,

কুমিল্লা মহানগরীর রামপুরে মা অপহৃত, ছোট ভাই-বোন নিরাপত্তাহীনতায়

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 29, 2017
news-image

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা মহানগরীর সদর দক্ষিণ উপজেলার ২২ নং ওয়ার্ডের উত্তর রামপুর এলাকার ছয়বাড়ি গ্রামে নাদিয়া আক্তার(৩৭) নামের এক গৃহবধুকে পারিবারিক মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে কুমিল্লা বার্ডে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে গত ১০ দিনে আর তার খোঁজ মিলেনি। এদিকে মা’র সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছেন ওই গৃহবধুর দুই সন্তান জান্নাতুল নাইম অনি (১৪) ও নাইমুল ইসলাম অনন্ত (৭)। প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে এ পরিবারটি।
১৯ সেপ্টেম্বর মামলা নিষ্পত্তির কথা বলে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে যায় নাদিয়া আক্তারকে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। কুমিল্লা পিবিআই নিখোঁজ গৃহবধুর সন্ধানে কাজ করছে।
অপহৃতের স্বামী অলি উল্লাহ মানসিকভাবে অসুস্থ।
অপহৃতের মাতা রৌশনারা বেগম (৬৫) বাদি হয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ২২ নং ওয়ার্ডের উত্তর রামপুর এলাকার ছয়বাড়ি গ্রামের মোঃ রুহুল আমিনকে (কুমিল্লা বার্ডের চাকুরীজীবি) প্রধান আসামি করে ২১ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি এফআইআর করার নির্দেশ দেন এবং কুমিল্লা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টটিগেশন (পিবিআই) এটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, পূর্বের জমি সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির কথা বলে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫ টায় প্রধান আসামি রুহুল আমিন মুঠোফোনে নাদিয়া আক্তারকে ডেকে কুমিল্লা বার্ডে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে নাদিয়া আক্তার তার মা মামলার বাদি রৌশনারা বেগমকে ফোন করে জানায়, “রুহুল আমিন কাকা বাড়িতে গেছে। আমাকে বসতে বলছে বার্ডে। ” পরে আসতে বিলম্ব হওয়ায় নাদিয়া আক্তারের মুঠোফোনে কল করলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অপহৃতের পরিবার জানায়, আসামিদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নাদিয়া আক্তারের একটি মামলা চলমান রয়েছে। ৯ জুন এ বিষয়ে এলাকায় একটি সালিশী বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে আসামিদের পক্ষে মাতব্বররা ভূমিকা পালনের দৃশ্য ছোট শিশু অনন্ত মুঠোফোনে ভিডিও করে রাখে। আসামি এই বিষয়টি টের পায়। ওই দিন বিকেলেই বাড়ির সামনে থেকে অপহৃত নাদিয়া আক্তারের ছেলে শিশু নাঈমুল ইসলাম অনন্তকে(৬) অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় আদালতে রুহুল আমিনকে আসামি করে আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। পরে সামাজিকভাবে চাপ দিয়ে নাদিয়া আক্তারকে ডেকে নিয়ে আসামিরা একটি আপোষনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করায়। সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ শিশু অনন্তকে ১৯ জুন উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আসামিদের হুমকি-ধমকি অব্যাহত থাকে। ওই মামলাগুলো নিষ্পত্তি বিষয়ে কথা বলতে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় নাদিয়া আক্তারকে। এরপর থেকে নাদিয়া আক্তার নিখোঁজ রয়েছে। মামলার আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের হুমকি রয়েছে অপহৃতের পরিবার।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক তৌহিদুল ইসলাম জানান, আদালত থেকে এ বিষয়টি আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। অপহৃত গৃহবধুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।