,

প্রধানমন্ত্রীর কাছে কুমিল্লার মুরাদনগরের এক অসহায় স্কুল শিক্ষকের খোলা চিঠি

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
April 28, 2020
news-image

 

ফেসবুক থেকে:

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আশা করি আল্লাহর অশেষ কৃপাই ভালোই আছেন। দেশে যখন করোনা আঘাত এনেছে, তখন থেকেই আপনি একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন সর্ব সাধারণের কল্যানার্থে। অতি ক্ষুদ্র থেকে বড় বড় সব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসহ কৃষি খাতে ঐতিহাসিক ও মানবিক প্রনোদনা ঘোষণা করেছেন যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

দরিদ্র মহলে ত্রান, চাকরিজীবিদের বেতন সবই ঠিক রাখার জন্য কড়া হুশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন যা সত্যিই একজন রাষ্ট্র নায়কের মহানুবতা। তবে আমরা যারা কেজি স্কুলে চাকরি করি তাদের জীবন অন্য সবার থেকে আলাদা। কারন ১০০০/১৫০০ টাকার জন্য আমাদের তিনগুন বেশি পরিশ্রম করতে হয় অন্যান্য শিক্ষকদের থেকে। তাছাড়া যারা কেজিতে জব করে তারা কেউই স্বচ্ছল নয়, কেউ স্বামী পরিত্যাক্তা, কেউ অল্প বয়সী বিধবা, কেউবা আবার অতি দরিদ্র পরিবারের। নিরুপায় হয়েই পরিবারের বোঝা না বাড়াতে এমন চ্যালেন্জিং কাজ করে যাচ্ছি আমরা অতি সামান্য টাকায়। তবে টিউশনি করে কোনো রকমে ৫–১০ হাজার টাকা ইনকাম করে নিজের ও সন্তানের পড়ালেখা সহ যাবতীয় চাহিদা কোনো রকমে পূরণ করে সংগ্রামী জীবন চালানো যেত। কিন্তু বর্তমানে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও টিউশনি বন্ধ। এভাবে টানা ৬ মাস বন্ধ থাকলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে তো বটেই মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে যাবো। এমতাবস্থায় কেজি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য আপনার মহানুভবতা দিয়ে একটি প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা  দিলে আমার মতো ভুক্তভোগীদের কস্ট কিছুটা লাঘব হতো। বিশেষ করে আমার মত সিংগেল” মা” দের অবস্থা অত্যন্ত করুন। পরিবার মোটামুটি স্বচ্ছল হলেও আমরা পরিবারে,, বিশেষ করে গ্রাম্য পরিবারে আমরা অবহেলিত থাকি।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী গ্রামের সামাজিক কুসংস্কারের এ বিষয়ে ( অল্প বয়সী স্বামী পরিত্যাক্তা ও বিধবাদের অপয়া বলা ) আপনি অবগত আছেন আশা করি। ফলে নানা মানসিক যন্ত্রণা নিয়েই বাঁচার লড়াই করতে হয়। অর্থ উপার্জনেরর উপায় না থাকলে, সন্তান ও নিজেদের ভরণ- পোষণ, চিকিৎসাসহ যাবতীয় খরচের ব্যবস্থা করা অসম্ভব হয়ে যাবে। এই কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে না পারার যন্ত্রণায় আমরা ডিপ্রেশনে চলে যেতে পারি।তাই আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ইতি,
ভুক্তভোগী কেজি স্কুলের সব শিক্ষকদের মধ্যে একজন।
নামঃ ফারহানা আক্তার ( বি এস এস)
ঠিকানা :-মুরাদনগর,কুমিল্লা।