Tag Archives: খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে সরকার, আশা প্রকাশ ফখরুলের

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে সরকার, আশা প্রকাশ ফখরুলের

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকার বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে ফখরুল জানান, যে মানুষটি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাঁকে আজ গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।

আমরা আশা করি, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার বিদেশে পাঠানোর যে আবেদন করেছে, সরকার তা বাস্তবায়ন করবে।

তিনি জানায়, সমগ্র দেশের মানুষ যখন এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে তখন এই মহিলা সমাবেশ আমাদের আরো সাহস জুগিয়েছে। আজকে এই সরকারের অত্যাচার থেকে মা-বোনরা রক্ষা পাননি। সাইবার সিকিউরিটি আইনের নামে আটক করা হচ্ছে মা-বোনদের।

আজকে সত্য লেখার অপরাধে মা-বোনদের পিটিয়ে মারা হচ্ছে। এ সরকারের আমলে আজ কেউ নিরাপদ নয়। প্রতিটি দ্রব্যমূল্য আজ আকাশচুম্বী। সরকারের বেঁধে দেওয়া দর কেউ মানছে না। সব জায়গায় আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট। সংসার চালাতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ জনগণ দ্বারা নির্বাচিত নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, খালেদা জিয়া মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ার ব্যবস্থা করেছেন, চাকরির ক্ষেত্রে মেয়েদের কোটা প্রথা চালু করেছেন। আজকে এ সরকার গায়ের জোরে সব কিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। গণতন্ত্র ও দেশ ধ্বংস করে ফেলছে।

তারা মানুষের কথা চিন্তা করছে না। মানুষের দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার এরা চায় না। এ সরকার যদি আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে দেশের স্বাধীনতা থাকবে না। তাই আসুন সব নারী-পুরুষ ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এই একদলীয় বাকশালী সরকারকে বিদায় করে জনগণের রাষ্ট্র কায়েম করি।

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আফরোজা আক্তার রিতা, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মহিলা দল নেত্রী হেলেন জেরিন খান প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম প্রমুখ।

একদিকে বিজয় আনন্দ, আরেক দিকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে উদ্বিগ্ন : মির্জা আব্বাস

একদিকে বিজয় আনন্দ, আরেক দিকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে উদ্বিগ্ন : মির্জা আব্বাস

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আজ আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। বিজয় আনন্দ করছি।

আমার মনে হচ্ছিল ঈদের আগে চাঁদ রাত পালন করছি। একদিকে বিজয় আনন্দ, আরেক দিকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন।

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার পক্ষে বারবার আবেদন করা হলেও সরকার থেকে বিদেশের চিকিৎসা দিতে সুযোগ দিচ্ছে না।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২ টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে রোডমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস জানায়, আমি ম্যাডামকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ্য। আমি তখন ম্যাডামকে বলে এসেছি সারাদেশবাসী অত্যন্ত চিন্তিত। মানুষ আপনার জন্য দোয়া করছেন। সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাবো।

তিনি জানান,দেশের অর্থনীতির খুব খারাপ অবস্থা। বাংলাদেশে এখন ডলারের রিজার্ভ নেই বললেই চলে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের ঋণ খেলাপি ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা। আজকে বাংলাদেশে ঋণ খেলাপির পরিমাণ ১০৯ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কে খেল, এই টাকা আপনার টাকা, আমার টাকা, জনগণের ট্যাক্সের টাকা। এই টাকা কোথায় গেল জনগণ জানতে চায়?

সরকার পতনের একদফা দাবিতে এবার ঝিনাইদহ থেকে খুলনা অভিমুখে রোডমার্চ শুরু করেছে বিএনপি। ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘপথে মাগুরায় ২টি, যশোরে ৩টি ও খুলনার প্রবেশমুখে একটি পথসভা হবে। খুলনা শহরের শিববাড়ি মোড়ের জিয়া হল চত্বরে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে রোডমার্চ শেষ হবে। রোডমার্চে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

উল্লেখ্য, সরকারের পদত্যাগ দাবিতে ১৯শে সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রংপুর থেকে দিনাজপুর, বগুড়া থেকে রাজশাহী, ভৈরব থেকে সিলেট ও বরিশাল থেকে পিরোজপুর পর্যন্ত চারটি রোডমার্চ করেছে তারা। এ ছাড়া রাজধানীতে একাধিক সমাবেশ করেছে তারা।

এদিকে আগামী ১লা অক্টোবর ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ, ৩রা অক্টোবর ফরিদপুর বিভাগে ও ৫ই অক্টোবর কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রোডমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

খালেদা জিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দিতে হবে বিএনপির আল্টিমেটাম

খালেদা জিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দিতে হবে বিএনপির আল্টিমেটাম

ডেস্ক রিপোর্ট:

