Tag Archives: যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট:

দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ওই আগ্রাসনের পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড ও উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র অঞ্চলে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জ্বালানি মার্কেট। ইরান বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় হাহাকার শুরু হয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকায়। সামগ্রিক বিবেচনায় এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হতে পারে ২১ হাজার কোটি ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় ২৫দশমিক ৬৯ ট্রিলিয়ন বা ২৫ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান মুদ্রা বাজার অনুযায়ী, প্রতি ডলার ১২২ দশমিক ৩৫২ টাকা ধরলে এ সংখ্যা পাওয়া যায়।

পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক ও রাজস্ব বিশ্লেষক কেন্ট স্মেটার্সের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে মার্কিন অর্থনীতির ২১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।

স্মেটার্স সম্প্রতি বলেছেন, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে বাণিজ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও গ্যাসোলিনের দামে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, যদিও অর্থনীতির ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব কতটা সুনির্দিষ্টভাবে পড়বে তা অনুমান করা কঠিন। তার বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ১১৫ বিলিয়ন ডলার, তবে সংঘাতের ধরণ ও স্থায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে এই অংক ৫০ বিলিয়ন থেকে ২১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধব্যয় গণনার ক্ষেত্রে আমার একটি সমস্যা হলো—তারা বিকল্প পরিস্থিতি বা ‘কাউন্টারফ্যাকচুয়াল’ বিষয়টিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে। ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত, তবে পরে আমাদের সামরিক খাতে এবং এমনকি শহরগুলো পুনর্গঠনে আরও অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে যুদ্ধের অর্থনৈতিক হুমকির কথা স্বীকার করেছেন এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো দিয়ে চলাচলকারী জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য সরকারি বীমা ও প্রয়োজনে নৌ-এসকর্ট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিতে শুরু করবে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্বীকার করেন, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ‘কিছু সময়ের জন্য’ বেশি থাকতে পারে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সংঘাত শেষ হলে ‘এই দাম আগের চেয়েও নিচে নেমে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) লেনদেন শেষে বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, জাতীয় পর্যায়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ১০ সেন্টের বেশি বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা হবে তা মূলত সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর নির্ভর করবে। গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভ-এর নীতি ও অ্যাডভোকেসি প্রধান এবং বাইডেনের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অ্যালেক্স জ্যাকুয়েজ বলেন, বাজার বর্তমানে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকিকে বেশ অবমূল্যায়ন করছে—এমন একটি সংঘাত যা দ্রুত শেষ হবে না, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক হবে না এবং সবকিছু সময়মতো স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরবে না।

অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি, এই বিশাল সামরিক অভিযানে আরও ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ব্যয় হতে পারে, যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে বিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, কতদিন চলবে তা ‘এই মুহূর্তে জানা সম্ভব নয়’ বলে কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন। তিনি গত ২ মার্চ লিখেছেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এবং টেকসই শান্তি চায়, তবে প্রয়োজনীয় সামরিক অভিযানের পূর্ণ পরিধি ও স্থায়িত্ব এই মুহূর্তে জানা সম্ভব নয়।

তিনি এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এই বোমাবর্ষণ ‘চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ’ স্থায়ী হতে পারে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

ইরান যুদ্ধে কী কী অস্ত্র ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র, খরচ কত?- আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার

ডেস্ক রিপোর্ট:
ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রবেশ করেছে নতুন পর্যায়ে।

শনিবারের (২৮ ফেব্রুয়ারি) ওই হামলা দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য সামরিক সংঘাতের সূচনা করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে তাদের সামরিক অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটন কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন একটি যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যেতে পারবে? এবং এর সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে?

অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ কী?

