,

কুভিকের পাঠাগারের দুরবস্থা, নিয়মিত আসেন না লাইব্রেরিয়ান

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
December 20, 2019
news-image

 

মাছুম কামালঃ

নানান সমস্যায় জর্জরিত দক্ষিণ পূর্ব বাংলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কলেজের অবকাঠামোগত বেশ উন্নয়ন হলেও একমাত্র খেলার মাঠটি এখন পরিত্যাক্ত ডোবা, যাতে প্রচুর কচুগাছ জন্মে রয়েছে।

এ নিয়ে কিছুদিন আগে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়াও পর্যাপ্ত পাঠাগার নেই এই কলেজে। প্রায় ত্রিশহাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজে পাঠাগার রয়েছে মাত্র একটি। কলেজের একমাত্র লাইব্রেরির নাম ‘মোতাহের হোসেন চৌধুরী কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি।’

সরেজমিনে ঘুরে লাইব্রেরির লেজার ঘেঁটে দেখা গেছে, একমাত্র লাইব্রেরি হলেও এখানে ১৪,৫২৪টি বই রয়েছে। যার মধ্যে একাডেমিক বই ছাড়া অন্যান্য বইয়ের সংখ্যা মাত্র ২০০০ এর মতো। যা চাহিদার তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। এছাড়াও জরাজীর্ণ আলমারিতে ধুলোবালির মধ্যে রাখা আছে বই। পড়ার জন্য নেই পর্যাপ্ত চেয়ার টেবিলও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী আয়েশা আক্তার বলেন: আমি ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে লাইব্রেরির মেম্বার। এখানে বিভাগীয় বই ছাড়া অন্য বই খুবই কম। গল্প, উপন্যাস এবং বিজ্ঞান রিলেটেড বই বাড়ালে আমরা উপকৃত হবো।

কথা হল, অর্থনীতি বিভাগের আরেকজন ছাত্রের সাথে। তিনিও একই মন্তব্য করলেন। বললেন, ‘পড়ার স্পেসটা আরেকটু বড়ো হলে আরও বেশী ছাত্র-ছাত্রী আসতে পারতো।’

এদিকে, সময়মত আসেন না সহকারী লাইব্রেরিয়ানও। শনিবার (৮ই ডিসেম্বর) এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে দুপুর ১২টায় গিয়েও নিজের কার্যালয়ে পাওয়া যায় নি সহকারী লাইব্রেরিয়ান রেজাউল করিমকে। পরবর্তীতে কলেজের অধ্যক্ষ মারফত মুঠোফোনে যোগাযোগের পর কলেজে এলেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী লাইব্রেরিয়ান রেজাউল করিম জানালেন তিনি অসুস্থ। ছুটি নিয়েছেন কি’না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানালেন ‘আমি ছুটি নিই নি, অসুস্থতার জন্যই আসতে পারি নি। আমার কোমর ব্যথা। এমনিতে নিয়মিত আসি’।

পাঠাগারের বই স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন: আমরা নতুন ডিপিডি এর আওতায় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই প্রকল্পের আওতায় আমরা একটা নতুন পাঠাগার করব।

তাছাড়া ছাত্র ও ছাত্রীদের জন্য নতুন হলও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে।