,

তোফাজ্জলকে হত্যার আগে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 19, 2024
news-image

তোফাজ্জলকে হত্যার আগে পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে ‘চোর সন্দেহে’ বরগুনার পাথরঘাটার মাসুদ কামাল তোফাজ্জলকে (৩০) পিটিয়ে হত্যার আগে তার পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার এই দাবি করেছেন তোফাজ্জলের ভাবি শরিফা আক্তার।

শরিফা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, ‘গতকাল রাতে আমার ফোনে দুটি নম্বর থেকে কল আসে। তারা নিজেদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘‘তোফাজ্জল মোবাইল চুরি করেছে, তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। ছাড়াতে হলে ২ লাখ টাকা দিতে হবে।’’ আমি বিষয়টি আত্মীয়-স্বজনকে জানাই। পরে সকালে জানতে পারি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমার দেবর তোফাজ্জল হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তিনি আরও জানান, ‘মাসুদ কামাল তোফাজ্জল পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুকের চরদুয়ানী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০২০ সাল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন, কিন্তু চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এক সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সব সময় এলাকাতেই থাকতেন।’

তোফাজ্জলের প্রতিবেশী লিটন তালুকদার বলেন, ‘তোফাজ্জল একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তবে কয়েক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় রয়েছেন। তার পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ, তাই চিকিৎসা করানো হয়নি। তিনি এলাকায় চুরি বা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আমরা তার হত্যার খবর শুনে শোকাহত এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

পরিবার সূত্রে জানা যায়, তোফাজ্জল পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তিনি একসময় পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ২০১১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা মারা যান, ২০১৩ সালে মা লিভার ক্যান্সারে মারা যান এবং ২০২৩ সালে বড় ভাই লিভার ক্যান্সারে মারা যান। পরিবারে এখন কেবল তার ভাবি ও তার দুই সন্তান রয়েছেন।

জানা যায়, তোফাজ্জল তার এলাকার এক মেয়েকে ভালোবাসতেন, তবে সেই মেয়ের অন্যত্র বিয়ে হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং ২০২০ সাল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যান। তিনি তখন থেকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেন এবং মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে জীবনযাপন করতেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ‘চোর সন্দেহে’ শিক্ষার্থীদের পিটুনিতে তোফাজ্জল মারা যান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করেছে এবং ইতিমধ্যে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

সূত্র: আমাদের সময়