All posts by jitu

সমাবেশ ও হরতালে হামলা ভাঙচুর আগুনে ৮৮ লাখ টাকার ক্ষতি: বিআরটিসি

সমাবেশ ও হরতালে হামলা ভাঙচুর আগুনে ৮৮ লাখ টাকার ক্ষতি: বিআরটিসি

ডেস্ক রিপোর্ট:

সমাবেশ ও হরতালের দুই দিনে বাস ডিপোতে হামলা, বাসে ভাঙচুর-আগুনের ঘটনায় ৮৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিসি)।

রোববার (২৯ অক্টোবর) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিআরটিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৮ অক্টোবর আনুমানিক বিকেল ৪টায় বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী বিআরটিসি মতিঝিল আন্তর্জাতিক বাস ডিপোতে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। ডিপোর গেট টপকে ডিপোর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় আন্তর্জাতিক সার্ভিসের কাউন্টার ও বিশ্রামাগার এবং ট্রাফিক শাখায় ভাঙচুরসহ তাণ্ডব চালায়। একপর্যায়ে দুষ্কৃতকারীরা নিচতলায় আন্তর্জাতিক সার্ভিসের কাউন্টারে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভিয়ে ফেলে। হামলায় ঢাকা-আগরতলা, ঢাকা-কলকাতা, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা আন্তর্জাতিক কাউন্টারের অভ্যন্তরে কম্পিউটার, টেবিল, চেয়ার, সোফা, রুমের জানালার গ্লাস সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ডিপোর নিরাপত্তার দায়িত্বে ১০ জন আনসার সদস্য ও ১০০ জন নিজস্ব জনবল দিয়ে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় ডিপোর জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আনসার সদস্য কর্তৃক ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। ঘটনার একপর্যায়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্য ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সবার যৌথ প্রচেষ্টায় দুষ্কৃতকারীরা পিছু হটে।

গত ২৮ অক্টোবর আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশে অংশগ্রহণকারী অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা শাহাজাহানপুরে ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৬২৫৭ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বাসে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাসটির সম্পূর্ণ অংশ পুড়ে যায়। ফলে বিআরটিসির ৬০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়। দুষ্কৃতকারীর হামলায় বাসে নিয়োজিত চালক গুরুতর আহত হয়। এ বিষয়ে ২৮ অক্টোবর মতিঝিল থানায় এবং ২৯ অক্টোবর শাহজাহানপুর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

২৯ অক্টোবর আনুমানিক সকাল সাড়ে ৮টায় উত্তরার জসিমউদ্দিন এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সার্ভিসের চারটি বাস ভাঙচুর করা হয়। বাসের জানালার গ্লাস ও উইন্ডশিল্ডের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। এছাড়া দুষ্কৃতকারীরা বেলা ১১টার দিকে জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা মেট্রো-ব-৫০৯৮ নম্বর বাসে টঙ্গী চেরাগ আলী নামক স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাসের তিনটি সিট পুড়ে যায়। এ ঘটনায় এক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। উভয় ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় জাতিসংঘের ৫৯ কর্মী নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিহত হয়েছেন জাতিসংঘের ৫৯ কর্মী। গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের অবিরাম বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তারা। অন্যদিকে একই সময়সীমায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে।

নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। রোববার (২৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজায় ইউএন রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সির (ইউএনডব্লিউআরএ) ৫৯ জন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে রোববার জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ইউএনআরডব্লিউএ-এর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজায় হামলায় প্রাণ হারানো ইউএনআরডব্লিউএ কর্মীদের সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের সহকর্মীদের নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতিসংঘ এবং ইউএনআরডব্লিউএর জন্য প্রতিটি দিন এক একটি অন্ধকার দিন হয়ে উঠছে।’

প্রসঙ্গত, মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের অত্যাচারের জবাব দিতে গত ৭ অক্টোবর ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামে একটি অভিযান চালায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।

হামাসের এই হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৪০০ ইসরায়েলি। নিহতদের মধ্যে ২৮৬ জন সেনাসদস্য রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। হামাসের হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি। এছাড়া আরও ২২৯ জনকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস।

এই ঘটনার জের ধরে গত ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫ জনে। নিহতদের মধ্যে ৩ হাজার ৩৪২ শিশু, ২ হাজার ৬২ জন নারী এবং ৪৬০ জন বয়স্ক মানুষ।