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দিতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়েছে বিএনপি।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদ জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ আল্টিমেটাম দেন ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি দিতে হবে। তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে। ছল-চাতুরি করে কোনো লাভ নেই, আবেদন করেনি, হয়নি…। পরিবার থেকে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে মুক্তির কথা বলা ছিল। একইভাবে চিকিৎসার জন্য তার বাইরে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। আপনারা (সরকার) সেটাকে চেপে গিয়ে বেমালুম মিথ্যা কথা বলছেন।

তিনি আরও জানান, শুভ বুদ্ধির উদয় হোক আপনাদের। গণতন্ত্রের মাতাকে মুক্তি দিয়ে প্রমাণ করুন আপনারা (সরকার) কিছুটা হলেও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন। অন্যথায় আপনাদের দেশের মানুষ আর ওই অবৈধ ক্ষমতায় থাকতে দেবে না। টেনে-হিঁচড়ে নামাবে। এটা আপনাদের জন্য ভালো হবে না।

খালেদা জিয়ার কিছু হলে সব দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব জানায়, শুধু মার্কিন স্যাংশন নয়। দেশের মানুষ স্যাংশন দিচ্ছে এই সরকারকে। দেশের মানুষ পরিষ্কার ভাষায় এক বাক্যে বলছে- অনেক হয়েছে, অনেক অত্যাচার-নির্যাতন করেছো, কারাগারে আটক করে রেখেছ আমাদের নেতাদের। আর আমরা সেটা হতে দেবো না।

তিনি আরও জানান, এখন সময় আছে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা ভেবে নিয়ে পদত্যাগ করুন। সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন দিয়ে রাজনৈতিক সংকট দূর করুন। অন্যথায় তার সব দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতারাও অনেক দিন ধরে বলে আসছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া জরুরি। দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে বারবার বলে আসছে সরকার।

খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গতকাল সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে আমার কাছে কোনো আবেদন আসেনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর আমাদের কাছে মতামত চাওয়া হবে।

তবে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর আবেদন অনেকে আগেই করা হয়েছে। তাই এ বিষয়ে নতুন করে আবেদন চাওয়া অমানবিক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আজ এ বিষয়ে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। প্রধানমন্ত্রী তার কথা চিন্তা করে দণ্ড স্থগিত করে বাসায় থেকে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো ডাক্তার ও উন্নত একটি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে।

‘খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে’

‘খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে’

ডেস্ক রিপোর্ট:

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দিতে বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তার নির্বাচনি এলাকা আখাউড়া-কসবায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

আইনমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে এখনো আমার কাছে কাগজপত্র আসেনি। তারা আবেদন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, তার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাইতে পারে।

এ সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানায়, খালেদা জিয়া কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পরও দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন। সেটিও কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে, এটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায়। আবেদন করলে পরে দেখা যাবে।

বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনায় তিনি জানান, বিএনপি যদি আইন ভঙ্গ করে রাজপথ অবরোধ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সকালে আন্তঃনগর মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পৌঁছান। পরে তিনি সড়কপথে তার নির্বাচনি এলাকা কসবা উপজেলায় যান। আনিসুল হক বিকালে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে আন্তঃনগর মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজল, পৌর যুবলীগের সভাপতি মনির খান, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন বেগ শাপলু প্রমুখ।

মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো হোক: মির্জা ফখরুল

মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো হোক: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নিয়ে গেছে। এ দফায় তাকে দুইবার সিসিইউতে নেওয়া হলো। তিনি গুরুতর অসুস্থ। এ সরকারের আজ্ঞাবহ বিচার বিভাগ মিথ্যা মামলায় তাকে সাজা দিয়ে পাঁচ বছর আগে কারারুদ্ধ করেছিল। এরপর তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। শর্ত দিয়েছে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। চিকিৎসা ব্যবস্থা একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কারাগারে থাকলেও সব বন্দিকে চিকৎসা দিতে হবে। তার চিকিৎসকরা ও দলের পক্ষ থেকে বলেছি, মানবিক কারণে চিকিৎসার স্বার্থে দ্রুত বিদেশে উন্নত হাসপাতালে পাঠানো হোক। পরিষ্কার করে বলতে চাই- দেশনেত্রীর যদি সুচিকিৎসা না হয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো না হয় তাহলে এই হাসিনার সরকার দায়ী থাকবে।

শুক্রবার রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল জানান, কারাবন্দি অবস্থায় বিদেশে পাঠানোর অনেক নজির আছে। জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। আজকের যিনি জোর করে ক্ষমতায় বসে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকেও ওয়ান ইলেভেনের সময় কানের চিকিৎসার জন্য প্যারোলে আমেরিকায় পাঠানো হয়েছিল। আমরা সে কথা তো ভুলে যাইনি। আর আজকে দেশনেত্রীর জীবন মরণের সমস্যা। তার চিকিৎসকরা বলছেন, এখন যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে যদি তার সঠিক চিকিৎসা না হয় জীবন বিপন্ন হয়ে যাবে।

