All posts by jitu

সাংবাদিক ইকবালকে আবারও ডেকেছে বিতর্কিত তদন্ত কমিটি

সাংবাদিক ইকবালকে আবারও ডেকেছে বিতর্কিত তদন্ত কমিটি

কুবি প্রতিনিধি:

সংবাদ প্রকাশের জেরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্যাম্পাস সাংবাদিক ইকবাল মনোয়ারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইকবালকে লিখিত বক্তব্যসহ কমিটির সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

তবে বিতর্কিত ওই কমিটির মাধ্যমে হয়রানি করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনবহির্ভূতভাবে ইকবালকে দেয়া সাময়িক বহিষ্কারাদেশের ওপর ইতোমধ্যে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

ওই সাময়িক বহিষ্কারাদেশের আগে উপাচার্যপন্থি যেসব শিক্ষকরা মানবন্ধন করে ইকবালের শাস্তি দাবি করেছিলেন, তাদের নিয়েই গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে ইকবালকে জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর লিখিত বক্তব্যসহ তদন্ত কমিটির সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার জন্য ইকবালকে চিঠি দিয়েছে প্রশাসন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের বক্তব্যকে ‘বিকৃত করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তমূলক মিথ্যা তথ্য’ প্রচার করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার কারণ ও উদ্দেশ্য উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপাচার্যের বক্তব্য ‘বিকৃত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক মিথ্যা তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের’ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যসহ হাজির হতে বলা হয়েছে ইকবালকে।

এর আগে এক চিঠিতে গত ১০ আগস্ট তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলেছিল প্রশাসন। তবে অভিযোগ, তদন্ত ও তদন্ত কার্যক্রমের বিষয়ে অবহতিকরণের জন্য গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেন ইকবাল। ওই চিঠিতে ইকবাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট করে অবহিত না করেই তদন্ত কমিটি গঠন ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, কে অভিযোগ দিয়েছে, কোন আইনে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তি কী, কাদেরকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কোথায় ও কোন গণামাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা জানেন না তিনি। বিষয়গুলো অবহিত করতে রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ জানান ইকবাল। তবে রেজিস্ট্রার সেসব বিষয় অবহিত না করেই নতুন করে চিঠি দিয়ে ইকবালকে তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হতে বলেছেন।

এ বিষয়ে ইকবাল মনোয়ার বলেন, ‘অভিযোগ, অভিযোগকারী ও তদন্ত কমিটি সম্পর্কে আমাকে জানাতে লিখিত দিয়েছিলাম আমি। আমার চিঠির উত্তর না দিয়ে আবারও আমাকে তদন্ত কমিটির সামনে লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। অথচ আমি জানিই না, কী ও কার অভিযোগের বিষয়ে আমি লিখিত দেব। প্রশাসন স্পষ্টতই আমাকে ফাঁসাতে প্রহসনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি জানতে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। এরপর খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ওই চিঠির অনুলিপিতে তদন্ত কমিটির আহবায়ক হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীও।

উভয়ই গত ২ আগস্ট উপাচার্যের পক্ষে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ইকবালের শাস্তি দাবি করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাঁদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করায় তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসাইন বলেন, ‘স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি হলো স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেউ তদন্ত প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারবেন না। তদন্ত কমিটির সদস্যরা যদি শাস্তি দাবি করে থাকেন, তাঁর মানে আগে থেকেই তিনি এ বিষয়ের সাথে যুক্ত আছেন। কাজেই তাঁর কাছ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত আশা করা যাবে না। কারণ, তিনি ইতিমধ্যে একটি পক্ষ অবলম্বন করে ফেলেছেন।’

গত ২ আগস্ট প্রক্টরিয়াল বডি ইকবালকে বহিষ্কার করতে সুপারিশ করে প্রতিবেদন তৈরি করে। সে প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ইকবালকে বহিষ্কার করে প্রশাসনের ‘উচ্চ পর্যায়ের সভা’। সে সভার প্রধান ছিলেন স্বয়ং উপাচার্য নিজে। উপাচার্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত কার্যক্রমে তিনি সভা প্রধান হওয়ায় ব্যক্তিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ‘উচ্চ পর্যায়ের সভা’ নামেও কোনো প্রশাসনিক কাঠামো নেই।