এছাড়া ইসরায়েলের এই বিমান হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না গাজার কোনও অবকাঠামো। তারা মসজিদ, গির্জা, স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক মানুষের বাড়ি-ঘর সব জায়গায় হামলা চালিয়ে আসছে। একইসঙ্গে গত ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় সর্বাত্মক অবরোধও আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল।

উল্লেখ্য, প্রথম আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পরে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএনডব্লিউআরএ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থটি গাজা, পশ্চিম তীর, জর্ডান, সিরিয়া এবং লেবাননে স্কুলিং (শিক্ষা), প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মানবিক সহায়তাসহ অন্যান্য মানবিক সেবা প্রদান করে আসছে।

বিএনপি আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেছে নিয়েছে: কাদের

বিএনপি আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেছে নিয়েছে: কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি ঐতিহ্যগতভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন। কানাডার আদালত ৬ বার সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে রায় দিয়েছে। ২০১৩- ১৪ সালে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। আজকে বিএনপি একইভাবে আসন্ন নির্বাচনকে ভণ্ডুল করতে আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বেছে নিয়েছে।

রোববার (২৯অক্টোবর) বিকেলে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াত আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ফিরে এসেছে। বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী নয় বলে তারা রাজনৈতিক পরিবেশকে বিনষ্ট করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কারও সঙ্গে সংঘাতে যাব না। গায়ে পড়ে কেন সংঘাতে যাব? আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। তবে আমাদের ওপর হামলে পড়লে পরিস্থিতি যা বলবে তাই করব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের হাতে নিরাপদ নয়। আমরা এখনো বলব, এই সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফিরে আসুন। ক্ষমতা পরিবর্তনে নির্বাচনে বিকল্প নেই। আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিনি বলেন, শনিবার ও রোববারের হামলা বিএনপির পূর্ব পরিকল্পিত। বিএনপি অনেক দিন ধরেই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বলে তারা তাদের রাজনীতির যে সন্ত্রাসী ধারা সেই ধারা বাস্তবায়নে গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা তাদের ভয়ংকর রাজনীতির ধারা, পুরনো চেহারায় ফিরে আসার জন্য সময় নিচ্ছিল। সময় মতোই তারা তাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথ বেছে নিয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তারা চ্যালেঞ্জ করেছে। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা মানে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে তারা অপমান করেছে। গত দুই দিন তারা কী করেনি? বিএনপি যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। অত্যন্ত ক্ষোভ ও বেদনার সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে বিএনপি জামায়াত জোট আবারও নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলো।

কাদের বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী নয়। সুষ্ঠু স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশকে তারা বিনষ্ট করছে। গতকাল নৃশংস হামলা চালিয়ে একজন পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, হাসপাতালে আগুন এগুলোই ছিল তারেক রহমানের টেকব্যাক।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুস রাজ্জাক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শাহজাহান খান, লে. কর্নেল (অব) মো. ফারুক খান, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, দেলোয়ার হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক নাজিবুল্লাহ হিরু, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ-দপ্তর সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন, সানজিদা খানম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন

কুমিল্লায় বিএনপির মিছিলে লাঠিচার্জ-টিয়ারশেল নিক্ষেপ, আটক ৮

স্টাফ রিপোর্টার:

বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতালে কুমিল্লায় বিএনপির মিছিলে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ সময় বিএনপির অন্তত ৮ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

রোববার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী ইয়াছিনের নেতৃত্বে নগরীর কান্দিরপাড় থেকে একটি মিছিল বের হয়ে চকবাজারে গেলে পুলিশ বাধা দেয়।

বিএনপি নেতাদের দাবি তারা শান্তিপূর্ণ হরতাল সমর্থনে নগরীতে মিছিল করছেন। পুলিশ বিনা উস্কানিতে তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়াশেল নিক্ষেপ করে। এতে তাদের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিক আহতদের পরিচয় জানাতে পারেনি তারা।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী আমিন উর-রশিদ ইয়াছিন জানান, পুলিশ বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সরদ সার্কেল) কামরান হোসেন জানান, বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ করতে বলেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা উত্তেজিত হয়ে ককটেল নিক্ষেপ করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন।

চান্দিনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের হরতাল বিরোধী মিছিল ও শান্তি সমাবেশ

চান্দিনা প্রতিনিধি:

সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত এর ডাকা হরতালের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার চান্দিনা অংশে হরতাল বিরোধী মিছিল ও শান্তি সমাবেশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