২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা আট মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে ‘একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানে’ অংশ নিয়েছে।

পরে পেন্টাগন জানায়, এই মিশনের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।

ট্রাম্প বলেন, ‘অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব। এটি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার অভিযান শুরুর পর থেকে ইরানে ১ হাজার ২৫০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পৃথক এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা ইরানের ১১টি জাহাজে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানে বিমান হামলা, সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক-সম্পর্কিত স্থাপনা ও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের ওপর সমন্বিত আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৯৮৯ সাল থেকে নেতৃত্বে থাকা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে প্রথম দফার মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার (২ মার্চ) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, প্রয়োজন হলে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। সোমবার পর্যন্ত ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানায়, ইরানজুড়ে ১৩০টি স্থানে হামলায় অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন।

২০২৩ সাল থেকে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র কত ব্যয় করেছে?

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ‘কস্টস অব ওয়ার’ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে প্রায় ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে।

এছাড়া ইয়েমেন, ইরান এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে সমর্থন জানিয়ে মার্কিন সামরিক অভিযানে ৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন থেকে ১২ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সংশ্লিষ্ট সংঘাত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন থেকে ৩৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং তা আরও বাড়ছে।

ইরান যুদ্ধে কোন অস্ত্র ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে?

সেন্টকম-এর তথ্য অনুযায়ী, অপারেশন এপিক ফিউরিতে আকাশ, সমুদ্র, স্থল ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী মিলিয়ে ২০টিরও বেশি অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে।

মার্কিন বাহিনী জানায়, ইরানের ভেতরে এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ব্যবহৃত হয়েছে ২০টির বেশি ভিন্ন অস্ত্রব্যবস্থা।

আরও পড়ুন: ইরানে হামলা নিয়ে এবার মুখ খুললো উত্তর কোরিয়া

সেন্টকমের সাবেক অপারেশনস পরিচালক কেভিন ডোনেগান আল জাজিরাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এখন লক্ষ্য হলো ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতাকে যত দ্রুত সম্ভব দুর্বল করা, যাতে তারা আর ব্যাপক ক্ষতি করতে না পারে।’

এয়ার পাওয়ার অভিযানে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে মার্কিন বিমান শক্তি, যার মধ্যে রয়েছে:

বি-১ বোমারু বিমান, বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান (গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলায় ব্যবহৃত), এফ-৩৫ লাইটনিং টু ও এফ-২২ র‌্যাপ্টর স্টেলথ যুদ্ধবিমান, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান (কুয়েতে তিনটি বিধ্বস্ত হয়েছে), এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন, এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট এবং এ-১০ অ্যাটাকার জেট।

এছাড়াও ব্যবহার করা হয়েছে, ইএ-১৮জি গ্রাউলার (শত্রু পক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকরা করা ও ইলেকট্রনিক হামলায় ব্যবহৃত), এডব্লিউএসিএস বিমান (কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ সহায়তায়), ড্রোন ও দূরপাল্লার হামলা-ব্যবস্থা, লুকাস ড্রোন (ইরানি নকশা থেকে রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার করা স্বল্পমূল্যের একমুখী ড্রোন) এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন।

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে আরও ব্যবহার হচ্ছে এম-১৪২ হিমার্স রকেট আর্টিলারি, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, থাড (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) এবং কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম।

নৌ-শক্তি ,ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাপক নৌ-শক্তিও ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে:
বিমানবারী রলণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর নেতৃত্বে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, পি-৮ পোসেইডন নজরদারি বিমান, সি-১৭ গ্লোবমাস্টার, সি-১৩০ হারকিউলিস ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার।

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হতে পারে?

চলমান সামরিক অভিযানের মোট খরচ কত হবে তা এখনই বলা কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন করে শুরু হওয়া এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কত খরচ হতে পারে তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবল আল জাজিরাকে বলেন, ‘পেন্টাগন সেই তথ্য (খরচের) প্রকাশ করেনি, এবং তাই আমরা কেবল অনুমান করতে পারি… তবে অনেক তথ্য আছে এবং আমরা পৃথক অস্ত্রের দাম সম্পর্কে অনুমান করতে পারি। অভিযানের খরচ, নৌ অভিযান সম্পর্কে অনুমান করা যায়।’

সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরির প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে থাকতে পারে। হামলার আগে সামরিক প্রস্তুতি, বিমান স্থানান্তর, এক ডজনের বেশি নৌযান মোতায়েন ও আঞ্চলিক সম্পদ সক্রিয়করণ মিলিয়ে অতিরিক্ত ৬৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির মতে, একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনা করতে দৈনিক প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। এছাড়া সরঞ্জাম হারানোর ব্যয়ও রয়েছে।

এরমধ্যে কুয়েতে এক ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ঘটনায় অন্তত তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় উদ্বেগ অর্থনৈতিক নয়, বরং অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত। প্রেবল বলেন, ‘ব্যয় (যুদ্ধের) বহন করা সম্ভব। আমি বলতে চাইছি, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট রয়েছে এবং ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে যাওয়ার অনুরোধ আছে, যা আমার কাছে ভয়াবহ মনে হলেও প্রেসিডেন্ট এর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

কিন্তু প্রশ্ন হলো অস্ত্রের প্রকৃত মজুত, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬ এর মতো ইন্টারসেপ্টর রকেট। প্রেবল সতর্ক করে বলেন, উচ্চ হারে প্রতিরোধ অভিযান অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, ‘বর্তমান গতিতে ইন্টারসেপশন অভিযান দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, সম্ভবত কয়েক সপ্তাহের বেশি নয়।’

স্টিমসন সেন্টারের এই সিনিয়র ফেলো আরও উল্লেখ করেন, জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইন্টারসেপ্টর মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ইউক্রেন ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্যও নির্ধারিত।

ক্রিস্টোফার প্রেবল বলেন, ‘প্যাট্রিয়ট বা এসএম-৬ অত্যন্ত জটিল সরঞ্জাম। এগুলো প্রতিদিন শত বা হাজার সংখ্যায় উৎপাদন করা হয় না। উৎপাদনের গতি সীমিত।’

তীব্র তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ৫

তীব্র তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ৫

তীব্র তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, নিহত ৫

ডেস্ক রিপোর্ট:

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শীতকালীন তুষারঝড় আঘাত হানার পর সাতটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির ৩০টিরও বেশি রাজ্যের প্রায় ছয় কোটির বেশি মানুষ এই তুষারঝড়ের কবলে পড়েছেন। ওয়াশিংটনের কিছু এলাকায় বরফের স্তর ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত জমেছে। প্রতি ঘণ্টায় সেখানে এক ইঞ্চি করে বরফ পড়ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই তুষারঝড়ে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জরুরি অবস্থা জারি করা অঙ্গরাজ্যগুলো হলো মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, কানসাস, মিসৌরি, কেন্টাকি এবং আরকানসাস। এই তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দুই হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত ছয় হাজার ৫০০ ফ্লাইট শিডিউল ব্যাহত হয়েছে।

তুষারঝড়ের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা বিভাগ গত রোববার সতর্কতা জারি করেছিল যে সমভূমি থেকে মধ্য আটলান্টিক পর্যন্ত তীব্র বরফপাত, তুষারঝড় এবং ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১০ কোটির বেশি মানুষ এই তুষারঝড়ের মুখোমুখি হবেন। কিছু এলাকায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভারী তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, তুষারঝড়ের কারণে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে পড়েছে। মিসৌরিতে গত রোববার অন্তত ৩৬৫টি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং অন্তত একজন নিহত হয়েছেন।

কানসাসে তুষারঝড়ের কারণে গাড়ি দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হিউসটনে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে একটি বাসস্ট্যান্ডের সামনে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

ভার্জিনিয়ায় সোমবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অন্তত ৩০০টি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের গাড়ি না চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভার্জিনিয়ায়ও অন্তত একজন গাড়ি চালকের মৃত্যু হয়েছে।

ইসরায়েলকে আরও ৮শত কোটি ডলারের

ইসরায়েলকে আরও ৮শত কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলকে আরও ৮শত কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরায়েলের কাছে আরও ৮০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই পরিকল্পনার কথা দেশটির কংগ্রেসকে জানিয়েছে। এক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ত্রের এই চালান পাঠানোর জন্য হাউজ এবং সেনেট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হবে। প্রস্তাবিত চালানে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনার ঘোষণা আসে। গাজায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ওয়াশিংটন।

