘সন্দেহ হয় রে, সন্দেহ হয় রে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি জানান, ১৯৭৫-৯৬, ২০০১-০৮ এই ২৯ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশকে কি দিয়েছে? মানুষের ভাতের ব্যবস্থা করতে পেরেছে, পারেনি; দুর্ভিক্ষ ছিল। সব সময় উত্তরবঙ্গে দুর্ভিক্ষ লেগে থাকত, দক্ষিণেও। মানুষ তখন এক বেলা খাবার জোটাতে পারত না। ছেঁড়া কাপড় পরে থাকত, বিদেশ থেকে পুরাতন কাপড় এনে পরানো হতো। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টিহীনতা প্রতিনিয়তই ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ বাংলাদেশের মানুষ যতটুকু পাচ্ছে, সেটা আওয়ামী লীগ এবং আমরা ক্ষমতায় আসার পর উন্নতিটা হচ্ছে। এখন এত প্রশ্ন আসে কেন, সেটাই আমার কথা। এখন একটা দেশ এত দ্রুত উন্নতি করেছে, সেটাই মানুষের মাথাব্যথা হয়ে গেল কি না। সেটাকে এখন কীভাবে নষ্ট করা যায়, এই সন্দেহটা আমারও আছে।

শুক্রবার (৬ অক্টোবর) গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তো আমিই তাদের বলেছি। আমরা আব্রাহাম লিংকনের যেটা জানি, গভর্মেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল। গভর্মেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল– এটা তো আমরাই এস্টাবলিশড করেছি। গভর্নমেন্ট ফর দ্য আর্মি, বাই দ্য আর্মি থেকে তো আমরাই রেহাই দিয়েছি।

শেখ হাসিনা জানায়, আমাদের সেনাবাহিনীসহ কত মানুষকে হত্যা করেছে। বিমানবাহিনীর কত অফিসারকে হত্যা করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর কি অকথ্য নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। যারা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, মানিলন্ডারিং ও যত কর্ম-অপকর্ম বাংলাদেশে ছিল সেগুলো থেকে মুক্ত করেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেশন জট ছিল, সেটা থেকে আমরা উদ্ধার করেছি। এসব করে যখন একটা নিয়মতান্ত্রিক দেশ পরিচালনা করছি এবং দেশটা যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে, তখন হঠাৎ অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সবার এত মাতামাতি কেন– সন্দেহ হয় রে। এটাই বলতে হয়, সন্দেহ হয় রে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে আমাদের নিজেদেরও একটা দোষ আছে। আমাদের দেশে কিছু লোক নির্বাচন নিয়ে বেশি কথা বলি। যারা নির্বাচনকে বয়কট করেছে, কলুষিত করেছে, ভোট চুরি করেছে, ভোট ডাকাতি করেছে তাদের কাছ থেকে শুনতে হয় অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য। ২০০৮ সালে যখন অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হলো, যেই নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ২৯টি সিট। তাদের আবার বিএনপি-জামায়াত ২০ দলীয় ঐক্য জোট, পরে আরেকটা সিট বেড়ে হয়েছিল ৩০টা। ২০১৪ নির্বাচন ঠেকাতে গিয়ে তারা অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ হত্যা এবং এমন কোনো অপকর্ম নাই, করেনি। পরে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে ৭০০ নমিনেশন দিয়ে নিজেরাই মারামারি করে নির্বাচন থেকে সরে গেল। সরে গিয়ে নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করল। এখন তাদের মুখে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা শুনি এবং তা সব জায়গায় প্রচার করে বেড়াচ্ছে।

সরকার প্রধান বলেন, আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশ আমার দেশের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে তখন আমার প্রশ্নটা হচ্ছে, যখন মিলিটারি ডিক্টেটর ছিল, যখন আমরা সংগ্রাম করেছি, জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা সংগ্রাম করেছি, ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের জন্য। আমরা স্লোগান দিয়েছি– আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব এবং নির্বাচনের যে সংস্কারগুলো– ছবিসহ ভোটার তালিকা, ব্যালট বাক্স, নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন কমিশন যেটা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেটাকে আলাদা করে দিয়ে, বাজেট আলাদা করে দিয়ে, তাদের আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের মধ্যে ভোটের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে জনগণের ক্ষমতাকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, সেই ক্ষমতাকে বের করে আমরাই তো এনেছি। আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের জোট আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করে এটা করেছি এবং এর জন্য আমাদের বহু মানুষকে রক্ত দিতে হয়েছে। আমি সেই কথাটাই মানুষকে বলেছি, আমাকে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন শেখাতে হবে না। বাংলাদেশে মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের যে আন্দোলন, সেটা আমরা করেছি। সেটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও নির্বাচন হয়েছে বলে জনগণ আমাদের বারবার ভোট দিয়েছে। এখন আমরা ক্ষমতায় আছি বলেই অর্থনৈতিক উন্নতি দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আসল কথা নির্বাচনটাকে বানচাল করে দেওয়া। ক্ষমতায় থেকে এত মানিলন্ডারিং করেছে, এত বেশি টাকার মালিক হয়ে গেছে, তারা অবাধে সেই টাকা খরচ করে যাচ্ছে। সব জায়গায় একটা প্রচার অর্থাৎ তারা ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে। এটা আমি সুস্পষ্ট ভাবে বলে এসেছি।