রবিবার (২৯ জুন) সকালে চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু সিআইপি’র নেতৃত্বে ওই মিছিল ও শান্তি সমাবেশ করে তারা। মিছিলটি মহাসড়কের কাঠেরপুল থেকে শুরু হয়ে উপজেলা গেইট হয়ে চান্দিনা উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চান্দিনা মহিলা কলেজের সামনের সড়কে শান্তি সমাবেশ এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এতে অন্যদের বক্তৃতা করেন- চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মহিউদ্দিন আহমেদ আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান দুলু মাস্টার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম মুন্সি, চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ ভূইয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা এবি ছিদ্দিক, কোষাধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক বশির আহম্মেদ সরকার, পৌর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি কাউন্সিলর আক্তার আহমেদ নাদিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুরুজ ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর আবদুস ছালাম, মো. মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মাসুমুর রহমান মাসুদ, পৌর যুবলীগ সভাপতি মো. জাকির হোসেন সরকার, ॥বাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সেলিম ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, মাইজখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ইমাম হোসেন ফরিদ, পৌর কাউন্সিলর মো. নজরুল ইসলাম, কাজী তোফায়েল আহমেদ জনি, উপজেলা ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি কাজী ইয়াসিন আহমেদ অভি, সাবেক সহ-সভাপতি সাকিব মাহমুদ ভূইয়া তানিন প্রমুখ।

উন্নয়ন সহ্য হচ্ছেনা, বিদেশীরা বিএনপি-জামায়াতকে উস্কানি দিচ্ছেন : মোরশেদ আলম এমপি

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

যাদের বাংলাদেশের উন্নয়ন সহ্য হচ্ছেনা, উন্নয়ন চাচ্ছে না। তারাই বিএনপি-জামায়াতকে উস্কানি দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন, নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোরশেদ আলম।

তিনি বলেছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান মোতাবেক। সংবিধান হলো আমাদের দলিল। আজকে নির্বাচন আসার আগেই তারা বলতেছে নির্বাচন এভাবে না ওভাবে হবে। তাদের ইন্ধন যোগাচ্ছে কিছু বিদেশী শক্তি। যাদের বাংলাদেশের উন্নয়ন সহ্য হচ্ছেনা, উন্নয়ন চাচ্ছে না। তারাই বিএনপি-জামায়াতকে উস্কানি দিচ্ছেন

রোববার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর রামেন্দ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত মত বিনিময় ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩ হাজার উপকারভোগী এ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে নাই, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে চায় নাই। আজকে তারাই শেখ হাসিনা ভাতা দিচ্ছে, মানুষকে বিনামূল্যে ঘর দিচ্ছে, বাংলাদেশে মেট্রোরেল দিচ্ছে, পদ্মা সেতু দিচ্ছে, এলিভেডেট এক্সপ্রেসওয়ে দিচ্ছে,এসব প্রচন্দ করছে না। এই যে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, কর্ণফুলী টানেল, রাস্তা ঘাট, বিদ্যুতের উন্নয়ন। একটা মহল এসব উন্নয়ন প্রচন্দ করছে না, সহ্য করছে না। তারা বিভিন্ন ভাবে বাংলাদেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করার জন্য পাঁয়তারা করে যাচ্ছে।

উপকারভোগীদের উদ্দেশ করে মোরশেদ আলম বলেন, আপনারা যদি শেখ হাসিনার আমলে ভাতা, ঘর পেয়ে থাকেন, আপনারা যদি সুখে জীবন যাপন করেন আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন। আর যারা ভাতা পান নাই শেখ ক্ষমতায় থাকলে পর্যায়ক্রমে তারাও ভাতা পাবেন। আর যদি শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকে আপনাদের এ ভাতাও আপনারা আর পাবেন না। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে আপনাদের ভাতা কেড়ে নিয়ে যাবে। তাই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে জয় যুক্ত করলে আপনারা সকল ধরনের সুবিধা পাবেন।

এ সময় তিনি নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, নৌকা জয়যুক্ত করা মানে আপনাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আপনাদের সুখের জন্য ,শান্তির জন্য, ভাতার জন্য আপনারা নৌকায় ভোট দিবেন। শেখ হাসিনা যতদিন বাংলাদেশের অভিভাবক থাকবে ততদিন বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে।

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিসান বিন মাজেদের সভাপতিত্বে নবীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম রিগানের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক, সেনবাগ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. গোলাম কবির, সেনবাগ উপজেলা সমাবসেবা অফিসার বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।