এর আগে, গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের কাছে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের ফাইটার জেট ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নতুন চালানে আকাশ থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি গোলা এবং বিভিন্ন ধরনের বোমা রয়েছে।

অস্ত্র বিক্রির সাথে সংশ্লিষ্ট একজন সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলের নাগরিকদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। একইসঙ্গে ইরান ও তার প্রক্সিদের আগ্রাসন প্রতিরোধে ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।”

জো বাইডেন ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে বারবার ‘অবিচ্ছেদ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। দেশটি ইসরায়েলকে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি তৈরি করতেও সহায়তা করছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইসরায়েল যে অস্ত্র আমদানি করেছে, তার ৬৯ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে। তবে চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় ইসরায়েলের স্থল অভিযানের কারণে ২ হাজার পাউন্ড ও ৫০০ পাউন্ড ওজনের বোমার একটি চালান স্থগিত করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও ২৫০ কোটি ডলার সাহায্যের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও ২৫০ কোটি ডলার সাহায্যের ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট:

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) এই সহায়তার ঘোষণা দেন বলে এপি নিউজ জানিয়েছে।

বাইডেন বলেন, তার প্রশাসন ইউক্রেনে সামরিক সহায়তার এই বিশাল প্যাকেজ পাঠাবে। নতুনভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তার আগে ইউক্রেনকে সহায়তা পাঠানোর জন্য বাইডেন প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন এক বিবৃতিতে জানান, এই সহায়তার মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধক অস্ত্র, উচ্চ সঞ্চারণশীল আর্টিলারি রকেট ব্যবস্থার সামগ্রী, ট্যাংক বিধ্বংসী অস্ত্র এবং কামানের গোলাবারুদ।

এপি জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন সপ্তাহ আগে এই সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হলো। তবে, ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, যা ইউক্রেনীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে এই সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

একই দিনে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রুশ বাহিনী দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে আক্রমণ করে ২১টি ড্রোন ছোঁড়ে, যা ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করেছে। রাশিয়া মোট ৪৩টি ড্রোন ছুঁড়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। চেরনিহিভ, নিপ্রোপেট্রোভস্ক, দোনেৎস্ক, খারকিভ, ওডেসা এবং পলতাভা অঞ্চলে ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে ইউক্রেন।

ওডেসার গভর্নর ওলেফ কিপার জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে পাঁচটি বাসভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কেউ আহত হয়নি।

এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেলগরোদ অঞ্চলে একটি ড্রোন প্রতিহত করেছে তারা। কুরস্কের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেন, সোমবার সকালে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

বাংলাদেশে নির্বাচনের উদ্যোগ

বাংলাদেশে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে যা বললো যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে যা বললো যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট:

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করেছেন। এ ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানিয়েছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপপ্রধান মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল এ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জনগণকে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দেবে।

১৬ ডিসেম্বর সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। তিনি জানান, ভোটার তালিকা সঠিকভাবে প্রস্তুত করার মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হলে ২০২৫ সালের শেষ দিকে নির্বাচন সম্ভব হবে। তবে, যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও কমিশনের সুপারিশ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার প্রয়োজন হয়, তাহলে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই। এটি বাংলাদেশের জনগণকে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দেবে। আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করার পক্ষে। বিশ্বজুড়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে আমাদের অবস্থান অটুট।”

গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জড়িত থাকার প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “গত দুই দশকে বাংলাদেশে শত শত মানুষ জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের মানসিক যন্ত্রণা এবং অনিশ্চয়তার বিষয়টি আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি।”

গুমের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “এই অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য আমরা আহ্বান জানাই।”

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক রিপোর্ট:

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং যেকোনো হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চায়।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ওয়াশিংটনে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার সাংবাদিকদের জানান, “আমরা বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে আমরা ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখতে চাই।”

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যাথিউ মিলার আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেখতে চায় যে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী যেকোনো হামলার ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশ এবং বিশ্বের যেকোনো স্থানে এই একই অবস্থান ধরে রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।