তিনি বলেন, ভোটের জন্য তো আমরা সংগ্রাম করলাম, আমাকে ভোটের হিসাব শেখাতে হবে না। আমরা সেই আইয়ুব খানের আমল থেকে আন্দোলন করে রাস্তায় থাকি। আমরা এমন না যে নতুন এসেছি। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া সবই তো ভোট চোর। আওয়ামী লীগ আসার পর আওয়ামী লীগের ভোট চুরি করতে হয়নি। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন। কাজের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করি। আর এই দেশের মানুষ এখন জানে নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। নৌকায় ভোট দিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন ৪১ ভাগ থেকে ১৮ ভাগে নামিয়ে এনেছি। এটা কারো এনজিওয়ের মাধ্যমে হয়নি, কারো ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে হয়নি। বরং আমরা ক্ষুদ্র সঞ্চয় করাচ্ছি। আমরা দারিদ্র্যসীমা কমিয়ে এনেছি, বর্তমানে দেশে হতদরিদ্র মাত্র পাঁচ পার্সেন্ট। ইনশাআল্লাহ ওটুকুও থাকবে না। হতদরিদ্র থাকবে না। এখন একটা সন্দেহের বিষয় আছে, আমাদের মানুষ কতটুকু সচেতন সেটা হলো কথা। তবে কিছু লোক তো আছে, যারা চোখ থাকতে অন্ধ এবং কান থাকতে বধির। তাহলে তো আর কিছু করা যায় না।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে অধিবেশন শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যে পৌঁছান তিনি।

দুই দেশে মোট ১৬ দিনের সফর শেষে বুধবার (৪ অক্টোবর) দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা জাতির পিতাই হওয়া উচিত ছিল, আওয়ামীলীগের না: কাদের সিদ্দিকী

বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা জাতির পিতাই হওয়া উচিত ছিল, আওয়ামীলীগের না: কাদের সিদ্দিকী

মোঃ জামাল উদ্দিন দুলালঃ

বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা, জাতির পিতাই হওয়া উচিত ছিল, আওয়ামীলীগের না। বাংলাদেশে বাস করবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করতে হবে ? বাংলাদেশের নেতা যে, তাকে- স্বীকার করবেনা, এমনটা মেনে নেয়ার নয়। যারা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে তারা আজ অবহেলিত, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল তারাই পদপদবীর মালিক বনে যাচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের ফাঁসীর দন্ড থেকে মুক্তি পেয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ভোগ শেষে সদ্য কারামুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখালচন্দ্র নাহার বাড়িতে তাকে দেখতে যেয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ওই বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, কোন মুক্তিযোদ্ধার অপরাধে একটি মামলায় ফাঁসী হতে পারেনা, এটা আইনে নাই। বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল নাহার উপর অবিচার করা হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদন্ড ১৪ বছরের স্থলে তাকে ২৪ বছর কারা ভোগ করতে হয়েছে। এই দেশটাকে চেয়েছিলাম মানুষের দেশ হিসেবে, দানবের দেশ নয়। মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সাধারন মানুষের জন্য কিন্তু তা হয়নি। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা বীর প্রতীক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ বিপ্লব বীর প্রতীক, সদস্য সারোয়ার হোসেন সজিব, সৈয়দ মাহববুর রহমান পারভেজ, যুব আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাবিবুন্নবী সোহেল, সদস্য মাহবুবুর রহমান রবিন, মো. সাকিল, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির, সদ্য কারামুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা প্রমূখ।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের ‘বীর নিবাসের বরাদ্ধের চিঠি’ ও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ দু’লক্ষ টাকা রাখাল চন্দ্র নাহার হাতে তুলে দেন।

এসময় সদ্য কারামুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখালচন্দ্র নাহা বলেন, আমি এখন মুক্ত আকাশে নিচে আছি, শান্তিতে আছি, কারাগারে নাই, আমার মুক্তির জন্য দেশবাসী অনেক আন্দোলন করেছেন, আপনাদের কারনে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি, তাই সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।