চৌদ্দগ্রামে শান্তিপূর্ণ হরতাল, বিরোধী শান্তি সমাবেশ করেছে আওয়ামীলীগ

ফখরুদ্দীন ইমন:

বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে হরতাল বিরোধী শান্তি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৯ অক্টোবর) সকালে চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ মুজিবুল হক মুজিব এমপির কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আয়োজিত শান্তি সমাবেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পৌর মেয়র জিএম মীর হোসেন মীরু এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ রহমত উল্লাহ বাবুল, দক্ষিণ জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মমিনুর রহমান ফটিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আকতার হোসেন পাটোয়ারী, অধ্যাপক মফিজুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক জিএম জাহিদ হোসেন টিপু, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়া খোকন, ইউপি চেয়ারম্যান ভিপি মাহবুব হোসেন মজুমদার, মাহফুজ আলম, এ কে খোকন, কাজী ফখরুল আলম ফরহাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন ভূঁইয়া, সহ-দফতর সম্পাদক আলমগীর হোসেন বিপ্লব, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হালিম চৌধুরী নিজাম, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা যুবলীগ নেতা ইমাম হোসেন পাটোয়ারী এনাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম সবুজ, সাধারণ সম্পাদক কাউছার হানিফ শুভ, পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জামশেদ হোসেন নয়ন প্রমুখ। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মহাসড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার অংশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পদক্ষিণ শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

এদিকে ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে বিএনপি ঘোষিত সকাল-সন্ধ্যা হরতালের পক্ষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে রোববার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান পদক্ষিণ শেষে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে সমাপ্ত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক হারুনুর রশিদ সহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি ঘোষিত সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল দিতেও দেখা গেছে। মহাসড়কে এদিন দূরপাল্লার বাস সহ যান চলাচল করতে দেখা যায়নি। তবে, সিএনজি অটো-রিকসা ও দুয়েকটি প্রাইভেট গাড়ী চলতে দেখা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা দাঙ্গা-হাঙ্গামার খবর পাওয়া যায়নি। হরতালের পক্ষে কোথাও কোনো পিকেটিং হয়নি।

নোয়াখালীতে ট্রাকে আগুন-গাড়ি ভাঙচুর, আটক ৮৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

দেশব্যাপী বিএনপি-জামাতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল নোয়াখালীতে ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হয়েছে। পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে জামায়াত-বিএনপি সন্দেহে ৮৪জনকে গ্রেফতার করেছে। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ছিল।

রোববার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলার সোনাপুর বাস স্টেশন থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস স্টেশন ছেড়ে যায়নি। জেলার ৯টি উপজেলার অভ্যন্তরীণ রুটে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। স্কুল,কলেজ ও অফিসমুখী লোকজনও ছিলেন রাস্তায়। জেলায় হরতালে কোনো প্রভাব পড়েনি।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে জেলা শহরের অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলতে থাকে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহলে রয়েছে। এখানো পর্যন্ত হরতালের সমর্থনে জেলার কোথাও মিছিল বা পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। হরতালে সমর্থণে মাঠে ছিলনা বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট বাজার এলাকায় একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। রোববার সকালের দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলায় হরতালের সমর্থনে বিএনপির নেতাকর্মিরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সকাল ৮টার দিকে সোনাইমুড়ী উপজেলার একটি সড়কে গাছের গুডি পেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে হরতাল সমর্থকরা। দুপুর ১টা ১০মিনিটের দিকে জেলা শহর মাইজদীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে ১৫-২০জন বিএনপির নেতাকর্মি হরতালের সমর্থনে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করে। একপর্যায়ে তারা সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। জেলা বিএনপি অভিযোগ করেছেন, তাদের ২৫জন নেতাকর্মিকে পুলিশ আটক করেছে।

অপরদিকে, হরতাল ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ। বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম, নোয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু প্রমূখ।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মাঠে রয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলা থেকে ৭ জন, হাতিয়া থেকে ১ জন কোম্পানীগঞ্জ থেকে ৬জন , বেগমগঞ্জ থেকে ১৭জন , সেনবাগ থেকে ১৪জন ,চাটখিল থেকে ৪জন ,সোনাইমুড়ী থেকে ২১ জন , সুবর্ণচর থেকে ৬ জন , ও জেলা গোয়ান্দো পুলিশ (ডিবি) ৮জন সহ মোট ৮৪জনকে গ্রেফতার করে।