,

কুমিল্লায় তরুন ও যুবসমাজে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মাদক

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
July 28, 2017
news-image

 

সেলিম সজীবঃ

মাদকদ্রব্য সমাজের একটি মারাত্মক ব্যাধি। যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এ ব্যাধির ছোবলে পড়ে। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, দেশ ও জাতির কর্ণধার। এসব তরুণকে সত্য, সঠিক ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার মধ্যে দেশের কল্যাণ নিহিত। আর এ যুব বা তরুণ সমাজের বিপদগামিতার অর্থ দেশের অনিবার্য বিপদ। আমাদের সমাজ নানাভাবে ব্যধিগ্রস্ত। যুব সমাজ এ রোগের শিকার। যে তরুণের ঐতিহ্য রয়েছে সংগ্রামের, প্রতিবাদে, যুদ্ধজয়ের সেই যুবশক্তিকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র। যেমন যে সব খাদ্য, পনীয় বা বস্তু সুস্থ মস্তিষ্কে বিকৃতি ঘটায়, জ্ঞান-বৃদ্ধি লোপ করে এবং নেশা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে আমরা মাদক দ্রব্য বলে থাকি। এমন কোন দেশ সম্ভবত বিশ্বের কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেখানে মাদকাসক্তির কালোছায়া দেশের যুব ও তরুণ সমাজকে স্পর্শ না করেছে। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ধরণের মাদক দ্রব্য চালু আছে। বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে মাদকদ্রব্যেরও বৈচিত্র সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানকালের মাদকদ্রব্য হিসেবে হিরোইন, মারিজুয়ানা, এল, এসডি. প্যাথেডিন, কোকেন, হাসিস, মরফিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে হিরোইন ও কোকেন সবচেয়ে মূল্যবান। আমাদের যুব সমাজ যে সব মাদক দ্রব্য ব্যবহার করে তার মধ্যে প্যাথেজিন, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, ভাং চারস ইয়াবা ইত্যাদি প্রধান। যুগে যুগে ন্যায় ও সত্যের জন্য সংগ্রাম করে যারা জীবন উৎসর্গ করে, নব জীবনের সঙ্গীত রচনার ভার যাদের উপর,তারাই যুবক। যারা বয়সে নবীন, মন যাদের বিশ্বাসে ভরপুর,যাদের চোখে ভবিষ্যতের রঙ্গিন স্বপ্ন যারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। পুরাতনকে ভেঙ্গে চুরে নতুন কিছু গড়তে চায়,তারাই তরুণ। তারুণ্য স্থবির নয়, সে সদা চঞ্চল। সে পরাজয় মানতে নারাজ। তারা দেশ ও জাতির গৌরব। কিন্তু এ তরুণ বা যুব সমাজই যখন অসৎ পথে পা বাড়ায়, আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হয়, তখন তা জাতির জন্য ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। তাদের বিপদগামিতার কারণে জাতীয় জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। যুবসমাজের বিপদগামিতার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে বেকারত্ব। দেশে কর্মক্ষেত্রের অভাব হেতু লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী লেখা পড়া শেষ করে বেকার জীবন যাপন করছে। এরা বাবা মায়ের উপরও নির্ভর করতে পারে না। চাকরির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তারা অসৎ পন্থায় উপার্জনে নামে। তখন তারা চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি, ছিনতাই, অপহরণ ইত্যাদি জঘণ্য অপরাধ করতেও দ্বিধাবোধ করে না। এভাবে বেকার তরুণ-তরুণীরা জীবন সম্পর্কে হতাশাগ্রস্ত নানা অপরাধে লিপ্ত হয়। কুমিল্লাতে মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার আশঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আমাদের তরুণ সমাজ ভয়াবহ মাদকাসক্তির শিকার। কুমিল্লাতে কি পরিমাণ মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা হয় এবং কত লোক মাদকাসক্ত তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ১৭ ভাগ মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের উৎপাদন ও রাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ হলেও ঔষধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কিছু কিছু মাদকদ্রব্য আমাদের আমদানি করার অনুমতি রয়েছে। এ সুযোগে চোরাকারবারি ও কালোবাজারিরা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আমদানি করছে এবং উচ্চ মূল্যে তা তুলে দিচ্ছে তরুণ-তরুণীদের হাতে। ফলে দেদারছে এদেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার হচ্ছে। আমাদের দেশের মাদকাসক্তিদের অধিকাংশই যুবক যুবতীদের, উঠতি বয়সের তরুণ তরুণী। মাদকদ্রব্য চোরাচালানের যাত্রাপথে বাংলাদেশে মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ সমস্যা আমাদের সমাজ দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। মাদকাসক্তির কুফল অতি মারাত্মক। যে কোন ধরণের নেশাজাতীয় পদার্থ বা মাদকদ্রব্য স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। যদি মাদকাসক্তির কারণে মানসিক ও শারীরিক শক্তি লোপ পায়, তাহলে ব্যক্তির আচরণে অসঙ্গতি দেখা দেয়, মানুষের কর্মশক্তি লোপ পায়। আয়ু কমে যায় তখন এর প্রভাব ব্যক্তিগত পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে প্রতিফলিত হয় এবং বিভিন্ন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি করে। মাদকাসক্তির প্রভাবে যুবশ্রেণির নৈতিক অধঃপতন ঘটেছে। নেশাগ্রস্থদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা স্বাভাবিক সুখ স্বাচ্ছন্দ্য জীবনকে বিসর্জন দিচ্ছে। অনেকে অকালে মৃত্যুবরণ করছে। গবেষণায় দেখা গেছে মাদকদ্রব্য গ্রহণ ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়ার মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। মাদকাশক্তি ব্যক্তি নেশার খরচ যোগানোর জন্যই নানা রকম সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। মাদকদ্রব্য মানুষকে নেশাগ্রস্থ করে তোলে, তার ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয় স্বাভাবিক জীবন যাপনে অক্ষম হয়ে পড়ে । ফলে এদের দ্বারা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যারা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ, সেই তরুণ সমাজ যদি এমনভাবে মাদকদ্রব্যের নেশায় আক্রান্ত হয়ে নিজের জীবন নষ্ট করে, তাহলে জাতির জন্য তা হবে এক ভয়াবহ অভিশাপ। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের একজন প্রখ্যাত বিষ বিজ্ঞানী ফিওদার উগলভ বলেছেন মদ্যপান মানবজাতির জন্য যুদ্ধ দুর্ভ।