Tag Archives: দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশী গৃহবধূ হত্যার একদিন পর ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা

 

ডেস্ক ‍রিপোর্টঃ

দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা না দেওয়ায় শামীম শিকদার (৪০) নামের এক প্রবাসী মুদি দোকানিকে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির একদল সন্ত্রাসী। সোমবার (১০ জুলাই) রাত ১২টার দিকে জোহানসবার্গ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম শিকদার মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভার ঠেঙ্গামারা এলাকার আনিছ শিকদারের ছেলে।

নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় ১৪ বছর আগে পরিবার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান শামীম শিকদার। জোহানসবার্গ শহরে তিনি ও তার শ্যালক প্রবাল একটি মুদি দোকান চালাতেন। সোমবার রাতে ওই দোকানে এসে চাঁদা দাবি করেন একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। এ সময় তাদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসী বাহিনী। পরে স্থানীয়রা শামীম শিকদারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আনিছ শিকদারের বাবা বলেন, সংসারের হাল ধরতে আমার ছেলে দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। কয়েকমাস আগেও বাড়িতে এসেছিল ছেলে। আমার ভাইয়ের ছেলে আমাকে এ ঘটনা জানায়। আমার ছেলেকে সন্ত্রাসীরা মেরে ফেললো। আমাদের একটাই দাবি অন্তত ছেলের মুখটা যেন দেখতে পারি। ওর লাশটা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমরা এখনো এ বিষয়ে খবর পাইনি। খোঁজ খবর নিচ্ছি। নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের সোয়েটু শহরে ডাকাতের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

নিহত মো.হারুন (৪৩) নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দীঘির পাড় এলাকার আবিদ মিয়ার ছেলে।

শনিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় সোয়েটুত শহরের মিডল্যান্ডসে নিহতের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) খোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ৮ বছর আগে আফ্রিকায় যান হারুন। সেখানে সোয়েটুত শহরে নিজে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। বাংলাদেশ সময় শনিবার সন্ধ্যায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন হারুন। ওই সময় সেই দেশি কয়েকজন অস্ত্রধারী ডাকাত তার প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ডাকাতদল হারুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বারাগওয়ানা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সে এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশী গৃহবধূ হত্যার একদিন পর ঘাতক স্বামী গ্রেফতার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দক্ষিণ আফ্রিকার পুমালাঙ্গা প্রদেশের লিডেনবার্গে সিনথিলা আক্তার শান্তা (১৯) নামে বাংলাদেশি নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে স্বামী সুমন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে লিডেনবার্গ এলাকার একটি নির্জন জঙ্গল থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় স্থানীয় লিডেনবার্গ থানায় মামলা করা হয়েছে।

ঘাতক স্বামী সুমন মিয়া টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের খোকা মাস্টারের ছেলে। তিনি প্রায় ১ যুগ আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে প্রথমে কেপটাউনে চাকরি করেন; পরবর্তীতে পুমালাঙ্গার লিডেনবার্গে এসে ব্যবসা শুরু করেন।

নিহত সিনথিলা আক্তার শান্তা টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামের সাবেক মেম্বার সালাম শিকদারের মেয়ে।

উল্লেখ্য, রোববার সকালে নিজ ঘরে সুমন মিয়া তার বাংলাদেশি স্ত্রী সিনথিলা আক্তার শান্তাকে ছুরিকাঘাত এবং পিটিয়ে হত্যার পর থেকে পলাতক ছিল।

নিহত শান্তার দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী জেঠাতো ভাই মো. আল মামুন চেন্টু জানান, শান্তা বাবা-মায়ের একমাত্র কন্যাসন্তান। সুমন আমার ফুফাতো ভাই। দেশে থাকা অবস্থায় আমার চাচাতো বোন শান্তার সাথে সুমনের দীর্ঘ দিনের জানাশোনা ও প্রেমের সম্পর্ক থাকায় পারিবারিকভাবে ১ বছর আগে তাদের দু’জনের ফোনে বিয়ে হয়েছে। সুমন দেশে না যাওয়ায় একপর্যায়ে শান্তা নিজ খরচে গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে দেশ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসে। এখানে আসার কিছুদিন পর থেকেই সুমন তাকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। আশপাশের স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে সবাই অবগত রয়েছেন।

নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে শান্তা দেশে তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে- তাকে যেন আত্মীয়স্বজনের কাছে নিয়ে যায়। শান্তার বাবা রাতে বারবার ফোন করেও মেয়েকে না পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় আত্মীয়স্বজনদের কাছে ফোন দেন। সেই মোতাবেক শান্তাকে নিয়ে আসার জন্য রোববার (২৮ আগস্ট) সকালে তার জেঠাতো ভাইয়ের স্ত্রীসহ ৪ জন লিডেনবার্গে শান্তার বাসায় যান। সেখানে গেলে ভেতর থেকে বাসা তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তালা ভেঙে নিহত শান্তার মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মাথা, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে ১৭টা আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় এবং প্লাস্টিক দিয়ে মুখ পেঁচনো মৃত অবস্থায় তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ তার লাশ নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

নিহত শান্তার জানাজা লিডেনবার্গে সোমবার রাত ৮টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই তার লাশ দেশে পাঠানো হবে বলে জানান তার এক স্বজন আরাফাত ইসলাম অনিক।