এদিকে প্রক্টরিয়াল বডির ওই প্রতিবেদন কী অভিযোগের ভিত্তিতে ও কোন আইনের আলোকে দেওয়া হয়েছিল তা সম্পর্কে ইতোপূর্বে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী। সর্বশেষ গতকালও তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইকবালকে দেওয়া চিঠিতে বিষয়টিকে ইতোমধ্যে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিমূলক, মিথ্যা তথ্য’ বলে উল্লেখ করেছে প্রশাসন। প্রমাণ হওয়ার আগেই এমন বলা আইনসম্মত নয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (কুবিসাস) সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইউসুফ আকাশ বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ একটি আপেক্ষিক শব্দ।

কোনো সংবাদ কারও বিপক্ষে গেলে তিনি বিভিন্নভাবেই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। প্রশাসন যে অভিযোগের কথা বলেছে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছুই বলেনি। তদন্ত কমিটি ও কার্যক্রম জানানো হয়নি। উপাচার্য যা বলেছেন, সাংবাদিক তা লিখেছেন। এখানে কোনো মিথ্যাচার হয়নি।

আহমেদ ইউসুফ আরও বলেন, ‘ইকবাল পেশাগত দায়িত্বে প্রতিবেদন লিখেছেন। তিনি শিক্ষার্থী হয়ে কাজ করেনি। এখানে পেশাগত পরিচয় ও একাডেমিক পরিচয় প্রশাসন গুলিয়ে ফেলেছে। এই বিষয়টি শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি। কেউ সংবাদে সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকারের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও উপায় রয়েছে। সে দিক দিয়ে মোকাবেলা না করে অন্যায় ও সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে একজন সাংবাদিককে হয়রানি করা হচ্ছে।’

পেশাগত কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠনের আইনি ভিত্তি নেই বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকলে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রতিবাদলিপি কিংবা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি লঙ্ঘন ছাড়া শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।’

উল্লেখ্য, ইকবাল মনোয়ার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। তিনি দৈনিক যায়যায়দিনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি পদে কর্মরত এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (কুবিসাস) অর্থ সম্পাদক।

গত ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক এ এফ এম আবদুল মঈন। তিনি সেই বক্তৃতায় ‘দেশে দুর্নীতি হচ্ছে দেখেই উন্নতি হচ্ছে’ বলে উল্লেখ করেন। ইকবাল মনোয়ারসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা উপাচার্যের ওই বক্তব্য তুলে ধরে প্রতিবেদন করেন।

পরে ২ আগস্ট ইকবালকে আইনবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার করে কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টে রিট করলে ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করেন।

এছাড়া বহিষ্কারাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আপীল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে বিভাগীয় কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বাধা নেই বলেও রায় দিয়েছেন।

লিংক খুঁজতে বারণ করলেন অভিনেত্রী ফারিণ

লিংক খুঁজতে বারণ করলেন অভিনেত্রী ফারিণ

ডেস্ক রিপোর্ট:

বৃহস্পতিবার একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত অভিনেতা সিয়াম আহমেদ ও অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণের ‘পুনর্মিলন’ সিনেমা।

কাজিনদের সম্পর্কের নানান বাঁক, মাত্রা, আনন্দ, হাসি, টুকরো অভিমান, টানাপোড়ন, সংশয় আর দ্বন্দ্বের গল্প নিয়ে ‘পুনর্মিলন’ মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে।

এই ওয়েব ফিল্ম প্রচারের অভিনব এক কৌশল বেছে নিলেন অভিনেত্রী ফারিণ। শুক্রবার নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ‘পুনর্মিলন’ সিনেমা সার্চ করার ছবি প্রকাশ করে এই তারকা লিখেছেন, ‘লিংক না খুঁজে চরকিতে গিয়ে দেখেন। ডেসক্রিপশন-এ দিয়ে দিচ্ছি।’

অভিনেত্রীর এমন প্রচারের কৌশলে দর্শকরাও বেশ মজা পেয়েছেন। অনেকেই মন্তব্যঘরে জানিয়েছেন, মাত্র দেখে শেষ করলাম। শেষটা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। খুব ভালো লেগেছে। আবার কেউ কেউ লিখেছেন, ভেবেছিলাম অন্য কোনো কিছুর লিংক কি না।