উল্লেখ্য উপজেলার হোসেনপুর গ্রামে ১৯৯৯ সালের ২৬ ফেব্রæয়ারি প্রতিবেশী দীনেশ চন্দ্র দত্তকে হত্যার অভিযোগে রাখাল চন্দ্র নাহা ও তার ভাই নেপাল চন্দ্র নাহার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের ছেলে নিখিল চন্দ্র। হত্যা মামলা দায়ের করার পর ওইদিনই সন্ধ্যায় দেবিদ্বার থানা পুলিশ স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাখাল চন্দ্র নাহাকে গ্রেপ্তার করে। নেপাল চন্দ্র নাহা পলাতক অবস্থায় মারা যান। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ রাখাল চন্দ্র ও তার ভাই নেপাল চন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে ২০০৩ সালের ২০ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) খান আবদুল মান্নান বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্রকে মৃত্যুদন্ড দেন। এর পর ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাখাল চন্দ্র নাহার মৃত্যুদন্ডাদেশ কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে ৩ এপ্রিল কারা কর্তৃপক্ষের চিঠি পায় পরিবার। পরের দিন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সংগঠন’র পক্ষ থেকে দেবিদ্বারে এবং ৫ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ফাঁসির দন্ড রহিত করার জন্য দাবি জানানো হয়।

এ আন্দোলনে যোগ দেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও। পরের দিন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ‘মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি কাল’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদের দৃষ্টিগোচর হয়। তিনি রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিনকে এ বীর মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসির দন্ড মওকুফ করার জন্য অনুরোধ করেন। ফাঁসি সম্পন্ন হওয়ার ৩ ঘণ্ট আগে অর্থাৎ রাত ৯টায় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত এক ফ্যাক্স বার্তায় ফাঁসীর দন্ড রহিত করেন। ২৫ জুন রাষ্ট্রপতি তার মৃত্যুদন্ড মওকুফ করেন।

অবশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র নাহা যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করে পাঁচ বছর ৭ মাস সাজা রেয়াত পাওয়ায় দীর্ঘ ২৪ বছরের কারা জীবনের অবসান ঘটে এবং গত ৩ জুলাই (রবিবার) দুপুরে কুমিল্লা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন।

শান্তিতে নোবেল পেলেন ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস

শান্তিতে নোবেল পেলেন ইরানের মানবাধিকারকর্মী নার্গিস

ডেস্ক রিপোর্ট:

শান্তিতে নোবেল পেলেন ইরানের নার্গিস মোহাম্মাদি । শুক্রবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।

ইরানে নারীদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই ও সবার জন্য মানবাধিকার ও স্বাধীনতার প্রচারের জন্য তাকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হলো।

নার্গিস মোহাম্মাদি একজন মানবাধিকারকর্মী। বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীনতার অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তিনি। ইরান কর্তৃপক্ষ তাকে অন্তত ১৩ বার গ্রেফতার করেছে। দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছে পাঁচবার। বর্তমানে মোট ৩১ বছরের দণ্ড নিয়ে কারাগারে আছেন তিনি।

গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেন বেলারুশের মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী আলেস বিলিয়াতস্কি, রুশ মানবাধিকার সংস্থা মেমোরিয়াল ও ইউক্রেনীয় মানবাধিকার সংস্থা সেন্টার ফর সিভিল লিবার্টিজ।

২০২১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জেতেন ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসা এবং রাশিয়ার সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য দুঃসাহসিক লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তিনবার শান্তিতে নোবেল পেয়েছে রেড ক্রস (১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে)। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর পেয়েছে দুবার (১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে)।

চলতি বছর ২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হচ্ছে নোবেল বিজয়ীদের নাম। গত সোমবার (২ অক্টোবর) চিকিৎসাবিজ্ঞানে, মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) পদার্থে, ৪ অক্টোবর রসায়নে ও বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। আজ শুক্রবার (৬ অক্টোবর) শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হলো। দুদিন বিরতি দিয়ে ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীর নাম।

ডিনামাইট আবিষ্কারক সুইডেনের বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালে করে যাওয়া একটি উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রচলন করা হয়। প্রথম পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯০১ সালে। সেময় পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সফল, অনন্যসাধারণ গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য পাঁচটি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয়গুলো হলো পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র, সাহিত্য ও শান্তি। যদিও অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয় ১৯৬৯ সাল থেকে।

এ বছর অর্থমূল্য বাড়ছে নোবেল পুরস্কারের। গতবারের চেয়ে এ বছরের বিজয়ীরা ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা বেশি পেতে চলেছেন। নোবেল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ২০২৩ সালে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য বাড়িয়ে ১ কোটি ১০ লাখ ক্রোনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।