Tag Archives: মুরাদনগরে চাল বিতরণে অনিয়ম: ছাত্রলীগ নেতার জেল

দেবিদ্বারে ত্রাণ চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার সেই যুবককে মামলা ও গ্রেফতারের হুমকি !

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় অসহায়দের জন্য ত্রাণ চাইতে  গিয়ে মারধরের শিকার হওয়া সেই আশেক এলাহী নামের যুবককে এবার মামলা ও গ্রেফতারের হুমকি  দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার চৌকিদার দিয়ে আশেকে এলাহী নামের ওই  যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ১০নং দক্ষিণ ঘুনাইঘর  ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী আশেকে এলাহী জানান,বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় আমার নামে কমপক্ষে ৫০টি মামলা দেয়া হবে এবং গ্রেফতার করানো হবে বলে নানা দিক থেকে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বুধবার উপজেলা পরিষদে তদন্ত কমিটির কাছে গিয়ে ভয়ে স্বাক্ষ্য দিতে যেতে পারিনি। মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন পরিচয়ে লোকজন এসে হুমকি দিয়ে গেছে। আমি এখন নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি।

আশেকে এলাহীর অভিযোগ, তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্থানীয় ১১০ জনকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছেন। এরপর স্থানীয় আরও অনেকে তার আছে এলে তিনি তাদের ত্রাণ সামগ্রী দিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খাঁনকে অনুরোধ জানান।

চলমান সাধারণ ছুটিতে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫৯ জনের একটি তালিকা নিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে চেয়ারম্যান তার সঙ্গে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন। তারা ভাষায়, ‘তালিকা নিয়ে চৌকিদাররে দেখাইলাম। সে বলে কিছু করতে পারবে না। মেম্বারের কাছে গেলাম। সে বলে চেয়ারম্যানের কাছে যাইতে। চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ার পর সে আমার সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহার করছে। আমারে বলে আমি কি চেয়ারম্যান হমু নাকি, এমপি হমু নাকি। আমার এতো দরদ ক্যান।’

চেয়ারম্যান ত্রাণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি তালিকা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছেও যান। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করার অভিযোগ এনে চারজন চৌকিদার দিয়ে আশেকে এলাহীকে তুলে আনতে পাঠান চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীম।

এলাহী বলেন, ‘ দুপুর ১২টার দিকে চেয়ারম্যান আমার বাসায় চারজন চৌকিদার পাঠান। তারা আইসা আমাকে বলে যাদের তালিকা দিয়েছি তাদের ত্রাণ দিবে। চেয়ারম্যান আমাকে ডেকেছে। আমি তাদেরকে তালিকা নিয়ে যেতে বললে তারা আমাকে যেতে হবে বলে জানায়। পরে আমি চেয়ারম্যানকে ফোন করি। তিনি আমাকে যেতে বলেন। ফোন চৌকিদারদের দিলে তিনি আমার সামনে চৌকিদারদের বলেন, আমার যেন পা মাটিতে না পড়ে সেভাবে তুলে নিয়ে যেতে।’

পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়রাও তার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কাছে যান। বাড়ি থেকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে বন্দী করে তাকে দফায় দফায় তিন বার মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই যুবক। তিনি জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং ফেসবুকে চেয়ারম্যানের পক্ষে ভিডিও বার্তা দেয়ার পর বিকাল চারটায় তাকে সেখান থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কোনো সক্রিয়তা দেখালে তার বিরুদ্ধে পঞ্চাশটির বেশি মামলার হুমকি দেন চেয়ারম্যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন চেয়ারম্যান আব্দুল হাকীম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আব্দুল হাকীম বলেন, ‘আমি তাকে কেন মারব, সে আমার ভাতিজা। আমি তাকে কোনো মারধর করিনি।’

ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তার বিরুদ্ধে কেন পঞ্চাশটা মামলা করব? পঞ্চাশটা মামলা করতে আমার পঞ্চাশ টাকা হলেও খরচ হবে। আমি কেন তার পেছনে টাকা খরচ করতে যাব।’

আশেকে এলাহী যে তালিকা নিয়ে ত্রাণের জন্য আবেদন করেছিলেন, সেসব ব্যক্তি ও পরিবার ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য কি না এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান জানান, তালিকায় থাকা সবাই ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য। তবে, আশেকে এলাহীর করা তালিকার প্রায় অর্ধেক নাম চেয়ারম্যানের তালিকায় রয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ধরনের ভাতা পান বলে তাদের নাম তালিকায় রাখা হয়নি।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ত্রাণ দেয়ার জন্য পুরো ইউনিয়ন থেকে চারজনের একটা তালিকা করছি। সে এক বাড়ি থেকে এতজনের নাম আনলে হবে নাকি? আমাদেরকে বলা আছে, যারা বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা পায় তারা করোনাভাইরাসের চাউল পাবে না।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্ত হোক। তারপর বিস্তারিত বলা যাবে।

মুরাদনগরে চাল বিতরণে অনিয়ম: ছাত্রলীগ নেতার জেল, ডিলারশীপ বাতিল ও গুদাম সিলগালা

 

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল:

কুমিল্লার মুরাদনগর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে উপজেলার পূর্বধৈইর পশ্চিম ইউনিয়নের ডিলার ও ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি আল-আমিন এর ডিলারশীপ বাতিল ও সাতদিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং তার গোডাউন সিলগালা করে দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

আওয়ামীলীগ নেতা রহিম পারভেজের এক লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে উপজেলা খাদ্যাবান্ধব কর্মসূচীর সদস্য ও মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে সরজমিনে তদন্তে যান। এসময় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও ট্যাগ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

তদন্তকালে তিনি অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ খোঁজে পান।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার পূর্বধৈইর পশ্চিম ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় বিতরণকৃত ১০টাকা মূল্যে চাল তদারকি করতে গেলে ২২টি কার্ডের চাল বিতরণে অনিয়ম ধরা পড়ে। ২২টি কার্ডের বিপরীতে বিতরণকৃত চালের মাস্টার রোল ও তথ্যে গরমিল পাওয়া যায়। পরে তদন্ত করে দেখা যায় ওই ২২ টি কার্ড ৩৯০ কেজি চাল বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম কমল জানান, ডিলার আল আমিন এর ডিলারশীপ বাতিলসহ সাতদিন কারাদন্ড ও গুদাম সিলগালার কথা স্বীকার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম এর ছোট ভাই ইকবালের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর কাছে তা অস্বীকার করেন শরীফ চেয়ারম্যান।