পুনর্মিলনের গল্প নিয়ে ফারিণ বলেছিলেন, একটি বন্ধুত্বের গল্প, ভালোবাসার গল্প, ফিরে আসার গল্প দেখানো হয়েছে। আমাদের দেশে ফিল গুড কাজ খুব কম হয়। আরিয়ান আমার চোখে এক অসাধারণ গল্পকথক। তার সঙ্গে আমার ছোট পর্দায় অল্প কিছু কাজ হয়েছে। কিন্তু আমি অবাক হই যে দর্শক আজও আমাদের প্রত্যেকটা কাজের কথা মনে রেখেছে।

সিয়ামের সঙ্গে প্রথমবার কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, সিয়াম দারুণ গুণী একজন অভিনেতা। তার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে আমি আনন্দিত। আমরা এক হয়েছি খুব সুন্দর একটা গল্প বলার জন্যই। এই সিনেমা দর্শক দেখে ভালোবেসে ফেলবে। বিশেষ করে যারা জয়েন্ট ফ্যামিলিতে বড় হয়েছে, যারা বন্ধু হারিয়েছে তারা এই সিনেমা দেখে কাঁদবে। দর্শক নিজেকে আবিষ্কার করবে ভালোবাসার এক পুনর্মিলনে।

সিয়াম-ফারিণ ছাড়াও সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন শাশ্বত দত্ত, নূর ইমরান মিঠু, তাজনূভা জাবীন নওবা তাহিয়া, দীপ্ত দে, জান্নাতুল ফেরদৌস কাজল, টুনটুনি হামিদ, মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, শোয়েব মনির, হামিদুর রাহমান, গোলাম ফরিদা ছন্দা, মালা ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ নাসির

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ নাসির

ডেস্ক রিপোর্ট

আগের আসরে অধিনায়ক আর এবার আসরে নেই ড্রাফটে। এক বছরের মধ্যে একেবারে মুদ্রার বিপরীত পিঠ দেখে ফেললেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন। অথচ গত আসরেও ছিলেন টুর্নামেন্টের আলোচিত নাম। ঢাকা ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ১২ ম্যাচ খেলে ৩৬৬ রান করেছিলেন নাসির। বল হাতে শিকার করেছেন ১৬ উইকেট। তবে এরপরেও ২০২৪ সালের বিপিএলের ড্রাফটে নেই তার নাম।

তবে ঠিক কেন নাসিরের নাম নেই, সেটাও প্রায় সকলেরই জানা। আবুধাবির টি-টেন লিগে অংশ নিতে গিয়ে দূর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন একসময় বাংলাদেশ দলের নিয়মিত এই মুখ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ৭৫০ ডলারের বেশি অর্থমূল্যের উপহার নিয়েছেন এবং তা আমিরাত বোর্ডের দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই অভিযোগের কারণে বিপিএল তো বটেই ঘরোয়া ক্রিকেটের কোথাও দেখা যাবেনা নাসিরকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। গণমাধ্যমকে নাসিরের বিষয়টি নিয়ে নান্নু জানান, ‘আমরা তাঁকে বিপিএল ড্রাফটের তালিকায় রাখিনি। আইসিসি ক্লিয়ার না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ঘরোয়া টুর্নামেন্টে সে খেলতে পারবে না।’

নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সেই অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের আবুধাবি টি-১০ লিগে দুর্নীতি বিরোধী তিনটি ধারা ভঙ্গ করেছেন তিনি। যেখানে উপহার গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হলে নাসির অসহযোগিতা করেছেন বা সহায়তা করতে অস্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, আগামীকাল রোববার বিপিএলের দশম আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২০৩ জন দেশি ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে এবারের প্লেয়ার্স ড্রাফটে। সাতটি ক্যাটেগরিতে ভাগ করা হয়েছে তাদেরকে। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে থাকছেন মুশফিকুর রহিম। এই ক্যাটাগরিতে গতবারের মতোই ৮০ লাখ টাকা থাকছে। ‘বি’ ক্যাটেগরিতে আছেন চার জন ক্রিকেটার। তারা হলেন, আফিফ হোসেন ধ্রুব, এবাদত হোসেন, ইমরুল কায়েস ও রনি তালুকদার। তাদের পারিশ্রমিক ৫০ লাখ টাকা। ‘সি’ থেকে ‘জি’ এর তালিকায় থাকা খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য ৩০ লাখ, ২০ লাখ, ১৫ লাখ, ১০ লাখ ও ৫ লাখ টাকা।