তিনি জানায়, খালেদা জিয়া এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক নম্বরের নেত্রী। শহিদ রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এ দেশের গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছিল। তা মুক্ত করার জন্য সেদিনকার গৃহবধূ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। খালেদা জিয়ার রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক ছিল না। দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন। গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, পথে-প্রান্তে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরাচারকে উৎখাত করে ৯১ সালে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। দুইবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখনও কারাগারে থেকেও অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কোনো আপস করেননি।

মির্জা ফখরুল জানান, খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে চলেছেন। সব কিছু বাদি দেন, একজন নারী তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি দুই শিশুপুত্রকে হাতে ধরে নিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেরিয়েছেন। আজকে এ দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকারে যদি কেউ থেকে থাকেন তার মধ্যে খালেদা জিয়া এক নম্বর, দুই নম্বর তারেক রহমান। নেত্রীকে শুধুমাত্র প্রতিহিংসার কারণে আটক করে রেখেছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ অবস্থায় নিয়ে গেছে। তারা জানে দেশনেত্রী যদি বাইরে বেরিয়ে আসেন তাহলে তার ডাকে কোটি কোটি মানুষ বেরিয়ে আসবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে কেন্দ্রীয়সহ মহানগর ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নেতারা অংশ নেন।

কুমিল্লার আদালতে অনুপস্থিত খালেদা জিয়া, পেছাল চার্জ গঠনের তারিখ

কুমিল্লার আদালতে অনুপস্থিত খালেদা জিয়া, পেছাল চার্জ গঠনের তারিখ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পেট্রোল বোমা হামলার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অনুপস্থিত থাকায় চার্জ গঠনের তারিখ পিছিয়েছেন আদালত। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারিখ পেছান কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দিন।

এদিকে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় মামলায় হাজিরা দিতে কুমিল্লার আদালতে আসেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় চার্জ গঠনের তারিখ পেছানো হয়।

দুপুরে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান আসামি পক্ষের আইনজীবী কাজী নাজমুস সাদাত, কাইমুল হক রিংকু ও মোহাম্মদ আক্তার হোসাইন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হরতাল-অবরোধ চলাকালে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশকোচে (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪০৮০) চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজারসংলগ্ন জগমোহনপুর এলাকায় পৌঁছলে বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেন নাশকতাকারীরা। এ সময় বাসে ঘুমিয়ে থাকা যাত্রীরা আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলে সাত জন ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরো একজন মারা যান।

এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান হাওলাদার ৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করেন।

ওই মামলায় ৭৮ জনকে আসামি করে ২০১৭ সালের ২ মার্চ আদালতে চার্জশিট দেন চৌদ্দগ্রাম থানার তৎকালীন এসআই মো. ইব্রাহিম। তখন ৭৮ নম্বর আসামি হিসেবে যুক্ত করা হয় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে।

ওই মামলার প্রধান আসামি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এই মামলার ৫১ নম্বর আসামি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

মামলায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম এম কে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সালাউদ্দিন আহমেদ, শওকত মাহমুদ, মনিরুল হক চৌধুরীসহ অনেকে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী কাজী নাজমুস সাদাত বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে আদালতের নির্দেশে সরকারের হেফাজতে আছেন। তাই তাকে উপস্থিত করার দায়িত্ব সরকারের। আমরা আদালতে আবেদন করেছি, যেহেতু খালেদা জিয়া অসুস্থতাসহ নানান কারণে অনুপস্থিত তাই যেন চার্জ গঠনের তারিখ পেছানো হয়। এ ছাড়াও বিএনপির অনেক নেতাকর্মী অনুপস্থিত ছিলেন।

যে কারণে আমরা আবেদন করেছি। আমাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। চার্জ গঠনের তারিখ কবে তা পরে জানানো যাবে।
এ সময় বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, শেখ হাসিনা তার অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে যাচ্ছেন। বিএনপির প্রায় ৪৫ থেকে ৪৯ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবার আরেকটা নির্বাচন করে তার অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে এসব মামলা করা হয়েছে।

এসব মামলার একটি এই বোমা হামলার মামলা। এবার আর কোনো সুযোগ নেই। জনগণ জেগে উঠেছে। সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। আর উনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) দেখাচ্ছেন ফ্লাইওভার। এবার আর অবৈধ ক্ষমতা দখলের সুযোগ দেওয়া হবে না। একদফার আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। সরকারের বিদায়ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে আগের শর্তেই মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগের মতো খালেদা জিয়া ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং এই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। এ দুটি শর্তে দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

গেল ১০ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়ে এ সংক্রান্ত ফাইল আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেদিন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ল। আগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা।

এর আগে, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়।

জানা যায়, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতা বাড়লে মাঝে মাঝে তাকে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।

বেগম জিয়া এখন রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। পরে আবার তাকে কেবিনে নেওয়া হয়।

দুটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন। নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত।

রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে দুটি শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছিল ২০২০ সালের ২৫ মার্চ। তখন দেশে করোনা মহামারি চলছিল। এরপর থেকে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাস অন্তর অন্তর তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

খালেদা জিয়াকে দেখতে ঢাকায় কোকোর স্ত্রী শর্মিলা