,

বর্তমানে নারী ও কিশোরিদের মনে আতংকের নাম ধর্ষণ

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
May 24, 2019
news-image

এমডি আজিজুর রহমান ঃ

প্রায় প্রতিদিন নারী ও শিশু ধর্ষণের খবর প্রকাশিত হচ্ছে যা আশঙ্কাজনক। নারী-কিশোর ধর্ষণ, ধর্ষনের পর হত্যা! এ সব যৌন সহিংসতায় সচেতন সকলেরই উদ্বিগ্ন হবার কথা। অথচ ঘটনার ভয়াবহতার তুলনায় এর থেকে পরিত্রাণের কোন তৎপরতা তেমন দেখা যাচ্ছে না, যা নারী কিশোরিদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে মহিলা পরিষদ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে নির্যাতনের সাথে সাথে বাড়ছে ধর্ষণ, গণর্ধষণ ও হত্যার মতো ঘটনা। নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, এ তথ্যের বাইরে আরো অনেক ঘটনা আছে যা অপ্রকাশিত, প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই। অনেক কারনে ধষর্ণের মত অপরাধ অগোচরে থেকে যায় বা বিচার প্রক্রিয়ায় আসে না। যেমন, লজ্জা এবং ভূক্তভোগীর প্রতি সমাজ-সংস্কৃতির নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্ষকের হুমকি এবং নিরাপত্তার অভাব, পরিবার এবং বিচার পক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্টদের থেকে যথেষ্ট সহানুভূতি- সহযোগিতার অভাব ও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি না হওয়া।

আমরা অতীতে শুনেছি, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে চলন্ত বাসে গনধর্ষণ শেষে হত্যার মত ঘটনার খবর। এ বছর বাংলাদেশেও এমন ঘটনার খবর আমরা শুনেছি। মেয়েটির নাম তানিয়া। নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়া (২৩) কটিয়াদি উপজেলার লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। রাজধানী ঢাকায় ইবনে সিনা হাসপাতালে নার্স হিসাবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের তথ্য দিয়ে বলেছিলো, বাসটি রাত সাড়ে ৯টার দিকে কটিয়াদি আসার পর তানিয়া ও অন্য দুই যাত্রী ছাড়া সবাই নেমে যায়। উজানচর এলাকায় ওই দুই যাত্রীও নেমে যায়। বাসটি গজারিয়া এলাকায় পৌছালে চালক ও হেলপার তাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে দেয়। এছাড়াও সম্প্রতি ফেনির শোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় জলন্ত আগুনে পুড়ে মরতে হয়েছে নুসরাতকে। সম্প্রতি দুটি ঘটনার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ তুলে ধরেছি। প্রতিদিনই সংবাদপত্রে ধর্ষণের নিউজ শিরোনাম হচ্ছে।

বর্তমানে কিছু কিছু সময় ধর্ষণ পূর্বে কোন কিছু বুঝে উঠা যায়না, আবার পরবর্তি সময়ে প্রতিবাদ করলে নিরাপত্তাহীনতায়া পড়তে হয় পরিবারকে। নারী কিংবা কিশোরীদের মধ্যে যারা ধর্ষণের সাথে সাথে হত্যার শিকার হয়, তাদের পরিবার যথাযথ বিচার না পাওয়ায়, তারা ধর্ষক কর্তৃক হুমকির কারণে অনেক সময় মামলা উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয়। আর যারা ধর্ষণের শিকারের পর প্রতিবাদ করে মামলায় যান, তারা সমাজপতি ও ধর্ষক পরিবারের বিভিন্ন চাপে বাড়ি ঘর ছেড়ে পর্যন্ত পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে এমন ঘটনাও দেখা যায়। এছাড়াও কিশোরীরা বিদ্যালয়ে আশা-যাওয়ার পথে বখাটেদের কর্তৃক ইভটিজিং ও কিছু সংখ্যক অসৎ শিক্ষক, প্রেমিক, নিজ বাবা ও বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ব্যাক্তি কর্তৃক যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের শীকার হয়েও সমাজে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারনে এসব বিষয়ে লুকিয়ে রাখে।

ধর্ষণ প্রতিরোধে, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন ও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। ধষর্ণের শাস্তি ধর্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানায় যৌন নিপীড়ন অথবা ধর্ষণের কোন অভিযোগ কিংবা মামলা হলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে প্রসাশনকে। প্রমানিত একটি ধর্ষণের আসামীকেও ছাড় দেওয়া যাবে না। ধর্ষণ শেষে হত্যার প্রমাণিত আসামীদের ফাঁিসতে ঝুলিয়ে হত্যার বিধান করতে হবে। সারাদেশে উল্লেখ্যযোগ্য অন্তত ১০টি ধর্ষণ শেষে হত্যার শিকার এমন ঘটনায় আসামীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে সমাজে এর দারুণ প্রভাব পড়বে। নারী ও কিশোরী যখন যৌন নীপিড়ন ও ধর্ষণের মতো কোন ঘটনার শিকার হয়, সেটা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা টাকার বিনিময়ে রফাদফা করার অপচেস্টা চালায় তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও ছেলেদের নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এতে করে ধর্মে ধর্ষণের মাফের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারবে। নারী ও কিশোরীদের পোশাক আশাকেও শালিনতা বজায় রাখতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে হবে। দুরপাল্লায় যাতায়াতকালে একা নয়, সঙ্গে কেউ একজনকে নিয়ে যেতে হবে। ধর্ষণের মতো ঘটনা থেকে বাঁচতে আতœরক্ষা সর্ম্পকে সচেতন হতে হবে, নারী ও কিশোরীদের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে সদস্য হয়ে কাজ করতে হবে। উপরে উল্লেখিত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়াসহ এ ধরণের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করে, তা যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ধর্ষণ সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এমডি আজিজুর রহমান
সাংবাদিক ও সংগঠক।