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে গেল ৩২২৫ কেজি ইলিশ

আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে গেল ৩২২৫ কেজি ইলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছে তিন হাজার ২২৫ কেজি ইলিশ। শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনটি পিকআপ ভ্যানে করে এসব মাছ ভারতে রপ্তানি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, মাছগুলো রপ্তানি করে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর রিপা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল মেসার্স প্রীতম এন্টারপ্রাইজ। প্রতি কেজি ১০ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি টাকায় ১ হাজার ১০০ টাকা) এই মাছ রপ্তানি করা হয়।

সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স প্রীতম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মনির হোসেন বাবুল জানান, পূজা উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ইলিশ মাছ রপ্তানি হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। ৭৯টি প্রতিষ্ঠান ৫০ টন করে ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এরই আলোকে এ বন্দর দিয়ে ইলিশ রপ্তানি করা হলো।

উল্লেখ্য, দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংকট দেখিয়ে ২০১২ সালের পরে ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার। তবে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্ক বাড়াতে গত দুই বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরও দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ও ত্রিপুরায় ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো হোক: মির্জা ফখরুল

মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো হোক: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নিয়ে গেছে। এ দফায় তাকে দুইবার সিসিইউতে নেওয়া হলো। তিনি গুরুতর অসুস্থ। এ সরকারের আজ্ঞাবহ বিচার বিভাগ মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দিয়ে পাঁচ বছর আগে কারারুদ্ধ করেছিল। এরপর তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। শর্ত দিয়েছে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। চিকিৎসা ব্যবস্থা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কারাগারে থাকলেও সব বন্দিকে চিকৎসা দিতে হবে। তার চিকিৎসকরা ও দলের পক্ষ থেকে বলেছি, মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে দ্রুত বিদেশে উন্নত হাসপাতালে পাঠানো হোক। পরিষ্কার করে বলতে চাই- দেশনেত্রীর যদি সুচিকিৎসা না হয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো না হয় তাহলে এই হাসিনার সরকার দায়ী থাকবে।

শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল জানান, কারাবন্দি অবস্থায় বিদেশে পাঠানোর অনেক নজির আছে। জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। আজকের যিনি জোর করে ক্ষমতায় বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকেও ওয়ান ইলেভেনের সময় কানের চিকিৎসার জন্য প্যারোলে আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিল। আমরা সে কথা তো ভুলে যাইনি। আর আজকে দেশনেত্রীর জীবন মরণের সমস্যা। তার চিকিৎসকরা বলছেন, এখন যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যদি তার সঠিক চিকিৎসা না হয় জীবন বিপন্ন হয়ে যাবে।

তিনি জানায়, খালেদা জিয়া এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক নম্বরের নেত্রী। শহিদ রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এ দেশের গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছিল। তা মুক্ত করার জন্য সেদিনকার গৃহবধূ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। খালেদা জিয়ার রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না। দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, পথে-প্রান্তে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরাচারকে উৎখাত করে ৯১ সালে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দুইবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখনও কারাগারে থেকেও অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কোনো আপস করেননি।

মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে চলেছেন। সব কিছু বাদি দেন, একজন নারী তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দুই শিশুপুত্রকে হাতে ধরে নিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেরিয়েছেন। আজকে এ দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকারে যদি কেউ থেকে থাকেন তার মধ্যে খালেদা জিয়া এক নম্বর, দুই নম্বর তারেক রহমান। নেত্রীকে শুধুমাত্র প্রতিহিংসার কারণে আটক করে রেখেছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ অবস্থায় নিয়ে গেছে। তারা জানে দেশনেত্রী যদি বাইরে বেরিয়ে আসেন তাহলে তার ডাকে কোটি কোটি মানুষ বেরিয়ে আসবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয়সহ মহানগর ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতারা অংশ নেন।

