Tag Archives: জেলা পরিষদ নির্বাচন: চান্দিনায় ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

জেলা পরিষদ নির্বাচন; চান্দিনায় সদস্য পদে অধ্যাপক বজলুর রহমান বিজয়ী

 

চান্দিনা  প্রতিনিধি:
অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে যেমন কঠিন ছিল নির্বাচন কমিশন তেমনি তৎপর ছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ভোট গ্রহনের মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই সকল কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ করেন প্রিজাইডিং অফিসার।

এতে কুমিল্লা-৭নং ওয়ার্ড চান্দিনা থেকে সাধারণ সদস্য পদে হাতি প্রতীক নিয়ে ৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক বজলুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল ইসলাম তুহিন বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ ভোট।

এছাড়া সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ড (৭,৮,৯) নারী সদস্য পদপ্রার্থী ফুটবল প্রতীকে শিরিন সুলতানা ১০৩ ভোট পেয়েছে। তিনি বাকি আরও ২টি ওয়ার্ডের (দেবীদ্বার ও বরুড়া উপজেলা) ভোট গণনায় সর্বমোট ৩৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। চান্দিনা কেন্দ্রে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৪০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মোসাম্মৎ জান্নাতুল ফেরদাউস (টেবিল ঘড়ি)।

চান্দিনা কেন্দ্রে ১৮৫ ভোটের মধ্যে ১৮৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ১টি ভোট বাতিল করা হয়। বাকি ১৮৩টি বৈধ ভোট ঘোষনা করা হয়।

 

জেলা পরিষদ নির্বাচন: চান্দিনায় ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

 

চান্দিনা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামীকাল। মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইভিএম ডিভাইসে ভোট গ্রহণ হবে প্রতিটি উপজেলায়। জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩টি পদের ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও ইতিমধ্যে চেয়ারম্যান পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজুর রহমান বাবলু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে আছেন শুধুমাত্র প্রতিটি ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত প্রার্থীরা।

কুমিল্লার-৭ ওয়ার্ড (চান্দিনা) থেকে সাধারণ সদস্য পদে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে ৬ জনই আওয়ামী লীগ সমর্থিত। বাকি একজন সদস্য এলডিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা প্রার্থী। সদস্য পদে রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ মনোয়ন না করা হলেও দলের পক্ষে পরোক্ষ সমর্থন করা হয় প্রার্থীকে। সেই হিসেবে কুমিল্লার ৭নং ওয়ার্ড চান্দিনা থেকে আওয়ামী লীগের যে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের মধ্যে তিন প্রার্থী রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে।

তারা হলেন সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর আলম (টিউবওয়েল), অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান (হাতি), নূরুল ইসলাম তুহিন (বৈদ্যুতিক পাখা)। বাকি প্রার্থীরা হলেন- মিজানুর রহমান (বক), জাহাঙ্গীর আলম সরকার (উটপাখি), মোহাম্মদ সেলিম ভূইয়া (অটোরিক্সা) এবং এলডিপি থেকে সদ্য পদত্যাগ করা প্রার্থী জালাল উদ্দিন কালা (তালা)।

ওই তিন প্রার্থীর মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম তুহিনকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ সমর্থিত ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটির নেতা-কর্মীরা। প্রার্থী অধ্যাপক বজলুর রহমানকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত সমর্থিত অনুসারীরা। ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন সদ্য বিদায়ী সদস্য জাহাঙ্গীর আলমও। প্রচারণায় পিছিয়ে নেই মিজানুর রহমান।

এদিকে, প্রার্থীরা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজের প্রার্থীতা জানান দেওয়া সহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। যেহেতু জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটার জনপ্রতিনিধিরা সেহেতু ভোটের হিসাব-নিকাশ কঠিন ভাবে কষছেন প্রার্থীরা। নিজের পক্ষে ভোট বাগিয়ে আনতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন তারা। ভোটাররা রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হওয়ায় হাসি মুখে বরণ করে নিচ্ছেন সকল প্রার্থীকেই। ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে কোন প্রার্থীই বিমুখ হচ্ছে না।

চান্দিনা উপজেলায় মাত্র ১৮৫ জন ভোটার থাকলেও এক ভোটারের মৃত্যু ও আরও এক ভোটার বিদেশ থাকায় ভোট প্রদান করবেন ১৮৩ ভোটার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ১৮৩ ভোটারের কাছে ওই তিন প্রার্থীর আলোচনাই বেশি রয়েছে। আগামীকাল সন্ধ্যায় ভোট গণনার পর শেষ হাসি কে হাসবেন তাই এখন দেখার অপেক্ষায় চান্দিনাবাসী।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাচন অফিসার আশরাফুল হোসেন এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।