আইসিইউতে এক মেয়েকে রেখে আরেক মেয়েকে দাফন

আইসিইউতে এক মেয়েকে রেখে আরেক মেয়েকে দাফন

ডেস্ক রিপোর্ট:

পিতার কাঁধে সন্তান লাশ নাকি পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বস্তু। টগবগে সন্তানের এই লাশের ভার কাঁধে তুলে নিয়ে তাকে কবরে রেখে আসা যে কতটা দুঃসহ যন্ত্রণার, সেটি একমাত্র তিনিই বুঝতে পারবেন, যিনি তার সন্তানকে হারিয়েছেন। বিষয়টি আরও বেদনাবিধুর হয়, যখন একটি সন্তানকে মৃত্যুর কাছাকাছি রেখে অন্য আরেকটি সন্তানকে কবরে শায়িত করে আসেন বাবা নামক নিথর একটি পাথর। ঠিক এমনটিই ঘটেছে আলমগীর হোসেনের ক্ষেত্রে।

ঠিকাদার আলমগীর হোসেনের ঘর আলো করে রাখতো আট বছর বয়সী আফিয়া আঞ্জুম ও ছয় বছর বয়সী তাসনিয়া তাসনিম। তবে তাদের সেই আলোকিত ঘরে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে আফিয়া আঞ্জুমকে। আর ছোট মেয়ে তাসনিয়াও সেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে।

দুই সন্তান আর স্বামী-স্ত্রী মিলে চারজনের পরিবার নিয়ে রাজধানীর ৬০ ফুট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন আলমগীর হোসেন। তাদের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালিতে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বড় মেয়ে আফিয়ার জ্বর আসে, এরপরই হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। দুইদিন পরই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ছোট মেয়ে তাসনিয়াও। চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে গেলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে না ফেরার দেশে পাড়ি জমায় আফিয়া। আলাপকালে এমন নির্মম দুঃসময়ের বর্ণনা দেন আলমগীর হোসেন।

পানি থেকে ওঠানো সেই শিশুটি এখন সুস্থ

পানি থেকে ওঠানো সেই শিশুটি এখন সুস্থ

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানী মিরপুর হাজিরোড ঝিলপার বস্তির সামনে প্রবল বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতার পানিতে পড়েছিল ৮ মাস বয়সের এক শিশু। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনার স্থান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় তার বাবা-মা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন। সেখানে জমে থাকা পানিতে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই শিশুকে ঢামেকের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। আহত শিশুটিরর নাম হোসাইন।

শিশুটিকে উদ্ধার করা তৃতীয় লিঙ্গের বৃষ্টি জানায়, ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। একই জায়গায় ওই শিশুটি জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে পড়ে ছিল। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিশুটি অনেক কান্নাকাটি করেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া জানায়, মিরপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজন নিহত হওয়ার ওই ঘটনাস্থল থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। বৃষ্টি নামে তৃতীয় লিঙ্গের একজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। শিশুটি ভালো আছে। চিকিৎসা শেষে ভোর ৪টার দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশু সন্তানটি বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে নিহত মুক্তা ও মিজান দম্পতির।

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার ছেলে নিহত

ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় কুমিল্লার ছেলে নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মো. রাসেল (৩২) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ফেনীর রামপুর রাস্তার মাথায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রাসেল কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার সরকার বাড়ির মুজিবুর রহমান সরকারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মোটর সাইকেল চালক মো. রাসেল কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর রাস্তার মাথায় দুর্ঘটনার শিকার হন। মো. দেলোয়ার হোসেন নামে এক পথচারী রাসেলকে রাস্তার পাশ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। তবে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি।

মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এক মোটরসাইকেল চালক মারা যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভিসানীতির প্রয়োগ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ভিসানীতির প্রয়োগ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভিসানীতির প্রয়োগ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এমন ঘোষণা দিতে পারেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। তবে কাদের বিরুদ্ধে ভিসানীতি প্রয়োগ করা হয়েছে; তাদের কোনো নাম ঘোষণা করবেন না লু।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যাদের বিরুদ্ধে ভিসানীতির প্রয়োগ হয়েছে, তাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে যাদের বিরুদ্ধে ভিসানীতির প্রয়োগ হচ্ছে তাদের মধ্যে সরকার ও বিরোধী পক্ষেরও কারও কারও নাম আছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন গত ২৪ মে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সহায়তার লক্ষ্যে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেন। গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন বর্তমান ও সাবেক বাংলাদেশী কর্মকর্তা, সরকার ও বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বিচার বিভাগের সদস্য, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে।

গণতান্ত্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অর্থ হলো ভোট কারচুপি, ভোটারকে ভয়ভীতি দেখানো, শান্তিপূর্ণ সভা সমাবেশে বাধা দান, রাজনৈতিক দল, ভোটার, সুশীল সমাজ, মিডিয়াকে মত প্রকাশে বাধা দেওয়া। এসব কর্মকাণ্ডের জন্যও ভিসানীতির প্রয়োগ হতে পারে।

জুমার নামাজের প্রথম রাকাত না পেলে কী করবেন?

জুমার নামাজের প্রথম রাকাত না পেলে কী করবেন?

ডেস্ক রিপোর্ট:

জুমার দিন খুতবার আগেই মসজিদে চলে যাওয়া উচিত। জুমার আজানের পর দুনিয়াবি কাজকর্ম করার ব্যাপারে কোরআনে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। দ্রুত মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন,

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
হে মুমিনগণ, যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও আর বেচা-কেনা বর্জন কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে। (সুরা জুমা: ৯)

তাই জুমার আজান হয়ে গেলে মসজিদে চলে যাওয়া, সব দুনিয়াবি কাজ বন্ধ করে দেওয়া কুরআনের সরাসরি নির্দেশে ওয়াজিব বা অবশ্য কর্তব্য।

এরপরও কোনো অসুবিধা বা জরুরি ব্যস্ততার কারণে কেউ যদি জুমার জামাতে গিয়ে প্রথম রাকাত না পান, তাহলে তিনি অন্যান্য নামাজের মতোই ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর উঠে দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট এক রাকাত আদায় করবেন। অর্থাৎ ইমামের সালাম ফেরানোর পর আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়াবেন, সানা পড়বেন, সুরা ফাতিহা পড়বেন, সুরা মেলাবেন, তারপর রুকু ও সেজদা করে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।

ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতে জুমার নামাজের দ্বিতীয় রাকাতও না পেলে, শুধু শেষ বৈঠক পেলে অর্থাৎ ইমাম সালাম ফেরানোর আগে জামাতে শরিক হতে পারলেেই সেটা জুমা গণ্য হবে। ইমাম সালাম ফেরানোর পর মাসবুক হিসেবে দুই রাকাত জুমা পূর্ণ করতে হবে। মুক্তাদি তাশাহুদ পড়ার আগে যদি ইমাম সালাম ফেরান, তাহলে মুক্তাদি নিজে তাশাহুদ পূর্ণ করে বাকি নামাজের জন্য দাঁড়াবেন।

কিতাবুল আসারে উল্লিখিত রয়েছে, ইবরাহিম নাখঈ (রহ.) বলেছেন, কেউ যদি জুমার দিন মসজিদে আসার পর ইমামকে শেষ বৈঠকে পায়, তাহলে এক তাকবির বলে নামাজে অংশগ্রহণ করবে এবং আরেক তাকবির বলে বসে তাশাহুদ পড়বে। এরপর ইমাম যখন সালাম ফেরাবে তখন দাঁড়িয়ে যাবে এবং দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেবে। (কিতাবুল আসার: ১২৮)

তবে ইমাম মালেক, শাফেঈ ও আহমদ (রহ.) বলেন, জুমার নামাজ পাওয়ার জন্য ইমামের সাথে অন্তত এক রাকাত পেতে হবে অর্থাৎ দ্বিতীয় রাকাতের রুকু শেষ হওয়ার আগেই জামাতে শরিক হতে হবে। ইমাম দ্বিতীয় রাকাতের রুকু থেকে ওঠার পর কেউ জামাতে যোগ দিলে ওই নামাজ তার জন্য জুমা নয়, বরং জোহর গণ্য হবে। তাই নামাজটিকে জুমা হিসেবে দুই রাকাত নয়, জোহর হিসেবে চার রাকাত পড়তে হবে। ইমাম সালাম ফেরানোর পর সে দাঁড়িয়ে যাবে এবং জোহরের নামাজ হিসেবে চার রাকাত পূর্ণ করবে।